আগামী মাসের শুরুতেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান, তবে এর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল ও খেজুরের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার চাল, ডিম, সয়াবিন তেল, পাম তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলু ও খেজুরের ওপর শুল্ক-কর হ্রাস করলেও বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। গড় মূল্যস্ফীতি এখনো ১০ শতাংশের ওপরে রয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি জেলায় ১০ সদস্যবিশিষ্ট বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন পুলিশ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা, ক্যাব প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।
টাস্কফোর্সের প্রধান দায়িত্ব:
✔ বাজার, আড়ত, গুদাম ও সরবরাহ চেইন পর্যবেক্ষণ করা
✔ পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান ন্যূনতম রাখা
✔ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
✔ প্রতিদিনের বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো
টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকিতে তেল, চিনি, ডাল, খেজুর ও ছোলা সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাকের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।
রমজানের আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট ঠেকানো গেলে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।


