মঙ্গলবার ,২৮ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 4

মূলধন ঘাটতিতে রেকর্ড: খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র উন্মোচনে বিপর্যস্ত ব্যাংক খাত

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে এক বিপর্যয়কর চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে। খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাওয়ার পর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মূলধন সংরক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এর ফলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে অন্তত ২০টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতির মুখে পড়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা অনিয়ম, লুটপাট ও রাজনৈতিক প্রভাবে বিতরণ করা ঋণগুলোর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে গোপনে রাখা হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা মাথায় রেখে এখন অনেক ব্যাংক সেগুলোকে খেলাপি হিসেবে স্বীকার করছে। এর ফলে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা, তা এক বছরে বেড়ে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ১৩১ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২০.২০ শতাংশ।

এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বহু ব্যাংকই তা সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোর ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও (CAR) বা মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত থাকা উচিত ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ। কিন্তু ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে এটি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩.০৮ শতাংশ, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য এক ভয়াবহ সংকেত।

ঘাটতিতে শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলো হল:

  • জনতা ব্যাংক: ৫২,৮৯০ কোটি টাকা

  • কৃষি ব্যাংক: ১৮,১৮৮ কোটি টাকা

  • ইউনিয়ন ব্যাংক: ১৫,৬৮৯ কোটি টাকা

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: ১৩,৯৯১ কোটি টাকা

  • ইসলামী ব্যাংক: ১২,৮৮৫ কোটি টাকা

  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ১১,৭০৮ কোটি টাকা

  • আইএফআইসি ব্যাংক: ৯,০০০ কোটি টাকা

  • ন্যাশনাল ব্যাংক: ৭,৭৯৮ কোটি টাকা

এছাড়া বেসিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকও হাজার হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতির মধ্যে রয়েছে। এমনকি বিদেশি হাবিব ব্যাংকেরও ১২ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে।

মূলধন ঘাটতি শুধু ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেই প্রভাব ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং সাধারণ আমানতকারীদের আস্থায়ও ধাক্কা দিচ্ছে। যেসব ব্যাংকের মূলধনে ঘাটতি রয়েছে, তারা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারছে না এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনেও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট নিরসনে অবিলম্বে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত ও কঠোর নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ প্রয়োজন। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা হলে অর্থনীতির এক ভয়াবহ ঝুঁকি অপেক্ষা করছে।

নায়িকা বানানোর প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে হিরো আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ এক নারী বাদী হয়ে আলোচিত সোশ্যাল মিডিয়া তারকা আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। গত রোববার (৪ মে) এ মামলাটি দায়ের হয়। আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও বগুড়ার পুলিশ সুপারকে।

মামলায় হিরো আলম ছাড়াও অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার মেয়ে আলো খাতুন, সহকারী আল আমিন, মালেক, মালেকের স্ত্রী জেরিন এবং আহসান হাবিবের।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হিরো আলম তাঁকে নায়িকা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাঁকে একটি মৌলভি ডেকে কবুল বলিয়ে বিয়ে করার আশ্বাস দেন। তাঁরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত ১৮ এপ্রিল বগুড়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চাপ দেন হিরো আলম ও তাঁর সহযোগীরা। গর্ভপাত করতে রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ হলে তাঁকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর গর্ভপাত ঘটে।

বাদী আরও দাবি করেন, ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়াও সিনেমা বানানোর কথা বলে হিরো আলম তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হিরো আলম বলেন, “আমি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি এর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

হিরো আলম বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকলেও এবারের অভিযোগের মাত্রা গুরুতর এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর নিরসন চায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই। তবে সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যেই এ ঘটনা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা গণতন্ত্রকে আরও সহজ করবে: ফখরুল

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে কাতার রয়েল অ্যাম্বুলেন্সের বিশেষ ফ্লাইটে তাঁর এ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীতে বিরাজ করে ভিন্নরকম এক রাজনৈতিক উত্তেজনা। দলের নেতা-কর্মীরা প্রিয় নেত্রীকে বরণ করে নিতে সকাল থেকে বিমানবন্দর এলাকায় জমায়েত হতে থাকেন। একইসঙ্গে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে পা রাখলেন।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা দেশ ও জাতির জন্য অনেকটা খুশির খবর। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে তাঁর এ প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত সহায়ক হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য শুধু আবেগ নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব হবে।” পাশাপাশি তিনি দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া চেয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জুবাইদা রহমানের ফিরে আসা নিয়েও। ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো তাঁর দেশে ফেরা দলীয় ভেতরেও সাড়া ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশলে জুবাইদার সক্রিয় অংশগ্রহণ দলকে নতুন দিশা দিতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই প্রত্যাবর্তনকে কেউ কেউ দেখছেন নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক মাঠ গরম করার পূর্বাভাস হিসেবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের মতে, এটি নিছক কোনো তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক চমক নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত দলটির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

সার্বিকভাবে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা এবং জুবাইদা রহমানের পুনরাগমন বিএনপিকে নতুন করে সক্রিয় এবং ঐক্যবদ্ধ করবে—এমন প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলেন বাবা

গাজীপুর, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ — গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষমেশ নিজেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন মোহাম্মদ আলী (৭০)। আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে শ্রীপুর মডেল থানায় এসে নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

শ্রীপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলী থানায় এসে জানান, তিনি তাঁর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেনকে (২৮) ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রহলাদপুর এলাকার নিজ বাড়িতে গিয়ে আনোয়ারের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি ঘরের ভেতর পড়ে ছিল এবং পাশেই পাওয়া যায় রক্তমাখা বটি।

শ্রীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আক্তার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী ছেলে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মরদেহটি উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

স্থানীয়রা এবং পরিবারের সদস্যরা জানান, আনোয়ার হোসেন ছিল দীর্ঘদিনের মাদকাসক্ত। বিদেশে (দুই বছর মালয়েশিয়া ও চার বছর সৌদি আরব) থাকার পর দেশে ফিরে সে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত।

আনোয়ারের মামা আবদুল জলিল জানান, “মাদক কেনার টাকা না পেলে সে বাবা-মাকে মারধর করত। মঙ্গলবার রাতেও সে তার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনার পরই হয়তো তাঁর বাবা এমন সিদ্ধান্ত নেন।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, “আনোয়ার একেবারে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল। আত্মীয়স্বজন অনেকবার চেষ্টা করেছিল তাকে ঠিক পথে ফেরানোর, কিন্তু সে কারো কথা শোনেনি।”

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাবা নিজেই থানায় এসে হত্যার কথা স্বীকার করায় তাঁকে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মাদকাসক্তি কীভাবে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে তার নির্মম উদাহরণ। মাদক নিয়ন্ত্রণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

 

আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পৃথক মামলায় রিমান্ড আদেশ

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ — ঢাকায় জুলাই মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পৃথক তিনটি হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এই আদেশ দেন।

যাত্রাবাড়ি থানার রাসেল হত্যা মামলায় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে রিমান্ডে নিতে সাত দিনের আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভাটারা থানার মনির হোসেন হত্যা মামলায় সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানির পর আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই ভাটারার বাঁশতলা এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মনির হোসেন। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর নিহতের ভাই পারভেজ ফরাজী গত ২ অক্টোবর মামলা করেন।

অন্যদিকে, বাড্ডা থানার আব্দুল জব্বার হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, ৫ আগস্ট বাড্ডার ডিআইজি প্রজেক্ট এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিতে আহত হন জব্বার। পরে ঢামেকে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের মা ১৯ আগস্ট বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্বাস উদ্দিন আদালতে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি দেন।

এ তিন মামলার প্রত্যেকটি ঘটনাই ঘটেছে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে রাজধানীতে চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। নিহতরা সবাই ওই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই তিনজন আসামিই এর আগে একই ধারাবাহিকতায় দায়ের করা অন্যান্য মামলায় একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এসব মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

শ্রমিক-মালিক উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় শিগগিরই শ্রম আইন সংশোধন: শ্রম উপদেষ্টা

রিপোর্ট:
ঢাকা, ৩০ এপ্রিল ২০২৫ — শ্রমিক ও মালিক উভয়পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষায় শ্রম আইন শিগগিরই সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে শ্রমিকদের অধিকার এবং কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এই সংশোধনী প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর পরামর্শক্রমে পরিচালিত হচ্ছে এবং আগামী জুনে সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের পরই সংশোধনের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। শ্রম উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা এমন একটি আইন আনতে চাই, যা শ্রমিক ও মালিক উভয়ের জন্যই কল্যাণকর হবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হবে।”

মে দিবস উপলক্ষে নেওয়া নানা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১ মে) সকালে রাজধানীতে একটি শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হবে। “মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৫” উপলক্ষে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রচনা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

তাছাড়া, শ্রম অধিকারভিত্তিক সংবাদ, স্থিরচিত্র ও প্রতিবেদন যাচাই করে সাংবাদিক, রিপোর্টার এবং চিত্রগ্রাহকদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান উপদেষ্টা। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের অবদান তুলে ধরার জন্য তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) ও টেলিভিশন কমার্শিয়াল (টিভিসি) প্রচার করা হবে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় সেমিনার ও মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে। মে দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য— “শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো এ দেশ নতুন করে”—এই বার্তাটি ক্ষুদেবার্তার (SMS) মাধ্যমে মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১ মে সারাবিশ্বে ‘মে দিবস’ পালন করা হয় শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে। বাংলাদেশেও এই দিবসটি সরকারিভাবে গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়, যার অংশ হিসেবে এবারো নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।

হামাস আত্মসমর্পণ করবে না: গাজায় চলমান যুদ্ধ ও নেতানিয়াহুর কৌশলের ব্যর্থতা

গাজা—যে নাম উচ্চারিত হলেই চোখে ভেসে ওঠে ধ্বংস, রক্তপাত আর অবরুদ্ধ জীবনের করুণ ছবি। কেউ এটিকে বলেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় খোলা কারাগার’, কেউ বলেন ‘হত্যার ময়দান’। কিন্তু এই মৃত্যু উপত্যকার অন্তর্গত প্রতিরোধের গল্পটা এখনও শেষ হয়নি।

ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের মধ্যেও এক বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—হামাস আত্মসমর্পণ করবে না। প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা যুদ্ধ আর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজার মানুষ খাবার, পানি ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থেকেও তাঁদের অবস্থানে অনড়।

ইসরায়েল সম্প্রতি যে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটি ছিল কার্যত আত্মসমর্পণের শর্ত। ৪৫ দিনের খাবার ও পানির বিনিময়ে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ ও সব ইসরায়েলি জিম্মি মুক্ত করার দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু হামাস পাল্টা প্রস্তাব দেয়, নির্দিষ্ট ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে জিম্মি মুক্তি এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি। তারা গাজার প্রশাসন অন্য গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তর ও অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করতে রাজি হলেও নিরস্ত্র হওয়ার শর্ত প্রত্যাখ্যান করে।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা সামনে এসেছে বারবার। তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, যেমন বাজেটভোটে জয়লাভ কিংবা রাজনৈতিক জোট রক্ষা করতেই, তিনি বারবার যুদ্ধকে পুঁজি করছেন বলে সমালোচকদের দাবি। জানুয়ারিতে জিম্মি মুক্তির চুক্তিতে রাজি হয়ে পরে তা ভেঙে দিয়ে তিনি আলোচনার পথ বন্ধ করে দেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাও ভেস্তে যায় তাঁর কারণে।

নেতানিয়াহুর এই মনোভাব ও কৌশল শুধু হামাসের শক্তি বাড়িয়েছে নয়, গাজার সাধারণ মানুষকেও আরও বেশি প্রতিরোধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গাজার প্রায় প্রতিটি পরিবার এখন যুদ্ধের শিকার—কেউ হারিয়েছে সন্তান, কেউ বাসস্থান, কেউ পুরো পরিবার। এই সম্মিলিত দুঃখ–বেদনা গাজার মানুষদের মধ্যে নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকার এক দুর্দান্ত মনোবল তৈরি করেছে।

ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজার প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল, স্কুল ও প্রশাসনিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু তারপরও হামাস কিংবা অন্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে গাজার সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ এই লড়াই এখন শুধুই একটি রাজনৈতিক দলের নয়, এটি এক জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই।

বিশ্লেষকদের মতে, ৭ অক্টোবরের হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের বাস্তবতা চিরতরে বদলে গেছে। ইসরায়েল যদি চায় শান্তি, তবে তাদের কৌশল বদলাতে হবে। কারণ হামাস বা গাজার প্রতিরোধ এখন কেবল অস্ত্রধারী গোষ্ঠী নয়, এটি এক আদর্শিক অবস্থান, যা দমন নয়, বরং সমঝোতার মাধ্যমেই মোকাবিলা করা সম্ভব।

কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগে আন্দোলনের ইতি, ৫৮ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন ভাঙল

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)–এ চলমান উত্তপ্ত আন্দোলনের অবসান ঘটেছে উপাচার্য ড. মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। প্রায় ৫৮ ঘণ্টা টানা আমরণ অনশন চালিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা গতকাল রাত ১টার দিকে অনশন ভাঙেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান নিজ হাতে জুস পান করিয়ে এই অনশন ভাঙান।

অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তা পাঠ করেন, যেখানে জানানো হয়, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েটের উপাচার্য ও সহ উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িক দায়িত্ব প্রদান করা হবে।” এই ঘোষণা শুনেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং ‘আমরা জিতেছি’ স্লোগানে মুখরিত হয় ক্যাম্পাস।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল উপাচার্য মাছুদের পদত্যাগ এবং ১৪ এপ্রিল বহিষ্কৃত ৩৭ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার। উভয় দাবিই পূরণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এর আগে, বুধবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কুয়েট ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।

একই দিন শিক্ষক সমিতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, চাপের মুখে উপাচার্যের অপসারণ মেনে নেওয়া হবে না। তবে ইউজিসির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এদিনই কুয়েট এসে সকল পক্ষের বক্তব্য শোনে এবং পরে সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও আবাসিক হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৪ মে থেকে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী ক্লাস শুরুর ঘোষণাও বহাল রাখা হয়।

উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে কুয়েট ক্যাম্পাস। পরদিনই সব একাডেমিক ভবন তালাবদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি আবাসিক হলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে হল খুলে দেওয়ার দাবিতে ১৩ এপ্রিল থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়, যা গড়ায় আমরণ অনশনে। অবশেষে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত পাল্টানো এবং উপাচার্যের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর

প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ চালু করল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আজ সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট ৪২৩ জন যাত্রী নিয়ে রিয়াদের উদ্দেশে রওনা দেয়। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউএস-বাংলার এটি ১৪তম গন্তব্য।

সপ্তাহে পাঁচদিন—রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ ও শুক্রবার ইউএস-বাংলা পরিচালনা করবে এই ফ্লাইট। প্রতিদিন দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে ছাড়বে এবং রিয়াদে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে অবতরণ করবে। রিয়াদ থেকে ফিরতি ফ্লাইট সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পরদিন ভোর ৪টায় পৌঁছাবে।

ইউএস-বাংলা জানায়, রিয়াদ রুটে ব্যবহৃত হবে ৪৩৬ আসনের এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজ, যা যাত্রীদের আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করবে। এই এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যেই সৌদি আরবের জেদ্দা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং এবার রিয়াদকে যুক্ত করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও বড় সেবা নিশ্চিত করল।

প্রবাসীদের বিশেষ গুরুত্ব:
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুবিধার জন্য তারা শুধু আন্তর্জাতিক রুট নয়, অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোর সঙ্গেও সংযোগ স্থাপনে কাজ করছে। রিয়াদ থেকে ঢাকায় আসা যাত্রীরা সহজেই দেশের যেকোনো শহরে পৌঁছাতে পারবেন ইউএস-বাংলার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ব্যবহার করে।

বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে দুইটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৪টি উড়োজাহাজ। প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ সব রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি জেদ্দা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, মাস্কাট, দোহা, মালে, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, গুয়াংজু, চেন্নাই ও কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটেও যাত্রী পরিবহন করছে।

উদ্বোধনী ফ্লাইটে আনুষ্ঠানিকতা:
ঢাকা-রিয়াদ রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ছাড়ার আগে ইউএস-বাংলার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যাত্রীদের উপস্থিতিতে এক বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দেশের কল্যাণ এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য এই মোনাজাতে সবাই অংশ নেন।

এই নতুন সংযোজন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াতকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলবে।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের শান্তি কার্যক্রম সংক্রান্ত আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া। আজ সোমবার এই বৈঠকটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।

বৈঠকে শুরুতেই উভয়পক্ষ আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও শান্তিরক্ষা মিশনে অবদানের জন্য উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করছে।

বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সেনাদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন লাক্রোয়া। তিনি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মিশনে অংশগ্রহণে তাদের প্রস্তুতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এছাড়াও তিনি বর্তমানে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রমে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন। দেশের সংকটকালে সেনাবাহিনীর অবদানকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।

জবাবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বাংলাদেশ সব সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এই দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আরও উন্নত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এই বৈঠক জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যকার সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।