শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 576

মহাবিশ্বের মহাঘড়ি: নির্মাতার শিল্প

একটি খালি জায়গা। আপনি দেখেছেন পাথর। সে কীভাবে এখানে এলো? জবাবে হয়ত বলবেন, প্রাকৃতিক কারণে এমনিতেই পাথরটি এখানে এসেছে।

কিন্তু উইলিয়াম প্যালে (১৭৪৩-১৮০৫) তুলছেন একটি ঘড়ির কথা। কোথাও নির্জন মাঠে পাওয়া গেলো ঘড়িটি। সে কীভাবে সেখানে গেলো? কীভাবে তৈরি হলো? তা কি এমনিতেই, প্রাকৃতিক কারণেই?

অনেকগুলো যন্ত্রপাতি জড়ো হয়েছে আর ঘড়ির আকার নিয়ে ঘড়ির কাজ শুরু করেছে। তার স্টিলের তৈরি কাঁটা, সেগুলোর পরিমাপ এবং অবস্থানের নির্দিষ্ট মাত্রা ও স্থান, সেগুলো রক্ষার জন্য ঘড়ির উপরিভাগে পাত, সেটা আবার কাঁচের তৈরী, যেন কাটাগুলো দেখা যায়।

কোন কাঁটা কি গতিতে ঘুরবে তারও সুনির্দিষ্ট মাত্রা, স্টিলের তৈরি চেইন, সবকিছুই পরিমিত এবং কাজ করছে যথাযথ … ঘড়িটি এমনে এমনেই হয়ে যায়নি, দৈবক্রমে তার যন্ত্রপাতি এমন সংগঠন ও যথাযথ অবয়ব পায়নি, ক্রিয়াশীলতা পায়নি। সবাই স্বীকার করবেন। হাজার জনের সবাই, লক্ষ জনের সবাই।

কেন বলবেন? যেহেতু তারা সবসময় জেনে আসছেন আর দেখে আসছেন, ঘড়ি কারো দ্বারা তৈরি হয়, এটি বলবেন ডেভিড হিউম। চাইবেন দেখাতে, এটি নিছক মানবঅভিজ্ঞতার বয়ান। কিন্তু কেন বিপরীত অভিজ্ঞতা হয় না মানুষের?

নির্মাতা ছাড়া সুন্দর ও সক্রিয় ঘড়ি তৈরি হতে কেন দেখছে না মানুষ? কেন দেখেনি কোনোকালে?

আসেন, আরেকটি মহাঘড়ি দেখি। বিশ্বপ্রকৃতি। এর একেক প্রাণিদেহে আছে ঘড়ির চেয়ে লক্ষ কোটিগুণ জটিল বিন্যাস। এককোষী জীব থেকে নিয়ে উদ্ভিদজগত, কীটপতঙ্গ থেকে নিয়ে সামুদ্রিক প্রাণি, পাখি থেকে নিয়ে মানুষ; বিপুলা জীবনে দুনিয়া ভরপুর।

মানুষের দেহটি অগণিত প্রাণের আবাস। অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে ত্বকের দিকে তাকান। কতো অসংখ্য জীবিত সৃষ্টিই সেখানে দিব্যি বেঁচে-বর্তে আছে। খালি চোখে তাদেরকে দেখা অসম্ভব।

তারা কে, কী তাদের পরিচয়, কেমন তাদের কাজ আপনি জানেন না। তারা জীবন যাপন করছে আপনার শরীরে। জীবন যাপনকারী প্রত্যেকের জীবনঅন্ত্রে আছে লক্ষ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া বা এককোষী জীব।

একমুঠো মাটির কথা ভাবুন। এতে আছে বিচিত্র গুণ ও বৈশিষ্টের বিপুল সংখ্যক প্রাণি। দুনিয়াজুড়ে লক্ষ লক্ষ বর্গকিলোমিটারে কতো কোটি কোটি জীব ছড়িয়ে আছে, খাচ্ছে-দাচ্ছে, সুস্থতা-অসুস্থতা পার করছে, জন্মাচ্ছে-মরছে, প্রণয় ও সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের খাবার আলাদা, জীবনপ্রণালী আলাদা।
প্রত্যেকের রয়েছে স্বতন্ত্র বডি-সিস্টেম। প্রত্যেকেই প্রত্যহ কাজ করে যাচ্ছে এবং পৃথিবীতে নিশ্চিত করছে ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স- প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

এদের কেউই নিজেকে সৃষ্টি করেনি। তাদের জীবন ও মরণকে নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করে না। তাহলে কে বানালো তাদের? কে পরিচালনা করছে বিশাল, বিচিত্র এই জীবনায়োজন?

বাতাসে আরো বেশি প্রাণ, পানিতে আরো বেশি জীবন। অন্যসব গ্রহে কী আছে, সে অনুসন্ধান আরো দূরের!

আমরা এই পৃথিবীতে থাকছি। এখানে, পৃথিবী গোলকের পুরুত্ব, সূর্য থেকে তার অবস্থান, দূরত্ব, জীবন দায়িনী সূর্যতাপ ও আলো বিচ্ছুরণের মাত্রা, ভূপৃষ্ঠের ঘণত্ব (Thickness), পানীয় পরিমিতি, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ, নাইট্রোজেনের ঘণত্ব- সবই সুনির্দিষ্ট পরিমাপ এবং পরিমান অনুসারে রয়েছে।

একটি মহাঘড়ি; সুন্দর ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিপুল, বিচিত্র জীবনবিন্যাসময় মহাবিশ্বকে নিয়ে কাটায় কাটায় চলছে।

কেউ না বানালে আর না চালালে ঘড়িটা সৃষ্টি হতো? পরিচালিত হতো?

লেখক: কবি, গবেষক, চেয়ারম্যান, ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড কালচার অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ

মানুষের সঙ্গে জিন জাতির বিয়ে কি জায়েজ?

প্রশ্ন: মানুষের সঙ্গে জিন জাতির বিবাহ কি জায়েজ?

উত্তর: মানুষের সঙ্গে জিন কিংবা পরীকে বিবাহ করা জায়েজ নয়, কেননা মানুষ ও জিন ভিন্ন ভিন্ন জাতি। আর শরিয়তের দৃষ্টিতে এক জাতির সঙ্গে ভিন্ন জাতির বিবাহ সম্পূর্ণ না জায়েজ।

সুতরাং জিন জাতি যেহেতু মানবজাতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জাতি। মানুষ মাটির তৈরি প্রাণী আর জিন হলো আগুনের তৈরি। তাই ভিন্ন প্রজাতির প্রাণী হওয়ায় পরস্পর বিবাহ জায়েজ নয়।

কুরআন কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, আল্লাহতায়ালা তোমাদের নফস (শরীর) থেকেই তোমাদের স্ত্রী (জোড়া) সৃষ্টি করেছেন।

আল আশবাহ গ্রন্থে রয়েছে, মানুষ আর জিনের মাঝে বিবাহ জায়েজ নেই। সত্তা আলাদা হওয়ার কারণে।

রদ্দুল মুহতারে বলা হয়েছে— পুরুষের জন্য পুরুষ, প্রকৃত হিজড়া, খুনছায়ে মুশকিলাহ (এমন হিজড়া যার একত্রে পুরুষ ও নারীর লিঙ্গ রয়েছে) জিন, পানির মানুষকে বিবাহ করা জায়েজ নেই (মৎস কণ্যা)।

করোনার টিকা না নিলে বন্ধ হবে বেতন, যেতে পারে চাকরিও!

করোনার টিকা না নিলে বা টিকাবিধি না মানলে বেতন কেটে নেওয়া হবে গুগল কর্মীদের। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষ তাদের চাকরিচ্যুতও করা হতে পারে।

কর্মীদের সম্প্রতি এমনই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে গুগলের অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার সিএনবিসির খবরে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুগলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে একটি মেমো প্রচার করেছে। এ মেমোয় বলা হয়েছে, গুগলের কর্মীদের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের টিকা গ্রহণসংক্রান্ত তথ্য ঘোষণা করতে হবে। যারা এ সময়ের মধ্যে নথি দেখাতে পারেননি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৮ জানুয়ারির মধ্যে যে সব কর্মী কোভিড টিকার নিয়ম অনুসরণ করবেন না তাদের ৩০ দিনের জন্য ছুটিতে পাঠানো হবে। তারপর ৬ মাসের জন্য বেতনহীন ছুটিতে পাঠানো হবে। এমনকি চাকরিও হারাতে পারেন তারা। তবে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গুগলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সিএনবিসির প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। কিন্তু এ বিষয়ে গুগল সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রথমবারের মতো সূর্যকে ‘ছুঁয়ে’ ফেলল নাসার সৌরযান

প্রথমবারের মতো সূর্যের বলয়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছে নাসার সৌরযান। পার্কার নামের ওই সৌরযানটি করোনা নামের ওই সূর্যের বলয়ের ভেতর ঢুকে পড়ে বলে মঙ্গলবার বিজ্ঞানীরা আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের এক বৈঠকে ঘোষণা করেছেন। বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে মহাকাশযান পার্কার করোনার ভেতর ঢুকে পড়ে। সেই সময় পার্কার যে তথ্য সংগ্রহ করেছিল, এতদিনে তা বিজ্ঞানীদের হাতে এসে পৌঁছেছে।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী নুর রাওফি এই ঘটনাকে ‘চমকপ্রদ উত্তেজনাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, ২০১৮ সালে পৃথিবী থেকে সূর্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল নাসার সৌরযান পার্কার। সূর্যের সবচেয়ে কাছে তা পৌঁছে গেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। নাসার তরফে বলা হয়েছে, এর আগে সূর্যের এত কাছে কোনো যান পৌঁছাতে পারেনি। সূর্যের বলয়ের মধ্যে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে পার্কার।

করোনা নামে ওই সূর্যের বলয়ে পার্কার যখন পৌঁছেছিল তখন সেখানে উত্তাপ দুই মিলিয়ন কেলভিন ছিল বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। অর্থাৎ, সেখানে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৬ দশমিক আট পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। ওই উত্তাপে সেকেন্ডে একশ কিলোমিটার বেগে করোনার ভেতরের তথ্য সংগ্রহ করেছে পার্কার।

নাসার বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর মধ্যে অন্তত তিনবার সূর্যের বলয়ের মধ্যে ঢুকেছে পার্কার। সব মিলিয়ে দশবার সূর্যের বলয়ে যানটি প্রবেশ করবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। ২০২৫ সাল পর্যন্ত পার্কার তার অভিযান চালিয়ে যাবে।

রাওফির মতে, করোনায় যতটা মনে করা হয়েছিল তার চেয়ে ধূলিময়। তিনি বলেন, ভবিষ্যত পার্কারের করোনায় অনুসন্ধান বিজ্ঞানীদেরকে সৌর বায়ুর উৎপত্তি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। এছাড়া কীভাবে সূর্য পুরো সৌরমণ্ডলকে পরিচালিত করে, পার্কারের পাঠানো তথ্য থেকে সে বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাকে পলিপ বুঝবেন কীভাবে, চিকিৎসা

নাকে পলিপ হওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। শিশুবস্থায় অনেকের এই সমস্যা দেখা দেয়। আবার পরিণত বয়সেও পলিপ থেকে যায় অনেকের।

নাকে পলিপ হলে কী করবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইমপালস হাসপাতালের নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন।

রোগীরা পলিপ বলতে সাধারণত যা বুঝে থাকেন মেডিকেলের ভাষায় আমরা সেটিকে পলিপ বলি না। নাকের আশপাশে কিছু প্রকোষ্ঠ (সাইনাস) আছে। চোখের ঠিক নিচে যে উঁচু হাড়টি আছে তার ভেতরে থাকে ম্যাক্সিলারি সাইনাস, নাক আর চোখের মাঝখানে যে ক্ষুদ্র স্থান সেখানে থাকে বেশ কয়েকটি ইথময়েড সাইনাস। কপালের সম্মুখভাগে থাকে ফ্রন্টাল সাইনাস। চোখের পেছন দিকে থাকে স্ফেনয়েড সাইনাস। এ সাইনাসগুলোর আবরণী অনেক সময় ফুলতে ফুলতে আঙ্গুরের থোকার মতো আকার ধারণ করে। একেই আমরা ডাক্তারি পরিভাষায় পলিপ বলে থাকি।

সাধারণত ইথময়েড সাইনাস থেকে পলিপ তৈরি হয়। কখনও কখনও ম্যাক্সিলারি সাইনাস থেকেও পলিপ তৈরি হতে পারে। নাকের মধ্যে ফাংগাস ইনফেকশন আমরা অনেক সময় দেখে থাকি। নাকের ফাংগাল (ছত্রাক) ইনফেকশন থেকে নাকের উভয় দিকে এবং এ ক্ষেত্রে একাধিক সাইনাস পলিপ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ পলিপগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সাইনাসের ভেতর থাকে।

এক সময় এটা বাড়তে বাড়তে সাইনাস থেকে নাকের ভেতরে চলে আসে এবং তখন আমরা খালি চোখে নাকের ভেতরে পলিপ দেখতে পাই। এগুলো দেখতে অনেক সময় সাদা আঙ্গুরের থোকার মতো থাকে। অনেক সময় পলিপে ইনফেকশন হলে বা আঘাতজনিত কারণে এর ত্বকের স্তর মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক সময় এটা লালচে রঙ ধারণ করতে পারে। রোগীরা সাধারণত যাকে পলিপ বলে থাকেন সেটা আসলে নাকের মধ্যে মাংস ফুলে যাওয়াকে তারা বুঝিয়ে থাকেন। মেডিকেলের ভাষায় একে হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেট বলা হয়। নাকের ভেতরে, পার্শ্ব দেয়ালে দুই দিকে দুইটি তাকের মতো মাংসপিণ্ড থাকে।

একে আমরা ইনফেরিয়র টারবিনেট বলি। এই ইনফেরিয়র টারবিনেটের প্রদাহ হলে এর আকৃতি বড় হয়ে যায়। যাকে হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেট বলা হয়। এটা সাইনাস থেকে আসে না। নাকের ভেতর থেকে এর উৎপত্তি। মেডিকেল ভাষায় এটা পলিপ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই পলিপ এবং হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেটের কারণ একই এবং এ দুটো একসঙ্গে বিদ্যমান থাকে।

উপসর্গ

* প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা সাধারণত নাক দিয়ে সর্দি ঝরা, নাক বন্ধ ভাব এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন। নাকের এ সর্দি সামনের দিকে আসতে পারে। অনেক সময় এটা সামনের দিকে না এসে পেছন দিকে চলে যায় এবং ঢোক গিলা বা গলা পরিষ্কার করার মতো প্রবণতা দেখা যায়। নাক বন্ধ থাকাটা প্রাথমিক পর্যায়ে একদিকে থাকে এবং কিছুক্ষণ পরপর এটা দিক পরিবর্তন করে নাকের দুই দিকে হয়। কিছু সময় এক নাক বন্ধ থাকে আবার কিছু সময় আরেক নাক বন্ধ থাকে। অসুখ যত বাড়তে থাকে ততই দেখা যায় ধীরে ধীরে দুটো নাকই বন্ধ হয়ে যায়, প্রথমে আংশিকভাবে এবং পরে সম্পূর্ণভাবে।

* হাঁচি থাকতে পারে এবং অল্প ধুলাবালি বা ধোঁয়াতে গেলেই প্রচণ্ড হাঁচি হতে থাকে। সিগারেটের বা রান্নার ধোঁয়া সহ্য হয় না। দম বন্ধ ভাব চলে আসে।

* নাকের ঘ্রাণশক্তি কমে যায় এবং অনেক সময় নাকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।

* মাথাব্যথা সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পলিপ যখন বেশ বড় আকার ধারণ করে তখন মাথাব্যথা চলে যায়। এর কারণ যে অবস্থাতে আমরা পলিপ দেখতে পাই সে অবস্থাতে মাথাব্যথার সমস্যা সাধারণত থাকে না। মাথা এবং কপালের সম্মুখ বা নাক এবং এর আশপাশে একটা বন্ধ ভাব থাকতে পারে। এ সময় রোগীর ইতিহাস নিলে অবশ্যই দেখা যাবে, কয়েক মাস বা কয়েক বছর আগে যখন এ রোগ শুরু হয়েছিল তখন তাদের মাথাব্যথার সমস্যা ছিল। পলিপ যখন বেশি বড় হয়ে যায় তখন মাথাব্যথার সমস্যাটা এতটা প্রকট থাকে না।

* দেখা যায় কিছু কিছু রোগীর গলায় খুসখুস ভাব থাকে। অনেকের আবার কাশিও থাকতে পারে। গলায় নিয়মিত প্রদাহ বা মুখ দিয়ে নিয়মিত শ্বাস নেয়ার ফলে অনেক সময় গলার স্বর বসে যায় বা গলা বসা বা স্বরভঙ্গ থাকতে পারে।

* নাকের পেছনে ইউস্টেশিয়ান টিউব আক্রান্ত হওয়ার কারণে অনেক সময় মধ্য কর্ণে সমস্যা হয়ে থাকে। কান বন্ধ বন্ধ ভাব বা কানের ভেতর পানি যাওয়ার কারণে কান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাথা ঘুরানোর সমস্যাও থাকতে পারে। মধ্যকর্ণের এ সমস্যা থেকে অল্প-স্বল্প মাথা ঘুরানোভাব থেকে শুরু করে মারাত্মক রকমের মাথা ঘুরানোর সমস্যা থাকতে পারে। এ ছাড়াও কানের ভেতরে শোঁ শোঁ আওয়াজের সমস্যাও হতে পারে। কানের ভেতরে অনেক দিন পানি জমে থাকলে কানের পর্দা নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদে কান পাকা রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

কারণ : নাকের পলিপের কারণ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। সাধারণভাবে বলা যায় নাকের এলার্জি এর অন্যতম কারণ। এ এলার্জি নাকের ভেতরে ধুলাবালি বা ধোঁয়ার এলার্জি থেকে হতে পারে। অনেকে মনে করেন, নাকের ভেতরে ক্রনিক ইনফেকশনও এ এলার্জির কারণ হতে পারে। নাকের ভেতরে ফাংগাল ইনফেকশনের এলার্জি থেকে কিছু কিছু রোগীর উভয় নাকে এবং অনেক সাইনাসজুড়ে পলিপ তৈরি হয়। নাকের ভেতরে রক্তনালির অসাঞ্জস্যতা বা অস্থিরতা থেকেও অনেক সময় পলিপ তৈরি হয় বলে অনেকে মনে করেন। নাকের এলার্জি যেটাকে আমরা এলার্জিক রাইনাইটিস বলি, গলার এলার্জি যেটাকে আমরা এলার্জিক ফ্যারিনজাইটিস এবং ফুসফুসের এলার্জি যেটাকে আমরা অ্যাজমা বা হাঁপানি বলে থাকি- এর একটা আরেকটার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যাদের নাকের এলার্জি আছে তাদের শতকরা ১৭ থেকে ১৯ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হাঁপানিও আছে। যাদের হাঁপানি আছে তাদের ৫৫ থেকে ৭০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে নাকের এলার্জিও থাকে। বিশেষভাবে বলা উচিত, নাকের এলার্জি ও ফুসফুসের এলার্জির (হাঁপানি) একটির প্রভাব আরেকটির ওপর পড়ে। নাকের এলার্জি ঠিকমতো কন্ট্রোল না করলে অনেক সময় হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে বা হাঁপানির চিকিৎসা করা দুরূহ হতে পারে। সে রকম ফুসফুসের এলার্জি বা হাঁপানি ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নাকের ওপর পড়ে।

চিকিৎসা : প্রাথমিক চিকিৎসা হল ধুলাবালি, ধোঁয়া ও ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে নাকে স্টেরয়েড জাতীয় স্প্রে ব্যবহার করলে এটা চলে যেতে পারে। পলিপ যদি নাককে সম্পূর্ণ অথবা আংশিকরূপে বন্ধ করে দেয় তাহলে সাধারণত ওষুধে কাজ হতে চায় না। এরকম ক্ষেত্রে অপারেশনের মাধ্যমে পলিপ ফেলে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। নাকের পলিপের কয়েক ধরনের অপারেশন হতে পারে। আমরা অবশ করে পলিপ বের করে নিয়ে আসতে পারি। এতে নাকের ভেতরের অংশটুকু সাধারণত কিছুটা দূর করা সম্ভব। অজ্ঞান করে আরও ভালোভাবে আমরা পলিপগুলো ফেলতে পারি। এতেও সাইনাসের ভেতরে যে ঝিল্লি থেকে পলিপগুলো তৈরি হয় সেটা সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়। আধুনিক এ যুগে পলিপের সর্বশেষ এবং সর্বাধুনিক চিকিৎসা হল এন্ডোস্কোপের মাধ্যমে পলিপগুলো শিকড় থেকে অর্থাৎ সাইনাসের যে ঝিল্লি থেকে পলিপ উৎপত্তি হয় সেখান থেকে সম্পূর্ণরূপে ফেলে দেয়া। এন্ডোস্কোপ ব্যবহার করে আমরা অতি সূক্ষ্মভাবে পলিপের উৎপত্তিস্থল থেকে পলিপকে ফেলে দিতে পারি এবং যে কোনো সাইনাস নাক থেকে যত দূরেই হোক না কেন তার ভেতরে সূক্ষ্মভাবে প্রবেশ করে পলিপটাকে সম্পূর্ণভাবে বের করে ফেলা সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এন্ডোস্কোপের সাহায্যে পলিপ ফেলে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো অপারেশন নেই। পলিপগুলো তাদের উৎপত্তিস্থল থেকে সম্পূর্ণভাবে ফেলে দিলে সাধারণত নতুন করে পলিপ হয় না। পুরনো পদ্ধতিতে পলিপের অপারেশন করা হলে পলিপের কিছুটা অংশ সাইনাসের ভেতরে থেকে যেত এবং তা থেকে পলিপ আবার নতুন করে খুব তাড়াতাড়ি গজিয়ে যেত। যেহেতু পলিপ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয় না, সেহেতু পলিপ উদ্ভূত সমস্যাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব একটা দূরীভূত হতো না। বলে রাখা দরকার, সাধারণত পলিপ ছাড়াও নাকের ভেতর কিছু মারাত্মক ইনফেকশন, টিউমার, ক্যান্সার এবং অন্যান্য কিছু জটিল সমস্যা আপাতদৃষ্টিতে পলিপ আকারে প্রকাশ পেতে পারে। যদি মেডিকেল চিকিৎসাতে এ পলিপ বা পলিপের উপসর্গ সম্পূর্ণরূপে দূর না হয় তবে এ পলিপ থেকে বায়োপসি নিয়ে দেখা উচিত, সেটা আসলে পলিপ নাকি অন্য কোনো সমস্যা। যা অনেক সময় মারাত্মক জটিলও হতে পারে। অপারেশনের মাধ্যমে পলিপ চিকিৎসা করাতে কিছুটা দেরি করা যেতে পারে। তবে বায়োপসি করা থেকে অবশ্যই লম্বা সময় বিরত থাকা উচিত নয়।

পরিযায়ী পাখির ভুবন

চারপাশের গাছগাছালি, বনে-বাদাড়ে, নদী-খালে, হাওড়-বিলে চোখ রাখলে বিভিন্ন পাখি দেখা যায়। তবে সব পাখি সব স্থানে দেখা যায় না। কারণ নির্দিষ্ট কিছু পাখির বসত ও খাবার নির্দিষ্ট স্থানে। তাই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়েই নির্দিষ্ট পাখি দেখতে হয়। এ পাখি দেখা অনেকের কাছে কোনো বিষয় নয়। আবার অনেকের কাছে খুবই গুরুত্বের। বলতে গেলে কারও কারও কাছে পাখি দেখা এক ধরনের নেশা। তাই তারা পাখি দেখার নেশায় বারো মাস ঘুরে বেড়ান সারা দেশে।

আবাসিক ও পরিযায়ী মিলে বাংলাদেশে পাখির সংখ্যা প্রায় ৭১৭ প্রজাতি। এর মধ্যে ৩০০ প্রজাতি আবাসিক। বাকি ৪১৭ প্রজাতি পরিযায়ী। বারো মাস এ দেশে থাকে বলে তারা আবাসিক পাখি। আর যারা বছরের কিছু সময় অন্য দেশে কাটায় তারা পরিযায়ী পাখি। কেউ কেউ ভুল করে পরিযায়ী পাখিদের অতিথি বলে ডাকে। এরা মোটেই অতিথি নয়। এরা এ দেশেরই পাখি। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদেই পরিযায়ী পাখিদের প্রায় আশি শতাংশ গ্রীষ্ম মৌসুমে হিমালয়ের কাছাকাছি অঞ্চলের দেশ ও বিশ শতাংশ সুদূর সাইবেরিয়াসহ মধ্য ও উত্তর এশিয়ায় চলে যায়। আবার শীতের সময় বাংলাদেশে ফিরে আসে।

সব পরিযায়ী শীতের সময় আসে না। দুই-তিনটি পাখি আছে-যারা বছরের বিভিন্ন সময় বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরতে ঘুরতে এ দেশে আসে অল্প সময়ের জন্য। তাদের বলা হয় পান্থ পরিযায়ী। আর যে পাখি বেশি দেখা যায় তাদের সুলভ, আর যে পাখি কম দেখা যায় বা দেখা যায় না তাদের নামের আগে দুর্লভ, বিরল, বিপন্ন বা মহাবিপন্ন শব্দ বসানো হয়। অবশ্য পরিবেশগত কারণে এরই মধ্যে ৩০-৩২টি পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এ দেশ থেকে। আবার অনেক নতুন নতুন পাখি দেখার তথ্যও যোগ হচ্ছে।

পরিযায়ী পাখিদের অধিকাংশ এদেশে দেখা যায় শীত মৌসুমে এবং তার অধিকাংশ জলচর। তাই এদের বিচরণ ভোলা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বরগুনা, রাজশাহী, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, সুন্দরবন ও হাওড়াঞ্চলের চর, বিল বা জলাভূমিতে। শীত মৌসুমে উপকূলের চর বা বিলে যেসব জলচর পরিযায়ী পাখি বেশি দেখা যায় তার মধ্যে আছে-দেশি কানিবক, গো বগা, মাঝলা বগা, ধুপনি বক, কালামাথা কাস্তেচরা, পাতি চকাচকি, খয়রা চকাচকি, ইউরেশিও সিঁথিহাঁস, পাতি তিলিহাঁস, পাতি শরালি, উত্তুরে লেঞ্জাহাঁস, উত্তুরে খুন্তেহাঁস, পাকড়া উল্টোঠুটি, ছোট নথজিরিয়া, কালালেজ জৌরালি, নাটা গুলিন্দা, ইউরেশিও গুলিন্দা, ছোট পানচিল, ছোট পানকৌড়ি, জুলফি পানচিল, ছোট বগা, বড় বগা, পিয়ং হাঁস, গিরিয়া হাঁস, প্রশান্ত সোনাজিরিয়া, মেটে জিরিয়া, পাতি লালপা, পাতি সবুজপা, পাতি বাটান, টেরেক বাটান, জুলফি পানচিল, খয়রামাথা গাঙচিল, কাসপিয়ান পানচিল, চামচঠুঁটো বাটান, খুন্তেবকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

উপকূলের চরের মধ্যে আছে হাতিয়ার দমার চর, নিঝুমদ্বীপ, জাহাজমারার চর, মোক্তারিয়ার চর, গাজীপুরা চর, মদনপুরা চর, মধুপুরা চর, দাশের হাটের চর, মনপুরার চর, তুলাতুলী চর, মাঝের চর, বালুর চর, বগার চর, হাজীপুর চর, রগকাটার চর, লতার চর, যাদবপুর চর, উড়ির চর, শাহজালাল চর, আমানত চর, ঢালচর, ঠেংগার চর, কালাকাইচ্ছা চর, পিয়াল চর, পাতাইলা চর, ছোট বাংলার চর, চর মোন্তাজ, কালাম চর, খাজুর গাইচ্ছা চর, সামছু মোল্লার চর, বোয়ালখালীর চর, বড় রানীর চর, ছোট রানীর চর, টেগরার চরসহ আরও অনেক নতুন নতুন জেগে ওঠা নাম না জানা ছোট-বড় চর।

সব চরে আবার সব জলচর পরিযায়ী পাখি বিচরণ করে না। এটি পাখিদের অলিখিত একটি নিয়ম।

একেক প্রজাতির পাখি একেক চরে বিচরণ করতে পছন্দ করে। জলচর হলেও এর মধ্যে আবার কিছু পাখিকে সৈকত পাখি বলা হয়। কারণ তারা সৈকতের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। এ ছাড়া এসব চরের মধ্যে কিছু বিশেষ চরও রয়েছে। যে চরগুলোতে বিশেষ কিছু পাখির বিচরণও রয়েছে। যেমন- নোয়াখালীর হাতিয়ার দমার চরে বিশ্বের মহাবিপন্ন চামচঠুঁটো বাটান পাখি দেখা যায় মাঝেমধ্যে দুই-একটি। এ ছাড়া দুর্লভ কালামাথা কাস্তেচরা পাখির অন্যতম বিচরণ ভূমিও এ চর। বিরল ইউরেশীয় চামচঠুঁটো পাখিও দেখা যায় এখানে। এ ছাড়া এ চরে একইসঙ্গে অনেক প্রজাতির হাজারো পাখি দেখা যায়। যার মধ্যে অনেক দুর্লভ, বিরল, বিপন্ন প্রজাতির পাখিও আছে। এ ছাড়া হাতিয়ার জাহাজমারা মোক্তারিয়া চ্যানেলে ও এর আশপাশেই ঝাঁকেঝাঁকে দেখা যায় বিপন্ন দেশি গাঙচষা পাখি।

উপকূলে জলচর পাখিদের বড় একটি বিচরণভূমির ভোলার চর ফ্যাশন থানার মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চর শাহজালাল। এ চরের বয়স প্রায় বিশ বছর। শীত মৌসুমে এ চরে একসঙ্গে প্রায় পঞ্চাশ প্রজাতির হাজারো পাখি দেখা যায়।

বিশ্বব্যাপী পাখি নিয়ে গবেষণা করছে ওয়েটল্যান্ডস ইন্টারন্যাশনাল (ডব্লিউআই) সংস্থা। এ সংস্থার এশিয়া অঞ্চলের সংগঠনের নাম-এশিয়ান ওয়াটার বার্ড সেনসাস (এডব্লিউসি)। এ সংস্থা প্রতি বছর শীতকালে এশিয়ার দেশগুলোতে একযোগে জলচর পাখি শুমারি করে থাকে।

উপকূল ছাড়াও জলচর পরিযায়ী পাখিদের আরেকটি বৃহৎ বিচরণভূমি সিলেটের হাওড়াঞ্চল। বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের হাকালুকি হাওড়, হাইল হাওড়, বাইক্কাবিল, টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ এর আশপাশের বিভিন্ন হাওড়গুলো শীতের সময় পরিযায়ী পাখিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়।

শীতের সময় এসব হাওড়ে যেসব পরিযায়ী পাখি বিচরণ করে, তার মধ্যে আছে ছোট ডুবুরি, বড় খোঁপাডুবুরি, বড় পনকৌড়ি, ছোট পনকৌড়ি, উদয়ী গয়ার, দেশি কানিবক, ধুপনি বক, লালচে বক, বড় বগা, ছোট বগা, মাঝলা বগা, গো বগা, এশীয় শামখোল, কালামাথা কাস্তেচরা, পাতি শরালি, মেটে রাজহাঁস, খয়রা চকাচকি, পাতি চকাচকি, তিলিহাঁস, পিয়াং হাঁস, সিঁথিহাঁস, ফুলুরি হাঁস, পাতি তিলিহাঁস, উত্তুরে খুন্তেহাঁস, উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস, গিরিয়া হাঁস, পাতি ভুতিহাঁস, বেয়ারের ভুতিহাঁস, টিকি হাঁস, মরচেরঙ ভুতিহাঁস, কোড়া, ধলাবুক ডাহুক, পাতি মানমুরগি, বেগুনি কালেম, পাতি কুট, নেউ পিপি, দল পিপি, কালাপাখ ঠেঙ্গি, মেটেমাথা টিটি, হট টিটি, উত্তুরে টিটি, প্রশান্ত সোনাজিরিয়া, ছোট নথজিরিয়া, কেন্টিশ জিরিয়া, ছোট ধুলজিরিয়া, ছোট বাবুবাটান, পাতি চ্যাগা, ল্যাঞ্জা চ্যাগা, কালালেজ জৌরালি, তিলা লালপা, পাতি লালপা, পাতি সবুজ পা, বিল বাটান, বন বাটান, পাতি বাটান, লাল নুড়িবাটান, গুলিন্দা বাটান, ছোট চাপাখি, টেমিকেংর চাপাখি, খয়রামাথা গাঙচিল, কালামাথা গাঙচিলসহ বিভিন্ন পাখি।

হাকালুকি হাওড়, হাইল হাওড়, টাঙ্গুয়ার হাওড়, বাইক্কাবিলসহ এর আশপাশে যে হাওড় রয়েছে তার মধ্যে ছোট-বড় অনেক বিল আছে। হাকালুকি হাওড়ের বিলগুলোর মধ্যে আছে জলা বিল, বালুজুড়ি, মাইসলা, কুকুরডুবি, ফুয়ালা, পোলাভাঙ্গা, হাওড়খাল, কোয়ার কোণা, মালাম বিল, গোয়ালজুড়, চাড়ুয়া, তেকোনা, ভাইয়া, গজুয়া, রঞ্চি, হারাম, বিড়াল খালসহ বিভিন্ন বিল। এসব হাওড়েও পাখিশুমারি করা হয় প্রতি বছর। উপকূল ও হাওড় অঞ্চল ছাড়াও সুন্দরবনে প্রায় ৩১৫ প্রজাতির পাখির বসবাস রয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ প্রজাতি পরিযায়ী।

‘গো উইথ আশরাফুল আলম’

মো. আশরাফুল আলম। তিনি এক দশক ধরে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের নানা প্রান্তে। কখনো পাহাড়, কখনো সমুদ্র কিংবা কখনো অচেনা-অজানা কোনো জায়গায় ঘুরেছেন নিজেকে এবং প্রকৃতিকে কাছ থেকে জানার জন্য।

প্রকৃতিপ্রেমী এই যুবক এরই মধ্যে সুপরিচিতি পেয়েছেন তার বেশ কিছু অসাধারণ কাজের জন্য।

ভ্রমণ করার পাশাপাশি কাজ করেছেন পরিবেশ নিয়ে। চেষ্টা করেছেন সবার সামনে তুলে ধরতে দেশের সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয় সম্পর্কে।

সম্প্রতি তিনি ডিজিটাল মাধ্যমে ভ্রমণ ও পরিবেশ সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৈরি করেছেন ‘গো উইথ আশরাফুল আলম’ নামের ইউটিউব চ্যানেল (https://www.youtube.com/ashrafulnoa) এবং ফেসবুক পেজ (https://www.facebook.com/GowithAshrafulAlam/)।যেখানে প্রতিনিয়ত নানান ধরনের ভিডিও আপলোড করে যাচ্ছেন, সেইসঙ্গে পাচ্ছেন বেশ বাহবা।শুধুমাত্র ভ্রমণকেন্দ্রিক না থেকে বরং এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিষয়াবলী নিয়েও কন্টেন্ট তৈরি করে যাচ্ছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন আশরাফুল আলম। তখন থেকেই পাঠ্যপুস্তকের মলাটে নিজেকে বেঁধে না রেখে, যুক্ত করেছেন নানান সামাজিক কার্যক্রমে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান ধরনের পুরস্কার পেয়েছেন এবং হাজারও ছাত্রছাত্রীকে উদ্বুদ্ধ করেন সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে।

বর্তমানে আশরাফুল মার্কেটিং কমিউনিকেশন পেশায় কর্মরত আছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসর সময়ে তিনি পরিবেশ, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন।

বার্ডে একাধিক পদে চাকরির সুযোগ

শূন্যপদ পূরণের জন্য জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কোটবাড়ি, কুমিল্লা। এতে চার পদে ১১ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আজ থেকেই আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম : পরিচালক (গ্রেড-৪)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: পি.এইচ.ডি ডিগ্রিসহ নয় বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং অন্তত ছয়টি গবেষণা প্রকাশনা থাকতে হবে।
বেতন: ৫০,০০০/- থেকে ৭১,২০০/-
বয়স: সর্বোচ্চ ৪৫ বছর

পদের নাম : উপ পরিচালক (গ্রেড-৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: পি.এইচ.ডি ডিগ্রিসহ পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং অন্তত দুইটি গবেষণা প্রকাশনা থাকতে হবে।
বেতন: ৩৫,৫০০/- থেকে ৬৭,০১০/-
বয়স: সর্বোচ্চ ৩৫ বছর

পদের নাম : সহকারী পরিচালক (গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ৮ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।
বেতন: ২২,০০০/- থেকে ৫৩,০৬০/-
বয়স: সর্বোচ্চ ৩০ বছর

পদের নাম : সহকারী পরিচালক (গ্রন্থাগার, গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।
বেতন: ২২,০০০/- থেকে ৫৩,০৬০/-
বয়স: সর্বোচ্চ ৩০ বছর।

এতে নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

বয়স: আবেদনের সময়সীমা ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ হিসাবে নূন্যতম ১৮ বছর এবং ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসেবে সর্বোচ্চ বয়স ধরা হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://bard.teletalk.com.bd/-এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: ১৪ জানুয়ারি ২০২২ বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

ঢাবি শিক্ষার্থী এলমার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী এলমা চৌধুরী মেঘলার (২৪) শরীরজুড়ে অঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় এলমার স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে গ্রেফতারের পর তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে বনানী থানায় মেয়ের স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়িকে আসামি করে মামলা করেন এলমার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। এদিকে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এলমার শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। সেখান থেকে মৃত্যুর জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বনানীতে স্বামীর বাসায় মারা যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী এলমা।

তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, এলমা আত্মহত্যা করেছেন। শুরু থেকেই নিহতের পরিবার এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা বলছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

জানতে চাইলে বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে এলমাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠাই। বুধবার তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ওসি বলেন, সুরতহালে ইলমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার এলমার বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরই এলমার স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় ইফতেখার ছাড়াও তার মা শিরিন আমিন ও ইফতেখারের পালক বাবা মো. আমিনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে এলমার সঙ্গে ইফতেখারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ইফতেখার ও তার মা-বাবা এলমাকে পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে বলেন। এলমা পড়া বন্ধ করতে না চাওয়ায় ইফতেখার ও তার মা-বাবা মিলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।

একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। বিয়ের তিন মাস পর ইফতেখার কানাডায় চলে যান। ১২ ডিসেম্বর ইফতেখার দেশে ফিরে আসেন। মঙ্গলবার এলমার মায়ের মোবাইল ফোনে কল করে ইফতেখার জানান, এলমা গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

ঢামেক মর্গে এলমার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়েকে তারা নির্যাতন করে হত্যা করেছে। মেয়ের শরীরের সব জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ইফতেখারের মা ও কথিত বাবা সবাই মিলে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ে লেখাপড়ায় অনেক ভালো ছিল। ওর আশা ছিল বিসিএস দিয়ে শিক্ষক হবে।

তিনি বলেন, হঠাৎ ইফতেখারের সঙ্গে ফেসবুকে এলমার পরিচয়। আমরা প্রথমে রাজি ছিলাম না, পরে অনেক চাপাচাপির পর রাজি হই। সে নৃত্যকলায় পড়ত। ইফতেখার ভাবত এলমার চলাফেরা অনেক খারাপ। সে এলমার চুল কেটে ছোট করে হিজাব পরাতে শুরু করে। বিয়ের দিন থেকে ইফতেখার আমার মেয়েকে নির্যাতন করত। অত্যাচার থেকে বাঁচতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এলমা। আমরা জানতাম ইফতাখারের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার। পরে জানি এটা তার আসল বাবা নয়। তার মা ওই সেনা অফিসারকে ২য় বিয়ে করেছেন। আমাদের কাছে তারা সবকিছু লুকিয়েছে। ইফতেখার ফ্রান্সে একটি বিয়ে করেছিল। সেই ঘরে একটা সন্তান আছে। পরে তাকে ডিভোর্স দিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। এটা পরে জানতে পেরেছি।

সাইফুল চৌধুরী আরও বলেন, ১২ ডিসেম্বর ইফতেখার দেশে এসেছে সেটা আমরা জানতাম না। এলমার মোবাইলে সব সময় চেক করত সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত কিনা। আমার মেয়ে আমাকে বলেছে সব ঠিক হয়ে যাবে বাবা। কিন্তু কোথায় ঠিক হলো শেষ পর্যন্ত তারা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে মেরেই ফেলল। তারা অনেক শক্তিশালী। আমরা তাদের সঙ্গে পারব কিনা জানি না।

স্বামী ইফতেখার রিমান্ডে : ইফতেখার আবেদীনকে গ্রেফতারের পর বুধবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর হত্যা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিচার দাবিতে ঢাবিতে শিক্ষক-সহপাঠীদের মানববন্ধন : এলমা চৌধুরীর মৃত্যুকে অস্বাভাবিক ও হত্যাকাণ্ড দাবি করে তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেছেন। মাবববন্ধনে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করেন তারা। পরিবারের পাশাপাশি সহপাঠীরা ও শিক্ষকরা এটিকে হত্যা দাবি করেছেন।

মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী, সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শামীম বানুসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং এলমার সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক রেজওয়ান চৌধুরী বলেন, আমাদের ছাত্রী, আমাদের মেয়ে এলমার এ মৃত্যু স্বাভাবিক হতে পারে না। স্বাভাবিক হলে শরীরে এত দাগ হবে কেন? হাসপাতালে যাওয়ার পর তার এই দৃশ্যটা দেখে আমি মানতে পারছি না। তার স্বামীকে দেখেও মনে হয়েছে অস্বাভাবিক এবং কথাবার্তা অসংলগ্ন। আমার বিভাগের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার দাবি করছি।

আতশবাজির আলোয় বিজয়ের প্রথম প্রহরকে বরণ

মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে আতশবাজি ফোটানোসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ঘড়ির কাঁটায় ১২টা ১ মিনিটে আসতেই আতশবাজির গুচ্ছ আলো আর শব্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা।

প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আতশবাজি ফুটিয়ে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে যোগ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আছে উপাচার্য ভবনসহ প্রধান প্রধান ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জমায়েত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাত্রা।