মঙ্গলবার ,৯ ডিসে, ২০২৫
sbacbank
Home Blog

নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ আজ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) – এই তিন দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক জোট আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটটির উদ্বোধন হবে বলে নিশ্চিত করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন।

নতুন জোট গঠনের এই ঘোষণা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক গতিধারায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক দৃশ্যপট, নতুন নেতৃত্বের উত্থান এবং জনগণের প্রত্যাশা–সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোটটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরি করতে পারে।

মুশফিক উস সালেহীনের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই জোটের যাত্রা। বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিক অধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থার দাবিতে আগ্রহী বিভিন্ন পক্ষকে ঐক্যের ছাতার নিচে আনতেই এই জোট গঠন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মপন্থা তুলে ধরবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জোট তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে এবং জনগণের সমর্থন আদায়ে কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করে—তার ওপরই ভবিষ্যতে তাদের ভূমিকা নির্ভর করবে। বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে কাজ করছে, সেখানে এই নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও সক্রিয় করতে পারে।

দেশের রাজনীতিতে জোট গঠন নতুন ঘটনা নয়, তবে ক্ষমতার কাঠামো, নির্বাচনী কৌশল এবং গণআন্দোলনের ক্ষেত্রে জোটের ভূমিকা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। সামনের দিনগুলোতে এই রাজনৈতিক ঐক্য নতুন কোন এজেন্ডা ঘোষণা করে, কী ধরনের জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয় এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে কি না—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জোটকে সামনে এগিয়ে নিতে সংগঠনের কাঠামো, নীতিমালা, নেতৃত্ব এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি তারা জনগণের আস্থা অর্জনে সফল হয়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার পাশাপাশি বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আগামী দিনের রাজনীতিতে এই জোট কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। জনসমর্থন তৈরি, নীতি স্পষ্টকরণ এবং গণসংযোগ—এ তিনটি ক্ষেত্রেই কৌশলগত উপস্থিতি নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রথম পরীক্ষার মঞ্চ।

জামায়াতে ইসলামী জোটে যাবে না: ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার (৫ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালীন সময়ে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, “আমরা জোট করার সিদ্ধান্ত নেইনি, আমরা জোট করব না।”
তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন আদায় করব, যদি না হয় তাহলে দেশের নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।” পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি নির্ধারণ করে দেন—আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার আর সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে তাঁর সম্প্রতি সাক্ষাতের কথা তুলে ধরে, “প্রবাসীরা বুকের উষ্ণতা ও ভালোবাসা নিয়েই সামনে এসেছে। তাদের বুক ভরা ভালোবাসায় আমি আপ্লুত।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসীদেরও এই জাতির পুনর্গঠন কাজে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ রয়েছে।

দীর্ঘ নয় মাস পর খুলল সেন্টমার্টিন, কিন্তু ভ্রমণ অনিশ্চিত

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ১ নভেম্বর থেকে ভ্রমণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের অনুমোদন মিললেও বাস্তবে সেখানে এখনো কোনো পর্যটক যাত্রা শুরু হয়নি। কারণ, দ্বীপে ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত একমাত্র জেটিঘাটের সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে নতুন পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দ্বীপ ভ্রমণ নিয়ে।

🛳️ জেটিঘাট সংস্কারে ধীরগতি, পর্যটন অনিশ্চিত

সেন্টমার্টিনের জেটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান এস. এস. রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড জানিয়েছে, সাত কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় ৭০টি পাইলিংয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে সিঁড়ি ও রোলিং কাঠামো তৈরির কাজ বাকি। সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ চলায় নির্মাণের গতি মন্থর, এবং স্থানীয়দের অভিযোগ—মানও নিম্নমানের। তাই বর্তমানে জাহাজ ভিড়ানোর মতো উপযুক্ত ঘাট এখনো তৈরি হয়নি।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. আলী হায়দার বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি মৌসুমের মধ্যেই কাজ শেষ করতে। রোলিং কাঠামো ও সিঁড়ি তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

⚓ দিনে গিয়ে দিনে ফেরা: নতুন নিয়মে ভাটা পর্যটনে

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সেন্টমার্টিনে শুধু দিনে গিয়ে দিনে ফেরার সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ। এই বিধিনিষেধের কারণে পর্যটন ব্যবসায় নতুন করে ভাটা নেমেছে। শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও কোনো জাহাজ ছাড়েনি, কোনো পর্যটকও যাননি দ্বীপে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া থেকে ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বার-আউলিয়া’ জাহাজ চালুর কথা থাকলেও মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। দিনে গিয়ে দিনে ফেরার সিদ্ধান্তকে তিনি “বাস্তবসম্মত নয়” বলে মন্তব্য করেন।

🌊 নতুন নির্দেশনা ও পরিবেশ সুরক্ষার কৌশল

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী,

  • কোনো নৌযান বিআইডব্লিউটিএ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া দ্বীপে যেতে পারবে না।

  • পর্যটকদের অনলাইনে কিউআর কোডযুক্ত টিকিট কিনতে হবে।

  • দিনে সর্বাধিক ২ হাজার পর্যটক যেতে পারবেন।

  • রাতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ, মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চালানো নিষিদ্ধ।

  • কেয়াবন, সামুদ্রিক কাছিম, প্রবাল বা শামুক-ঝিনুকের ক্ষতি করা যাবে না।

  • একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

এছাড়া ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিত পর্যটকদের জন্য রাত্রীযাপনের অনুমতি থাকবে, কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে দ্বীপে পর্যটন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

🏖️ স্থানীয়দের হতাশা ও ব্যবসায় মন্দা

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির আহ্বায়ক আবদুর রহমান জানান, দ্বীপে প্রায় আড়াই শতাধিক হোটেল-রেস্টহাউজ থাকলেও এখনো কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “গত বছরও দেখেছি, কক্সবাজার থেকে আট ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে কেউ রাত্রিযাপনের আগ্রহ দেখায়নি। এবারও হয়তো ডিসেম্বরের আগে পর্যটক আসবে না।”

🌱 সরকারের লক্ষ্য—দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, “দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১২ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য সেন্টমার্টিনকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তোলা।”


শেষ কথা:
নয় মাস পর সেন্টমার্টিনে পর্যটনের দিগন্ত খুললেও অসম্পূর্ণ অবকাঠামো ও কঠোর নির্দেশনার কারণে এই মৌসুমে দ্বীপ ভ্রমণ এখনো অনিশ্চিত। পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটন টিকিয়ে রাখার ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

জীবনে আনুন ছোট ছোট পরিবর্তন, গড়ে তুলুন বড় সাফল্যের পথ

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে আমরা সবাই একটু ভালো থাকার খোঁজে ছুটছি। কাজ, সামাজিক মাধ্যম আর নিত্যকার চাপের ভিড়ে নিজের জন্য সময় বের করা যেন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সুস্থ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে ছোট ছোট কিছু অভ্যাসে—যেগুলো নিয়মিত চর্চা করলে জীবনই বদলে যেতে পারে।

🩵 ১. সকালে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস পানি

ঘুমের পর শরীরের কোষগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সকালে চা বা কফির আগে এক গ্লাস পানি পান করলে শরীরে সজীবতা ফিরে আসে, বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বাড়ে, মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় মাথাব্যথা বা অবসাদ দূর করার সহজ উপায়ও এটি।

🌤️ ২. দিনে ১০ মিনিট কিছুই না

প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ‘কিছু না করা’র অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোনো কাজ নয়, কোনো চিন্তা নয়—শুধু গভীর শ্বাস নিন, বা জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকুন। এই ক্ষণিকের শান্তি মনকে পুনর্জীবিত করে, উদ্বেগ কমায়, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

💭 ৩. ‘যদি’ দিয়ে ইতিবাচক চিন্তা

আমরা প্রায়ই ভাবি—‘যদি ব্যর্থ হই?’, ‘যদি ঠিকভাবে না হয়?’ এই ‘যদি’গুলোকে নেতিবাচকভাবে না ভেবে ইতিবাচকভাবে বলুন—‘যদি আমি সফল হই?’, ‘যদি আজ কিছু ভালো শিখতে পারি?’ ইতিবাচক মনোভাব আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং প্রতিটি পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার শক্তি দেবে।

📱 ৪. প্রতি মাসে একটি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট করুন

মোবাইল স্ক্রিন আমাদের সময় গ্রাস করে ফেলে। প্রতি মাসে অন্তত একটি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট করুন। স্ক্রিনটাইম মনিটর করুন, চেষ্টা করুন বিনোদনমূলক সময় ৪০ মিনিটে সীমাবদ্ধ রাখতে। এতে বাস্তব জীবনের প্রতি মনোযোগ বাড়বে এবং সময়ের অপচয় কমবে।

📚 ৫. প্রতিদিন অন্তত ৫০ পাতা পড়ুন

বই পড়া শুধু জ্ঞানই দেয় না, মানসিক প্রশান্তিও আনে। প্রতিদিন ৫০ পাতা পড়ার অভ্যাস মনোযোগ বাড়ায়, চিন্তাশক্তি পরিষ্কার করে এবং নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখে। একবার বইয়ের প্রেমে পড়লে আপনি প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার আনন্দে ভরে উঠবেন।

☘️ ৬. অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে বিদায় দিন

২০২৬ সালের জন্য এখন থেকেই তালিকা করুন—কোন অভ্যাস বা সম্পর্ক আপনাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। সেটা হতে পারে রাত জেগে থাকা, অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া, বা নেতিবাচক সম্পর্ক। ধীরে ধীরে সেগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করুন, জীবন হালকা লাগবে।

🌳 ৭. সপ্তাহে একদিন মোবাইলকে ছুটি দিন

একদিনের জন্য মোবাইল বন্ধ রাখুন, নিজেকে ও পরিবারকে সময় দিন। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান, বইয়ের দোকানে যান, পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা করুন। আপনি বুঝবেন—বাস্তব জগৎ ভার্চুয়াল স্ক্রিনের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর।


শেষ কথা:
প্রতিদিন চেষ্টা করুন আগের দিনের চেয়ে মাত্র ১% উন্নতি করতে। হয়তো একটু বেশি পড়লেন, একটু আগে ঘুমালেন, বা একবেলা জাঙ্ক ফুড বাদ দিলেন। সপ্তাহ শেষে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন—এই সপ্তাহে কী শিখলেন, কী ভালো করলেন, আর কিসের জন্য কৃতজ্ঞ? বছর শেষে দেখবেন, এই ছোট ছোট পরিবর্তনই আপনার জীবনে বড় রূপান্তর এনেছে।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে সংশয় গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক — তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় ও সন্দেহ গণতন্ত্রের পথকে বিপজ্জনক অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শেষ পর্যন্ত কি আমাদের অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণের পথে হাঁটতে হবে?”—যা দেশের গণতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রোববার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত প্রবাসে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচন যথাসময়ে হবে কি না? এ প্রশ্ন তো ওঠার কথা নয়। কিন্তু এখনো সেই সংশয় কাটেনি।” তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের পরও বিএনপির বিজয় ঠেকাতে একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচার শুরু হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার ইঙ্গিত বহন করছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, দেশে একের পর এক শর্ত আরোপ করে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে জটিল করে তোলা হচ্ছে। তবে তাঁর বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, “শুধু বিএনপির বিজয় ঠেকাতে গিয়ে পতিত স্বৈরাচার দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। গত ১৫ বছরে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।”

তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপি নানা সময় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে, তবে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা দলের সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তাঁর ভাষায়, “দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য রক্ষায় সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছে। গণতান্ত্রিক দলগুলোর সঙ্গে আমরা ঐক্যের পথ বেছে নিয়েছি, পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও যথাসাধ্য সহযোগিতা করে যাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির নেতা-কর্মী ও প্রবাসী সদস্যরা। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের উদ্বোধনের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বিএনপি সদস্যরা এখন থেকে সহজে সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এ বক্তব্য কেবল আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেই নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

চোখের জলে বিদায়, জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো

চোখের জল আর ভালোবাসায় সিক্ত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেনকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিবারের সদস্যরা। সোমবার (২০ অক্টোবর) মাগরিবের নামাজের পর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার কলাগাছিয়া এম এ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুপুরে তার প্রিয় ক্যাম্পাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান।

পরে রাত ৮টার দিকে জোবায়েদকে তার জন্মস্থান কৃষ্ণপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনকাজে হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শোকাবহ পরিবেশে প্রিয় ছাত্রকে স্মরণ করেন তার শিক্ষক, সহকর্মী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জানাজা ও দাফন শেষে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল আলম, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের চাচা ও হোমনা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রাক্তন এপিএস ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক জহর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক মুকুল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. সাইদুল হক, বিসিআইসি কলেজের অধ্যাপক মীর মাসুদুজ্জামান, হোমনা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোর্শেদুল ইসলাম শাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সিনিয়র আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, এবং জবি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার আকাশসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রিয় ছাত্রের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে অধ্যাপক আশরাফুল আলম বলেন, “জোবায়েদ ছিল মেধাবী, বিনয়ী ও সংগ্রামী এক ছাত্র। এমন নির্মম মৃত্যু কেউ প্রাপ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তার এ ক্ষতি কখনো পূরণ করতে পারবে না।”

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার আরামানিটোলার পানির পাম্প গলির নূর বক্স লেনের রওশন ভিলায় টিউশনি করতে গেলে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। পরদিন সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

তার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা বলছেন, “জোবায়েদ শুধু একজন সংগঠক নয়, সে ছিল একজন আদর্শবান তরুণ—যার স্বপ্ন ছিল পরিবর্তনের।”

নয়জন সচিবকে একসঙ্গে অবসরে পাঠালো সরকার

সরকারি চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় নয়জন সচিবকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২০ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নয়জন কর্মকর্তাকে অবসর প্রদান করা হয়। অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন সিনিয়র সচিব এবং সাতজন সচিব, যাদের সবাইকে পূর্বে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রাখা হয়েছিল।

অবসরে যাওয়া সিনিয়র সচিব দুইজন হলেন মো. মনজুর হোসেন এবং মো. মশিউর রহমান। এছাড়া সচিব পর্যায়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন মো. সামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, মো. আজিজুর রহমান, মো. নূরুল আলম, ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ, ড. এ কে এ মতিউর রহমান এবং শফিউল আজিম

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকার জনস্বার্থে বিবেচনা করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী এই কর্মকর্তাদের অবসর প্রদান করেছে। অর্থাৎ, তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী সরকার চাইলে তাদের অবসর দিতে পারে। এই ধারায় সরকার কোনো কর্মকর্তাকে চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে, যদি তা জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার নিয়মিতভাবে দীর্ঘদিন ওএসডি থাকা বা নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করা কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠাচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এর মাধ্যমে প্রশাসনের কার্যকারিতা ও গতিশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সকল সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।

জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশাসনে নতুন কর্মকর্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করবে এবং তরুণ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ উন্মুক্ত করবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কর্মবিহীন থাকা ওএসডি কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করবে বলে তাদের মত।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এপিএস আমিনুর রহমান সেলিম গ্রেপ্তার

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের এপিএস (সহকারী ব্যক্তিগত সচিব) আমিনুর রহমান সেলিমকে গ্রেপ্তার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের রমনপুর গ্রামে তার নিজ বাসভবন থেকে পুলিশ বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলার আসামি হিসেবে সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতেই দিঘি এলাকায় সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তাকে আটক করার পর থানায় আনা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

গ্রেপ্তার আমিনুর রহমান সেলিম সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের রমনপুর গ্রামের বাসিন্দা, তিনি আলতাফ মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হামলার মামলাটি কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং এর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা জড়িত। পুলিশ এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং ধাপে ধাপে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ন্যায্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এদিকে রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেপ্তার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে—অনেকে একে “বিচারের পথে সঠিক পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করছেন।

‘মৃত ভোটারদের’ সঙ্গে চা পান করলেন রাহুল গান্ধী

ভারতের বিহারে নির্বাচন-কেড়ে নেওয়া এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সম্প্রতি একটি ভাইরাল ভিডিওতে তিনি সাতজন ভোটারের সঙ্গে নিজের বাসভবনে চায়ের আয়োজন করেন—যাদের ভোটার তালিকা থেকে ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সবাই সুস্থ ও সচেতন জনগণের অংশ, যাদের ভোটাধিকার ও জনপ্রতিনিধিত্ব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার—হঠাৎই বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ ওই ব্যক্তি রাহুলের সাথে চা পান করছেন। রাহুল প্রথমে তাদের “আপনারা তো বেঁচেই আছেন” বলে প্রশ্ন তোলেন। একজন ভোটার জানান, “আমাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে”—রাহুল প্রশ্ন করেন, “কীভাবে জানতে পারলেন?” এবং ভোটার বলেন, “ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে দেখেছি।” ভিডিওতে একজন পুরুষ ভোটারের ভোটার কার্ডও প্রদর্শন করা হয়—রামইকবাল রায় নামের ওই ভোটারের জন্ম ১৯৫৯, বাবার নাম লক্ষ্মী রায় সঠিকভাবে কার্ডে উল্লেখ রয়েছে।

রাহুল আবার ভাষ্য দেন, “আপনাদেরকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, আপনাদের মেরে ফেলা হয়েছে? নির্বাচন কমিশন মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে?” একজন ভোটার বলেন, “একটা পঞ্চায়েত এলাকায় অন্ততপক্ষে ৫০ জনের ক্ষেত্রেই এমন হয়েছে”—এছাড়া জানান, তারা একাধিক বুথ থেকে এসেছেন এবং আরও অনেকেই আছেন যারা এভাবে বাদ পড়েছেন—নথিপত্র সত্ত্বেও।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাঘোপুর, যেখানে তেজস্বী যাদবের প্রভাব রয়েছে—সেখানে এই সাতজন বাস করছেন। তারা প্রয়োজনীয় ফর্ম ও দলিল জমা দিয়েও, ভোটার তালিকায় নাম ফিরে পাননি।

ভিডিও শেয়ার করে রাহুল গান্ধী তাঁর X (সাবেক Twitter) হ্যান্ডলে লিখেছেন:
“জীবনে অনেক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে, কিন্তু কখনো মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ পাইনি। এই অভিজ্ঞতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ।”

এই ঘটনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস নেতা এই ঘটনাকে “রাজনৈতিক বঞ্চনা” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, “যখন জীবিতদের মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তখন সেটি গণতন্ত্রের মৃত্যু সনদ প্রদান করার সমান।”

ইতিমধ্যে বিশেষ ভারি বিতর্কের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন ও “ভোট চুরি” ইস্যুটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে, আর নির্বাচন কমিশন দাবি করছে প্রক্রিয়াটি ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ।

জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মহাসমাবেশে ঢাকায় যানজট

আজ বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট’ ব্যানারে মহাসমাবেশ শুরু করেন সারা দেশ থেকে আসা শিক্ষক ও কর্মচারীরা। মূল দাবি—স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি পূর্ণ জাতীয়করণ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা নিশ্চিত করা।

সমাবেশের কারণে প্রেসক্লাব, পল্টন, হাইকোর্ট এবং শাহবাগমুখী সড়কে সকাল থেকেই যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু রুট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে ওই পথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিপরীতমুখী সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

আন্দোলনকারীদের অবস্থান:
সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষকরা ঘোষণা দেন—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রেসক্লাব এলাকা ছাড়বেন না। তবে পূর্বনির্ধারিত সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার পরিবর্তে পুলিশের সহায়তায় একটি ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার জন্য সচিবালয়ে যায়।

দাবির বিস্তারিত:
জোটের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের টানা ২২ দিনের আন্দোলনের ফলে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ও বর্তমান পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, মেডিকেল ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদান এবং সর্বজনীন বদলি চালু করতে হবে। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের আওতায় আনতে হবে।”

জোটের সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন আজিজী অভিযোগ করেন যে, সরকার বারবার আলোচনা ও অনুরোধ সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। “আমরা বারবার আলোচনায় গিয়েছি, টেবিল কনফারেন্স করেছি, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আজকে আমাদের এই মহাসমাবেশ।”


শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।