বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 14

স্বৈরাচার পালালেও গণতন্ত্র এখনও শঙ্কামুক্ত নয়: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালালেও গণতন্ত্র এখনো নিরাপদ নয়। আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “গত ১৭ বছর বাংলাদেশে কংসের মতো এক নৃশংস স্বৈরাচার জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। কিন্তু দল-মত, বর্ণ নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী বীর জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছর ৫ আগস্ট সেই স্বৈরাচার বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তবে, স্বৈরাচার পালালেও গণতন্ত্র কিন্তু এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। “পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা প্রতিনিয়ত নানা কৌশলে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠার অপচেষ্টায় লিপ্ত। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সংসদ ও সরকার যতদিন পর্যন্ত গঠিত হবে না, ততদিন গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত নয়।”

সনাতন সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বিরোধিতা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “গত ১৭ বছর আপনাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে একটি গোষ্ঠী। এই সত্য যদি আপনারা বুঝে থাকেন, তাহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি। কেউ যাতে আপনাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রে আইনের শাসন না থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা থাকে না। তাই রাষ্ট্র এবং সমাজে নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ওঠা জরুরি।”

সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান প্রদীপ চক্রবর্তী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বক্তব্য দেন।

 

হেনা কোথায়?

বাংলা সিনেমার নস্টালজিক এক মুহূর্ত ‘চাচা, হেনা কোথায়?’— সম্প্রতি এই সংলাপটি নতুন করে ভাইরাল হয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমার এই সংলাপ এত বছর পরেও দর্শকদের মনে দোলা দেয়। আর সেটাই প্রমাণ করলেন অভিনেতা বাপ্পারাজ, যখন তিনি শাবনাজের খোঁজে ছুটে যান টাঙ্গাইলের গ্রামে, যেখানে এখন তিনি স্বামী নাঈমের সঙ্গে বসবাস করেন।

সিনেমার সংলাপ বাস্তবে!

সম্প্রতি একটি আড্ডায় বাপ্পারাজ মজার ছলে ঠিক সিনেমার মতো করেই প্রশ্ন করেন, ‘নাঈম ভাই, হেনা কোথায়?’ উত্তরে নাঈম হাসতে হাসতে বলেন, ‘হেনার সঙ্গে অনেক আগেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে।’ বাপ্পারাজ তখন সিনেমার মতোই আবেগে বলে ওঠেন, ‘না, আমি বিশ্বাস করি না!’ এরপরই নাঈম তাকে জড়িয়ে ধরেন, আর সবাই গাইতে থাকে সেই বিখ্যাত গান— ‘প্রেমের সমাধি ছেড়ে…’

এই মজার মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন অভিনেতা ওমর সানী। তার পরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।

নাঈমের প্রতিক্রিয়া

গতকাল মঙ্গলবার টেলিপ্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কথা বলেন নাঈম। তিনি জানান, তার মেয়ে নামিরার আবদারেই এই অভিনয় করা হয়েছিল। ‘আমাদের গ্রামের বাড়ির বাগানে বসে চা খাচ্ছিলাম, আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন মেয়ে এসে বলল, “বাপ্পা আর আপনাকে একটা কাজ করতে হবে।” পরে সে পুরো বিষয়টি জানায়, আর আমরা সবাই মজা করেই সেটা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি এটি ভাইরাল হবে। দর্শকরা আমাদের এত বছর পরেও এতটা ভালোবাসে, এটা সত্যিই ভালো লাগার বিষয়।’

পুরোনো সিনেমার নতুন করে জনপ্রিয়তা

‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমার এই সংলাপ নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিতি পেয়েছে, যা দেখে নাঈম দারুণ উচ্ছ্বসিত। তার মতে, ‘একটি সিনেমা তো একদিনে জনপ্রিয় হয় না। এর পেছনে পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলীদের পরিশ্রম থাকে। এই ভাইরাল সংলাপ প্রমাণ করে যে, ভালো সিনেমা কখনো পুরোনো হয় না।’

‘প্রেমের সমাধি’র সংলাপ ভাইরাল হওয়ার ঘটনাটি নিছক মজার হলেও এটি প্রমাণ করে যে ভালো সিনেমা ও সংলাপ দর্শকদের মনে বছরের পর বছর বেঁচে থাকে।


 

সকালের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস: ভেজানো কাঁচা ছোলার ৬টি চমৎকার উপকারিতা

অনেকেই সকালে দিন শুরু করেন আগের রাতের ভেজানো কাঁচা ছোলা খেয়ে। কারণ, এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেলস থাকে, যা শরীরের নানা উপকারে আসে।

চলুন জেনে নিই ভেজানো কাঁচা ছোলার কিছু দারুণ স্বাস্থ্যগুণ—

১. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে

ভেজানো ছোলায় কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং প্রোটিন থাকে, যা শরীরে শর্করার শোষণ ধীর করে দেয়। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

২. ওজন কমাতে সহায়ক

ছোলায় ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকলেও এটি প্রোটিন ও ফাইবারে সমৃদ্ধ। ফলে এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৩. চুলের যত্নে উপকারী

ভেজানো ছোলায় রয়েছে ভিটামিন এ, বি৬, জিঙ্ক এবং ম্যাঙ্গানিজ। যা চুলের গঠন মজবুত করে, অকালপক্কতা রোধ করে এবং চুল পড়া কমায়।

৪. রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

ছোলাতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্ট সুস্থ রাখে। এছাড়া, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলন, স্তন ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

৫. হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়

আয়রন সমৃদ্ধ ছোলা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। এটি বিশেষত অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপকারী। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরাও এটি খেলে উপকার পাবেন।

৬. বার্ধক্যের ছাপ দূর করে

ছোলায় থাকা ম্যাঙ্গানিজ বলিরেখা ও ফাইন লাইনস কমিয়ে ত্বক টানটান রাখে। এটি বার্ধক্যের প্রভাব কমিয়ে দীর্ঘদিন যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শেষ কথা

প্রতিদিন সকালে ভেজানো কাঁচা ছোলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি শরীরকে চাঙা রাখবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি কমাবে।

 

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে ছিটকে বাংলাদেশ, শেষ ম্যাচে সম্মান রক্ষার লড়াই

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ দলকে বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপপর্ব থেকেই। প্রথম দুই ম্যাচে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে টাইগারদের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

এই ম্যাচকে নিয়মরক্ষার বলা হলেও বাংলাদেশ দল একে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, শেষ ম্যাচটি জিতে অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফিরতে চান তারা। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যর্থ হওয়া ব্যাটিং ও ফিল্ডিং বিভাগে উন্নতি এনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলতে চান তারা।

তিনি বলেন, “অবশ্যই এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমরা যদি ভালোভাবে শেষ করতে পারি, তা হলে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। এখন পর্যন্ত ৩৯ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ৫টি, হেরেছে ৩৪টিতে। সর্বশেষ তিন দেখাতেও টাইগাররা হারের স্বাদ পেয়েছে, যার মধ্যে ২০২৩ বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেনসে ১০৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে হার ছিল উল্লেখযোগ্য।

তবে রাওয়ালপিন্ডির মাঠে টাইগারদের ভালো স্মৃতি রয়েছে। গত বছর টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও ভালো করতে চায় দল।

তবে এই ম্যাচে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাওয়ালপিন্ডিতে বিকালের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। গতকালই এই ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে।

এদিকে, শেষ ম্যাচটিতে বাংলাদেশ দলের দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানা যায়নি।

টাইগারদের জন্য এটি শুধুই আরেকটি ম্যাচ নয়, বরং আত্মসম্মান ও গৌরব ফেরানোর লড়াই। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিদায় নিতে পারলেই অন্তত কিছুটা স্বস্তি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবে বাংলাদেশ দল।


 

চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ পেল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে এই হস্তান্তরের ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ আগেই ৬০০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দী মুক্তি পায়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তারা চারজন জিম্মির মরদেহবাহী কফিন পেয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হস্তান্তরিত ব্যক্তিরা হলেন:

  • ওহাদ ইয়াহালোমি
  • সাচি ইদান
  • ইতজিক এলগারাত
  • সোলোমো মনসুর

অপরদিকে, ৬০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পেয়ে রামাল্লায় পৌঁছানোর পর উল্লাসে মেতে ওঠেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের স্বজনরা আনন্দের অশ্রুতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। অনেকে গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারও দেন।

যুদ্ধবিরতির শর্ত ও দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা

এই বিনিময় গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তের অংশ। গত শনিবার হামাস ছয় ইসরায়েলি জিম্মিকে জীবিত মুক্তি দেয়, সঙ্গে চারজনের মরদেহও হস্তান্তর করে। বিনিময়ে ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েল অভিযোগ তোলে যে হামাস জিম্মিদের সঙ্গে ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করেছে, যার ফলে মুক্তি প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল।

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো জানিয়েছে, প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি শেষের পর দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইসরায়েল একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, যা দোহা বা কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবে।


 

রাজধানীর চার থানা পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, গুলশানে দুই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

রাজধানীর চারটি থানা পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গুলশান থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) এবং একজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করেন তিনি।

পরিদর্শন ও নির্দেশনা

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মিরপুর, দারুসসালাম, আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সবসময় সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দেন, বিশেষ করে ভোরের সময়, যখন অপরাধীরা তৎপর হওয়ার চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সবসময় তৎপর থাকতে হবে, যাতে জনগণ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।”

গুলশান থানায় দুই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

পরিদর্শনের সময় গুলশান থানায় দায়িত্বে অবহেলা করায় একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টহল ও ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টগুলো কার্যকরভাবে কাজ করছে, যৌথ অভিযানও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হলে যৌথ অভিযান বন্ধ করা হবে, তবে অন্যান্য অভিযান চালু থাকবে।”

উপদেষ্টা বারিধারার ডিওএইচএস থেকে বের হয়ে ইসিবি চত্বর, কালশী, পল্লবী, মিরপুর-১০ হয়ে মিরপুর থানায় যান। পরে দারুসসালাম, আদাবর এবং মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন করেন। পথে তিনি বিভিন্ন চেকপোস্টও পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি ছাড়া যুদ্ধবিরতির আলোচনা নয়: হামাস

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গাজার যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথমে ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।

হামাসের রাজনৈতিক শাখার নেতা বাসেম নাঈম গতকাল রোববার রয়টার্সকে বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শত্রুদের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনার শর্ত হচ্ছে আগে ৬২০ বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে।’ এই বন্দীরা ৬ ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি ও ৪ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।

ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ

শনিবার হামাস ৬ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় এবং ৪ জনের মৃতদেহ ফেরত পাঠায়। কিন্তু বিনিময়ে ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইসরায়েল শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ‘পরবর্তী জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং মুক্তির সময় অসম্মানজনক অনুষ্ঠান বন্ধ না করা পর্যন্ত বন্দীদের হস্তান্তর করবে না ইসরায়েল।’

হোয়াইট হাউসের সমর্থন

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হামাস ইসরায়েলি জিম্মিদের সঙ্গে বর্বর আচরণ করেছে, তাই ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত যথাযথ।’

ফিলিস্তিনি পরিবারের হতাশা

ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের পরিবারগুলোর মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা নেমে এসেছে। গাজায় অপেক্ষায় থাকা ঘাসান ওয়াশাহি বলেন, ‘প্রতিবার কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকা দেওয়া হয়, কিন্তু আমার ভাই ইসলামের নাম কখনোই থাকে না। এবার যখন ছিল, তখনই ইসরায়েল চুক্তি স্থগিত করল।’

যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

১৯ জানুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ চলছে। ৪২ দিনের এই ধাপে ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি এবং বিনিময়ে ১,৯০০ ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তির কথা ছিল। তবে বর্তমান অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

ফেব্রুয়ারির প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৩ কোটি ডলার

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২২ দিনে দেশে ১৯২ কোটি ৯৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) প্রায় ২৩ হাজার ৫৪৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহের বিশ্লেষণ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্সের বড় অংশ এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ব্যাংকভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ নিচে তুলে ধরা হলো—

  • রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো: ৬৮ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার
  • বিশেষায়িত ব্যাংক: ১৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার
  • বেসরকারি ব্যাংক: ১০৯ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ডলার
  • বিদেশি ব্যাংক: ৪২ লাখ ৯০ হাজার ডলার

পূর্ববর্তী রেমিট্যান্স প্রবাহ

গত জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১৮ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, পুরো ২০২৩ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতি ও সরকারের প্রণোদনা কার্যক্রমের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল রয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার আরও বাড়ানোর জন্য ব্যাংকগুলোর নজর দেওয়া প্রয়োজন।

 

১০টি প্রতিষ্ঠান পেল অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটরের (AEO) মর্যাদা

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটরের (AEO) মর্যাদা প্রদান করেছে। এই মর্যাদা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ কিছু কাস্টমস সুবিধা ভোগ করতে পারবে, যা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সহজ করবে।

ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়াবে AEO লাইসেন্স

AEO লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিমানবন্দরের ‘গ্রিন চ্যানেল’ সুবিধার মতো কিছু ক্ষেত্রে কাস্টমস চেক এড়িয়ে দ্রুত বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে পারবে। ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমের লিড টাইম কমে আসবে এবং বন্দরের ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

আজ রবিবার এই ১০টি প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে AEO মর্যাদা দেওয়া হয়। বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “এই লাইসেন্স কোনো নতুন বাধা সৃষ্টি না করে বরং ব্যবসার গুড প্র্যাকটিসকে উৎসাহিত করবে। শুধুমাত্র তাদেরকেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যাদের ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স, ভোক্তা অধিকার ও গভর্নেন্সের শক্তিশালী ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।”

২০১৩ সালে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ২০২৪-এ

উন্নত বিশ্বে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (AEO) ধারণাটি বেশ প্রচলিত। বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে এই কনসেপ্ট কাগজে-কলমে চালু করলেও, এতদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবিক অর্থে এর সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি। তবে বিডার উদ্যোগে এ বছর থেকে তা কার্যকর হচ্ছে।

আশিক চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, “বিডার কাজ হলো বাংলাদেশে ইজ অফ ডুইং বিজনেস নিশ্চিত করা। আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সরকারি ব্যবস্থাপনার মধ্যেই এই সুবিধা চালু করা।”

এনবিআর-বিডার যৌথ উদ্যোগ

গত ২১শে অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বিডা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে আগামী মার্চের মধ্যে AEO সুবিধা আবার চালু করা হবে এবং আরো প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

AEO মর্যাদা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো

১. ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড
2. বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড
3. জিপিএইচ ইস্পাত
4. বিএসআরএম
5. স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি
6. পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড
7. ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড
8. ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স
9. এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেড (ফিড ডিভিশন)
10. টোয়া পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ডিভাইস বাংলাদেশ লিমিটেড

ব্যবসার জন্য সুসংবাদ

AEO লাইসেন্স প্রাপ্তির ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি, এই উদ্যোগ ব্যবসার গতি বৃদ্ধি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

শান্তি ও ন্যাটো সদস্যপদের জন্য পদত্যাগে প্রস্তুত জেলেনস্কি

গতকাল রবিবার কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, “যদি এটি ইউক্রেনের জন্য শান্তি বয়ে আনে, যদি আপনারা সত্যিই চান আমি আমার পদ থেকে সরে যাই, আমি প্রস্তুত। আমি এটি ন্যাটো সদস্যপদের বিনিময়ে করতে পারি।”

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের মুখে জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “নির্বাচন ছাড়া একজন স্বৈরশাসক জেলেনস্কির দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, না হলে তার আর কোনো দেশ থাকবে না।”

ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদকে বাদ দেওয়া অন্যতম। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা জেলেনস্কি উচ্চ খরচ ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের সম্মতি ছাড়া কোনো শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমরা এটি মেনে নিতে পারি না, কারণ এটি আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে।”

বিশ্ব নেতারা আজ সোমবার কিয়েভে সমবেত হবেন যুদ্ধের অবসান ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বৈঠক একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে জেলেনস্কি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে, যা তিন বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে।