বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 749

মালয়েশিয়ায় স্বর্ণপদক পেল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মিশায়ার

মালয়েশিয়ায় স্বর্ণ জিতেছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মিশায়ার রায়হান চৌধুরী। মিশায়ার কুয়ালালামপুরের আইডিআর এসআইসি ক্রোয়েশিয়া টেকনোলজি এক্সপো ২০২১-এ সামাজিক উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা পরিচালন বিভাগে আন্তর্জাতিক মেরিটের এ পুরস্কার অর্জন করেন। মালয়েশিয়া-ক্রোয়েশিয়া টেকনোলজি এক্সপোর E.Pick.Up অ্যাপ্লিকেশন কোডিংয়ে তার দল প্রথম স্থান অর্জন করায় এ স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। মিশায়ার স্বর্ণপদকের পাশাপাশি পেন্ডামিক সময়ে মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুর ইউথ অনলাইন কাউন্সেলিংয়ে আরও দুটি পদক পেয়েছেন।

অ্যাপ্লিকেশনটি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এ অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা শিক্ষার্থী, মা-বাবা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাবা আসিফ রহমান চৌধুরী মালয়েশিয়ায় একজন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। মা সাঈদা রোমানা মজিদ একজন আইনজীবী। ৩ মেয়ে ও ১ ছেলের মধ্যে মিশায়ার সবার বড়। সবেমাত্র ১৪ পেরিয়ে ১৫ তে পা রাখল মিশায়ার। সে মালয়েশিয়ার ইদ্রিছ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র।

মিশায়ার দাদা নুরুল হক চৌধুরী এবং দাদি শিরিন নীলুফার চৌধুরী গোপালগঞ্জের এন হক বিশ্ববিদ্যালয় অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা।
মিশায়ার এ অর্জনে তার বাবা-মা দেশ-বিদেশের সবার দোয়া চেয়েছেন।
এদিকে মিশায়ার এ অর্জনে বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব মালয়েশিয়ার নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দুবাইয়ে গ্লোবাল ভিলেজের আগামী আসরের তারিখ ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য নগরী দুবাইয়ে গ্লোবাল ভিলেজের ২৬তম আসর শুরু হবে ২৬ অক্টোবর।

ফেস্টিভ্যালটি ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। ১৬৭ দিনব্যাপী ব্যবসায়িক এ ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে আগ্রহী দেশ ও ব্যবসায়ীদের ১ আগস্টের পূর্বে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হাজারও দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয় গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা নির্ধারিত প্রবেশ মূল্য দিয়ে মেলায় প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন।

বছরের সেরা দশক জিলহজের প্রথম দশ দিন

দুনিয়ার পরিবর্তে আখেরাত, পাপের পরিবর্তে পূণ্য ও মানুষের সন্তুষ্টির পরিবর্তে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে আমৃত্যু ইবাদত করলে অবশ্যই ইহকালে তৃপ্তি ও পরকালে মুক্তি অনিবার্য নিশ্চিত।

আল্লাহতায়ালা মহান দয়ালু ও মহা-অনুকম্পাশীল। তার মতো দয়ার্দ্র ও ক্ষমাকারী আর কেউ হতে পারে না। তিনি তার হুকুম পালনকারী ও অনুগতদের জন্য সৃষ্টি করেছেন চিরস্থায়ী সুখনিবাস জান্নাত। যাতে তারা পরকালীন অনন্ত জীবনে পরম শান্তিতে বসবাস করতে পারে।

কিন্তু মানুষ প্রবৃত্তির অনুসারী; নিজের অজান্তে কিংবা শয়তানের প্ররোচনায় অসংখ্য গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। আর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলগুলোই সুখময় জান্নাতের সম্মুখে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু মহান আল্লাহ ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। তাই গুনাহগার বান্দারা যেন হতাশ না হয়, সেজন্য ক্ষমার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘হে আমার ইমানদার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করেন। তিনি তো অতি ক্ষমাশীল, বড় দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৩৯)

যারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছেন, তাদের ভুল শোধরানোর জন্য আল্লাহতায়ালা কিছু বিশেষ সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন। যাতে সে সময়গুলোতে বান্দা বেশি বেশি ইবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে; নিজেদের পাপ ও গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারে।

এমনই এক বিশেষ সময় হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন। এই দিনগুলোকে রাসুল (সা.) বছরের শ্রেষ্ঠ দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সেরা দশক

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই, যার আমল জিলহজ থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) আল্লাহর পথে সংগ্রাম-জিহাদও নয়? জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হলো এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফিরে না এলো, (অর্থাৎ যে শাহাদাত বরণ করেছেন) তার কথা ভিন্ন।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৬৯)

অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দশকের দিনগুলো। অর্থাৎ জিলহজের প্রথম দশ দিন। জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর পথে জিহাদেও কি এরচেয়ে উত্তম দিন নেই? রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদেও এরচেয়ে উত্তম দিন নেই। তবে হ্যাঁ, কেবল সে-ই যে (জিহাদে) তার চেহারাকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।’ (মুসনাদে আবি ই’য়ালা, হাদিস : ২০৯০)

প্রথমত আল্লাহতায়ালার কাছে প্রত্যেকটা দিনই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তিনিই তো এই দিন-রাতের স্রষ্টা। দিন-রাত প্রত্যেকটিকেই তিনি অনন্য গুণে গুণান্বিত করেছেন। তবে এই দিনগুলোতে যেহেতু সবগুলো মৌলিক ইবাদতের সমাবেশ ঘটে, সেহেতু এ দিনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য দিনের চেয়ে অধিক হওয়াই যুক্তিসংগত।

যেমনটা প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানি (রহ.) তার বুখারি শরিফের ব্যখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারিতে উল্লেখ করেছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘জিলহজের দশকের বৈশিষ্ট্য ও কারণ যা প্রতীয়মান হয়, তা হলো এতে সব মৌলিক ইবাদতের সন্নিবেশ ঘটে। যেমন- সালাত, সিয়াম, সদকা, হজ ইত্যাদি। অন্য কোনো দিন এতগুলো ইবাদতের সমাবেশ ঘটে না। (ফাতহুল বারি : ২/৪৬০)

রোজার সওয়াব

এই গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো আমাদের জন্য অতীব জরুরি। জাগতিক পরীক্ষার দিনগুলোতে যদি সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করার লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে পারি; তবে কেন আখেরাতের পরীক্ষার জন্য এমন মাহাত্ম্যপূর্ণ দিনগুলোতে সর্বাধিক প্রচেষ্টা করতে পারব না?

এ দিনগুলোতে আমল করার সওয়াব তো বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিলহজের দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্যান্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়। এ মাসের প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো, আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ৭৫৮)

আসুন! মাহাত্ম্যপূর্ণ এই দিনগুলোতে কী কী নেক আমল করা প্রয়োজন তা জেনে নিই

নফল ইবাদত

জিলহজ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত যতদিন সম্ভব নফল রোজা রাখা আর রাতের বেলা বেশি বেশি ইবাদত করা একজন সত্যিকার মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই এই দিনগুলোতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইস্তিগফার ও ক্ষমা-প্রার্থনা এবং কান্নাকাটির মাধ্যমে রাত কাটানো কিংবা যতটুকু সম্ভব ইবাদত করা উচিত। পুরো নয়দিন রোজা না রাখতে পারলেও আরাফার দিনে রোজা রাখা খুবই উত্তম।

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এ রোজা তার আগের ও পরের বছরের গুনাহ মুছে ফেলবে।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭৪০)

আরাফার দিনের আরেকটি আমল হলো- নিম্নোক্ত কালিমাটি বেশি বেশি পড়া। কালিমাটি হলো- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু বিয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদির।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৯২২)

তাকবিরে তাশরিক

জিলহজ মাসের নবম তারিখের ফজর থেকে তের তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিমান মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। উল্লেখ্য, পুরুষের জন্য শব্দ করে আর নারীদের জন্য নীরবে।

তাকবিরে তাশরিকটি হচ্ছে- ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৬০৭১)

কোরবানি

জিলহজের প্রথম দশকের অন্যতম আরেকটি দিবস হলো কোরবানির দিন। হাদিসে এসেছে ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো, কোরবানির দিন, অতঃপর স্থিরতার দিন (কোরবানির পরের দিন)।’ (সুনানে নাসায়ী : ১০৫১২)

এদিনের সবচেয়ে বড় আমল হলো ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি করা। যারা কোরবানি দেবেন তাদের জন্য আরেকটি আমল হলো, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে হাত-পায়ের নখ, মাথার চুল ও অবাঞ্ছিত পশম ইত্যাদি কাটা বা ছাঁটা থেকে বিরত থাকা এবং কোরবানির দিন তা কাটা বা পরিষ্কার করা। কেননা এ কাজটি সুন্নাত।

হযরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন- ‘যখন (জিলহজের প্রথম) ১০দিনের সূচনা হয়, আর তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছে করে, সে যেন চুল-নখ ইত্যাদি না কাটে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১৪৯)

তবে খেয়াল রাখতে হবে হাত-পায়ের নখ, মাথার চুল ও অবাঞ্ছিত পশমের বয়স যেন চল্লিশ দিনের বেশি না হয়ে যায়। আর এ জন্য উত্তম হলো জিলহজের চাঁদ উদিত হওয়ার কিছুদিন আগেই তা পরিষ্কার করে ফেলা।

আল্লাহতায়ালার অশেষ মেহেরবানি যে, তিনি আমাদের মতো পাপী-তাপী বান্দাদের জন্য স্বীয় অনুগ্রহে এমন সব নেক আমল করার সুযোগ দিয়েছেন। তাই এই সুযোগের সদ্বব্যহার করা অত্যন্ত জরুরি।

মৃত ব্যক্তির পক্ষে কুরবানি দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার ইসালে সওয়াবের জন্য কুরবানি দেওয়া যাবে?

উত্তর: মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানি করা জায়েজ। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে।

কুরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে।

আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে।

তথ্যসূত্র: মুসনাদে আহমাদ ১/১০৭, হাদিস ৮৪৫; ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; কাযীখান ৩/৩৫২

অগ্নিঝুঁকিতে ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা

দেশের বহুতল ভবন, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ফলে ছোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোও সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে বড় বিপর্যয় ঘটছে। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী সংস্থা ফায়ার সার্ভিসের জরিপ বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, ৯০ দশমিক ৩৫ শতাংশ স্থাপনা অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ২২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

উল্লিখিত পরিসংখ্যান দেশের ভঙ্গুর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি উদাহরণ বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কলকারখানায় নিয়মিত মেজার টেস্ট ও ফায়ার ড্রিল না হওয়া এবং স্প্রিংকলার সিস্টেম না থাকার ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা, যাচ্ছে প্রাণ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বলছে, অগ্নিনিরাপত্তা ও অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় নিয়মিত জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সন্তোষজনক-এই তিন ক্যাটাগরিতে তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করেন। এক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক ব্যবস্থাদির ২২ ধরনের তথ্য নেওয়া হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৫ হাজার ২৫০টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাকে এ জরিপ কার্যক্রমের আওতায় এনেছেন তারা। যেখানে মাত্র ৫০২টি স্থাপনকে ‘সন্তোষজনক’ বলা হয়েছে। যা মোটের ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৩ হাজার ৫১৮ স্থাপনাকে। জরিপে আসা মোট ভবনের মধ্যে যা ৬৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এই জরিপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে ১ হাজার ১৮৭টি। শতকরা হিসাবে যা ২২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ফায়ার সেফটি ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে আমরা স্থাপনাগুলো তিন ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করি। এক্ষেত্রে আমাদের একটি চেকলিস্ট রয়েছে সেগুলো দেখে এটি নিশ্চিত করা হয়। যারা অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমরা গুলশান শপিং কমপ্লেক্সকে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করে সিটি করপোরেশন ও পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়ে দিয়েছি। যেহেতু সিটি করপোরেশনের মধ্যে এটি তাই তাদের সুপারিশ করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ৬টি ক্যাটাগরির মোট ৫ হাজার ২০৭টি স্থাপনার জরিপ করে। এর মধ্যে রয়েছে-শপিংমল-মার্কেট, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, হাসপাতাল-ক্লিনিক, আবাসিক হোটেল ও মিডিয়া সেন্টার। এই জরিপে দেখা যায়, ১ হাজার ৫৯৫টি শপিংমল ও মার্কেটের মধ্যে মাত্র ২৪টির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক। আর ঝুঁকিপূর্ণ ৮৯৭টি ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬৭৪। ১ হাজার ৫২৭টি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৯টি সন্তোষজনক, ১ হাজার ৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৩৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৮০৫টি ব্যাংকের মধ্যে ২০১টি সন্তোষজনক, ৫৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৬৯৯টি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে ৬৩টি সন্তোষজনক, ৫০২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৩৪টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৫৩৩টি আবাসিক হোটেলের মধ্যে ৭১টি সন্তোষজনক, ৪৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৯টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ৪৮টি মিডিয়া সেন্টারের মধ্যে ২৪টি সন্তোষজনক ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।

জানতে চাইলে ঢাকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল যুগান্তরকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের উল্লিখিত জরিপে দেশের ভঙ্গুর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এটি আশঙ্কাজনক। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৩ মাসে বহুতল ভবনে ‘ফায়ার ড্রিল’ (অগ্নিনির্বাপণ ও সচেতনতা মহড়া) হওয়ার কথা। কিন্তু তা নিয়মিত হচ্ছে না। ইন্ডাস্ট্রিতে স্প্রিংকলার সিস্টেম থাকার কথা, তাও অধিকাংশের নেই। এই ব্যবস্থায় পানির পাইপগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পর ফেটে গিয়ে পানি বের হতে থাকে এবং ফায়ার অ্যালার্ম বাজে। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। উন্নত বিশ্বে অধিকাংশ অগ্নিদুর্ঘটনা এই ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণে আসে। এছাড়া অন্তত ৫ বছর পর পর মেজার টেস্ট করার কথা। যার মাধ্যমে ওই ভবনের বৈদ্যুতিক তারগুলোর অগ্নিপ্রতিরোধক সক্ষমতা দেখা হয়। এছাড়া অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে ফায়ার হাইড্রেন্ট রাখার কথা। যা থেকে জরুরি পানি সরবরাহ করা যায়। যখন ফায়ার সার্ভিস থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয় তখনও এই বিষয়গুলো নিশ্চিতের কথা বলা থাকে। কিন্তু পরে দেখা যায়, এগুলো সঠিকভাবে তদারকি হচ্ছে না। ফলে ভবনের অগ্নিঝুঁকি বাড়ছে।

জরিপ নিয়ে কথা হয় ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ অ্যান্ড ফায়ার প্রিভেনশনের সহকারী পরিচালক মনির হোসেনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, অগ্নিঝুঁকি নিরূপণের ক্ষেত্রে অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আমরা বিবেচনাই নেই। অতি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে যেখানে কেমিক্যাল বেশি থাকে, মানুষ বেশি থাকে, দাহ্য বস্তু বেশি থাকে, মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে যেতে পারে এবং পর্যান্ত অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা নেই-এমন অবস্থা যদি থাকে সেটাকে চিহ্নিত করি। নারায়ণগঞ্জের যে হাসেম ফুড ফ্যাক্টরি সেটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আর সন্তোষজনক বলা হয়, যদি সেখানে স্প্রিংকলার সিস্টেম থাকে, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ২৩ মিটার পর পর সিঁড়ি, ফায়ার হাইড্রেন্ট থাকে, ওয়েল ট্রেইনড জনবলসহ পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকে তাহলে সেটাকেই আমরা সন্তোষজনক অবস্থা বলি। বাংলাদেশে যমুনা ফিউচার পার্ক এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্প্রিংকলার থাকলে সেখানে শুধু দরকার ছিল পানি। এটি এমন একটি ব্যবস্থাপনা যেখানে প্রতি ১০ মিটার পর পর একটি ছোট চিকন একটি নজল থাকবে। আগুন লাগলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি নিভে যাবে। ফায়ার সার্ভিসও লাগবে না, মালিকও লাগবে না। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতারসহ উন্নত বিশ্বে সাধারণ হোটেলেও তারা স্প্রিংকলার সিস্টেম স্থাপন করে রাখে। কারণ যাতে মানুষও মারা না যায়, সম্পদও রক্ষা হয়। ডিটেক্টর সিস্টেম স্থাপন। যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বা সাইরেন বাজবে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের আইনে ছয়তলার উপরে হলে কোনো ভবনে আমরা বহুতল ভবন বলি। এখন সেটা আবাসিক হোক বা ইন্ডাস্ট্রি হোক। এসব ভবনে ফায়ার সেফটি প্ল্যান লাগবে, ইক্যুইপমেন্টগুলো স্থাপন করতে হবে।

২২ ধরনের তথ্য : বহুতল বাণ্যিজ্যিক ভবন পরিদর্শনে ফায়ার সার্ভিস অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক ২২ ধরনের তথ্য নেয়। সেগুলো হলো-ভবন সংশ্লিষ্ট রাস্তা, ভূগর্ভস্থ জলাধারের আয়তন ও ধারণক্ষমতা (স্প্রিংকলার ও রাইজার উভয়ই থাকলে শুধু স্প্রিংকলারের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে), ভূগর্ভস্থ জলাধার ব্যতীত নিকটস্থ পানির উৎসের (পুকুর/নদী-নালা/খাল), ফায়ার ব্রিগেড কানেকশন ও ইন্টারনাল হাইড্রেন্ট সংক্রান্ত তথ্য, পাম্প, রাইজার ও স্প্রিংকলার সংক্রান্ত তথ্য, সিঁড়ি সংক্রান্ত তথ্য, লিফট সংক্রান্ত তথ্য, ডিটেকশন ব্যবস্থার বিবরণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন সংক্রান্ত তথ্য, জেনারেটর সংক্রান্ত তথ্য, বয়লার ও জেনারেটর সংক্রান্ত তথ্য, ভবনের ছাদে লাইটনিং প্রটেকশন সিস্টেম স্থাপন বিষয়ক তথ্য, রেজিস্টারসমূহ সংরক্ষণ বিষয়ক তথ্য। আরও রয়েছে অভ্যন্তরীণ সাজসরঞ্জামাদি, ফ্লোর সংযোজন সংক্রান্ত, ভবনের উচ্চতা ২৬ মিটার বা ৮ম তলার উর্ধ্বে হলে জরুরি নির্গমন সিঁড়ি এলাকায় তাপ, ধোঁয়া ও আগুনমুক্ত রিফিউজ এরিয়া তথ্য, ভবনের ছাদ নিয়ে বিস্তারিত, বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন বিষয়ক তথ্য, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত জনবল ও ভবন ব্যবহারকারীদের সমন্বয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সম্পর্কীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।

 

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ফাইনালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসরে রুবি চিকেন কারি তৈরি করে বিচারকদের মন জয় করে সরাসরি ফাইনালে থাকছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার চৌধুরী। এর আগে, অ্যালিমিনেশন রাউন্ড থেকে নিজেকে বাঁচাতে রান্না করেছেন নানা পদ। তবে, বিচারকদের কাছে সব থেকে ভালো লাগা চারটি পদের ভিত্তিতেই তিনি জায়গা পেলেন ফাইনালে।

বিশ্বের রান্নাবিষয়ক টেলিভিশন রিয়েলিটি শোর মধ্যে মাস্টারশেফ অন্যতম। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ তাদের নিজস্ব মাস্টারশেফ আয়োজন করে থাকে। বিশ্বে মাস্টারশেফ অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’ জনপ্রিয়তার দিক থেকে রয়েছে তালিকার শীর্ষে। এটি প্রতিযোগিতামূলক রান্নার একটি গেম শো।

গত ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া পর্বে চারজন প্রতিযোগী পৌঁছে যান মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ফাইনাল রাউন্ডে। তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোয়ার।

এই পর্বে কিশোয়ার রেঁধেছিলেন রুবি চিকেন কারি। রুবি চিকেন কারি তৈরি করার পেছনে তিনি বলেন, ‘রুবি মানেই হলো আবেগ। এটা লন্ডনে আমাকে আমার একটা সময় নিয়ে যায় যখন আমি একজন তরুণী ছিলাম, এবং সেটা ছিলো আমার সে সময় যখন আমি সত্যি অনেক বেশি আবেগি ছিলাম, আমার স্বপ্নগুলোকে অনুসরণ করছিলাম। তারপরে লন্ডন ছেড়ে আসি কারণ আমি মা হতে চলেছিলাম। আজ একজন মা আমি, আর এতদিন পরে আবার মা হয়ে সেই আবেগ দিয়ে এই খাবার তৈরি করেছি।’

খাবার পরিবেশনের পর এবারও কিশোয়ার বেশ চিন্তামগ্ন ছিলেন। কারণ এই রাউন্ডে তো তাকে জিততেই হবে। কিন্তু খাবারের স্বাদ দিয়ে এবারও কিশোয়ার বিচারকদের মন জিতেছেন। ফলে তিনি পৌঁছে গেছেন মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ১৩তম আসরের ফাইনালে।

১০২ জনকে চাকরির সুযোগ দেবে নেসকো

র্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডে (নেসকো) ১০টি পদে ১০২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডে (নেসকো

 

চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ
কর্মস্থল: যেকোনো স্থান

বয়স: ১৫ জুলাই ২০২১ তারিখে ১৮-৩০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর

আবেদন ফি: আবেদনকারীকে ১-৫ নং পদের জন্য ১,৫০০ টাকা, ৬-১০ নং পদের জন্য ১,০০০ টাকা পাঠাতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১৪ আগস্ট ২০২১ তারিখ বিকেল ০৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

এনসিসি ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার পদে চাকরি

বেসরকারি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডে ‘জুনিয়র অফিসার (জেনারেল)’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড

পদের নাম: জুনিয়র অফিসার (জেনারেল)
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিএ/এমবিএম/স্নাতকোত্তর/বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং)/স্নাতক
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়
বেতন: ৩১,২০০ টাকা

চাকরির ধরন: অস্থায়ী
প্রবেশনকাল: ০১ বছর
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: যেকোনো স্থান

বয়স: ২৫ জুলাই ২০২১ তারিখে ১৮-৩০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর

শিরোপা উদযাপনে মেসির উদ্দেশে যা লিখলেন স্ত্রী রকুজ্জো

চিরপ্রতিদ্বন্দী ব্রাজিলের মাঠে দুর্দান্ত এক টুর্নামেন্ট শেষ করল আর্জেন্টিনা। নেইমারদের কাঁদিয়ে শেষ হাসি ফুটল মেসির-মার্টিনেজদের মুখে।

ফাইনালে জয়ের নায়ক পুরো সিরিজে বদলি হিসেবে নামা আনহোল ডি মারিয়া। ফাইনালে যিনি শুরুতেই মাঠে নামেন।

২২ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে দি পলের উড়িয়ে মারা বল ধরে ব্রাজিল গোলরক্ষক এদারসনের মাথার উপর তা জালে জড়িয়ে দেন ডি মারিয়া। পরাস্ত করেন ব্রাজিল ডিফেন্ডার রেনান লোদিকেও।

ডি মারিয়ার সেই একমাত্র গোলই জয় এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। আলবিসেলেস্তেদের মহাপ্রাচীর ব্রাজিলিয়ানদের সব শটই প্রতিহত করেন।

১-০ গোলের ব্যবধানে শিরোপা জয়ের উল্লাস মাঠেই মোবাইল ফোনে স্ত্রী আন্তোলেনা রকুজ্জোর সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন মেসি।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর স্বামীর হাত ধরে শিরোপা আসছে আর্জেন্টিনায়, সেই পরম আনন্দ একসঙ্গে উদযাপনের তর সইছে না রকুজ্জোর।

তবে তার আগেই মেসি ও আর্জেন্টাইনদের জন্য জয়োল্লাসের বার্তা দিয়ে রাখলেন রকুজ্জো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে মেসিদের উদযাপনের একটি ছবি আপলোড করে আন্তোলেনা লিখেছেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন। এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা। এগিয়ে যাও ভালোবাসা (মেসি), এগিয়ে যাও। এতদিন ধরে যা স্বপ্ন দেখেছ, অবশেষে তা পেয়েছ। তুমি সত্যিই এটির যোগ্য দাবিদার। তোমাকে দেখতে ও একসঙ্গে উদযাপনের তর সইছে না আমার।’

গোল্ডেন বুট ও বল জিতলেন মেসি

কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়ার লিওনেল মেসি গোল্ডেন বুট ও বলও জিতেছেন।

ফাইনালসহ মোট সাতটি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এর মধ্যে পাঁচটিতেই ম্যাচ সেরা। গোলও করেছেন সর্বোচ্চ চারটি। অ্যাসিস্ট করেছেন পাঁচটি। তার কাছাকাছি থাকা লওতারো মার্টিনেজ ফাইনালে কোনো গোল পাননি।

তাই সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল মেসির হাতেই উঠল।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা- দুটো সেরা পুরস্কারই পেলেন তিনি।

তবে দলকে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা এনে দিতে গোটা আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন মেসি। ভেঙেছেন বেশ কয়েকটি রেকর্ড। গোটা ম্যাচে অনেকগুলো ফ্রি-কিকের মধ্যে সফল হয়েছেন মেসি একাই। ফ্রি-কিক থেকে দুটো গোল করেছেন।

সব মিলিয়ে এবারের কোপা আমেরিকা যেন বসেছিল মেসির জন্যই। তাই দলীয় শিরোপায় চুমু খাওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার ট্রফিটাও বগলদাবা করলেন মেসি।