বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 13

বাংলাদেশে সৌরশক্তির বিপ্লব: ঢাকায় অফিস খুলতে যাচ্ছে চীনের লংজি গ্রিন এনার্জি

চীনের অন্যতম বৃহৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লংজি গ্রিন এনার্জি টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় একটি অফিস খুলতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের সৌরশক্তি বাজারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত শুক্রবার চীনের শানসি প্রদেশে লংজির প্রধান কার্যালয়ে সফররত বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান লংজির সিনিয়র ম্যানেজার জেসন ঝাও। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান

সৌরশক্তির অপার সম্ভাবনা

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশে সৌরশক্তির সম্ভাবনা অনেক। বিশেষ করে গ্রামীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের শক্তিশালীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লংজির বিনিয়োগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।

বৈঠকে জেসন ঝাও বলেন,
“বাংলাদেশে সৌরশক্তির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা উন্নত প্রযুক্তির সৌর প্যানেল সরবরাহ করতে চাই, যা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা

লংজি শুধু সৌর প্যানেল সরবরাহ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চায়। তারা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব

বৈঠকে ড. আবদুল মঈন খান বলেন,
“বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য টেকসই জ্বালানি অত্যন্ত জরুরি। নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ঘটানো এখন সময়ের দাবি। বিদ্যুৎ ছাড়া দেশের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন,
“সৌরশক্তি দেশের সেচব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে সৌর প্যানেলের স্থাপন ব্যয় ৯০ শতাংশ কমে গেছে, যা এই প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য করেছে। ২৫ বছর স্থায়িত্বের কারণে এটি প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তুলনায় বেশি লাভজনক।”

তিনি লংজিকে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করব।”

বাংলাদেশ সফরে চীনে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ দিনের সফরে চীনে রয়েছে। প্রতিনিধি দলে আটটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও রয়েছেন।

এ সফরে চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপসংহার

লংজির এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।


 

রমজানে সয়াবিন তেলের সংকট: ভোক্তাদের বিড়ম্বনা ও বাজার বিশৃঙ্খলা

রমজান মাস ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। তবে এবার সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যা ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।

রাজধানীর কদমতলী, কারওয়ান বাজার ও আশপাশের বাজারগুলোতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলাররা পর্যাপ্ত সরবরাহ করছেন না। সুপারশপগুলোতে তেল পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের শর্ত সাপেক্ষে অন্যান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ কম থাকায় চাহিদার তুলনায় বাজারে তেল কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে তেলের ঘাটতি নেই, বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

কদমতলী এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, “প্রতি বছর রমজান এলেই নিত্যপণ্যের বাজারে নাটক শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সুপারশপেও বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। তাহলে আমরা কীভাবে রান্না করব?”

একই অভিজ্ঞতা হয়েছে আশকোনার বাসিন্দা মো. আলতাফ হোসেনেরও। তিনি বলেন, “সুপারশপে তেল পাওয়া গেলেও শর্ত দেওয়া হচ্ছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ অন্য পণ্য কিনতে হবে। এটি ভোক্তাদের প্রতি অন্যায়।”

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তারা কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমরা ২০-২৫ কার্টন তেলের চাহিদা দেই, কিন্তু মাত্র ২-৩ কার্টন পাই। এগুলো মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়।”

বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, “বাজারে খোলা তেলের দামও বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেও সংকট দেখা দিয়েছে।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কারওয়ান বাজারে অভিযান চালিয়ে দেখেছে, অনেক দোকানে তেল লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। পরে গোপন মজুদ থেকে শত শত বোতল উদ্ধার করা হয়। এমনকি বোতলের এমআরপি ৮১৮ টাকা থাকলেও ৮৫০-৮৫২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল।

ট্যারিফ কমিশন জানিয়েছে, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং আমদানি বেড়েছে। কিন্তু সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বিশ্ববাজারে গত তিন মাস ধরে সয়াবিন তেলের দাম নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক দাম কমেছে, অথচ দেশে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। পাইপলাইনে দেড় লাখ মেট্রিক টন তেল রয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

রমজান মাস এলেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, যা সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়ায়। সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকি বাড়াতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে প্রতিবারের মতো এবারও ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য পেতে ব্যর্থ হবেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল শনিবার রাতে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পায়। তবে শহীদ মিনারে ঘোষিত এক দফার মূল উদ্দেশ্য—ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ—এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাধীনতার দীর্ঘ পরিক্রমায় দেশটি নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলেও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অভাব ছিল।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বলছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার মাধ্যমে মুক্তি অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রকাঠামো একচ্ছত্র শাসনের পথ উন্মুক্ত করেছে। এর ফলে জনগণ বারবার স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসনের শিকার হয়েছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ ঘটে।

নতুন রাজনৈতিক দলটি আগামী এক বছরের মধ্যে দলের গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক বিস্তার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

নতুন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সামান্তা শারমিনআরিফুল ইসলাম আদীব দায়িত্ব পালন করবেন। যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে আছেন নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, সারোয়ার তুষার, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনসহ অনেকে।

সদস্যসচিব পদে আছেন আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারানাহিদা সারওয়ার নিভা। দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তাদের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আব্দুল হান্নান মাসউদ দায়িত্ব পেয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি মূলত বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো থেকে ফ্যাসিবাদী শাসনের সকল উপাদান বিলোপ করে জনগণের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, তাদের আন্দোলন মূলত সাধারণ নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ নতুন মাত্রা যোগ করবে। দলটি কতটুকু জনসমর্থন অর্জন করতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

রমজান মাস পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী গাজায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রমজান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। রবিবার (৩ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পরপরই। তবে এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে হামাসের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি

যুদ্ধবিরতির শর্ত ও জিম্মিদের মুক্তি

নতুন চুক্তি অনুযায়ী—
🔹 গাজায় বন্দী অর্ধেক সংখ্যক জিম্মি মুক্তি পাবে; এর মধ্যে জীবিত ও মৃত উভয়ই থাকবে।
🔹 যদি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতা হয়, তাহলে বাকি জিম্মিরাও মুক্তি পাবে।

গাজায় মৃতের সংখ্যা ছাড়ালো ৪৮,৪০০

ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে বিপর্যস্ত গাজা ভূখণ্ডে প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা ৪৮,৪০০-তে পৌঁছে দিয়েছে

গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১,১১,৫৮৮ জন আহত হয়েছেন

পূর্বের যুদ্ধবিরতি ও চলমান সংকট

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দীর্ঘ ১৫ মাস পর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সেখানে ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রতিদিন নতুন লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক চাপের ফল। তবে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, কারণ হামাসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং ইসরায়েলের চূড়ান্ত অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটসহ ৩৫ ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন

বাংলাদেশ রেলওয়ের ৫৪তম ওয়ার্কিং টাইম টেবিল অনুযায়ী আগামী ১০ মার্চ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের জনপ্রিয় বিরতিহীন ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে। এছাড়া, ৩৫টি ট্রেনের গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় এবং ১৫টির যাত্রার সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি চার জোড়া ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সময়সূচি:

🔹 সুবর্ণ এক্সপ্রেস:

  • চট্টগ্রাম → ঢাকা: সকাল ৭:০০ → ১১:২৫
    (আগে ছাড়ত সকাল ৭:৩০)

🔹 সোনার বাংলা এক্সপ্রেস:

  • চট্টগ্রাম → ঢাকা: বিকাল ৫:০০ → ৯:৫৫
    (আগে ছাড়ত বিকাল ৪:৪৫)

🔹 চট্টলা এক্সপ্রেস:

  • চট্টগ্রাম → ঢাকা: সকাল ৬:০০ → ১২:৪০
  • ঢাকা → চট্টগ্রাম: দুপুর ১:৪৫ → রাত ৮:৩০

🔹 পাহাড়িকা এক্সপ্রেস:

  • চট্টগ্রাম → সিলেট: সকাল ৭:৫০ → বিকাল ৩:৫৫

🔹 উদয়ন এক্সপ্রেস:

  • সিলেট → চট্টগ্রাম: রাত ১০:০০ → ভোর ৫:৫০

🔹 অন্যান্য ট্রেনের সময় পরিবর্তন:

  • জামালপুর এক্সপ্রেস: সকাল ১০:০০ ঢাকা → বিকাল ৪:৪৫ ভূঞাপুর
  • যমুনা এক্সপ্রেস: বিকাল ৪:৪৫ ঢাকা → রাত ১১:৫০ তারাকান্দি
  • মেঘনা এক্সপ্রেস: বিকাল ৫:১৫ চট্টগ্রাম → রাত ৯:২৫ চাঁদপুর
  • তিস্তা এক্সপ্রেস: সকাল ৭:৩০ ঢাকা → দুপুর ১২:৫০ দেওয়ানগঞ্জ
  • মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস: দুপুর ১:১৫ ঢাকা → সন্ধ্যা ৬:৪০ মোহনগঞ্জ
  • গোধূলী এক্সপ্রেস: বিকাল ৩:০০ চট্টগ্রাম → রাত ৮:৪৫ ঢাকা
  • মহানগর এক্সপ্রেস: দুপুর ১২:৩০ চট্টগ্রাম → সন্ধ্যা ৬:৩৫ ঢাকা
  • তূর্ণা এক্সপ্রেস: রাত ১১:৩০ চট্টগ্রাম → ভোর ৫:১০ ঢাকা
  • বিজয় এক্সপ্রেস: সকাল ৯:১৫ চট্টগ্রাম → সন্ধ্যা ৬:০০ জামালপুর
  • কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস: বিকাল ৪:০০ কিশোরগঞ্জ → রাত ৮:০০ ঢাকা

নতুন সাপ্তাহিক বন্ধের দিন:

  • পারাবত এক্সপ্রেস: সোমবার → মঙ্গলবার
  • হাওর এক্সপ্রেস: শুক্রবার → বুধবার
  • মোহনগঞ্জ-ঢাকা এক্সপ্রেস: শনিবার → বৃহস্পতিবার
  • কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস: মঙ্গলবার → সোমবার
  • মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস: বুধবার → শুক্রবার

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা (সিওপিএস) ও ওয়ার্কিং টাইম টেবিল প্রণয়ন কমিটির প্রধান মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও ট্রেন পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ থেকে এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে।

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ: বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?

দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের পর নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এক সময়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ এখন কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে দলটির নেতারা আড়ালে চলে গেছেন, মাঠের রাজনীতি থেকে তাদের অনুপস্থিতি স্পষ্ট। ফলে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও তাদের লক্ষ্য প্রায় একই। তবে ভোটের মাঠে তারা সত্যিকার প্রতিদ্বন্দ্বী হবে নাকি ঐক্যমতের ভিত্তিতে সরকার গঠনের দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

জাতীয় নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশের সময় ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীস জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর সংবিধানের কাঠামোগত ত্রুটির কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। নতুন দলটি সংবিধান পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে, সে সম্পর্কে এখনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সুস্পষ্ট ধারণা পাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ মনে করেন, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে মতাদর্শগত মিল বেশি, যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে দলগুলোর মধ্যে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নাকি ঐকমত্য গঠিত হবে, তা নির্ভর করবে ভোটের সুষ্ঠুতা ও রাজনৈতিক কৌশলের ওপর।

বিএনপি যদিও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে আপাতদৃষ্টিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে হচ্ছে, তবে বাস্তবে এনসিপি এবং জামায়াত তাদের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও মনে করছে, আগামী নির্বাচন তাদের জন্য সহজ হবে না।

পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে লড়াই করবে নাকি কোনো জোট গঠন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতির এই নতুন মেরুকরণের চূড়ান্ত চিত্র দেখতে হলে দেশবাসীকে নির্বাচনী তফসিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জেলেনস্কি কে গাছে উঠিয়ে এখন কি মই কেড়ে নিচ্ছে আমেরিকা?

যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে যুদ্ধবিরতি এবং খনিজ সম্পদ হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে সেই বৈঠক শেষ হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে, এবং কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউক্রেন ফিরে যান জেলেনস্কি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠক চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও জেলেনস্কির মধ্যে প্রথম উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ভ্যান্স বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কূটনৈতিক তৎপরতা।” তার জবাবে জেলেনস্কি কটাক্ষ করে বলেন, “আপনি কোন ধরনের কূটনীতির কথা বলছেন, জেডি?”

জবাবে ভ্যান্স বলেন, “আমি সেই কূটনীতির কথা বলছি, যা আপনার দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।” এরপরই বিতর্ক আরও তীব্র হয়, যখন জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা একজন খুনির (পুতিন) সঙ্গে কখনো সমঝোতায় যাব না।”

এসময় বিতর্কে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জেলেনস্কিকে সরাসরি বলেন, “আপনার হাতে এখন কোনো কার্ড নেই। যদি আমাদের সঙ্গে থাকেন, তাহলে আপনার হাতে কার্ড আসতে শুরু করবে।” জেলেনস্কি কড়া জবাব দিয়ে বলেন, “আমি কোনো কার্ড খেলছি না, আমি অত্যন্ত সিরিয়াস, মিস্টার প্রেসিডেন্ট।”

তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে অনড় থেকে বলেন, “আপনি কার্ড খেলছেন, এবং শুধু তাই নয়, লাখ লাখ মানুষ ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়েও জুয়া খেলছেন।”

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আপনাকে সমঝোতায় আসতে হবে। যদি তা না করেন, তাহলে আমরা সরে যাব। আর আমরা সরে গেলে এই যুদ্ধ আপনাকে একা লড়তে হবে, যা আপনার জন্য ভালো হবে না।”

জেলেনস্কি এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন এবং স্পষ্ট করেন যে তিনি পুতিনের সঙ্গে কোনো আপস করতে রাজি নন।

বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টদের যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। পরে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “আজ হোয়াইট হাউসে অর্থবহ বৈঠক হয়েছে। এত চাপ ও উত্তেজনার মধ্যে অনেক কিছু শেখা গেছে। জেলেনস্কি শান্তির জন্য প্রস্তুত নন। আমি সুবিধা চাই না, শান্তি চাই।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “তিনি (জেলেনস্কি) যখন সত্যিই শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন তিনি আবার আসতে পারেন। কিন্তু আজ তিনি হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রকে অসম্মান করেছেন।”

এই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশল ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, জেলেনস্কি ভবিষ্যতে কী কৌশল গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতিতে কী অবস্থান নেয়।

 

বাংলাদেশে ভারত-পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির ঠাঁই নেই: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত-পাকিস্তানপন্থি কোনো ধরণের রাজনৈতিক চর্চার স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য দেন।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্য

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো বহিরাগত শক্তির এজেন্ডা চলবে না। আমরা বাংলাদেশকে সামনে রেখে, দেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবো।” তিনি আরও বলেন, “আমরা পেছনের ইতিহাসের গণ্ডিতে আটকে থাকতে চাই না, বরং নতুন সম্ভাবনার বাংলাদেশের কথা বলতে চাই।”

এ সময় তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের জনপ্রিয় স্লোগান তুলে ধরে বলেন—
“তুমি কে? আমি কে? বিকল্প, বিকল্প।” তিনি জানান, “বিকল্প রাজনীতির অঙ্গীকার থেকেই এনসিপি আত্মপ্রকাশ করেছে, এবং এই মঞ্চ থেকে আমরা শপথ নিচ্ছি— বাংলাদেশকে আর কখনো বিভাজিত হতে দেব না।”

ঘোষণাপত্র উন্মোচন

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠান মঞ্চে দলটির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এতে উল্লেখ করা হয়—

🔹 বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণে সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা করা হবে।
🔹 নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটানো হবে।
🔹 জাতীয় অর্থনীতির বিকাশ ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।
🔹 গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, “এই নতুন রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করবে, যেখানে ক্ষমতার উৎস হবে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ।”

শপথ গ্রহণ ও সমাপ্তি

শেষে নাহিদ ইসলাম দলের সদস্যদের শপথ পাঠ করান এবং “গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী রাষ্ট্র গঠনের” প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।

নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ – আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করলো নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম।

দলীয় নেতৃত্ব ঘোষণা

জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন—
🔹 আহ্বায়ক: মো. নাহিদ ইসলাম
🔹 সদস্যসচিব: আখতার হোসেন

অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ঘোষণা করেন—
🔹 জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক: সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব
🔹 সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব: ডা. তাসনিম জারা ও নাহিদা সরোয়ার নিবা
🔹 প্রধান সমন্বয়কারী: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
🔹 যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক: আব্দুল হান্নান মাসউদ
🔹 দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক: হাসনাত আবদুল্লাহ
🔹 উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক: সারজিস আলম

ধর্মীয় পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সূচনা

অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে শুরু হয়। প্রথমে কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

দলের প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম বক্তব্য দেন।

সবশেষে নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৬১৮ জন, মোট সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়াল

দেশব্যাপী চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ ৬১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য মামলায় আরও ৭৮৬ জনসহ মোট ১,৪০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি অস্ত্র ও বিপজ্জনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
🔹 একটি দেশীয় এলজি
🔹 দুটি টিপ ছোড়া
🔹 চারটি চাকু
🔹 একটি লোহার রড
🔹 একটি কার্তুজ
🔹 একটি সুইচ গিয়ার

গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে দিনভর বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চালু করে, যা পরে সারাদেশে বিস্তৃত হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবারও সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৭৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে অন্যান্য মামলায় আরও ৯১৪ জনকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে এ অভিযান চলমান থাকবে। অপরাধ ও নাশকতা প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।