ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চমক সৃষ্টি, জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ৫২.৫৬%
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিশ্ববাজারে ক্রমাগত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এবার ইউরোপের বাজারেও রপ্তানিতে বিশাল প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫২.৫৬%।
গতকাল ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এবং বিজিএমইএ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইউরোপের বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি
ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে,
- ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় দেশগুলো ৬,৮৫৪ মিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।
- ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৫৭৬ মিলিয়ন ডলারে, যা ২৫% প্রবৃদ্ধি।
- এর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ১,২৯৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ১,৯৭৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ৫২.৫৬% বৃদ্ধি।
চীন, ভারত ও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ
- চীনের পোশাক রপ্তানি ৩৩.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ভারতের রপ্তানি ৩৭%, ভিয়েতনামের ২৭%, পাকিস্তানের ২৫% এবং শ্রীলংকার ৪৩% বেড়েছে।
- তবে তুরস্কের পোশাক রপ্তানি কমেছে দশমিক ০.৩%।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও প্রবৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন ঘটেছে।
- ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৬%।
- মার্কিন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (OTEXA)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিজিএমইএর প্রতিক্রিয়া
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন,
“চলতি বছরজুড়ে কাজের অর্ডার বাড়ার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির গতি বজায় থাকবে। ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং বাড়াচ্ছে, যা প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সাহায্য করবে।”
তিনি আরও বলেন,
“বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির মুখে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রাখা জরুরি। বাজার বৈচিত্র্যকরণ এবং মূল্য সংযোজনের দিকে আরও মনোযোগ দিতে হবে।”
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে, মূল্যস্ফীতি, কাঁচামালের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।