মঙ্গলবার ,২৮ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 8

ভারত আগে থেকেই জানত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছে: জয়শঙ্কর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শক কমিটিকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই সেখানে তার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছিল—এ বিষয়ে ভারত অবগত ছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বৈঠকে জয়শঙ্কর সংসদ সদস্যদের জানান, ভারত সে সময় বিশেষ কিছু করতে পারেনি, কারণ শেখ হাসিনার ওপর তাদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল না। তারা কেবল পরামর্শ দিতে পারত, তবে তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা তাদের ছিল না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণ

পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শক কমিটির এই বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান—এই দেশগুলোর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

জয়শঙ্কর জানান, ভারত একমাত্র দেশ নয়, আরও কয়েকটি প্রধান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়ে আগেই অবগত ছিল। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভল্কার তুর্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উদাহরণ টেনে আনেন। তুর্ক বলেছিলেন, শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা জাতিসংঘ আগে থেকেই দিয়েছিল।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগী হয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বর্তমানে চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সফরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে চীনের বিভিন্ন শহরের বিমান সংযোগ বৃদ্ধিসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জয়শঙ্কর বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গেও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন,

“চীন প্রতিপক্ষ নয়, তবে প্রতিযোগী।”

এ মন্তব্য ভারতের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব সম্পর্কে সচেতন এবং কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, চীনসহ অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থও বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে জয়শঙ্করের এই বক্তব্য স্পষ্ট করছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


 

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে একযোগে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ২ শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (২৩ মার্চ) যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই লেবাননে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এক বছর ধরে চলা শান্তিচুক্তি ভেঙে এটি প্রথমবারের মতো দেশটিতে আক্রমণের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্ত্রবিরতি কার্যকর থাকলেও এবার তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করল তেল আবিব।

হামলার কারণ কী?

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, শনিবার লেবানন থেকে ছয়টি রকেট ছোঁড়া হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলে প্রবেশ করে। এর প্রতিশোধ নিতেই হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। তবে হিজবুল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা এখনো যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। লেবানন থেকে চালানো রকেট হামলার দায়ও কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিনত্ জাবেলি ও তুলিনে তিনজন এবং বন্দরনগরী টায়ারে পাঁচজন নিহত হন। পাশাপাশি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকায়।

এদিকে, শুধু লেবানন নয়, ইসরায়েল গত সোমবার থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাতেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাঁচ দিনের এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৩৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই শতাধিক শিশু রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তবে সেই নিন্দাকে উপেক্ষা করেই এবার লেবাননে হামলা শুরু করল বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


 

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চমক সৃষ্টি, জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ৫২.৫৬%

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্ববাজারে ক্রমাগত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এবার ইউরোপের বাজারেও রপ্তানিতে বিশাল প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫২.৫৬%

গতকাল ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এবং বিজিএমইএ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইউরোপের বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে,

  • ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় দেশগুলো ৬,৮৫৪ মিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।
  • ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৫৭৬ মিলিয়ন ডলারে, যা ২৫% প্রবৃদ্ধি
  • এর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ১,২৯৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ১,৯৭৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ৫২.৫৬% বৃদ্ধি

চীন, ভারত ও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ

  • চীনের পোশাক রপ্তানি ৩৩.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • ভারতের রপ্তানি ৩৭%, ভিয়েতনামের ২৭%, পাকিস্তানের ২৫% এবং শ্রীলংকার ৪৩% বেড়েছে।
  • তবে তুরস্কের পোশাক রপ্তানি কমেছে দশমিক ০.৩%

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও প্রবৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে।

  • ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৬%
  • মার্কিন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (OTEXA)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে

বিজিএমইএর প্রতিক্রিয়া

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন,

“চলতি বছরজুড়ে কাজের অর্ডার বাড়ার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির গতি বজায় থাকবে। ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং বাড়াচ্ছে, যা প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সাহায্য করবে।”

তিনি আরও বলেন,

“বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির মুখে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রাখা জরুরি। বাজার বৈচিত্র্যকরণ এবং মূল্য সংযোজনের দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে।”

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে, মূল্যস্ফীতি, কাঁচামালের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

 

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জোহা চত্বরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে কী বলা হয়?

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী সজিব বলেন,
‘৫ আগস্টেই আওয়ামী লীগের কবর হয়ে গেছে। কবর থেকে যেমন কেউ ফেরে না, তেমনি আওয়ামী লীগও ফিরতে পারবে না। ছাত্র জনতার ম্যান্ডেটেই দেশ চলবে, ক্যান্টনমেন্ট থেকে নয়। যদি এমন চেষ্টা হয়, তবে ক্যান্টনমেন্টের পরিণতিও গণভবনের মতো হবে।’

বিক্ষোভে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সালাউদ্দিন আম্মারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছিলেন।

আরও কর্মসূচির ঘোষণা

শিক্ষার্থীরা আজ শুক্রবার (বাদ জুমা) আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

গাজায় আবারও ইসরায়েলের হামলা, ৪৮ ঘণ্টায় নিহত প্রায় ৯৭০

দখলদার ইসরায়েল আবারও গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৯৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত মোট ৪৯,৫৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

শিশু ও জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের মৃত্যু

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোররাতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা শুরু হওয়ার পর নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮৩ জন শিশু রয়েছে। যদিও এটি কেবলমাত্র হামলার প্রথম দিনের হিসাব।

এদিকে, ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রান্স ২৪’। এই ঘটনায় আরও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গাজায় জাতিসংঘের ভবনেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

গাজার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মহল কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সংস্কার নিয়ে কোনো চাপ নেই, বললেন আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই এবং কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের কাজ শেষ করবে।

সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা তাই করছি।”

তিনি আরও জানান,

  • বিএনপি আগামী দুই একদিনের মধ্যেই তাদের মতামত দেবে।
  • ঈদের পরে ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে আলোচনা হবে।
  • আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা শুরু হচ্ছে

সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একমত হওয়ার ইঙ্গিত

আলী রীয়াজ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কারের ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই। তারা সহযোগিতা করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের কাজ শেষ করব।”

কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে কমিশন কাজ করছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন,
“জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। সুতরাং চাপের কোনো প্রশ্ন আসে না।”

জামায়াতে ইসলামীসহ দলগুলোর মতামত গ্রহণ শুরু

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল সংস্কার প্রস্তাবের লিখিত কপি কমিশনের কাছে জমা দেয়। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নেতৃত্বে এই দলটি উপস্থিত ছিল। তাদের সঙ্গে ছিলেন—

  • সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ
  • কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ

আজ প্রথম দল হিসেবে এলডিপির সঙ্গে বৈঠক

বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের এলডি হলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে কমিশন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দলের সঙ্গেও আলোচনা হবে।

এলডিপির ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। তার সঙ্গে থাকবেন—

  • মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ
  • প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামূল বশির
  • ড. আওরঙ্গজেব বেলাল
  • অধ্যক্ষ কে কিউ সাকলায়েন
  • অধ্যাপক ওমর ফারুক

বিএনপি ও এনসিপির মতামতের অপেক্ষা

সংস্কার কমিশনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে আলী রীয়াজ জানান, ২২টি দল এখনো তাদের মতামত দেয়নি। বিএনপি আগামী সপ্তাহে এবং এনসিপি কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মতামত দেবে বলে জানিয়েছে।

সংস্কার কমিশনের গঠন ও অগ্রগতি

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার ত্বরান্বিত করতে ১১টি কমিশন গঠন করে

এর মধ্যে প্রথম ধাপে ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদন গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ও দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুতের কাজ চলছে।


 

জামায়াতে ইসলামী জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংবিধান ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রস্তাব জমা দিল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের সংবিধান, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার বিষয়ে তাদের লিখিত মতামত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে এই সুপারিশপত্র হস্তান্তর করে জামায়াতের প্রতিনিধিদল।

জামায়াতের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ

প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার সঙ্গে ছিলেন—

  • সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ
  • কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ

সংস্কারের প্রস্তাব ও জামায়াতের মতামত

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকার নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণের যে ধারণা জাতির সামনে পেশ করেছে, তার সঙ্গে দলটি দ্বিমত পোষণ করেনি। তবে তারা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত দিয়েছে।

সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষে সুপারিশ

জামায়াতে ইসলামী সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দিয়েছে। তারা মনে করে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলের আসন পাওয়ার সমান সুযোগ তৈরি হবে এবং গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা আশা করি, দ্রুত সংস্কার সম্পন্ন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ শুরু করবে।”

সংবিধান ও বিচার বিভাগের সংস্কারের দাবি

জামায়াতে ইসলামী আরও সুপারিশ করেছে—

  1. সংবিধানের কিছু ধারা সংশোধন করে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
  2. বিচার বিভাগকে পুরোপুরি স্বাধীন করা এবং বিচারকদের নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা
  3. জনপ্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, যাতে কোনো দলীয় স্বার্থে প্রশাসনকে ব্যবহার করা না হয়
  4. দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, যাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে

সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

জামায়াতের এই সংস্কার সুপারিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে মতামত আসতে শুরু করেছে।


 

ন্যান্সির ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙা বাড়ির সামনে ছবি: রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ব্যক্তিগত অনুভূতি

দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি সম্প্রতি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এই পদক্ষেপ তার রাজনৈতিক মতাদর্শ ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন বহন করে।

ন্যান্সির ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্য

গত বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে ওই ছবি শেয়ার করে ন্যান্সি লিখেছেন, “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ। পরাধীনতার শেকলমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা।” এরপর আরেকটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এখন আছি সুখে, আগুন জ্বলুক খুনির দোসরদের বুকে। ঘুমাতে গেলাম।”

বিএনপি সমর্থন ও পূর্ববর্তী পরিস্থিতি

ন্যান্সি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত ১৬ বছরে রাজনৈতিক রোষানলের কারণে তাকে পেশাগত জীবনে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। স্টেজ শো থেকে দূরে থাকা এবং মামলার হয়রানি ছিল তার নিত্যসঙ্গী।

শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশে নতুন আশার আলো

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ন্যান্সি নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পেয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এবারের ঈদটা আমার জন্য অন্যরকম আনন্দ নিয়ে এসেছে। কারণ শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশে আমি নতুনভাবে কাজ করতে পারছি, মামলার হয়রানি ছাড়াই চলাফেরা করতে পারছি। তাই এবারের ঈদ আমার জন্য বেশি আনন্দের।”

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ির ভাঙচুর ও প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। বর্তমানে বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে ন্যান্সি তার রাজনৈতিক অবস্থান ও অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

ন্যান্সির প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে ন্যান্সি তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারকে পুনরুজ্জীবিত করতে আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, স্বাধীনভাবে কাজ করার এই সুযোগ তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সহায়তা করবে।


 

এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে বাংলাদেশ, ঘোষণা করা হলো ২৪ সদস্যের দল

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামার আগে ২৪ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ইতোমধ্যে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দল, যেখানে অনুমিতভাবেই রয়েছেন ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটিতে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।

দল থেকে বাদ পড়াদের তালিকা

আগে ঘোষিত ২৯ সদস্যের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন চার ফুটবলার—তিন ফরোয়ার্ড ফাহামিদুল ইসলাম, পিয়াস আহমেদ নোভা ও আরিফ হোসেন এবং এক ডিফেন্ডার তাজ উদ্দিন। ইতালিপ্রবাসী ফাহামিদুলের বাদ পড়ার বিষয়টি আগেই আলোচনায় ছিল।

বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্কোয়াড

গোলরক্ষক:

  • মিতুল মারমা
  • সুজন হোসেন
  • মেহেদী হাসান শ্রাবণ

ডিফেন্ডার:

  • শাকিল আহাদ
  • রহমত মিয়া
  • তারিক কাজী
  • তপু বর্মণ
  • সাদ উদ্দিন
  • ঈসা ফয়সাল
  • শাকিল হোসেন

মিডফিল্ডার:

  • চন্দন রায়
  • সোহেল রানা
  • মোহাম্মদ সোহেল রানা
  • মোহাম্মদ হৃদয়
  • মজিবুর রহমান জনি
  • সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি
  • শেখ মোরছালিন
  • জামাল ভূঁইয়া (অধিনায়ক)
  • হামজা চৌধুরী

ফরোয়ার্ড:

  • ফয়সাল আহমেদ ফাহিম
  • মোহাম্মদ ইব্রাহিম
  • শাহরিয়ার ইমন
  • আল আমিন
  • রাকিব হোসেন

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের ভেন্যু ও সময়

২৬ মার্চ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে (পোলো গ্রাউন্ড নামে পরিচিত) অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।

দলে নতুন মুখ ও চমক

এই দলে কানাডা থেকে দীর্ঘ সময় পর দেশে ফেরা মিডফিল্ডার সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানি সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার হালিম শাহর ছেলে। পাশাপাশি তরুণ মিডফিল্ডার শেখ মোরছালিন ও অভিজ্ঞ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া দলে নেতৃত্ব দেবেন।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ও ম্যানেজমেন্ট আশাবাদী, ভারতের বিপক্ষে ভালো ফল আনতে পারবে দল। মিডফিল্ডে শক্তিশালী দল নিয়ে নামছে বাংলাদেশ, যেখানে হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়ার সমন্বয় দর্শকদের আশা জাগাচ্ছে।

এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জয় পেলে বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


 

ঈদুল ফিতরে টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা, সরকারি কর্মচারীদের জন্য আনন্দের বার্তা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকার টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। আগেই পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হলেও আজ (বৃহস্পতিবার) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্বাহী আদেশে আরও এক দিন ছুটি যোগ করা হয়েছে। ফলে ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিনের ছুটির সুবিধা পাবেন সরকারি কর্মচারীরা।

ছুটির সময়সূচি ও ব্যাখ্যা

আগে নির্ধারিত পাঁচ দিনের ছুটির সঙ্গে নির্বাহী আদেশে ৩ এপ্রিলকেও ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, ছুটির সূচি অনুসারে ২৮ মার্চ (শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটি ও পবিত্র শবে কদরের ছুটি থাকায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য কার্যত ছুটি শুরু হবে ২৮ মার্চ থেকেই।

এরপর সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে ২৯, ৩০ ও ৩১ মার্চ ঈদের ছুটি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ১ ও ২ এপ্রিল যথারীতি সরকার নির্ধারিত ঈদের ছুটির অংশ। ৩ এপ্রিল অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা হওয়ায় এর পরের দুই দিন (৪ ও ৫ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় মোট ৯ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি

দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের দুই লাখেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। সাধারণত ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু ব্যাংক খোলা রাখা হয়। তবে এবছর এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঐচ্ছিক ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা

সরকারি ছুটির বিধি অনুযায়ী, দুই ছুটির মাঝে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়া সম্ভব নয়। তবে, যারা ব্যক্তিগতভাবে ছুটি নিতে চান, তারা অর্জিত ছুটির সুবিধা নিতে পারবেন। এছাড়া, প্রত্যেক কর্মচারীকে বছরে তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন।

ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ছুটি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইন অনুযায়ী চলে, যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান, তাদের ক্ষেত্রে এই ছুটির নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এসব সংস্থা তাদের নিজস্ব বিবেচনায় ছুটি নির্ধারণ করবে।

এবারের দীর্ঘ ছুটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঈদ উদযাপনের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তবে, জরুরি পরিষেবাগুলো কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শিগগিরই তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।