বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 11

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশুর জীবন সংকটাপন্ন, সেনাবাহিনীর দোয়ার আহ্বান

মাগুরায় বর্বরোচিত ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটির জীবন সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার সে চারবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এর শিকার হয়েছে। বর্তমানে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) শিশু বিভাগের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (পিআইসিইউ) সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেশবাসীর কাছে শিশুটির জন্য দোয়া চেয়েছে। পোস্টে জানানো হয়েছে, শিশুটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হওয়ার পর সিপিআর (কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন) দিয়ে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা হয়েছে। এছাড়া, তার রক্তে লবণের ভারসাম্যহীনতা থাকায় ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে।

শিশুটির রক্তচাপ অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে (৬০/৪০ মিমি পারদ বা তার চেয়েও কম)। চিকিৎসকরা সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে তার জীবন রক্ষার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ড

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শিশুটির ভগ্নিপতি, বোনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাগুরার আদালত অভিযুক্তদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন:

  • শিশুটির বোনের শ্বশুর: ৭ দিনের রিমান্ড
  • ভগ্নিপতি, শাশুড়ি ও ভাশুর: ৫ দিনের রিমান্ড

চিকিৎসা প্রক্রিয়ার বিবরণ

গত ৮ মার্চ সন্ধ্যায় শিশুটিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। তার আগে, মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে, শুক্রবার রাতে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও চিকিৎসকরা শিশুটির জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই নৃশংস অপরাধের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দেশবাসী।


 

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১০০টি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ

দেশের গ্যাস সংকট ক্রমাগত তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহের ফলে শিল্প, ব্যবসা এবং সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ কমে আসা ও পর্যাপ্ত পরিমাণে এলএনজি আমদানি করতে না পারায় সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নতুন করে ১০০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা ও বর্তমান অবস্থা

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুসারে, বিদ্যমান ৫০টি কূপ খননের পাশাপাশি নতুন করে ১০০টি কূপ খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি হবে অনুসন্ধান কূপ এবং ৩১টি হবে ওয়ার্কওভার কূপ। সরকার আশা করছে, যদি নির্ধারিত কূপগুলোর খনন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে দৈনিক প্রায় ৯৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হবে। আর ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের মাধ্যমে দৈনিক আরও ২১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে।

বর্তমানে ৫০টি কূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে মোট ১৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান মিলেছে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। পেট্রোবাংলা আশা করছে, নতুন কূপ খনন কার্যক্রম সফল হলে ২০২৯ সাল নাগাদ দেশে গ্যাসের সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।

আর্থিক বরাদ্দ ও সম্ভাব্য খরচ

১০০টি কূপ খননের জন্য বিশাল অঙ্কের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই খরচ দাঁড়াবে ৪,২০০ কোটি টাকা। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে খরচ হবে ৫,৫৬০ কোটি টাকা, এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এই খরচ ৬,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। মোট হিসেব অনুযায়ী, পুরো প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩,৩৫০ কোটি টাকা এবং গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে ৫,৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

বাপেক্স ও অন্যান্য কোম্পানির দায়িত্ব

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের তিনটি গ্যাস উত্তোলন কোম্পানি কাজ করবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ৬৯টি কূপ খননের দায়িত্ব পালন করবে। বাকি ৩১টি কূপ খননের কাজ করবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)।

গ্যাস সংকট নিরসনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৫,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতি মোকাবিলার জন্য সরকার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্বি-মাত্রিক ও ত্রি-মাত্রিক জরিপ পরিচালনা করে আরও কার্যকর কূপ খনন করা হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই এলাকাগুলোতে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করলে গ্যাস সংকট অনেকাংশে লাঘব হতে পারে।

উপসংহার

দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া ১০০টি কূপ খননের উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদি এই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতির ওপর।


 

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম: ‘রাষ্ট্র সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটবে, খুনি-লুটেরাদের বিচার হবে’

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, “এই সরকারের আমলে দেশ গঠনের সুযোগ ও সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলেই বিদেশ থেকে সরকার পরিবর্তনের প্রেসক্রিপশন আসছে। তবে নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে খুনি, ধর্ষক ও লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।

সরকারের কঠোর অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পদক্ষেপ

মাহফুজ আলম জানান, সোমবার রাতে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ, নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, “আমরা আগেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম যে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। সেই অনুযায়ী গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলমান রয়েছে। দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার তৎপর।”

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স

তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, ছাত্র-যুবকদের জন্য লক্ষাধিক চাকরির ব্যবস্থা ও জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের বিষয় পর্যালোচনা সভায় উত্থাপিত হয়েছে। শিগগিরই এই বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।”

গণ-অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের চ্যালেঞ্জ

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, “সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, এবং আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসনে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী শ্রেণি ও মিডিয়ার কিছু অংশ সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে। একইসঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তিগুলোও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, যা সরকারকে বেকায়দায় ফেলছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার এখন দেশি-বিদেশি শক্তিশালী জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জনগণের ঐক্যকে বিভক্ত করতে চাইছে, যা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

বিদেশি চাপ ও নির্বাচনের ভবিষ্যৎ

বিদেশ থেকে সরকার পরিবর্তনের চাপে সরকার দমবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটবে। একইসঙ্গে খুনি, ধর্ষক ও লুটেরাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার তার অবস্থান থেকে সরবে না এবং দেশের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।


 

শেখ হাসিনা যে ক্ষতি করেছেন তা বিশাল: অধ্যাপক ইউনূস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে গতকাল এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যে ক্ষতি করেছেন তা বিশাল,” উল্লেখ করে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে তিনি একেবারে ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে চিত্রিত করেন। তিনি গাজার মতো পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, তবে বাংলাদেশে গাজার মতো ভবন ধ্বংস হয়নি, বরং দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নীতি, মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে গেছে।

গত বছর আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ফিরে এক বিধ্বস্ত পরিস্থিতি দেখতে পান অধ্যাপক ইউনূস। রাস্তায় রক্ত, প্রতিবাদকারীদের মরদেহ, এবং সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের ফলে দেশটি এক গভীর সংকটের মুখে ছিল। ছাত্রদের আন্দোলনে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও তার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানো হয়। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান, এবং তার বাসভবনে বেসামরিক লোকজন লুটপাট চালায়।

ড. ইউনূস, যিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত, দরিদ্রদের জন্য ক্ষুদ্রঋণের পথপ্রদর্শক, দীর্ঘদিন ধরে হাসিনার শাসনকে নিন্দা করেছেন এবং তার শাসনের সমালোচক ছিলেন। তবে ছাত্র আন্দোলনকারীদের অনুরোধে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইউনূস জানান, হাসিনার শাসনকালে দেশটি দুর্নীতি, অত্যাচার, সহিংসতা ও নৃশংসতার শিকার হয়েছে। বিশেষত, পুলিশের সহিংস দমন-পীড়ন ও এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে জাতিসংঘ মন্তব্য করেছে।

শেখ হাসিনার শাসন শেষ হওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূসের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন নতুন এক যুগের সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। তার শাসনকালে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গোপন বন্দীশালার ঘটনা বন্ধ হয়েছে। তবে, বর্তমান সরকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি, নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে।

বিএনপির নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচনের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন, তিনি বলেন, “এই সরকার শুধুমাত্র একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা, তাদের কোনো রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নেই।”

অধ্যাপক ইউনূস এ বিষয়ে বলেন, হাসিনার শাসনের সময়ে দেশে কোনো কার্যকর সরকার ছিল না, বরং তা ছিল এক পৈশাচিক শাসন ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতির কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থা এমন সংকটের মধ্যে পড়ে, যে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়ন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার শাসনকাল এবং তার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে সরকার পরিচালনায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে সাহায্য করা বিপজ্জনক হতে পারে।

ড. ইউনূস ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করেন এবং তিনি বলেন, “২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচন হবে এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।”

 

সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা

সারাদেশে দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে, যার ফলে গরমের অনুভূতিও তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ রবিবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সারাদেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।

কোথায় কেমন আবহাওয়া থাকবে?

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে তাপমাত্রা বাড়লেও ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। তবে এতে গরম কমার সম্ভাবনা খুব কম।

লঘুচাপের প্রভাব

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, আর মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ রয়েছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে। এর ফলে আগামীকাল সোমবারও দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষের দিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও সার্বিক গরমের প্রভাব খুব একটা কমবে না।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরামর্শ

তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে চিকিৎসকরা অতিরিক্ত গরমে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং হালকা পোশাক পরিধানের মাধ্যমে গরমের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা যেতে পারে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।


 

চাঁদপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ছয়জন দগ্ধ

চাঁদপুরের কোড়ালিয়া এলাকায় একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন। রবিবার (৯ মার্চ) ভোররাতে সাহরির প্রস্তুতিকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন— আবদুর রহমান (৬৫), তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৬০), ছেলে হোসেন সর্দার (৩৫), পুত্রবধূ খাদিজা বেগম (২৫), নাতি মহিম সর্দার (১৪) ও নিবা আক্তার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাহরির জন্য রান্নাঘরের চুলা জ্বালানোর মুহূর্তে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো ছয়তলা ভবন কেঁপে ওঠে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রান্নাঘরসহ আশপাশের তিনটি কক্ষ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে দগ্ধদের উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান।

চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান জানান, আহতদের মধ্যে হোসেন সর্দার ও নিবা আক্তারকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে খাদিজা বেগম, আবদুর রহমান, শাহনাজ বেগম ও মহিম সর্দারকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে, কারণ তাদের অবস্থা গুরুতর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খাদিজার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে, যা জীবনঘাতী হতে পারে। শাহনাজ বেগমের শরীরের ২০ শতাংশ, আবদুর রহমানের ১৮ শতাংশ ও মহিমের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

কীভাবে ঘটল বিস্ফোরণ?

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস জমে ছিল, যা চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। তবে ঘটনাটি তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।

সতর্কতা ও করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের লিকেজ শনাক্ত করা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। রান্নাঘর ব্যবহারের আগে গ্যাসের গন্ধ পরীক্ষা করা এবং রাতের বেলা গ্যাসের লাইন বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

লাজফার্মার বিরুদ্ধে ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগ: ভোক্তাদের ক্ষোভ, তদন্তের দাবি

রাজধানীর মগবাজার পুনাক সেন্টারের লাজফার্মা শাখা থেকে ক্রয় করা একটি প্রিঙ্গেলস চিপসে ভেজাল পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন লেখক ও সাংবাদিক ইশতিয়াক আহমেদ। তার সন্তান ওই চিপস খাওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই অবস্থা হয় তার স্ত্রীরও। তিনি এই অভিজ্ঞতা ফেসবুকে শেয়ার করলে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই মন্তব্য করে তাদের একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানাতে থাকেন।

কী ঘটেছিল?

গত সপ্তাহে উত্তরা থেকে ফেরার পথে ইশতিয়াক আহমেদ লাজফার্মার মগবাজার শাখা থেকে তার সন্তানের জন্য কিটকাট ও একটি ছোট প্যাকেট প্রিঙ্গেলস চিপস কেনেন। বাসায় ফিরে সন্তান সেটি খাওয়ার পর প্রচণ্ড বিরক্ত হয় এবং মুখে অন্য কিছু নিতে পারে না। পরে তার স্ত্রীও একই সমস্যার সম্মুখীন হন। ইশতিয়াক নিজেও খেয়ে দেখেন এবং জানান, চিপসটির স্বাদ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মনে হচ্ছিল এটি বিষাক্ত।

তিনি জানান, প্রথমে ফোনে লাজফার্মার ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু ইশতিয়াক সরাসরি লাজফার্মার শাখায় গিয়ে বিষয়টি জানালে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, লাজফার্মা প্রিঙ্গেলস কোম্পানির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারে মামলা করবে।

লাজফার্মার প্রতিক্রিয়া

লাজফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। পণ্যটির পাইকারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রুবেল ট্রেডার্সকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রিঙ্গেলস পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, লাজফার্মা শুধু ফার্মেসি নয়, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য বিক্রিও করে, কিন্তু এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেয় না। অনেকেই কমেন্টে লিখেছেন, তারা লাজফার্মা থেকে নিম্নমানের বা ভেজাল পণ্য পেয়েছেন, কিন্তু অভিযোগ জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাননি।

ভোক্তা অধিকার ও প্রতারণার অভিযোগ

বাজারের অন্যতম পরিচিত ফার্মেসি লাজফার্মার বিরুদ্ধে এর আগেও মানহীন ওষুধ বিক্রি এবং দুর্ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা প্রায়ই অসহযোগিতা করেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, লাজফার্মা তাদের ব্র্যান্ড নাম দিয়ে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজ বিক্রি করেছে, যেখানে মান নিয়ন্ত্রণের কোনো যথাযথ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। শুধু অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে ফার্মেসির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, অথচ গ্রাহকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত।

সরকারি তদন্তের দাবি

ভোক্তারা এখন চাচ্ছেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত তদন্ত করে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে খাদ্য ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের ঘটনার দ্রুত সমাধান ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


ছাত্রদলের পরিণতি টোকাইলীগের মতো হতে খুব বেশিদিন লাগবে না

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সামনে ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হামলার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। এ ঘটনায় তিনি ছাত্রদলের নেতা আহমেদ শাকিল ও তার সহযোগীদের দায়ী করে তাদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার রাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এনএসইউ’র সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

কি ঘটেছিল সেদিন?

সারজিস আলম তার স্ট্যাটাসে জানান, ইফতারের পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চায়ের আড্ডা ও মতবিনিময়ের জন্য তিনি সেখানে যান। রাত ১০টার দিকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সামনে দিয়ে হেঁটে আসার সময় ১০-১২ জনের একটি দল স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তাদের নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ শাকিল।

সারজিস আলম দাবি করেন, তিনি তাদের বক্তব্য শুনতে এগিয়ে গেলে তারা তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি দুই পক্ষকে চলে যেতে বলেন এবং স্থান ত্যাগ করেন।

হামলার অভিযোগ

স্ট্যাটাসে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, তিনি চলে আসার পরপরই ছাত্রদলের আহমেদ শাকিলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান।

এ ঘটনায় তিনি বলেন, “ছাত্রদলের শাকিল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী টোকাইলীগের মতো আচরণ করছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে তাদের ভবিষ্যতও টোকাইলীগের মতো হবে।”

দ্রুত বিচারের দাবি

সারজিস আলম তার স্ট্যাটাসে আহমেদ শাকিলসহ হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ছাত্র রাজনীতিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

সারজিস আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করছেন, আবার কেউ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।

শেষ কথা

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকা উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা।


 

আতলেতিকোকে হারিয়ে এগিয়ে গেল রিয়াল

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয় লেগে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও আতলেতিকো ঘুরে দাঁড়ানোর আশায়।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার রাতে এক জমজমাট লড়াইয়ে শুরুতেই এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদও দারুণভাবে ফিরে এসে সমতা ফেরায়। শেষ পর্যন্ত ব্রাহিম দিয়াসের গোলেই জয় নিশ্চিত করে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

শুরুতেই রদ্রিগোর বাজিমাত

মাত্র ৪ মিনিটেই রিয়ালকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। ফেদেরিকো ভালভের্দের চমৎকার থ্রু পাস ধরে গতিতে প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে বল জালে জড়ান তিনি। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না তার শট আটকানোর।

আতলেতিকোর দারুণ প্রত্যাবর্তন

রিয়ালের লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধেই ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ৩২তম মিনিটে অসাধারণ এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান হুলিয়ান আলভারেস। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি। রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলের নাগাল পাননি।

দিয়াসের জাদুকরী গোল, রিয়ালের জয় নিশ্চিত

বিরতির পরও দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত থাকে। তবে ৫৫তম মিনিটে রিয়াল আবার এগিয়ে যায় ব্রাহিম দিয়াসের দুর্দান্ত গোলে। ফেরলঁ মঁদির ছোট পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের পাঁচজন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে চমৎকার শটে গোল করেন দিয়াস।

এরপরেও আতলেতিকো একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে গ্যালাকটিকোরা

ফিরতি লেগে কী হবে?

আতলেতিকোর জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনও রয়েছে। নিজেদের মাঠ ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় আগামী বুধবার ফিরতি লেগে খেলবে তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে হলে সেই ম্যাচে দারুণ কিছু করতেই হবে ডিয়েগো সিমিওনের দলকে।


 

সুজানগরে ইউএনওর কার্যালয়ে হামলা: বিএনপির চার নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

পাবনার সুজানগর উপজেলায় নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা ও জামায়াত নেতাদের মারধরের ঘটনায় বিএনপির চার নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দলটি।পাবনার সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া হামলা ও জামায়াতে ইসলামীর চার নেতাকে মারধরের ঘটনায় বিএনপির চার নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

গতকাল মঙ্গলবার, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এই আদেশ জারি করা হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়।

ঘটনার পটভূমি

সোমবার বিকেলে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামানের কার্যালয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরসহ চার নেতাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলেই ইউএনওর সামনেই এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

বিএনপির কারণ দর্শানোর নোটিশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ইউএনওর কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, হাঙ্গামা ও জামায়াত নেতাদের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগে বিএনপির চার নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নোটিশপ্রাপ্ত নেতারা হলেন:

  1. মোহাম্মদ মজিবর রহমান – সুজানগর উপজেলা বিএনপি নেতা
  2. বাবু খা – পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক
  3. মোহাম্মদ মানিক খা – বিএনপি নেতা
  4. মো. শাকিল খান – সুজানগর এন. এ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে

রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি

এই ঘটনার ফলে পাবনার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জামায়াত নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, “এই ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। যারা দোষী, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, “এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে তাদের নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন।”

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এই ঘটনার ফলে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিএনপি’র কারণ দর্শানোর নোটিশের পর এখন সবার নজর অভিযুক্ত নেতাদের জবাবের দিকে। তারা কী ব্যাখ্যা দেন এবং বিএনপি কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।