শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 577

বিজয় দিবসে বিটিভির বর্ণাঢ্য আয়োজন

মুজিববর্ষ ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনষ্ঠানমালা সেজেছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। বিটিভির অনুষ্ঠান বিভাগ জানিয়েছে, বিজয় দিবসের দিন সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। মাহবুবা ফেরদৌসের প্রযোজনায় গান গাইবেন অপু ও কোনাল।

সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ার থেকে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রচার হবে শিশুদের বিশেষ অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে একশজন শিশু। আবৃত্তি, নাচ, গান, যন্ত্রসঙ্গীত, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়ে সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানটি। এছাড়াও একটি বিশেষ অংশে হাজির হয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ৭ মার্চের উত্তাল দিনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা বাচ্চাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। নাফিরা নাঈম আহম্মদের উপস্থাপনায় এটি প্রযোজনা করেছেন মাহফুজা আক্তার।

নুরুল হুদার উপস্থাপনায় জ্যেষ্ঠ কবিদের নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান ‘বিজয়ের সুবর্ণ কবিতা’ প্রচার হবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। এটি প্রযোজনা করেছেন ঈমাম হোসাইন। দুপুর আড়াইটায় প্রচার হবে নৃত্যনাট্য ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, বাংলাদেশের নাম’। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের নানান ঘটনার ধারা বর্ণনার সঙ্গে নৃত্য পরিবেশ এবং দেশাত্মাবোধক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশিত হবে এ অনুষ্ঠানে। নৃত্য পরিচালনা করেছেন সুলতানা হায়দার। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন আবু তৌহিদ।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান নিয়ে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘সুর সৈনিক’ প্রচার হবে ৩টা ১০ মিনিটে। সংগীত পরিবেশন করবেন রফিকুল আলম, সুজেয় শ্যাম, তিমির নন্দী, ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, এম এ মান্নান, মো. রেজাউল করিম, বুলবুল মহলনবীশ, কল্যাণ ঘোষ, মনোরঞ্জন ঘোষাল, মনোয়ার হোসেন খান, কামাল উদ্দিন আহমেদ, শিবু রায়, শীলা ভদ্র। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সুজেয় শ্যাম। আফরোজা সুলতানার প্রযোজনায় এটি উপস্থাপনা করেছেন নুসরাত জান্নাত রুহী।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মহাবিজয়ের মহানায়ক প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিনের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হবে ৪টা ৩০ মিনিটে। রাত ৯টায় প্রচার হবে বিজয় দিবসের নাটক ‘সেই পুরনো শকুন’। হারুন রশীদের রচনা নাটকটি প্রযোজনা করেছেন এল রুমা আকতার। অভিনয় করেছেন হারুন রশীদ, ফারহানা মিঠু, খায়রুল বাশার, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইদ বাবু, আইনুন নাহার পুতুল প্রমুখ। মনিরুল হাসানের প্রযোজনায় বিশেষ আলেখ্যানুষ্ঠান প্রচার হবে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে।

রেঞ্জ রোভার থেকে হিরের নেকলেস, বিয়েতে কী উপহার পেলেন ভিক্যাট

বলিউডের আলোচিত জুটি ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ বিয়ের পর হানিমুনটাও সেরে ফেলেছেন। মালদ্বীপে হানিমুনে যাওয়ার আগে বিয়েতে পাওয়া উপহারের মোড়ক খুলেছেন এই দম্পতি। তারকা এই দম্পতি বিয়েতে রেঞ্জ রোভার থেকে শুরু করে হীরার নেকলেসের মতো মূল্যবান উপহার পেয়েছেন। আর ক্যাটরিনার সাবেক দুই প্রেমিক প্রাক্তন প্রেমিকার বিয়েতে একদম ‘হাত খুলে’ উপহার দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আমন্ত্রিতের তালিকায় ছিলেন ক্যাটরিনার দুই প্রাক্তন প্রেমিক। এমনকি প্রাক্তন প্রেমিকের এক বর্তমান প্রেমিকাও।

ভিক্যাটের উপহারের তালিকায় দেখা গেছে, ক্যাটরিনাকে সবচেয়ে দামি দু’টি উপহার দিয়েছেন তার দুই প্রাক্তন প্রেমিকই।

প্রাক্তন প্রেমিকা আর বর্তমানে ভাল বন্ধু ক্যাটরিনাকে বিয়েতে ৩ কোটি রুপি মূল্যের একটি ঝকঝকে রেঞ্জ রোভার উপহার দিয়েছেন সালমান খান।

আরেক প্রাক্তন প্রেমিক রণবীরকেও বিয়েতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ক্যাট।

অবশ্য প্রাক্তন প্রেমিকার বিয়েতে সশরীরে আসেননি রণবীর। তবে উপহার পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ক্যাটরিনাকে ২ কোটি ৭০ লাখ রুপি মূল্যের একটি হীরার নেকলেস দিয়েছেন রণবীর।

বলিউডের হার্টহ্রুব নায়ক হৃতিক রোশনও আমন্ত্রিত ছিলেন ভিক্যাটের বিয়েতে। তিনি উপহার দিয়েছেন জি৩১০আর মডেলের একটি বিএমডব্লু বাইক।

বলিউড বাদশা শাহরুখ খান উপস্থিত থাকতে পারেননি ক্যাটরিনার বিয়েতে। তবে নবদম্পতিকে দেড় লাখ রুপি মূল্যের একটি পেন্টিং উপহার দিয়েছেন তিনি।

আমন্ত্রিতের তালিকায় ছিলেন ক্যাটের সাবেক প্রেমিক রণবীরের প্রেমিকা আলিয়া ভাট। ক্যাটরিনাকে তিনি উপহার দিয়েছেন এক লাখ রুপি মূল্যের সুগন্ধীর সংগ্রহ।

এছাড়া ভিকি কৌশলের ভাল বন্ধু তাপসী পন্নু উপহার দিয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার রুপি মূল্যের একটি প্ল্যাটিনামের ব্রেসলেট।

অভিমান ভুলে খেলতে রাজি কামরান আকমল

অভিমান ভুলে অবশেষে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে রাজি হয়েছেন কামরান আকমল।

পাকিস্তান দলে সাবেক হয়ে যাওয়া এই তারকা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান বলেন, বিষয়টা কখনো আর্থিক ছিল না। তেমন হলে বহুদিন আগেই আমি জালমি ছেড়ে দিতাম। আমি কোনোদিনও ওদের ছাড়ার কথা ওই হিসেবে ভাবিনি। আমার পরিবারের মতো জালমি।

ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে আকমল বলেন, ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে সিনিয়র ক্রিকেটারদের অসম্মান করে, এটা দেখে আমি অবাক হয়েছি। আমি এখনো ফুরিয়ে যাইনি। আন্তর্জাতিক স্তরে আর আমি খেলতে পারব না জানি, তবে পিএসএলে এখনো আমার অনেক কিছু দেওয়ার আছে। জালমি আমার গর্ব এবং আমি ওদের হয়েই খেলব।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নিলাম হয়ে গেল রোববার। নিলামে ড্রাফটের তালিকায় শীর্ষ ক্যাটাগরি ‘প্লাটিনাম’ শ্রেণিতে ছিলেন কামরান আকমল। সেখান থেকে প্রথমে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয় ‘গোল্ড’ শ্রেণিতে। এরপর তাকে নামিয়ে দেওয়া হয় ‘সিলভার’ শ্রেণি তথা সবচেয়ে নিচের শ্রেণিতে।

এই সিলভার ক্যাটাগরিতেই তাকে দলে রেখে দিয়েছে তার আগের দল পেশোয়ার জালমি।

নিলামে এভাবে অপমান করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কামরান আকমল বলেছেন, সত্যিই ব্রিবতকর ব্যাপার। একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে এরকম ব্যবহারের কোনো মানে হয় না। লিগে আমি যত রান করেছি, এরপর আমার এ রকম অপমান প্রাপ্য নয়।

পিএসএলের রেকর্ডের পাতায় কামরান আকমলের নাম জ্বলজ্বল করছে। টি-টোয়েন্টি এ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের রেকর্ড সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেন কামরান আকমল। টুর্নামেন্টে ৬৯ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮২০ রান সংগ্রহ করেন তিনি। স্ট্রাইক রেটও বেশ ভালো ১৩৬.৮৪। উইকেটকিপারদের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৬০টি ডিসমিসাল দার। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। এমন রেকর্ডের পরও অপমান করায় সহ্য করতে পারছেন না কামরান আকমল।

পেশোয়ার জালমির কোচ ও পাকিস্তানের কিংবদন্তি ফাস্টবোলার ওয়াসিম আকরাম বলেন, কামরানের জন্য আমাদের ভালোবাসা সব সময়ই একই রকমের। ও শুধু পাকিস্তান জাতীয় দলকেই সেবা দেয়নি, গত ছয় বছরে পিএসএলের ভক্তদেরও বিনোদন দিয়েছে। ওর সঙ্গে আগে একবার আমার কথা হয়েছে। ওকে জানিয়েছিলাম যে আমরা যদি ওকে সিলভার শ্রেণি থেকেও দলে নেই, তবু ওকে দলের পরামর্শক বানিয়ে গোল্ড শ্রেণির অর্থই দেওয়া হবে।

‘মাশরাফি নিজেকে দেশের ক্রিকেটের চেয়ে বড় মনে করলে তাকে বাদ দেওয়া উচিত’

যোগাযোগের ঘাটতির কারণেই বিভিন্ন সময়ে বোর্ড-ক্রিকেটারদের বৈরিতা চরম আকার ধারণ করে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা তার বাস্তব প্রমাণ।

বোর্ডের সঙ্গে ক্রিকেটারদের যোগাযোগের এ ঘাটতি নিয়ে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, কেন হয়, আমিও জানি না। দেখুন বিরাট কোহলির মতো ক্রিকেটার এখন আর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়ক নন, কল্পনা করা যায়! কোহলির চেয়ে বড় ক্রিকেটার বাংলাদেশের ক্রিকেটে আছে?

তিনি আরও বলেন, কোহলিকে যখন অধিনায়ক থেকে সরানো হয়েছে, কোনো কথা কী বাইরে এসেছে? ভেতরে যা-ই থাকুক, প্রকাশ্যে কতটা পারস্পরিক শ্রদ্ধা! পেশাদারি যে আচরণ থাকা উচিত, সেটা দেখা গেছে। তাতে যোগাযোগের কথা বলছি আমি। অবশ্যই কোহলিকে সরানোর আগে তাকে জানানো হয়েছে। সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছেন যে- ‘হ্যাঁ, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে ওর।” তার মানে, তাদের সিস্টেম কতটা ভালো। মিডিয়ার সামনে যতটা বলা উচিত, সবাই ততটুকুই বলছে। এটাকে বলে পেশাদারিত্ব। এখানে আত্মীয়তা, ভালোবাসার মূল্য নেই।

দেশের একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাশরাফি আরও বলেন, যোগাযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুশফিককে কিপিং করাবেন না, এটা তো ড্রেসিং রুমেই শেষ হওয়া উচিত। টিভিতে দেখে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন কেন? পরে প্রশ্ন করবেন। কিন্তু আগেই যখন বলে দিচ্ছেন, তার মানে আপনি এতই কনফিউজড এবং লোকে সমালোচনা করবে- এই ভয়ে আপনি আগে এসেই বলে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সিরিজে মুশফিককে টি-টোয়েন্টিতে রাখা হলো না। পরে সে বলল যে তাকে জানানো হয়নি, প্রধান নির্বাচক নান্নু ভাই বললেন যে বলা হয়েছে। আমার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছিল। অন্যান্য বোর্ড তো আমার চেয়ে হাজারগুণ বড় ক্রিকেটারদের সঙ্গেও ভালোভাবে যোগাযোগটা করতে পারছে!

সাবেক এই অধিনায়ক আরও বলেন, ক্রিকেট বোর্ড চাইলেই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দেশের চেয়ে কোনো ক্রিকেটার বড় নয়। যদি কেউ দেশের চেয়ে বড় হয়, তাকে না খেলানোই উচিত। এটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোটি কোটি মানুষ মাশরাফির পক্ষে থাকুক, কিন্তু মাশরাফি যদি মনে করে সে বাংলাদেশ ক্রিকেটের চেয়ে বড়, তাহলে তাকে বাদ দেওয়া উচিত। কে কী বলল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

জাতীয় দলের হয়ে ২২০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২৭০ উইকেট শিকার করা এই তারকা পেসার আরও বলেন, ক্রিকেট বোর্ড যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু যোগাযোগ ঠিক রাখতে পারলে, তারপর কোনো ক্রিকেটার কিছু করলে তাকে বাদ দিন! বাংলাদেশের ক্রিকেট তো এমনিতেই খুঁড়িয়ে যাচ্ছে। তো ওইসব ক্রিকেটার রেখে লাভ নেই। যোগাযোগ ঠিক রেখে যে কোনো অ্যাকশনে যাওয়া যায়, কিন্তু যোগাযোগ ঠিক না রাখলে ওই ক্রিকেটারের প্রতি অন্যায় হয়।

ক্রিকেট থেকে অবসরের আগেই জাতীয় সংসদের সদস্য হয়ে যাওয়া মাশরাফি আরও বলেন, আমাকে যখন বাদ দেওয়া হলো, আমি তা পেশাদারভাবেই নিয়েছি। তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারপরও আমি ইতিবাচকভাবে নিয়েছি এজন্য যে, আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের চেয়ে বড় নই। আমার দায়িত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দেশের ক্রিকেটের দায়িত্ব নয় আমাকে টেনে তোলা। তবে দলকে আমি যে সার্ভিস দিয়েছি, বাদ দেওয়ার আগে আমাকে সেই সম্মানটুকু দেওয়া উচিত ছিল। কোনো সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হলেও বলা উচিত।

বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা, ২ শিক্ষার্থী নিহত

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

বুধবার রাতে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কে শায়েস্তাগঞ্জের পুরান বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বানিয়াচং উপজেলা সদরের নন্দিপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল আহাদের ছেলে সিয়াম আহমেদ (২১) এবং দাশপাড়া গ্রামের মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে মো. ফাহিম মিয়া (২১)।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাম্বুলিটুলা গ্রামের রায়েল মিয়া (২২)। তাকে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ফাহিম সিলেট এমসি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং সিয়াম এইচএসসি পাস করে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

নিহত সিয়ামের চাচাতো ভাই বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাব আহমেদ জানান, সিয়াম উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বুধবার বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হন। রাত ১০টার দিকে তারা শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজার রেলক্রসিংয়ের কাছে দুর্ঘটনায় নিহত হন।

সিয়ামের মামা কামাল আহমেদ জানান, তার ভাগনেসহ দুজন মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে এসেছেন।

নিহতের বন্ধুরা জানান, তারা ছয় বন্ধু মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের সঙ্গে থাকা সিয়াম, ফাহিম এবং রায়েল একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই সিয়াম ও ফাহিম মারা যান।

সদর হাসপতালের মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব দাশ মহালদার জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তারা দুজন মারা যান।

শত কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা

কাগজের চালানের আড়ালে সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারযোগ্য জাল স্ট্যাম্প এনে শত কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছে চট্টগ্রামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তবে কাস্টমসের এআইআর (অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিচার্জ) শাখা এই চালানটি আটকে দিয়েছে। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার এই চালানে কী পরিমাণ পণ্য ছিল এবং কত টাকা শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে সে বিষয়টি জানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মিথ্যা ঘোষণায় নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি ও শুল্ক ফাঁকির চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে বুধবার মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর শাখার উপকমিশনার মোহাম্মদ শরফুদ্দিন মিয়া জানান, আর্টপেপারের আড়ালে সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহৃত জাল স্ট্যাম্প এনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করেছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাস্টমস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা জিএ ভবনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাপ্পু এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে আর্টপেপার ঘোষণায় এক কনটেইনার (২০ ফুট) পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের লক্ষ্যে আগ্রাবাদ আড়গ চেম্বারের সিএন্ডএফ এজেন্ট মধুমতি অ্যাসোসিয়েটস গত ৯ ডিসেম্বর কাগজপত্র কাস্টমসে জমা দেয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট (পিসিইউ) ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় রপ্তানিকারক, রপ্তানিকারকের ওয়েবসাইট, পণ্য তৈরির দেশ, আমদানিকারকের ব্যবসায়ের ধরন ও ঠিকানা, পণ্যের বর্ণনা প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে পণ্যচালানটিতে সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারযোগ্য জাল স্ট্যাম্প থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। তাই কর্তৃপক্ষ চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়।

সে অনুযায়ী কাস্টমসের এআইআর টিম গত মঙ্গলবার বিকালে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে পণ্য চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে ২৪৬ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ২৬০ বান্ডিল এবং প্রতি বান্ডিলে ৫০০ পিস হিসেবে) ৩ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার পিস নিম্নস্তরের ১০ শলাকাবিশিষ্ট সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী হালকা খয়েরি রংয়ের জাল স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। চালানটি খালাস হলে সরকার ৯০ কোটি থেকে ১৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব হারাত বলে জানায় কাস্টমস। সূত্র আরও জানায়, এই জাতীয় পণ্য দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় অথবা বিদেশ থেকে আমদানি করার কোনো সুযোগ নেই।

ফাঁসিতে ঝোলাব: কর্মীদের হুমকি দিলেন কর্মকর্তা

করোনা টিকার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কর্মীদের ‘ফাঁসিতে’ ঝোলানোর হুমকি দিয়েছেন ক্ষিপ্ত এক কর্মকর্তা। টিকাকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নিলে ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের জেলা কালেক্টর কৌশলেন্দ্র বিক্রম সিং কর্মীদের এই হুমকি দেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে।

কালেক্টর বিক্রম সিং মঙ্গলবার গোয়ালিয়র জেলার ভিতরওয়ার তহসিলে এক বৈঠকে করোনা টিকার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।

তখন তিনি কর্মীদের বলেন, আর একদিনও টিকা দিতে দেরি করা যাবে না। যদি তেমন হয়, ফাঁসি দিয়ে দেব। টিকাকরণ থেকে কেউ বাদ যাবে না। মানুষকে টিকা নিতে অনুরোধ করুন, কৃষি জমিতে যান, তাদের বাড়িতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টা ধর্ণা দিয়ে থাকুন , তাদের বোঝান। আমি পূর্ণ টিকাকরণ চাই। এ ব্যাপারে কোনো কিছু আমি সহ্য করব না।

ওই বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এরপর সাংবাদিকরা তার বক্তব্যের ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে বিক্রম সিং জানান, দুই দিনের মধ্যে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে কর্মীদের সাময়িক বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত করা হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মতো মধ্যপ্রদেশের প্রাদেশিক সরকারও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে টিকাকরণের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।

স্বামীর কুড়ালের আঘাতে দুই হাত হারানো তরুণী পাচ্ছেন সাড়ে ৩ কোটি টাকা

স্বামীর কুড়ালের আঘাতে দুই হাতই হারিয়েছিলেন রুশ তরুণী মার্গারিটা গ্র্যাচেভা। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে সোয়া তিন লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস। বিবিসি বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস জানায়, রাশিয়া পারিবারিক সহিংসতা মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে। তাই মার্গারিটা গ্র্যাচেভা এবং ভয়াবহ আক্রমণের শিকার আরও তিন নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাশিয়াকে নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস।

ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া ছাড়াও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে আদালত রাশিয়াকে তৎক্ষণিক বিচার ব্যবস্থা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।

আদালত জানায়, রাশিয়াতে পারিবারিক সহিংসতা ‘ব্যাপকভাবে’ বেড়ে গেছে। দেশটি মানবাধিকার সম্পর্কিত ইউরোপীয় কনভেনশনের দুটি অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে।

বিবিসি জানায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মার্গারিটা গ্র্যাচেভাকে তার স্বামী অপহরণ করেন। এরপর একটি জঙ্গলে নিয়ে তার দুই হাত একটি কুড়াল দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এর আগে মার্গারিটা তার স্বামীর খারাপ আচারণের কথা বারবার পুলিশকে জানিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা তার অভিযোগ আমলে নেননি।

তার ক্ষতিগ্রস্ত বাম হাতটি বন থেকে উদ্ধার করে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হন চিকিৎসকরা। চাঁদা তুলে অর্থ সংগ্রহের পর তার ডান হাতে কৃত্রিম হাত লাগানো হয়েছে।

মার্গারিটার সাবেক স্বামীকে ওই অপরাধে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত জানায়, মার্গারিটার ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে শারীরিক হেনস্তার আগ পর্যন্ত রাশিয়ার পুলিশ পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে।

পারিবারিক সহিংসতার শিকার অন্য তিন নারী নাটালা টুনিকোভা, ইয়েলেনা গার্শম্যান এবং ইরিনা পেট্রাকোভাকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সূচকের উত্থানে শেষ হলো পুঁজিবাজারে লেনদেন

সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আজকের শেয়ারবাজারের লেনদেন। বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বেড়েছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা যায় এসব তথ্য।

এদিন ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছে ৬ হাজার ৮৬৮ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে অবস্থান করছে ২৫৮৬ পয়েন্ট ও ১৪৬২ পয়েন্টে।

এ ছাড়া দিনটিতে লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৫৯ কোম্পানির এবং কমেছে ১৫৮ কোম্পানির। এ ছাড়া দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও বেড়েছে সূচক। সিএএসপিআই সূচক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২০ হাজার ৭৫ পয়েন্টে।

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা

করোনাভাইরাসের নতুন রূপ ওমিক্রনের দ্রুত বিস্তারে বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমিক্রনের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এর আগে করোনাভাইরাসে দুটি রূপ বাংলাদেশে দুবার হানা দিয়েছে। অনেক দেশে তৃতীয় দফা হানা দিয়েছে। বাংলাদেশেও ওমিক্রন হানা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স ছাড়া প্রায় সব খাতেই অগ্রগতি ছিল সন্তোষজনক। আশা করা হয়েছিল আগামীতে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। এ লক্ষ্যে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি, দূরদর্শী রাজস্ব নীতি গ্রহণ করেছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দিচ্ছে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ। এসব নীতি সহায়তা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনায় দুই দফায় দেশের অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে সেটি এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় নতুন করে ওমিক্রন হানা দিলে ক্ষতির মাত্রা এবার বেশি হবে। তবে আশার কথা হচ্ছে, ওমিক্রন ততটা ভয়ংকর নয়। কিন্তু দ্রুত ছড়াচ্ছে। এখন সতর্কতা অবলম্বন করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি এখন আর একমুখী নয়। বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ রপ্তানি, আমদানি ও রেমিট্যান্স-এই তিনটি মৌলিক উপকরণ বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকার প্রবাহ বাড়ানো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহজনিত সংকটের কারণে পণ্যমূল্য বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছিল। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গতি ফেরায় সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির হারও কমে আসছে। গত বছরের অক্টোবরে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত অক্টোবরে তা কমে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৮ শতাংশের কাছাকাছি। অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহও কমেছে। রাজস্ব আদায় বাড়ায় সরকারের ঋণ কমেছে। তবে বেড়েছে কম সুদের বৈদেশিক ঋণ।

এতে আরও বলা হয়, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আর্থিক এবং রাজস্ব নীতি ব্যাপকভাবে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করেছিল। ফলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক আস্থার পরিবেশের উন্নতি হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার কমে গেছে এবং সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি বাড়ানোর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন গতিশীল হচ্ছিল, তেমনি পুনরুদ্ধার কার্যক্রমও দ্রুত এগোচ্ছিল। বিশেষ করে দেশের কৃষি ও শিল্প খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। এ খাতে উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি চাহিদা বাড়ায় পণ্যের সরবরাহও বেড়েছে। কৃষক ভালো দামও পাচ্ছে। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসছিল।

বিশ্ব অর্থনীতিতেও গতি ফিরছিল। কিন্তু এই অবস্থায় পণ্যের সরবরাহ সংকট ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম বেড়ে গেছে। এতে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববাজারে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যাতে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির এমন অবস্থায় ওমিক্রন এখন নতুন হুমকি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় এখন আমদানি বাড়ছে ৫০ শতাংশ। গত অর্থবছরে যা নেতিবাচক ছিল। রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৬ শতাংশ। তবে রেমিট্যান্স কমেছে ১৯ শতাংশ।

সূত্র জানায়, রপ্তানির মধ্যে ৮৪ শতাংশই আসে পোশাক খাত থেকে। এ খাতে রপ্তানির আদেশ হু-হু করে বাড়ছে। একই সঙ্গে এর বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিও বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে সাড়ে ৫৩ শতাংশ। আমদানি বেড়েছে ৪৮ শতাংশের বেশি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানি সমিতির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনার পর গত জুলাই থেকেই পোশাক রপ্তানির আদেশ বাড়তে থাকে। এখন ওমিক্রন এসে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্বের অনেক দেশে এখন আবার নতুন করে লকডাউন আরোপিত হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আবার রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সংক্রমণ কোন দিকে যায়।

এদিকে ওমিক্রনের সংক্রমণের খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাচ্ছিল। গত নভেম্বরে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারে ওঠার পর তা কমে ৬৪ ডলারে নেমে যায়। ওমিক্রন ততটা ভয়ংকর নয় এমন খবর প্রচারের পর তা আবার বেড়ে ৭২ ডলারে উঠেছে।