মঙ্গলবার ,২৮ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 2

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এপিএস আমিনুর রহমান সেলিম গ্রেপ্তার

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের এপিএস (সহকারী ব্যক্তিগত সচিব) আমিনুর রহমান সেলিমকে গ্রেপ্তার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের রমনপুর গ্রামে তার নিজ বাসভবন থেকে পুলিশ বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলার আসামি হিসেবে সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতেই দিঘি এলাকায় সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তাকে আটক করার পর থানায় আনা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

গ্রেপ্তার আমিনুর রহমান সেলিম সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের রমনপুর গ্রামের বাসিন্দা, তিনি আলতাফ মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হামলার মামলাটি কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং এর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা জড়িত। পুলিশ এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং ধাপে ধাপে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ন্যায্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এদিকে রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেপ্তার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে—অনেকে একে “বিচারের পথে সঠিক পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করছেন।

‘মৃত ভোটারদের’ সঙ্গে চা পান করলেন রাহুল গান্ধী

ভারতের বিহারে নির্বাচন-কেড়ে নেওয়া এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সম্প্রতি একটি ভাইরাল ভিডিওতে তিনি সাতজন ভোটারের সঙ্গে নিজের বাসভবনে চায়ের আয়োজন করেন—যাদের ভোটার তালিকা থেকে ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সবাই সুস্থ ও সচেতন জনগণের অংশ, যাদের ভোটাধিকার ও জনপ্রতিনিধিত্ব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার—হঠাৎই বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ ওই ব্যক্তি রাহুলের সাথে চা পান করছেন। রাহুল প্রথমে তাদের “আপনারা তো বেঁচেই আছেন” বলে প্রশ্ন তোলেন। একজন ভোটার জানান, “আমাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে”—রাহুল প্রশ্ন করেন, “কীভাবে জানতে পারলেন?” এবং ভোটার বলেন, “ভোটার তালিকা পরীক্ষা করে দেখেছি।” ভিডিওতে একজন পুরুষ ভোটারের ভোটার কার্ডও প্রদর্শন করা হয়—রামইকবাল রায় নামের ওই ভোটারের জন্ম ১৯৫৯, বাবার নাম লক্ষ্মী রায় সঠিকভাবে কার্ডে উল্লেখ রয়েছে।

রাহুল আবার ভাষ্য দেন, “আপনাদেরকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, আপনাদের মেরে ফেলা হয়েছে? নির্বাচন কমিশন মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে?” একজন ভোটার বলেন, “একটা পঞ্চায়েত এলাকায় অন্ততপক্ষে ৫০ জনের ক্ষেত্রেই এমন হয়েছে”—এছাড়া জানান, তারা একাধিক বুথ থেকে এসেছেন এবং আরও অনেকেই আছেন যারা এভাবে বাদ পড়েছেন—নথিপত্র সত্ত্বেও।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাঘোপুর, যেখানে তেজস্বী যাদবের প্রভাব রয়েছে—সেখানে এই সাতজন বাস করছেন। তারা প্রয়োজনীয় ফর্ম ও দলিল জমা দিয়েও, ভোটার তালিকায় নাম ফিরে পাননি।

ভিডিও শেয়ার করে রাহুল গান্ধী তাঁর X (সাবেক Twitter) হ্যান্ডলে লিখেছেন:
“জীবনে অনেক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে, কিন্তু কখনো মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ পাইনি। এই অভিজ্ঞতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ।”

এই ঘটনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস নেতা এই ঘটনাকে “রাজনৈতিক বঞ্চনা” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, “যখন জীবিতদের মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তখন সেটি গণতন্ত্রের মৃত্যু সনদ প্রদান করার সমান।”

ইতিমধ্যে বিশেষ ভারি বিতর্কের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন ও “ভোট চুরি” ইস্যুটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে, আর নির্বাচন কমিশন দাবি করছে প্রক্রিয়াটি ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ।

জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মহাসমাবেশে ঢাকায় যানজট

আজ বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট’ ব্যানারে মহাসমাবেশ শুরু করেন সারা দেশ থেকে আসা শিক্ষক ও কর্মচারীরা। মূল দাবি—স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি পূর্ণ জাতীয়করণ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা নিশ্চিত করা।

সমাবেশের কারণে প্রেসক্লাব, পল্টন, হাইকোর্ট এবং শাহবাগমুখী সড়কে সকাল থেকেই যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু রুট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে ওই পথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিপরীতমুখী সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

আন্দোলনকারীদের অবস্থান:
সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষকরা ঘোষণা দেন—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রেসক্লাব এলাকা ছাড়বেন না। তবে পূর্বনির্ধারিত সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার পরিবর্তে পুলিশের সহায়তায় একটি ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার জন্য সচিবালয়ে যায়।

দাবির বিস্তারিত:
জোটের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের টানা ২২ দিনের আন্দোলনের ফলে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ও বর্তমান পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, মেডিকেল ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদান এবং সর্বজনীন বদলি চালু করতে হবে। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের আওতায় আনতে হবে।”

জোটের সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন আজিজী অভিযোগ করেন যে, সরকার বারবার আলোচনা ও অনুরোধ সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। “আমরা বারবার আলোচনায় গিয়েছি, টেবিল কনফারেন্স করেছি, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আজকে আমাদের এই মহাসমাবেশ।”


শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।

অন্তর্বর্তী সরকার কালো টাকার বিস্তার রোধে সচেষ্ট থাকবে

আজ বুধবার (তারিখসহ) দুপুরে সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ‘ইউ পেনশন’ অ্যাপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি ‘ভালো’ নির্বাচন আয়োজন করতে চায় এবং সেই লক্ষ্য পূরণে কালো টাকার বিস্তার রোধে সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরের সমন্বয় ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ দাবি করেন।

ড. আহমেদ আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অর্থ মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করছে,”—যা সরকারের নির্বাচন নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্দেশ করে।

তিনি জাতীয় কল্যাণনীতির অংশ হিসেবে “বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে”––সরকারের দর্শন ও কর্মপরিকল্পনার মৌলিক লক্ষ্য হিসাবে এই বক্তব্য গুরুত্ব বহন করে।

পেনশন স্কিম প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন যে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সব পেশার মানুষ কেন অংশ নিচ্ছে না, তা খুঁজে বের করতে হবে। সেইসাথে সরকারি কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই স্কিমে আনার সম্ভাবনা ও প্রয়োগযোগ্যতা যাচাই করার নির্দেশও দেওয়া হয়। কেউ কোনো ভুলত্রুটি দেখলে তা সংশোধনে উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি তিনি ব্যক্ত করেন। প্রচারণা ও গ্রাসহীন পেনশন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ ছিল উল্লেখযোগ্য।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

২৩৪ দিন আগে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ মঙ্গলবার (১২ আগস্ট ২০২৫) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ ঘোষণা করেছেন যে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশ প্রস্তুত রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আগামী নির্বাচন বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত প্রচেষ্টা বিশ্লেষণ করে বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খল ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। ফলে এখন নির্বাচন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, “নার্ক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার পথে ফিরিয়ে আনতে পারব। এজন্য আমাদের অনেক সহায়তা প্রয়োজন এবং আমরা মালয়েশিয়ার সহায়তা প্রত্যাশা করছি।” সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান, বলেছেন— “এখানে অপার সম্ভাবনা”।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি তুলে ধরেন, “রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বড় সংকট”, এবং এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আসিয়ানের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকের প্রথম দিনেই দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও তিনটি নোট বিনিময় স্বাক্ষরিত হয়। এগুলো প্রতিরক্ষা, শ্রম, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, হালাল ইকোসিস্টেম, উচ্চশিক্ষা ও কূটনৈতিক প্রশিক্ষণসহ রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সহযোগিতা বাড়াতে নির্ধারিত।

ঢাকা থেকে রাজধানীর ব্যস্ত দূরত্বে পুত্রাজায়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক সহযোগিতার নতুন রূপ রেখেছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফর ও ঘোষণাগুলি নির্বাচনের বৃত্তান্তে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই সমসাময়িক অগ্রগতিপূর্ণ পরিস্থিতি কে কেন্দ্র করে উন্নয়নমূলক প্রচেষ্টা দৃশ্যমান।

উত্তরা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ১৬, দগ্ধ বহু শিক্ষার্থী—শোকাচ্ছন্ন গোটা দেশ

ঢাকার উত্তরা এলাকায় সোমবার দুপুরে সংঘটিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এক প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়াও বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দগ্ধ ও আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন কলেজের জুনিয়র সেকশনের ভবনের ওপর ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই বিকট বিস্ফোরণ এবং আগুন ধরে যায় ভবনটিতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই সময় স্কুলে প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং শিক্ষকদের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরে যায়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

মাইলস্টোন কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ ও প্রভাষক রেজাউল ইসলাম জানান, বিমানটি সরাসরি শিশু বিভাগের ভবনে আঘাত হানে। ওই ভবনে নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চলছিল। আগুন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক শিক্ষার্থী আটকে পড়ে। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। আহতদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। প্রশিক্ষণ বিমানে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর একমাত্র পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি প্যারাসুট ব্যবহার করে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই দুর্ঘটনা রাজধানীর নাগরিকদের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে জনবহুল আবাসিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারি তথ্যমতে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্পের তোপের মুখে ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে ইলন মাস্ক ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক। বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং টেসলা সিইও ইলন মাস্ক ঘোষণা দিয়েছেন ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের। এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প মাস্কের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।

গতকাল রবিবার, এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি তৃতীয় পক্ষ শুরু করা হাস্যকর। এটা সবসময়ই একটি দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা ছিল এবং তৃতীয় পক্ষ কেবল বিভ্রান্তি তৈরি করে।” এ বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প মাস্কের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক এবং অযৌক্তিক বলেই মনে করছেন।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মেও মাস্ককে নিশানা করেন। তিনি লেখেন, “গত পাঁচ সপ্তাহে ইলন মাস্ককে পুরোপুরি দিশাহীন হয়ে পড়তে দেখেছি। তিনি এখন মূলত একটি ট্রেনের ধ্বংসস্তূপ।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন মাস্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থানের প্রতি, বিশেষ করে তার বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) নীতির ওপর।

মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ইভি গ্রহণকে বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ট্রাম্প এই প্রস্তাবের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, তার নতুন কর ও ব্যয় পরিকল্পনা—যা তিনি ৪ জুলাই আইনে স্বাক্ষর করেছেন—এই বাধ্যতামূলক ইভি নীতির অবসান ঘটিয়েছে। এই আইনে সীমান্ত নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি উৎপাদনে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তা খাতে বিতর্কিত কাটছাঁট আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, মাস্কের দাবি, ট্রাম্পের এই ব্যয় পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক দেউলিয়ার দিকে ঠেলে দেবে। এই উদ্বেগ থেকেই তিনি ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান। মাস্ক বলেন, এই দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয়ের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে, এবং জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের ২০২৪ সালের পুনঃনির্বাচন প্রচারে মাস্ক লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করেছিলেন। তারা একসাথে ওভাল অফিসসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নীতিগত মতপার্থক্য তাদের সম্পর্কে চিড় ধরিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের নতুন রাজনৈতিক দল রিপাবলিকানদের ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত তরুণ ও প্রযুক্তিবান্ধব ভোটারদের মধ্যে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা সবসময়ই কঠিন ছিল, তবে মাস্কের মতো প্রভাবশালী একজন উদ্যোক্তার এই পদক্ষেপ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

ইরানে ট্রাম্পের হামলা: মার্কিন আঘাতে নতুন যুদ্ধের মুখোমুখি মধ্যপ্রাচ্য

২০২৫ সালের ২১ জুন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড়সড় সামরিক অভিযানে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। বলা হচ্ছে, এই হামলাটি ছিল ট্রাম্পের দুই মেয়াদের সবচেয়ে তীব্র সামরিক পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ৪৬ বছরের সংঘাতের এক নতুন মোড়। মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো মিসৌরি ঘাঁটি থেকে রওনা হয়ে ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে ফোর্ডোসহ অন্তত তিনটি গোপন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব হামলার ফলাফল ছিল “মৌলিক এবং ঐতিহাসিক,” যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বছরের পর বছর পেছনে ঠেলে দিয়েছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “হামলাগুলো ছিল শক্তিশালী এবং সঠিক।” তবে তাঁর এই বিজয়োল্লাসমূলক বিবৃতির বিপরীতে বাস্তব চিত্র অনেকটাই অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক।

হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জিম হিমস বলেছেন, “যারা বলছেন এই হামলা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে, তাদের আসলে কিছুই বোঝা নেই। এখন পর্যন্ত আমরা জানি না, ইরান তার কোনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা গবেষণা সামগ্রী হামলার আগেই সরিয়ে নিতে পেরেছে কিনা।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলার আগে যদি ইরান পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়ে থাকে, তবে এই হামলা কার্যত তাদের আরও দ্রুত একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে তাগিদ দিতে পারে। এটি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

ইরানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, “এই হামলার সময়, মাত্রা এবং প্রকৃতি বিবেচনা করে সশস্ত্র বাহিনী একটি উপযুক্ত পাল্টা জবাবের সিদ্ধান্ত নেবে।” ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে—যেকোনো মুহূর্তে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হতে পারে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “রেজিম চেঞ্জ (শাসন পরিবর্তন) কেন হবে না?” যা তাঁর প্রশাসনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে। যদিও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সরকার পতনের চেষ্টা করছে না, তবু ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন ‘মিশন ক্রিপ’-এর আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি প্রশ্নে এরইমধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যেই আমেরিকা এবং ইসরায়েলের হামলা ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্য ও সামরিক কৌশলে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফলস্বরূপ, ভবিষ্যতে ইরানে গণবিক্ষোভ, দমন-পীড়ন অথবা রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলে সেটি গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই হামলার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও দৃশ্যমান। রিপাবলিকান নেতারা ট্রাম্পের “সাহসী পদক্ষেপের” প্রশংসা করলেও অনেক রক্ষণশীল বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্প তার ‘ম্যাগা’ আন্দোলনকে একটি অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প সরাসরি একটি যুদ্ধমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেটি সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। এখন বিশ্ব অপেক্ষা করছে—ইরান কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, এবং এটি কিভাবে নতুন এক ভয়াবহ যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে।

 

ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে ইরানের ‘ফাত্তাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সর্বশেষ পদক্ষেপে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে ইরানের প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাত্তাহ’। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ইসরায়েলের আয়রন ডোমের জন্য ‘শেষের শুরু’।” যদিও ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

কী এই ‘ফাত্তাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র?

‘ফাত্তাহ’ শব্দের অর্থ ‘উন্মোচনকারী’। এটি ইরানের তৈরি প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার গতি শব্দের গতির ৫ গুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৬,১০০ কিলোমিটার। ২০২৩ সালে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

সেই সময়ে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস বিভাগের তৎকালীন প্রধান আমির আলি হাজিজাদেহ একে উল্লেখ করেছিলেন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির এক “প্রজন্মগত উল্লম্ফন” হিসেবে। তিনি বলেন, “ফাত্তাহ যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। এটি বায়ুমণ্ডলের বাইরে ও ভেতরে উভয় স্তরে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। একে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ এটি বিভিন্ন উচ্চতা ও দিক পরিবর্তন করতে পারে তাৎক্ষণিকভাবে।”

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:

  • পাল্লা: ১,৪০০ কিলোমিটার

  • জ্বালানি: কঠিন জ্বালানি

  • গতি: হাইপারসনিক (ম্যাক ৫ বা তার বেশি)

  • বিশেষত্ব: ম্যানুভারেবল রিএন্ট্রি ভেহিক্যাল (MRV) যা প্রতিরক্ষা ভেদে সহায়ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই MRV-র মাধ্যমে ফাত্তাহ লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর মুহূর্তে দিক পরিবর্তন করতে পারে, যা অধিকাংশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এমনকি ইসরায়েলের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ডেভিড’স স্লিং কিংবা অ্যারো সিস্টেমও এই হাইপারসনিক গতির ওয়্যারহেড থামাতে হিমশিম খায়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (IISS)-এর গবেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ বলেন, “ফাত্তাহ হলো এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র, যা শুধু গতি নয়, বরং কৌশলগত অভিযোজনে পারদর্শী। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে খেলাও পাল্টে দিতে পারে।”

বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, যদিও অধিকাংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশে উঠে হাইপারসনিক গতিতে পৌঁছে, কিন্তু ফাত্তাহ-এর মতো দিক পরিবর্তনকারী হাইপারসনিক অস্ত্র খুবই বিরল ও জটিল। এমন প্রযুক্তি সাধারণত রাশিয়া ও চীন ব্যবহার করে থাকে। ইরান যদি সত্যিই সফলভাবে এটি ব্যবহার করে থাকে, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যে বড় ধাক্কা হতে পারে।

‘আয়রন ডোম’ কতটা ঝুঁকিতে?

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ মূলত রকেট ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে এটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে দক্ষ নয় বলে অনেক বিশ্লেষক মত দিয়েছেন। যদিও ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) ব্যবস্থা রয়েছে, এটি দূরপাল্লার জন্য তৈরি এবং তুলনামূলকভাবে দামি ও সীমিত।


বর্তমানে ফাত্তাহ-১ ব্যবহার নিয়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে কথার লড়াই ছাড়িয়ে বাস্তব সংঘর্ষে গড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে এই সামরিক পাল্টাপাল্টি আঘাত বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনিশ্চিত দিক নিয়ে আসতে পারে।

“যুদ্ধ শুরু হলো”— ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হুঁশিয়ারি, খায়বারের ইতিহাস টেনে ইসরায়েলকে তীব্র বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সাম্প্রতিক মন্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি ঘোষণা করেছেন, “যুদ্ধ শুরু হলো”, সাথে যুক্ত করেছেন একটি ঐতিহাসিক বার্তা: “আলি খায়বারে ফিরে এসেছেন”। এই ঘোষণাকে ইসরায়েলবিরোধী এক তীব্র হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

টাইমস অব ইসরায়েল-এর বরাতে জানা যায়, ‘খায়বার’ শব্দটি সপ্তম শতকে মুসলিমদের হাতে ইহুদি জনপদ খায়বার বিজয়ের ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করে। ওই বিজয়ে অংশগ্রহণকারী প্রধান যোদ্ধা ছিলেন ইমাম আলী (রা.), যিনি শিয়া মুসলমানদের কাছে প্রথম ইমাম এবং ইসলামের ইতিহাসে এক মহান বীর। ‘আলি খায়বারে ফিরে এসেছেন’ বাক্যটি স্পষ্টভাবে বোঝায়, ইরান নিজেদের ‘ধার্মিক সংগ্রাম’-এর সূচনা হিসেবে তুলে ধরছে এই রাজনৈতিক বার্তায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পোস্টটির মাধ্যমে আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রথমবারের মতো সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জবাবে। ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিক পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং বলেন, “তিনি সহজ লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু ‘এই মুহূর্তে’ তাকে হত্যা করব না।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা চাই না বেসামরিক নাগরিক বা আমেরিকান সৈন্যদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হোক। আমাদের ধৈর্য ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।” তার অন্য এক পোস্টে দেখা যায়, তিনি দাবি করেন “ইরানের আকাশসীমা আমাদের নিয়ন্ত্রণে।” এসব পোস্টের ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প শেষমেষ লেখেন “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ!”

খামেনির বার্তা ছিল শুধু ইসলামি আবেগে ভরপুর নয়, বরং তিনি আরও লিখেছেন, “সন্ত্রাসী জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত। আমরা ইহুদিবাদীদের কোনো দয়া দেখাব না।” এখানে ‘জায়নবাদী শাসন’ বলতে ইসরায়েলকেই বোঝানো হয়েছে।

‘হায়দার’ নামটি ইমাম আলী (রা.)-এর একটি উপাধি। মুসলিম ইতিহাসে তিনি বিখ্যাত ‘লায়ন অব গড’ হিসেবে পরিচিত এবং খায়বার যুদ্ধে তাঁর অসাধারণ বীরত্ব ইতিহাসের অংশ। ইরানসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে শিয়া মুসলমানরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির এ ধরনের বার্তা শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে যখন গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও ইরান-মার্কিন সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে, তখন এই ধরনের ঘোষণার কূটনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে খামেনির সরাসরি যুদ্ধঘোষণামূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি ইসরায়েল-ইরান সরাসরি সংঘাত বা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক।