২০২৫ সালে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার জেরে ৯,১১১ জন মানুষের প্রাণ হারিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৫.৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এটি নিয়ে মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সমিতির তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৪,৮১২ জন আহত হয়েছে এবং মোট জীবন ও আঘাতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ৫.৭৯ শতাংশ ও ১৪.৮৭ শতাংশ বাড়েছে।
মোট অভিযোগ ও প্রধান ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনার মধ্যে ২,৪৯৩টি ছিল মোটরসাইকেল সম্পর্কিত, যা মোটের প্রায় ৩৭.০৪ শতাংশ। এই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২,৯৮৩ জন নিহত ও ২,২১৯ জন আহত হয়েছে — মোট সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ।
হেড-অন সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, পথচারী চাপা পড়া ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার দুর্বল দিকগুলোর একটি চিত্র তুলে ধরে। সমিতির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৪৮.৮৪ শতাংশ পথচারী চাপা, ২৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, এবং ১৮.৬৩ শতাংশ খাদে পড়া ক্ষেত্রে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
অঞ্চলগত ও রাস্তায় অবস্থান বিশ্লেষণ
স্থানের বিচারে সর্বাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে (৩৮.২২%), এরপর আঞ্চলিক মহাসড়কে (২৭.১৩%) এবং পরিশেষে ফিডার রোডে (২৮.৮৩%)। এটি প্রমাণ করে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির সড়কগুলোতেই সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।
কারণসমূহ ও প্রেক্ষাপট
যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের চলাচল, অপর্যাপ্ত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ও নিয়মিত ট্রাফিক আইন না মানা উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নেও সড়ক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
পূর্ববর্তী বছরের তুলনা
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮,৫৪৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা ২০২৫ সালের তুলনায় কম ছিল। অর্থাৎ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
দেশের যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, ও শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি।


