শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 458

সুপ্রিম কোর্টে রায় বাংলায় লেখা শুরু হয়েছে: প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টে বাংলায় রায় লেখা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী । এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে আলাদা শাখা চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সাধারণ মানুষ ও বিচারপ্রার্থীরা যেন আদালতের রায় বুঝতে পারে, তাই ইংরেজিতে দেওয়া রায় বাংলায় অনুবাদ করতে সুপ্রিম কোর্টে যুক্ত হয়েছে নতুন সফটওয়্যার ‘আমার ভাষা’। বলা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওই সফটওয়্যারটি দিয়ে রায়গুলো বাংলায় অনুবাদ করা যাবে।

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আরও বলেন, আজকের দিনে আমাদের মহান ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আর তারা যে চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেদিন ভাষার জন্য শহীদ হয়েছিলেন, আমাদেরও সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।

যে প্রক্রিয়ায় ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করছে সার্চ কমিটি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে চূড়ান্তভাবে নাম বের করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

তিনি বলেন, নতুন আইনের আওতায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনের পর এ পর্যন্ত আমরা নিজেদের মধ্যে ৬টি মিটিং করেছি। আরেকটি মিটিং বাকি আছে। ২২ ফেব্রুয়ারি সপ্তম মিটিং করার মধ্য দিয়ে আপাতত আমাদের কাজ শেষ করতে পারব।

এছাড়া চারটি মিটিং করেছি সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। প্রথমে ৩২২ জনের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই নাম প্রকাশের পর চারজন বিশিষ্ট সাংবাদিক আমাদের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের আমরা ডেকেছি।

তারাও কিছু নাম দিয়ে গিয়েছেন। আমরা নাম জমা দেওয়ার সময় একদিন বাড়িয়েছিলাম। এরপরও বলেছিলাম, কেউ যদি বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নাম দেয়, তাহলে সেই নামগুলোও বিবেচনায় নেব। সময় বাড়ানোর পর কিছু রাজনৈতিক সংগঠন নাম পাঠিয়েছে। সব নাম বিবেচনায় নিয়ে গত পঞ্চম সভায় ২০ জনের নাম বাছাই করা হয়। সেখান থেকে ১২-১৩ জনের তালিকা করেছি।

প্রস্তাবিত নামের বাইরে আর কোনো নাম আছে কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের সেই এখতিয়ার আছে। তবে আমরা সেটা করতে চাই না। সার্চ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটির প্রধান বলেন, আইন যতটুকু কভার করে ততটুকুর মধ্যে থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।

জাতীয় কল্যাণে অর্ধশতাব্দীর ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিতে চাই

মাওলানা আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী আল-আযহারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য একজন মানুষ। তার আরো পরিচয় আছে। তিনি গণভবন ও সচিবালয় মসজিদের ভূতপূর্ব ইমাম ও খতিব।

তিনি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদাররেসিনের সাবেক সভাপতি, তিনি বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সভাপতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লেখক, গবেষক ও সম্পাদক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

ব্যতিক্রমী এ গুণী আলেমের বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন- তানজিল আমির

প্রশ্ন: ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। ভাষা আন্দোলনে আপনি সম্পৃক্ত ছিলেন? কীভাবে যুক্ত হন আন্দোলনে?

উত্তর: ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি জাতীয় ইতিহাসে মহীয়ান সন্দেহ নেই। কিন্তু ১৯৫২ সালে আমার বয়স মাত্র দশ বছর, আমি তখনো গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র, তাই অবদান রাখার বয়স ছিল না।

অবশ্য ১৯৫৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে যখন সিলেট শহরের বিখ্যাত সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হই, তখন ভাষা আন্দোলনের উদ্যোক্তা সংস্থা ‘পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিসের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে ‘তমদ্দুন’ নামে হস্তলিখিত ম্যাগাজিনের একাধিক সংখ্যা প্রকাশ করেছিলাম- যা হয়তো আজও কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে সংরক্ষিত আছে।

১৯৬২ সালে ঢাকায় সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার পর তমদ্দুন মজলিসের প্রাণপুরুষ অধ্যাপক আবুল কাসেম, অধ্যাপক শাহেদ আলী ও আব্দুল গফুর ভাই প্রমুখের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য লাভ করি এবং ওই বছর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অধ্যাপক (তখন তিনি বাংলা কলেজের প্রিন্সিপাল) আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কুরআন তিলাওত করেছিলাম।

প্রশ্ন: ১৯৭১ এর আগেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের আসন্ন পতন নিয়ে লেখালেখি করেছিলেন আপনি। কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

উত্তর: হ্যাঁ, ১৯৬৮ সালেই আমার লিখিত এবং আমাদের আঞ্জুমানে এজহারে হক (সত্যপ্রকাশ সমিতি) থেকে প্রকাশিত ইসলামের ডাক পুস্তকে- যা ইদানীং ‘নিমজ্জমান পাকিস্তানের শেষ অধ্যায়’ নামে পুন:প্রকাশিত হয়েছে- তাতে স্পষ্ট লিখেছিলাম, যেহেতু পাকিস্তানে ঘোষিত লক্ষ্য ইসলামী ও সমতা- ভিত্তিক ন্যায্য শাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে ওঠেনি, তাই এ রাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধভাবে টিকে থাকার ন্যায্যতা হারিয়েছে। এর পতন আসন্ন।

আমার পুস্তকটিতে প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ ও মওলানা নূর মোহাম্মদ আজমীর মত প্রখ্যাত আলেমের অভিমত সংযুক্ত ছিল। বাংলা একাডেমীর অনুবাদ বিভাগে তখন কর্মরত মওলানা মুজিবুর রহমান (হাকীম আল-মূতির পিতা) বলেছিলেন: এ হক কথার জন্যে মাওলানা আপনার কচি হাত পাষণ্ডরা মুচড়ে দিতে পারে! বলাবাহুল্য, আমি প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই কথাগুলো লিখেছিলাম।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন কীভাবে? এর পক্ষে আলেমদের সংগঠিত করতে পেরেছিলেন কতটা?

উত্তর: তখন আমার মতে, মওদুদীবাদই ছিল সবচেয়ে বড় ফিতনা। এদের অদূরদর্শী-মারমুখী জঙ্গী তৎপরতার কারণে এদেশে ইসলামী আন্দোলনের পথ চিরতরে রুদ্ধ হওয়ার যে আশঙ্কা আমি প্রকাশ করেছিলাম, তা তো এখন বাস্তব সত্যে পরিণত। আমি তাদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে ১৯৭০ সালে লালমাটিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলাম।

পক্ষকাল যাবৎ পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তার এক সহকর্মী আনোয়ার হোসাইনকে আমার কুশলবার্তা জানার জন্যে প্রেরণ করেছিলেন। জাতীয় নেতাদের অনেকেই- যেমন ন্যাপের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ, নেজামে ইসলামের নেতা মওলানা আবদুল মজীদ খাঁ প্রমুখ অনেকেই এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তাদের হামলাবাজির প্রতিরোধ আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানকারী সাংবাদিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেন ভাইকে তো এজন্যে প্রাণই দিতে হয়েছিল। জামাতীরা তাকে ও মাওলানা অলিউর রহমানসহ অনেককে ১৪ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এ রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে শহীদ করেছিল।

নাগালের মধ্যে পেলে ওরা আমাকে ও আমার অনুজ উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদীকে অবশ্যই হত্যা করতো। উবায়দুল্লাহ ৭ই মার্চেও ঐতিহাসিক ভাষণের পূর্বে কুরআন তিলাওয়াত করেছিল এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলা বেতারের শব্দসৈনিক ছিল। ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রিতে তিনি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় অফিসেই ছিল এবং তারপর তাকে আমি ভারতের শিলং পর্যন্ত গিয়ে দিয়ে আসি।

সেখানে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার পাটমন্ত্রী কালিয়াকৈরের শামসুল হক এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্যসচিব ডক্টর এম.এ. সামাদ ও আমরা একত্রে শিলং এর পাইনউড হোটেলে ছিলাম। দেশে ফিরে অনেকটা আত্মগোপনে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দেশবাসীকে সক্রিয় থাকার প্রেরণা যুগিয়ে গেছি।

স্থানীয় জামাতীরা তখনই সিলেট সদর থানায় খতরনাক মুক্তিযোদ্ধারূপে রিপোর্ট করেছিল- যা হয়তো এখনো খোঁজ করলে থানার রেকর্ডে পাওয়া যাবে। শান্তি কমিটি নেতা সরপঞ্চ কছীরুদ্দীন আমার দেশে ফেরার পর অনেক রকম জিজ্ঞাসাবাদ করে আমাকে ফাঁসাবার চেষ্টা করেছিলেন।

আবার এক জামাত নেতা পাক-বাহিনীর কমান্ডারের কাছে আমার সম্মুখেই আমার ছোট ভাইয়ের বঙ্গবন্ধুকে লিখিত চিঠির চোরাইকৃত ফটোকপি তুলে দিয়ে আমাকে নিশ্চিত হত্যার সম্মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে প্রতুৎ মতিত্বের দ্বারা সে যাত্রা আমি রক্ষা পেয়েছিলাম।

প্রশ্ন: বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের কিছু দিক যদি বলতেন।

উত্তর: বঙ্গবন্ধু পত্রপত্রিকায় আমার ও আমার ছোট ভাইয়ের বিভিন্ন সংবাদ পাঠে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি ছোট ভাইটিকে সিলেট থেকে নিয়ে এসে একেবারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিস ৫১ পুরানা পল্টনে দলের দফতর সম্পাদক পরবর্তীকালে দেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদউল্লাহ সাহেবের পাশের কক্ষেই স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেন। তখন তার কাজ ছিল দলের ধর্মীয় দিকটি দেখা; বঙ্গবন্ধুর ভাষায় সে ছিল তার লেফটেনেন্ট। ৭ই ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে যে দিন তিন জাতীয় নেতার মাজার জিয়ারতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন আজ থেকে এদেশ বাংলাদেশ (আর পূর্ব পাকিস্তান নয়) ওই দিনের মোনাজাতও সেই পরিচালনা করেছিল। তাদের সঙ্গে আবদুর রাজ্জাক ভাইও ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু তার সিলেটী সহকর্মীদের মুখ থেকে যখন জানতে পারলেন যে, ছোট ভাইর নামে প্রকাশিত লেখালেখির উৎস আমি, তখন তারই মাধ্যমে আমাকেও তিনি সক্রিয়ভাবে মাঠে নামার আহবান জানিয়ে ছিলেন। আমি তাকে বলি যে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আমার যা করার সবই আমি করবো, কিন্তু দলীয় প্লাটফর্ম থেকে করলে তার গ্রহণযোগ্যতা কম হবে।

বরং আমার নেপথ্য থেকে কাজ করাই অধিকতর কার্যকর হবে। সুতরাং আমার প্রধান কাজ ছিল লেখালেখি। কেননা, অসির চাইতে মসির জোর যে বেশী, তা তো সর্বজন স্বীকৃত। সম্পূর্ণ আলেম সমাজের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় হওয়াটা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের দুই ভাইয়ের সাথে আমরা উস্তাদ মাওলানা অলিউর রহমানকেও অত্যন্ত কৌশলে শামিল করে নিতে সমর্থ হয়েছিলাম।

তিনি জামাতীদের ‘ইত্তেহাদুল উলামা’ থেকে বের হয়ে সরাসরি আওয়ামী উলামা পার্টি গঠন করে স্বতন্ত্র ধর্ম দফতর প্রতিষ্ঠার ম্যান্ডেট নিয়ে এবং তাতে বঙ্গবন্ধুর সমর্থন ও অঙ্গীকার আদায় করে ময়দানে নেমেছিলেন- যার ফলশ্রুতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা সমর্থ হয়েছি। বঙ্গবন্ধু আমাদের কর্মের কতটা মূল্যায়ন করতেন তার বড় প্রমাণ হলো, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে তিনিই আমাকে প্রথম ওয়াজ মাওলানা পদে নিযুক্তি দিয়ে জুমার পূর্বে বক্তৃতার দায়িত্ব প্রদান করেন।

তিনি আমার ছোট ভাইকে দিয়ে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পূর্বে কুরআন তিলাওয়াত করান। তাকে মাওলানা তর্কবাগীশের সঙ্গে বায়তুল মুকাররম পরিচালনা কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করেন। ওই পর্যায়ে আমিই সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সীরাত মজলিস গঠন করে জাতির পিতাকে দিয়ে সীরাতুন্নবী জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করিয়ে বিশ্বব্যাপী তার ইসলামী ভাবমূর্তি সৃষ্টি করে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী অপপ্রচারের উচিত জবাব দেবার ব্যবস্থা করি।

আমার অনুরোধেই তিনি বেতার-টিভিতে পুনরায় কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী অনুষ্ঠানাদি চালু করেন। তিনি আমারই অনুরোধে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেন, যাতে আমাকে ও আমার ভাইকে সদস্য মনোনীত করেন। মাদ্রাসা শিক্ষার জন্যে বাজেটের ঘোষণা দেন। তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে কৌশলে এসব খিদমতের জন্যে তার সমর্থন আদায় না করলে জামায়াতের জঙ্গী কৌশলে তা কোনদিনই সম্ভব হতো না।

প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যচর্চায় আপনি অগ্রগণ্য একজন। আপনার সাহিত্যকর্ম নিয়ে কিছু বলবেন?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ্, এ জন্যে আমি আল্লাহর শোকর আদায় করছি। ১৯৫৮ সালে সিলেটের ঐতিহাসিক মাসিক আল-ইসলাহে ‘শাহজালালের ঝর্ণা’ কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে লেখালেখির সূচনা। ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসার ম্যাগাজিন সম্পাদনা করে ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করি। তারপর মাসিক আল-ইসলাহ সাপ্তাহিক যুগভেরী (বর্তমানে দৈনিক), ঢাকার দৈনিক আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী, ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, সাপ্তাহিক বিচিত্রা, মাসিক মদীনা প্রভৃতি পত্রিকায় শত শত প্রবন্ধ, তারপর ইসলামী বিশ্বকোষ ও সীরাত বিশ্বকোষ প্রচুর রচনা ছাড়া সেগুলোর সম্পাদনা পরিষদে বিজ্ঞ পণ্ডিতমণ্ডলীর সাথে শরীক ছিলাম এবং এখনো আউলিয়া বিশ্বকোষের সম্পাদনায় শরীক রয়েছি। লিখিত, অনূদিত, সম্পাদিত পুস্তকাদির সংখ্যা শতাধিক।

আমার লিখিত রাসূলুল্লাহর পত্রাবলী সন্ধি চুক্তি ও ফরমানসমূহ এবং এর ইংরেজী ভাষ্য Holy Prophet’s Mission to Contemporary Rulers অনূদিত ইমাম বোখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ এর ছয় ছয়টি সংস্করণ হয়েছে।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিখ্যাত ‘ইন্ডিয়া উইন্স ফ্রিডম’ এর আমার অনূদিত ও লিখিত অনুবাদ ও প্রতিভাষ্য এতই জনপ্রিয় হয় যে, উভয়বঙ্গেও নন্দিত কথাশিল্পী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার কোলকাতা থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত পূর্ব-পশ্চিম নামে দেড় হাজার পৃষ্ঠার পুস্তকে আমার ওই পুস্তকের বরাত ব্যবহার করেছেন।

১৯৭৮-২০১৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮ বছর পর্যন্ত মহানবী স্মরণিকার সম্পাদক এবং ১৯৮৯-৯০ দু’বছর মাসিক মদীনার সম্পাদনা করি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রনালয়ে প্রকাশিত হজ, উমরা ও জিয়ারত ১৯৮১ থেকে এ পর্যন্ত প্রতি বছরই সরকারীভাবে ছেপে হজ যাত্রীদের হাতে তুলে দেয়া হয়ে থাকে।

‘ইসলামী আইন ও আইন বিজ্ঞান’ শীর্ষক ই.ফা. প্রকাশিত সহস্র পৃষ্ঠার আইন পুস্তকটির ৬০ ভাগ আমার একার রচিত।
সদ্য প্রকাশিত মাওলানা আজাদের তাফসীর ২ খন্ড (১০০০ পৃ.), রসূলুল্লাহর হজ ও উমরা (৪৭০ পৃ.) এবং প্রকাশাধীন বাঙালী লেখক কর্তৃক লিখিত সর্বপ্রথম উর্দু তাফসীর ফরিদপুরের মুফতী মুরাদুল্লাহ (১৭৫০-১৮৩০) লিখিত তাফসীরে মুরাদীয়া (৪ শতাধিক পৃষ্ঠা), ও ভারতবর্ষের সর্বপ্রথম হাদিসগ্রন্থ ইমাম সাগানীর মাশারিকুল আনোয়ার (১২৭৩ পৃ.)প্রকাশনাধীন।

এছাড়া সময়ের প্রয়োজনে লিখিত অসংখ্য প্রবন্ধ প্রাচীনতম বাংলা মাসিক নেয়ামত এবং মাসিক আল কাউসারের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে। এখনো আমি বিখ্যাত ফরাসী লেখক গোস্তাভ লি বোঁ রচিত ‘আরব সভ্যতা’ পুস্তকের অনুবাদে সক্রিয় রয়েছি। আল্লাহ্ পাক কবুল করুন।

প্রশ্ন: সামগ্রিক বিচারে অর্থেই আপনি এখন দেশের প্রবীণতম আলেম। জাতীয় জীবনে আপনার বৃহত্তর ভূমিকায় আপনাকে দেখবো না নিবৃতচারী জীবন পছন্দ করবেন?

উত্তর: ১৯৬২-৬৩ সালে মাদ্রাসা ছাত্রদের বিখ্যাত ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের আমিই ছিলাম প্রথম উদ্যোক্তা ও আহবায়ক। ওই দু’ বছর ঢাকার সর্বপ্রথম লক্ষাধিক মাদ্রাসা ছাত্রের অভাবিতপূর্ব মিছিল করিয়েছিলাম। যার ফলশ্রুতিতে কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এ সরকারের আমলে ঢাকায় আমাদের দাবিমতে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ আমলে জমিয়তুল মুদাররেসিনের সভাপতিরূপে হাল ধরে মাদ্রাসা শিক্ষাকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টায় অনেক বেশী শ্রম দিতে হয়েছে। এ আন্দোলনগুলোর প্রাণপুরুষরূপে মহাব্যস্ত না থাকলে সাহিত্য ক্ষেত্রে আরো বেশী অবদান রাখতে পারতাম। আল্লাহ্ তায়ালা যখন যে খেদমত নেয়া পসন্দ করেছেন, তাতেই আমি সন্তুষ্ট।

প্রায় নিভৃতচারীরূপেই থাকলেও গণভবন মসজিদ ও বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে ব্যয়িত (১৯৭৫-২০০৫) দীর্ঘ ত্রিশ বছরের অতি ব্যস্ততায় এখন আর না থাকলেও লেখালেখিতে এখনো আল্লাহর অনুগ্রহে সক্রিয় রয়েছি। তাফসীরে জিলানী ৩য় খণ্ড সমাপ্ত হয়েছে, প্রথম ২ খন্ড ইতিপূর্বেই প্রকাশিত (প্রায় ১০০০ পৃ.) তৃতীয় খণ্ড যন্ত্রস্থ।

বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৬ সালে উচ্চতর ইমাম ট্রেনিং এর জন্যে সর্বপ্রথম যে টিমটি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিল, আমি তার অন্যতম সদস্য। দু’জন ছাড়া অন্য সকল সহযাত্রী ও সহট্রেইনীরা ইন্তেকাল করেছেন। এ অভিজ্ঞতাগুলোকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এসব দেখার দায়িত্ব যাদের তারা আগ্রহী না হলে সে সম্ভাবনা কোথায়?

বঙ্গবন্ধুর দ্বারা সমাদৃত, মূল্যায়িত ও প্রশংসিত একজন হিসাবে এ সংকটময় মুহূর্তে অনেক কিছুই করার ছিল। আল্লাহ্ তায়ালা সেভাবে দায়িত্বপালনের সুযোগ দিলে হয়তো আরও বেশ কিছু কাজ করা যেতো। আল্লাহ্ তাআলার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। সর্বাবস্থায় আমি আল্লাহর শোকর আদায় করি।

মায়ের ভাষায় ইমান জাগে

মাতৃভাষা প্রাকৃতিক ভাষা, তাই তা বিজ্ঞানময় ভাষা। আর প্রকৃতির মতো খাটি ও উৎকৃষ্ট আর কিছুই নেই। মাতৃভাষা চেতনায় ভরা, ভাব দিয়ে গড়া। আর তাই মাতৃভাষা অনুভূতির চোখে আলো ছড়ায় ও মনের সবকটা জানালা ও দুয়ার খুলে দেয়। মায়ের মুখের মধুর ভাষাই সবার প্রাণের ভাষা। ভাব প্রকাশ, ভাবের আদান-প্রদান, শিক্ষা ও জ্ঞানসাধনার জন্য চাই ভাষা। আর আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষের মুখের ভাষাবৈচিত্র্যকে সৃষ্টি করেছেন তারই সৃষ্টির নিদর্শন রূপে। মানুষের ভাষাবৈচিত্র্য দ্বারা তিনি জাতিবৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছেন। তাই তো জাতিসত্তার বুকে জাতিসত্তার ভাষা তেমন ‘ঊষার বুকে রাঙা রবি’ যেমন। মাতৃভাষাই সবার মনের আলো ও চোখের আলো।

মাতৃষাষা চিন্তার ভাষা, চেতনার ভাষা, অনুভবের ভাষা, অনুরাগের ভাষা। উচ্ছ্বাসে-আবেগে, আনন্দে-উল্লাসে কোথাও নেই এ ভাষার কমতি। এ ভাষাতেই ঝরে স্বস্তির মুখধ্বনি, এ ভাষাতেই ঝরে কান্নার আর্তি। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, মিলন ও বিরহ সংকটে এ ভাষাই সবার জীবন সাথী। ভাষা আছে তাই আছে সুখ, আছে সুর, আছে জীবনের ছন্দ। হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতি মাতৃভাষাতে যত স্বচ্ছ-সুন্দরভাবে তুলে ধরা যায় অন্য ভাষাতে তেমনটা সম্ভব নয়। এর পরও দেখা যায় মানুষ সুখ-দুঃখে, আনন্দ বেদনার সব কথাই বলে না। বলার মতো ভাষা খুঁজে পায় না। তার মনের কথা মনেই রয়ে যায়, বুকের জ্বালা বুকেই বয়ে বেড়ায়। একটা কথা পরিষ্কারভাবেই বুঝতে পারি যে, যে কথা যত বেশি মূল্যবান ও যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সে কথা বুঝাটাও ঠিক ততখানি গুরুত্বপূর্ণ। আর আল্লাহ ও তার রাসূলদের কথার মতো অমূল্য ও গুরুত্বপূর্ণ কথা আর কী হতে পারে? তাই নামাজ কিতাবের কথাগুলো অবশ্যই বুঝতে হবে, জানতে হবে। আর বুঝার ব্যাপারে মাতৃভাষা অতুলনীয়। মাতৃভাষার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও প্রয়োজনীয়তার কথা যেমন বলে শেষ করা যায় না, ঠিক তেমনি মাতৃভাষার অধিকারের বঞ্চনার জ্বালা-যন্ত্রণাও জ্বলে জ্বলে শেষ হয় না। এ আগুন জ্বলতেই থাকে অন্তর মাঝে। কেননা বোধগম্য ভাষা ছাড়া শিক্ষা হয় না এবং জ্ঞান সাধনাও সম্ভব নয়। অথচ শিক্ষা ও জ্ঞানই জীবনকে করে ছন্দময়। অজ্ঞতা জীবনে আনে ছন্দপতন। জীবনকে ছন্দময় করে তুলতে হলে চাই শিক্ষা, চাই জ্ঞান। আর তাই চাই বোধগম্য ভাষা। আর কেবল মাতৃভাষাই প্রাকৃতিক বোধগম্য ভাষা। মানবশিশু পরিবেশ থেকেই তা অর্জন করে। এ ভাষা বিশেষভাবে কাউকে শিক্ষা দিতে হয় না। তাই তো আল্লাহর কাছে বান্দাদের মাতৃভাষা বা মুখের ভাষাই অত্যন্ত প্রিয় ও ছন্দনীয়। আল্লাহ কুরআনের সূরা ইবরাহিমের ৪নং আয়াতে জাতিসত্তার ভাষা বা মাতৃভাষা চেতনাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ আয়াতটি কুরআনের বুকে মধুপূর্ণিমার চাঁদের মতোই। তা কিয়ামত পর্যন্ত মাতৃভাষা চেতনার আলো ছড়িয়ে যাবে। ওই মধু চাঁদ আর তারি জোছনা আমার চেতনায় সাড়া জাগায়, আমাকে আবেগে জড়ায়, আমার অনুভূতির চোখে আলো ছড়ায়, আমায় অনুরাগে মাতায়, আমার দুচোখে স্বপ্ন ছড়ায়, আমার মন রাঙায় ও ঘুম ভাঙায়। আমার ধর্মীয় অনুভূতিকে চাঙ্গা করে তোলে। আমি বাঙালি, বাংলা আমার মায়ের ভাষা। আমার মায়ের মুখের মধুর ভাষা আমার ভাইয়ের বুকের রক্তে রাঙা। তাই আমি বাংলায় কথা বলি, বাংলার কথা বলি। বাংলা আমার হৃদয়বীণার তারে তারে বড়ই সুমধুর সুরের ঝংকার তোলে, আমি ঝংকৃত হই তারি দোলায়। ভাষার বিষয়ে সূরা ইবরাহিমের ৪নং আয়াতই হচ্ছে আমাদের পথের আলো। এ আলোতেই আমরা পথ খুঁজে পাব ইনশাআল্লাহ।

মাতৃভাষার কুরআন পাঠ আমার অনুভূতির চোখে যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছে আর সূরা ইবরাহিমের ৪নং আয়াত আমার অন্তরে যে ভাষাচেতনার (মাতৃভাষা চেতনা) উন্মেষ ঘটিয়েছে ওই চেতনার আলোটুকুই আমি সঞ্চয়ে রেখেছি। আমি প্রদ্বীপের মতো জ্বলে জ্বলে এ চেতনার আলোটুকু ছড়িয়ে যেতে চাই। মাতৃভাষা মধ্য দিনের সূর্যালোকের মতোই সব জাতির অনুভূতির চোখে আলো ছড়িয়ে চলেছে। মাতৃভাষার কুরআন পড়তে পড়তে মাতৃভাষার যে অপূর্ব রূপ ও রং আমি দেখেছি ওই রং ও রূপের মাধুরী ছড়িয়ে সবার মন রাঙাতে চাইছি। নামাজ-কুরআন-হাদিস বোধগম্য ভাষায় পাঠ, শ্রবণ ছাড়া কখনোই তা যথার্থ কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। বোধগম্যহীন ভাষায় যতই পুনরাবৃত্তি করা হোক না কেন কখনোই তার মর্মমূলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় না এবং যাবেও না। এতে কুরআনের প্রকৃত সৌন্দর্য ও মাধুর্য ফুটে ওঠে না, তার প্রকৃত রং-রূপও প্রকাশ পায় না। কেননা বোধগম্য ভাষা ছাড়া কোনো কথার অর্থ-মর্ম বোঝা যায় না। কোনো কথা বোঝা ছাড়া তা কখনো শিক্ষা কিংবা জ্ঞানে পরিণত হয় না। এ কারণে কুরআনে ভাষা প্রসঙ্গে বারবার বলা হয়েছে যেন বুঝতে পার, বুঝাতে পার, বুঝতে পারে, বুঝাতে পারে। বোধগম্যহীন ভাষা অমানিশার অন্ধকারের মতো। এ আঁধারের কাছে শূন্যতাই খুঁজে পাব। বোধগম্যহীন ভাষা অমারাত্রির মতো অন্ধকারের বিস্তার ঘটায়। মায়ের বুকে সন্তানের লাশ যেমন কষ্টকর ও বেদনাদায়ক, উপলব্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে বোধগম্যহীন ভাষা ও শিক্ষার লাশ তেমন কষ্টকর ও বেদনাদায়ক, কিন্তু আমরা সিংহভাগ মানুষই আলো-আঁধারের পার্থক্য বুঝি না। কেননা শৈশবেই আমাদের ধর্মের চোখ করে দেওয়া হয় অন্ধ। তাই আমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত আলো ভেবে আঁধারকে বুকে আঁকড়ে রাখি। জীবন নদীর ঘাটে ঘাটে যেখানেই নোঙর ফেলি না কেন শূন্যতা ছাড়া কিছুই খুঁজে পাই না। অজ্ঞতার অন্ধকারেই বন্দি হয়ে থাকি কুরআন পড়েও।

কুরআন বলে পৃথিবীর সব জাতিতেই আল্লাহ নবি-রাসূল প্রেরণ করেছেন। সবাইকে জাতিসত্তার ভাষা দিয়ে পাঠিয়েছেন। আর পৃথিবীর বাস্তবতায় দেখা যায় সব রাসূলের কাছে নিজ নিজ জাতিসত্তার ভাষায় কিতাব, সহিফা দিয়েছিল যেন জাতিকে পরিষ্কারভাবে বুঝাতে পারে। এর থেকে অকাট্যভাবেই প্রমাণ হয়ে যায় যে, নবি-রাসূলদের মুখের ভাষানীতির ধারার ইতিহাস-ঐতিহ্য ছিল মাতৃষাভানীতির ইতিহাস-ঐতিহ্য। মাতৃভাষা নীতির ধারাই ভাষানীতির মূলধারা ও পগতিশীল ধারা। কুরআন আমাদের মুক্তির পথ দেখায়। বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, আন্দোলন ও লড়াইয়ের নির্দেশ দেয়। কুরআনের শিক্ষা আমাদের হৃদয়কে আন্দোলিত, আলোড়িত ও আলোকিত করে। ধর্মীয় অনুভূতিকে চাঙা করে। আমাদের দুচোখে স্বপ্ন ছড়ায় বোধগম্য ভাষার ইবাদতে যেমন সুখানুভূতি অনুভূত হয় অবোধ ভাষায় কখনোই তা সম্ভব নয়। কুরআনের শিক্ষা আমাদের চিন্তার খোরাখ, জীবনের খোরাক, কলমের খোরাক জোগায়। আল্লাহ স্পষ্টই বুঝিয়ে দিয়েছেন ভাষার কাজ কথাকে বোঝান। আর সহজে পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য তিনি সূরা ইবরাহিমের ৪নং আয়াতে মাতৃষাভার সরল পথটাই দেখিয়ে দিয়েছেন। যেন তার শিক্ষা ও জ্ঞানালোয় বান্দাদের হৃদয় উদ্ভাসিত হয়। মাতৃভাষার পথ নিশ্চিত শিক্ষার পথ ও জ্ঞানের পথ। তাই এ পথ সর্বোত্তম পথ। ইসলাম প্রগতিশীল ধর্ম। অনারব মুসলমানদের ফিরে আসতে হবে ভাষানীতির মূলধারা ও প্রগতিশীল ধারা মাতৃভাষানীতির ধারাতে। মাতৃভাষাই দ্বীন ইসলামের দাবি। কেননা প্রত্যেক নাবি-রাসূলের ধর্ম ছিল এক ইসলাম। যেহেতু আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। ইসলামের মর্মকথার বা মর্মবাণী এক ও অভিন্ন। সব আসমানি কিতাবই এক আল্লাহর বাণী বা কথা। তবে মানুষের ভাষার ভিন্নতার কারণে তারই এক এক কিতাব এক এক জাতির মাতৃভাষার বা জাতিসত্তার ভাষায় নাজিল করা হয়েছে। সব ভাষাই ইসলামি ভাষা।

ধুলাবালি থেকে হাঁপানি, কী করবেন?

হাঁপানির অন্যতম কারণ ধুলাবালি। বসতঘরে জমে থাকা পুরনো ধুলাবালি ও ময়লা থেকে শিশুসহ সব বয়সি মানুষের সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি হতে পারে। আবার রাস্তাঘাটের ধুলাবালিও হাঁপানির কারণ।

সাধারণত রাস্তার যে ধুলা পাওয়া যায় তা অজৈব পদার্থ— তাতে হাঁচি, কাশি বা হাঁপানির কষ্ট ততটা হয় না। কিন্তু ঘরের আবর্জনা ও জমে থাকা ময়লা থেকে অ্যালার্জিক অ্যাজমা হতে পারে। কারণ তাতে মাইট নামক আর্থোপড জাতীয় জীব থাকে।

হাঁপানি থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস।

অ্যালার্জিক অ্যাজমার উৎস মাইট বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ হল আর্দ্রতাপূর্ণ আবহাওয়া (৭৫ শতাংশ আর্দ্রতা)। বিছানা, বালিশ, কার্পেট হল মাইটের আদর্শ বাসস্থান।

আমরা সাধারণত দিনের এক-তৃতীয়াংশ সময় বিছানায় কাটিয়ে থাকি। সেখানে আমাদের শরীরের ৫০০ মিলিলিটারের বেশি পানি ঘামের মাধ্যমে বাষ্প০ হয়ে নির্গত হয়। এ আর্দ্রতা ও গরম আবহাওয়ায় মাইট তাদের জীবন চক্র সম্পূর্ণ করে। তাই ধুলার মধ্যে মিশে থাকা মাইটের শরীর নিঃসৃত রস লালা ও মল সবই একসঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং অ্যালার্জির প্রকাশ ঘটায় যা শেষে অ্যাজমার রূপান্তরিত হয়। রাতে বিছানায় শোবার সময় আমরা মাইটের সংস্পর্শে আসি এবং তাই রাতে হাঁপানির কষ্ট বেড়ে যাওয়ার এটা অন্যতম কারণ হতে পরে।

মাইটের মল একটি প্রধান অ্যান্টিজেন, যার ব্যাস ১০-১৪ মিমি। এর আয়তন বড় হওয়ার জন্য সবসময় বাতাসে ওড়ে না কিন্তু বিছানা ঝাড়া বা ঘর পরিষ্কার করার সময় বাতাসে ওড়ে এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে।

আমাদের মতো গ্রীষ্ম প্রধান দেশে ধুলা আক্রান্ত অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা বেশি। ঋতু পরিবর্তনের ওপর অ্যাজমার প্রকোপ বাড়া-কমা নির্ভর করে।

প্রতিকার

ধুলা যেহেতু বাতাসের মধ্যে মিশে থাকে তাই নিঃশ্বাসের সঙ্গে আমাদের শরীরে সবসময় প্রবেশ করছে। তাই আমাদের কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন বাসা থেকে কার্পেট সরিয়ে তুলতে হবে। ঘামে ভেজা তোষক ও বালিশের ধুলায় মাইট বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ, তাই সম্ভব হলে চেন টানা ধুলা প্রতিরোধক ঢাকনা ব্যবহার করা দরকার। সম্ভব হলে তোষকের পরিবর্তে মাদুর পেতে শোয়া যেতে পারে। অ্যাজমা রোগীদের ঘর নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করা দরকার তবে রোগী যেন বিছানা ঝাড়া বা ঘর পরিষ্কার না করে। যদি একান্তই করতে হয় তবে মুখে ফিল্টার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এক সপ্তাহ অন্তর বিছানা গরম পানিতে পরিষ্কার করলে তা ধুলার অ্যালারজেনকে ধুয়ে ফেলবে ও মাইট মেরে ফেলতেও সাহায্য করবে।

ওষুধ

ওষুধ প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে অ্যালার্জির উপশম পাওয়া যায়। এ রোগের প্রধান ওষুধ হল ইনহেলার স্টেরয়েড। ইনহেলার স্টেরয়েড ব্যবহারে রোগের লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে উপশম হয়। যেহেতু স্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাই এ ওষুধ এক নাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। যতদিন ব্যবহার করা যায় ততদিনই ভালো থাকে এবং ওষুধ বন্ধ করলেই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।

অ্যালার্জি ভ্যাকসিন

অ্যালার্জি দ্রব্যাদি এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি অ্যালার্জিজনিত অ্যাজমা রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। এর মূল উদ্দেশ্য হল যে অ্যালার্জি (মাইট) দিয়ে অ্যাজমার সমস্যা হচ্ছে সেই অ্যালারজেন স্বল্প মাত্রায় শরীরে প্রয়োগ করা হয়। ক্রমান্বয়ে সহনীয় বেশি মাত্রায় দেওয়া হয়, যাতে শরীরে অ্যালার্জির কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়। কিন্তু শরীরের ইমিউন সিস্টেমের পরিবর্তন ঘটায় বা শরীরে অ্যালার্জির রিুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে অর্থাৎ আইজিই-কে আইজিজিতে পরিণত করে, যাতে দীর্ঘ মেয়াদি অ্যালার্জি ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই এ ধরনের অ্যালার্জিক অ্যাজমার ক্ষেত্রে ইমুনোথেরাপি বা ভ্যাকসিন কার্যকর।

কোমর প্রতিস্থাপন কখন করাবেন, কতটা নিরাপদ?

শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখে কোমর। মানব শরীরের মাঝামাঝি অবস্থান হওয়ায় এর ওপর অনেক চাপ পড়ে। আঘাতজনিত কারণ, অতিরিক্ত ওজন বহন, দুর্ঘটনা— এসব কারণে নিতম্বে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাঁটাচলা বা পুরো পা মাটিতে ফেলে স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করা যায় এই কোমরের মাধ্যমেই। কোনো কারণে হিটে আঘাত পেলে বা এটি অকার্যকর হলে, তখন ওই হিপ ফেলে দিয়ে কৃত্রিম হিপ প্রতিস্থাপন করা হয়। একেই বলে হিপ রিপ্লেসমেন্ট।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন অর্থোপেডিক ও অর্থোপ্লাস্টি সার্জন অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন।

সাধারণত কোমরের ইনজুরি, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, মারাত্মক অস্টিও আর্থ্রাইটিস, হাড় ক্ষয়, হাড়ের টিউমার, অস্থিতে রক্ত সরবরাহ বন্ধসহ নানা জটিল পরিস্থিতিতে হিপ রিপ্লেসমেন্ট করা হয়। বেশি ওজনের বা স্থূল আকৃতির বয়স্ক পুরুষ ও নারী, কম হাঁটাচলা করা ব্যক্তি, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় হাঁটু ভাঁজ করে পিঁড়িতে বসে কাজ করা ব্যক্তি, অযাচিত ও দীর্ঘমাত্রায় রোগীর স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবনকারীদের হিপ রিপ্লেসমেন্ট করাতে হতে পারে।

লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আসায় দিন দিন কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে মানুষের। বিশেষ করে কায়িক পরিশ্রম না করা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনব্যবস্থা মানুষকে খুব অলস করে দিচ্ছে। দেহ ভারি হয়ে কোমর ও হাঁটুর জয়েন্ট নষ্ট করে অসহনীয় অবস্থা তৈরি হচ্ছে। তখন শুধু তীব্র ব্যথা ও যন্ত্রণাই নয়; বরং পুরো জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ। ব্যক্তিটি হয়ে যাচ্ছে পরিবারের বোঝা।

কোনো কারণে আঘাত পেলে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাড় ক্ষয়, হাড়ের টিউমার, অস্থিতে রক্ত সঞ্চালন বন্ধসহ অন্যান্য অসুখ হলে কোমর বা হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। তখন হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্যান্য চিকিৎসা দিয়েও রোগীকে সুস্থ করে তোলা যায় না। চিকিৎসকরা সেই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ কোমর ও হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।

সাধারণত ষাটোর্ধ্ব রোগীদের এটা বেশি করা হলেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি কৃত্রিম অস্থিসন্ধি ব্যবহার করে অল্পবয়সি রোগীদেরও আজকাল কোমর ও হাঁটু প্রতিস্থাপন হচ্ছে।

স্বাভাবিক জীবন

কোমরের কৃত্রিম এই জয়েন্ট বা প্রতিস্থাপন আধুনিক চিকিৎসার অংশ। মানবদেহের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানে টাইটেনিয়াম ইমপ্লান্ট (এক ধরনের মেটাল দিয়ে কৃত্রিম জয়েন্ট তৈরি) করা হয়। মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টার এই অস্ত্রোপচারের পর এক বা দুদিন রোগীকে হাসপাতালে থাকতে হয়। এর পরই উঠে বসা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম, সিঁড়ি ভাঙাসহ সব ধরনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে। এতে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। চিকিৎসার পর রোগী ২০-৩৫ বছর পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, তেমন কোনো সমস্যা ছাড়াই। কৃত্রিম জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের পর খেলোয়াড়রাও তাদের খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারেন।

জটিলতা

কোমর ও হাঁটু প্রতিস্থাপনের অপারেশন নিরাপদ। তবে অন্যান্য অস্ত্রোপচারের মতো এতে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ জন্য পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে বিশেষ কমপ্রেশন ডিভাইস যেমন— হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ইলাস্টিক মোজা এবং ব্যায়ামের পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অনেক সময় শারীরিক আসন নতুন প্রতিস্থাপিত অস্থিসন্ধি থেকে কৃত্রিম অংশকে ছুটিয়ে দিতে পারে। এ জন্য রোগীর অস্ত্রোপচারের পর কখনই কোমর সন্ধি বা হিপ জয়েন্টকে ১০০ ডিগ্রির বেশি বাঁকানো এবং পা দুটোকে শরীরের মাঝামাঝি বরাবর ভাঁজ করা ঠিক হবে না।

অনেক সময় প্রতিস্থাপিত কৃত্রিম কোমরসন্ধি ঢিলা হয়ে ব্যথার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া কিছু কিছু সময় আশপাশের নরম কোষকলাগুলো জমাট ও শক্ত করে নড়াচড়ায় কষ্টকর করে তুলতে পারে। এসব সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসা ব্যয়

বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এই হিপ ও হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট। এতে অপারেশন করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইসটি বসিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ চিকিৎসায় খরচ পড়ে ২০-৩০ লাখ থেকে এক-দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত।

আমেরিকায় হিপ রিপ্লেসমেন্ট বাবদ খরচ হয় ৫০-৫৫ হাজার ইউএস ডলার, সিঙ্গাপুরে ৩০-৩৫ হাজার ডলার, থাইল্যান্ডে ২০-২৫ হাজার ডলার, ভারতে ১০-১২ হাজার ডলার, আর বাংলাদেশে সেটি হচ্ছে মাত্র তিন-চার হাজার ডলার বা আড়াই থেকে তিন লাখ টাকায়।

প্রতিরোধে করণীয়

শুধু সচেতনতার অভাবে প্রতি বছর কোমর ও হাঁটুর নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ। তাই এ অবস্থা থেকে মুক্ত থাকতে করণীয় হলো—

* দেহের প্রতিটি মাংসপেশি সচল রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

* ফাস্টফুড, ভেজাল খাবার বর্জন করতে হবে।

* ওজন বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে হবে।

* উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

* কবিরাজি ওষুধ, স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনের কারণে কোমর ও হাঁটুর জয়েন্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এসব থেকে বিরত থাকতে হবে।

* শুধু শুয়েবসে থাকলে ওজন বাড়বে, তাই মুভমেন্ট বাড়াতে হবে ও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

শহিদ মিনারে ফুল দিতে পারবেন সর্বোচ্চ ৫ জন

একুশে ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে পাঁচজন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে একসঙ্গে দুজন শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চু্যয়াল ক্লাসরুমে অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূইয়া ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী।

এর আগে প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি ও ব্যক্তি পর্যায়ে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন বলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহে সঠিক নিয়মে, সঠিক রঙ ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

‘গাঙ্গুবাঈ’ নিয়ে আলিয়ার ওপর চটেছেন কঙ্গনা

বলিউড নায়িকা আলিয়া ভাটের আসন্ন সিনেমা ‘গাঙ্গুবাঈ কাঠিয়াওয়াড়ি’ নিয়ে চারদিকে আলোচনা তুঙ্গে। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার আগেই অনুরাগীরা এর গান ও সংলাপ নিয়ে ভিডিও বানাচ্ছে।

অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে— একটি শিশুকন্যা আলিয়া ভাটের সংলাপ নকল করছে। মেয়েটির ভিডিওটি ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিউড নায়িকা কঙ্গনা রানাউত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঙ্গনা রানাউত গাঙ্গুবাঈ ছবি নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। লিখেছেন— ‘এই মেয়েটির মুখে কি বিড়ি এবং অশ্লীল সংলাপসহ একজন যৌনকর্মীর অনুকরণ করা উচিত? ওর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখুন, এই বয়সে ওকে এভাবে সেক্সি দেখানো কি ঠিক? আরও শত শত শিশু আছে, যারা একইভাবে তাকে দেখে অনুসরণ করবে।’

তিনি এই ভিডিওটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকেও ট্যাগ করেন এবং এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখতে বলেন।

কঙ্গনা রানাউত বরাবর দেশের যে কোনো ঘটনায় আলোচনায় ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে দেখা যায়। তিনি পণ্ডিত নেহরু সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।

সঞ্জয় লীলা বানসালির চলচ্চিত্র ‘গাঙ্গুবাঈ কাঠিয়াওয়াড়ি’ হুসেন জাইদির বই ‘মাফিয়া কুইনস অব মুম্বাই’-এর ওপর ভিত্তি করে, বিজয় রাজ, ইন্দিরা তিওয়ারি এবং সীমা পাওয়া পার্শ্ব অভিনয় করেছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অজয় দেবগন, ইমরান হাশমি এবং হুমা কুরেশি রয়েছেন।

কার প্রেমে মজেছেন রাশমিকা!

ভারতের বিনোদনপ্রেমিদের জাতীয় ক্রাশ এখন দক্ষিণী সিনেমার অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। সম্প্রতি ‘পুষ্প: দ্য রাইজ’ সিনেমায় শ্রীবল্লী চরিত্রে অভিনয় করে অনুরাগীদের হৃদয়ে পোক্ত স্থান দখল করেছেন এ নায়িকা।

ছবির পুষ্পারাজ চরিত্রের অভিনেতা আল্লু অর্জুনের প্রেমিকা তিনি। পর্দায় দুজনের রসায়ন ভক্ত-দর্শকদের মনে প্রশ্ন ছড়িয়ে দিয়েছে, বাস্তবজীবনে রাশমিকার ক্রাশ কে? কার সঙ্গে প্রেম করছেন এ অভিনেত্রী?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তেলাগু স্টপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশমিকার অনুরাগীরা বারবার গুগল সার্চ করার কারণেই ইতোমধ্যে ‘জাতীয় ক্রাশ’ উপাধি পেয়ে গেছেন তিনি। যারা অতীতটা জানতে চান, গুগল করলে তারা দেখবেন, ভারতের কর্নাটকি সিনেমার অভিনেতা ও পরিচালক রক্ষিত শেঠির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল রাশমিকার। একসঙ্গে দুজনের নানা রকম ছবিও পাওয়া যাবে। ‘কিরিক পার্টি’ ছবির সেটে দুজনের পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। বেশ কিছু দিন সম্পর্ক ছিল রাশমিকা ও রক্ষিতের। দুজন বিয়েও করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

২০১৭ সালের ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে আংটিবদল হয় তাদের। কিন্তু বছরখানেক পর কেন দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল, সে কারণ আর জানা যায়নি। সম্পর্কটা ভাঙার জন্য ভক্তরা অবশ্য রাশমিকাকেই দায়ী করেছিলেন। তখনো সাবেক প্রেমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন রক্ষিত শেঠি।

তিনি বলেছিলেন, ‘রাশমিকাকে আমি দুবছর ধরে চিনি, সেটি তোমাদের অনেকের চেয়ে বেশি। কেন সে এমন করল, তার নিশ্চয়ই কোনো যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এভাবে রাশমিকার দোষ দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। তাকে দোষারোপ করা বন্ধ করুন।’

চিত্রনাট্যকার চিরঞ্জীব মাকনার সঙ্গেও অল্প কিছু দিন সম্পর্ক ছিল রাশমিকার। সে রকম নানা তথ্য ও ছবি চাইলে হাজির করছে গুগল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বাস্তবতা ভিন্ন। এখন রাশমিকার প্রেম আরেক দক্ষিণী তারকা বিজয় দেবারাকোন্ডার সঙ্গে। যদিও সেটি এখনো গুঞ্জন পর্যায়ে। একসঙ্গে ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘গীত গোবিন্দম’-এর মতো প্রেমের ছবিতে অভিনয় করেছেন দুজন। পর্দার রসায়নকেই সত্য ধরে নিয়েছে ভক্তরা, সে কথা বলা যাচ্ছে না। কারণ একত্রে জিমে যাওয়া, চুপি চুপি শহরের বাইরে বেড়ানোসহ বিজয়-রাশমিকার সব কর্মকাণ্ডই মানুষ জানে। এসব নিয়ে অবশ্য দুই তারকাই কিছু বলেননি।

তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাশমিকা বলেছেন, ‘আমার কাছে ভালোবাসা মানে পরস্পরকে সম্মান ও সময় দেওয়া। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সুরক্ষিত বোধ করা যায়। ভালোবাসা এমন একটা অনুভূতি, যা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।’

শিগগিরই বলিউডে পা রাখছেন রাশমিকা মান্দানা। সিদ্ধার্থ মালহোত্রার বিপরীতে ‘মিশন মঞ্জু’ ছবিতে দেখা যাবে অভিনেত্রীকে। এ ছাড়া অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘গুডবাই’ নামের আরেকটি ছবিতে থাকবেন রাশমিকা।

আইপিএল নিলাম নিয়ে ‘ক্ষুব্ধ হয়ে’ চাকরি ছাড়লেন কোচ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মেগা নিলামের পরেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সহকারী কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাইমন কাটিচ।

নিউজ কর্পোর বরাতে এ খবর জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

কাটিচের পদত্যাগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ না জানা গেলেও গুঞ্জন চলছে, নিলামের আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের পূর্বপরিকল্পনা উপেক্ষা করাতে নাকি খুশি নন কাটিচ।

নিলামের আগে থেকেই হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষের ওপর চটেছিলেন কাটিচ।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর ছিল, স্বদেশি তারকা ডেভিড ওয়ার্নারকে ছেড়ে দেওয়ায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন অসি কোচ। তার ওপর নিলাম থেকে দলে নেওয়া কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিয়েও খুশি হতে পারেননি কাটিচ।

কাটিচের পদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে পরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পক্ষ থেকে। ফ্র্যাঞ্চাইজির এক মুখপাত্র ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন খবরটি মিথ্যা নয়। তিনি নিজেই দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পারিবারিক কারণে তিনি দল ছেড়ে দিয়েছেন।