শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 460

ইয়াবা-গাঁজাসহ ৫৩ জনকে গ্রেফতার

ইয়াবা-গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেনাবেচায় জড়িত সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১৭৭৬ পিস ইয়াবা বড়ি, ২৫৪ গ্রাম ৬০ পুরিয়া হেরোইন, ২৪ কেজি ২০ গ্রাম গাঁজা ও ৩০ বোতল ফেনসিডিল।

তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৯টি মামলা করা হয়েছে।

স্ত্রীর চিকিৎসার বিল মেটাতে এমবিবিএস ডিগ্রি বন্ধক!

করোনায় গুরুতর অসুস্থ স্ত্রী। তাকে বাঁচাতে প্রাইভেট হাসপাতালের ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ টাকা বিল। পরে সেই বিল মেটাতে নিজের এমবিবিএস ডিগ্রি বন্ধক রাখেন ৩২ বছর বয়সি চিকিৎসক সুরেশ চৌধুরী।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজস্থানে। স্ত্রী অনিতা ও পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে পালি জেলার খেরওয়া এলাকায় থাকেন সুরেশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, গত বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অনিতা। তার করোনা ধরা পড়ে। শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য উপসর্গ বাড়তে থাকায় অনিতাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান সুরেশ। কিন্তু রোগীর ভিড়ে শয্যা মেলেনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে জোধপুর এমসে ভর্তি করতে হয়।

সুরেশ নিজেও পে শায় চিকিৎসক। ফলে স্ত্রীর দেখভালের জন্য একটানা ছুটি নেওয়া তার পক্ষেও সম্ভব ছিল না। নিকটাত্মীয়ের ওপরে স্ত্রীর দেখাশোনার ভার দিয়ে সে সময় নিজে রোজ হাসপাতালের ডিউটি করেছেন সুরেশ। এদিকে দিনে দিনে অনিতার অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

সুরেশ জানতে পারেন, অনিতার ফুসফুসের ৯৫ শতাংশ বিকল হয়ে গেছে। ততদিনে হাল ছেড়ে দিয়েছেন অনিতার চিকিৎসকরা। তবে স্ত্রীকে সুস্থ করে ঘরে ফেরাতে বদ্ধপরিকর ছিলেন সুরেশ।

উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালের ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। বেসরকারি হাসপাতালে ওই চিকিৎসা চালাতে রোজ প্রায় ১ লাখ টাকার কাছাকাছি বিল হয়েছিল। তার জমানো ১০ লাখ টাকা দিয়েও সেই বিল মেটানো সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে নিজের এমবিবিএস ডিগ্রি বন্ধক রেখে ৭০ লাখ টাকা পান।

এ ছাড়া জমি বিক্রি, বন্ধুদের থেকে ধারদেনা করে জোগাড় হয় আরও কিছু। অবশেষে হাসপাতালের বিল মিটিয়ে স্ত্রীকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরেন সুরেশ।

এসকে সুর দম্পতির দুই কোটি টাকা কর ফাঁকি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এসকে) সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী বিনিয়োগের তথ্য গোপন করে পৌনে দুই কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন।

কর ফাঁকি দিতে তারা মেয়ে নন্দিতা সুর চৌধুরীকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। মেয়ের অ্যাকাউন্টে তারা বিশাল অঙ্কের লেনদেন করেছেন।

এ ছাড়া সুপর্ণার রয়েছে সাড়ে তিন কেজির বেশি স্বর্ণ। বিভিন্ন ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ ও অর্ধকোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এত বিপুল অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কিনলেও তার পুরোটা তিনি আয়কর রিটার্নে না দেখিয়ে কর ফাঁকি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে এসকে সুর চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে দুই দিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

পুরো ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে এসএমএস করলেও তার উত্তর দেননি। এরপর মঙ্গলবার সকালে তার ধানমন্ডির বাসায় দেখা করতে গেলে তিনি দেখা করেননি।

মূল গেটে রিসিপশন থেকে পিএবিএক্সের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘এখানে কী? এখানে কোনো কথা বলা যাবে না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসকে সুর ও তার স্ত্রী সুপর্ণার কর ফাঁকির তদন্তে নামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক হিসাব তলব এবং ৭ জুলাই তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়। সাত মাস অনুসন্ধানের পর সিআইসি তাদের বিপুল আয়কর ফাঁকির প্রমাণ পায়।

ইতোমধ্যে কর ফাঁকি সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে পাঠিয়ে ফাঁকি দেওয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, করঅঞ্চল-১৫ এর ৩২২ সার্কেলের করদাতা এসকে সুর এবং তার স্ত্রী সুপর্ণা করঅঞ্চল-৫ এর করদাতা। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই আয়কর রিটার্নে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের তথ্য গোপন করেছেন।

আয়কর রিটার্নে তারা যে পরিমাণ বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন-ব্যাংক হিসাব তলবের পর সিআইসি তার চেয়ে বেশি বিনিয়োগের হদিস পেয়েছে।

সঞ্চয়পত্রে এসকে সুরের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। সুপর্ণার ৫০ লাখ টাকার বিনিয়োগ পাওয়া গেছে।

এমনকি আয়কর ফাঁকি দিতে তারা মেয়ের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেই অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থের লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে সিআইসি।

সিআইসির হিসাব অনুসারে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত এসকে সুর চৌধুরী সুদসহ ৮৫ লাখ টাকার বেশি আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। সুপর্ণা সুদসহ প্রায় ৯০ লাখ টাকার বেশি আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী মিলে বিনিয়োগের তথ্য গোপন করে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন।

এছাড়া সুপর্ণা শুধু সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের তথ্যই গোপন করেননি, রিটার্নে অস্বাভাবিক স্বর্ণালংকারের মালিকানার তথ্য দেন যা পরে বিক্রি হিসাবে দেখানো হলেও কর পরিশোধ করেননি। রিটার্নে সুপর্ণা সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণালংকারের তথ্য দেন। এরপর দুই করবর্ষে তিনি তিন কেজি স্বর্ণ বিক্রির তথ্য দেন, যা সিআইসির কাছে সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুপর্ণা পেশায় গৃহিণী। অতীত ও বর্তমানে কখনোই তিনি চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অথচ আয়কর নথিতে তাকে বিবিধ মালের ব্যবসায়ী হিসাবে দেখানো হয়েছে।

মূলত বিশাল অঙ্কের সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকে বৈধতা দিতে এবং এ নিয়ে সরকারি কোনো সংস্থা যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে সেজন্যই ব্যবসায়ী হিসাবে দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসকে সুর চৌধুরীর সংশ্লিষ্ট সার্কেলের সহকারী করকমিশনার আবু আনছার মো. বাকি বিল্লাহ বলেন, সিআইসির পাঠানো প্রতিবেদন সদর দপ্তরে (কর কমিশনারের কার্যালয়) আছে। এখনো হাতে পাইনি। পেলে সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর আদায়ে কঠোর নির্দেশ : ফাঁকি দেওয়া কর আদায়ে ১৪৩ ও ১৬৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সিআইসির পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ১৪৩ ধারায় বলা হয়েছে-করদাতার অর্থ বা পণ্য বা সম্পদ জমা রয়েছে-এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কর আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নোটিশ দিতে পারবেন। সাধারণত এ ধরনের নোটিশ যে ব্যাংকে করদাতার অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই ব্যাংকে পাঠানো হয়। নোটিশে ফাঁকি দেওয়া করের সমান অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত থাকলে অথবা পাওনার সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা হওয়ামাত্র অথবা খেলাপকারীর অর্থ বৈধভাবে ব্যাংকের অধিকারে আসামাত্র তা এনবিআরের কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ১৬৫ ধারা অনুযায়ী-ইচ্ছাকৃতভাবে রিটার্নে অসত্য তথ্য দিলে অথবা হিসাব, বিবৃতি, সার্টিফিকেট বা মিথ্যা ঘোষণা দিলে সর্বনিু তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণত কর কর্মকর্তারা অর্থদণ্ড দিয়ে থাকেন।

উল্লেখ্য, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেন প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)। এ অনিয়মে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরীর সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।

সিএমএম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বলেন, এসকে সুর চৌধুরীকে ‘ম্যানেজ’ করে পিকে হালদার অর্থ লোপাট করেছেন।

ব্যাংক খাতে ৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত

ব্যাংক খাতে দুর্নীতি থেমে নেই। এবারও ৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি উঠে এসেছে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) প্রতিবেদনে।

আর্থিক খাতের দুর্বৃত্তরা নানা কৌশলে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা বের করে নিয়েছে। বিশেষ করে ঋণখেলাপি হয়ে এবং খাস জমি মর্টগেজ রেখে ঋণ নিয়ে গেছে।

অস্তিত্ব ও যোগ্যতাহীন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ঘটনা আছে। ভুয়া বন্ধকি নিয়েও ঋণ ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে। এভাবেই ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম হয়েছে।

সিএজির প্রতিবেদন খুব শিগগিরই হস্তান্তর করা হবে রাষ্ট্রপতির কাছে। এরপর তা উপস্থাপন করা হবে জাতীয় সংসদে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বিগত কয়েক বছরের ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় অনেক মামলা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জড়িত অনেকে এখন জেল খাটছে। এরপরও সিএজির প্রতিবেদনে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম উঠে আসছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হতে হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও বিআইডিএসের সাবেক ডিজিএম কে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, কোনো অনিয়মই গ্রহণযোগ্য নয়।

যে খাতে যত বেশি অনিয়ম সে খাতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা তত বেশি। ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অনিয়ম প্রমাণ মিলছে এ খাতের দুর্বলতার।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বিগত সময়ে ব্যাংকিং খাতে অনেক সংস্কার করেছে। কিন্তু বাস্তবে এখনো অনেক দুর্বলতা রয়েছে।

আগামী দিনের লক্ষ্য অর্জনে এটি বড় বাধা। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের অনিয়ম শেষ পর্যন্ত প্রকৃত খাতেও এর প্রতিফলন ঘটে। এখন দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক আরও সংস্কার করতে হবে।

সূত্র জানায়, প্রতিবছর সরকারের বাজেটের টাকা ব্যয়ের ওপর সিএজি নিরীক্ষা করে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের ওপর বিশেষভাবে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হয়। কারণ কয়েক বছর ধরে সবচেয়ে বড় অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে এ খাত ঘিরে।

সিএজি হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অঙ্ক ছিল ৬৫২ কোটি টাকা। নিরীক্ষা বিভাগই তা শনাক্ত করে।

আর সর্বশেষ ২০২০ সালে যে রিপোর্ট তৈরি করেছে সেখানে ৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে। এর আগের বছর ব্যাংকিং খাতে অনিয়মের অঙ্ক ছিল ১০ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা।

তবে অনিয়ম হ্রাস পাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, এরপর খোলা ছিল সীমিত পরিসরে। ওই সময়ে ব্যাঘাত ঘটেছে সিএজির নিরীক্ষা কার্যক্রমে। মাঠ পর্যায়ে নিরীক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা সম্ভব হয়নি। ফলে এ ব্যবধান দাঁড়াতে পারে।

সিএজির প্রতিবেদনে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ১৬৯৯ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ৯৩৪ কোটি টাকার অনিয়ম নিয়ে বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যান্য ব্যাংকের অনিয়ম চিহ্নিত হয় আরও ১২৩৫ কোটি টাকার। অনিয়মের কারণ হিসেবে ঋণ বিতরণ নীতিমালা অনুসরণ না করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন বিভ্রান্তিকে দায়ী করা হয়।

এছাড়া আর্থিক বিধিবিধান ও সরকারের বিভিন্ন সময়ে আদেশ অমান্য, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও নিরীক্ষা কার্যক্রম দুর্বল থাকার বিষয়টি কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

সূত্রমতে, সিএজি এবার রূপালী ব্যাংকের অনিয়মের ওপর বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে মেয়াদি ঋণ আদায় না করে ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে এলটিআর (লোন এগিনিণ্ট ট্রাস্ট রিসিপট বা বিশ্বাসী ঋণ) সৃষ্টি করা।

এ কারণে ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে ১২৮ কোটি টাকা। গ্রাহক এই টাকা ফেরত দেয়নি। এছাড়া মঞ্জুরিশর্ত লঙ্ঘন করে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের সীমারিক্ত ঋণ দেওয়া হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

এটিও শেষ পর্যন্ত ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামানতবিহীন এলটিআর সৃষ্টি, ত্রুটিপূর্ণ রপ্তানি বিলের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া, শাখা ব্যবস্থাপনার যোগসাজশে এসএমই ঋণ দেওয়া হয়েছে।

একটি ঘটনায় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ দেওয়া, ওই টাকা নিয়ে আংশিক চালুর পর রুগ্ণ হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি জালিয়াতি ও নিকাশের (ক্লিয়ারিং) মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, শর্ত অনুযায়ী ঋণ সমন্বয় না করায় খেলাপি হওয়াসহ আরও একাধিক ঘটনায় ব্যাংকের ১৪২ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে।

রূপালী ব্যাংক ছাড়াও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ওপর নিরীক্ষায় দেখা গেছে, সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে ইনভেস্টর হিসেবে ঋণসীমার অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়েছে।

ফলে জামানত অপেক্ষা দায় বেশি হওয়ায় কোম্পানির হিসাব রুগ্ণ হয়ে পড়ে। এতে আইসিবির ২১০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। এছাড়া ১৮২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে আইসিবি সিকিউরিটিজ কোম্পানি লিমিটেডকে।

কিন্তু সে ঋণ ফেরত আসেনি। আরও একটি বড় অনিয়ম ধরা পড়ে ২৭৬ কোটি টাকার। অস্বাভাবিকভাবে ইনভেস্টর মার্জিন ঋণ লেনদেনের মাধ্যমে এ অনিয়ম হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সীমার অতিরিক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ঋণের টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি বড় ব্যাংকে অনিয়মের অঙ্ক ৭৩৮ কোটি টাকা শনাক্ত হয়েছে। অনিয়মের ধরন থেকে জানা গেছে, একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান একে অপরের ওপর ঋণপত্র স্থাপন দেখিয়ে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া অপর একটি ঘটনায় আরও ১০৮ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত হয়।

এছাড়া ভুয়া রপ্তানি বিল, এলটিআর ঋণের বিশ্বাসভঙ্গ, ঋণের টাকা নিয়ে ব্যবসা বন্ধসহ নানাভাবে প্রায় ৫শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। উল্লিখিত ছাড়া আরও নানা ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে বড় অঙ্কের তছরুপ হয়েছে ব্যাংকটিতে।

ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, দুর্নীতি এতটাই বিস্তৃত যে, এর বাইরে থেকে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না।

এটা নিচ থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাংক পরিচালনার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের অনেকেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। যারা ঋণ নেন, তাদেরও অনেকে দুর্নীতিগ্রস্ত।

এ দুই পক্ষের মধ্যে যোগসাজশ আছে। যারা ঋণ নেন, তাদের মধ্যে অনেকে এত প্রভাবশালী, তাদের কথা না শুনলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকরিও যেতে পারে। কিছু কিছু ব্যাংকের মালিকপক্ষই দুর্নীতিগ্রস্ত। তারাই তাদের ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে ফেলে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৩ নেতা বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এরা হলেন- আদাবর থানার ১০০নং সাংগঠনিক ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক কেএম রুহুল আমিন ভূইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক বাদল ভূইয়া ও মহিমুল হাসান শিপলু।

বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও সদস্য সচিব আমিনুল হক এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির অন্তর্গত এই ওয়ার্ডসহ ৩৬টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

সার্চ কমিটির কার্যক্রম তামাশা: বিএনপি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটির কার্যক্রম তামাশা ছাড়া কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, এই সার্চ কমিটির একমাত্র লক্ষ্য হলো জনগণকে বিভ্রান্ত করা, ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া। এত এত পদ্ধতিতে, সুশীল সমাজের মতামত নিয়ে এতগুলো নাম প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন হচ্ছে- এটাই তারা দেখাতে চায়। মূলত গত দুটি নির্বাচনের মতো একই পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।

বুধবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত সোমবার দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা হয়। এ সভার সিদ্ধান্ত জানাতেই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ওই সভায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ ছাড়া সভায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত ভয়াবহ মর্মান্তিক বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা এবং হাজার হাজার বিডিআর সদস্যদের গ্রেফতার ও বিচারে সাজা প্রদান বিষয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি আলোচনা সভা ও বনানী কবরস্থানে জিয়ারতের সিদ্ধান্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি মনে করে যে, এখন সার্চ কমিটিতে নাম প্রেরণ এবং নির্বাচন কমিশন গঠন একেবারেই অর্থহীন। বিএনপি বিশ্বাস করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখার নীলনকশার অংশ হিসাবে পুনরায় নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকারি তৎপরতা সেই চক্রান্তের অংশ।

স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো অবস্থাতেই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচনে এই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আমরা মনে করি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সবার গ্রহণযোগ্য একটি অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক পার্লামেন্ট ও সরকার প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ।

আইনমন্ত্রী ও উপদেষ্টার ফোনালাপের তদন্ত দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সম্প্রতি আইনমন্ত্রী ও সরকারের একজন উপদেষ্টার ফাঁস হওয়া ফোনালাপটির সত্যতা আইনমন্ত্রী স্বীকার করেছেন। তাই এই ফোনালাপের বিষয়বস্তুগুলো অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা এবং ফোনালাপের আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত, জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরা এবং জবাবদিহিতা জরুরি। কারণ ফোনালাপে গুরুতর দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। অবিলম্বে এই ফোনালাপ ফাঁস হওয়া বিষয়ে শুধু তদন্ত নয়, এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া অতীতে ফাঁস হওয়া ফোনালাপ সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্তও দাবি করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ভ‚তের মুখে রাম নাম বলে একটা কথা আছে তো। আওয়ামী লীগের মুখে গণতন্ত্রের কথা হচ্ছে সেটাই। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসই করে না, যারা গণতন্ত্র প্র্যাকটিস করে না, প্র্যাকটিস করার সুযোগ দেয় না- তারা গণতন্ত্রের কথা বলে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সভায় সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সিন্ডিকেট অপতৎপরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভা মনে করে এ ধরনের সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে অতি উচ্চব্যয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশি শ্রমিকদের বাধ্য করে তাদের নিঃস্ব করার অমানবিক প্রক্রিয়াকে সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে। কর্মসংস্থানহীন যুবকরা জমি, বাড়ি, স্ত্রী অথবা মায়ের অলংকার বিক্রি করে সরকারের এহেন হীন কর্মকাণ্ডে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হচ্ছে। সভা অবিলম্বে এসব সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত ব্যয়ে বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি করেছে। এছাড়া সভায় ক্রমবর্ধমান নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি চাল, ডাল, তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং তেল, গ্যাস ও পানির মূল্য ধাপে ধাপে বৃদ্ধিতে স্বল্পবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী মানুষের চরম ভোগান্তির বিষয়ে আলোচনা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, সভা মনে করে অনির্বাচিত সরকারের চরম দুর্নীতি, অপব্যয় এবং অপরিকল্পিত ভ্রান্তনীতির কারণে অস্বাভাবিক হারে সব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে কুইকরেন্টাল প্রজেক্টে জবাবদিহিহীনভাবে বিনিয়োগ, ঢাকা ওয়াসায় সীমাহীন দুর্নীতি, অব্যবস্থপনার কারণে মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। সভা অবিলম্বে পানি, গ্যাস, তেলের মূল্য বৃদ্ধি বন্ধ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য হ্রাসে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বশরীরে পাঠদান ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু করা হবে।

হেরোইন-ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৬৩

হেরোইন-ইয়াবা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ৪৫ গ্রাম ১৪০ পুরিয়া হেরোইন, ১৫৪৫৮ পিস ইয়াবা, ১৭ কেজি ৮৪০ গ্রাম ৯০ পুরিয়া গাঁজা ও ৯ বোতল ফেনসিডিল।

বুধবার সকাল ছয়টা থেকে বৃহস্পতিবার একই সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫০ টি মামলা করা হয়েছে।

রিয়েলমি ৯ আই- ৩৩ ওয়াট ডার্ট চার্জিং ও স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০ প্রসেসরের সেরা পারফর্মার

হালের স্মার্ট দুনিয়ায়, প্রতি বছরই আসছে নতুন সব ইনোভেশন। ক্যানালিসের প্রতিবেদন অনুসারে দেশের সেরা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি তরুণদের সেরা পছন্দ। তরুণরা চান নতুনত্ব। ডিজাইন, স্পেসিফিকেশন, ইনোভেশনে সবসময়ই দারুণ সব স্মার্ট ডিভাইস নিয়ে আসছে রিয়েলমি।

সম্প্রতি, রিয়েলমি দেশের বাজারে এনেছে এর ৯ সিরিজের প্রথম ফোন রিয়েলমি ৯ আই। ফোনটির ভিন্নধর্মী ডিজাইন নিশ্চিতভাবেই ফ্যাশন সচেতন তরুণদের জীবনধারায় যুক্ত করবে নতুন মাত্রা আর এর দুর্দান্ত প্রসেসর কাজের গতি বাড়াবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিটঃ https://www.realme.com/bd/realme-9i

দ্রুতগতির প্রসেসর – দেশের প্রথম স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০, ৬ ন্যানোমিটার

রিয়েলমি ৯ আই শুধু দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, এর কার্যক্ষমতাও আপনাকে মুগ্ধ করবে। এটি ৬ ন্যানোমিটারের শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০ চিপসেট যুক্ত বাংলাদেশের প্রথম স্মার্টফোন। নতুন এই চিপসেটটি ৬২ শতাংশ কম শক্তি খরচ করে এবং ১২ ন্যানোমিটারের প্রসেসরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি কার্যক্ষমতা প্রদান করে। এর সিপিইউ’র পারফরমেন্স কাজে এনে দিবে দুর্দান্ত গতি আর অ্যাড্রেনো ৬১০ জিপিইউ কোনো ল্যাগ ছাড়াই দিবে ঝামেলাহীন গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা। এর এআই পারফরম্যান্স মোবাইল কাজ করার অভিজ্ঞতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

৯০ হার্টজ অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেটযুক্ত এফএইচডি প্লাস ডিসপ্লে

৯০ হার্টজ বিশিষ্ট অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেটযুক্ত ও ৯০.৮% স্ক্রিন-টু-বডি ফুল স্ক্রিনের ৬.৬ ইঞ্চির ডিসপ্লেতে গেমিং, ব্রাউজিং, ভিউইয়িংয়ের অভিজ্ঞতা হবে অসাধারণ।

২৪১২X১০৮০ এফএইচডি+ ডিসপ্লের সাথে হাই-রেস অডিওর ডুয়াল স্ট্রেরিও স্পিকার মোবাইলে মুভি বা ভিডিও কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতাকে করবে অত্যন্ত আনন্দদায়ক। এছাড়া, মোবাইল স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ৪৮০ নিট থেকে ১ নিটে নেমে আসতে পারে বিধায় রাতের অন্ধকারে ফোন চালালে চোখের ওপর চাপ কম পড়বে।

শক্তিশালী ব্যাটারি

রিয়েলমি ৯ আই-তে ৫,০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি রয়েছে। তবে, ৬ ন্যানোমিটার প্রসেসরের কারণে আগের জেনারেশন থেকে ৯ আই এর ব্যাটারি লাইফ ৪৬ শতাংশ বেশি। এটি এই সেগমেন্টের প্রথম ৩৩ ওয়াট ডার্ট চার্জিং ফিচারযুক্ত ফোন, যা মাত্র ৭০ মিনিটে শূন্য থেকে একেবারে ফুল চার্জ হয়ে যাবে।

৯৯৫ ঘন্টা স্ট্যান্ডবাইর কারণে এতে টানা ৪৮.৪ ঘন্টা ফোনে কথা বলা যাবে ও ১১৬.৩ ঘন্টা টানা গান শোনা যাবে। সুপার পাওয়ার সেভিং মোড, অ্যাপ কুইক ফ্রিজ, স্ক্রিন ব্যাটারি অপটিমাইজেশন ও পাওয়ার সেভিং মোডের মতো সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশান অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে ফোনটি চালানো যাবে দীর্ঘ সময়। সেরা ফিচারের সাথে সেরা মানের স্মার্টফোন- রিয়েলমি ৯ আই।

৯০ মিলিয়ন ভিডিও সরিয়েছে টিকটক

শর্ট ভিডিও তৈরির প্ল্যাটফর্ম টিকটকে কমিউনিটি গাইডলাইন না মানায় ৯১ মিলিয়ন ভিডিও সরিয়েছে। ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী ৯১ মিলিয়নেরও বেশি ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩.৯ শতাংশ হয়রানি এবং ৭২.৪ শতাংশ প্রতিহিংসামূলক ভিডিও সক্রিয়ভাবে সরানো হয়েছে। সক্রিয় অপসারণ পদ্ধতিতে এ ভিডিওগুলোতে কেউ রিপোর্ট করার আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। টিকটক প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও কিছু ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ভিডিও এবং রাশিয়াতে প্রায় ৭ মিলিয়ন ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, মিলিয়ন মিলিয়ন স্প্যাম অ্যাকাউন্টের সঙ্গে জাল সম্পৃক্ততা রোধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসাবে টিকটক প্ল্যাটফর্ম থেকে বিলিয়ন ফেক লাইক, ফলোয়ার এবং ফলো রিকোয়েস্ট স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে কোভিড-১৯ সংবলিত ৪৬ হাজারেরও বেশি ভুল তথ্যের ভিডিওসহ মোট ৮২.৮৬ শতাংশ ভিডিও সক্রিয়ভাবে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানো হয়েছে। যার মধ্যে নগ্নতা এবং যৌন কার্যকলাপ, শিশু নিরাপত্তা এবং অবৈধ কার্যকলাপ এবং নিয়ন্ত্রিত পণ্য অন্যতম।