বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 12

শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে বিতর্ক: ড. ইউনূসের বক্তব্যে নতুন আলোচনা

(বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর।)

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, “শুধু শেখ হাসিনাই নন, তার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির বিচার হবে। এ ধরনের অপরাধের বিচার না হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না।”

ভারতের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক আইন

ড. ইউনূসের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশে নেই এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইন ও ভারতের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানিয়েছি। এখন ভারতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”

গুম, নির্যাতন ও ‘আয়না ঘর’ প্রসঙ্গ

সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে কথিত ‘আয়না ঘর’-এর প্রসঙ্গ, যেখানে গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, “যদি কেউ নিজের চোখে আয়না ঘরগুলো দেখে এবং নির্যাতিতদের সঙ্গে কথা বলে, তবে বুঝতে পারবে কত বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এই ‘আয়না ঘর’গুলো সেনাবাহিনীর আওতাধীন থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। তবে সরকার পরিকল্পনা করছে এগুলোকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করার, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া

তবে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, তিনি রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের শিকার এবং বর্তমান সরকার তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন পথে?

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের আশঙ্কা—এই দুইয়ের মাঝে সত্য উদঘাটন কতটা সম্ভব হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


 

নাগরিক পার্টিকে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে যেতে হবে: আমীর খসরু

ঢাকা, ৪ মার্চ: নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাইলে জনগণের সমর্থন নিয়ে সংসদে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ সোমবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে কর আইনজীবী ফোরামের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, “নবগঠিত রাজনৈতিক দলের যে কোনো ভাবনা বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হবে এবং জনগণের মতামত নিয়ে সংসদে সেটি পাস করতে হবে। তারপরই নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায় করা সম্ভব।”

নির্বাচন কবে হতে পারে?

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া সম্ভব কি না, জানতে চাইলে আমীর খসরু বলেন, “নির্বাচন জুন মাসের মধ্যে সম্ভব। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে সন্দেহ নেই, তবে এটি সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ ছাড়াও যারা স্টেকহোল্ডার (অংশীদার) আছেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে, তারাও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। কারণ, নির্বাচিত সরকারের অধীনে হলে তারা তাদের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন।

গণতান্ত্রিক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি

আমীর খসরু বলেন, “গণতন্ত্রের স্বার্থে দ্রুততম সময়ে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতিদিন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া চলার ফলে সমস্যাগুলো আরও জটিল হচ্ছে। একমাত্র গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনেই দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের সমস্যার সমাধান করতে হলে এমন একটি সরকার দরকার, যার পলিটিক্যাল ওয়েট (রাজনৈতিক প্রভাব) এবং মোবিলাইজেশন ক্যাপাসিটি (সক্রিয় সমর্থন সংগঠিত করার ক্ষমতা) থাকবে। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকারই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, কর আইনজীবী ফোরামের নবনির্বাচিত সভাপতি মাহবুবুস সালেকীন, সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের মেসবাহ-সহ দলটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা স্থগিত করলেন ট্রাম্প, জেলেনস্কির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ

ওয়াশিংটন, ৫ মার্চ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা অস্থায়ীভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা।

রয়টার্সআল-জাজিরা‘র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সামরিক সরঞ্জাম এখনো ইউক্রেনে পৌঁছায়নি, সেগুলোর সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান ও জাহাজে পরিবহনযোগ্য অস্ত্রশস্ত্র, যা ইউক্রেনে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত ছিল, পাশাপাশি পোল্যান্ডে অপেক্ষমাণ সামরিক সরঞ্জাম

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা চাই, আমাদের মিত্ররাও সেই লক্ষ্যেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকুক। সামরিক সহায়তা স্থগিত করার মাধ্যমে আমরা একটি সমাধানের পথে যেতে চাই।”

সামরিক সহায়তা স্থগিতের নির্দেশ

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে কতদিন এই সহায়তা স্থগিত থাকবে, সে সম্পর্কে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

রয়টার্স ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইউক্রেনীয় দূতাবাসও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্প-জেলেনস্কির সম্পর্কের টানাপোড়েন

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন নীতি বদলানোর আভাস দেন। তিনি মস্কোর প্রতি আগের চেয়ে আরও সমঝোতামূলক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ইউক্রেনের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখান।

সর্বশেষ গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য অপর্যাপ্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “নিকট ভবিষ্যতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখনো কোনো পক্ষই শান্তি চুক্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।”

জেলেনস্কির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “জেলেনস্কির এটি ছিল সবচেয়ে জঘন্য মন্তব্য। যুক্তরাষ্ট্র আর এসব সহ্য করবে না। যতদিন মার্কিন সমর্থন থাকবে, ততদিন সে (জেলেনস্কি) ইউক্রেনে শান্তি চাইবে না।”

মার্কিন সমর্থন কমে গেলে ইউক্রেন কী করবে?

তিন বছর আগে রাশিয়া যখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করে, তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রই ইউক্রেনের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তে ইউক্রেনের সামরিক অবস্থান কতটা দুর্বল হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিগত পরিবর্তন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নতুন সংবিধান ছাড়া নতুন বাংলাদেশ সম্ভব নয়: নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

সাভার, ৫ মার্চ: পুরোনো সংবিধান ও শাসন কাঠামো রেখে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “শুধু সরকার পরিবর্তন করে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নতুন প্রজাতন্ত্র গঠনের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন এবং নতুন সংবিধান প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নাগরিক পার্টি কাজ করবে। দেশের সার্বিক পরিবর্তনের জন্য বিদ্যমান শাসন কাঠামোর আমূল সংস্কার জরুরি।”

নাহিদ ইসলাম জানান, “দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন নিতে শর্তাবলী পূরণ করা হবে। গঠনতন্ত্র প্রণয়নের কাজ চলছে এবং আমরা একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাই।”

রাজনৈতিক যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন দলটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফুটবলের নতুন নিয়ম: সময় নষ্ট করলে গোলরক্ষকদের শাস্তি, ফিফার কড়াকড়ি

আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে ফিফা। অহেতুক সময় নষ্ট বা টাইম ওয়েস্টিং বন্ধ করতে গোলরক্ষকদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে

নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন আসছে?

ফুটবল ম্যাচ চলাকালে গোলরক্ষকরা ৮ সেকেন্ডের বেশি বল হাতে রাখলে শাস্তি পেতে হবেনতুন এই নিয়মকে ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB)

এতদিন ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোলরক্ষকরা ৬ সেকেন্ডের বেশি সময় বল হাতে রাখলে রেফারি ‘ইনডিরেক্ট ফ্রিকিক’ দিতে পারতেন। তবে প্রায় সব পর্যায়ের ফুটবলে এই নিয়ম কার্যকর করা হতো না।

কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৮ সেকেন্ডের বেশি বল ধরে রাখলেই রেফারি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার বা থ্রো-ইন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। অর্থাৎ, নিয়ম ভাঙার ফলে খেলার গতিপথ বদলে যাবে

কেন প্রয়োজন পড়ল নতুন নিয়মের?

ফুটবল ম্যাচে অনেক সময় দেখা যায়, একটি দল এগিয়ে থাকলে বা ড্রয়ের প্রয়োজন হলে গোলরক্ষকরা অহেতুক সময় নষ্ট করেন। যদিও এটি ফিফার নিয়মবহির্ভূত, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রেফারিরা এ নিয়ে কঠোর হন না।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে—
গোলরক্ষকরা আর সময় নষ্ট করতে পারবেন না
খেলার গতি ও উত্তেজনা বাড়বে
প্রতিপক্ষ দল অন্যায্যভাবে সময় নষ্টের শিকার হবে না

কবে থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম?

ফিফা জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে

এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি লিগে এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল। সফল হওয়ার পরই ফিফার সব প্রতিযোগিতায় এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে

এখন থেকে গোলরক্ষকের কাছে বল গেলেই রেফারিরা সময় গণনা শুরু করবেন৮ সেকেন্ড পার হলেই বিপক্ষ দল সুবিধা পাবে

নতুন নিয়মের প্রতিক্রিয়া

বিশ্ব ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই নিয়মের ফলে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে গতি আসবে এবং সময় নষ্টের প্রবণতা কমবে

তবে কিছু কোচ ও গোলরক্ষক এই নিয়ম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অনেকের মতে, ৮ সেকেন্ড সময় খুবই কম এবং এটি গোলরক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে

বিশ্ব ফুটবলে এই নিয়ম কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর প্রভাব কেমন হয়, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে


 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ সম্পদ চুক্তিতে প্রস্তুত ইউক্রেন, জানালেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল খনিজ সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। রবিবার (৩ মার্চ) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ল্যাংকেস্টার হাউসে ইউক্রেন সংকট নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ওয়াশিংটনে উত্তপ্ত বৈঠক, বাতিল যৌথ সংবাদ সম্মেলন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গত শুক্রবার (১ মার্চ) ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক হয়। সেখানে বিরল খনিজ সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের একপর্যায়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়, যা শেষ পর্যন্ত বাগবিতণ্ডায় রূপ নেয়

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে—যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয় এবং জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে বলা হয়

যুক্তরাজ্যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন জেলেনস্কি

ওয়াশিংটনের ঘটনাবলীর একদিন পর যুক্তরাজ্যে সফর করেন জেলেনস্কি। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান

লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে খনিজ চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলেনস্কি বলেন—

“চুক্তিটি মন্ত্রীদের স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আমরা এটি স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত।”

তিনি আরও যোগ করেন—

“টেবিলে যে চুক্তিটি রয়েছে, তা স্বাক্ষর হবে যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রস্তুত থাকে।”

ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউক্রেনে এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এনেছেন।

সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি জানান—

“আমি বিষয়টি সম্পর্কে সবকিছুই জানি।”

যুক্তরাজ্যের চার দফা পরিকল্পনা

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন

স্টারমার বলেন—

“যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশ মিলে একটি ‘সম্মতদের জোট’ গঠন করা হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকেও অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ করা হবে।”

ইউরোপের শীর্ষ সম্মেলন ও জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া

লন্ডনে ১৮টি ইউরোপীয় দেশের নেতাদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলেনস্কিও উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন

“আজ আমরা ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি।”

জেলেনস্কি জানান,

“ইউক্রেন শক্তিশালী সমর্থন অনুভব করছে, এবং এই সম্মেলন ইউরোপের অভূতপূর্ব সংহতি প্রকাশ করছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইউক্রেন তার অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে চায়


 

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় গ্যাস বিস্ফোরণ: শিশুসহ ৮ জন দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ ৮ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (৪ মার্চ) ভোর রাতে দগ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতদের অবস্থা সংকটাপন্ন

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান,

“গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৮ জন দগ্ধ হয়েছেন। তবে তারা কত শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন তা এখনো জানা যায়নি। প্রত্যেকেই বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

দগ্ধদের পরিচয়

দগ্ধদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন। তারা হলেন—
সোহাগ (২৩)
রুপালি (২০)
সামিয়া (১০)
জান্নাত (৪)
হান্নান (৫০)
সাব্বির (১২)
সুমিয়া (১.৫ বছর)
নুরজাহান (৩৫)

কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল?

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রবিবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার চাষাড়ার ২নং চেয়ারম্যান অফিস সংলগ্ন ইব্রাহিমের বাড়ির একটি টিনশেড কক্ষে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় কক্ষের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসলাইনে লিকেজ থাকায় পুরো রুমে গ্যাস জমে ছিল। কেউ একজন গ্যাসের চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং রাত সাড়ে ৪টার দিকে দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

গ্যাস লিকেজের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বাংলাদেশে গ্যাস লিকেজ ও অবহেলার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলেন,

“গ্যাসের লিকেজ শনাক্ত করার জন্য বাসা-বাড়িতে নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি।”

স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিস এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।


 

স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হলেন আবরার ফাহাদ

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫-এ মরণোত্তর ভূষিত করা হচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসিকতার জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।

সোমবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই ঘোষণা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

আবরার ফাহাদের প্রতি শ্রদ্ধা

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে লেখেন—

“অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসিকতার প্রতীক, মুক্ত চিন্তার এক প্রতিচ্ছবি—আবরার ফাহাদ। মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক ২০২৫-এ ভূষিত হওয়া তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। তার আদর্শ আমাদের আলোকিত করে, ন্যায়বিচারের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়। জাতি তোমাকে ভুলবে না, আবরার!”

আবরার হত্যাকাণ্ড ও তার প্রভাব

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতের বেলা বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য আবরারকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। আবরার ফাহাদ তার ফেসবুক পোস্টে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, যা তার নির্মম হত্যার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচিত হয়।

আবরার ফাহাদ: এক আদর্শের নাম

আবরার ফাহাদ এখন শুধু একটি নাম নয়, ন্যায়বিচার, মুক্তচিন্তা ও শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার স্মরণে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে থাকে।

স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৫-এ ভূষিত হওয়ার মাধ্যমে তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


 

বিতর্কের জেরে চকরিয়ার ওসি মনজুর কাদেরকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে উখিয়া থানায় বদলি করা হলেও বিতর্কের কারণে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার (৩ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এই আদেশ দেন।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) শাকিল আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, ওসি মনজুর কাদেরকে উখিয়া থানায় বদলির পর নতুন করে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্তির নির্দেশনা এসেছে। তবে তিনি উখিয়া থানায় যোগদানের আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

সংবাদকর্মীর অভিযোগ ও বিতর্কের সূত্রপাত

গত শনিবার (১ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় ওসি মনজুর কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন স্থানীয় সাংবাদিক মনসুর আলম মুন্না। তিনি অভিযোগ করেন, চকরিয়া থানার ওসি তাকে থানায় এনে আটকে রাখেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

সংবাদকর্মীর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে ফোন করে ওসিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

প্রাথমিক বদলি এবং পরবর্তী সমালোচনা

ডিআইজির নির্দেশে শনিবার রাত ১০টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ মনজুর কাদেরকে উখিয়া থানায় এবং উখিয়া থানার ওসিকে চকরিয়া থানায় বদলির আদেশ দেন।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, চকরিয়া থেকে সরিয়ে তাকে উখিয়া থানায় বদলি করায় প্রকৃতপক্ষে কোনো শাস্তি হলো কি না। পরে বিতর্ক এড়াতে ওসি মনজুর কাদেরকে কক্সবাজার জেলা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশে সংযুক্ত করা হয়।

এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে ঘটনাটি পুলিশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ: ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান ঘিরে আলোচনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাঁদের বক্তব্য শেষ করেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে। এ স্লোগানটি ঐতিহাসিকভাবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকায় এটি নতুন দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ: স্লোগানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব ২০২২ সালে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, ১৯২১ সালে মাওলানা হাসরাত মোহানি প্রথমবারের মতো ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ (বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগানটি ব্যবহার করেন। এটি পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বিপ্লবী নেতা ভগত সিং-এর কণ্ঠেও শোনা যায়।

হাসরাত মোহানি ছিলেন একজন উর্দু কবি, শ্রমিক নেতা ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিনি এ স্লোগানটি ব্যবহার করেন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন বিপ্লবী ও কমিউনিস্ট আন্দোলনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯২৯ সালে আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ভগত সিং বলেন,

“ইনকিলাব বা বিপ্লব বোমা বা পিস্তলের সংস্কৃতি নয়। আমাদের বিপ্লবের অর্থ হলো প্রকাশ্য অন্যায়ের ভিত্তিতে দাঁড়ানো বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া।”

এনসিপির অবস্থান ও স্লোগানের ব্যবহার

জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এই স্লোগান ব্যবহৃত হওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি দলের আনুষ্ঠানিক স্লোগান? দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন,

“এটি আমাদের দলীয় স্লোগান নয়। যেহেতু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এ স্লোগানটি জনপ্রিয় হয়েছিল, তাই আমরা এখনো কিছু কর্মসূচিতে এটি ব্যবহার করছি। আমাদের দলীয় স্লোগান ও মূলনীতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।”

‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ (সেকেন্ড রিপাবলিক) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছে। তাঁদের মতে, ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করা এবং গণতান্ত্রিক চরিত্র সংরক্ষণ করাই তাঁদের রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর ঘোষণা দেন। যদিও আহ্বায়ক কমিটিতে ১৭১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে দলটির আনুষ্ঠানিক আদর্শ ও কর্মসূচি এখনো সম্পূর্ণ নির্ধারিত হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে এনসিপি ও স্লোগানের তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, এই স্লোগান দেওয়া মানেই এনসিপি কমিউনিস্ট ভাবাদর্শ গ্রহণ করেছে, এমন ভাবার সুযোগ নেই। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের পরিচিতি প্রকাশে বিভিন্ন প্রতীক ও স্লোগান ব্যবহার করে। জাসদ একসময় ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিত, বিএনপি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়। এনসিপি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ দিচ্ছে, সেটিও তাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।”

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে দলটির আনুষ্ঠানিক স্লোগান ও মূলনীতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটির ব্যবহার আপাতত ঐতিহাসিক ও আন্দোলনকালীন জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ঘটেছে বলে নেতারা দাবি করছেন। তবে ভবিষ্যতে এটি তাদের দলীয় পরিচয়ের অংশ হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।