শুক্রবার ,২৪ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 17

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন কুয়াশায় পাঁচ যানবাহনের সংঘর্ষ, আহত ২০

মুন্সীগঞ্জের কামারখোলায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং এক্সপ্রেসওয়েতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে একটি পিকআপের পেছনে একটি বড় কাভার্ডভ্যান সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে ইমাত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ওই কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং এর গতি কমে যায়। এর কিছু দূরেই পূর্বাভা পরিবহনের আরেকটি বাসকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে মুহূর্তের মধ্যে পাঁচটি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

এই সংঘর্ষের ফলে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম জানান, আহতদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স একাধিকবার হাসপাতালে যাতায়াত করেছে।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে গেলেও বাকি চারটি যানবাহন উদ্ধারের কাজ চলছে।

ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। এই দুর্ঘটনাগুলো এড়াতে চালকদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একই সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়েতে কুয়াশার সময় গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদ, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৫ এ প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

আজ রবিবার সকাল ১১টায় ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে পাসপোর্ট করতে আর পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হবে না। এ সিদ্ধান্তটি সরকারের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্য রাখেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এই সম্মেলন ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা, যা জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

এবারের সম্মেলনে মোট ৩০টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনগুলোর মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মুক্ত আলোচনা থাকবে। এছাড়া, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একটি সভা এবং নৈশভোজের আয়োজনও করা হবে।

এবারের সম্মেলনে ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে না, যা আগের সম্মেলনে একটি রেওয়াজ ছিল। এটি একটি নতুন পরিবর্তন হিসেবে আসছে।

পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন আর না লাগার সিদ্ধান্তটি জনগণের জন্য একটি বড় ধরনের সুবিধা হবে, যা প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে। জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৫ এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতি আনবে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


 

অবরোধ প্রত্যাহার: রাজধানীতে মিটার ছাড়াই চলবে সিএনজি

ঢাকা শহরের যানজট এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের আন্দোলন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সম্প্রতি বিআরটিএ মিটারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যেখানে চালকদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা ৬ মাসের কারাদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিআরটিএ। ফলে এখন থেকে রাজধানীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো মিটার ছাড়াই চলবে।

এছাড়া, বিআরটিএ’র কঠোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। তারা ঢাকা শহরের রামপুরা, মিরপুর ১৪, এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, এবং ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ।

অবশেষে বিআরটিএ তাদের আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং সিএনজি চালকদের আন্দোলনও প্রত্যাহৃত হয়েছে। ডিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঢাকার যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ অনুরোধ করেছে।

বর্তমানে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া ব্যবস্থা অনুযায়ী, সিএনজির প্রথম দুই কিলোমিটার ভাড়া ৪০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ওয়েটিং বিল প্রতি মিনিটে দুই টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকায় অনেক সময় স্বল্প দূরত্বে যাতায়াত করতে ১৫০ টাকার নিচে টাকায় চলাচল সম্ভব হয় না।

এটি স্পষ্ট যে, যানজট এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া সমস্যা ঢাকায় দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত বিষয়। সরকার ও বিআরটিএ’র তরফ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলে সড়ক ব্যবস্থায় কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও, সিএনজির ভাড়া এবং মিটার ব্যবস্থার ওপর আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এটি শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


 

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মিছিল: স্বপ্নের ইতালির পথে বাংলাদেশিদের ভয়ংকর যাত্রা

উন্নত জীবনের আশায় এবং জীবিকার সন্ধানে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন অসংখ্য বাংলাদেশি। বিশেষ করে ইউরোপের দেশ ইতালি অনেকের স্বপ্নের গন্তব্য। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথ সহজ নয়—এটি ভীষণ বিপদসংকুল, যেখানে ভূমধ্যসাগর হয়ে লিবিয়া থেকে ইতালিতে যাওয়ার পথে অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

অবৈধ পথে ইতালিযাত্রা: ভয়ংকর বাস্তবতা

বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বহু বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দালালদের হাত ধরে বিপুল অর্থ খরচ করে অনেকেই প্রথমে দুবাই, তুরস্ক বা মিসর হয়ে লিবিয়া পৌঁছান। লিবিয়া থেকে ছোট ছোট নৌকায় গাদাগাদি করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।

এই যাত্রার বিভিন্ন ধাপ রয়েছে:
১. লিবিয়া পৌঁছে পাচারকারীদের ক্যাম্পে অপেক্ষা
2. প্রশিক্ষণের নামে সীমিত নৌচালনার ধারণা দেওয়া
3. লিবিয়ার উপকূল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে ইতালি অভিমুখে রওনা
4. ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া জীবন—দালালরা মাঝসমুদ্রে কাউকে সাহায্য করে না
5. ইতালির কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়লে শরণার্থী হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার চেষ্টা
6. আশ্রয় মঞ্জুর হলে ইতালিতে থাকার অনুমতি, নতুবা ফেরত পাঠানো

কতজন পৌঁছাতে পারেন, কতজন হারিয়ে যান?

প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি এই ভয়ংকর পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি ইতালি পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, অন্তত ৭০০ জন নৌকাডুবি বা প্রতিকূল পরিবেশে মারা গেছেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩,৭৬০ জন, যাঁদের মধ্যে শত শত বাংলাদেশি ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

কেন এত ঝুঁকি নিচ্ছেন বাংলাদেশিরা?

বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের অভাব, ইউরোপের অর্থনৈতিক উন্নতির হাতছানি, এবং ইতালিতে অবস্থানরত আত্মীয়দের সহযোগিতার আশায় অনেকেই দালালদের ফাঁদে পা দেন। শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ বিশেষ করে এই পথে যাত্রা করেন।

সমাধান কী?

  • সরকারের উচিত ইতালিসহ ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বৈধ শ্রম অভিবাসন চুক্তি বাড়ানো
  • মানব পাচারকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা
  • গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা
  • দেশে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা

একটি উন্নত জীবনের আশা প্রতিটি মানুষের স্বাভাবিক চাওয়া। কিন্তু সেটি যদি জীবন বিপন্ন করে তোলে, তাহলে সচেতনভাবে বিকল্প পথ খোঁজা জরুরি। তাই সবাইকে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ভয়াবহতা বুঝতে হবে এবং সরকারেরও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সোনালী ব্যাংক

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি: এক যুগ আগে হল-মার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়া সোনালী ব্যাংক এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটি ২০১২ সালে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির ধাক্কা সামলাতে লড়াই করছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে তার অবস্থান দৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের আমানত ও ঋণ প্রবৃদ্ধি

২০১২ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকায়। একইভাবে, ওই সময় ব্যাংকটির ঋণ ছিল ৩৪ হাজার কোটি টাকা, যা এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকটি উচ্চ ঝুঁকির ঋণ কমিয়ে সরকারি ও নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এখন ব্যাংকটির ঋণের ৩৩ শতাংশ সরকারি খাতে রয়েছে।

ব্যাংকের পুনর্গঠনের কৌশল

আগ্রাসী ঋণনীতি পরিহার: ব্যাংকটি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে ট্রেজারি বিনিয়োগ, সরকারকে ঋণ প্রদান, ও অন্যান্য ব্যাংককে অর্থ ধার দেওয়ার মাধ্যমে সুদ আয় বাড়িয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ: বড় শিল্পগোষ্ঠীর পরিবর্তে এসএমই এবং রপ্তানি-ভিত্তিক খাতে ঋণ প্রদানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি: ২০১২ সালে ব্যাংকটির গ্রাহক ছিল প্রায় ১ কোটি, যা এখন ২ কোটিরও বেশি হয়েছে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও মুনাফা বৃদ্ধি

২০১০ সালে ব্যাংকটি ৯৮ কোটি টাকা লোকসান করেছিল, তবে ২০১১ সালে তা রূপ নেয় ৯৯৬ কোটি টাকা মুনাফায়—যা ব্যাংকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

২০২২ সালে নিট মুনাফা: ৬৫২ কোটি টাকা
২০২৩ সালে নিট মুনাফা: ৬৫২ কোটি টাকা
২০২৪ সালে পরিচালন মুনাফা: ৫,৬৩৪ কোটি টাকা (ব্যাংক খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ)

হল-মার্ক গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান জানান, “হল-মার্ক গ্রুপের বন্ধকি সম্পদের মূল্য তাদের ঋণের চেয়েও বেশি। আদালতের চূড়ান্ত আদেশ পেলেই এসব সম্পদ খণ্ড খণ্ড করে বিক্রি করা হবে।” ২০২৩ সালে গ্রুপটি থেকে মাত্র ৬ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে, যা পুরো পাওনার তুলনায় নগণ্য।

শীর্ষ খেলাপি গ্রাহক ও অবলোপন ঋণ

সোনালী ব্যাংকের ২০টি শীর্ষ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকে আছে ৫,০৮০ কোটি টাকা, যাদের মধ্যে রয়েছে—
হল-মার্ক গ্রুপ
রূপসী গ্রুপ
মডার্ন স্টিল
তাইপেই বাংলা ফেব্রিকস
অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ
রতনপুর স্টিল
সুপ্রিম জুট অ্যান্ড নিটেক্স

অন্যদিকে, অবলোপন করা ঋণের মধ্যে হল-মার্ক গ্রুপের ১,২২৭ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এসএমই এবং রপ্তানি খাতে আরও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
পুরোনো খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
সরকারি বিনিয়োগ ও ট্রেজারি আয় বাড়ানো

হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পর নতুন কৌশল গ্রহণের ফলে সোনালী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে স্থিতিশীল ও লাভজনক ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। যদিও কিছু পুরোনো খেলাপি ঋণের বোঝা এখনো বিদ্যমান, তবে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

কুম্ভমেলায় যাওয়ার পথে নয়াদিল্লি স্টেশনে পদদলিত হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু

ভারতের নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। শনিবার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যখন মহাকুম্ভমেলায় যাওয়ার জন্য যাত্রীরা ট্রেনে ওঠার সময় অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে পড়েন।

নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী ও পাঁচজন শিশু রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মহাকুম্ভমেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া স্পেশাল ট্রেনের জন্য প্রচণ্ড ভিড় হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

রেলওয়ের ডিসিপি কেপিএস মালহোত্রা জানান, প্ল্যাটফর্ম ১৩ ও ১৪ নম্বর থেকে স্পেশাল ট্রেন ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পরপরই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। যাত্রীরা একসঙ্গে ট্রেনে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি করতে থাকেন। দুই ট্রেনের দেরির কারণে ভিড় বাড়তে থাকে এবং মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ধাক্কাধাক্কির কারণে অনেক যাত্রী স্টেশনে পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হন।

দিল্লি পুলিশের রেলওয়ে ইউনিট এবং ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন,
“পদপিষ্টের ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে।”

শোক প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। রেলমন্ত্রী ঘটনাটির উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মহাকুম্ভমেলা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যেখানে লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে অংশ নেন। তবে এই বিপুল জনসমাগমের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। যাত্রীদের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থাপনা করেনি, যার ফলে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে।

ট্যাগ:

#মহাকুম্ভমেলা #নয়া_দিল্লি #রেলস্টেশন_দুর্ঘটনা #ভারত #পদদলিত #রেলওয়ে_নিরাপত্তা #নরেন্দ্র_মোদি

সিএনজি চালকদের বিক্ষোভে স্থবির ঢাকা: ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন

রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, বিআরটিএ সম্প্রতি এক নির্দেশনায় মিটারের নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ মিললে চালককে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

এ ঘোষণার প্রতিবাদে এবং নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সিএনজি অটোরিকশা চালক ঐক্য পরিষদ ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো:

বিআরটিএ নির্ধারিত দৈনিক জমা ৯০০ টাকা কার্যকর করা
ঢাকা মেট্রোর জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার সিএনজি চালকদের নামে রেজিস্ট্রেশন প্রদান
অতিরিক্ত ১৫ হাজার সিএনজি অনুমোদন
দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
আইএলও কনভেনশন ৮৭ অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার
চালকদের প্রতি প্রশাসনের হয়রানি বন্ধ
নো-পার্কিং মামলা বন্ধ করে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা
অটোরিকশার জন্য মহাসড়কে নির্দিষ্ট লেন বরাদ্দ
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এবং বিধিমালা ২০২৩-এর শ্রমিকবিরোধী ধারা বাতিল

এ নিয়ে গত ২০ জানুয়ারিতেও চালকরা বনানীতে বিআরটিএ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেছিল। তবে এখনো কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সরকার নির্ধারিত ভাড়ার হার অনুযায়ী, প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ৪০ টাকা, এরপর প্রতি কিলোমিটারে ১২ টাকা এবং প্রতি মিনিটে ওয়েটিং চার্জ ২ টাকা ধার্য রয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, মিটারের ভাড়া কার্যকর না হওয়ায় ১৫০ টাকার নিচে কোনো গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব নয়।

চালকরা বলছেন, বিআরটিএ তাদের স্বার্থ বিবেচনা না করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই নয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের আশাবাদ বিএনপি মহাসচিবের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশা প্রকাশ করেছেন যে জাতীয় নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে। আজ (শনিবার) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করব সংস্কারের বিষয়ে দ্রুত ঐকমত্য তৈরি হবে। দ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

সংসদ নির্বাচন আগে হবে নাকি স্থানীয় সরকার নির্বাচন—এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, “আগে সংসদ নির্বাচন, পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।”

সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে এবং ঐকমত্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মতামত দিয়েছে। বিএনপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি, জাতীয় নাগরিক কমিটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), নাগরিক ঐক্য, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

 

কারওয়ান বাজারে একুশে টিভি ভবনে আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস

ঢাকার ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা কারওয়ান বাজারের জাহাঙ্গীর টাওয়ারের নিচতলায় আজ (শনিবার) রাত ৮টার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভবনটিতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) কার্যালয় রয়েছে।

আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেল ৩৬৯ ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ৩৬৯ ফিলিস্তিনি বন্দী। আজ শনিবার তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসও তিনজন ইসরায়েলিকে মুক্তি দিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিদের অনেকেই পশ্চিম তীরে পৌঁছেছেন, আর বাকিরা গাজায় ফিরবেন। এ খবরে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

এক ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, “আমরা উদ্বেগে ছিলাম, যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে ভেবে আমরা রাতে ঘুমাতে পারিনি। আমাদের চাওয়া, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক, গাজা পুনর্নির্মাণ হোক এবং সব বন্দী মুক্তি পাক।”

হামাসের পক্ষ থেকে মুক্তি দেওয়া তিন ইসরায়েলি নাগরিক হলেন রুশ-ইসরায়েলি আলেকজান্ডার ট্রুফানোভ, আর্জেন্টাইন-ইসরায়েলি ইয়ায়ার হর্ন এবং আমেরিকান-ইসরায়েলি সাগুই ডেকেল-চেন। গাজার খান ইউনিস থেকে তাদের রেডক্রসের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামাসের যোদ্ধারা একটি সাদা ভ্যান থেকে তিন জিম্মিকে বের করে এনে জনসমক্ষে উপস্থাপন করে। তাদের হাতে স্মারক উপহারও তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেড জানায়, তিন জিম্মিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ছিনতাই করা একটি গাড়িতে করে আনা হয়।

অন্যদিকে, তিন ইসরায়েলি নাগরিকের মুক্তির খবর পেয়ে তাদের স্বজনরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরিবারগুলোর সদস্যরা টেলিভিশনে মুক্তির দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এ যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুসারে ইসরায়েলও ৩৬৯ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। এই বন্দী বিনিময় ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।