মঙ্গলবার ,২৮ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 3

বিশ্বের যেকোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে বাংলাদেশ: লিটন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল আজ বুধবার মুখোমুখি হচ্ছে শক্তিশালী পাকিস্তানের। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এই সিরিজে নামার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতি সিরিজে খুব একটা ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে ফিরে আসে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে এবার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে মাঠে নামছে টাইগাররা।

আত্মবিশ্বাসী লিটন দাস
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস প্রথম ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দল চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। তিনি বলেন,

‘আমাদের বিশ্বাস আছে, পৃথিবীর যেকোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারি। আমরা যদি ধারাবাহিক হতাম, তাহলে হয়তো বিশ্বের সেরা দলগুলোর ভেতরেই থাকতাম। আমরা যেহেতু পেছনের দল, তার মানে আমাদের কিছু ঘাটতি আছে। ওই জিনিসগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

লিটনের মতে, ধারাবাহিকতা না থাকাই বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তবে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে দল কাজ করছে। তিনি আরও বলেন,

‘প্রতিটা সিরিজেই আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকে। আমরা চেষ্টা করছি দল হিসেবে একসঙ্গে পারফর্ম করতে।’

চোখ রাঙাচ্ছে পাকিস্তান
পাকিস্তান এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী টি-টোয়েন্টি দল। বাবর আজমের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে তারা বরাবরই দাপটের সঙ্গে খেলে আসছে। তাদের দলে আছে বিশ্বমানের পেসার ও স্পিনাররা, যারা ঘরের মাঠে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকে।

চাপে থাকা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। সম্প্রতি ব্যাটাররা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। তবে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়দের ওপরই থাকবে ইনিংস গঠনের দায়িত্ব। বোলিং আক্রমণেও পরিবর্তন আসতে পারে—তাসকিন, শরীফুল এবং মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে থাকবে উইকেট নেওয়ার গুরুদায়িত্ব।

প্রথম ম্যাচেই তৈরি হতে পারে সিরিজের মোড়
এই সিরিজের প্রথম ম্যাচের ফলই অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে সিরিজের ভবিষ্যৎ গতিপথ। একটি জয় যেমন আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে, তেমনি একটি হার আবারো চাপ বাড়াতে পারে টাইগারদের উপর।

বাংলাদেশ দল আজ মাঠে নামবে একটি বার্তা নিয়ে—তারা হাল ছাড়তে রাজি নয়। প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনাই তাদের লক্ষ্য।

 

‘ভ্লাদিমির পুতিন আগুন নিয়ে খেলছেন’: ক্ষুব্ধ ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে কঠোর মন্তব্য করে বিশ্ব মিডিয়ার নজর কেড়েছেন। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বলেন, “ভ্লাদিমির পুতিন আগুন নিয়ে খেলছেন।” আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন রাশিয়া কিয়েভে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ইউক্রেন যুদ্ধের এক ভয়াবহ মোড় নির্দেশ করে। ট্রাম্পের মতে, এই ধরনের আক্রমণ অযৌক্তিক এবং বিপজ্জনক।

পুতিনকে ‘পাগল’ বললেন ট্রাম্প
ট্রাম্প আরও বলেন, “ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমার সবসময়ই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন যা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে তিনি একেবারে পাগল হয়ে গেছেন।” এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, যদি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকতেন, তাহলে এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “পুতিন বুঝতেই পারছেন না যে আমি না থাকলে রাশিয়ার জন্য অনেক খারাপ কিছু ঘটতে পারত।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত তাঁর নিজের প্রশাসনের সময় শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়।

নতুন নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত
সিএনএন এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। যদিও তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নন, তবে রিপাবলিকান দলের অন্যতম প্রধান প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে তার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।

গত রবিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মস্কোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করছি।” এ বক্তব্যে স্পষ্ট, ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনের বর্তমান অবস্থান ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির বড় কারণ।

সম্পর্কের মোড় ঘোরানো অবস্থান
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় পুতিনের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাবের জন্য তিনি একাধিকবার আলোচিত হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষ এবং মস্কোর শান্তি আলোচনার অনীহা ট্রাম্পকে মনোভাব পরিবর্তনে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের ভাষ্য কেবল পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নয়, বরং আগামী নির্বাচনে নিজের পররাষ্ট্র নীতি দৃঢ় ও কার্যকর প্রমাণ করার প্রচেষ্টাও।

বিশ্বজুড়ে MOI গ্রহণযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ: IELTS ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ

বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য IELTS বা TOEFL পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন, তাদের জন্য এই বাধা অনেকটাই সহজ হয়েছে MOI (Medium of Instruction) সার্টিফিকেটের মাধ্যমে। এই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করতে পারেন যে, তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে হয়েছে, যা অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে।

MOI কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

MOI বা Medium of Instruction সার্টিফিকেট হলো একটি প্রমাণপত্র যা দেখায় যে শিক্ষার্থী পূর্ববর্তী শিক্ষাজীবনে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করার সময় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, বিশেষ করে যখন IELTS বা TOEFL স্কোর নেই।

MOI সার্টিফিকেট পেতে হলে শিক্ষার্থীদের তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটি অফিসিয়াল চিঠি সংগ্রহ করতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে তাদের শিক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে হয়েছে। এই চিঠিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে।

যুক্তরাজ্য (UK):
যুক্তরাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় MOI সনদ গ্রহণ করে। উল্লেখযোগ্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হলো:

  • University of Southampton

  • University of Birmingham

  • University of South Wales

  • University of Essex

  • University of Brighton

  • University of Hertfordshire

  • University of Portsmouth

  • University of Greenwich

  • University of East London

  • London Metropolitan University

  • University of Central Lancashire

  • University of Bolton

  • University of Salford

  • Edge Hill University

  • Liverpool Hope University

  • Leeds Beckett University

  • Nottingham Trent University

  • Sheffield Hallam University

  • Teesside University

  • Birmingham City University

  • Coventry University

  • Solent University

  • University of East Anglia

  • University of Kent

  • University of Reading

  • University of Sussex

  • University of York

  • Newcastle University

  • University of Bristol

  • University of Leicester

  • University of Liverpool

  • University of Nottingham

  • University of Glasgow

  • University of Aberdeen

  • University of Dundee

  • University of Stirling

  • Cardiff University

  • Swansea University

  • University of Edinburgh

  • Queen’s University Belfast

  • University of Oxford

  • University of Cambridge

  • Imperial College London

  • King’s College London

  • University College London

অস্ট্রেলিয়া:
অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় MOI সনদ গ্রহণ করে, যেমন:

  • The University of Queensland

  • University of New South Wales

  • Macquarie University

  • Bond University

  • University of Southern Queensland

  • Swinburne University of Technology

  • Victoria University

  • Australian National University

  • University of Melbourne

কানাডা:
কানাডার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় MOI সনদ গ্রহণ করে, যেমন:

  • McGill University

  • University of Waterloo

  • University of Saskatchewan

  • University of Manitoba

  • Memorial University of Newfoundland

  • Brock University

  • University of Regina

  • Cape Breton University

  • Laurentian University

যুক্তরাষ্ট্র (USA):
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় MOI সনদ গ্রহণ করে, যেমন:

  • Drexel University

  • California State University

  • University of Iowa

  • University of Arkansas

MOI সনদ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ও বিভাগের জন্য ভর্তির শর্তাবলী ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা উচিত।

আমিরাতের কাছে সিরিজ হারের লজ্জা বাংলাদেশের, টি-টোয়েন্টিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে টাইগাররা

ক্রিকেট বিশ্বে বড়সড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ দল। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে টাইগাররা। এমন ফলাফলে হতবাক ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১২৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দুর্বল বোলিং ও বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে শেষ ওভারে জয় তুলে নেয় আমিরাত। দ্বিতীয় ম্যাচে তো আরও করুণ অবস্থা। ব্যাট হাতে কিছুটা লড়াই করলেও ১৩৮ রানের লক্ষ্যকেও রক্ষা করতে পারেনি টাইগার বোলাররা। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে আমিরাত।

এই হারের ফলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া কাপে ভরাডুবি ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও ব্যর্থতা মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচক কমিটি, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং অধিনায়কত্ব নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন ‘চাহিদার চেয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ করছে, যার ফলে মূল খেলোয়াড়েরা আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া উচিত হলেও অভিজ্ঞদের একদম বাদ দিয়ে টিম কম্বিনেশন তৈরি করায় এমন বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে।

এদিকে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো মানেই সেটা সম্মানের, সেখানে প্রতিটি বল, প্রতিটি রান মূল্যবান। এমন হারের কোনো অজুহাত চলে না।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি, তবে বোর্ডের অভ্যন্তরে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কোচিং স্টাফ, অধিনায়ক এবং নির্বাচক প্যানেল নিয়ে আগামী বোর্ড মিটিংয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সে দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। দেশের সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েও চলছে সমালোচনার ঝড়।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরকে সামনে রেখে এ ধরনের ফলাফলে দল পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শুধুমাত্র কৌশল নয়, খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তাও এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বিএনপির নজর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে দেশের রাজনীতি ফের সরগরম হয়ে উঠেছে। ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে টানা ছয় দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও সাম্যের হত্যার বিচার দাবিতে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

বিএনপি মনে করছে, এই দুটি ইস্যু এখন দলের কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, বিভিন্ন সংগঠনের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া এবং বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করে দেখছে দলটি।

গত সোমবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই ইস্যুগুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে নেতারা উল্লেখ করেন, “সরকার অনেক ছোট ছোট গোষ্ঠীর দাবি মেনে নিচ্ছে, অথচ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানো হচ্ছে না—এটা রহস্যজনক।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঢাকাবাসীর আন্দোলন এখনো সাধারণ মানুষের সমর্থন পাচ্ছে। সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে আমাদের দলীয়ভাবে মাঠে নামার সময় ঘনিয়ে আসছে।”

বৈঠকে বিএনপি নেতারা মনে করেন, যদি সরকার ইশরাক হোসেনের শপথ ও সাম্য হত্যার বিচার নিয়ে উদাসীনতা দেখায়, তবে তা সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে প্রমাণ করবে। নেতারা স্পষ্ট করেন, “যদি এসব দাবি উপেক্ষিত হয়, তাহলে বিএনপি পুরো শক্তি নিয়ে আন্দোলনে নামবে।”

এছাড়া, বৈঠকে আলোচনায় আসে, সম্প্রতি কিছু সংগঠন যেমন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দাবি সরকার সহজেই মেনে নিয়েছে। তাহলে বিএনপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ন্যায্য দাবিতে সরকার নিরব—এমন অবস্থান অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন তারা।

জুলাই সনদ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, নতুন সংবিধান এবং সম্ভাব্য গণভোট নিয়েও বৈঠকে বিস্তর আলোচনা হয়। নেতারা মনে করছেন, নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এবং এতে জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে।

বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “সংবিধানে সংস্কার আনা যায়, তবে তা সবাইকে নিয়ে। কিন্তু নতুন সংবিধানের কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

অন্যদিকে দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আলোচিত বক্তব্য—যেখানে আওয়ামী লীগের ‘ভালো নেতাকর্মীদের’ বিএনপিতে আহ্বানের প্রসঙ্গ উঠে আসে—নিয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে নেতারা একমত হন, তারেক রহমানের প্রতিদিনের বক্তব্য দলের কৌশল নির্ধারণে সহায়ক। সেই বক্তব্যকে মাঠ পর্যায়ে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি মনে করছে, জুলাই সনদ কেন্দ্র করে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা মোকাবিলা করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আর এই অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হলে, তা জুলাই আন্দোলনে যুক্ত সব পক্ষের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মত দিয়েছেন নেতারা।

ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের টানা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত, উপদেষ্টাদের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হেয়ার রোড

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে শপথের পরপরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজধানীর হেয়ার রোড এলাকায়। বিএনপি নেতা ও সাবেক মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকার দলীয় দুই উপদেষ্টা—আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলমের—পদত্যাগের দাবিতে।

বুধবার রাতভর হেয়ার রোডে যমুনা ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর বৃহস্পতিবারও সেই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমর্থকেরা হেয়ার রোডে জড়ো হতে শুরু করেন। সমবেত নেতাকর্মীরা “উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চাই”—এমন স্লোগানে মুখরিত করে তুলেছেন পুরো এলাকা।

এ অবস্থানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কাকরাইল থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যমুনার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দেখা গেছে, সাঁজোয়া যানসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া সেনাবাহিনীরও একটি ইউনিট স্ট্যান্ডবাই মোডে রাখা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে সমর্থকেরা টানা সাত দিন নগর ভবনের সামনে ‘ব্লকেড কর্মসূচি’ পালন করেছিলেন। তখনো তাদের দাবি ছিল একই—আসিফ মাহমুদ সজিব ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ। তবে এবার সেই আন্দোলন আরও সংঘবদ্ধ ও কৌশলী রূপে সামনে এসেছে।

নেতাকর্মীরা বলছেন, “এই আন্দোলন শুধুমাত্র ডিএসসিসি নিয়ে নয়, এটা এক ধরনের প্রতিরোধ। আমরা এই দুটি উপদেষ্টার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।”

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবেই দাবি আদায় করতে চান, তবে দমন-পীড়নের চেষ্টা হলে তারা উপযুক্ত জবাব দেবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা আগামী দিনে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আজকের দিনটি ইতিহাসের আয়নায়: ১৪ মে—বিজ্ঞান, সাহিত্য ও স্বাধীনতার স্মরণীয় দিন

ইতিহাসের প্রতিটি দিনই আমাদের জন্য একটি শিক্ষার পাঠশালা। ১৪ মে তারিখটিও এর ব্যতিক্রম নয়। আজকের এই দিনে বিশ্বজুড়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অমর হয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈজ্ঞানিক অর্জন, সাহিত্যকর্ম ও মানবতার কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগ—সবই মিলেমিশে ১৪ মে তারিখটিকে করেছে তাৎপর্যপূর্ণ।

ইতিহাসের পাতায় ১৪ মে: উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি

  • ১৫৭৫: পর্তুগিজ উপনিবেশবাদীরা আফ্রিকার অ্যাঙ্গোলা দখল করে নেয়।
  • ১৬৪৩: মাত্র চার বছর বয়সে চতুর্দশ লুই ফ্রান্সের রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন, যিনি পরবর্তীতে ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘসময় শাসনকারী সম্রাট হন।
  • ১৭৯৬: এডওয়ার্ড জেনার সফলভাবে মানবদেহে গুটিবসন্ত প্রতিরোধী টিকার কার্যকারিতা প্রমাণ করেন—যা আধুনিক টিকাবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে।
  • ১৮১১: প্যারাগুয়ে স্পেনের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।
  • ১৮৪২: প্রথম সচিত্র সংবাদপত্র “ইলাস্ট্রেটেড লন্ডন নিউজ” প্রকাশিত হয়।
  • ১৮৮৯: লন্ডনে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়—এটি ছিল শিশু অধিকার রক্ষায় এক বড় পদক্ষেপ।
  • ১৯২৫: বিখ্যাত লেখিকা ভার্জিনিয়া উলফ-এর উপন্যাস ‘মিসেস ডলওয়ে’ প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়।
  • ১৯৩৯: লিনা মেডিনা মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মা হয়ে ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ মা হিসেবে পরিচিত হন।
  • ১৯৪৮: ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ফিলিস্তিন ত্যাগ করলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ইসরাইল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
  • ১৯৫৫: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহের মধ্যে ওয়ারশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়—যা ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কালীন সামরিক জোট গঠনে সহায়ক হয়।
  • ১৯৭৩: যুক্তরাষ্ট্র স্কাইল্যাব মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র উৎক্ষেপণ করে, যা ছিল সে সময়ের সবচেয়ে বড় মহাকাশ অবকাঠামো।

আজ যাদের জন্মদিন:

  • ১৯০৭: পাকিস্তানের সামরিক নেতা ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান
  • ১৯২৩: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় চিত্রপরিচালক মৃণাল সেন
  • ১৯৪৪: জর্জ লুকাস, হলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, যিনি ‘স্টার ওয়ার্স’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
  • ১৯০০: কানাডীয় কবি রবার্ট পিঙ্ক

আজকের দিনে প্রয়াত হয়েছেন:

  • ১৯১২: সুইডিশ নাট্যকার ইয়োহান আউগুস্ত স্ট্রিন্ডবার্গ
  • ১৯২৫: ইংরেজ ঔপন্যাসিক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড, যিনি ‘কিং সলোমন’স মাইনস’সহ অনেক অ্যাডভেঞ্চারধর্মী উপন্যাস লিখেছেন।
  • ১৯৯৮: বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাশিল্পী শওকত ওসমান
  • ২০০০: লেখক সৈকত আসগর

আজ ১৪ মে। কেবল একটি দিন নয়, বরং বহুবর্ণ ইতিহাসের এক অনন্য সাক্ষ্য বহন করে চলেছে এই তারিখটি। যেসব ঘটনার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে সভ্যতার নানা বাঁক, যেসব মানুষ জন্ম নিয়েছেন এই দিনে ও যাঁরা চিরবিদায় নিয়েছেন—তাঁদের স্মরণে এই দিনটি আমাদের জন্য এক অনন্য প্রেরণা।


 

রামগঞ্জে স্বর্ণালঙ্কারের জন্য ৬৫ বছর বয়সী নারীকে গলা কেটে হত্যা

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডীপুর ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। মঙ্গলবার (গতকাল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ৬৫ বছর বয়সী তাজিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করে। তার গলা ও নাকে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয় খুনিরা। পরে রাত ১১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত তাজিয়া বেগম স্থানীয় ক্বারী সাহেবের বাড়ির আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। ঘটনার সময় আব্দুল মান্নান এশার নামাজ আদায় করতে স্থানীয় মসজিদে যান। তাজিয়া তখন ঘরে একা ছিলেন। এই সুযোগে কে বা কারা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, মান্নান নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে রান্নাঘরে স্ত্রীর নিথর দেহ দেখতে পান। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাজিয়ার দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় রান্নাঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং তদন্ত শুরু করে।

নিহতের ভাগিনা এনামুল চৌধুরী পাবেল বলেন, “আমার ফুফুকে কে বা কারা জবাই করে হত্যা করেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে লুটপাটই মূল উদ্দেশ্য ছিল। আমরা চাই খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার জানান, “ঘটনার সময় ভিকটিম রান্না করছিলেন। ধারালো বটি দিয়েই সম্ভবত তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো মোটিভ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।”

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে পরিবারের শোক, অন্যদিকে প্রতিবেশীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হোক।


ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের পর তথ্যযুদ্ধ তুঙ্গে: কার তথ্য সত্য?

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সামরিক সীমারেখা পেরিয়ে তথ্যযুদ্ধের ময়দানে। ৭ মে দিবাগত রাতে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ভারতের বিমান হামলার পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি শুরু হয়েছে এক ভয়ংকর ‘তথ্যযুদ্ধ’।

উভয় দেশই ঘটনার পরপরই পাল্টাপাল্টি দাবি প্রকাশ করে নিজেদের পক্ষের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। এতে করে আসল সত্য কী, তা নির্ধারণ করা সাধারণ মানুষের জন্য যেমন কঠিন, তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি দাবি

পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যা নাকি ভারতীয় ভূখণ্ডেই পতিত হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি স্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। তবে ভারতের গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, তিনটি যুদ্ধবিমান ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভূপাতিত হয়েছে, তবে তা ভারতীয় না পাকিস্তানি—তা নিশ্চিত করা যায়নি।

চীনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ইতিমধ্যেই চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টকে ‘মিথ্যা তথ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

হামলার কারণ ও লক্ষ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব

ভারত বলছে, পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিশোধে তারা ৯টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। ভারত এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে প্রমাণ চেয়েছে।

পাকিস্তান বলছে, ভারতীয় বাহিনী তাদের ছয়টি শহর ও একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে, যাতে ৩১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে তিন বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, “ভারতীয় বাহিনী কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা করেনি।” উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং বলেছেন, “হামলাটি ছিল সুনির্দিষ্ট এবং বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”

সাদা পতাকা উড়ানোর বিতর্ক

পাকিস্তানের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় সেনারা নিয়ন্ত্রণরেখার এক পোস্টে সাদা পতাকা উড়িয়েছেন, যা আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীও একই দাবি করে বলেন, “তারা তদন্ত থেকে পালিয়েছে, এবার যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও পালিয়েছে।”

ভারত এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে যেহেতু আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ চলছে না, আত্মসমর্পণের প্রসঙ্গ আসাও কিছুটা অস্পষ্ট বলে মত বিশ্লেষকদের।

অতীতেও একই প্রবণতা

এ ধরনের তথ্যসংঘর্ষ ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে নতুন নয়। ২০১৯ সালে বালাকোটে ভারতীয় বিমান হামলার ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছিল। কেউ বলেছিল ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস’, কেউ বলেছিল ‘কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি’। তখনো সত্য নির্ধারণ ছিল অনিশ্চিত।

ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক মাধিহা আফজাল বলেন, “তথ্য নিয়ন্ত্রণ ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে বরাবরই কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তথ্য এখন আর শুধু প্রচার নয়, যুদ্ধের কৌশলও।”

ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ শুধু গোলাবারুদ নয়, এখন তথ্য দিয়ে সত্যকে আচ্ছাদিত করার যুদ্ধও। এই পরিস্থিতিতে সত্য ও বিভ্রান্তির পার্থক্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, নিরপেক্ষ বিশ্লেষক ও স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহের প্রয়োজন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তথ্য নিয়ন্ত্রণ এখন আর কেবল একটি মিডিয়া স্ট্র্যাটেজি নয়, বরং ভূরাজনৈতিক ক্ষমতার একটি বড় অংশ।

ভারতের ‘পুশ ইন’ নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানালেন জামায়াত আমির, সরকারকে দৃঢ় অবস্থানের আহ্বান

ভারতের খাগড়াছড়ি ও কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ১০২ জন ভারতীয় ও রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ইন করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৮ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সরকারকে কার্যকর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে জোর করে, অন্যায়ভাবে ‘‘পুশ ইন’’-এর নামে যে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও এর জনগণ মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়। মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে আমরা মাথা নত করব না।” সরকারের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, “এই বিষয়ে আমাদের সরকার যেন কোনো দুর্বলতা না দেখায়। আগ্রাসনকে স্পষ্টভাবে ‘‘না’’ বলুন।”

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান বলেন, “ভারত থেকে এভাবে পুশ ইন করাটা সঠিক প্রক্রিয়া নয়। আমরা এরই মধ্যে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।”

খলিলুর রহমান আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি কেস আলাদা আলাদাভাবে নিরীক্ষণ করছি। যদি আমাদের কেউ নাগরিক হয়ে থাকে, আর সেটা প্রমাণিত হলে তাদের আমরা গ্রহণ করব। তবে এটা ফরমাল চ্যানেলে হতে হবে। এভাবে পুশ ইন করাটা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।”

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি সীমান্ত দিয়ে ৬৬ জন ভারতীয় নাগরিক এবং কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে আরও ৩৬ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশ ইন করা হয়েছে। ভারতের এই আচরণ আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার পরিপন্থী বলে অভিহিত করছেন বিশ্লেষকরা।

এ ধরনের ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক এবং তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের কাঁধে ইতিমধ্যেই যে ভার পড়েছে, সেখানে নতুন করে এই ধরনের ‘পুশ ইন’ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আরও কৌশলী ও কড়া অবস্থান নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর আনতে হবে যেন প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের এমন আচরণ আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।