জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন জরুরি: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
আজ মঙ্গলবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘ডিসি-বিভাগীয় কমিশনাররা স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাদের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তাই তারা চান জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে, কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতেও স্থানীয় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চাইলেও জামায়াত ও ছাত্ররা আগে স্থানীয় ভোটের পক্ষে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করেন, ‘যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, তারা কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা অন্যায় ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তারা ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে গণহত্যার মামলার আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।’
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য গঠন জরুরি। আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নির্দিষ্ট সরকারনির্ভর নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা শাসনব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বক্তব্য দেন।
রবিবার ওমানে অনুষ্ঠিত অষ্টম ভারত মহাসাগর সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন তৌহিদ হোসেন। সেখানে সীমান্ত হত্যা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, জেলেদের অধিকার, আদানি বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপির শাসনামলেও বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাই সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট সরকারকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ২০২৪ সালে ২৪ জন বাংলাদেশি সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘ভারত প্রায়শই বলে যে সীমান্তে অপরাধ হচ্ছে, তাই গুলি চালানো হয়। কিন্তু বিশ্বের কোনো সীমানায় এভাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয় না।’
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করেন। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের দায়িত্ব।’ তবে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতীয় মিডিয়ায় সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতনে জড়িত ছিল না।
ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত আদানি পাওয়ার প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী চলবে, তবে যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তাহলে যৌথভাবে পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কয়লার ক্রয়মূল্য পুনরায় আলোচনা করা যেতে পারে।’
তিনি জানান, আগামী এপ্রিল মাসে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সম্মেলনের আগে এই বিষয়ে আলোচনা হবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাই বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফেরানোর জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। যদি ভারত তাকে ফেরত না পাঠায়, তবে অন্তত তার বক্তব্যে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত যাতে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শুধু সরকার পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং পারস্পরিক স্বার্থ ও কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত হত্যা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ চুক্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশকে আরও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
ভারতীয় দলের নতুন জার্সি প্রকাশ: থাকছে পাকিস্তানের নাম
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিকে সামনে রেখে সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নতুন জার্সি। এ নিয়ে বেশ কিছু গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত আইসিসির নিয়ম মেনেই জার্সিতে আসরের আয়োজক পাকিস্তানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আগে শোনা গিয়েছিল, ভারতের জার্সিতে পাকিস্তানের নাম থাকবে না। তবে সোমবার প্রকাশিত অফিসিয়াল জার্সিতে দেখা গেছে, ক্রিকেটারদের বুকের ডান পাশে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে পাকিস্তানের নাম।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলের জার্সিতে আয়োজক দেশের নাম উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। সাধারণত জার্সির বাঁ পাশে প্রতিযোগিতার লোগো ও আয়োজক দেশের নাম থাকে। তবে এবার ভারতের জার্সিতে পাকিস্তানের নাম লেখা হয়েছে ডান পাশে, যা আগেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
এ নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বা আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। তবে ক্রিকেট বিশ্বে এ বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।
ব্রাজিলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়
দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল মুহূর্তে আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ে ম্যাচ তখনও চলমান, কিন্তু গ্যালারির একাংশে হলুদ জার্সি পরা একদল সমর্থকের উচ্ছ্বাস জানিয়ে দিল চ্যাম্পিয়ন কারা! শেষ বাঁশি বাজার পর সেটাই পরিণত হয় ব্রাজিলের শিরোপা উদযাপনে।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের শুরুটা ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তারা। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, শিরোপার দৌড় থেকে ব্রাজিল কার্যত ছিটকে গেছে। কিন্তু উত্থান-পতনের চরম নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত সেই আর্জেন্টিনাকেই হতাশায় ডুবিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো সেলেসাওরা, যা তাদের জন্য টানা দ্বিতীয় এবং মোট ১৩তম শিরোপা।
শেষ ম্যাচের রোমাঞ্চ
চূড়ান্ত পর্বে ৪ ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ছিল সমান ১০। শিরোপার জন্য শেষ ম্যাচ নির্ধারণী হয়ে ওঠে।
ব্রাজিল প্রথমে মাঠে নামে চিলির বিপক্ষে। ৭২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে চাপে থাকলেও, শেষ ১৭ মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-০ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন ডেভিড ওয়াশিংটন, পেদ্রো ও রিকার্ডো ম্যাথিয়াস।
এই জয়ের ফলে ব্রাজিল ৩ পয়েন্টে এগিয়ে যায় এবং (+৪) গোল ব্যবধান নিশ্চিত করে, যা আর্জেন্টিনার জন্য সমীকরণ আরও কঠিন করে তোলে।
পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা মাঠে নামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। তাদের শুধু জয় নয়, শিরোপা নিশ্চিত করতে ৪ গোলের ব্যবধানও প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই চাপে পড়ে যায় দলটি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ হেরে বসে, যা ব্রাজিলের শিরোপা নিশ্চিত করে।
ব্রাজিলের স্বপ্নময় সমাপ্তি
টুর্নামেন্টের শুরুতে ৬ গোল খাওয়ার লজ্জা ভুলে গিয়ে ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করল, ফুটবলে প্রত্যাবর্তনের গল্প সবসময়ই রোমাঞ্চকর হয়। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নতুন প্রজন্মের জন্য এটি এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫: পাকিস্তানে ভারতের না যাওয়া ও পতাকা বিতর্ক
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এবারের আসরের আয়োজক পাকিস্তান হলেও ভারত তাদের ম্যাচ খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে। পাকিস্তানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও একটি বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে—গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অংশগ্রহণকারী ৮ দলের মধ্যে ভারতের পতাকা নেই। ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
ভারতের পাকিস্তানে না যাওয়ার কারণ
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) শুরু থেকেই জানিয়ে এসেছে, সরকার অনুমতি না দিলে তারা পাকিস্তানে দল পাঠাবে না। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বিসিসিআই পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে আইসিসি ‘হাইব্রিড মডেলে’ টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ভারতের সব ম্যাচ হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ভারতের পতাকা না থাকা নিয়ে বিতর্ক
সাম্প্রতিক কিছু ভিডিও ও ছবি থেকে জানা গেছে, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ৮টি অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ৭ দলের পতাকা টানানো হয়েছে। কিন্তু ভারতের পতাকা সেখানে দেখা যায়নি। এতে অনেকে মনে করছেন, ভারত পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ায় পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) তাদের পতাকা রাখেনি। যদিও এ নিয়ে পিসিবির আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হিন্দুস্থান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত দল পাকিস্তানে না আসার সিদ্ধান্তের জবাব হিসেবে পিসিবি তাদের পতাকা রাখেনি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে এটি করা হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ভারতের না খেলার প্রভাব ও টুর্নামেন্ট কাঠামো
ভারতের পাকিস্তানে না যাওয়ার কারণে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সূচি চূড়ান্ত করতেও বেশ দেরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হয় যে, ভারত তাদের ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলবে। এমনকি টুর্নামেন্টের একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল কোথায় হবে, সেটাও এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
ভারত এবার খেলছে ‘গ্রুপ-বি’তে, যেখানে তাদের প্রথম ম্যাচ ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বিপক্ষে। একই গ্রুপে রয়েছে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি, যেখানে করাচিতে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড।
ক্রিকেট নাকি রাজনীতি?
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব যে ক্রিকেটেও পড়ছে, তা নতুন কিছু নয়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে প্রায় এক দশক ধরে। কেবলমাত্র আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টেই তারা মুখোমুখি হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজনের এই বিতর্ক ক্রিকেটীয় কূটনীতির নতুন উদাহরণ। ভারত সরকারের অনুমতি না থাকায় বিসিসিআই পাকিস্তানে দল পাঠাচ্ছে না, যা পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, ভারতের পতাকা না টানানোও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য সমাধান
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভবিষ্যৎ আয়োজন কেমন হবে, তা নির্ভর করবে এই টুর্নামেন্টের সফলতার ওপর। আইসিসি চাইছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাইরে রেখে ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে। তবে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে ভবিষ্যতে এমন আরও বিতর্ক দেখা যেতে পারে। বিকল্প সমাধান হিসেবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এসব টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা বাড়ছে।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ শুধুমাত্র ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং ক্রিকেট-রাজনীতিরও এক বড় উদাহরণ হয়ে থাকল।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা সেবায় নৈরাজ্য: আন্দোলনের নামে নগরবাসী জিম্মি
মূল বিষয়:
- বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন
- রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চালকদের সড়ক অবরোধ, নগরবাসীর দুর্ভোগ
- মালিকদের অতিরিক্ত জমা আদায় ও চালকদের ভাড়া বৃদ্ধির দাবি
- সরকার আইন প্রয়োগের চেষ্টা করলেও আন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার
ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই বিশৃঙ্খলার শিকার। এর মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা সেবা নাগরিক দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের যাতায়াতের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং চালকদের স্বেচ্ছাচারী আচরণ নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সরকারি নিয়মনীতি কার্যকর করতে গেলেই চালক-মালিকদের আন্দোলন নগরজীবনে নতুন সংকট তৈরি করে।
নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে ব্যর্থতা
বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া মিটারে নির্ধারিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। চালকরা নির্ধারিত ভাড়া মানতে নারাজ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি ভাড়া দাবি করেন। অনেক সময় নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান চালকরা। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হন।
মালিক ও চালকদের অসহযোগিতা
অটোরিকশার চালকরা অভিযোগ করেন যে, মালিকরা তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন বিআরটিএ নির্ধারিত জমার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করেন। সরকার নির্ধারিত জমা যেখানে প্রতিদিন ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে মালিকরা দাবি করেন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে চালকরা বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া আদায় করেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন।
চালকদের আন্দোলন ও নগরজীবনে বিপর্যয়
বিআরটিএ কঠোরভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিলে চালকরা আন্দোলনে নামেন। তারা রাস্তায় নেমে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন, যা নগরজীবনকে স্থবির করে তোলে। এই আন্দোলনের কারণে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীরা এবং রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়, যা সাধারণ জনগণের জন্য নতুন ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ করণীয়
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের উচিত কঠোরভাবে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করা। নির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সুস্পষ্ট নিয়ম চালু করতে হবে। একইসঙ্গে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা সেবাকে কোনো বড় কোম্পানির আওতায় এনে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আনলে এই বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
সিএনজির উপর নির্ভরতা কমানোর বিকল্প ব্যবস্থা
সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপর নির্ভরতা কমাতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নিতে হবে। ঢাকায় রিকশার পাশাপাশি বাস সার্ভিস বাড়ানো, অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা সম্প্রসারণ এবং ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে সিএনজির উপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।
জনগণের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু সরকার নয়, নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীরা যদি নিয়মিত অভিযোগ জানায় এবং বিআরটিএর হটলাইনে রিপোর্ট করে, তবে সিএনজি চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা কিছুটা কমতে পারে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের পাশাপাশি মালিক-চালকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা বজায় রাখা, আইন প্রয়োগ করা এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে এই সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হতে পারে। জনগণের যাতায়াত সুবিধাজনক করতে হলে সরকার, পরিবহন সংস্থা এবং নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য: আ. লীগ নেতাকর্মীরা শরণার্থী
বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ‘শরণার্থী’ আখ্যা দিয়ে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরের এবিসি অডিটোরিয়ামে ‘খোলা হাওয়া’ সংগঠনের আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইন ক্রাইসিস’ শীর্ষক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক ও ভারতীয় হিসেবে আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, আওয়ামী লীগ করার অপরাধে বা হিন্দু হওয়ার কারণে যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে এসেছেন, তাদের দয়া করে জেলে পুরবেন না। অতীতে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। এবারও মানবিকতা দেখাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব আওয়ামী লীগ নেতার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রোহিঙ্গা নন।”
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে যদি বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, আমি অবাক হব না। কারণ, দেশটি কার্যত পাকিস্তানই পরিচালনা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে এখন মৌলবাদী সরকার ক্ষমতায়। বিএনপি বা জাতীয় পার্টির কোনো ভূমিকা নেই। আওয়ামী লীগ তো ছেড়েই দিন, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদেরও টার্গেট করা হচ্ছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ঢাকায় না বসে সারাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জামাতের অফিসে গিয়ে বৈঠক করছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে যারা সমর্থন করেছিল, তারাই এখন দেশ চালাচ্ছে।”
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সনাতনী হিন্দুদের শূন্য করে ফেলা হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের সরকারি চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো ভাস্কর্য নেই, গান্ধীজির স্মারক ভাঙা হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, “৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করা হচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধীর নামে থাকা লাইব্রেরিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে একদিন বাংলাদেশ পার্লামেন্টে ঘোষণা করবে—পাকিস্তানের সঙ্গে বিভাজন ছিল ভুল, আমরা পুনরায় সংযুক্ত হতে চাই।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের পরপরই ভারতে এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে। বাংলাদেশের সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, কমেছে সরকারের ব্যাংকঋণের প্রয়োজন
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে ব্যাংকঋণের চাহিদাও কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সরকারের নিট ব্যাংকঋণের স্থিতি প্রায় ১,০৭২ কোটি টাকা কমে গেছে।
সরকারের ঋণ গ্রহণ কমার পেছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে—উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, সঞ্চয়পত্র বিক্রির ঊর্ধ্বগতি এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা বৃদ্ধি।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা হলেও, জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে মাত্র ৫৯,৮৭৬ কোটি টাকা। এটি মোট বরাদ্দের মাত্র ২১.৫২ শতাংশ, যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।
সঞ্চয়পত্র বিক্রির ঊর্ধ্বগতি
সরকার ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে বেশি অর্থ সংগ্রহ করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ১,৬৭৬ কোটি টাকা ঋণ এসেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে ৩,৮৫৮ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা
উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার কোনো ঋণ নেয়নি। বরং গত সাত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ৫৫,৩৫৯ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সরকারি ঋণ গ্রহণের সামগ্রিক চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৩,১৮,৪৪১ কোটি টাকা, যা জানুয়ারি ২০২৪ শেষে বেড়ে ৩,৮৭,৩৭২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে জানুয়ারিতে এই ঋণের স্থিতি ১২৬ কোটি টাকা কমেছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১,৩৭,৫০০ কোটি টাকা, যা পরে ২৭% কমিয়ে ৯৯,০০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের ঋণ গ্রহণ কমার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের সুযোগ বাড়বে, যা বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি থাকলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে, কষ্টে নিম্নবিত্তরা
আগামী মাসের শুরুতেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান, তবে এর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল ও খেজুরের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার চাল, ডিম, সয়াবিন তেল, পাম তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও খেজুরের ওপর শুল্ক-কর হ্রাস করলেও বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। গড় মূল্যস্ফীতি এখনো ১০ শতাংশের ওপরে রয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি জেলায় ১০ সদস্যবিশিষ্ট বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন পুলিশ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা, ক্যাব প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।
টাস্কফোর্সের প্রধান দায়িত্ব:
✔ বাজার, আড়ত, গুদাম ও সরবরাহ চেইন পর্যবেক্ষণ করা
✔ পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান ন্যূনতম রাখা
✔ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
✔ প্রতিদিনের বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো
টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকিতে তেল, চিনি, ডাল, খেজুর ও ছোলা সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।
রমজানের আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট ঠেকানো গেলে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।

