শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 575

দাগনভূঞায় ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশু রোগী বাড়ছে

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে জ্বর, ডায়রিয়া, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ওয়ার্ডে ঠাঁই পাচ্ছে না শিশু রোগীরা। বাধ্য হয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে।

দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বুধবার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ৪৮ রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত একাধিক নার্স জানান, ইদানীং শিশু রোগী বেশি আসছে। তাদের সবারই ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা। আমরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি। গত এক মাসে সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়তি দেখা যাচ্ছে।

শিশু রোগীর জিহাদের মা জানান, তিনি তার ১২ মাস বয়সি ছেলেকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাড়িতে হঠাৎ জ্বর, কাশি আর ডায়রিয়া শুরু হয়। দোকান থেকে ওষুধ এনে দুদিন খাওয়ানোর পরও অবস্থা ভালো না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এখন তার ছেলের অবস্থা একটু উন্নতি হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায় রেখেও চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল আফসার মামুন বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে প্রতিবছরই ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এ ধরনের রোগগুলো সাধারণত শিশুদের আক্রমণ করে। আমাদের ভাষায় আমরা এটাকে ব্রঙ্কিউলাইটিস বলি। শিশুদের এ সময় ভাইরাসজনিত জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগ আক্রান্ত করে। তবে আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।

ধর্ষণ অনিবার্য হলে উপভোগ করুন: কংগ্রেস নেতা

ধর্ষণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন কর্নাটকের এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।

বৃহস্পতিবার কর্নাটক বিধানসভায় ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

কর্নাটক বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে কংগ্রেস নেতা কেআর রমেশ কুমার বলেন, ধর্ষণ যখন অনিবার্য, তখন শুয়ে থেকে তা উপভোগ করা উচিত।

তার এই মন্তব্যের পর হাসিতে ফেটে পড়েন বিধানসভার সদস্যরা। কর্নাটক বিধানসভার বর্তমান স্পিকার বিশ্বেশ্বর হেগড়ে কাগেরিও রমেশের কথায় হাসতে শুরু করেন।
বিধানসভায় কৃষকদের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সময় চাইছিলেন কংগ্রেস নেতারা। তখন স্পিকার বিশ্বেশ্বর জানান, সবার জন্য সময় বরাদ্দ করলে হাউসের কাজ কী করে হবে। আপনারা যা ঠিক করবেন তাতেই আমি হ্যাঁ বলব। আমি ব্যবস্থার পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করতে তো পারব না। তাই পরিস্থিতিকে উপভোগ করতে হবে। হাউসের কার্যক্রম নিয়েই আমার চিন্তা।

স্পিকারের এই কথার পরই কংগ্রেস নেতা রমেশ ধর্ষণের সঙ্গে বিষয়টির তুলনা করে ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, কর্নাটকে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। কর্নাটক রাজ্য পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে ১ হাজার ১৬৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সে রাজ্যে। যার মধ্যে অধিকাংশই গণধর্ষণের ঘটনা।

উইঘুর নির্যাতনে চীনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

চীনের উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারির নামে নিপীড়নের অভিযোগে দেশটির একটি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। খবর আরব নিউজের।

এর আওতায় মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ একাডেমি অব মিলিটারি মেডিকেল সায়েন্সেস ও এর ১১ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠীর দাবি, ১০ লাখের বেশি সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমকে জিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে।

এর আগে ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল (ওএফএসি) সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন দেশের ১৫ ব্যক্তি ও ১০ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর মধ্যে সেন্সটাইম গ্রুপ লিমিটেড নামে এক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ করে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, নজরদারিতে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে মার্কিন প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চীনের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে চীন বরাবরই উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

৯৩০০ কোটি ডলার তহবিল ঘোষণা বিশ্বব্যাংকের, পাবে বাংলাদেশও

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি বিপর্যস্ত। করোনাপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে স্বল্পআয়ের দেশগুলোকে ৯৩ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

 

সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার এ প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৪টি স্বল্পআয়ের দেশের জন্য ৯ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থসহায়তা বরাদ্দ ঘোষণা করেছে বিশ্বব্যাংক। এটি সংস্থাটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) এটাই সবচেয়ে বড় অর্থ সহায়তা। বিশ্বব্যাংকের এ বরাদ্দ তহবিলের মধ্যে ২ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে উচ্চ ও মধ্যম আয়ের ৪৮টি দেশ। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পুঁজিবাজার ও বিশ্বব্যাংকের তহবিল থেকে এ অর্থ পাওয়া যাবে।

বিশ্বব্যাংক আরও জানায়, এ তহবিল দেশগুলোকে মহামারি, আর্থিক ধাক্কা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে। বিশ্বজুড়ে ৭৪টি দেশ এ অর্থসহায়তা পেলেও এর প্রায় ৭০ শতাংশই আফ্রিকা মহাদেশে যাবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় আইডিএ’র এ তহবিল পাওয়ার যোগ্য দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। আইডিএ’র ঋণের শর্ত খুবই রেয়াতযোগ্য। যার মানে ধারের এ অর্থে সুদ অত্যন্ত কম বা পুরোপুরি শূন্য থাকে। আর সেই শর্তগুলো নির্ধারিত হয় প্রাপক দেশগুলোর ঋণ সংকটের ঝুঁকি, মাথাপিছু আয় এবং ঋণ পাওয়ার যোগ্যতার পরিপ্রেক্ষিতে। এক্ষেত্রে ‘ব্লেন্ড ক্রেডিট’ শর্তে আইডিএ থেকে অর্থ পাবে বাংলাদেশ।

আইডিএ তহবিল সাধারণত তিন বছর পরপর সম্পূর্ণ করা হয়। তবে করোনা মহামারির কারণে সবশেষ অর্থায়ন এক বছর এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস বলেছেন, কোভিড-১৯ সংকট থেকে পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা করতে আমাদের অংশীদারদের এ উদ্যোগটি দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। করোনা পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিশ্বজুড়ে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে আইডিএ’র ওপর অংশীদাররা আস্থা রাখায় আমরা কৃতজ্ঞ।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে হিলি পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বিজয় দিবস উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন। এদিন ভোর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সোহরাব হোসেন জানান, আগামী শনিবার সকাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম আবার শুরু হবে।

স্মৃতিসৌধে বিএনপি নেতাকর্মীদের হট্টগোল-মারামারি, বহুজনের মোবাইল চুরি

মহান বিজয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের আগমন ঘিরে ব্যাপক হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ২০ জনের মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে।যাদের মোবাইল ফোন খোয়া গেছে, তাদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা এবং সংবাদকর্মীরাও রয়েছেন।

এ ঘটনায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, বিজয় দিবসে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

বুধবার ভোরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরই জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নামে।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্মৃতিসৌধে আগমনের সময় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল ও মারামারি বেধে যায়।এ সময় মোবাইল চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়।

এই হট্টগোলের মধ্যেই পকেট থেকে মোবাইল ফোন চুরি হয় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মোজাফফর হোসাইন জয় ও রাশেদ বাপ্পীর। এরপরই চুরি হয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আলকামা আজাদের মোবাইল ফোন।

এই তিনজনের ফোন চুরি হওয়ার ঘটনার কিছুক্ষণ পরই খবর মেলে আজহারুল ইসলাম নামে এক সরকারি কর্মকর্তার মোবাইল ফোনও তার পকেট থেকে চুরি হয়ে গেছে। ওই কর্মকর্তা গণপূর্ত বিভাগ মিরপুর শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী। তিনি সংবাদকর্মীদের কাছে তার ফোন চুরি হওয়ার কথা জানান।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষদের অনেকেই তাদের মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিস হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সাংবাদিক মোজাফফর হোসাইন জয় বলেন, তিনি মহান বিজয় দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান কাভারেজ করতে গিয়ে হঠাৎ হট্টগোলের মাঝে পড়েন। এরপরই পকেট থেকে তার মোবাইল ফোন এবং ৩ হাজার টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিক নাজমুল হুদা বলেন, মোবাইলসহ নানা মূল্যবান জিনিসপত্র হারানোর অন্তত ২০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির ডাক রিজভীর

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে স্মারক বক্তৃতা এবং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মুখপাত্র রিজভী বলেন, আমরা আজ অধিকার হারা, স্বাধীনতা হারা। কথা বলা ও চলাচল করার স্বাধীনতা- সমস্ত কিছু থেকে আমরা বঞ্চিত। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা-স্পিরিট ছিল গণতন্ত্র। কিন্তু দেশে আজ সেই গণতন্ত্র নেই, মানুষের ভোটের অধিকার নেই, কথা বলার স্বাধীনতা নেই। মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত অর্জনকে ধ্বংস করেছে এই সরকার।

তিনি বলেন, দেশে আজ এক অন্ধকারময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাত হলেই গুম-খুন-আতঙ্ক, অন্যথায় মিথ্যা মামলা দিয়ে যে কোনো মুহূর্তে কারাগারে নিয়ে যাবে। এ রকম একটা ভয়ঙ্কর অরাজকতার মধ্যে আমরা বাস করছি। একাত্তর আর বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য নেই। তাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোট ও কথা বলার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আমাদেরকে আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে।

জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. রফিকুল ইসলাম, জাসাসের ইথুন বাবু, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, মীর সানাউল হক, আহসান উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

সোনার বাংলা গড়ার শপথ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ার শপথ নিল বাঙালি জাতি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীকে এ শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

‘সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ’ শিরোনামের শপথবাক্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতি প্রতিষ্ঠা করেছে তার স্বতন্ত্র জাতিসত্তা। আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষের বিজয় দিবসে দৃপ্তকণ্ঠে শপথ করছি যে, শহিদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। দেশকে ভালোবাসব। দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তুলব। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।’

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শিরোনামে এ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। শপথবাক্য পাঠ করার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে নিহত, জাতীয় চার নেতা এবং সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) ১৬ ডিসেম্বর ২০২১। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও যুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমরা অর্জন করি, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু পরিচালনা করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের জন্য বঙ্গবন্ধু তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু বাঙালি জাতি পাকিস্তান শাসন করবে, এটা পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান মেনে নিতে পারেনি। তাই বাঙালিদের ওপর শুরু করে নিপীড়ন-নির্যাতন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণে বাংলাদেশের মানুষকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রতি জেলা, মহকুমা, থানা ও গ্রামে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। শুরু হয় এই আন্দোলন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃতি দিয়ে তার কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে শুরু করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য স্থানে আক্রমণ করে গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি সেই ঘোষণায় বলেন, ‘ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছো, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও। সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ শত্রুটিকে বাংলার মাটি থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তার (বঙ্গবন্ধুর) এই স্বাধীনতার ঘোষণা ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন ইপিআর হেডকোয়ার্টার থেকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়। পূর্ব থেকেই ইপিআরের সুবেদার মেজর শওকত আলী তিনজন সহযোগীসহ সেখানে অপেক্ষারত ছিলেন। এই বার্তা বাংলাদেশের সব পুলিশ স্টেশন, থানায় পৌঁছে যায়। সেখানে কর্মরত অফিসাররা এই বার্তা সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের হাতে ভোরের মধ্যেই পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে টেলিগ্রাম, টেলিপ্রিন্টারেও এই বার্তা সারা দেশে পৌঁছে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হেঁটে মুখে চোঙা ফুঁকিয়ে অথবা রিকশায় করে মাইকযোগে সারা দেশে এই বার্তা প্রচার করতে শুরু করেন। তারা জেলা থেকে থানা পর্যন্ত এই বার্তা প্রচার এবং সেই সঙ্গে প্রচারপত্র তৈরি করেও বিলি করেন। ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র থেকে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম পাঠ করেন। এরপর একে একে অন্য নেতারাও বারবার এই ঘোষণা পাঠ করতে থাকেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মোতাবেক যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে শুরু করে, শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের পাশে দাঁড়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারত, রাশিয়াসহ অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশ ও তাদের জনগণ। মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে বাঙালিরা পরাজিত করে। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের বিজয়। দেশবাসীর উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আসুন এই বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষে আমরা শপথ গ্রহণ করি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলা এবং বিশ্বে উন্নত-সমৃদ্ধ বিজয়ী জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে চলার জন্য আমরা শপথ নেব।

এরপর প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শপথ পাঠ করান। সবাইকে নিয়ে শপথ পাঠ করে সব মুক্তিযোদ্ধা ও দেশবাসীকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

এর আগে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শপথবাক্য পাঠ করানোর সময় পাশে তার ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। শপথবাক্য-পর্ব সঞ্চালনা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। শপথ গ্রহণকারীদের হাতে ছিল লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। প্রধানমন্ত্রী শপথ পড়ানোর পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরের ধারা ও হাল আমলের শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘সাড়ে সাত কোটি মানুষের আরেকটি নাম মুজিবর’ গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শপথপর্ব শেষ হয়।

সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিজয় দিবসের ৫০ বছর পূর্তিতে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ওইসব বন্ধুপ্রতিম দেশ, সংস্থা এবং ব্যক্তির প্রতি, যারা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে খাদ্য, অর্থ, অস্ত্র ও মানবিক সাহায্য এবং নৈতিক সমর্থন দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের কথা বিশেষভাবে না বললেই নয়। ভারত আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করেছিল।

তিনি আরও বলেন, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, তার সরকার, ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার কর্মী, লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের যুদ্ধের জন্য তৈরি করেছিলেন। সবশেষে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য শহিদ হয়েছিলেন। আমি আজকে তাদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। সশস্ত্র বাহিনীর শহিদ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সম্মানিত অতিথি হিসাবে এই গৌরবগাথার দিনে আমাদের মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন। আমি তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তার স্ত্রী ও মেয়েও উপস্থিত হয়েছে, আমি তাদেরও স্বাগত জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের আয়োজন করি। কিন্তু দুর্ভাগ্য করোনাভাইরাস আমাদের সেই কর্মসূচি ব্যাহত করে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠান ২০২১ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করি। আমরা মার্চ মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করি। ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সার্কভুক্ত ৫টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানগণ সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার রাজনীতিই হলো শোষিত মানুষের জন্য। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। বাংলাদেশের একেবারে তৃণমূলের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি একটি বিষয়ে লক্ষ্য রেখেছেন- এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। এই লক্ষ্য সামনে নিয়েই তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। এ সময় ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ৬-দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি জাতির জন্য একজন নেতা কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন বঙ্গবন্ধু তার দৃষ্টান্ত।

শেখ হাসিনা বলেন, ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা দেশে ফিরে আসেন। যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ার কাজে নিয়োজিত হলেন। গ্রামের তৃণমূলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্বিতীয় বিপ্লবের উদ্যোগ নিলেন তখনই জাতির পিতাকে হত্যা করা হলো। আমি ও আমার ছোট বোন রেহানা বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে যাই। কিন্তু আমার পরিবারের সব সদস্যকেই হত্যা করে। এরপর বাংলাদেশে ১৯টা ক্যু হয়। একটা পরিবেশ। হাজার হাজার সামরিক বাহিনীর অফিসার ও মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ছয় বছর বিদেশে রিফিউজি হিসাবে ছিলাম। ১৯৮১ সালে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসি। তার পর থেকেই চেষ্টা করেছি জাতির পিতার আদর্শে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, নারী নির্যাতন ও মাদক নির্মূলে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দেশের মানুষের শান্তি চাই। উন্নত সমৃদ্ধ জীবন চাই। তিনি বলেন, এ উৎসব শুধু উৎসব নয়, এটা আমাদের আগামী দিনের চলার পথের প্রতিজ্ঞা। বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত সমৃদ্ধ, সোনার বাংলা হিসাবে ইনশাআল্লাহ গড়ে তুলব।

এদিকে আলোচনা পর্বে যোগ দিতে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত। এরপর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে অংশবিশেষ পাঠ করা হয়। আলোচনা পর্বে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আবদুল হামিদ তার বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সম্মানীয় অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বাংলায় বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যের শুরুতে রামনাথ কোবিন্দ বলেন, ‘নমস্কার, শুভসন্ধ্যা, আসসালামু আলাইকুম। আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।’

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা সম্মানীয় অতিথির হাতে তুলে দেন ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধা স্মারক। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত দুটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে আটটি বিভাগীয় শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্বস্তরের মানুষ এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। আলোচনা পর্ব শেষে ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তর শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠান চলে রাত ৮টায় পর্যন্ত।

এদিকে দুদিনের আয়োজন ঘিরে লাল-সবুজের থিমে বর্ণিলভাবে সাজানো হয়েছে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা। সংসদ ভবনকে পেছনে রেখে মঞ্চ সাজানো হয়েছে। সংসদ ভবনে ফুটে উঠেছে মুজিব শতবর্ষের লোগো এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো। ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি উৎসুক অনেক সাধারণ মানুষও পরিবার নিয়ে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিউনিউয়ে ঘুরতে যান। সঙ্গে করে এনেছিলেন জাতীয় পতাকা। তবে শুধু আমন্ত্রিত অতিথিরা সংসদ ভবনের ভেতরে নিরাপত্তা তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশের সুযোগ পান। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে মানিক মিয়া এভিনিউর দুই পাশেই সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। শুধু অনুষ্ঠানের জন্য সরবরাহকৃত স্টিকারযুক্ত গাড়ি প্রবেশ করতে পেরেছে। প্রধান সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সেনাবাহিনী : ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি স্টেডিয়ামে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে নতুন প্রজন্মসহ সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিখায় আলোকিত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায়, বর্ণাঢ্য আয়োজনে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ঢাকা, মিরপুর ও পোস্তগলা সেনানিবাসের প্রায় ১০ হাজার অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সৈনিক প্রধানমন্ত্রীর পরিচালনায় আর্মি স্টেডিয়ামে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শপথগ্রহণে অংশগ্রহণ করেন। সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

নৌবাহিনী : বিকালে প্রধানমন্ত্রী পরিচালিত বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌ অঞ্চলের জাহাজ ও ঘাঁটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও নৌসদস্য অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজসমূহের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।

বিমানবাহিনী : এদিন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সব কর্মকর্তা, বিমানসেনা ও অন্যান্য সদস্য বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারের প্যারেড গ্রাউন্ডে সমবেত হয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা হতে সরাসরি সম্প্রচারিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে শপথবাক্য পাঠ করেন। এছাড়াও বিমানবাহিনীর সব ঘাঁটি ও ইউনিটসমূহের সদস্যরা উক্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে শপথবাক্য পাঠ করে মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখে।

জাতীয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ : জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ভার্চুয়ালি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক নেতারা। অনুষ্ঠানে জাতির পিতা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল বাহার মজুমদার টিপু বলেন, দুঃখের বিষয় আজকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দাওয়াত না পেয়ে প্রেস ক্লাবে বসে ভার্চুয়ালি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হচ্ছে। অন্য দিকে আমলা ও নামধারী মুক্তিযোদ্ধারা বড় আসন অলংকৃত করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান করছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবি সিদ্দিক মোল্লা, বিএলএফ মুজিব বাহিনীর কমান্ডার জয়নাল আবেদীন খন্দকার, কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, মহিলা কমান্ডের সভাপতি পারভিন রশীদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়ন, শাহনাজ পারভিন এলিস ও আমিনুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

আইস-হেরোইনসহ ৪১ জন গ্রেফতার

রাজধানীতে আইস-হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম আইস, ১৬০ গ্রাম ৪৫ পুরিয়া হেরোইন, ১০০ বোতল ফেনসিডিল, ৯২৫৫ পিস ইয়াবা, ২৮ কেজি ১৫১.৫ গ্রাম ৪০ পুরিয়া গাঁজা, ৪ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩১ টি মামলা হয়েছে।

মাদ্রিদে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে স্পেনের মাদ্রিদে আয়োজিত হয়ে গেল এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মিলনমেলা। মাদ্রিদে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংগঠন সেন্ট্র কুলতুরাল দে বাংলাদেশ ইন এস্পানিয়ার উদ্যোগে সোমবার ১৩ ডিসেম্বর এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান শুরু হয় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং লাল-সবুজের বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে। এরপর বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীর বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আয়োজক সেন্ট্র কুলতুরাল দে বাংলাদেশ ইন এস্পানিয়ার সভাপতি ও স্পেন আওয়ামী লীগের সভাপতি এসআরআই এস রবিন।

নারীনেত্রী ফারহান ইয়াসমিন সুবর্ণার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় এই মিলনমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারোয়ার মাহমুদ এনডিসি এবং আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য দেন স্পেনে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত সঞ্চয় ভার্মা।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারোয়ার মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ। জাতির পিতার নেতৃত্বে বাঙালি হাজার বছরের পরাধীনতা থেকে মুক্তি লাভ করে। আজ আমরা স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছি। এ বছরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি।

আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে ভারতের রাষ্ট্রদূত সঞ্চয় ভার্মা, ইন্ডিয়া বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে এবং বিশ্বের দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির একটি দেশে উন্নীত হয়েছে এবং উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নাচ-গান, নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন শিল্পী হানিফ মিয়াজী, শুভ, আল আমিন, লোকমান, বাবু, তৃষা, সায়েবাসহ একঝাঁক প্রবাসী শিল্পীরা।

এ মিলনমেলায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেনের দূতালয়প্রধান এটিএম আব্দুর রউফ মণ্ডল, কমার্শিয়াল কউন্সিলর রেদোয়ান আহমেদ, প্রথম সচিব (শ্রম) মুহতাসিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, বাংলাদেশি মানবাধিকার সংগঠন ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী, স্পেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কায়ূম সেলিম, সহ-সভাপতি একরামুজ্জামান কিরণ, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, তোতা কাজী, সাধারণ সম্পাদক রিজভী আলম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- তামিন চৌধুরী, আক্তারুজ্জামান, আলমগীর হোসেন, এইচ এম হারুনুর রশিদ আকাশ, বিলাল আহমেদ, বদরুল কালমালী, নারায়ণগঞ্জ জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হোসেন, কানেক্ট বাংলাদেশের সমন্বয়ক আফসার হোসেন নীলু ও তাদের পরিবারসহ অনেকে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এসআরআই এস রবিন বলেন, এ আয়োজনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া আমাদের জন্য প্রেরণাদায়ক। আগামীতে আরও বড় আয়োজনের আশা করছি। অতিমারির এ সময়ে সশরীরে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বেশ সাড়া পায়। প্রায় দুই বছর পড়ে সবাই একত্রিত হতে পেরে সংগঠনের আয়োজক সংগঠনকে প্রবাসীরা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান।