বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 757

গর্ভবতী মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

গর্ভবতী হওয়া প্রতিটি মায়ের জন্য সম্মানের। তবে সামান্য ভুলেও ঝুঁকিতে পড়তে পারে গর্ভাবস্থা। সব মা-চান নিরাপদ থাকুক তা গর্ভকালীন সময়টা। এক্ষেত্রে তাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী রোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. দীনা লায়লা হোসেন।

তিনি বলেন, একজন মা গর্ভবতী হলে সাধারণত নরমাল ডেলিভারি চান। কিন্তু এটা নির্ভর করে মা ও বাচ্চার অবস্থার ওপর। আপনি কি চাচ্ছেন সেটা জানার পর চিকিৎসক সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে পারবেন আপনাকে।

আমি বলবো, আপনি মনকে সম্পূর্ণরূপে স্থির রাখুন। নিয়মিত চেকআপ করুন। নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা করা যায়। তবে এটা হবে কিনা তা বলা যায়না।

আগাম ডেলিভারির মধ্যে অনেকগুলো লক্ষণের মধ্যে প্রথম হচ্ছে বমি হওয়া। খেতে না পারা। আপনার হরমোনের পরিবর্তন হওয়াও আগাম প্রেগনেন্সির কারণ হতে পারে। চাইলেই এটা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে পারবেন না। বমিও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব না।

তবে কিছু ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। বমির ওষুধ ছাড়াও খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন করা যেতে পারে। বমির ওষুধ খেলে অবশ্যই খাবারের আধাঘণ্টা আগে খাবেন। সকালবেলা ওষুধ খাওয়ার পর আধাঘণ্টার মধ্যে কোন খাবার খাওয়া যাবেনা।

একটু নির্মল বাতাসে বসতে পারেন। বই পড়তে পারেন। আধাঘণ্টা পরে শুকনো খাবার দিয়ে শুরু করবেন খাওয়া। এক্ষেত্রে মুড়ি, চিড়া, টোস্ট বিস্কুট খেতে পারেন। পরবর্তীতে সকালের ভারি নাস্তা গ্রহণ করতে পারেন। তাহলে বমি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে। একইসাথে অনেক বেশি খাবার খাওয়া যাবে না। বেশি সমস্যা হলে সন্ধ্যায় আরেকটি বমির ওষুধ নিতে হবে একই নিয়মে।

প্রেগনেন্সি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে খুব সহজে হজমযোগ্য খাবার খেতে হবে। এক্ষেত্রে ফল, শাক-সবজি বেশি খেতে হবে। ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।

সাইকোথেরাপি

কী, কেন এবং কাদের জন্য
মন এবং শরীর এই দুই মিলে হচ্ছে মানুষ। শরীরবিহীন মানুষ যেমন অসম্ভব তেমনি মনবিহীন মানুষও অসম্ভব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মন থাকে কোথায়? মন থাকে মাথায় বা মস্তিষ্কে। যদিও ব্রেইন বা মস্তিষ্কই মন নয় কিন্তু মনের অস্তিত্ব প্রকাশিত হয় মস্তিষ্কের বিভিন্ন রকম নিউরোনাল সার্কিট, নিউরোট্রান্সমিটার, নিউরোমডিউলেটর, হরমোনসহ নানাবিধ জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে।
শরীরের যেমন অসুখ হয় তেমনি মনেরও নানারকম অসুখ হয়।

তবে শরীরের অসুখের চিকিৎসা এবং মনের অসুখের চিকিৎসার মধ্যে কিছু গুণগত এবং পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। Mental disorder বা মানসিক ব্যাধির চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাইকিয়াট্রিস্টরা যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করেন তার মধ্যে প্রধান দুটি পদ্ধতি হচ্ছে-
১. Pharmacotherapy ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা।
২. Psychotherapy (সাইকোথেরাপি)

ওষুধবিহীন Psychological method. আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে এ সাইকোথেরাপি। সাইকোথেরাপি হচ্ছে এক ধরনের মানসিক চিকিৎসা পদ্ধতি; যেখানে সাইকোলজিক্যাল বিভিন্ন পদ্ধতি বা Psychological method. ব্যবহার করে মানসিক ব্যধি বা Problem-এর চিকিৎসা করা হয়। তবে অনেকেই কাউন্সেলিং শব্দটির সঙ্গে পরিচিত।

যদিও সাধারণ মানুষ কাউন্সেলিং এবং সাইকোথেরাপি একই অর্থে ব্যবহার করেন, কিন্তু প্রকৃত অর্থে সাইকোথেরাপি এবং কাউন্সেলিংয়ের মধ্যে কিছু গুণগত পার্থক্য রয়েছে; যা হোক সে ভিন্ন আলোচনার বিষয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোনো কোনো মানসিক রোগে বা কাদের ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি প্রয়োগ করা হয়?
In a large scale psychiatric disorder গুলোকে আমরা মূলত দু’ভাগে ভাগ করি।
১. Major Psychiatric disorder বা গুরুতর মানসিক ব্যাধি।

২. Minor Psychiatric disorder বা লঘু মানসিক ব্যাধি। সাধারণত যারা Major Psychiatric disorder যেমন, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার, ডিলিউশনাল ডিসঅর্ডার ইত্যাদিতে ভোগেন তাদের নিজের

রোগের ব্যাপারে কোনো Insight থাকে না, অর্থাৎ তারা নিজেদের রোগী মনে করেন না বা তাদের কোনো মানসিক ব্যধি আছে এটা তারা স্বীকার করেন না বা মানতে চান না। তবে অনেক ক্ষেত্রেই রোগী যখন- Pharmacotherapy বা Antipsychotic ওষুধের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করতে থাকেন তখন তার Insight ফেরত আসে।

অর্থাৎ তার যে মানসিক ব্যধি আছে বা ছিল সেটা তিনি উপলব্ধি করতে পারেন এবং তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি Psychiatric patient বা মানসিক রোগী এবং এ জন্য তার চিকিৎসা প্রয়োজন।

কিন্তু যারা Psychiatric disorder যেমন Anxiety disorder বা উদ্বেগজনিত মানসিক ব্যাধি, stress disorder বা চাপজনিত মানসিক ব্যাধি Depressing disorder বা বিষণ্নতা (মৃদু থেকে মাঝারি), শুচিবায়ু বা OCD, Social anxiety disorder phobia, Relational Problem ইত্যাদিতে ভোগেন তাদের Insight থাকে অর্থাৎ, তারা বুঝতে পারেন যে তাদের মানসিক কোনো সমস্যা হচ্ছে।

সাধারণভাবে যেসব রোগীর Insight থাকে তাদের ক্ষেত্রে Psychotherapy প্রয়োগ করা যায়। আবার কখনো কখনো কিছু সমস্যা আছে যেগুলো ঠিক মানসিক ব্যধির পর্যায়ে পড়ে না কিন্তু আমরা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করছি, যেমন ধরুন উদ্বেগ বা Anxiety. উদ্বেগজনিত মানসিক ব্যাধি বা Anxiety disorder একটি মানসিক রোগ। আবার সাধারণভাবে জীবনে চলার পথে আমরা উদ্বেগাক্রান্ত হই, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হই, চাপ অনুভব করি; যা ঠিক ব্যাধি বা রোগের পর্যায়ে পড়ে না।

এসব ক্ষেত্রেও সাইকোথেরাপি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তার ব্যাপারটা যখন মানসিক ব্যাধির পর্যায়ে পড়ে বা Minor psychiatric disorder হিসেবে আমরা চিহ্নিত করি; তখন আসলে Combination therapy অর্থাৎ Pharmacotherapy এবং সাইকোথেরাপি সম্মিলিতভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন হয়। আবার রোগের তীব্রতার ওপরও চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ নির্ভর করে। যেমন রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর আমরা অনেক লঘু মানসিক ব্যাধি বা Minor Psychiatric disorder কেই তিন ভাগে ভাগ করি।
১. Mild
২. Moderate
৩. Severe

Mild form-এর বা কখনো কখনো Moderate form-এর Minor Psychiatric disorder গুলোতে Psychotherapy দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়। যেমন একজন Mild anxiety-তে ভুগছেন তার ক্ষেত্রে প্রথমেই হয়তো বা সাইকোথেরাপি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু তিনি যদি Severe anxiety disorder-এর রোগী হন তবে তাকে আগে ওষুধ প্রয়োগ করে রোগের লক্ষণগুলোর তীব্রতা কমিয়ে আনতে হবে। পরে প্রয়োজন হবে সাইকোথেরাপি।

কাজেই যে কোনো Psychiatric disorder অথবা Mental Problem-এর ক্ষেত্রে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট প্রথমে রোগটি ডায়াগনসিস করবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন রোগীর কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন- সাইকোথেরাপি নাকি ফার্মাকো থেরাপি নাকি দুটোই একসঙ্গে চলবে। আলোচনার এ পর্যায়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, সাইকোথেরাপিতে আসলে কী করা হয়?

প্রথমেই আমি উল্লেখ করেছি যে, সাইকোথেরাপি হচ্ছে ওষুধবিহীন এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি; যেখানে একজন সাইকোথেরাপিস্ট হতে পারেন তিনি একজন সাইকিয়াট্রিস্ট অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অন্য কোনো সাইকোথেরাপিস্ট, মূলত কথার মাধ্যমে রোগীর সমস্যার সমাধান করে থাকেন।

এ চিকিৎসা সাধারণত কথাবার্তার মাধ্যমে হয়। কথাবার্তার মাধ্যমে রোগী নিজেই নিজের সমস্যাগুলো Identify করেন এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করেন। সাইকিয়াট্রিস্ট নিজে অথবা সাইকিয়াট্রিস্টের তত্ত্বাবধানে কোনো Trained Psychologist সাইকোথেরাপি করে থাকেন। যিনি যখন সাইকোথেরাপি করেন তিনিই তখন সইকোথেরাপিস্ট হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

একজন সাইকিয়াট্রিস্ট যখন সাইকোথেরাপি করেন তিনি নিজেই তখন সাইকোথেরাপিস্ট আবার সাইকোলজিস্ট যখন সাইকোথেরাপি করেন তিনি তখন সাইকোথেরাপিস্ট। তবে একটা জিনিস অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে যে, একজন সাইকোলজিস্ট যখন সাইকোথেরাপি করবেন তখন তিনি অবশ্যই তা করবেন একজন সাইকিয়াট্রিস্টের তত্ত্বাবধানে থেকে।

এক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়ের আলোচনা জরুরি বলে মনে হয়। অনেকেই একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এবং একজন সাইকোলজিস্টের মধ্যে পার্থক্য জানেন না। সাইকিয়াট্রিস্ট হচ্ছেন একজন ডাক্তার, তিনি প্রথমে ডাক্তারি পাস করেন অর্থাৎ MBBS degree নেন এরপর সাইকিয়াট্রি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেন অর্থাৎ, সাইকিয়াট্রিতে বিশেষজ্ঞ হন। যেমন- একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বা কার্ডিওলজিস্ট প্রথমে MBBS ডিগ্রি নেন বা ডাক্তার হন এরপর তিনি মেডিসিন বা Heart-এর ওপর বিশেষজ্ঞ হন। আমাদের দেশে একজন ডাক্তার ডাক্তারি পাস করার পর সাইকিয়াট্রি বিষয়ে FCPS বা MD ডিগ্রি নিতে পারেন এবং পাস করার পর তিনি হবেন একজন সাইকিয়াট্রিস্ট।

অন্যদিকে একজন সাইকোলজিস্ট হচ্ছেন ইউনিভার্সিটি থেকে সাইকোলজিতে পাস করা একজন, তিনি কোনো ডাক্তার নন। HSC পাস করার পর যে কেউ সাইকোলজি বিষয়ে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে সাইকোলজিস্ট হতে পারেন। আমাদের দেশে ঢাকা, রাজশাহীসহ অনেক পাবলিক ইউনিভার্সিটিতেই সাইকোলজি বিষয়ে পড়ানো হয়। এবং বিএসসি (অনার্স) এমএসসি, এমফিল ইত্যদি ডিগ্রি দেয়া হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মূলত General psychology, Clinical Psychology, Counseling psychology, Educational & developmental Psychology বিষয়গুলো চালু আছে।

সাইকোথেরাপির জন্য প্রথম কাজটি হচ্ছে আসলে রোগী নির্বাচন করা। যেহেতু সব রোগীকেই সাইকোথেরাপি করা যায় না বা করলেও ফল পাওয়া যাবে না, তাই রোগী নির্বাচন খুবই জরুরি অর্থাৎ, কার ওষুধ লাগবে, কার সাইকোথেরাপি লাগবে এবং কার দুটিই লাগবে তা আগে নির্ধারণ করতে হবে এবং এ কাজটি করবেন অবশ্যই একজন সাইকিয়াট্রিস্ট। অর্থাৎ সাইকিয়াট্রিস্ট আগে ডায়াগনসিস করবেন Treatment plan করবেন এবং কী ধরনের সাইকোথেরাপি রোগীর প্রয়োজন তা ঠিক করবেন। এরপর যদি তিনি নিজে করেন তো করলেন, না হয় তিনি কোনো Trained সাইকোলজিস্টকে নিয়োগ করবেন সাইকোথেরাপি দেয়ার জন্য।

এ ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপিস্ট অবশ্যই সাইকিয়াট্রিস্টের তত্ত্বাবধানে সাইকোথেরাপি করবেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সাইকোথেরাপিস্টের সঙ্গে রোগীর একটি Therapeutic alliance বা চিকিৎসা সম্পর্ক তৈরি করা। সম্পর্কটি অবশ্যই হবে Professional বা পেশাভিত্তিক। কখনই এ সম্পর্ককে সামাজিক রূপ দেয়া যাবে না, কারণ যেটা চিকিৎসার জন্য ক্ষতিকর। আবার রোগীকেও অনুধাবন করতে হবে যে, তার এ চিকিৎসাটি প্রয়োজন।

ভিন্ন ভিন্ন রোগে আমরা ভিন্ন ভিন্ন সাইকোথেরাপি প্রয়োগ করি। মানসিক ব্যাধি বিশেষ করে লঘু মানসিক ব্যাধির চিকিৎসায় সাইকোথেরাপি একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। একজন দক্ষ সাইকিয়াট্রিস্টের তত্ত্বাবধানে সাইকোথেরাপির প্রয়োগ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) একটি অস্থির, উদ্বিগ্ন, বিষন্ন মনকে সুন্দর সুস্থতা দান করতে পারে, তাকে সুন্দরভাবে বাঁচার পথ দেখাতে পারে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

জাতি প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে গেলে শ্রেণির মীমাংসা করাটা সহজ হতো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন বিক্রমপুরে। রাজনৈতিক কলাম, গবেষণা, সাহিত্য-সমালোচনামূলক প্রবন্ধ এবং গল্প-উপন্যাসসহ তার রচিত বইয়ের সংখ্যা ১০০’র বেশি। প্রায় বিশ বছর ধরে ‘নতুন দিগন্ত’ নামে সমাজ-চিন্তার একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করে আসছেন। সমাজ রূপান্তরকামী এ লেখক-শিক্ষাবিদের ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ইমরান মাহফুজের নেওয়া সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য পত্রস্থ হলো। বি.স.

ইমরান মাহফুজ : ২৩ জুলাই আপনার ৮৫তম জন্মদিন। আপনার অনুভূতি কী?

সিরাজুল ইসলাম চেীধুরী : অনেক অনুভূতির একটি হলো এই যে, ঘটনা ও দুর্ঘটনা অনেক দেখলাম, কিন্তু অন্য সবার সঙ্গে আমারও স্বপ্ন ছিল সেটা বাস্তবায়িত হলো না। হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। হয়নি। সমাজে ফাটল ধরেছে, রাষ্ট্রে ভাঙচুর দেখলাম; কিন্তু ব্যবস্থাটা আগের মতোই রয়ে গেল। ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয় অবস্থা খারাপ হয়েছে। একাত্তরে খুব বড় মাপের আশা জেগেছিল, আশা ভেঙে যাওয়াটা তাই খুবই বেদনাদায়ক হয়েছে। তবু আশা রাখি যে নতুন দিন আসবে। সেই অভ্যুদয় আমি হয়তো দেখে যেতে পারব না, কিন্তু যারা থাকবে তারা দেখবে; এমন আশা বুকের মধ্যে ধারণ করি।

সাম্প্রতি বাংলাদেশে বেশ কিছু আলোচিত ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন বুদ্ধিজীবীরা, তা সত্ত্বেও নজর নিয়েছেন বলে মনে হয় না রাষ্ট্রপক্ষ, বিষয়গুলো নজরে না নেওয়ার কারণ কী?

: কারণ হলো এই যে আমাদের রাষ্ট্র জনগণের স্বার্থ দেখে না; স্বার্থ দেখে কতিপয়ের। এ রাষ্ট্র জনমতের তোয়াক্কা করে না। জবাবদিহিতার দায়ভার গ্রহণ করে না। যে অন্যায়গুলো ঘটছে সেগুলো জনগণের জন্য বড় রকমের সমস্যা, কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য নয়। রাষ্ট্র এগুলোকে তার নিজের জন্য কোনো হুমকি বলে মনে করে না। দেখা যায় অপরাধীদের শাস্তি হয় না, যে জন্য অপরাধের মাত্রা বাড়তেই থাকে। অনুসন্ধান করলে জানা যাবে, অনেক অপরাধ সরকারি লোকদের হয় আশ্রয়ে নয় তো প্রশ্রয়ে ঘটে। সরকারি বলতে রাজনীতিক ও বিভিন্ন ধরনের আমলাতন্ত্রের সদস্য উভয়কেই বুঝতে হবে। শাসক শ্রেণি জনগণের সম্মতি নিয়ে দেশ শাসন করে না। কখনো কখনো তারা জোর-জবরদস্তির ভেতর দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে নেয়। যখন ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে তখনো জনগণের স্বার্থ দেখবে এমন লোকেরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয় না; ভোটে জেতে তারাই যাদের টাকা আছে। টাকাওয়ালারা নির্বাচনে টাকা খরচ করে, জেতে এবং জিতে আরও বেশি ধনী হয়। তা ছাড়া এমন ঘটনাও তো ঘটে যে ভোটার আসে না, ভোট দেয় না, তবু কথিত জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে যান, এবং দেশ শাসন করেন। বুদ্ধিজীবীরা কথা বলেন ঠিকই, বলতে হয়, নইলে তারা বুদ্ধিজীবী কেন; কিন্তু তাদের অধিকাংশই কথা বলেন লাইন ধরে। একদল থাকেন সরকারের পক্ষে, কথা বলেন ইনিয়ে-বিনিয়ে, সরকারের মুখ চেয়ে। এরা হয়তো ইতোমধ্যেই সুবিধা পেয়েছেন, নয়তো পাবেন বলে আশা করছেন। সরকারের বিরুদ্ধে যারা বলেন তারাও আশাবাদী; আশা রাখেন যে এখন পাচ্ছেন না ঠিকই, কিন্তু আগামীতে সুদিন আসবে এবং তখন সুবিধা পাবেন। তবে তাদের কথায় তেমন জোর থাকে না। প্রথমত গণমাধ্যম তাদের তেমন একটা পাত্তা দেয় না, কেননা গণমাধ্যমের মালিকরা সরকারের বিরুদ্ধে যেতে চায় না, ভয় পায়। দ্বিতীয়ত সরকার নিজের বিরুদ্ধ মত পছন্দ করে না।

দুই দলের কোনো দলই জনজীবনের গভীরে যেসব সমস্যা রয়েছে, যেগুলো রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত সেগুলোর দিকে যেতে চান না। দৃশ্যমান সমস্যাগুলো যে গভীর এক অসুখেরই প্রকাশ, এবং সে অসুখের নাম যে বিদ্যমান পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও আদর্শের দৌরাত্ম্য সেটা তারা মানতে চান না। মানলে তাদের খুবই অসুবিধা। তারা চান ব্যবস্থাটাকে যেমন আছে তেমনি রেখে দিয়ে নিজেদের যা প্রাপ্য সেটা বুঝে নিতে। সুবিধা ভাগাভাগির লড়াইটাকে তারা মতাদর্শিক লড়াইয়ের আবরণ দিতে চান; দেনও।

তা ছাড়া এটাও তো মানতে হবে যে, গভীর ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার চর্চা আমাদের দেশে উৎসাহ পায় না। এখানে মতাদর্শিক বিতর্ক নেই। উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ নেই। জাতীয় সংসদ আত্মসন্তুষ্ট দম্ভোক্তি, চাটুকারিতা ও অনুপস্থিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে সর্বক্ষণ মুখরিত থাকে। গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও ছবি যত পাওয়া যায় চিন্তাসমৃদ্ধ রচনা তার শতভাগের এক ভাগও পাওয়া যায় না। জ্ঞান-বিজ্ঞানের কদর নেই। শিক্ষা ক্ষেত্রে তথাকথিত বিস্ফোরণ চিন্তার মানের ও জ্ঞান প্রকাশের ভাষাগত দক্ষতার বৃদ্ধি ঘটিয়েছে এমনটা বলা যাচ্ছে না, বরং উল্টোটাই ঘটেছে বলে সন্দেহ।

দলীয় আনুগত্যের বাইরে যে বুদ্ধিজীবীরা রয়েছেন, যারা মনে করেন রাষ্ট্র ও সমাজকে গণতান্ত্রিক করতে না পারলে মানুষের মুক্তি আসবে না তাদের সংখ্যা অল্প। যারা আছেন তারাও সুসংগঠিত নন, পরস্পর বিচ্ছিন্ন এবং তাদের বক্তব্য প্রচার পায় না।

রাষ্ট্রের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে যোগাযোগ থাকার কথা, তা কি লক্ষ করা যায়?

: রাষ্ট্রের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ অবশ্যই আছে। থাকতেই হবে। রাষ্ট্রের যা কিছু ক্ষমতা, আয় উপার্জন সে তো সাধারণ মানুষের কারণেই। তবে সম্পর্কটা একপাক্ষিক, দ্বিপাক্ষিক নয়। রাষ্ট্র হুকুম দেয়, জনগণ শোনে। জনগণ যা বলতে চায় রাষ্ট্র তা শোনে না। রাষ্ট্র শাসন করে, জনগণ শাসিত হয়। রাষ্ট্র তার সিদ্ধান্তগুলো বিনা বিচারে ও নির্দ্বিধায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়; জনগণের কিছু বলার থাকে না, তারা শুধু দেখে এবং সহ্য করে।

রাষ্ট্রের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ তাই মোটেই দ্বিপাক্ষিক নয়, একপাক্ষিক বটে। দু’পক্ষের যোগাযোগের একটি কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম পারে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ-বিক্ষোভকে তুলে ধরতে; পারে কিছু পরিমাণে হলেও রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার জায়গাতে নিয়ে আসতে। কেবল যে পারে তা নয়, পারাটা উচিতও বটে।

রাষ্ট্রের ধর্ম দুর্বলকে রক্ষা আর দুর্জনকে প্রতিরোধ; বর্তমানে তা কতটুকু হচ্ছে ?

: দুর্বলকে রক্ষা করা এবং দুর্জনকে দমন করা একটি আদর্শের কথা। এমন আদর্শ রাষ্ট্র পাওয়া কঠিন, এখন তো পাওয়া যাচ্ছেই না। আমাদের রাষ্ট্রে দুর্বলরা রয়েছে দুর্জনদের কর্তৃত্বাধীন। রাষ্ট্র ধনীদের ইচ্ছায় চলে। ধনীরা উৎপাদনের সূত্রে ধনী হয়নি। উৎপাদন যা করার করে মেহনতি মানুষ। ধনীদের অধিকাংশই ধনী হয়েছে প্রতারণা ও লুণ্ঠনের মধ্য দিয়ে। এরা দুর্বল নয়, এরা দুর্জন। এ দুর্জনদের কারণেই দুর্বলরা দুর্বল থাকে, এবং অসহায় বোধ করে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো সহজ উপায় নেই। উত্তরণের জন্য আমরা দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছি, কিন্তু সফল হইনি। সফল না হওয়ার কারণ আমাদের দেশে কোনো সামাজিক বিপ্লব ঘটেনি। ওপর-কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে, উন্নতিও হয়েছে, কিন্তু সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেনি। শাসক শাসিতের সম্পর্কটা রাজা ও প্রজার যে-সম্পর্ক সে-রকমেরই রয়ে গেছে। রাষ্ট্রের নাম বদলেছে, আয়তনে পরিবর্তন ঘটেছে, পুারোনো শাসকদের জায়গায় নতুন শাসকেরা এসেছে, কিন্তু শাসক-শাসিতের সম্পর্কে মৌলিক রদবদল ঘটেনি। ধনীরা গরিবদের জ্বালাতন করে। এ ঘটনা আগেও ছিল, এখনো আছে। ধন বৈষম্য আগের তুলনায় কমে তো নয়ই, বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন না-আসার কারণ সমাজে বিপ্লব না-ঘটা।

জাতীয়তাবাদ নিয়ে লিখছেন দীর্ঘদিন, বিষয়টা পাঠকের কাছে কতটা পরিষ্কার করতে পেরেছেন বলে আপনি মনে করেন?

: জাতীয়তাবাদ হচ্ছে একটি ধারণা ও এক ধরনের অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই ধারণা গড়ে ওঠে এবং পরিষ্কার হয়। শুধু লেখার কারণেই যে মানুষের কাছে জিনিসটা পরিষ্কার হবে তা নয়। অভিজ্ঞতাই শেখাবে জাতীয়তাবাদের তাৎপর্য কী ও কতটা। জাতীয়তাবাদ আসলেই খুব জরুরি ব্যাপার। এর ইতিবাচক গুণ আছে, রয়েছে নেতিবাচক দুর্বলতাও। ইতিবাচক দিক হলো এই যে জাতীয়তাবাদ ঐক্যের সৃষ্টি করে, এবং সে-ঐক্যের ভিত্তিতে থাকে দেশপ্রেম। দেশপ্রেম সমষ্টিগত উন্নতির জন্য অত্যাবশ্যক। দেশপ্রেম মানুষকে সংবেদনশীল এবং সচেতন করে। দুটিই খুব বড় গুণ। তদুপরি দেশপ্রেম বিচ্ছিন্নতা কমায়।

জাতীয়তাবাদের শত্রু বাইরে থাকে, ভেতরেও থাকে। বাইরের শত্রু আক্রমণ করে, আগ্রাসন চালায়, দখল করে নিতে চায়। এ যুগে বিশ্ব পুঁজিবাদ ওই কাজটাই করছে। পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের জন্ম দিয়েছে। এ পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদ মানুষের ভয়ংকর শত্রু। কিন্তু জাতীয়তাবাদের শত্রু আবার জাতীয়তাবাদের ভেতরেই রয়ে গেছে। জাতীয়তাবাদ উগ্রতা, অন্ধত্ব, অহমিকা ইত্যাদি তৈরি করে। এর অন্তরে রয়েছে একনায়কতন্ত্রী প্রবণতা। জাতীয়তাবাদ নেতা খোঁজে, এবং ব্যক্তিকে একক নেতা করে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিকাশে সহায়তা দেয়। এসব জাতীয়তাবাদের দুর্বলতা। তবে জাতীয়তাবাদের অভ্যন্তরীণ মূল শত্রুটা হচ্ছে বৈষম্য। জাতির অভ্যন্তরে শ্রেণিবৈষম্য থাকে। ওই বৈষম্য ঐক্য গড়ার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। ধনীরা কর্তা হয়ে বসে এবং গরিবকে দমন করে। আমরা সবাই একই জাতির সদস্য, পরস্পরের আত্মীয়, জাতীয়তাবাদীরা এ বোধটা সঞ্চারিত করে শ্রেণি দ্বন্দ্বের সত্যটাকে আড়ালে রাখতে চায়। শাসকশ্রেণি জাতির নামে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, শ্রেণিশোষণকে ভুলিয়ে দেয়। শ্রেণিবৈষম্য আবার পুঁজিবাদেরই অবদান। ব্যাপারটা দাঁড়ায় এ রকমের যে পুঁজিবাদ বাইরে থেকে তো বটেই ভেতর থেকেও শত্রুতা করছে। বাইরে সে আগ্রাসী, ভেতরে সে অন্তর্ঘাতী।

জাতীয়তাবাদের বিষয়টিকে আমি জনগণের মুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছি। অর্থাৎ জাতীয়তাবাদের ওপর সাম্রাজ্যবাদীদের আক্রমণ এবং শ্রেণিবিভাজনের দরুন জাতীয়তাবাদের ভেতরে কার্যকর দুর্বলতা, দুটিই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে। দেখাতে চেয়েছি যে বাইরে যেমন ভেতরেও তেমনি, শত্রু হচ্ছে পুঁজিবাদ, এবং তাকে পরাভূত করতে না-পারলে মানুষের মুক্তি নেই। জাতীয়তাবাদী সংগ্রামকে তাই নিয়ে যেতে হবে সমাজতান্ত্রিক লক্ষের দিকে, বক্তব্যটা এ রকমের।

বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দল দুটি স্বঘোষিত রূপেই জাতীয়তাবাদী। কিন্তু দুটির কোনোটিই পুঁজিবাদবিরোধী নয়। জাতি বলতে তারা নিজেদেরই মনে করে। এদের জাতীয়তাবাদ জনগণের মুক্তির জন্য কাজ করে না। এদের জাতীয়তাবাদ ধনিক শ্রেণির, এবং সর্বদাই সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আপসকামী। জাতীয়তাবাদী শাসকরা নিজেদের শ্রেণির বান্ধব, জনগণের বান্ধব নন। জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি হচ্ছে ভাষা। ব্রিটিশের শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইটা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল ভাষাকে সরিয়ে দিয়ে ধর্মকে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসাবে স্থাপন করার দরুন। লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, আমাদের দেশের ধনিক শ্রেণির জীবনে মাতৃভাষার চর্চা কমে এসেছে। এটাও প্রমাণ করে যে এরা দেশপ্রেমিক অবস্থানে নেই।

আমরা জাতি রাষ্ট্রের কথা শুনি। এ যুগে এক রাষ্ট্রে এক জাতি বসবাস করবে এটা সম্ভব নয়। এক রাষ্ট্রে একাধিক জাতি থাকে, এবং থাকবে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই বাঙালি, কিন্তু তাই বলে এখানে অবাঙালি জাতিসত্তা যে নেই তা নয়। অবশ্যই আছে, এবং তাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করাটা হবে ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া। আসলে আমরা যা চাই তা জাতি রাষ্ট্র নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে বাঙালি থাকবে অবাঙালিও থাকবে, কিন্তু প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই থাকবে অধিকার ও সুযোগের সাম্য।

রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সমস্যা থেকে উত্তোরণ এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেটি আমাদের মাঝে বিন্দুমাত্র নেই বলেই চলে। কেন?

: দেশপ্রেম একেবারেই নেই এটা সত্য নয়। আছে; তবে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে নেই। ধনীদের ক্ষেত্রে দেশপ্রেম কমছে। দু’কারণে। ধনীরা নিজেদের দেশের গরিব মানুষদের সমপর্যায়ের মনে করে না। ভাবে তারা স্বতন্ত্র, কারণ তারা ধনী। তারা যে স্বতন্ত্র এটা প্রমাণ করার জন্য দেশের ভেতরেই তারা বিদেশিদের মতো আচরণ করে। তাদের জীবনাচার, ভোগ-বিলাসিতা, সর্বোপরি মাতৃভাষার প্রতি অনীহা, অনেক ক্ষেত্রে অবজ্ঞা, প্রমাণ করে যে তারা দেশপ্রেমিক নয়। এরা ধরেই নেয় যে এ দেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তাই সম্পদ, সম্পত্তি, সন্তান-সন্ততি সবকিছু এরা বিদেশে পাচার করে, বিদেশে ঘরবাড়িও তৈরি করে রাখে। তবে ধনীদের মধ্যেও এক ধরনের দেশপ্রেম জেগে ওঠে যখন তারা বিদেশিদের দ্বারা অপমানিত হয়। তখন তারা মানসিকভাবে দাঁড়ানোর জায়গা খোঁজে, কিন্তু পায় না।

ধনীরা পুঁজিবাদী। পুঁজিবাদ একটি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ও কর্তৃত্বকারী বাস্তবতা। পুঁজিবাদ মানুষকে উৎপাটিত করে, নিরাশ্রয় করে ছাড়ে। গরিব মানুষের জন্য কিন্তু বড় বিশ্ব বলে কিছু নেই; তাদের জন্য নিজের গ্রাম, শহর, দেশ এগুলোই হলো বিশ্ব। মাতৃভাষাই তাদের একমাত্র ভাষা। অন্য কোনো দেশ নেই, অন্য কোনো ভাষাও নেই। এরা যখন বিদেশে যায় তখনো দেশপ্রেমিকই থাকে। দেশের জন্য তাদের মন কাঁদে, খেয়ে না-খেয়ে টাকা পাঠায়, যে-টাকার অনেকটাই ধনীদের তৎপরতার দরুন বিদেশে ফেরত চলে যায়।

গরিব মানুষের শ্রমের ওপরই দেশ টিকে আছে, নইলে ভেঙে পড়ত। ধনীরা দেশের ক্ষতি করে; তারা তাদের দেশপ্রেমের নিম্নগামিতাকে অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত করে দেয়। তাদের অত্যাচার অনাচারে দেশের সুনাম ভূলুণ্ঠিত হয়।

আপনার জীবনকাল অনেক ঘটনার সাক্ষী যেমন-দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা, এ নিয়ে কিছু বলুন-

: দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ, এসব বড় বড় ঘটনা দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। আমার বয়সি সবাইকেই এ অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দেশভাগ ছিল আমাদের দেশের জন্য মস্ত বড় এক দুর্ঘটনা। ১৭৫৭-তে পলাশীতে যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, এটি অবশ্যই সে-মাপের নয়, তবে কাছাকাছি বটে। ১৭৫৭-তে যে ঔপনিবেশিক শাসনের শুরু, ১৯৪৭-এ তার অবসান ঘটার কথা। কিন্তু ঘটেনি। নব্য-ঔপনিবেশিকতা রয়ে গেছে, এবং দেশভাগের ফলে যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ক্ষতি ঘটেছে সেটা অপূরণীয়। ১৯৫২-তে নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গের মানুষের অভ্যুত্থান ঘটেছিল। ওই অভ্যুত্থান একদিকে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে, অন্যদিকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করে দিয়েছে। ওই পথে এগিয়ে আমরা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছি, এবং একাত্তরের যুদ্ধে সামিল হয়েছি। ওটি ছিল জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের একটি চূড়ান্ত পর্যায়। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল পুরাতন পুঁজিবাদী ও আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রটিকে ভেঙে ফেলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করা, যে আকাঙ্ক্ষা স্বীকৃতি পেয়েছিল রাষ্ট্রের সংবিধানে। কিন্তু রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী শাসক শ্রেণি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে আন্তরিক ছিল না। এর নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে একেবারে ধুয়ে মুছে ফেলাতে। শাসকশ্রেণির একাংশ ওই নীতিগুলোকে বাদ দিয়েছে, অপর অংশগুলো যে তাদের ফেরত আনতে আগ্রহী এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ১৯৪৭-এর দেশভাগ মুসলিম মধ্যবিত্তের জন্য সুযোগ করে দিয়েছিল বৈষয়িক উন্নতির। ১৯৭১-এ তাদের সে-সুযোগ আরও প্রসারিত হয়েছে। উন্নতি ঘটেছে পুরাতন পুঁজিবাদী পন্থাতেই।

দেশভাগকে বাঙালির ঐতিহাসিক ভুল বলে আপনি মনে করেন?

: অবশ্যই। এ ছিল মস্ত বড় ভুল এবং বিপর্যয়। যেটা উচিত ছিল তা হলো ঔপনিবেশিক শাসকদের যথার্থ বিভাজন। প্রয়োজন ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে ভাষার ভিত্তিতে গড়ে-ওঠা জাতিগুলোর প্রত্যেকটির জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে একটি রাষ্ট্রসংঘ গঠন করা।

এ উপমহাদেশ কখনোই এক জাতির দেশ ছিল না, দেশভাগের সময় এখানে কমপক্ষে ১৭টি জাতি ছিল, তাদের প্রত্যেকের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা আবশ্যক ছিল। রাষ্ট্রগুলো জাতি-রাষ্ট্র হতো না, এক রাষ্ট্রে অন্য জাতির মানুষও থাকত, কিন্তু রাষ্ট্রের ভিত্তি হতো জাতীয়তাবাদী। ধর্মভিত্তিক নয়, ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী। জাতি প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে গেলে শ্রেণি প্রশ্নের মীমাংসা করাটা সহজ হতো।

কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসকরা সেটা চায়নি। তারা কৃত্রিমভাবে দেশভাগ করে নিজেদের অনুগত লোকজনের হাতে শাসন ক্ষমতা তুলে দিয়ে চলে গেছে। দেশি শাসকেরা পুঁজিবাদী, এবং ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রতি অনুগত। ফলে দেখা গেছে যে ইংরেজ সরে গেছে বটে, কিন্তু না ভেঙেছে তাদের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা না তাদের হাতে-গড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা।

সমাজ দর্শনের জায়গা থেকে যদি বলেন আমাদের বর্তমান সমাজ কোন দিকে এগিয়ে চলছে?

: বর্তমানে অগ্রগামিতা মোটেই ভালোর দিকে নয়; খারাপ দিকে বটে। উন্নতি যা ঘটছে তা বৈষয়িক ও বাহ্যিক; অন্তরালে বাড়ছে বৈষম্য। যত উন্নতি তত বৈষম্য বৃদ্ধি, এটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়মবিধি। এমন সুবিস্তৃত বৈষম্য আগে কখনো দেখা যায়নি। অর্থনৈতিক বৈষম্য দারিদ্র্য এবং ক্ষোভ দুটিকেই বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধনীরাই আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দেশপ্রেমহীনতা ও ভোগবাদিতা বঞ্চিত মানুষদের মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে।

জীবনের এ পর্যায়ে এসেও লিখে চলছেন অবিরত, কথা বলেন সাহসী কণ্ঠে, কোথায় খুঁজে পান এত প্রাণরস?

: আমার ক্ষেত্রে লেখাই বেশি ঘটেছে, বলা কম। অবশ্য লেখার ভেতরেও বক্তব্য থাকে। লিখি কিছুটা অভ্যাসবশত, অনেকটা এর চেয়ে ভালো কোনো কাজ করার মতো নেই বলে। তবে সূত্রাকারে বলতে গেলে বলতে হয় বাইরের অবস্থা এবং ভেতরের সংবেদনশীলতাই দায়ী লেখা, পত্রিকা সম্পাদনা, সংগঠন গড়ে তোলা ইত্যাদি কাজে আমার যুক্ত থাকার জন্য।

টিকা নিবন্ধনে ত্রুটি: শিক্ষার্থীদের এখন যা করতে হবে

শিক্ষার্থীদের টিকাদান শেষে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) জমা দেওয়া হয়। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

তবে অনেক শিক্ষার্থী টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন না। তারা বলছেন, টিকার জন্য সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে গিয়ে নানা সমস‌্যায় পড়তে হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দুঃখিত আপনি টিকার জন্য নির্বাচিত নন।

এসব সমস্যার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, টিকা সংক্রান্ত সুরক্ষা ডটকমে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। এর আগে গত ৩১ মে পর্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। যেসব আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঠিক এনআইডি নম্বরসহ তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে তারাই সঠিকভাবে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নিতে পারছেন। কিন্তু যেসব আবাসিক শিক্ষার্থীর তালিকা সঠিক এনআইডি নম্বরসহ পাঠানো হয়নি তারা এখন রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না।

তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এক্ষেত্রে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের বিষয়ে সরকার থেকে নির্দেশনা পেলে কমিশন থেকে যথাসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে তা অবহিত করা হবে।

চিঠিতে ইউজিসি বলছে, করোনা টিকা গ্রহণের লক্ষ্যে সঠিক এনআইডি নম্বরসহ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর (৪০ বছরের নীচে) তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়। কিন্তু কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবাসিক এবং অনাবাসিক সব শিক্ষার্থীর তথ্য সেখানে পাঠানো হয়। এখন শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীরা সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। অন্যরা আপাতত পারবেন না।

বিভিন্ন অসুবিধার কারণে কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী যাদের এনআইডি নম্বরসহ তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি। তাদের তথ্য না থাকায় অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও একই সঙ্গে নিবন্ধন করার চেষ্টা করছেন এবং নিবন্ধন করতে না পারার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে সেগুলো হলো

১। সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা যেন তার তথ্য সহজে নিশ্চিত হতে পারেন সে জন্য আবাসিক শিক্ষার্থীর (সঠিক এনআইডি নম্বরসহ) তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিরেক্টর, এমআইএস, ডিজিএইচএসে পাঠানো হয়েছে। তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

২। যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীর তালিকা (সঠিক এনআইডি নম্বরসহ) ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে পাঠানো সম্ভব হয়নি তাদের তথ্য সংগ্রহ করে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এর দপ্তরে সংরক্ষণ করতে হবে। উল্লিখিত পত্রের নির্দেশনা ও ছক অনুযায়ী একত্রে করে (খণ্ড খণ্ড করে নয়) পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ই-মেইলে পাঠাতে হবে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের বিষয়ে সরকার থেকে নির্দেশনা পেলে কমিশন থেকে যথাসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে তা অবহিত করা হবে।

৩। সব শিক্ষার্থী দিতে নিবন্ধন করানো নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। কাজেই রেজিস্ট্রার অথবা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেউ তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে সমস্যা (যদি থাকে) সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আলিম পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট

করোনায় দেড় বছর ধরে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তবে এ পরিস্থিতিতেও ২০২২ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম চলছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) ২০২২ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২২ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এসব অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান, পৌরনীতি, অর্থনীতি ও যুক্তিবিদ্যা ও আরবি বিষয়গুলোর অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে।

এসব বিষয়ের মূল্যায়ন রুবিক্সসহ ও সপ্তাহভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট গ্রিডের সফটকপি ও হার্ডকপি তৈরি করা হয়েছে। এ অনুযায়ী অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সব মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ২০২২ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছুদিন আগে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ১৮০ দিন ক্লাস করিয়ে শিক্ষার্থীদের আলিম পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বুকজ্বালা এড়ানোর চার উপায়

আমাদের অনেকেরই মাঝেমধ্যে বুকজ্বালা হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত খাবার খেলে, চর্বি/মসলাদার খাবার খেলে, খাবার খাওয়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন আসলে ও কিছু ওষুধ সেবন করলে। এটাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়।

কিন্তু প্রতিসপ্তাহে দুইবার বা এর অধিক বুকজ্বালা করলে ধরে নিতে পারেন যে গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি/জার্ড) রয়েছে। জার্ড হলো এমন একটা অবস্থা যেখানে খাদ্যনালীর নিচের মাংসপেশি এত বেশি শিথিল হয় যে পাকস্থলি থেকে পরিপাক অম্ল উপরের দিকে ওঠে আসে, যার ফলে বুক জ্বলে। সময়ের আবর্তনে খাদ্যনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আলসার, স্কার টিস্যু (ধ্বংসপ্রাপ্ত টিস্যুর প্রতিস্থাপনে যে আবরণ সৃষ্টি হয়) ও ব্যারেট’স ইসোফ্যাগাসের মতো ক্যানসার-পূর্ব দশা হয়। এখানে বুকজ্বালা প্রতিরোধে কিছু কার্যকর উপায় সম্পর্কে বলা হলো।

উদ্দীপক খাবার কমিয়ে ফেলুন: যেসব খাবার খেলে বুকজ্বালা উদ্দীপ্ত হয় তা খাদ্যতালিকা থেকে কমানোর চেষ্টা করুন। বুকজ্বালার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু খাবার হচ্ছে- অম্লযুক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার, মসলাদার খাবার, বুদবুদ ওঠে এমন পানীয়, অ্যালকোহল ও চকলেট। এছাড়া অন্যান্য খাবারও প্রভাবিত করতে পারে। থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটি হসপিটালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট অস্টিন চিয়াং বলেন, ‘খাবার সংবেদনশীলতা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ভিন্ন হতে পারে।’ বুকে জ্বালাপোড়া অনুভব করলে উদ্দীপক খাবার শনাক্ত করতে কি কি খেয়েছেন তা লিখে ফেলুন। এবার প্রত্যেকটা খাবার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করলে নিজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার বুকজ্বালার জন্য কোনটা উদ্দীপক খাবার।

অল্প খাবার খান: পেটপুরে খাবার খেলে পাকস্থলির অম্ল খাদ্যনালীতে ওঠে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই খেতে বসলে অতিরিক্ত খাওয়ার লোভ সংবরণ করতে হবে। এছাড়া ধীরে ধীরে খেতে হবে, খাবারকে ভালোভাবে চাবাতে হবে ও পাকস্থলিকে খাবার হজমের জন্য সময় দিতে হবে। এই অভ্যাস ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজনে জার্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

খাবার খেয়েই ঘুম নয়: অনেকেই খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাওয়া মাত্রই ঘুমিয়ে পড়তেন তাদের মধ্যে বুকজ্বালার প্রবণতা বেশি ছিল। খাওয়ার পরপরই শুয়ে থাকলে পাকস্থলির অম্ল সহজেই খাদ্যনালীতে চলে আসতে পারে। তাই বিছানায় যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে নিন।

বিশ্রাম নিন ও শিথিল থাকুন: মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা এমনকিছু হরমোন নিঃসরণে উদ্দীপনা যোগায় যা খাদ্যনালীকে জার্ডের উপসর্গের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে। শিথিলায়নের যে পদ্ধতি ভালো লাগে তা চর্চা করুন ও পর্যাপ্ত ঘুমান।গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ঘাটতি জার্ডের উপসর্গকে তীব্র করতে পারে।

 

আমের আঁটির এতো গুণ!

খন বাজারে নানা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। সুস্বাদু এই ফল পছন্দ করে না এমন মানুষ বিরলই বলা চলে। প্রশ্ন হলো- আম তো সুখাদ্য, কিন্তু এর আঁটি কি খাওয়া যায়? ছোটবেলায় এই প্রশ্নের তেমন যুতসই উত্তর পাওয়া যেতো না। তবে এখন গবেষকরা বলছেন- হ্যাঁ, পাকা আমের বীজ বা আঁটি শক্ত হয় বলে তা খাওয়া না গেলেও কাঁচা আমের বীজ কিন্তু খাওয়া যায়। আমের বীজ গুঁড়ো করে, মন্ড করে খাওয়া যায়। আমের বীজ যেসব কাজে আসে-

খাবারের স্বাদ বাড়াতে: এক গবেষণায় দেখা গেছে তরকারিতে আমের বীজ ব্যবহার করলে স্বতন্ত্র এক স্বাদ পাওয়া যায়। মেক্সিকোতে ঐতিহ্যবাহী মোল সস তৈরিতে আমের বীজ ব্যবহার করা হয়।

শিশুর দাঁতের মাড়ি মজবুত করতে: বিশ্বের অনেক দেশেই শিশুদের দাঁতের মাড়ি মজবুত করতে তাদেরকে আমের বীজ খাওয়ানো হয়। এক্ষেত্রে মায়েরা খাওয়ার পর আমের আঁটি বা বীজটা শিশুর মুখে দেন। এটি চাবানোর পর মাড়ির ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। পাকা আমের আঁটিতে থাকা সুস্বাদু অংশ মুখে নেয়ার মাধ্যমে শিশু তার মাড়ির ব্যথা অনেকটাই ভুলে যায়।

ডালের সঙ্গে: ভারতের উত্তরাঞ্চলে ডালের সঙ্গে কাঁচা আম মিশিয়ে রান্না করা হয়। এতে ডালের ভিন্ন এক স্বাদ পাওয়া যায়। আর এই ডাল বেশ স্বাস্থ্যকর, এটি সান স্ট্রোক থেকেও রক্ষা করে। আমাদের দেশেও অনেক এলাকার মানুষ ডালের সঙ্গে কাঁচা আম ও তার আঁটি যুক্ত করে রান্না করে খেতে পছন্দ করেন।

আমের বীজের উপকারিতা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন আমের বীজের মন্ড তৈরি করে তা মাথায় মাখলে খুশকি দূর হয় ও চুল পাকা বন্ধ হয়। আমের বীজ শুকিয়ে গুঁড়ো করে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ডায়রিয়া দূর হয়। বিশেজ্ঞরা আরো বলেছেন নিয়মিত অল্প পরিমাণে আমের বীজের গুঁড়ো খেলে হৃদরোগ ও হাইপারটেনশনের ঝুঁকি কমে।

করোনা ক্ষমতাসীনদের জন্য আশীর্বাদ: ফখরুল

করোনাভাইরাস ক্ষমতাসীনদের জন্য আশীর্বাদ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতি আর হতদরিদ্রের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী চুরির কাহিনি এসব দেখে মনে হয় করোনা সরকারদলীয় লোকজনের জন্য যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অবস্থানপত্রে ধরা পড়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রদেয় ৫০ লাখের তালিকায় ১৪ লাখ ৩৩ হাজার লোকের নামই ভুয়া উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের পত্রিকায় একটা খবর আছে যে, ঝিনাইদহে দুজন কোটিপতিকে আপনার এই ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। একজনের নাম খোকন সরকার আরেক নাম হচ্ছে রাজু দাস। তারা কোটিপতি। একজনের জুয়েলারি আছে, আরেকজনের কোম্পানি আছে।

মেগা প্রজেক্টের মেগা দুর্নীতি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মেগা প্রজেক্টে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে চরম অস্বচ্ছতা, অদক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় ও মহা দুর্নীতির মহারেকর্ড তৈরি হচ্ছে। এই ব্যাপারে ইতোপূর্বে অনেকবার বলা হয়েছে। ওসব প্রকল্পের অর্থ বর্তমানে মানুষের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দিতে পারে সরকার। কিন্তু তা তারা করছে না।

টিকা প্রদানকে গুরুত্ব দিতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সারা পৃথিবীতে আজকে প্রমাণিত হয়েছে- যেসব দেশ ৭০/৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে তারাই কিন্তু করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। এর কোনো বিকল্প নাই।

জাতীয় করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক স্থায়ী কমিটি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক বলেন, গত বছর দুই কোটি মানুষের কাছে আমরা সাহায্য পৌঁছিয়ে দিতে পেরেছিলাম। এবার এই দ্বিতীয় টেউয়ের আমরা আগের মতোই ব্যবস্থা নিয়েছি। এবার প্রতিটি জেলায় আমাদের দলের অফিসে হেলথ সেন্টার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ-স্বাস্থ্য সামগ্রী থাকবে। অলিরেডি এই কাজ বেশ কয়েকটি জেলায় শুরু হয়ে গেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি জেলার অফিসে এই হেলথ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

এরিক কার সন্তান আদালতে প্রমাণ হবে

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রেখে যাওয়া ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মো. মামুনুর রশিদ বলেছেন, এরিক সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সন্তান। সূর্যের মতো সত্য বিষয় এটা। তারপরও তার জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর, ঘৃণিত ও অসভ্য।

তিনি বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালনের আগমুহূর্তে এরিককে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে তাতে জিএম কাদের জড়িত। আমরা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আদালতে যাবো, সেখানেই প্রমাণ হবে এরিক কার সন্তান।’

আরও পড়ুন: ‘আমার ও মায়ের কিছু হলে চাচা জিএম কাদের দায়ী’

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বারিধারায় এরশাদের প্রেসিডেন্টপার্কের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এরশাদের ছোট ছেলে শাহাতা জারাব এরিক উপস্থিত ছিলেন।

এরিক এরশাদের নয়নমনি ছিলেন জানিয়ে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার জীবদ্দশায় কখনও এরিকের জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেননি। তাহলে আজকে কেন এ ধরনের অবান্তর প্রশ্ন উঠছে। বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এরশাদ এরিককেই পরম মমতায় বুকে আগলে রেখেছেন। এরিকের ভবিষ্যত নিয়ে তার ছিল যত চিন্তা আর উদ্বেগ। এরিকের ভবিষ‌্যৎ জীবনের নিশ্চয়তার জন‌্য তিনি এই ট্রাস্ট করে গেছেন। এই ট্রাস্টের মাধ‌্যেই এরশাদ তার ছেলে এরিকের ভরণ পোষণ, ভবিষ‌্যৎ জীবন ধারণের সব ব‌্যবস্থা করেছেন।’

কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও এরশাদের আদরের সন্তান এরিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা নিউজ করিয়ে তাদের বিতর্কিত করা হচ্ছে। এ সবকিছুর সঙ্গে জিএম কাদের জড়িত। আর তাকে সহযোগিতা করছেন দল থেকে এরশাদ সাহেব যাকে বহিষ্কার করেছিলেন সেই গোলাম রেজা।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী অফিস থেকে টাইপ করে এরিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা নিউজ সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে। পত্রিকায় নিউজ করানো হচ্ছে। তাহলে বুঝে নেন কার ইশারায় এসব চলছে। এরশাদের সন্তান এরিকের বিরুদ্ধে দুদিন ধরে মিথ্যা নিউজ হলো, কই চাচা হিসেবে জিএম কাদের তো প্রতিবাদ করলেন না?’

‘আমরা এই মিথ্যা নিউজের বিরুদ্ধে আদালতে যাবো। যেহেতু এখন লকডা্উন চলছে। ভার্চুয়ালি সেটা করার সুযোগ নাই। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মামলা করবো। সত্যতা থাকলে সেখানেই সবকিছু প্রমাণ হবে’—বলেন কাজী মামুজিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া চলছে, এ কারণে এরশাদ ও এরশাদের সন্তান এরিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা নিউজ করিয়ে জিএম কাদের দলের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ করে জাপার প্রাক্তন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুন বলেন, ‘জিএম কাদের জাতীয় পার্টির অবৈধ চেয়ারম্যান। তার চেয়ারম্যানের বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বরং এরশাদের দল জাতীয় পার্টিকে জিএম কাদেরের রাহুমুক্ত করতে তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের পক্রিয়া চলছে। এরশাদ পরিবারের প্রধান বেগম রওশন এরশাদ, এরশাদের বড় ছেলে সাদ এরশাদ, এরিকের মা বিদিশা এরশাদসহ সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে-এ কারণে জিএম কাদের এসব মিথ্যা নিউজ করিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘গত দুদিনে মিথ্যা নিউজের বিরুদ্ধে দেশের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। লকডাউন না হলে তারা ঢাকায় এসে প্রতিবাদ করতেন। আগামী ১৪ জুলাই এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদের ঝড় দেখতে পাবেন আপনারা।’

মুঠোফোন নিবন্ধনে সিনেসিসের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বিটিআরসি

অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট বন্ধের পাশাপশি সকল ধরনের মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে দেশের প্রথম সারির আইসিটি প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি। এরই মধ্যে নেটওয়ার্কে সচল থাকা গ্রাহকদের সকল হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর এ নিবন্ধিত হয়েছে।

বিটিআরসি অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের আমদানি রোধ, চুরির মাত্রা কমানো, মোবাইল ভিত্তিক অপরাধ রোধের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রযুক্তির এনইআইআর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

গত ১ জুলাই থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে নতুন যেসব মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে, সেগুলো নেটওয়ার্কে সচল রেখেই এনইআইআর এর মাধ্যমে হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করা হবে। হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিবন্ধিত হয়ে যাবে।

এনইআইআর প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিটিআরসির সঙ্গে চুক্তি করে দেশীয় কোম্পানি সিনেসিস আইটি। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তারা ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সিস্টেম চালু করেছে।

এদিকে, প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মোবাইল হ্যান্ডসেটের চাহিদা রয়েছে। যার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্মার্টফোন অবৈধভাবে আমদানি করা হয়। এ কারণে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় সরকার। তাছাড়া এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে মোবাইল ফোন চুরির মাত্রা কমানোর পাশাপাশি মুঠোফোনের নানা ধরনের অপরাধ কমে আসবে।

সিনেসিস আইটির গ্রুপ সিইও রুপায়ন চৌধুরী জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমারা এনইআইআর এর কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি এবং নিজস্ব প্রযুক্তি ও দেশীয় দক্ষ প্রকৌশলীদের দ্বারা এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক বলে আমরা মনে করি। এনইআইআর দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সিনেসিস আইটির তথ্যপ্রযুক্তি ও অবকাঠামো বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবং বিভাগীয় প্রধান আমিনুল বারী শুভ্র বলেন, বিটিআরসির আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা নির্ধারিত সময়ে সফলভাবে এনইআইআর এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি। এ প্রকল্প বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক। এই সক্ষমতা প্রমাণ করে যে, আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে গিয়েছি।