শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 459

আইপিএলে দল না পাওয়া ব্যাটার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন পিএসএলে

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিলামে অবিক্রীত থেকেছেন আফগানিস্তানের তারকা ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। যিনি এখন পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ইসালামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন।

আর ভারতীয় টি-টোয়েন্টি লিগে উপেক্ষিত এই ব্যাটার পিএসএলে দুর্দান্ত খেলেছেন। পাশাপাশি একটি বিশ্বরেকর্ডও গড়লেন, যা আর কারও নেই।

তার সেই রেকর্ড দেখে হয়তো আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিরা কপাল চাপড়াতে পারেন।

বৃহস্পতিবার রাতে পেশোয়ার জালমির বিরুদ্ধে মাত্র ১৯ বলে ৪৬ রান করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। যদিও এমন বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জেতাতে পারেননি তিনি।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে জালমি নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০৬ রান করে। জালমির হয়ে ওপেনার মোহাম্মদ হ্যারিস ৩২ বলে ৭০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক খেলেন ২৩ বলে ৩৮ রানের ইনিংস, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর পর ইয়াসির খান ২৪ বলে ৩৫ রান করলে রানের পাহাড় গড়ে পেশোয়ার।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট হাতে নেমে ঝড় তোলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। প্রথম দুই ওভারেই পাঁচ ছক্কা হাঁকান গুরবাজ। এটি একটি অনন্য রেকর্ড।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে পাঁচ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড আর কারও নেই।

প্রথম ওভারে সাড়ে ১১ কোটি রুপিতে পাঞ্জাব কিংসে ভেড়া লিয়াম লিভিংস্টোনকে দুটি ছক্কা মারেন গুরবাজ। পরের ওভারে উসমান কাদিরকে ৩ ছক্কা হাঁকান তিনি।

দুই ওভারেই ইসলামাবাদকে ৩৭ রান এনে দেন করে রহমানুল্লাহ গুরবাজ। এর পর আরও তিনটি বাউন্ডারি আসে গুরবাজের ব্যাট থেকে।

৪ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত হন গুরবাজ। সালমান ইর্শাদের বলে আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে ৪৬ রানে থামেন এ আফগান তারকা।

গুরবাজের পর মিডল অর্ডারে ৪৫ বলে ৮৫ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন আজম খান। কিন্তু তাতে পরাজয় এড়াতে পারেনি ইসলামাবাদ।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানে থামে ইসলামাবাদ। ১০ রানে হেরে যায় তারা।

তথ্যসূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো, হিন্দুস্তান টাইমস

বাড়ির পাশে মেহগনিগাছে ঝুলছিল বৃদ্ধের লাশ

ঝালকাঠির রাজাপুরে মো. আজাহার আলী আকন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

আজাহার আলী ওই এলাকার মৃত কাছেম আলী আকনের ছেলে।

আজাহার আলীর মেজ ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম আকন জানান, তার বাবা একজন মানসিক রোগী ছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ নিখোঁজ হন আজাহার আলী। এ সময় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে রাত সাড়ে ৪টার দিকে তাদের বাড়ির সামনে খালপাড়ে একটি মেহগনিগাছের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

রাজাপুর থানার ওসি পুলক চন্দ্ররায় বলেন, আজাহার আলী একজন মানসিক রোগী ছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার মৃত্যুতে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দখলে-দূষণে মৃতপ্রায় চন্দনা নদী

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির চন্দনা নদীর কোল এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যে নদীর একসময় পুরো যৌবন ছিল, ছিল নদীতে উত্তাল ঢেউ। তখন নদীতে বয়ে যেত ছোট-বড় নৌকা ও লঞ্চ। সেই অপূর্ব দৃশ্য এখন আর নেই।

হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে নদী তো নয় যেন এ এক ময়লার ভাগাড়! কালের আবর্তে দখলে-দূষণে চন্দনা নদী আজ মৃতপ্রায়।

এলাকার বেশিরভাগ কৃষকদের সঙ্গে কথা হয় এই নদী নিয়ে তারা বলেন, আগে তো নদীতে দলবল নিয়ে বড়-বড় আইড়, বাইন মাছ ধরতাম,নদীতে নৌকাবোঝাই করে ধান ও পাট নিয়ে বিক্রি করতাম হাটবাজারে। আর এখন এই নদী মরার পথে।

এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের ভাগ্যে পরিবর্তনে চন্দনা নদীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এই নদীকে কেন্দ্র করে এক সময় এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র। কিন্তু নদীটি মরে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সব। ফলে কৃষি অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়।

৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ কৃষক বকুল খাঁ নদীতে সারাবছরই পানিশূন্য থাকে। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। কারণ এই নদীর পানি দিয়েই তারা জমিতে সেচ দিত। এখন নদীতে পানি না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে কৃষকদের।

অপর কৃষক জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, পানি শূন্যতায় নদীটি মরে যাচ্ছে। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় এ এলাকার সাধারণ মানুষের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। পানির অভাবে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেন না। নদীতে পানি না থাকায় জেলেরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এক সময় এ নদীর উত্তাল তরঙ্গ ভরা যৌবন ছিল। নদীর বুক চিরে চলত পাল তোলা নৌকা। এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল অনেক হাটবাজার। প্রসার ঘটেছিল ব্যবসা-বাণিজ্য ও সভ্যতা। নৌকায় লোকজন যাতায়াতসহ কৃষকের উৎপাদিত পণ্যও বিক্রির জন্য বড় মোকামে নিয়ে যেতো এই নদী পথে। দুই পাড়ের বাসিন্দাদের গোসল, গৃহস্থালির কাজ চলতো এই নদীর পানি দিয়ে। এখন দখলে-দূষণে চন্দনা নদী আজ মৃতপ্রায়।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাসিবুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে আমাদের নজরে এসেছে আমরা খুব দ্রুতই এই দখল ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো প্রকার নদীর দূষণ ও দখল নেওয়া হবে না।

তা ছাড়া এর পাশাপাশি হাটের ইজারাদার ও বাজার বণিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে কড়া সতর্কতা দেওয়া হবে। যাতে করে এ বাজারের কোনো ময়লা-আবর্জনা নদীতে কেউ না ফেলে। বিষয়টি নিয়ে ১ সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এক শর্তে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ব্লিঙ্কেন

ইউক্রেন সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের। ইউক্রেনে রাশিয়া কোনো ধরনের হামলা না চালালেই তবে এ সাক্ষাৎ হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম এ সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়েছে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি— ইউক্রেন নিয়ে যে সংকট চলছে, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে তার দায়িত্বশীল সমাধান বের হতে পারে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের কথা বললেও আবারও হামলার আশঙ্কার কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনে হামলা চালাতে রাশিয়া অজুহাত খুঁজছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ হামলা চালানো হতে পারে।

তবে এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও ঘোষণা দিয়েছিল রাশিয়া। তবে এ ঘোষণাকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন পশ্চিমারা।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের মূল কারণ হচ্ছে ন্যাটো। ন্যাটোতে যোগ দিতে বেশ এগিয়েছে ইউক্রেন। তবে এ নিয়ে মাথাব্যথা রয়েছে রাশিয়ার। ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে মস্কো।

‘আমি সেলিব্রিটি, আর বাদাম বেচব না’

গত বছরের নভেম্বরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হন ভুবন বাদ্যকর ভারতের এক কাঁচাবাদাম বিক্রেতা। তার ‘কাঁচাবাদাম’ গানটি নিয়ে কম তোলপাড় হয়নি।

লাইকি, টিকটক, ফেসবুক, ইউটিউব— সবখানের চর্চিত বিষয় ছিল এই ‘কাঁচাবাদাম’ গান। ভাইরাল হয়ে রাতারাতি সেলিব্রিটিতে পরিণত হন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের প্রত্যন্ত অঞ্চল কুড়ালজুরি গ্রামের ভুবন।

যে কাঁচাবাদাম বিক্রি করে ভুবন তারকায় পরিণত হয়েছেন, এখন তা-ই আর সে কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুরনো পেশা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভুবন বাদ্যকর বলেন, ‘আমি সেলিব্রিটি, আর বাদাম বেচব না’।

বৃহস্পতিবার ইলামবাজারের এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ভুবন বলেন, ‘এখন বাদাম বিক্রি করলে সবাই ঘিরে ধরবে, বাদামই বিক্রি হবে না। আর আপনাদের কাছে যখন পৌঁছে গেছি, তখন আশা করি, আর বাদাম বিক্রি করতে হবে না।’

অবশ্য ভাইরাল হয়ে ভুবনের আর সেই দৈন্যতা নেই। তিনি এখন কণ্ঠশিল্পী।

‘গোধূলি বেলা’ নামের যে মিউজিক কোম্পানি প্রথম তার গান প্রকাশ করেছিল, তারাই এবার তার সঙ্গে তিন লাখ রুপির চুক্তি করেছে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে ইলামবাজারে বৃহস্পতিবার ভুবন বাদ্যকরকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। এ সময় তাকে দেখতে ভিড় জমায় অনেকে। অনেকের মুখে শোনা গেছে, তার সেই ভাইরাল গান – ‘বাদাম বাদাম দাদা কাঁচাবাদাম, আমার কাছে নেই কো বুবু ভাজা বাদাম, আমার কাছে পাবে শুধু কাঁচা বাদাম…’

এদিন অনেকেই নানা উপহারও নিয়ে আসেন। বার্নপুর নামক এলাকার কয়েকজন তরুণ-তরুণী ভুবনকে পিয়ানো উপহার দেন। এ ছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভুবনকে শাল, কম্বল, ফুল ও মিষ্টি উপহার দেওয়া হয়।

ভুবনের গান যেন আর কেউ ব্যবহার করে নিজেদের ফায়দা লুটতে না পারে, সে জন্যই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোধূলিবেলার মালিক গোপাল ঘোষ।

তিনি বলেন, ভুবনের ‘কাঁচাবাদাম’ গান প্রকাশ করলেও কপিরাইটের বিষয়টি সম্পর্কে তেমন ওয়াকিবহাল ছিলাম না আমরা। তাই যে যেমন পেরেছেন, ভুবনের গান ব্যবহার করেছেন। তবে এখন বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছি। তাই গান চুরি রুখতে আগামী দিনে কঠোর পদক্ষেপ নেব। এতে প্রতিষ্ঠান ও ভুবন দুপক্ষই লাভবান হবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, জি-নিউজ

২১ হাজার কোটি টাকা কার

দেশের আর্থিক খাতে দাবিদার নেই এমন অর্থের পরিমাণ ২১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ২০ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা লভ্যাংশ দেওয়া যায়নি। আর ব্যাংক আমানতের ১৩৫ কোটি টাকার কোনো দাবিদার নেই। ফলে দীর্ঘদিন থেকে টাকাগুলো পড়ে আছে।

বিনিয়োগকারীদের ঠিকানা খুঁজে না পাওয়া, উত্তরাধিকারী জটিলতা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন দুর্বলতার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে অর্থ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব অর্থ ব্যবহারে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দাবিদারহীন অর্থ বিতরণে প্রকৃত মালিক চিহ্নিত হওয়া জরুরি।

তবে লভ্যাংশের টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ কেউ না কেউ এ টাকার মালিক। তারা কোথাও না কোথাও আছেনই। যাতে কোনো সময় প্রকৃত দাবিদার ফিরে এলে তাদের অর্থ পরিশোধ করা যায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২০৮টি কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের অদাবিকৃত লভ্যাংশের ২১ হাজার কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। এরমধ্যে বোনাস শেয়ারের মূল্য ১৯ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা এবং নগদ লভ্যাংশ ৯৫৬ কোটি টাকা। আবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জের আলাদা হিসাবে ডিএসইর বিনিয়োগকারীদের ১১ হাজার ৭৪০ কোটি এবং সিএসইর বিনিয়োগকারীদের ৯ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারীদের বোনাস শেয়ার লভ্যাংশের পরিমাণ ১১ হাজার ১০৫ কোটি আর নগদ লভ্যাংশ ৬৩৫ কোটি। আবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারীদের বোনাস লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮৮২ কোটি এবং নগদ লভ্যাংশ ৩২২ কোটি টাকা। আর একক কোম্পানি হিসাবে শুধু ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোতে পড়ে আছে ৮ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।

শেয়ারবাজারের বিপুল পরিমাণ এ অর্থ কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। ইতোমধ্যে অর্থ দিয়ে ‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল’ নামে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানকে প্রধান করে এ ব্যাপারে কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি।

এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর জন্য একটি নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এর আলোকে কোনো কোম্পানির লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে বিও হিসাবে পাঠাতে হবে। আর অপরিশোধিত লভ্যাংশ একটি আলাদা সাসপেন্স হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে।

আর লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩ বছর পর অদাবিকৃত বোনাস ও নগদ লভ্যাংশ ‘বিএসইসির পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল’ নামে হস্তান্তর করতে হবে। এ তহবিল থেকে বিভিন্ন কোম্পানিকে ঋণ দেওয়া হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে বিরোধ রয়েছে। কারণ ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশের অর্থ এ তহবিলে দিতে রাজি নয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি থেকে এ অর্থ আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নগদ লভ্যাংশের ৫০০ কোটি টাকার মতো আমাদের হাতে এসেছে। বোনাস শেয়ারও আসছে।

আশা করছি, ধীরে ধীরে সব চলে আসবে। ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অবণ্টিত লভ্যাংশের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো এই টাকা দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এলে ব্যাংকের টাকাও আসবে।

এদিকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টানা ১০ বছর ধরে লেনদেন হয় না এমন হিসাবে গ্রাহকদের প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা জমা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এসব অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অদাবিকৃত আমানত হিসাবে ‘আনক্লেইমড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট’ জমা করেছে।

এসব হিসাবধারীর তালিকা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। কোনো গ্রাহক বা তার উত্তরাধিকারী টাকা দাবি করলে ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এনে তা ফেরত দিচ্ছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী ১০ বছর ধরে কোনো ব্যাংক হিসাবে লেনদেন না হলে এবং ওই আমানতের গ্রাহককে খুঁজে না পাওয়া গেলে সে অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে ‘আনক্লেইমড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট’ নামে একটি হিসাব খোলা হয়েছে। ওই হিসাবে ব্যাংকগুলো এসব টাকা জমা করে।

নিয়ম অনুযায়ী, আমানতের গ্রাহক বা তার উত্তরাধিকারীদের ফিরিয়ে দিতে হিসাবধারীর নাম, হিসাব নম্বর ও টাকার পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ সময় কোনো দাবিদার উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারলে তার অর্থ ফেরত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সরিয়ে ফেলার পর আরও এক বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই অর্থ ফেরত দিতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না নিলে তা সরকারি হিসাবে জমা করে দেওয়া হয়। প্রতিবছর এ হিসাব হালনাগাদ করা হয়।

ব্যাংকগুলোকে তাদের বার্ষিক হিসাব চূড়ান্ত করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে বছরে একবার এসব তথ্য পাঠাতে হয়। সূত্র জানায়, অনেক কারণেই কোনো কোনো হিসাবে দীর্ঘ সময় ধরে লেনদেন হয় না। এরমধ্যে রয়েছে- গ্রাহকের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী যোগাযোগ না করলে, হিসাবে কোনো সমস্যা হলে, হিসাবটি কেওয়াইসি (গ্রাহককে জানা) অসম্পূর্ণ থাকলে এবং গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ না করা উল্লেখযোগ্য। ওই সব হিসাবের অর্থ অদাবিকৃত অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।

নিত্যপণের বাজারে আগুন, মানুষের মাথায় হাত

আমন মৌসুম শেষে বাজারে নতুন চাল আসায় দাম কমার কথা। কিন্তু কমেনি। মিলপর্যায় থেকে শুরু করে পাইকারি আড়ত ও খুচরা বাজারে চালের মজুত পর্যাপ্ত। থরেবিথরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বস্তা। তবুও কয়েক মাস ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সব ধরনের চালের দাম।

সর্বশেষ এক মাসের ব্যবধানে মোটা চালের দাম কেজিতে ৩-৫ টাকা বেড়ে ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ১৫ টাকা বেড়েছে। এছাড়া ভোজ্য তেল, আটা-ময়দা, চিনি, মুরগি ও গরুর মাংস এবং ডিমের দাম আরেক দফা বেড়েছে। এসব পণ্য কিনতে সব শ্রেণির ক্রেতার নাভিশ্বাস উঠছে।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার নয়াবাজার, কাওরান বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষ মোটা চালের ক্রেতা। আর এই চাল রাজধানীর সব বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়, যা এক মাস আগে ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আর গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৪৩-৪৫ টাকা। খুচরা বাজারে মাঝারি আকারের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৪-৫৭ টাকা, যা এক মাস আগে ৫২-৫৫ টাকা ছিল। আর গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকায়। সরু চাল মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৬২-৭০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকায়। আর গত বছর একই সময়ে ৫৮-৬৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিন সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের মূল্যতালিকায়ও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চাল ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি এই একই চাল গত বছর একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি সরু চাল গত বছর একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কাওরান বাজারের চালের পাইকারি আড়তদার আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমরা চালকল মালিকদের দিকেই তাকিয়ে থাকি। তারা চালের যে দাম ঠিক করে, আমরা সে দামেই কিনে বিক্রি করি। যদি মিল মালিকরা দাম বাড়ায় বা কমায়, পাইকারি ব্যবসায়ীরা সে দামে কিনে বিক্রি করেন। চালের দাম বাড়া বা কমার ক্ষেত্রে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দায়ী নন। সংশ্লিষ্টদের এদিকে নজর দিতে হবে।

অন্যদিকে বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, ভোজ্য তেল, আটা-ময়দা, চিনি, মুরগি ও গরুর মাংস এবং ডিমের দাম বেড়েছে। ফলে এসব পণ্য কিনতে সব শ্রেণির মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৬৫ টাকা, যা সাত দিন আগে ১৫৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৬৮ টাকা, যা সাত দিন আগে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া খোলা পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ১৪৫ টাকা, যা আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি লিটার পাম অয়েল সুপার বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা, যা সাত দিন আগে ১৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা সপ্তাহ আগে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা। প্রতিকেজি চিনি সপ্তাহের ব্যবধানে ২ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. সালাউদ্দিন বলেন, বাজারে এলে কান্না পায়। কারণ আয় বাড়ে না, ব্যয় বাড়ে। তিনি জানান, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকা বেতন পান। কিন্তু পণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে দুই ছেলে, মা ও স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

ভাবখানা এমন যে একটা দলই দেশ স্বাধীন করেছে: মির্জা ফখরুল

সরকার ইতিহাস বিকৃতি করছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভাবখানা এমন যে, একটা দলই দেশ স্বাধীন করেছে।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতার’ ফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় যে, একজন ব্যক্তিই দেশ স্বাধীন করেছেন, একটা দলই দেশ স্বাধীন করেছে। মুক্তিযুদ্ধে আর কারও অবদান ছিল না। তারা মিথ্যাচার করছে। মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর্বতসম ভূমিকাকে খাটো করার অপচেষ্টা করছে সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

সার্চ কমিটি নয় এটি হলো ক্রাশ কমিটি: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিশিরাতের সরকারের বানানো সার্চ কমিটিকে বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে। সেখানে নাম দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য সরকারের মন্ত্রীরা মিথ্যাচার করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার সকালে জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সার্চ কমিটিতে যারা আছেন, সবাই আওয়ামী লীগের। মূলত এটি সার্চ কমিটি নয়, এটি হলো ক্রাশ কমিটি। তাদের দিয়ে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে তারাও তাই হবে। এ কমিটির মাধ্যমে যে ইসি গঠিত হবে, তারা জালিয়াতি ও পাতানোর নির্বাচনই উপহার দেবে। আরেকটি পাতানো নির্বাচন আয়োজনের জন্য শেখ হাসিনা তা করেছেন। আমরা পরিষ্কার বলে দিতে চাই— এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। আন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করে তাদের দ্বারা গঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।

নিত্যপণ্য ও দ্রব্যের ভয়ঙ্কর ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এখন শীতকাল রবিশস্যের মৌসুম। এখন নিত্যপণ্যের দাম কম থাকার কথা। অথচ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতির কারণে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। সেদিকে তাদের কোনো নজর নেই। জনগণ বাঁচুক না বাঁচুক, তাদের কিছু যায় আসে না। বর্তমানে মিথ্যাই হয়েছে তাদের একমাত্র অবলম্বন। এ সময় তিনি তাঁতশিল্প ধ্বংসের জন্য সরকারকে দায়ী করেন।

এ সময় তাঁতি দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিকে সশরীরে ক্লাস শুরু ১ মার্চ

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুব রহমান তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১ মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশরীরে পাঠদান শুরু হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস এখনই শুরু হচ্ছে না। এ বিষয়ে দুই সপ্তাহ পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১ মার্চ থেকে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।

স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার দৈনিক ৩২ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেবে। ১২-১৭ বছর বয়সি এক কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থী আছে। তাদের মধ্যে ৩৪ লাখ শুধু দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছে। আর প্রথম ডোজ পেয়েছে এক কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার।

সেই হিসাবে শ্রেণিকক্ষে বসতে হলে প্রায় ৯৬ লাখ ছাত্রছাত্রীকে উভয় ডোজ টিকা পেতে হবে। তাদের ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টিকার আওতায় আনা হবে। এর পর ২২ ফেব্রুয়ারি উন্মুক্ত করা হবে শ্রেণিকক্ষের দ্বার।

ইতোমধ্যে ইউনিসেফ-ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা স্কুল খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এভাবে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ দুইয়ের ঘরে থাকা সত্ত্বেও সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

ডব্লিউএইচওর নীতি অনুযায়ী, ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে টিকা দেওয়া থাকলে ব্যতিক্রম চিন্তাও করা যায়। যে কারণে শুধু টিকাপ্রাপ্তরা স্কুলে বসার বিবেচনা পেল।

তবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বুধবার রাতে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতীয় কমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

এর আগে করোনার সংক্রমণের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথম বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে। ৫৪১ দিন ছুটির পর গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান শুরু হয়।

১৩ জানুয়ারি ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর পর ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ নতুন করে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রথম দফায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল, পরে যা বাড়িয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি করা হয়।