বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 758

ঢাকা মেডিকেল কলেজ: স্বপ্ন আবেগ একটি ইতিহাস

১০ জুলাই পালন করতে যাচ্ছি ৭৬ তম ডিএমসি ডে। ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই ১০১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে উপমহাদেশের অন্যতম চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিবছর ১০ জুলাই এলে কিছুটা নস্টালজিক হয়ে যাই। দেশ-বিদেশে অনেক চিকিৎসক আছেন তারা জানতে চান এ বছর কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে কিনা?

কোভিডকালে কোনোভাবেই এমন কোনো কর্মসূচি নেয়া যাবে না যা করোনা সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তাই সীমিত পরিসরে আমরা দিনটি উদযাপন করতে চাই। গত বছরও আমরা সংক্ষিপ্তভাবে অনুষ্ঠান করেছি। তবে বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছি যা করোনাকালে করণীয় ছিল। যেমন সম্মুখ যোদ্ধাদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ , চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ ইত্যাদি। এ বছরও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকালে কলেজ প্রাঙণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং অ্যালামনি ট্রাস্টের পতাকা উত্তোলন করবো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজের কৃতি সন্তানদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। হবে দেশে-বিদেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান।

আমাদের বিশ্বাস করোনা শেষ হলে আমরা আবারো মিলিত হবো প্রাণের উচ্ছাসে প্রিয় প্রাঙ্গণে। আমাদের প্রিয় এ প্রতিষ্ঠান কেবল ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণ নয়, নব নব অর্জনে সমৃদ্ধির শিখরে যাবার জন্য, মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ লালন এবং পালন করতে। আমরা ভুলতে চাই না আমাদের দহনকাল, তেমনি মনে করিয়ে দিতে চাই আমাদের গৌরব আর অহঙ্কার। আমরা এমন কিছু করতে চাই যা মানবিকযোদ্ধা হিসেবে, কোভিড-১৯ যোদ্ধা হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।

বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং অ্যালামনিবৃন্দের অবদান অপরিসীম। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা, দেশের চিকিৎসা পেশার মানোন্নয়ন এবং দেশের যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় এ কলেজের ছাত্র –ছাত্রী এবং শিক্ষকবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৬৬-র ৬-দফা, ’৭১ র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-র গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনসহ ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে এ কলেজের চিকিৎসক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বীরোচিত ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে কয়েক সহস্র চিকিৎসক আজ নিয়োজিত জনগণের চিকিৎসা সেবায়। কেবল দেশের সীমানায়ই নয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক সময়ের শিক্ষার্থীরা আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে, সবখানেই পেশাগত প্রতিভায় তারা দীপ্যমান। চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার সাথে সাথে জনগণের স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে এই বিদ্যাপীঠের ভূমিকা ইতিহাসের গৌরবময় অংশ হয়ে আছে।

দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনের এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল সামনের সারিতে। আমাদের স্বাধীনতার সূর্যটি ডাঃ ফজলে রাব্বী, ডাঃ আলীম চৌধুরীর মত অসংখ্য চিকিৎসকের আত্মদানে হয়েছে উজ্জ্বলতর। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ আন্দোলনও এই মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও রাজপথের সহযোদ্ধা ডাঃ শামসুল আলম খান মিলনের রক্তে পেয়েছিল নতুন মাত্রা। এই দেশের গণ মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে রয়েছে আমাদের সাহসী উত্তরাধিকার। ইতিহাসের পাদপীঠে স্রোতস্বিনী সময়ের মোহনায় দাঁড়িয়ে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি মাতৃভাষার জন্য যাঁরা বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত করেছিল রাজপথ, যাঁদের হাত ধরে উদিত হয়েছিল স্বাধীনতার রক্তিম লাল সূর্য, যাঁরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রকে পুণরুদ্ধার করেছেন, অতল শ্রদ্ধা সেই সকল আত্মত্যাগী বীর শহীদ চিকিৎসকবৃন্দকে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের চিকিৎসা সেবায় নেত্রীত্ব দিয়ে আসছে। নিরন্তর মানবতার সেবায় এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর সর্বক্ষেত্রে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দুয়ার থেকে কোন রোগীকে বিনা চিকিৎসায় ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত নেই। করোনা যুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সন্তানরা এগিয়ে এসেছে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে, তাঁদের আত্মত্যাগের এই ঋণ চিরস্মরণীয়। ১০ জুলাই ডিএমসি ডে কে আমরা এবার পালন করবো মানুষের সহযোগিতায়, সহমর্মিতায় এবং মানবিকতাকে ধারণ করে, যা আমাদের পূর্বসূরি চিকিৎসকগণ দেশ এবং বিদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলায়। সেদিনের সেই ক্ষুব্ধ তারুণ্য জন্ম দেয় এক নতুন জাতীয়তাবাদী চেতনার। যার পথ ধরে চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৯৭১-এ। শুধু ভাষা আন্দোলন নয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এমন একটি প্রতিষ্ঠান, বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি পদক্ষেপে অনন্য ভূমিকা রেখে গেছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশেও এর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি আজ পর্যন্ত কোন রাষ্ট্রীয় পদক বা পুরস্কার পায়নি।

ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ

১৯৪৮ সালের মার্চে রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন “উর্দু, শুধু উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”। সেদিন থেকে পূর্ব বাংলার ছাত্র-শিক্ষকসহ আপামর জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সেই চাপা ক্ষোভ ১৯৫২ সালে আন্দোলনে রূপ নেয়। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ৪ জানুয়ারি সফল ছাত্র ধর্মটের পর শাসক গোষ্ঠী একুশে ফেব্রুয়ারি সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনেকেই ১৪৪ ধারা ভাঙার বিপক্ষে থাকলেও ছাত্রনেতারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ঐতিহাসিক আমতলায় (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে, যেখানে নতুন অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্স তৈরি হয়েছে) প্রতিবাদী ছাত্রদের সভার পর ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল শুরু হয়। পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও গ্রেপ্তারের ফলে শান্তিপূর্ণ মিছিল কিছুক্ষণের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুরের পর পুলিশ গুলিবর্ষণ শুরু করে। ফলে ব্যারাক চত্বর ও তার আশপাশে গুলির আঘাতে শহীদ হন রফিক, বরকত ও জব্বার। বরকতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা লাশগুলো বর্তমান ডিসেকশন হলের পেছনে লুকিয়ে রেখেছিলেন পরদিন জানাজার জন্য, কিন্তু রাতে পুলিশ তা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং আজিমপুর কবরস্থানে গোপনে দাফন করে।

ইতোমধ্যে পুলিশের গুলিবর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল ও ব্যারাক চত্বরে মানুষের ঢল নামে। একুশে ফেব্রুয়ারি রাতে তখনকার ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ব্যারাকে অবস্থানরত ছাত্রদের সঙ্গে আলাপ করে কন্ট্রোল রুম স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এই কন্ট্রোল রুম স্থাপন মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ছাত্রদের একটি বুদ্ধিদীপ্ত সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে এই কন্ট্রোল রুমেই রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের জনতার সংহতি প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। তাছাড়া কন্ট্রোল রুমের মাইক থেকেই নেতারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ , রোববার, সরকারি ছুটির দিন। নবনির্মিত শহীদ মিনারটি প্রথমে উদ্বোধন করেন শহীদ শফিউরের পিতা। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ছুটির আরাম হারাম হয়ে যায়, যখন তিনি শুনতে পান স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং দলে দলে লোকের তা দর্শন ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধিক্কার দেওয়ার কথা। শহীদ মিনার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। ছাত্র-জনতার মধ্যে প্রতিবাদী চেতনার নতুন উদ্ভাস তৈরি করে।

মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ

মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক, তৎকালীন ছাত্র, কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। এদের অনেকেই অস্ত্র হাতে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। আবার কেউ কেউ হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা ও অসহায় বাঙালিদের চিকিৎসা করেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভূমিকা তিন ভাগে বর্ণনা করা যেতে পারে।

প্রথম ভাগে যারা এই সময় কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের তৎপরতা। দ্বিতীয় ভাগে এ কলেজ থেকে পাসকৃত চিকিৎসকদের একটি অংশ, তৃতীয় ভাগ হলো যারা অন্যান্য হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন।

এ কলেজের তৎকালীন ছাত্রদের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিম আহমেদ, আলী হাফিজ সেলিম, আবু ইউসুফ মিয়া, ইকবাল আহমেদ ফারুক, মুজিবুল হক, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোজাফফর, আমজাদ হোসেন, ওয়ালীত, ওসমান, গোলাম কবীর, জিলর রহিম, ডালু নুরুজ্জামান, শাহাদত প্রমুখ । এদের অনেকেই ঢাকা শহর কমান্ডের তত্ত্বাবধানে থেকে যুদ্ধ করেছেন।

তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরের সদস্যদের মধ্যে স্কোয়াড়্রন লিডার এম শামসুল হক, মেজর খরশীদ, মেজর শামসুল আলম, ক্যাপ্টেন আব্দুল লতিফ মল্লিক, ক্যাপ্টেন মোশায়েফ হোসেন, ক্যাপ্টেন আ. মান্নান, লে. আখতার, লে. নুরুল ইসলাম প্রমুখ অফিসার বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োজিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ক্যাপ্টেন রশিদ বীরউত্তম ও লে. আখতার বীরপ্রতীক উপাধি পেযয়েছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরের যেসব সদস্য শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে ডা. লে. কর্নেল এএফ জিয়াউর রহমান, ডা. মেজর আসাদুল হক, ডা. লে. আমিনুল হক, ডা. লে. খন্দকার আবু জাফর মো. নুরুল ইমাম প্রমুখ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত প্রায় সব চিকিৎসকই আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করতেন। মুক্তিযোদ্ধারা আসল নাম গোপন রেখে হাসপাতালে ভর্তি হতেন। হাসপাতালে এসব কাজের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন অধ্যাপক ফজলে রাব্বী। তিনি তাঁর আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করতেন। যুদ্ধের শেষ দিকে অধ্যাপক ফজলে রাব্বীসহ অনেক চিকিৎসককেই রাজাকার-আল বদর বাহিনী গোপন চিঠির মাধ্যমে মৃত্যুর ভয় দেখিয়েছিলেন।
তাদের চিঠির ভাষা ছিল, ‘কলকাতার মাড়োয়ারী দালালদের হত্যা করা হবে’। লাল কালির লেখা চিঠিতে একটি তরবারির প্রতিকৃতি আঁকা ছিল। তবে চিঠির নিচে প্রেরকের নাম ঠিকানা ছিল না। রাজাকারদের ভয়ভীতি উপেক্ষা করেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন। শহীদ অধ্যাপক আলীম চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত থাকলেও বেশিরভাগ সময় কাটাতেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা অনেক চিকিৎসক ভারতে গিয়ে বিভিন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই সব চিকিৎসকের অনেকে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। আবার কেউ আহত মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের চিকিৎসা করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাসকৃত চিকিৎসকদের মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা হলেন- শিশির মজুমদার, ডা. সরওয়ার আলী, অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ডা. মাকসুদা নার্গিস, ডা. কাজী তামান্না, ডা. ফোজিয়া মোসলেম, ডা. সমূর কুমার শর্মা প্রমুখ (অনেকের নাম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি)। দেশের ভেতর থেকে অসংখ্য চিকিৎসক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক তৎকালীন ছাত্রছাত্রী এবং এই কলেজে কর্মরত চিকিৎসকদের তালিকা আমাদের সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য।

অথচ মেলেনি স্বীকৃতি

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এখনো পর্যন্ত কোনো জাতীয় স্বীকৃতি পায় নাই। ২০২১ সালে চিকিৎসা খাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে স্বাধীনতা পদক দেবার জন্য আবেদন করেও আশাহত হয়েছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা বললে যেমন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাদ দেয়া যাবে না, তেমনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের নামটিও অবশ্য-স্মরণীয়। তাই ঢাকা মেডিকেল কলেজকে স্বাধীনতা পুরস্কার অথবা একুশে পদক দেবার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ৭৬ তম ডিএমসি ডে সফল হোক।

লেখক: সেক্রেটারী জেনারেল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনি ট্রাস্ট

ডেল্টা লাইফের শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন তদন্তে কমিটি

শেয়ারবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেরেন্সের শেয়ারের সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (৭ জুলাই) এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য মতে, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম গঠিত এ তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এ তদন্ত কমিটি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখবে। এছাড়া কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কোনও ফাইন লঙ্ঘন করেছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে সম্প্রতি রাষ্ট্রায়িত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন বাংলাদেশ (আইসিবি) ডেল্টা লাইফের বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছে। গঠিত কমিটি খতিয়ে দেখবে যে, যথাযথ আইন অনুসরণ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল কিনা।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন ডেল্টা লাইফের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১০৩.৩ টাকা। আর ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪ টাকায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে বিএসসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গঠিত কমিটিতে তিনজন সদস্য রয়েছেন।’

প্রিমিয়ার ব্যাংক পুরস্কার পেলেন ২৫ উদ্যোক্তা

বিশ্ব এমএসএমই দিবস উপলক্ষে প্রিমিয়ার ব্যাংক সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. রিয়াজুল করিম। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হোসনে আরা শিখা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসএমই ও কৃষি ঋণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৫টি এসএমই বান্ধব শাখার শাখা ব্যবস্থাপকসহ শাখার এসএমই গ্রাহক গন এবং প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হোসনে আরা শিখা তার বক্তব্যে প্রিমিয়ার ব্যাংকের এসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রদেয় বিভিন্ন নির্ধারিত লক্ষ্য অত্যন্ত সফলতার সাথে অর্জন করায় এবং সেই সাথে বিশ্ব এমএসএমই দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজন করে উদ্যোক্তাদের সম্মাননা জানানোয় প্রিমিয়ার ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে ২৫ টি শাখার উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ২৫ জন উদ্যোক্তাকে সেরা এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী এম. রিয়াজুল করিম প্রিমিয়ার ব্যাংককে একটি এসএমইবান্ধব গণমানুষের ব্যাংক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নরসিংদীতে ভীমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

নরসিংদীতে ভীমরুলের কামড়ে সৌরভ নামের পাঁচবছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের টাউয়াদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সৌরভ ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ উপজেলার দারুণ বড়ভাগ গ্রামের শাহেদের ছেলে।

শাহেদ পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালক। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের টাওয়াদী এলাকার একটি বাড়িতে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৫টার দিকে টাওয়াদী এলাকার একটি রাস্তায় সৌরভ লাটিম খেলছিল। তার ছুঁড়ে মারা লাটিম পার্শ্ববর্তী তোফাজ্জল মিয়ার বাড়ির ভেতরে চলে যায়। বাড়িটির একটি গাছে ভিমরুল বাসা বেধেছিল। ওই লাটিম ফেরত আনতে সৌরভ বাড়িটির ভেতরে গেলে একঝাঁক ভীমরুল তার সারা শরীরে কামড়ে দেয়। ওই অবস্থায় তাকে উদ্ধারের জন্য তার বড়ভাই রাসেল সেখানে গেলে তাকেও বেশ কয়েকটি ভীমরুল কামড় দেয়। পরে শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাদের দুজনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌরভকে মৃত ঘোষণা করেন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ আমীরুল হক জানান, ভীমরুলে কামড়ে দেওয়া পাঁচবছর বয়সী শিশুটিকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এছাড়া এই ঘটনায় আহত আরও এক শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ী সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১২ বাংলাদেশি আটক

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর সীমান্ত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে শিশুসহ ১২ বাংলাদেশীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (৭ জুলাই) সকালে কাশিপুর বিওপির হাবিলদার মাসুদের নেতৃত্বে ৪জন পুরুষ ৪জন মহিলা ও ৪জন শিশুসহ মোট ১২ জন বাংলাদেশীকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- নাগেশ্বরী উপজেলার বিন্যাবাড়ী গাগলা এলাকার,মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আঃ জলিল (৫৫),আঃ জলিলের স্ত্রী লিলিফা বেগম (৪৫),ছেলে লিমন মিয়া (১২),মেয়ে আফরিনা (০৮), নাগেশ্বরী কুটি বামনডাঙ্গা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৬), তার আনজু বেগম (৩০), সুখাতী বোর্ড ঘরের মৃত রুবেল হোসেন মেয়ে রুবিনা (০৫), কুটি বামনডাঙ্গার মৃত আঃ হাকিমের ছেলে হাফিজুর রহমান (৩৮), হাফিজুর রহমান এর স্ত্রী আনিচা বেগম (৩২),মেয়ে হামিদা(৮),ছেলে রমজান আলী(৩), ফুলবাড়ী উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে, জাকির হোসেন( ২২)।

আটককৃতরা ভারতের দিল্লিতে ইটের ভাটায় কাজ করতেন। কাজ শেষে দালালের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পিলার নং ৯৪২ এর ৪ এস এর নিকট দিয়ে পার হয়ে বাংলাদেশে আসার পথে বিজিবির সদস্যরা তাদেরকে আটক করে।

ফুলবাড়ী থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কুমার রায় জানান, আটক ১২জনের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা দেয়া হয়েছে।

দাওয়াইয়ের নাম হাসি

ঘুমিয়ে পড়া রোগীকে বেশ ডাকাডাকি করে ঘুম থেকে তুললেন এক নার্স। রোগী খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার, এভাবে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন কেন?’

নার্স নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দিলেন, ‘না মানে ঘুমানোর আগে আপনাকে ঘুমের ওষুধটা খাওয়াতে ভুলে গিয়েছিলাম। দয়া করে এখন একটু খেয়ে নিন!’

*

জলিল সাহেব বড় চাকরি করেন। তার অধীনে অনেকেই কাজ করেন। কোনো কারণে তার একদিন মেজাজ খুব খারাপ। সামনে যাকে পাচ্ছেন তাকেই বকছেন। ঠিক সে সময় অফিসের পিয়ন একটি কাগজের প্যাকেট হাতে তার কক্ষে প্রবেশ করল। তা দেখে জলিল সাহেব চেঁচিয়ে বললেন, ‘এই যে লাট সাহেব, সারাদিন কাজের কাজ তো কিছুই করিস না! হাতে ওই প্যাকেটটা কোন ছাগলের?’

পিয়ন : আপনার স্যার!

জলিল সাহেব : ইয়ে মানে পাঠিয়েছে কোন গাধা?

পিয়ন : আপনার বাবা স্যার!

*

প্রথম বন্ধু : দোস্ত, তুই বলছিস সংসার জীবনে তুই খুব সুখেই আছিস! কিন্তু তুই তো বিয়ে করেছিস আমাদের ক্লাসমেট লাবণীকে। আর আমরা তো জানি লাবণী খুব জেদি আর বদমেজাজি? তোদের সুখে থাকার রহস্যটা কী?

দ্বিতীয় বন্ধু : রহস্যটা হলো আমি যখন কোনো দোষ করি সঙ্গে সঙ্গে স্বীকার করে ওর কাছে মাফ চেয়ে নিই। আর ও যখন কোনো দোষ করে আমি চুপ থাকি!

কৌতুক দিবস

আসুন কৌতুক দিয়েই শুরু করি। এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে বলল, ‘দোস্ত, পহেলা জুলাই নাকি কৌতুক দিবস!’ দ্বিতীয় বন্ধু বলল, ‘কে কইল তোরে?’
‘গুগুল সার্চ কইরা দেখ, পহেলা জুলাই জোকস আইমিন কৌতুক দিবস।’

‘আরে ধুর! তুই যে কোনো বাঙালিরে সার্চ কইরা দেখ, বছরের প্রতিটা দিনই তাদের কাছে কৌতুক দিবস! বাঙালির জীবন এত কৌতুকময় যে আলাদা করে দিবসের প্রয়োজন নেই আর!’

বাঙালি রসিক জাতি। চান্স পেলেই খোঁচাতে খোঁচাতে দগদগে ‘র-শিক’ প্রবেশ করিয়ে দিয়ে হা হা হি হি তে গড়িয়ে পড়তে সময় নেয় না। সেটা পাড়ার চায়ের দোকানে বসেই হোক কিংবা আড্ডার টেবিলেই হোক বাঙালির কথায় কথায় রস গড়িয়ে পড়বেই। সেই রস কুড়াতে কোনো বিশেষ দিবস লাগে? নগরবাসীর দিন শুরুই হয় রসিকতা দিয়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে, পানির পাইপ দিয়ে কী বের হয়ে আসে-বাতাস নাকি পানি?

বিশ্বজয় করে হাসি মুখে বের হওয়ার পর নজর আসে গ্যাসের চুলায়। গ্যাস তো গ্যাস নয়, কখনো কখনো যেন ডুমুরের ফুল! গ্যাসবাবু চটে গেলেই সর্বনাশ। জানেন তো, গ্যাসই জীবন। জানেন না? জেনে নিন তবে পুরুষের পরীক্ষা নারীতে! নারীর পরীক্ষা হাঁড়িতে! হাঁড়ির পরীক্ষা রান্নাঘরে! রান্নাঘরের পরীক্ষা চুলায় করে! চুলার পরীক্ষা আগুন নেয় ভালোবেসে! আগুনের পরীক্ষা গ্যাসে অবশেষে!
অবশ্য জীবনে পরীক্ষা নেই কোথায়? প্রতিটি পদক্ষেপে পরীক্ষা দিতে দিতে জীবন বাংলা সিনেমার শাবানার চেয়েও খারাপ হয়ে ওঠে প্রায়ই।

তার ওপর আবার না আছে জসিম, না আছে সেলাই মেশিন, না আছে চালানোর মতো ঠেলাগাড়ি! যা ঠেলে নিমিষেই বড়লোক হয়ে যাওয়া যায়!

তবে আর কিছু না থাকলেও শহর-নগর, গ্রামে-গঞ্জে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কৌতুক। এক কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে শীতকালে গ্রামে গিয়েছেন। মেঠো পথে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের এক লোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। কবি বললেন, ‘সূর্যের সোনা রং কেমন একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে আকাশের নিটোল নীল যৌবনদীপ্ত অঙ্গে। লাখ লাখ শিশির বিন্দু কেমন মুক্তোর মতোন ছড়িয়ে আছে গ্রাম জুড়ে থাকা সবুজ রঙা শাড়িতে। আহ্, তোমরা কী ভাগ্যবান! এই দৃশ্য রোজই দেখতে পাও, তাই না?’
গ্রামের লোকটি কবির দিকে ভালো করে তাকিয়ে বললেন, ‘জি না, আজই প্রথম দেখলাম।’

‘কী এমন দৃশ্য আজই দেখলে?’
‘না মানে, এমন আজব চিজ!’
কৌতুক বা জোকস হলো তিন অক্ষরের এক দুর্দান্ত ধাঁধা। যার শেষের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোক’, মাঝের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোস’ আর প্রথম অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘কস’। কোনো একটা কনটেন্টকে জোঁকের মতো চেপে ধরে তার রস বা কষ বের করতে করতে জোস উপস্থাপনাই হলো জোকস।

এ সূত্র মাথায় গেঁথে গেঁথেই ফেললাম একটা জোকস। তারপর লাফাতে লাফাতে ডাকলাম প্রিয় বন্ধুকে।
‘দোস্ত, একটা জোকস লিখেছি, শুনবি?’
‘হা হা হা, হো হো হো, হি হি হি…!’
‘কী হলো? জোকসই তো বলিনি। আগেই এত হাসছিস কেন?’
‘যা বললি, তারচেয়ে আরও বেশি হাসির জোকস হতে পারে!’

এ তো গেল লেখার কথা। স্কুল জীবনে প্রথম জোকস বলতে গিয়েও কম নাকাল হইনি। ছেলেবেলায় আমি যে শুধু ডানপিটে ছিলাম তা নয়, বামপিঠেও ছিলাম। স্কুলের স্যারদের অনেক বেতের বাড়ি অনায়েসে বাড়ি বয়ে নিতে পারতাম। অবশ্য পিঠের থেকে পেটের দিকেই নজর ছিল বেশি। যারা যারা স্কুল বার্ষিক আয়োজনে পারফর্ম করবে তাদেরকে কেক কেটে খাওয়ানো হবে শুনে দাঁড়িয়ে গেলাম স্টেজে।

জীবনে প্রথম জোকস বলব বলে স্টেজে উঠেছি। নার্ভাসনেসের কারণে কোনো দিকে না তাকিয়ে হড়বড় করে বলে গেলাম, শিখে আসা জোকস। পুরো জোকস না থেমে শেষ করার আনন্দে হাসতে হাসতে দর্শকের দিকে তাকিয়ে দেখি তারা অপেক্ষা করছে, হাসির অংশটুকু শোনার আশায়!

সেই দর্শকদের মতো নির্দয় না হয়ে কৌতুক বা জোকস শুনে হাসুন। হাসিতে বাঁচুন। হাসলে নির্মল আনন্দ লাভ হয়।

পার্কের সেই ভিক্ষুকের মতো আবেদন জানিয়ে আজ এখানেই থামি। জোকস দিবসে পার্কে বসে জোকস পড়ছিলেন আর হো হো করে হাসছিলেন জামান সাহেব।
ভিক্ষুক : বাবা, দুইডা ভিক্ষা দ্যান।

জামান সাহেব : সারাটা জীবন তো দুইডা ভিক্ষাই চেয়ে গেলে। আজ যে ‘জোকস দিবস’ তা জানো?
ভিক্ষুক : না বাবা, জানতাম না। তয়, আইজ দুইডা জোকসই দ্যান!

প্রভাসের সিনেমার গল্প ফাঁস

‘ইয়ং রেবেল’ হিসেবে পরিচিত তারকা প্রভাস। তেলেগু সিনেমার জনপ্রিয় এই অভিনেতার হাতে বর্তমানে একাধিক সিনেমার কাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রশান্ত নীল পরিচালিত ‘সালার’।

গত ডিসেম্বরে এই সিনেমায় প্রভাসের লুক প্রকাশ করেন নির্মাতা। দর্শকের মাঝে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে এটি। এরপর থেকে সিনেমার গল্প কেমন হবে তা নিয়েও শুরু হয় জল্পনা।

গুঞ্জন ‍শোনা যাচ্ছে, ‘সালার’ সিনেমায় প্রভাসকে বাবা ও ছেলের দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাবে। মাফিয়া জগতের প্রতিশোধের গল্প নিয়ে এই সিনেমা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাসের একটি ছবি ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, পুরোনো একটি মোটরবাইকে বসে এই অভিনেতা। কেউ কেউ ধারণা করছেন, সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপটে প্রভাসের ‘সালার’ সিনেমা। ব্রিটিশ শাসন আমলে মৌসুর রাজ্যের গল্প নিয়ে সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরি। এটি অনেকটা যশ অভিনীত ‘কেজিএফ’ সিনেমার মতোই।

তবে কারো কারো মতে, অবৈধ মাইনিং নিয়ে ‘সালার’ সিনেমার গল্প। প্রভাসকে এতে খুবই দুর্ষর্ধ ব্যক্তির চরিত্রে দেখা যাবে।

অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার ‘সালার’ সিনেমায় প্রভাস ছাড়া আরো অভিনয় করছেন শ্রুতি হাসান। বিশ্বব্যাপী ২০২২ সালের ১৪ এপ্রিল সিনেমাটি মুক্তি পাবে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন। পুরো ভারতে পাঁচটি ভাষায় সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করছেন তারা।

মল্লিক বাড়ির মেয়ের গোপন প্রেম, বিয়ে-সংসার

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। তার একমাত্র কন‌্যা কোয়েক মল্লিকও টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় মুখ। ব‌্যক্তিগত জীবনে প্রযোজক নিসপাল সিং রানের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন তিনি। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে করলেও ভালোবেসে সংসার বাঁধার সিদ্ধান্ত নেন এই যুগল। তাদের প্রথম দেখা, গোপন প্রেম, রঞ্জিত মল্লিকের প্রতিক্রিয়া ও বিয়ে নিয়ে এই আয়োজন।

প্রথম দৃষ্টি বিনিময়
কাজের সূত্রে নিসপাল সিং রানের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় কোয়েল মল্লিকের। এক সাক্ষাৎকারে কোয়েল মল্লিক জানান, ২০০৫ সালে নিসপাল সিং রানের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়। মূলত ওই সময়ে একটি চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব দিয়েছিল নিসপাল। যদিও সর্বশেষ কাজটি করা হয়ে উঠেনি। কিন্তু দু’জনের মনে যে প্রেমের ছবি গেঁথে গিয়েছিল তা বলাই বাহুল‌্য!

কেন তারা প্রেমে পড়েন?
নিসপাল সিং রানের নম্র-ভদ্র স্বভাব মন কেড়েছিল কোয়েলের। অন্যদিকে কোয়েলের ঘরোয়া মেয়ের মতো আচরণে কাবু হন নিসপাল। তার ভাষায়—‘টলিউডের নামী অভিনেত্রী হয়েও, এতটুকু অহংকার না থাকা মল্লিক বাড়ির মেয়ের এই স্বভাবই আমাকে ঘায়েল করেছিল।’

 

প্রথম ডেটের অভিজ্ঞতা
কোয়েল মল্লিকের মতে, তাদের প্রথম ডেট হিসেবে রায়চক থেকে তার বাড়ি ফেরার ঘটনাই মনে পড়ে। সেদিন কাজের জন‌্য বাইরে গিয়েছিলেন কোয়েল। কাজ শেষ করতে রাত হয়ে যায়। পরে নিসপাল সিং তাকে নিজের গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দেন। এটি ছিল তাদের প্রথম ডেট!কোয়েলের প্রথম প্রেমিক
কোয়েল মল্লিকের প্রথম প্রেমিক নিসপাল সিং রানে। এ কথা একাধিকবার জানিয়েছেন তিনি। আর তার প্রথম প্রেম রূপ নিয়েছে বিয়েতে। বলা যায়, প্রেম করে ব‌্যর্থতার স্বাদ পেতে হয়নি কোয়েল মল্লিককে।

কোয়েলের গোপন প্রেম
বিয়ের আগে প্রেমের ঘটনা লুকিয়ে রাখা যে একটা ‘শিল্প’, তা অনেকেই স্বীকার করেন! কোয়েল-নিসপালও দীর্ঘ সাত বছরে গোপনে প্রেম করেছেন। শুটিং সেটে দেখা হলেও তারা অল্প কথা-বার্তা বলে বিদায় নিতেন। ওই সময়ের আলাপচারিতাও পেশাগত বৃত্তের ভেতরে রাখতেন। ফলে কাকপক্ষীও টের পায়নি তাদের গোপন প্রেমের কথা।
মেয়ের প্রেম নিয়ে রঞ্জিত মল্লিকের প্রতিক্রিয়া
কলকাতার বিখ্যাত মল্লিক বাড়ির মেয়ের বিয়ের প্রশ্নে পরিবার কী বলেছিল? এ নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। বিশেষ করে বাবা রঞ্জিত মল্লিক মেয়ে কোয়েলের এই সম্পর্ক নিয়ে কী বলেছিলেন, তা এই প্রেম কাহিনিতে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিয়ের আগে এক সাক্ষাৎকারে কোয়েল জানান, একবার রাতে খাবার টেবিলে বসে আচমকাই রঞ্জিত মল্লিক বলেন, ‘রানে খুব ভালো ছেলে।’ ব্যাস! কোয়েলের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, তার বাবা কী চাইছেন। পরে রঞ্জিত মল্লিক নিজেই নিসপালকে বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

অতপর কোয়েলের বিয়ের বাদ‌্য বাজে
২০১৩ সালে ১ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম পরিণয় পায়। একদিকে বাঙালি মতে বিয়ে, অন্যদিকে পাঞ্জাবি রীতিতে কোয়েলকে বধূ করে বরণ করে রানের পরিবার। এরপর কোয়েল-রানের দাম্পত্য জীবনে পূর্ণতা দিয়ে ঘর আলো করে জন্ম নেয় পুত্রসন্তান। আর তা নিয়েই কোয়েল-নিসপালের সুখী দাম্পত‌্য জীবন।

করোনার টিকা নিয়ে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার দাবি

মরণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করেছে বিশ্বের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এই টিকা প্রয়োগের পর অনেকেই নানা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন। এমনকি টিকা গ্রহণের পর শরীর চুম্বকে পরিণত হওয়ার দাবিও করেছেন কেউ কেউ।

এদিকে ভারতের মহারাষ্ট্রের এক নারীর দাবি— করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন। ৭০ বছর বয়সি মাথুরাবাঈ নামের এই নারী জানান, নয় বছর আগে তিনি তার দৃষ্টিশক্তি হারান। এরপর মহারাষ্ট্রে তার আত্মীয়ের বাড়িতেই থাকেন।

তার ভাষ্যমতে, গত ২৬ জুন তিনি কোভিশিল্ড টিকার প্রথম ডোজ নেন। এর পরদিনই তার এক চোখের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।

যদিও চিকিৎসকরা এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে খবরটি প্রকাশ হয়েছে।