শুক্রবার ,২৪ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 750

হাসছেন মেসি কাঁদছেন নেইমার

কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ – এই বাঙালি প্রবাদের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বুঝতে আজ দেখতে হতো কোপা আমেরিকার ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরের কয়েকটি দৃশ্য।

তখন হয়তো প্রবাদের অনুকরণে অনেকে বলবেন – হাসছেন মেসি কাঁদছেন নেইমার।

অবশ্য খেলা মানেই এমন দৃশ্যের অবতারণা। আনন্দ, সুখ ও উল্লাসে মাতেন বিজিতরা। একই মাঠে বিষাদ, দুঃখ ও হতাশায় মুখ ঢাকেন পরাজিতরা।

ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম মারাকানায় কোপা আমেরিকার ফাইনালে সেলেকাওদের ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। একমাত্র গোলটি এসেছে ফরোয়ার্ড ডি মারিয়ার পা থেকে।

ফাইনালে একাদশে বিরাট পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আগের ম্যাচগুলোতে ডি মারিয়া নামতেন বদলি হিসেবে শেষ দিকে। আজ শুরুতেই তাকে দেখা গেল মাঠে। আর সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন ডি মারিয়া। আস্থার প্রতিদান দিলেন।

রেফারির শেষ বাঁশিতে মেসি যখন জয়োল্লাসে ব্যস্ত, বন্ধু নেইমার তখন ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। আস্তিনে মুখ লুকাচ্ছেন।

চোখ ভাসিয়েছেন কান্নার নোনা জলে। সেটাই স্বাভাবিক। একটা শিরোপার খোঁজে মাঠে নেমেছিলেন তিনিও। ২০১৯ সালের শিরোপা ঘরে তুললেও ইনজুরির কারণে সে টুর্নামেন্টে খেলতে পারেননি তিনি। সে শিরোপায় কোনো অবদান নেই নেইমারের। তাই এবারের কোপা চ্যাম্পিয়ন হতে মরিয়া ছিলেন তিনি। ছুতে চেয়েছিলেন ট্রফিটা।

কিন্তু তা আর হলো কই। বুক ভরা হতাশাই পেয়েছেন শেষ ম্যাচে।

পেলে-ম্যারাডোনা যা পারেননি, করে দেখালেন মেসি

চৈত্রের খরাকৃষ্ট ভূমি যেমন বর্ষার বারিধারায় সজ্ঞীবনী শক্তি ফিরে পায়। তেমনটি ২৮ বছরের খড়া কাটিয়ে আজ ফাল্গুধার বইছে আর্জেন্টাইনদের ঘরে। ১৯৯৩ সালের পর আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অনেকটা ‘চোকার’ বদনামের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি।

এই ফুটবল কিংবদন্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজে সারা বছর ভালো খেললেও বড় কোনো আসরে দর্শকদের হতাশ করেন। বড় কোনো ট্রফি জয়ের স্বাদ দলতে দিতে পারেননি।

মেসি আজ সেই বদনাম ঘুচালেন। দুহাত ভরে দিলেন আর্জেন্টাইনদেরকে। পেলেনও দুহাত ভরে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে ‘বিশ্বজয়ের’ তৃপ্তি পাওয়ার পাশাপাশি ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট সেরার মুকুটও জিতে নিয়েছেন মেসি।

তার অগ্রজ ম্যারাডোনা যা পারেননি মেসি আজ তাই করে দেখালেন। এমনকি ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেও দেশকে লাতিন আমেরিকান ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের এই ট্রফি এনে দিতে পারেননি। দুই কিংবদন্তি যেখাবে ব্যর্থ এ যুগের ফুটবলের বাজিগর সেখানেই সফল।

সবশেষ ছয়টি আসরে ফাইনালে খেলে শিরোপা স্পর্শ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। খোদ লিওনেল মেসি ব্যর্থ হয়েছেন চারটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে। এবার অবশেষে সাফল্যের নব ধারায় সিক্ত হলেন এই কিংবদন্তি। ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা এখন আর্জেন্টিনার, লিওনেল মেসির।

মেসির জীবনের সেরা আক্ষেপ সম্ভবত ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ। ওই বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক ট্রফি হাতছানি দিয়েছিল আর্জেন্টাইনদের। কিন্তু মারাকানার ফাইনালে আকাশী নীল শিবিরের হৃদয় ভেঙ্গে দেয় জার্মানি।

ব্রাজিলের সেই মারাকানা স্টেডিয়ামেই আজ মেসির হাতে ধরা দিল প্রথম বড় কোনো শিরোপা।

কে জানত সেই রিও ডি জেনেরিওতেই লেখা হবে মেসির শিরোপা উৎসবের গল্প। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রিয় জন্মভূমি আর্জেন্টিনাকে উপহার দিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা। সেই সঙ্গে ছাড়িয়ে গেলেন পেলে-ম্যারাডোনাকে।

বিস্ময়কর হলেও সত্য বিশ্বের ইতিহাসে সেরা দুই ফুটবলার পেলে ও ম্যারাডোনার আছে এক অপ্রাপ্তি। তারা জিততে পারেননি কোপা আমেরিকা, একটা উপমহাদেশীয় টুর্নামেন্ট!

অবশ্য ফুটবল সম্রাট পেলে তার পুরো ক্যারিয়ারে একবারই খেলেন কোপা আমেরিকা। ১৯৫৯ সালে বিশ্বকাপ জেতার পরের বছরই নেমেছিলেন লাতিন আমেরিকান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে। নিজে সফলও ছিলেন। ৮ গোল করে টুর্নামেন্টের সেরার পুরস্কারটা উঠেছিল পেলের হাতে। তবে শিরোপা জিতে নেয় তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা।

ম্যারাডোনা অবশ্য নিজের দোষেই হতে পারেননি কোপা জয়ী ফুটবলার। ১৯৯৩ সালে শেষবার যখন আর্জেন্টিনা জেতে প্রাচীনতম এই ফুটবল টুর্নামেন্টের ট্রফি। সেই দলে ছিলেন না ফুটবল ইশ্বর। ড্রাগ নেওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন তিনি। অবশ্য ফিরলেও তার সেই পারফরম্যান্স ছিল না। কোচ আলফিও বাসিলে তাকে বাদ দিয়ে ডিয়েগো সিমিওনেকে দেন ১০ নম্বর জার্সি। বিশ্বকাপ জিতলেও কোপার ট্রফিটা অধরাই!

আক্ষেপ ছিল মেসি জাতীয় দলের হয়ে কিছুই জিততে পারেন না। খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। ফাইনালে উঠলেও সঙ্গী হয়েছে দ্বীর্ঘশ্বাস।

কিন্তু এবার বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে মারাকানায় মেসিকে একটা স্বপ্নের ট্রফি এনে দিলেন সতীর্থরা। ভক্তরা অন্তত এখন একটা জায়গায় তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে পেলে-ম্যারাডোনা যা পারেননি, পেরেছেন তাদের আদরের লিও, লিওনেল আন্দ্রেস মেসি!

 

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগামহীন দুর্নীতি

দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনায় অনিয়মের অভিযোগে মামলা চলছে। আছে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ। এ ছাড়া সাধারণ তহবিল থেকে ট্রাস্টিদের আর্থিক সুবিধা ও সিটিং অ্যালাউন্সের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ ও বিদেশ ভ্রমণের ঘটনা তদন্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একটির অনুমতি নিয়ে চালানো হচ্ছে একাধিক প্রোগ্রাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় কেনা বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করছেন ট্রাস্টি বোর্ডের একাধিক সদস্য। প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের ঘটনায় মামলা পর্যন্ত হয়েছে। তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ দেননি চ্যান্সেলর। এ পদে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাকে যোগদানে বাধা দেওয়ার ঘটনাও আছে।

অভিযোগ উঠেছে, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) কয়েক সদস্য প্রতিষ্ঠানটি কুক্ষিগত করে রেখেছেন। ওইসব ব্যক্তিই ঘুরেফিরে বিওটির চেয়ারম্যান পদে আসছেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রেখেছেন তারা। গত ৬-৭ বছরে এসব অভিযোগ একাধিকবার তদন্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সর্বশেষ শাস্তি হিসেবে ইউজিসির ওয়েবসাইটে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নামের তালিকায় এনএসইউকে ‘স্টারমার্কড’ করে রাখা হয়েছে। সেখানে অননুমোদিত প্রোগ্রাম পরিচালনার তথ্যও উল্লেখ আছে। এ ছাড়া গুগল সার্চ ইঞ্জিনে গেলে উইকিপিডিয়ায় ‘কনট্রোভারসিজ’ নামে একটি প্যারায় ২০১২ সাল থেকে ইউজিসির তদন্তে দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসার কথাও স্থান পেয়েছে। বিগত কয়েক বছরে ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা পর্যালোচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে ইউজিসিতে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে সম্প্রতি আলাপ হয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে জানান, যথাযথ কাগজপত্রের ভিত্তিতেই তারা বিভিন্ন প্রোগ্রাম চালাচ্ছেন। ইউজিসির ওয়েবসাইটে ‘স্টারমার্কড’ করে রাখা অযৌক্তিক। এর পরও ইউজিসি যেহেতু আপত্তি জানিয়েছে, তাই তারা প্রোগ্রাম অনুমোদন করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে ইউজিসি তদন্ত নানা পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিছু বিষয় নিয়ে কথা আছে। সেগুলো আমি এ পদে যোগদানের আগের। কাজেই সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।

জমি কেনা : সূত্র জানায়, জমি কেনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৪ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির তহবিল থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি হাউজিং কোম্পানির কাছ থেকে জমি কেনা হয়। অথচ ওই জমি কেনার ব্যাপারে বিওটির সদস্যদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল। এ নিয়ে বিওটির ওই সময়ের সদস্য ড. রওশন আলম আদালতে মামলা করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, জমি কেনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি ট্রাস্টি বোর্ডের দুই সদস্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে তারা উল্লেখ করেন, বোর্ডের অধিকাংশ সদস্যকে না জানিয়েই সভায় ৫০০ কোটি টাকায় জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জমির বায়না পরিশোধের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ড থেকে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়ও তারা এতে তুলে ধরেন।

গাড়িবিলাস : বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্থ নিয়ে নয়ছয়ের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৯ সালের জুনে। এসময় বিপুল অঙ্কে টাকায় বিলাসবহুল সাতটি গাড়ি কেনা হয়। শিক্ষার্থীদের বেতন-ফির টাকায় কেনা এসব গাড়ি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ আছে। রেঞ্জ রোভার ২০১৯ মডেলের প্রতিটি গাড়ি কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় যে ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তার ডিডে বলা আছে, মানবহিতৈষী, দানশীল, জনহিতকর, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অবাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে। ট্রাস্ট অর্থের জোগান দেবে। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রাস্টিদের গাড়িসহ অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানান আইনজীবীরা। জানা গেছে, গাড়িগুলো কেনার সময়ে বিওটির চেয়ারম্যান ছিলেন ট্রাস্টি এমএ কাসেম। তিনি এ যাবত চারবার বিওটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অপর সদস্য আজিম উদ্দিনও এখন পর্যন্ত চারবার চেয়ারম্যান হয়েছেন বিওটির। বোর্ডে এমএ কাসেম ও আজিম উদ্দিন একই মতের লোক বলে জানান অন্য সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, এ দুজনের কারণে অন্য ট্রাস্টিরা কোনো সুবিধা করতে পারছেন না। যে কারণে চাইলেও অন্যায়-অনিয়ম ঠেকাতে পারছেন না তারা।

লাল তারকা চিহ্নিত : ইউজিসির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি লাল তারকা চিহ্নিত হয়ে আছে। কমিশন থেকে শুধু বিবিএ প্রোগ্রাম অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিবিএ ইন জেনারেল বিবিএ, এইচআরএম, বিবিএ ইন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, বিবিএ ইন মার্কেটিং, বিবিএ ইন ম্যানেজমেন্ট, বিবিএ ইন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস, বিবিএ ইন অ্যাকাউন্টিং, বিবিএ ইন ইকনোমিক্স, বিবিএ ইন এন্টারপ্রেনারশিপ, বিবিএ ইন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামগুলো চালাচ্ছে। এছাড়া প্রতি সেমিস্টারে শুধু বিবিএতে ৫০ জন ভর্তির অনুমোদন থাকলেও এর চেয়ে অনেক বেশি ভর্তি করা হচ্ছে। একাধিক শিক্ষার্থী যুগান্তরকে জানান, উল্লিখিত বিভাগে পড়ে তারা খুবই বিপাকে আছেন। বিশেষ করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া এবং ইমিগ্রান্টের জন্য আবেদন করে বিপাকে পড়ছেন। তারা বলেন, যখন এসব সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট ইসিএ (এডুকেশনাল ক্রেডেন্সিয়াল অ্যাসেসমেন্ট) করতে দেওয়া হচ্ছে, তখনই সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নকারী সংস্থাগুলো ইউজিসির ওয়েবসাইট যাচাই করতে যায়। এরপর তারকা চিহ্নিত দেখে যথাযথ মূল্যায়ন করতে চায় না।

আরও যত অভিযোগ : ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোর্ডের সদস্যরা অস্বাভাবিক হারে সিটিং অ্যালাউন্স নেন। একটা সময়ে বিওটির প্রতি বৈঠকের জন্য ১ লাখ আর অন্য সব কমিটির বৈঠকপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হতো। মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি থেকে চাপ তৈরির পর উভয় ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, একটি বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ৫০ বা ২৫ হাজার টাকা করে নেওয়া কতটা যৌক্তিক। এক মাসে এমন একাধিক বৈঠক হলে এ খাতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ আছে, এ সিটিং অ্যালাউন্স বাণিজ্যের লোভেই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ১৭টি কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়েও ইউজিসি আপত্তি দিয়েছে।

ইউজিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, বিওটির সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠক আর চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। এর খরচ জোগানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে। এটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থি। এছাড়া বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিওটির সদস্য ও উপাচার্যের কোটায় ছাত্রছাত্রী ভর্তি নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ বহু দিন ধরেই আছে।

২০১৬ সালের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এর আগে ও পরে দেশে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি হামলা বা হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার দায়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ এনএসইউর শিক্ষার্থী ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্তে নামে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। এ লক্ষ্যে গঠিত তদন্ত দল বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি পরিদর্শন করে। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরিরের জঙ্গি তৎপরতামূলক কিছু বই পাওয়া যায়। তদন্ত কমিটি বলেছে, গ্রন্থাগারে এ ধরনের বই রাখা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৬(১০) ধারার লঙ্ঘন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি বিবেচিত হওয়ায় লাইব্রেরির সংরক্ষিত নিষিদ্ধ সব বই পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সুপারিশ করে ইউজিসি।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে অতীতে ইউজিসির বিভিন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তার আলোকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত সব আয়-ব্যয় নিরীক্ষার কথাও বলা হয়েছে। সিটিং অ্যালাউন্স, অননুমোদিত ১৭ কমিটি, জঙ্গি তৎপরতা, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি, গবেষণা খাতে ব্যয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জবাব চাওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, চিঠি বিওটি পর্যালোচনা করছে। বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে।

রাবির সাবেক ভিসির দুর্নীতি তদন্তে নতুন কমিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসের অবৈধ গণনিয়োগে অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিক লেনদেন তদন্তে নতুন কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সিনিয়র সদস্য ড. প্রফেসর দিল আফরোজ বেগমকে আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (উচ্চশিক্ষা বিভাগ) মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ইউজিসির সদস্য ড. মো, আবু তাহের, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ যুগ্মসচিব ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ ও মোহাম্মদ জামিনুর রহমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সদ্য বিদায়ী ভিসি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বন করায় নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ইতোপূর্বে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে বিশদ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। প্রতিবেদনে ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ কার্যক্রমের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রশাসনিক কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরণের নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতের নির্দেশ দেয়। কিন্তু বিদায়ী ভিসি এম আব্দুস সোবহান গত ৬ মে তার শেষ কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিভিন্ন পদে ১৪১ জনবল নিয়োগ প্রদান করেন। এতে রাবির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয় যা ছিল অনভিপ্রেত।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. দিল আফরোজ যুগান্তরকে জানান, গত ২৮ জুন কমিটি গঠিত হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও করোনার কারণে এখনও তদন্ত কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। করোনা সংক্রমণ কমলে এবং দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ভেনিজুয়েলায় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষে নিহত ২৬

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছে।

এদের মধ্যে চার পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারমেন মেলেনদেজ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আরব নিউজের।

রাজধানী কারাকাসের উত্তর-পাশ্চিমাঞ্চলে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেলেনদেজ আরও বলেন, আহতদের ৩৮ জন পুলিশের মধ্য ১০ জন কর্মকর্তাও আছেন।এ ছাড়া ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

দুপক্ষের গোলাগুলিতে ২৮ জন সাধারণ মানুষও গুরুতর আহত হয়েছেন।সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

এদিকে দেশটির বিরোধীদলীয় সেতারা অভিযোগ করছেন, সন্ত্রাসী দমনের নামে প্রেসিডেন্ট মাদুরো আসলে বিরোধী দলকে দমন করছেন।

আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর হামলায় নিহত শতাধিক তালেবান

আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের তুমুল সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০৯ তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।

কোনো কোনো স্থানে আফগান সৈন্যরা তালেবানের অগ্রাভিযান প্রতিহত করেছেন এবং কোনো কোনো জেলা তালেবানের দখলে চলে গেছে।খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

কান্দাহার প্রদেশের সেনা কমান্ডার মোহাম্মাদ সাদেক ঈসা জানিয়েছেন, কান্দাহার শহরে তালেবান অস্ত্রধারীদের সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় আফগান বিমানবাহিনীর হামলায় ৭০ জন তালেবান নিহত হয়েছেন।

হামলা থেকে বাঁচতে বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তালেবান।শুক্রবার দিনভর এ সংঘর্ষ চলে বলে শনিবার আফগান বাহিনী গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

গজনি শহরের আশপাশে শনিবার দিনভর সংঘর্ষ হয়েছে এবং গজনি সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর বলেছেন, তালেবান অস্ত্রধারীরা ঘরবাড়িতে ঢুকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তাদের সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

তিনি আরও বলেন, গজনি প্রদেশের মালেস্তান, নাহুর ও জাগুরি জেলায় তালেবানের কয়েক দফা হামলা প্রতিহত করেছেন সরকারি সেনারা।

জলপাই পাতার রসে আছে অসাধারণ ৪টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ বিভিন্ন গবেষণায় জলপাই পাতার ঔষধি গুনাগুণ প্রমাণিত হয়েছে।

জলপাই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এই ৪টি কারণে জলপাই পাতার রস আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর, তরুণ ও সুন্দর করে।

জলপাই পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হচ্ছেঃ

১. সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করেঃ

যদি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাহলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে আপনার ত্বক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং ত্বকের পুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার নির্যাসে ওলিউরোপেইন নামক উপাদান থাকে। এটি ত্বকের পুরো হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং মেলানিনের উৎপাদনকে ধীরগতির করে।

২. ক্যান্সাররোধক হিসেবে কাজ করেঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার রস ক্যান্সার কোষের প্রজননকে ধীর গতির করার মাধ্যমে ত্বকের টিউমারের বৃদ্ধি কমতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় দাবী করা হয়েছে যে জলপাই পাতার রস ব্রেস্ট ক্যান্সার কোষের কার্যকারিতা কমাতে পারে।

৩. অ্যান্টি এজিং উপাদান আছেঃ

যেহেতু জলপাই পাতার রস ত্বক পুরো হয়ে যাওয়া ও ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হওয়া রোধ করতে পারে সেহেতু ত্বকের অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে ও বলিরেখা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে জলপাই পাতার রস। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

৪. ক্ষত ভালো করেঃ

২০১১ সালে মেডিসিনাল প্ল্যান্ট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় যে জলপাই পাতার নির্যাস সাধারণ অয়েন্টমেন্টের চেয়ে দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ছোট কোন কাটা ছেঁড়া ও ফুসকুড়ির মধ্যে জলপাই পাতার নির্যাস দিলে দ্রুত ভালো হয়ে যায়।

সতর্কতাঃ

সাধারণত জলপাই পাতার রস নিরাপদ এবং কোন মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়না। তবে যারা প্রেগনেন্ট ও ব্রেস্ট ফিডিং করান তারা জলপাই পাতার রস গ্রহণ করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

জামালপুরে ”মুক্তি” হত্যা মামলা আসামির ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর সদর উপজেলার স্কুল ছাত্রী মারিয়া জান্নাত মুক্তির (১৫) হত্যা মামলার মিরাজকে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে স্বজনসহ স্থানীয়রা।

শনিবার(১০জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলা চর মল্লিকপুর এলাকায় নিহত মুক্তির পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে ফজল মুন্সি,সম্রাট কামাল,আমিনুর,আলমগীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত মিরাজ যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সে প্রথমে ধর্ষণ করে তার পরে হত্যা করে। মিরাজকে ফাঁসি দিয়ে দেশ একটা দৃষ্টান্তমুলক উদাহরণ সৃষ্টি করুক। যাতে করে দেশে এই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

প্রসঙ্গত,নিহত মুক্তি ও মিরাজের বাড়ি পাশাপাশি এলাকায়। নিহত মুক্তি চান্দের হাওড়া আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তার সহপাঠী পাশ্ববর্তী সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চর হরিপুর গ্রামের মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিলো।

গত রবিবার মিরাজ তার বোনের বাড়ীতে বেড়াতে আসে। ওই দিন রাতে মুক্তি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ি থেকে বাইরে বের হলে মিরাজ ও তার সহযোগীরা তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে বাড়ির পাশে একটি মক্তব্যে মুক্তির লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। এঘটনায় মুক্তির মা পারভীন আক্তার বাদি হয়ে মিরাজসহ ৭ জনকে আসামী করে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

১০ দিনে ৭১১ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা- দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আবারও বেড়েই চলছে। একদিকে যেমন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। দেশব্যাপী সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে করোনার সম্মুখসারির যোদ্ধা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আক্রান্তের সংখ্যাও।

পুলিশ সদর দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত (১০ জুলাই) ১০ দিনে ৭১১ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জন পুলিশ ও ১ জন র‍্যাব সদস্যসহ মোট ৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯৪ জন পুলিশ ও ৬ জন র‍্যাব সদস্য মারা গেছেন।

শনিবার (১০ জুলাই) পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৮১৯ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৯০৫ জন পুলিশ সদস্য ও ২ হাজার ৯১৪ জন র‍্যাব সদস্য রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৬৩৭ জন পুলিশ ও ২ হাজার ৮২০ জন র‍্যাব সদস্যসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ২১ হাজার ৪৫৭ জন।

পুলিশ সদর দফতর আরও জানায়, বর্তমানে ১ হাজার ১৭৪ জন পুলিশ ও ৮৮ জন র‍্যাব সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত র‍্যাব ও পুলিশ বাহিনী ৯৯ হাজার ৮০৭ জন সদস্যের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

টিকার তথ্য দিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। http://103.113.200.29/student_covidinfo/ লিংকে গিয়ে ফরম পূরণ করে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তা সাবমিট করতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিষয়টি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরুরি বিচেনায় অধিভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষদের নিজ নিজ কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য ছক পূরণ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

গত ১৭ মে এর অফিস আদেশ মোতাবেক জাতীয় বিশ্ববিদ‌্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজ/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্যাবলী www.nubd.info/college এ লগইন করে College Profile-এ জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর জন্য বিশ্বদ্যিালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত যেসব কলেজ যথাযথ তথ্য College Profile-এ সাবমিট করেনি তাদের অবিলম্বে সাবমিট করার জন্য বলা হয়েছে।