কারওয়ান বাজারে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

0
37
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেখানে পুলিশ

ঢাকার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকার একাংশ আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘রণক্ষেত্রে’ পরিণত হয়েছে যখন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা পুলিশের সঙ্গে জোরেশোরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যাটন, জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার দেখা গেছে এবং ব্যবসায়ীরাও ইট-পাটকেল ছুঁড়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে।

এই সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে মোবাইল ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো। তারা সরকারের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) বাস্তবায়ন, উচ্চ শুল্ক ও আমদানিতে জটিলতা, বাণিজ্যিক অনিয়মসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পরিবর্তন ও স্থগিতাদেশ দাবি করে চলছিল। আজ তারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে।

ঘটনাস্থলে ধারাবাহিক উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ভিডিও ফুটেজ ও দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা প্রথমে কারওয়ান মোড়ে অবস্থান নিয়েছিল এবং পরে কিছু অংশ বাংলামোটরের দিকে সরে গিয়ে নিজেরাই আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলে। পুলিশ পূর্বেই অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অবরোধকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্লক করে দিল্লি ও সড়ক যানজট সৃষ্টি করেছেন, যা নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রয়োজন করে তুলেছে। তেজগাঁও বিভাগের এডিসি সাংবাদিকদের জানান, “রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে আমরা তা পরিষ্কার করেছি।”

মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতারা বলছেন তাদের দাবি এখনও শোনা হয়নি এবং তারা সরকার নাগরিক ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে বিবেচনা করে NEIR বাস্তবায়নের ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করবে এমন আশা ব্যক্ত করেছেন। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; দুপুর ২টা ১০ মিনিটের পরেও সংঘর্ষ থেমে যায়নি এবং পুলিশ–ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা বজায় ছিল।

আবার অনেকে মনে করছেন এই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ শুধু একটি বাণিজ্যিক দাবি নয়, বরং সার্বিকভাবে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর কঠোর নীতির প্রতিফলন, যেখানে সরকার ও ব্যবসায়ী দলের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকা ও আশপাশের যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।