শনিবার ,২৯ মার্চ, ২০২৫
sbacbank
Home Blog

ওসাসুনার বিপক্ষে জয় নিয়ে প্রতিশোধ নিল বার্সেলোনা, লা লিগায় শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল কাতালান ক্লাবটি

0
গোল পেয়েছেন লেভানদোভস্কি। ছবি: সংগৃহীত

স্প্যানিশ লা লিগায় ওসাসুনার বিপক্ষে বার্সেলোনার স্থগিত ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল বৃহস্পতিবার রাতে। ম্যাচটিতে বার্সা দেখালো দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নেওয়া হলো প্রথম লেগের পরাজয়ের প্রতিশোধও।

প্রথম লেগে ৪-২ গোলে হেরে গিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে এবার দারুণ খেলেই তারা প্রতিশোধ নিল এবং লিগের শীর্ষস্থান আরও শক্তিশালী করল

লা লিগায় শীর্ষে বার্সেলোনা

এই জয়ের ফলে ২৮ ম্যাচে ২০ জয় ও তিন ড্রয়ে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষে অবস্থান করছে বার্সা।

  • ২য় স্থানে: ৬০ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ

  • ৩য় স্থানে: ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ

  • ১৪তম স্থানে: ওসাসুনা, ৩৩ পয়েন্ট

গোল উৎসবে বার্সা

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল বার্সেলোনা।

🔹 ১১তম মিনিট: ফেরান তোরেস ম্যাচের প্রথম গোল করেন। ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের দুর্দান্ত পাস থেকে আলেহান্দ্রো বালদে ক্রস করলে সেটি জালে পাঠান তোরেস।

🔹 ২৭তম মিনিট: পেনাল্টি থেকে বার্সার দ্বিতীয় গোল করেন দানি ওলমো। প্রথম শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও, আগেই এক খেলোয়াড় ডি-বক্সে ঢুকে পড়ায় রেফারি শট পুনরায় নেওয়ার সুযোগ দেন। দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে এবার ভুল করেননি স্প্যানিশ তারকা। তবে গোল করার পর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ওলমোকে

🔹 ৭৭তম মিনিট: ফের্মিন লোপেসের দুর্দান্ত ক্রসে হেড করে ম্যাচের তৃতীয় ও শেষ গোলটি করেন রবার্তো লেভানদোভস্কি। এটি চলতি মৌসুমে লেভানদোভস্কির ২৩তম গোল

প্রতিপক্ষকে দাপট দেখিয়েই হারালো বার্সেলোনা

পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণের দিক দিয়ে বার্সেলোনা ওসাসুনার চেয়ে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ওসাসুনা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও, বার্সেলোনার রক্ষণদুর্গ অটুট ছিল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে জাভির শিষ্যরা

এই জয়ে লিগ শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল কাতালানরা।

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ, বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি

0

গাজীপুরের টঙ্গীতে হংকং ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় শ্রমিকরা শাখা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

বেতনের দাবিতে আন্দোলনে শ্রমিকরা

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কাজ করেন। তারা ফেব্রুয়ারি মাসের সম্পূর্ণ বেতন, মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাদের পাওনা পরিশোধ করেনি।

শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সারাদিন তাদের কাজ করিয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত বেতন-বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি।

শ্রমিক মৌসুমী, রুবেল ও সজল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা দিনরাত পরিশ্রম করি, কারখানার কাজ ঠিকই শেষ করি, অথচ আমাদের বেতন-বোনাস নিয়ে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করছে। আমরা এই টাকা দিয়ে ঈদের প্রস্তুতি নেব, কিন্তু এখন আমাদের ঈদ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের উপস্থিতি

গাজীপুর শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের ফোন বন্ধ

এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

টানা দুই দিন ধরে বিক্ষোভ

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় একই দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা শাখা সড়কে কাঠ ও টায়ার পুড়িয়ে অবরোধ তৈরি করেন।

শ্রমিকরা তাদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়ে বলেছেন, যদি বেতন-বোনাস না দেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

 

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর: শান্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

0
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীনের আরও জোরালো ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। উভয় নেতা বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

নতুন বাংলাদেশের পথে সহযোগিতার আশ্বাস

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং চলতি বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথ সুগম করেছে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ও সামাজিক ব্যবসার প্রসারে তিনি আগে থেকেই চীনের সঙ্গে কাজ করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকট ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের ভূমিকা

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপন করেন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে চীনের শক্তিশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টা আজ বেইজিংয়ের দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল-এ চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বিনিয়োগ সংলাপে অংশ নেবেন। এই সংলাপের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সম্পর্কে চীনা ব্যবসায়ীদের ধারণা প্রদান এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।

গোলটেবিল আলোচনা ও কৌশলগত বৈঠক

অধ্যাপক ইউনূস একই ভেন্যুতে তিনটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেবেন, যেখানে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচিত হবে:

  • টেকসই অবকাঠামো ও জ্বালানি বিনিয়োগ

  • বাংলাদেশে উৎপাদন ও বাজারের সুযোগ

  • সামাজিক ব্যবসা, যুব উদ্যোক্তা ও থ্রি জিরো বিশ্বের ভবিষ্যৎ

তিনি বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যবসার বিশেষজ্ঞ ও চীনের স্বনামধন্য কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

রাষ্ট্রদূতের নৈশভোজে অংশগ্রহণ

অধ্যাপক ইউনূস চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের আয়োজিত এক নৈশভোজেও অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে।

সফরের মূল পর্দাপট

চার দিনের চীন সফরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রয়েছেন:

  • পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন

  • জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফওজুল কবির খান

  • প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান

  • এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ

  • প্রেস সচিব শফিকুল আলম

এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

সুস্থতা কি কেবল প্রভাবশালীদের জন্য?

0

বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল সম্প্রতি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হন। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয় এবং রিং পরানো হয়। সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি এখন সুস্থ আছেন। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার হওয়ায় তার চিকিৎসায় কোনো দেরি হয়নি, কোনো জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী বুকের ব্যথা নিয়ে ভোগেন, কিন্তু তাদের চিকিৎসা পেতে হয় দীর্ঘ অপেক্ষার পর। সরকারি হাসপাতালে সিরিয়াল পেতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা।

একই চিকিৎসা, কিন্তু খরচ ভিন্ন কেন?

বাংলাদেশের হাসপাতালে একজন সাধারণ রোগীর জন্য যে চিকিৎসা খরচ পঁচিশ হাজার টাকা, সেটিই কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির জন্য অনেক কম বা বিনামূল্যে হয়ে যায়। একই অপারেশন, একই ডাক্তার, একই সরঞ্জাম—তবুও খরচের এত পার্থক্য কেন? চিকিৎসা কি সবার মৌলিক অধিকার নয়?

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা এখন এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। রোগীকে গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, আর অপারেশন থিয়েটার যেন লাভের মেশিন। চিকিৎসা খরচ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সহজলভ্য করতে হবে

তামিম ইকবাল ভাগ্যবান যে তিনি দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছেন, তবে যারা তামিম নন, তারা কী করবেন? বুকের ব্যথা অনুভব করলেই তারা কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে, সময়মতো চিকিৎসা পাবেন?

সরকারের উচিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করা, চিকিৎসার মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা। কারণ, সুস্থ থাকার অধিকার কেবল ধনী বা জনপ্রিয়দের একচেটিয়া সুবিধা হতে পারে না।

তামিম ইকবালের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু করুন, আমিন।

 

সুন্দরবনের কলমতেজী বনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কাটা ও পানি ছেঁটানোর কাজ চলছে

0
সুন্দরবনে জ্বলছে আগুন।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কেটে পানি ছেঁটানোর পাশাপাশি দূরবর্তী জলাশয় থেকে পানি এনে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

আজ রবিবার (২৩ মার্চ) সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার বিপুলেশ্বর দাস। তিনি জানান, আগুন যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য আগুনের চারপাশে ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে এবং পানির উৎস না থাকায় দূর থেকে পানি এনে ফেলা হচ্ছে।

শনিবার সকালে প্রথম আগুনের সূত্রপাত

এর আগে, শনিবার (২২ মার্চ) সকালে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে শনিবার দুপুরে বিপুলেশ্বর দাস জানান, টেপারবিল নামক স্থানে বনে আগুন দেখা গেলে স্থানীয়রা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেন। আগুন যাতে বনের গভীরে না ছড়ায়, সে জন্য দ্রুত ফায়ার লাইন কাটা শুরু করা হয়।

তিনি আরও জানান,
“বনের খাল থেকে আগুনের স্থানের দূরত্ব প্রায় ২-২.৫ কিলোমিটার। ফলে আশেপাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় খালে জোয়ার আসার পর নৌপথে পানি পাম্প নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

স্থানীয়দের বিবৃতি ও বন বিভাগের প্রতিক্রিয়া

ধানসাগর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য পান্না মিয়া জানান,
“শনিবার সকালে টেপারবিল এলাকায় বনের মধ্যে আগুনের ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে জানানো হয়।”
এদিকে, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করীম জানান,
“আগুন লাগার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগুন যাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে।”

আগুনের ক্ষতি ও সম্ভাব্য কারণ

সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বনের শুকনো গাছের পাতা ও ঘাস থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বন সংলগ্ন এলাকায় মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ, মৎস্যজীবীদের অসাবধানতা, অবৈধ কাঠ সংগ্রহকারীদের কার্যক্রম, কিংবা সিগারেটের আগুন থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুনের কারণে বনের গাছপালা, প্রাণী, এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুন্দরবনের মূল্যবান উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”

পরবর্তী পদক্ষেপ

  • ফায়ার লাইন কাটা ও পানি ছেঁটানোর কার্যক্রম চলছে
  • খালে জোয়ার এলে নৌপথে পানির পাম্প নিয়ে গিয়ে পানি সরবরাহ করা হবে
  • আগুনের সঠিক কারণ নির্ধারণে বন বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে
  • স্থানীয় জনগণের সহায়তায় দ্রুত আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা চলছে

বন বিভাগের কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা আশাবাদী যে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুন্দরবনের এই আগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।


 

ভারত আগে থেকেই জানত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছে: জয়শঙ্কর

0
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শক কমিটিকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই সেখানে তার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছিল—এ বিষয়ে ভারত অবগত ছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বৈঠকে জয়শঙ্কর সংসদ সদস্যদের জানান, ভারত সে সময় বিশেষ কিছু করতে পারেনি, কারণ শেখ হাসিনার ওপর তাদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল না। তারা কেবল পরামর্শ দিতে পারত, তবে তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা তাদের ছিল না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণ

পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শক কমিটির এই বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান—এই দেশগুলোর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

জয়শঙ্কর জানান, ভারত একমাত্র দেশ নয়, আরও কয়েকটি প্রধান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়ে আগেই অবগত ছিল। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভল্কার তুর্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উদাহরণ টেনে আনেন। তুর্ক বলেছিলেন, শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা জাতিসংঘ আগে থেকেই দিয়েছিল।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগী হয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বর্তমানে চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সফরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে চীনের বিভিন্ন শহরের বিমান সংযোগ বৃদ্ধিসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জয়শঙ্কর বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গেও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন,

“চীন প্রতিপক্ষ নয়, তবে প্রতিযোগী।”

এ মন্তব্য ভারতের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব সম্পর্কে সচেতন এবং কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, চীনসহ অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থও বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে জয়শঙ্করের এই বক্তব্য স্পষ্ট করছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


 

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে একযোগে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল

0
ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ২ শিশুসহ ৮ জন নিহত, গাজায় মৃতের সংখ্যা ৬৩৪

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ২ শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (২৩ মার্চ) যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই লেবাননে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এক বছর ধরে চলা শান্তিচুক্তি ভেঙে এটি প্রথমবারের মতো দেশটিতে আক্রমণের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্ত্রবিরতি কার্যকর থাকলেও এবার তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করল তেল আবিব।

হামলার কারণ কী?

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, শনিবার লেবানন থেকে ছয়টি রকেট ছোঁড়া হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলে প্রবেশ করে। এর প্রতিশোধ নিতেই হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। তবে হিজবুল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা এখনো যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। লেবানন থেকে চালানো রকেট হামলার দায়ও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিনত্ জাবেলি ও তুলিনে তিনজন এবং বন্দরনগরী টায়ারে পাঁচজন নিহত হন। পাশাপাশি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকায়।

এদিকে, শুধু লেবানন নয়, ইসরায়েল গত সোমবার থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাতেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাঁচ দিনের এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৩৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই শতাধিক শিশু রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তবে সেই নিন্দাকে উপেক্ষা করেই এবার লেবাননে হামলা শুরু করল বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


 

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

0

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চমক সৃষ্টি, জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ৫২.৫৬%

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্ববাজারে ক্রমাগত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এবার ইউরোপের বাজারেও রপ্তানিতে বিশাল প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫২.৫৬%

গতকাল ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এবং বিজিএমইএ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইউরোপের বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে,

  • ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় দেশগুলো ৬,৮৫৪ মিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।
  • ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৫৭৬ মিলিয়ন ডলারে, যা ২৫% প্রবৃদ্ধি
  • এর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ১,২৯৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ১,৯৭৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ৫২.৫৬% বৃদ্ধি

চীন, ভারত ও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ

  • চীনের পোশাক রপ্তানি ৩৩.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ভারতের রপ্তানি ৩৭%, ভিয়েতনামের ২৭%, পাকিস্তানের ২৫% এবং শ্রীলংকার ৪৩% বেড়েছে।
  • তবে তুরস্কের পোশাক রপ্তানি কমেছে দশমিক ০.৩%

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে।

  • ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৬%
  • মার্কিন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (OTEXA)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে

বিজিএমইএর প্রতিক্রিয়া

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন,

“চলতি বছরজুড়ে কাজের অর্ডার বাড়ার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির গতি বজায় থাকবে। ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং বাড়াচ্ছে, যা প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সাহায্য করবে।”

তিনি আরও বলেন,

“বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির মুখে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রাখা জরুরি। বাজার বৈচিত্র্যকরণ এবং মূল্য সংযোজনের দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে।”

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে, মূল্যস্ফীতি, কাঁচামালের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

 

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

0

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জোহা চত্বরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে কী বলা হয়?

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী সজিব বলেন,
‘৫ আগস্টেই আওয়ামী লীগের কবর হয়ে গেছে। কবর থেকে যেমন কেউ ফেরে না, তেমনি আওয়ামী লীগও ফিরতে পারবে না। ছাত্র জনতার ম্যান্ডেটেই দেশ চলবে, ক্যান্টনমেন্ট থেকে নয়। যদি এমন চেষ্টা হয়, তবে ক্যান্টনমেন্টের পরিণতিও গণভবনের মতো হবে।’

বিক্ষোভে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সালাউদ্দিন আম্মারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছিলেন।

আরও কর্মসূচির ঘোষণা

শিক্ষার্থীরা আজ শুক্রবার (বাদ জুমা) আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

গাজায় আবারও ইসরায়েলের হামলা, ৪৮ ঘণ্টায় নিহত প্রায় ৯৭০

0
ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা। ছবি: সংগৃহীত

দখলদার ইসরায়েল আবারও গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৯৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত মোট ৪৯,৫৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

শিশু ও জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের মৃত্যু

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোররাতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা শুরু হওয়ার পর নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮৩ জন শিশু রয়েছে। যদিও এটি কেবলমাত্র হামলার প্রথম দিনের হিসাব।

এদিকে, ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রান্স ২৪’। এই ঘটনায় আরও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গাজায় জাতিসংঘের ভবনেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

গাজার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মহল কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।