দখলে-দূষণে মৃতপ্রায় চন্দনা নদী

0
187

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির চন্দনা নদীর কোল এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যে নদীর একসময় পুরো যৌবন ছিল, ছিল নদীতে উত্তাল ঢেউ। তখন নদীতে বয়ে যেত ছোট-বড় নৌকা ও লঞ্চ। সেই অপূর্ব দৃশ্য এখন আর নেই।

হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে নদী তো নয় যেন এ এক ময়লার ভাগাড়! কালের আবর্তে দখলে-দূষণে চন্দনা নদী আজ মৃতপ্রায়।

এলাকার বেশিরভাগ কৃষকদের সঙ্গে কথা হয় এই নদী নিয়ে তারা বলেন, আগে তো নদীতে দলবল নিয়ে বড়-বড় আইড়, বাইন মাছ ধরতাম,নদীতে নৌকাবোঝাই করে ধান ও পাট নিয়ে বিক্রি করতাম হাটবাজারে। আর এখন এই নদী মরার পথে।

এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের ভাগ্যে পরিবর্তনে চন্দনা নদীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এই নদীকে কেন্দ্র করে এক সময় এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র। কিন্তু নদীটি মরে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সব। ফলে কৃষি অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়।

৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ কৃষক বকুল খাঁ নদীতে সারাবছরই পানিশূন্য থাকে। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। কারণ এই নদীর পানি দিয়েই তারা জমিতে সেচ দিত। এখন নদীতে পানি না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে কৃষকদের।

অপর কৃষক জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, পানি শূন্যতায় নদীটি মরে যাচ্ছে। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় এ এলাকার সাধারণ মানুষের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। পানির অভাবে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেন না। নদীতে পানি না থাকায় জেলেরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এক সময় এ নদীর উত্তাল তরঙ্গ ভরা যৌবন ছিল। নদীর বুক চিরে চলত পাল তোলা নৌকা। এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল অনেক হাটবাজার। প্রসার ঘটেছিল ব্যবসা-বাণিজ্য ও সভ্যতা। নৌকায় লোকজন যাতায়াতসহ কৃষকের উৎপাদিত পণ্যও বিক্রির জন্য বড় মোকামে নিয়ে যেতো এই নদী পথে। দুই পাড়ের বাসিন্দাদের গোসল, গৃহস্থালির কাজ চলতো এই নদীর পানি দিয়ে। এখন দখলে-দূষণে চন্দনা নদী আজ মৃতপ্রায়।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাসিবুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে আমাদের নজরে এসেছে আমরা খুব দ্রুতই এই দখল ও দূষণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো প্রকার নদীর দূষণ ও দখল নেওয়া হবে না।

তা ছাড়া এর পাশাপাশি হাটের ইজারাদার ও বাজার বণিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে কড়া সতর্কতা দেওয়া হবে। যাতে করে এ বাজারের কোনো ময়লা-আবর্জনা নদীতে কেউ না ফেলে। বিষয়টি নিয়ে ১ সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here