ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি ছাড়া যুদ্ধবিরতির আলোচনা নয়: হামাস

0
67
রেডক্রসের কর্মকর্তাদের হাতে ইসরায়েলি জিম্মিদের হস্তান্তর করার সময় এভাবেই পাহারায় থাকেন হামাসের যোদ্ধারাফাইল ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গাজার যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথমে ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।

হামাসের রাজনৈতিক শাখার নেতা বাসেম নাঈম গতকাল রোববার রয়টার্সকে বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শত্রুদের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনার শর্ত হচ্ছে আগে ৬২০ বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে।’ এই বন্দীরা ৬ ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি ও ৪ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।

ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ

শনিবার হামাস ৬ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় এবং ৪ জনের মৃতদেহ ফেরত পাঠায়। কিন্তু বিনিময়ে ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইসরায়েল শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ‘পরবর্তী জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং মুক্তির সময় অসম্মানজনক অনুষ্ঠান বন্ধ না করা পর্যন্ত বন্দীদের হস্তান্তর করবে না ইসরায়েল।’

হোয়াইট হাউসের সমর্থন

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হামাস ইসরায়েলি জিম্মিদের সঙ্গে বর্বর আচরণ করেছে, তাই ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত যথাযথ।’

ফিলিস্তিনি পরিবারের হতাশা

ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের পরিবারগুলোর মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা নেমে এসেছে। গাজায় অপেক্ষায় থাকা ঘাসান ওয়াশাহি বলেন, ‘প্রতিবার কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকা দেওয়া হয়, কিন্তু আমার ভাই ইসলামের নাম কখনোই থাকে না। এবার যখন ছিল, তখনই ইসরায়েল চুক্তি স্থগিত করল।’

যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

১৯ জানুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ চলছে। ৪২ দিনের এই ধাপে ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি এবং বিনিময়ে ১,৯০০ ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তির কথা ছিল। তবে বর্তমান অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here