মঙ্গলবার ,২৮ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 6

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দালান উঠলেও শিক্ষার মান উন্নয়নে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বিগত কয়েক দশকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বহু স্কুল-কলেজে নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর, শহীদ মিনার ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই দালান-কোঠার পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার প্রতিফলন কি শিক্ষার গুণগত মানে দেখা যাচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবকাঠামো উন্নয়ন শিক্ষার একটি অংশ হলেও, শিক্ষার মান নির্ভর করে মূলত পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের ওপর। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে এখনও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দের হার স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় কমে এসেছে। এক সময় বাজেটের ২১ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে তা কমে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। অনেক স্কুলের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় বেঞ্চ নেই, বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল নেই, বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর নেই এবং খেলার মাঠও ব্যবহার অনুপযোগী।

শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রচারণার আড়ালে একটি গভীর নেতিবাচক ফলাফল দেখা যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং তার ফলাফলগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষার মানের ক্রমাগত পতন ঘটেছে।

শিক্ষার মান উন্নয়নে করণীয় হিসেবে শিক্ষকতা পেশায় মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন লোকদের আকৃষ্ট করতে হবে। প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নেও জোর দিতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে আরও সমন্বিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠন করা। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

 

মাগুরা সদরে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ আটক ৯ সন্ত্রাসী

ঢাকা, ০৯ এপ্রিল ২০২৫ (বুধবার):
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট মাগুরা সদর উপজেলার পারলা এলাকায় সফল অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিটটির নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যার মাধ্যমে কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোঃ ফরিদ হাসান খান ও তার ৮ সহযোগীকে আটক করা হয়।

অভিযান চলাকালে আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একাধিক দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। অভিযানের সময় তারা এলাকায় সক্রিয় অবস্থায় ছিল বলে জানানো হয়, এবং গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের উপর নজরদারি চলছিল।

সেনাবাহিনীর সফল অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আটককৃত ৯ জনকে জব্দকৃত অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যসহ মাগুরা সদর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফরিদ হাসান খান দীর্ঘদিন ধরে মাগুরা সদর এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি, লুটপাট, জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলাও রয়েছে, যা তদন্তাধীন।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।


মিয়ানমারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত

ঢাকা, ০৯ এপ্রিল ২০২৫ (বুধবার):
মিয়ানমারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মানবিক সহানুভূতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজকের দিনেও এই তৎপরতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দল মিয়ানমারের নৌবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি অস্থায়ী অফিস নির্মাণে সহায়তা প্রদান করেছে। টিনশেড নির্মাণে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রকৌশল সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশি দলটি, যা স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া বাংলাদেশের মেডিকেল টিম আজ ২৭ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। এখন পর্যন্ত এই মেডিকেল টিম ভূমিকম্পে আহত ও অসুস্থ সর্বমোট ৮৮৫ জন রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি জটিল অস্ত্রোপচারও রয়েছে। চিকিৎসকরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে অপারেশন পর্যন্ত সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ সহায়তামূলক ভূমিকা শুধু মিয়ানমারের জনগণের নয়, আন্তর্জাতিক মহলেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত এই মিশন দুটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


 

সাবেক ডিবি প্রধান হারুন ও ইকবালের চাঞ্চল্যকর ফোনালাপ ফাঁস: ফজলে নূর তাপস সিঙ্গাপুরে, পরশ কানাডায় অবস্থান করছেন

সম্প্রতি সাবেক ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) প্রধান হারুন অর রশিদ এবং ব্যবসায়ী ইকবাল আহমেদের মধ্যে একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, যেখানে তারা আওয়ামী লীগ ও শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। এই ফোনালাপে হারুন দাবি করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন এবং যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ কানাডায় রয়েছেন।

হারুন আরও অভিযোগ করেন, শেখ হেলালের ছেলে এবং সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি শেখ তন্ময় মাদক সেবন করেন। এছাড়া, সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিক সম্পর্কে উচ্চস্বরে মন্তব্য করেন ইকবাল আহমেদ। ইকবাল আহমেদ সম্পর্কে জানা যায়, তিনি দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি করে ঢাকায় ‘হলিডে ইন’ নামের একটি হোটেল প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এই ফোনালাপ ফাঁসের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের তথ্য ফাঁস দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়, যা দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


 

ভারতীয় সিদ্ধান্তে স্থগিত হলো বাংলাদেশ থেকে নেপাল-ভুটানে স্থলপথে ট্রান্সশিপমেন্টের সুযোগ

বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহনের জন্য স্থলপথে ট্রান্সশিপমেন্টের যে সুযোগ সম্প্রতি চালু হয়েছিল, সেটি আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মহল, যারা এই রুট ব্যবহার করে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে আরও বিস্তার লাভের স্বপ্ন দেখছিলেন।

এর আগে সকালে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী তরুণ উদ্যোক্তা আশিক চৌধুরী বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে তা প্রতিবেশী দেশগুলোতে রফতানির মাধ্যমে লাভবান হতে। ঠিক এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ভারত থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট স্থগিতের ঘোষণা আসায় অনেকেই এটিকে ‘আশ্চর্যজনক সমাপতন’ হিসেবে দেখছেন, কেউ কেউ আবার সন্দেহ প্রকাশ করছেন এর পেছনে ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই আচরণ নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার দেখা গেছে, বাংলাদেশ যখন আঞ্চলিক বাণিজ্য জোরদারের চেষ্টা করেছে, তখন কোনো না কোনো অজুহাতে ভারত বাধা দিয়েছে। অনেকে এও মনে করেন, ভারতের সহযোগিতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে কৌশলগত স্বার্থ।

ভারতের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার বিষয়ে এখনও নানা মত রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ভারতের লক্ষ্য ছিল মূলত পাকিস্তানের পূর্ব অংশকে দুর্বল করে পশ্চিম সীমান্তে চাপ কমানো, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ নয়।

বর্তমানে নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশেষ করে ভুটান বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ (FTA) চুক্তিতে আগ্রহী, এবং নেপালও দক্ষিণ এশিয়ার বিকল্প বাণিজ্য রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের হস্তক্ষেপ শুধুই বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য ধরে রাখার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে ব্যবসায়ী মহলের দাবি, ভারতের এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হঠাৎ সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক ক্ষতির কারণ না হয়।

বাংলাদেশ এখন বিকল্প রুট ও আন্তর্জাতিক জোটের সন্ধান করছে, যাতে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক অবস্থান গড়ে তোলা যায়।


 

বাংলাদেশি পোশাকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ভুল : নোবেলজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ

মার্কিন অর্থনীতির নোবেলজয়ী পুরস্কারপ্রাপ্ত পল ক্রুগম্যান বাংলাদেশি পোশাকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত মার্কিন ক্রেতাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন করবে এবং দেশটির নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রুগম্যান বলেন, “এই ধরনের শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন নাগরিকদের জীবনে কোনও নিরাপত্তা বা সুবিধা আসবে না। বরং তাদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাবে, যা অনেকেই সহ্য করতে পারবেন না।”

রবার্ট লাইথিজারের সমালোচনা

ক্রুগম্যান বলেন, তিনি রবার্ট লাইথিজার, মার্কিন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞের কাজের বিষয়ে তার সহকর্মী হিসেবে অনেক শ্রদ্ধাশীল। লাইথিজারকে বাণিজ্য সংরক্ষণবাদী হিসেবে পরিচিত এবং তিনি নিজে এটা ভালভাবে বোঝেন বলে ক্রুগম্যান জানান। তিনি মনে করেন, যদি লাইথিজার ট্রাম্প প্রশাসনে থাকতেন, তবে সম্ভবত তিনি বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নাকচ করে দিতেন।

জাতীয় নিরাপত্তা ও শুল্কের বিপদ

ক্রুগম্যান আরও জানান, মার্কিন প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে তিনি মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তে বন্ধুস্থানীয় দেশগুলো, যেমন বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, কানাডামেক্সিকো-এর ওপর শুল্ক আরোপ করা ঠিক হবে না। এমন পদক্ষেপে বিশ্বের অর্থনীতি আরো জটিল হয়ে উঠবে।

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে মন্তব্য

বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গে ক্রুগম্যান বলেন, “প্রতিটি দেশ কিছু না কিছু পণ্য উৎপাদন করে এবং যেগুলি তারা তৈরি করতে পারে না, সেগুলো তারা অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। তবে, কোনো দেশ যে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।” তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য-ঘাটতি থাকা মানে এই নয় যে, সেই দেশ অন্যায্য বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই ভুল ধারণা পোষণ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নীতি ও বাস্তবতা

ক্রুগম্যানের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রতি বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত সংকুচিত এবং অত্যাধিক শুল্ক আরোপের মতো নীতি গ্রহণ করছে, যা একদিকে আমেরিকার ক্রেতাদের জন্য ক্ষতিকর, অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও ক্ষতি করছে

তিনি আরও বলেন, যে দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন শুল্ক আরোপ বাণিজ্য যুদ্ধ সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য লাভজনক নয়।

বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ কূটনীতিক, আলোচনায় থাকবে সংস্কার, গণতন্ত্র ও রোহিঙ্গা সংকট

চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই গুরুত্বপূর্ণ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা—দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোল চুলিক এবং পূর্ব এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু হেরাপ। তাদের সফর ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী ১৫ এপ্রিল ঢাকা পৌঁছাবেন নিকোল চুলিক, তার সফর চার দিনব্যাপী চলবে। পরদিন, ১৬ এপ্রিল আসছেন অ্যান্ড্রু হেরাপ, যার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সুসান স্টিভেনসন। এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ সফর।

সফরের মূল এজেন্ডা:

সফরে গণতান্ত্রিক উত্তরণ, প্রশাসনিক সংস্কার, মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট, এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

নিকোল চুলিক বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি জানতে চাইবেন, চলমান সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল—বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

অন্যদিকে, অ্যান্ড্রু হেরাপের সফরের মূল আলোচ্য বিষয় মিয়ানমারের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (IPS) বাস্তবায়নে মিয়ানমারের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরবেন।

মিয়ানমার ইস্যু এবং রোহিঙ্গা সংকট

বর্তমানে মিয়ানমারের অধিকাংশ অঞ্চলেই সরকারি নিয়ন্ত্রণ বলতে কিছুই নেই। সেখানে অস্ত্র চোরাচালান, মাদক পাচার, নারী ও শিশু পাচার, এমনকি বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ করে আটকে রাখার মতো জঘন্য অপরাধ এখন নিত্যনৈমিত্তিক। এসব বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা ও তথ্য বিনিময়ের দিকগুলো নিয়েও আলোচনা করবে বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে সফরে। কক্সবাজারে বসবাসরত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু, এবং তাদের পুনর্বাসন কিংবা প্রত্যাবাসন—এই ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই উচ্চ পর্যায়ের সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রভাবিত হতে পারে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি, মানবিক বিপর্যয় চরমে

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্মম হামলা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় আরও ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

যুদ্ধবিরতির কোনো তোয়াক্কা না করে তেলআবিবের ফাইটার জেট ও ভারী যুদ্ধযানগুলো একের পর এক বোমাবর্ষণ করছে গাজার বিভিন্ন স্থানে। বিশেষ করে দেইর আল বালাহ ও খান ইউনিস এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর টার্গেটেড স্ট্রাইকগুলোতে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে শুরু করে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারিয়েছে শিশু, নারী ও বয়স্ক সহ অসংখ্য নিরীহ নাগরিক।

ইসরায়েল গত ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ইসরায়েল ফের হামলা শুরু করে, মূলত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে। এরপর থেকেই আগ্রাসনের মাত্রা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।

গাজায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটের কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)। সংস্থাটি বলছে, হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে চরম ক্ষুধা ও অপুষ্টির শিকার। অপরদিকে, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (UNRWA) উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, গত তিন সপ্তাহে গাজায় কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা পৌঁছায়নি, যা অবস্থা আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৩৯১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৩ হাজার ৪৩৪ জন আহত হয়েছেন।

গেল দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই আগ্রাসনে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ফিলিস্তিনি। আন্তর্জাতিক মহল এ মানবিক সংকটের দ্রুত সমাধান চাইলেও ইসরায়েলের একতরফা আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বিশাল ফারাক থেকেই যাচ্ছে। যতদিন না গাজায় টেকসই শান্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়, ততদিন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।

কারাগারে শাজাহান খান, কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে বহাল অবৈধ বাণিজ্য—‘জ্যাক শিপিং’ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

চট্টগ্রাম বন্দরে একটি বিতর্কিত শিপিং হ্যান্ডলিং অপারেটর প্রতিষ্ঠান ‘জ্যাক শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেড’ নিয়ে আবারো উঠেছে প্রশ্ন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান কারাগারে থাকলেও, তার ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি এখনও নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্দর পরিচালনায় শিপিং হ্যান্ডলিং অপারেটরের জন্য প্রয়োজন হয় বৈধ ভেন্ডরস অ্যাগ্রিমেন্ট। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগে এমন কোনো অ্যাগ্রিমেন্ট নেই বলেই জানিয়েছে পুলিশ। এ অবস্থায় ‘জ্যাক শিপিং’-এর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলা নিয়মবহির্ভূত এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, এই অপারেশন মূলত শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি (BSTC) নামে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যার মালিক ছিলেন চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক সভাপতি এএ রাজিউল করিম চৌধুরী। তার মৃত্যুর পর ২০০০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম জাল সইয়ের মাধ্যমে বদল করে প্রথমে ‘BSTC শিপিং লিমিটেড’ এবং পরে ‘জ্যাক শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেড’ করা হয়। তদন্তে সিআইডি ও পিবিআই এই স্বাক্ষর জালিয়াতি নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলতে দেওয়া মানে দেশের শীর্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, দুইবার নাম পরিবর্তন করে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিকে লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন তোলে নি, বরং অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

সূত্র বলছে, ২০১৪ সালে তৎকালীন বন্দর চেয়ারম্যানকে সরাসরি নির্দেশ দেন মন্ত্রী শাজাহান খান, যার লিখিত প্রমাণ হিসেবে মন্ত্রীর একান্ত সচিব সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত ডিও লেটারও আছে। এর ফলে, প্রতিষ্ঠানটি কার্যত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকেই বছরের পর বছর অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করে গেছে।

রাজিউল করিম চৌধুরীর ছেলে মোরশেদ আরিফ চৌধুরী জানান, তার পিতার মৃত্যুর পর জাল কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও এফিডেভিট দেখিয়ে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব বিষয়ে মামলা থাকলেও, প্রভাবশালী মন্ত্রীর কারণে আইনি কোনো অগ্রগতি ঘটেনি।

বর্তমানে শাজাহান খান কারাগারে থাকলেও, তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। বরং বন্দরের দায়িত্বশীলরাও বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, জ্যাক শিপিং অ্যাগ্রিমেন্ট সংক্রান্ত শর্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছে, আর আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ায় তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, অবিলম্বে বিষয়টির স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত। এতে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়, দেশের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষাও নিশ্চিত হবে।

“বাটা কোনো ইসরায়েলি কোম্পানি নয়”—ভুল তথ্য ছড়িয়ে সহিংসতা, ব্যাখ্যা দিল প্রতিষ্ঠানটি

বিশ্ববিখ্যাত বহুজাতিক জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাটা এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, তারা কোনোভাবেই ইসরায়েলি মালিকানাধীন কোম্পানি নয় এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সাথেও তাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা এই ব্যাখ্যা দেয়।

বিবৃতিতে বাটা জানায়, “আমরা কিছু ভ্রান্ত দাবি সম্পর্কে অবগত হয়েছি, যেখানে বলা হচ্ছে বাটা একটি ইসরায়েলি মালিকানাধীন কোম্পানি। এটি সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। বাটা গ্লোবালি একটি বেসরকারিভাবে পরিচালিত, পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, যার সূচনা হয় চেক প্রজাতন্ত্রে। প্রতিষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক সংঘাত বা পক্ষপাতের সাথে যুক্ত নয়।”

বাটা আরও জানায়, বাংলাদেশে তাদের কিছু শোরুম সম্প্রতি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে, যা এই ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানোর পরিণতি হিসেবে ঘটেছে বলে তারা বিশ্বাস করে। এ ঘটনায় তারা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সকল প্রকার সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, “বাটা ১৯৬২ সাল থেকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা সবসময় আমাদের গুণগতমান, গ্রাহকসেবা এবং সকল সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য সব সময় ছিলো মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা, কোনো ধরনের বিভেদ নয়।”

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ফলে অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি ভুলভাবে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাটার মতো দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কোম্পানির পক্ষ থেকে সরাসরি এমন ব্যাখ্যা আসা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভুল তথ্য সামাজিক বিভ্রান্তি এবং সহিংসতা উসকে দিতে পারে, যা শুধু নিরীহ ব্যবসায়ী বা গ্রাহকদেরই ক্ষতি করে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশ ও বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করে।

বাংলাদেশ সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত এসব ভুল তথ্য দ্রুত যাচাই করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অঘটন প্রতিরোধ করা যায়।