মঙ্গলবার ,২৮ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 7

লুট হওয়া অস্ত্র এখন দেশের জন্য বড় হুমকি: আইনশৃঙ্খলার চরম বিপর্যয়

জুলাই-আগস্ট মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি থেকে যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি লুট হয়, তা এখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেশাদার অপরাধী, কিশোর গ্যাং, জলদস্যু, মাদক কারবারি এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হাতেও পৌঁছে গেছে এসব প্রাণঘাতী অস্ত্র। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের নানা স্থানে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ, খুন, গুলিবর্ষণ ও অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়েই চলেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের পর সংঘটিত সহিংসতার সময় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লাখ ১২ হাজার ৯৮৮টি গুলি লুট হয়। এগুলোর মধ্যে রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান, টিয়ার গ্যাস লঞ্চার, সাউন্ড গ্রেনেডসহ বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র রয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৩৭২টি অস্ত্র এবং ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩২টি গুলি। এখনও উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৩৭৮টি অস্ত্র ও ২ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৬টি গুলি।

বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মতে, এই অস্ত্রগুলোর হাতবদল হওয়া এখন একটি সুগঠিত অপরাধ চক্রের অস্তিত্বকেই তুলে ধরছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “যত দিন এই অস্ত্র উদ্ধার না হবে, তত দিন জননিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।”

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর, খুলনা, পল্লবী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কক্সবাজারসহ দেশের নানা প্রান্তে সংঘটিত গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে লুণ্ঠিত অস্ত্রের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। শুধু ১ এপ্রিলেই লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষের সময় ৬ বছরের শিশু আবিদা গুলিবিদ্ধ হয়। ২ এপ্রিল খুলনায় দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলিতে আহত হয় একাধিক ব্যক্তি। একইভাবে পল্লবী, কামরাঙ্গীরচর, সাতকানিয়া ও গফরগাঁওয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে।

পুলিশ জানায়, এই অস্ত্র উদ্ধারে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ বাহিনীর নেতৃত্বে দেশব্যাপী অভিযান চলছে। তবে এতদিনেও পুরোপুরি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পুলিশের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর বলেন, “৭৬-৭৭ শতাংশ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হয়েছে। জনগণের সহায়তা ছাড়া পুরোপুরি উদ্ধার সম্ভব নয়।”

এই অস্ত্রগুলো অপরাধীদের হাতে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও জমি দখলের মতো অপরাধে এই অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, যেখানে গুলিবিদ্ধ হন অন্তত দুজন—এই ঘটনাও লুণ্ঠিত অস্ত্র ব্যবহারের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে এবং জোরালো অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অস্ত্র উদ্ধারে আরও কঠোর অভিযান চালানোর পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রামে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় নাগরিক নিহত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়ক মন্ডপ নামাটারী সীমান্তে বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম জাহানুর ইসলাম, তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

 

কী ঘটেছিল?

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখে বিএসএফ গুলি ছোড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, জাহানুর ইসলাম ভারতীয় নাগরিক।

 

নামাটারী সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাটি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়ায় দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ চলাচল দেখা যায়। তবে গুলির এই ঘটনা নতুন করে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

 

বিজিবির প্রতিক্রিয়া

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, ঘটনার পরপরই তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

 

স্থানীয়দের দাবি ও প্রতিক্রিয়া

 

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমাদের সীমান্তে প্রায়ই গুলির ঘটনা ঘটে, যা উদ্বেগজনক। বিষয়টি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হওয়া উচিত।”

 

তারা আরও বলেন, সীমান্তে এ ধরনের গুলির ঘটনা বন্ধে দুই দেশের সরকারকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

পরবর্তী পদক্ষেপ

 

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

সীমান্ত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ

 

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি গুলির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ ধরনের ঘটনাকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  1. এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কতদূর গড়াবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাবে, তা এখন দেখার বিষয়।

‘ভারতে আছি’ স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি করে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সোহেল রানা আটক

 

সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ ভোরে সাভারের একটি ভাড়া বাসা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। সাভার মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

 

কিভাবে ধরা পড়লেন সোহেল রানা?

 

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ঘটে। এরপর অনেক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান, যার মধ্যে সোহেল রানাও ছিলেন।

 

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, সে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতে আছি’ স্ট্যাটাস দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের নজরদারির কারণে অবশেষে সে দেশে ফিরে আসে এবং সাভারে আত্মগোপনে ছিল।

 

পুলিশের বক্তব্য

 

সাভার মডেল থানার ওসি জানান, “সোহেল রানার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের একাধিক মামলা রয়েছে।”

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও গুলি করে হত্যার অভিযোগ

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাভারে এক বিক্ষোভে গুলি চালানো হয়, যাতে বেশ কয়েকজন নিহত হন। এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন সোহেল রানা।

 

পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা

 

পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

 

এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ তৈরি হলো, বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিদেশে পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই, হতাশ ফ্যাসিস্টলীগ কর্মীরা

দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিদেশে আশ্রয় নেওয়া ফ্যাসিস্টলীগের নেতারা কর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না, যা সংগঠনের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

কর্মীদের অভিমত

অনেক কর্মী বলছেন, “ঈদ তো সবার জন্যই আনন্দের, কিন্তু নেতারা যদি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেন, তাহলে আমাদের কেমন লাগে?” তারা মনে করেন, নেতাদের সহযোগিতা না থাকলেও অন্তত খোঁজখবর রাখা উচিত।

একজন দীর্ঘদিনের কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মাঠে থেকে অনেক কিছু সহ্য করেছি, কিন্তু এখন নেতারা এমন আচরণ করছেন যেন আমাদের চিনেন না।”

নেতাদের অবস্থান

বিদেশে পলাতক নেতারা যদিও ঈদ উদযাপন করতে পারছেন, তবে তারা কর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্মীদের ভাষ্য, নেতারা একসময় যে সংগঠনের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলেন, এখন সেটিকেই উপেক্ষা করছেন।

ফ্যাসিস্টলীগের ভবিষ্যৎ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “যদি নেতৃত্ব মাঠের কর্মীদের ছেড়ে দেয়, তাহলে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়বে।” দীর্ঘদিনের কর্মীরা হতাশ হলেও, নতুন নেতৃত্ব গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমান বাস্তবতায়, ফ্যাসিস্টলীগের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করছে নেতৃত্বের ওপর—তারা কি কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করবেন, নাকি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন?

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ, জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া

আজাদ মজুমদার বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত শুল্ক যৌক্তিকীকরণের জন্য বিভিন্ন বিকল্প চিহ্নিত করছে।”

যুক্তরাষ্ট্র কেন শুল্ক বাড়াল?

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি মূলত বাণিজ্য ভারসাম্য ও অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষিত করার অংশ। তবে এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য পদক্ষেপ

বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক বাড়ায়, তাহলে তা পারস্পরিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কৃষিপণ্য, প্রযুক্তি সামগ্রী ও বিলাসবহুল পণ্যের দাম বাড়তে পারে

বিশ্ববাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই শুল্ক নীতি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বাংলাদেশ যদি বিকল্প বাজার খোঁজে বা নতুন বাণিজ্য চুক্তি করে, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা সামলানো সম্ভব।

এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ সরকার এই পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেয় এবং কী ধরনের শুল্ক নীতি গ্রহণ করে

ওসাসুনার বিপক্ষে জয় নিয়ে প্রতিশোধ নিল বার্সেলোনা, লা লিগায় শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল কাতালান ক্লাবটি

স্প্যানিশ লা লিগায় ওসাসুনার বিপক্ষে বার্সেলোনার স্থগিত ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল বৃহস্পতিবার রাতে। ম্যাচটিতে বার্সা দেখালো দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নেওয়া হলো প্রথম লেগের পরাজয়ের প্রতিশোধও।

প্রথম লেগে ৪-২ গোলে হেরে গিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে এবার দারুণ খেলেই তারা প্রতিশোধ নিল এবং লিগের শীর্ষস্থান আরও শক্তিশালী করল

লা লিগায় শীর্ষে বার্সেলোনা

এই জয়ের ফলে ২৮ ম্যাচে ২০ জয় ও তিন ড্রয়ে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষে অবস্থান করছে বার্সা।

  • ২য় স্থানে: ৬০ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ

  • ৩য় স্থানে: ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ

  • ১৪তম স্থানে: ওসাসুনা, ৩৩ পয়েন্ট

গোল উৎসবে বার্সা

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল বার্সেলোনা।

🔹 ১১তম মিনিট: ফেরান তোরেস ম্যাচের প্রথম গোল করেন। ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের দুর্দান্ত পাস থেকে আলেহান্দ্রো বালদে ক্রস করলে সেটি জালে পাঠান তোরেস।

🔹 ২৭তম মিনিট: পেনাল্টি থেকে বার্সার দ্বিতীয় গোল করেন দানি ওলমো। প্রথম শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও, আগেই এক খেলোয়াড় ডি-বক্সে ঢুকে পড়ায় রেফারি শট পুনরায় নেওয়ার সুযোগ দেন। দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়ে এবার ভুল করেননি স্প্যানিশ তারকা। তবে গোল করার পর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ওলমোকে

🔹 ৭৭তম মিনিট: ফের্মিন লোপেসের দুর্দান্ত ক্রসে হেড করে ম্যাচের তৃতীয় ও শেষ গোলটি করেন রবার্তো লেভানদোভস্কি। এটি চলতি মৌসুমে লেভানদোভস্কির ২৩তম গোল

প্রতিপক্ষকে দাপট দেখিয়েই হারালো বার্সেলোনা

পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণের দিক দিয়ে বার্সেলোনা ওসাসুনার চেয়ে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ওসাসুনা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও, বার্সেলোনার রক্ষণদুর্গ অটুট ছিল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে জাভির শিষ্যরা

এই জয়ে লিগ শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল কাতালানরা।

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ, বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে হংকং ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে টঙ্গীর পাগাড় এলাকায় শ্রমিকরা শাখা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

বেতনের দাবিতে আন্দোলনে শ্রমিকরা

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কাজ করেন। তারা ফেব্রুয়ারি মাসের সম্পূর্ণ বেতন, মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাদের পাওনা পরিশোধ করেনি।

শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সারাদিন তাদের কাজ করিয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত বেতন-বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি।

শ্রমিক মৌসুমী, রুবেল ও সজল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা দিনরাত পরিশ্রম করি, কারখানার কাজ ঠিকই শেষ করি, অথচ আমাদের বেতন-বোনাস নিয়ে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করছে। আমরা এই টাকা দিয়ে ঈদের প্রস্তুতি নেব, কিন্তু এখন আমাদের ঈদ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের উপস্থিতি

গাজীপুর শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের ফোন বন্ধ

এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

টানা দুই দিন ধরে বিক্ষোভ

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় একই দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা শাখা সড়কে কাঠ ও টায়ার পুড়িয়ে অবরোধ তৈরি করেন।

শ্রমিকরা তাদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়ে বলেছেন, যদি বেতন-বোনাস না দেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

 

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর: শান্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীনের আরও জোরালো ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। উভয় নেতা বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

নতুন বাংলাদেশের পথে সহযোগিতার আশ্বাস

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং চলতি বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথ সুগম করেছে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ও সামাজিক ব্যবসার প্রসারে তিনি আগে থেকেই চীনের সঙ্গে কাজ করেছেন।

রোহিঙ্গা সংকট ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের ভূমিকা

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপন করেন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে চীনের শক্তিশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টা আজ বেইজিংয়ের দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল-এ চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বিনিয়োগ সংলাপে অংশ নেবেন। এই সংলাপের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সম্পর্কে চীনা ব্যবসায়ীদের ধারণা প্রদান এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।

গোলটেবিল আলোচনা ও কৌশলগত বৈঠক

অধ্যাপক ইউনূস একই ভেন্যুতে তিনটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেবেন, যেখানে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচিত হবে:

  • টেকসই অবকাঠামো ও জ্বালানি বিনিয়োগ

  • বাংলাদেশে উৎপাদন ও বাজারের সুযোগ

  • সামাজিক ব্যবসা, যুব উদ্যোক্তা ও থ্রি জিরো বিশ্বের ভবিষ্যৎ

তিনি বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যবসার বিশেষজ্ঞ ও চীনের স্বনামধন্য কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

রাষ্ট্রদূতের নৈশভোজে অংশগ্রহণ

অধ্যাপক ইউনূস চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের আয়োজিত এক নৈশভোজেও অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে।

সফরের মূল পর্দাপট

চার দিনের চীন সফরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রয়েছেন:

  • পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন

  • জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফওজুল কবির খান

  • প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান

  • এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ

  • প্রেস সচিব শফিকুল আলম

এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

সুস্থতা কি কেবল প্রভাবশালীদের জন্য?

বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল সম্প্রতি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হন। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয় এবং রিং পরানো হয়। সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি এখন সুস্থ আছেন। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার হওয়ায় তার চিকিৎসায় কোনো দেরি হয়নি, কোনো জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী বুকের ব্যথা নিয়ে ভোগেন, কিন্তু তাদের চিকিৎসা পেতে হয় দীর্ঘ অপেক্ষার পর। সরকারি হাসপাতালে সিরিয়াল পেতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা।

একই চিকিৎসা, কিন্তু খরচ ভিন্ন কেন?

বাংলাদেশের হাসপাতালে একজন সাধারণ রোগীর জন্য যে চিকিৎসা খরচ পঁচিশ হাজার টাকা, সেটিই কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির জন্য অনেক কম বা বিনামূল্যে হয়ে যায়। একই অপারেশন, একই ডাক্তার, একই সরঞ্জাম—তবুও খরচের এত পার্থক্য কেন? চিকিৎসা কি সবার মৌলিক অধিকার নয়?

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা এখন এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। রোগীকে গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, আর অপারেশন থিয়েটার যেন লাভের মেশিন। চিকিৎসা খরচ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সহজলভ্য করতে হবে

তামিম ইকবাল ভাগ্যবান যে তিনি দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছেন, তবে যারা তামিম নন, তারা কী করবেন? বুকের ব্যথা অনুভব করলেই তারা কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে, সময়মতো চিকিৎসা পাবেন?

সরকারের উচিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করা, চিকিৎসার মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা। কারণ, সুস্থ থাকার অধিকার কেবল ধনী বা জনপ্রিয়দের একচেটিয়া সুবিধা হতে পারে না।

তামিম ইকবালের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু করুন, আমিন।

 

সুন্দরবনের কলমতেজী বনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কাটা ও পানি ছেঁটানোর কাজ চলছে

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কেটে পানি ছেঁটানোর পাশাপাশি দূরবর্তী জলাশয় থেকে পানি এনে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

আজ রবিবার (২৩ মার্চ) সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার বিপুলেশ্বর দাস। তিনি জানান, আগুন যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য আগুনের চারপাশে ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে এবং পানির উৎস না থাকায় দূর থেকে পানি এনে ফেলা হচ্ছে।

শনিবার সকালে প্রথম আগুনের সূত্রপাত

এর আগে, শনিবার (২২ মার্চ) সকালে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে শনিবার দুপুরে বিপুলেশ্বর দাস জানান, টেপারবিল নামক স্থানে বনে আগুন দেখা গেলে স্থানীয়রা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেন। আগুন যাতে বনের গভীরে না ছড়ায়, সে জন্য দ্রুত ফায়ার লাইন কাটা শুরু করা হয়।

তিনি আরও জানান,
“বনের খাল থেকে আগুনের স্থানের দূরত্ব প্রায় ২-২.৫ কিলোমিটার। ফলে আশেপাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় খালে জোয়ার আসার পর নৌপথে পানি পাম্প নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

স্থানীয়দের বিবৃতি ও বন বিভাগের প্রতিক্রিয়া

ধানসাগর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য পান্না মিয়া জানান,
“শনিবার সকালে টেপারবিল এলাকায় বনের মধ্যে আগুনের ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে জানানো হয়।”
এদিকে, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করীম জানান,
“আগুন লাগার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগুন যাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে।”

আগুনের ক্ষতি ও সম্ভাব্য কারণ

সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বনের শুকনো গাছের পাতা ও ঘাস থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বন সংলগ্ন এলাকায় মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ, মৎস্যজীবীদের অসাবধানতা, অবৈধ কাঠ সংগ্রহকারীদের কার্যক্রম, কিংবা সিগারেটের আগুন থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুনের কারণে বনের গাছপালা, প্রাণী, এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুন্দরবনের মূল্যবান উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”

পরবর্তী পদক্ষেপ

  • ফায়ার লাইন কাটা ও পানি ছেঁটানোর কার্যক্রম চলছে
  • খালে জোয়ার এলে নৌপথে পানির পাম্প নিয়ে গিয়ে পানি সরবরাহ করা হবে
  • আগুনের সঠিক কারণ নির্ধারণে বন বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে
  • স্থানীয় জনগণের সহায়তায় দ্রুত আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা চলছে

বন বিভাগের কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা আশাবাদী যে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুন্দরবনের এই আগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।