মঙ্গলবার ,২৮ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 5

টঙ্গীতে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, ঘাতক চালক আটক

গাজীপুরের টঙ্গীতে ট্রাকের ধাক্কায় মো. আলমগীর (৫৫) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (২১ এপ্রিল) ভোরে টঙ্গী স্টেশন রোডের কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কের পানির ট্যাংকির এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আলমগীর পিরোজপুর জেলার নাজিরহাট থানার গাওখালী ইউনিয়নের খলনী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার রেলগেট এলাকায় বসবাস করতেন এবং জীবিকার তাগিদে গাছ বোঝাই ট্রাকে লোড-আনলোডের কাজ করতেন।

ঘটনার বিবরণ:
আলমগীরের সহকর্মী মো. শামীম জানান, আজ ভোরে তারা স-মিলের জন্য আনা গাছ বোঝাই ট্রাকে কাজ করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাক ওই ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে আলমগীর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে অন্যান্য শ্রমিক ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আইনগত পদক্ষেপ:
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ড্রাম ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং চালককেও আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু করার কার্যক্রম চলছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবাসী জীবন কিংবা নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের জন্য প্রতিদিনের জীবনে ঝুঁকি যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।

গাজীপুরে রড ছাড়া ছাদ ঢালাই, ধসে শ্রমিকের মৃত্যু: উত্তেজিত জনতার হামলা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের ফলস ছাদ ধসে রইছ উদ্দিন (৩০) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে বরমী পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রইছ উদ্দিন একই ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন।

ঘটনার পর বেলা ১১টার দিকে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা ভবনটিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণে মারাত্মক অনিয়ম হয়েছে এবং ভবন মালিকের গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী নির্মাণ শ্রমিক মোবারক হোসেন জানান, “ফলস ছাদটি রড ছাড়া ঢালাই করা হয়েছিল। মালিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ চালিয়েছেন। এটা সরাসরি হত্যার শামিল।” তিনি এই ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করেন।

ঠিকাদার ফজলুর রহমান বলেন, “আমি এবং ইঞ্জিনিয়ার বারবার সতর্ক করলেও বাড়ির মালিক ফাইজু উদ্দিন আমাদের কথা শোনেননি। পরিকল্পনা অনুযায়ী পিলার দেওয়া বা সঠিকভাবে কাজ করার কোনো উদ্যোগই তিনি নেননি। এর ফলেই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।”

অন্যদিকে, বাড়ির মালিক ফাইজু উদ্দিন ঢাকায় জরুরি কাজে রয়েছেন বলে জানান এবং ফোনে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “শুনেছি ফলস ছাদ ধসে একজন মারা গেছেন। আমি ঢাকায় ছিলাম, আমার কিছু করার নেই।” তার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন মণ্ডল জানান, “আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের মতে, ভবন নির্মাণে সঠিক নিয়ম না মানা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবই এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ। এই মৃত্যু একটি নির্মম উদাহরণ, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানাচ্ছে।
বর্তমানে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে।


 

হামাসকে ধন্যবাদ জানালেন পুতিন, বললেন ফিলিস্তিনিদের পাশে আছে রাশিয়া

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সম্প্রতি গাজা উপত্যকায় হামাসের হাতে আটক থাকা এক রুশ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পর তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা যায়, ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিপ্রাপ্ত ওই রুশ নাগরিক ত্রুফানোভের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে পুতিন হামাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পুতিন বলেন, “হামাসের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত। আমাদের অনুরোধে তারা মানবিকতা দেখিয়েছে এবং আমাদের নাগরিককে মুক্ত করেছে। আপনাকে অভিনন্দন জানাই।”

এ সময় তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাশিয়া ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে আছে এবং যারা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে। পুতিন আরও বলেন, “আমরা চাই সব রুশ বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত হোক এবং এজন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।”

রুশ প্রেসিডেন্ট হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাকে ‘মানবিক সাড়া’ হিসেবে মূল্যায়ন করেন, তবে এই বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘর্ষ ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই মন্তব্য বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাশিয়া বরাবরই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিলেও, এবার পুতিনের সরাসরি হামাসকে ধন্যবাদ জানানোর ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে গাজা উপত্যকায় ৫৯ জন ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪ জনের জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অপরদিকে, ইসরায়েলি কারাগারে ৯ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে, যাদের মুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ধরনের অবস্থান ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি এক ধরনের নৈতিক সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোত্তম নির্বাচন হতে যাচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সর্বোত্তম ও সর্বাধিক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। তিনি এই নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শনিবার (আজ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশে এবার যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক। দেশের জনগণ এর মাধ্যমে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে।”

উল্লেখযোগ্য যে, এএনএফআরইএল হলো একটি আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, যারা এশিয়াজুড়ে গত দুই দশক ধরে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত ও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোসালেস, বাংলাদেশ নির্বাচন ও গণতন্ত্র কর্মসূচির পরামর্শক মে বুটয়, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার থারিন্ডু আবেরত্না, প্রোগ্রাম অফিসার আয়ান রহমান খান এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আফসানা আমেই।

বৈঠকে তারা বাংলাদেশে এএনএফআরইএলের চলমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নাগরিক-চালিত ব্যবস্থাপনাকে পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন।

তারা জানান, স্টেকহোল্ডার ম্যাপিং ও প্রয়োজন নির্ধারণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশে সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব।

প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং জানায়, বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন আয়োজনে তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে দেশের নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগামী দিনের একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী চিত্র উপহার দিতে পারে।

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বললেন তিনি

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা নিয়ে দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার একটি আদালত গত রবিবার একটি দুর্নীতির মামলায় টিউলিপ সিদ্দিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও ৫১ জনের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার লন্ডনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা পুরোপুরি মিডিয়া ট্রায়ালের ওপর নির্ভর করেছে। আমি এই ধরনের অপপ্রচারকে গুরুত্ব দিতে রাজি নই।”

টিউলিপ আরও দাবি করেন, তার আইনজীবীরা বাংলাদেশ সরকারকে লিখিতভাবে বারবার জানালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, “আমি কিছুই ভুল করিনি। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক একটি অপচেষ্টা।”

প্রসঙ্গত, দুদক অভিযোগ করছে—বাংলাদেশে অবকাঠামো প্রকল্পে ৩৯০ কোটি পাউন্ড আত্মসাৎ হয়েছে, যার পেছনে শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের ভূমিকা রয়েছে। এই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ববি হাজ্জাজ। তার দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ-রাশিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে মধ্যস্থতায় অংশ নিয়েছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক, যেখানে খরচ বাড়িয়ে দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

এদিকে দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, “এটি কোনোভাবেই টার্গেট করে করা মামলা নয়। দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতেই আমরা তদন্ত করছি।” তিনি আরও জানান, “টিউলিপ সিদ্দিকের উচিত হবে বাংলাদেশের আদালতে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করা। আমরা তাকে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

তবে টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবীরা এ মামলাকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন দাবি করে বলেছেন, “এই অভিযোগের কোনো বাস্তবতা নেই, সব রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।”

এই মামলার পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য, গত বছর আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতনের পরই দুদক ব্যাপক পরিসরে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। এর অংশ হিসেবেই এই মামলা বলে জানা গেছে।

টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড হাইগেট আসনের এমপি। তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একজন পরিচিত মুখ এবং প্রাক্তন সিটি মিনিস্টার হিসেবে তার পদত্যাগের ঘটনা নিয়েও তখন অনেক আলোচনা হয়েছিল।

ঘটনার বহিঃপ্রকাশ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে নজর কেড়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র অবশ্য সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, যুক্তরাজ্য যেহেতু বাংলাদেশকে ‘২বি প্রত্যর্পণ দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাই প্রত্যর্পণের আগে স্পষ্ট প্রমাণ ও যুক্তির ভিত্তিতে বিচারকদের সন্তুষ্ট করতেই হবে।

এই মামলা আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার কূটনৈতিক ও আইনি সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

কুয়েট সংঘর্ষে জড়িত ৩৭ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ ছাত্রদলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের জেরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ২ মে থেকে আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে এবং ৪ মে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সিন্ডিকেটের ১০১তম (জরুরি) সভায় সংঘর্ষ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন ও গৃহীত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে বিষয়টি ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এসব সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেট সভা শেষে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা পিছনের ফটক দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেছেন। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক হল খোলার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন, তবে সোমবার রাত থেকেই হল খুলে দেওয়ার দাবি থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, হল বন্ধ থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকের টিউশনি বন্ধ হয়ে গেছে, লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, হল খোলার আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র রাজনীতি এবং এর প্রভাব নিয়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এই ঘটনাও তারই একটি প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা জীবন রক্ষায় প্রশাসনের উচিত ছিল আরও স্বচ্ছতা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করাও জরুরি বলে মনে করেন অভিভাবকরা।

 

ঢাকায় আজ ‘মার্চ ফর গাজা’: শৃঙ্খলার বার্তা দিলেন মিজানুর রহমান আজহারী

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন ও নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে আজ শনিবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি। দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ ও সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই মহাসমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকেল ৩টায় মূল কর্মসূচি শুরু হলেও দুপুর থেকেই হাজারো মানুষ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন।

এই কর্মসূচিকে সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। গতকাল (শুক্রবার) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

পাঁচটি রুট দিয়ে আগমন নির্দেশনা

আজহারী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “শনিবার দুপুর ২টা থেকে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাঁচটি নির্ধারিত পয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু হবে এবং বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একত্রিত হওয়া হবে।” নির্ধারিত পয়েন্টগুলো হলো—

১. বাংলামোটর → শাহবাগ → সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (রমনা গেট)
২. কাকরাইল মোড় → মৎস্য ভবন → ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট গেট
৩. জিরো পয়েন্ট → দোয়েল চত্বর → টিএসসি গেট
৪. বখশীবাজার মোড় → শহীদ মিনার → টিএসসি গেট
৫. নীলক্ষেত মোড় → ভিসি চত্বর → টিএসসি গেট

অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্দেশনা

১. ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়তা যেমন পানি, মাস্ক ও ছাতা সঙ্গে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২. যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৩. কোনো রাজনৈতিক ব্যানার, প্রতীক বা স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের মাধ্যমে সংহতি প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৪. দুষ্কৃতিকারীদের প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ নির্দেশনা

  • টিএসসি মেট্রো স্টেশন আজ বন্ধ থাকবে।
  • পরীক্ষার্থীদের জন্য সকল রাস্তায় বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে, যেন তারা নির্বিঘ্নে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন। তাদের যথাসময়ে বাসা থেকে বের হতে এবং প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।

মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান

পোস্টের শেষ অংশে আজহারী বলেন, “মানবতার পক্ষে, মজলুমের পাশে দাঁড়ান। পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন।”

বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানানোর আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকায় আজকের কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দেশের মানুষ। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি, উৎসাহ ও সচেতনতা এই কর্মসূচিকে করে তুলছে এক অনন্য নজির।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগের বড় নজির: ২ হাজার কোটি টাকায় হাসপাতাল নির্মাণে যুক্ত হলো মার্কিন কোম্পানি ইউএস এলএলসি

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগের বড় নজির: ২ হাজার কোটি টাকায় হাসপাতাল নির্মাণে যুক্ত হলো মার্কিন কোম্পানি ইউএস এলএলসি

পূর্বাচলে আধুনিক হাসপাতাল ও নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা


বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাংলা ইউএস এলএলসি ঢাকার পূর্বাচলে ২০০ বিঘা জমিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক হাসপাতাল কমপ্লেক্স ও বিশেষায়িত নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে ১.৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

এই হাসপাতাল কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে চারটি হেলিকপ্টার সার্ভিস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ট্রাফিক জট এড়িয়ে জরুরি সেবা পৌঁছাতে সহায়তা করবে।

প্রতিষ্ঠিত নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর ৫,০০০ প্রশিক্ষিত নার্স তৈরি করা হবে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে মোট ২.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ৬০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি সার কারখানা নির্মাণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে। ২০২৬ সালের মধ্যে হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন: এখন থেকে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’

বাংলা নববর্ষের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে এখন থেকে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ রাখা হয়েছে। শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম জানান, এবারের শোভাযাত্রায় ২৮টি জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এটি সকলের জন্য আনন্দময় করে তোলা হবে ।

সম্প্রতি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করেন, ‘মঙ্গল’ শব্দটি সর্বজনীন নয় এবং এটি দেশের সকল ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। এই প্রেক্ষাপটে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ।

‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র সূচনা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে। ২০১৬ সালে এটি ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর নাম ও প্রতীক নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়, যা নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে ।

এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে শোভাযাত্রায় তুলে ধরা হবে আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সেই সঙ্গে গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলনও এতে দেখা যাবে ।

নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী নাম, যা পরিবর্তন না করাই উচিত ছিল। তবে আয়োজকরা বলছেন, নতুন নামের মাধ্যমে শোভাযাত্রাকে আরও সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন লোগো চূড়ান্ত: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়

বাংলাদেশ পুলিশ তাদের লোগোতে পরিবর্তন এনেছে, যা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার প্রতিফলন ঘটায়। নতুন লোগোতে জাতীয় ফুল শাপলা, ধান ও গমের শীষ এবং পাটপাতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাটপাতার ওপরে সুস্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে ‘পুলিশ’ শব্দটি। এই পরিবর্তনটি পুলিশ বাহিনীর পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন লোগোটি ইউনিফর্ম, অফিসিয়াল পতাকা, বিভিন্ন দপ্তরের সাইনবোর্ড এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সারাদেশের পুলিশ ইউনিটগুলোতে নতুন লোগোর ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) নাছিমা বেগম স্বাক্ষরিত একটি অফিসিয়াল চিঠিতে নতুন এই লোগো সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের বিদ্যমান মনোগ্রাম বা লোগো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন লোগো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এখন কেবল প্রজ্ঞাপন জারি বাকি রয়েছে।

নতুন লোগোতে জাতীয় উপাদানগুলোর উপস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিবর্তিত এই লোগো আধুনিক ও গঠনমূলক ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পুলিশ বাহিনীর পরিচয়কে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।