Home জাতীয় সুন্দরবনের কলমতেজী বনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কাটা ও পানি ছেঁটানোর কাজ...

সুন্দরবনের কলমতেজী বনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কাটা ও পানি ছেঁটানোর কাজ চলছে

0
7
সুন্দরবনে জ্বলছে আগুন।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কেটে পানি ছেঁটানোর পাশাপাশি দূরবর্তী জলাশয় থেকে পানি এনে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

আজ রবিবার (২৩ মার্চ) সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার বিপুলেশ্বর দাস। তিনি জানান, আগুন যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য আগুনের চারপাশে ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে এবং পানির উৎস না থাকায় দূর থেকে পানি এনে ফেলা হচ্ছে।

শনিবার সকালে প্রথম আগুনের সূত্রপাত

এর আগে, শনিবার (২২ মার্চ) সকালে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে শনিবার দুপুরে বিপুলেশ্বর দাস জানান, টেপারবিল নামক স্থানে বনে আগুন দেখা গেলে স্থানীয়রা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেন। আগুন যাতে বনের গভীরে না ছড়ায়, সে জন্য দ্রুত ফায়ার লাইন কাটা শুরু করা হয়।

তিনি আরও জানান,
“বনের খাল থেকে আগুনের স্থানের দূরত্ব প্রায় ২-২.৫ কিলোমিটার। ফলে আশেপাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় খালে জোয়ার আসার পর নৌপথে পানি পাম্প নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

স্থানীয়দের বিবৃতি ও বন বিভাগের প্রতিক্রিয়া

ধানসাগর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য পান্না মিয়া জানান,
“শনিবার সকালে টেপারবিল এলাকায় বনের মধ্যে আগুনের ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে জানানো হয়।”
এদিকে, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করীম জানান,
“আগুন লাগার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগুন যাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে।”

আগুনের ক্ষতি ও সম্ভাব্য কারণ

সুন্দরবনে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বনের শুকনো গাছের পাতা ও ঘাস থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বন সংলগ্ন এলাকায় মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ, মৎস্যজীবীদের অসাবধানতা, অবৈধ কাঠ সংগ্রহকারীদের কার্যক্রম, কিংবা সিগারেটের আগুন থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুনের কারণে বনের গাছপালা, প্রাণী, এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সুন্দরবনের মূল্যবান উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।”

পরবর্তী পদক্ষেপ

  • ফায়ার লাইন কাটা ও পানি ছেঁটানোর কার্যক্রম চলছে
  • খালে জোয়ার এলে নৌপথে পানির পাম্প নিয়ে গিয়ে পানি সরবরাহ করা হবে
  • আগুনের সঠিক কারণ নির্ধারণে বন বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে
  • স্থানীয় জনগণের সহায়তায় দ্রুত আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা চলছে

বন বিভাগের কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা আশাবাদী যে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুন্দরবনের এই আগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।


 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here