মঙ্গলবার ,২৮ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 733

ভোগান্তিতে দিশেহারা সাধারণ রোগী

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) রাত ৯টা। রাজধানীর উত্তরায় একটি রিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক। রিকশা আরোহী শিউলি আক্তার (৪০) রাস্তায় ছিটকে পড়েন। তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাৎক্ষণিকভাব তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রথমে রোগীকে ভর্তি নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে স্বজনদের অনুরোধে ভর্তি করালেও কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার অজুহাতে মুমূর্ষু এ রোগীর কোনো চিকিৎসা করেননি চিকিৎসকরা। একপর্যায়ে বিনা চিকিৎসায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিউলি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

রোগীর স্বজনদের অনুনয়-বিনয়েও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মন গলেনি। একপর্যায়ে তারা জানিয়ে দেন পরিচালকের নির্দেশ কোভিড পরীক্ষা ছাড়া কোনো রোগীর চিকিৎসা হবে না।

শুধু শিউলি আক্তারই নন, বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে নন-কোভিড (অন্য রোগে আক্রান্ত) রোগীদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রীতিমতো দিশেহারা তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকায় রোগী নিয়ে একরকম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। একদিকে কোভিড (করোনা) রোগীরা অক্সিজেন-আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) পেতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন। অন্যদিকে আছে শয্যা ও চিকিৎসক সংকটও। এরই মধ্যে রোগীর চাপে রাজধানীর ১৭টি কোভিড-ডেডিকেটেড সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা সংকট তৈরি হয়েছে।

ঢাকার বাইরের অনেক হাসপাতালে শয্যার অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসাধীন। সব মিলিয়ে করোনা রোগীদের সেবা দিতেই মহাব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নন-কোভিড রোগীদের বলা হচ্ছে-আগে কোভিড টেস্ট, এরপর অন্য রোগের চিকিৎসা-এমন অজুহাতে জরুরি সেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোভিড, নন-কোভিড সব রোগীর চিকিৎসা সমভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

এ সব বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান যুগান্তরকে বলেন, করোনা চিকিৎসার পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারণ অন্য রোগীদের মৃত্যু সংখ্যা করোনার তুলনায় কম নয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দায়িত্ব সব রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা। যে কোনো রোগীর চিকিৎসা একইভাবে গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। অন্যান্য রোগীর ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার দরকার আছে, তার মানে এই নয় যে, পরীক্ষার নামে চিকিৎসা বন্ধ থাকবে। এক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষার জন্য র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার অজুহাতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কিডনি রোগী ডায়ালাইসিস সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে বর্তমানে করোনার কারণে ডায়ালাইসিস সেবা এক প্রকার বন্ধ আছে। প্রভাবশালী লোক না হলে বা ভিআইপি পর্যায় থেকে ফোন করাতে না পারলে ডায়ালাইসিস পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। এমনকি কোনো কোনো সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা পাবে না বলে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এছড়া সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা। করোনা আতঙ্কে সেখানে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি চিকিৎসা। করোনা পরীক্ষা করানো না থাকলে কোনো রোগীর এনজিওগ্রাম করানো হয় না জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এসব রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে করোনা নিশ্চিতে আরটি-পিসিআর করাতে হয়। যে পরীক্ষার ফল পেতে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ মুমূর্ষু নিউরো বা কার্ডিয়াক রোগীর জন্য ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করা বিজ্ঞানসম্মত নয়।

আরও জানা গেছে, দেশের কোভিড পরিস্থিতির অবনতি হলেও অন্যান্য রোগ থেমে নেই। আগের মতো নিউরো সায়েন্স ও হৃদরোগ হাসপাতালে শয্যা সংকট রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, সলিমুল্লাহ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন বিভাগে আগের মতোই শয্যার অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসাধীন। আর চলতি মাসে ডেঙ্গি রোগী বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করে সরকারি বেসরকারি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। অথচ তাদের কিছু সহকর্মী করোনার অজুহাত দিয়ে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখেছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসাও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এতে ফুরিয়ে আসছে রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা। ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৭টি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যায় রোগী পূর্ণ হয়ে আছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ এবং জেলা হাসপাতালে আইসিইউর পাশাপাশি সাধারণ শয্যায় রোগী পূর্ণ হয়ে আছে। কোথাও কোথাও শয্যার তুলনায় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৫০ বা তার চেয়ে বেশি রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকায় সরকারি পর্যায়ে ১৬টি হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬টি হাসপাতালে কোনো আইসিইউ শয্যা ফাঁকা নেই। এগুলো হলো কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতাল।

এছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ শয্যার চেয়েও অতিরিক্ত ৫০ রোগী চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়ে ২৮টি হাসপাতালে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে ১০টি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা এবং ৯টি হাসপাতালে সাধারণ শয্যা খালি নেই। এগুলো হলো-ইবনে সিনা হাসপাতাল, এএমজেড হাসপাতাল, ইমপাল্স হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, গ্রীন লাইফ হাসপাতাল, ল্যাবএইড হাসপাতাল, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হাইকেয়ার হাসপাতাল, আল মানার হাসপাতাল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসাধীন আছেন ১১০ জন, কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসাধীন ১৮৫ জন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১০ শয্যার বিপরীতে কোভিড-১৯ রোগী চিকিৎসাধীন ২০৩ জন।

চাঁদপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৬০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসাধীন রোগী ৭৭ জন। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ২৩৮ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ২৪৮ জন।

একইভাবে নাটোর আধুনিক হাসপাতালে শয্যা অতিরিক্ত রোগী ১২ জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ৫৩ জন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ২৯ জন। একই অবস্থা দিনাজপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও মাগুরাতে। এমনকি উপজেলা পর্যায়ে কোথাও ৫ শয্যা কোথাও ১০ শয্যা কোভিড ডেডিকেটেড করা হয়েছে। অনেক স্থানেই সেগুলো পূর্ণ হয়ে আছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার) দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৩ জেলাতেই করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে- ঢাকা, কুমিল্লা, খুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় সব জেলাতেই ১ জন থেকে ৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ইতঃপূর্বে এমনটি দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, করোনা রোগী বাড়লে সব চিকিৎসকের দৃষ্টি থাকে তাদের দিকে। এ সময় অন্য রোগীদের অপেক্ষমাণ থাকতে হয়। তবে চিকিৎসা না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষায়িত হাসপাতালে বিশেষ সমসাগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বাংলাদেশের বিশাল জয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

হারারেতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি ম্যাচে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, একমাত্র টেস্ট ম্যাচের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতেও বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না জিম্বাবুয়ে।

ব্যাটিংয়ে লিটন দাস ও বোলিংয়ে আলো ছড়ালেন সাকিব। এ দুই তারকার নৈপুণ্যে ১৫৫ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৬ রান করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে লিটন দাস করেন ১০২ রান।

২৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সাকিবের ঘূর্ণিতে ২৮.৫ ওভারে ১২১ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

সাকিব মাত্র ৩০ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকা করে বিশাল জয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

একদিনে ঘুরে আসুন সোনালী ঐতিহ্যের সোনারগাঁয়ে

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য তারা ছুটে যেতে চান ঘরের বাইরে। তাদের জন্য রয়েছে অসাধারণ এক জায়গা ঢাকার খুব কাছাকাছি।

অতি সহজে ও অনায়াসে আপনি বেড়াতে পারেন ঈশা খাঁর স্বপ্নের নগরী ‘সোনারগাঁয়ে’। এখানে অনেক কিছু দেখার আছে; যা যে কাউকে আকর্ষণ করবে। শুধু ভ্রমণ নয়, এর সাথে সাথে আয়োজন করতে পারেন বনভোজনেরও। ভ্রমণ ও বনভোজন একসাথে দুটোই হয়ে গেল। চলে আসুন আজই। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করুন।

মহামারি বিস্তার রোধে চলমাম লকডাউনে দেশের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ। এ মুহূর্তে ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তারপরও লোকজন সোনারগাঁওয়ে বেড়াতে আসছে।

করোনার সংক্রমণ কমে গেলে ঘরে বসে থাকার একঘেয়েমিতা কাটাতে আপনি সোনারগাঁয়ে বেড়াতে আসতে পারেন। এখানে এলে কোথায় যাবেন, কী কী দেখবেন একটু জেনে নিন।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর

সোনারগাঁয়ে বেড়াতে গেলে প্রথমেই আপনি যা দেখবেন তা হলো আবহমান গ্রামবাংলার লোক সংস্কৃতির ধারাকে পুনরুজ্জীবন, সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য গড়ে ওঠা বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন; যা সোনারগাঁ জাদুঘর নামে পরিচিত। আপনি বাসে কিংবা প্রাইভেটকারে সোনারগাঁয়ে এসে প্রথমে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা আসতে হবে। পরে যদি বাসে আসেন তাহলে রিকশায় চড়ে আপনাকে সোনারগাঁ জাদুঘরে আসতে হবে।

এখানে এলে আপনার প্রথম নজর কাড়বে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০ বছরের প্রাচীন এক অট্টালিকা ভবন। এই ভবনটি পুরনো বড় সর্দার বাড়ি খ্যাত। বড় সর্দার বাড়িটি আরও আকর্ষণ করতে সংস্কার করেছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান করপোরেশন। বড় সর্দার বাড়িটি জাদুঘরকে আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। ভবনের বাহিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য ভাস্কর্য দুটি ঘোড়া; যা সোনারগাঁ জাদুঘরের কথা বললেই এই দুই ঘোড়া দেখলেই সবাই অনায়াসে চিনতে পারে।

আপনি জাদুঘরে প্রবেশ করেই আরও দেখতে পাবেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের তৈরি গরুর গাড়ির ভার্স্কয, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভার্স্কয ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আবক্ষ ভার্স্কয; যা দেখেই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এখানে এলেই আপনি ঘুরে ঘুরে দেখতে পাবেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন স্মৃতি জাদুঘর ও বড় সর্দার বাড়ি ভবনের গ্যালারি। বড় সরদার বাড়ি গ্যালারি ও জয়নুল আবেদীন স্মৃতি জাদুঘরের গ্যালারিতে অনেক কিছু ঘুরে ঘুরে দেখতে পাবেন। গ্যালারিগুলোতে কাঠ খোদাই, কারুশিল্প, পটচিত্র ও মুখোশ, আদিবাসী জীবনভিত্তিক নিদর্শন, গ্রামীণ লোক জীবনের পরিবেশ, তামা কাসা পিতলের নিদর্শনে লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়ামাটির নিদর্শন, লোকজ অলংকারসহ অনেক কিছুই রয়েছে। জাদুঘরের অভ্যন্তরে আরও অনেক কিছুই আপনি ইচ্ছেমতো প্রাণ খুলে ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন।

এখানে রয়েছে লাইব্রেরি, ডকুমেন্টেশন সেন্টার, ক্যান্টিন, সেমিনার হল, সোনারতরী মঞ্চ, গ্রামীণ উদ্যান, হরেক রকম বৃক্ষ, মনোরম লেক, লেকের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নৌবিহার, মৎস্য শিকারের ব্যবস্থা, স্থায়ী মনোরম প্রকৃতি অপরূপা সেতু, পঙ্খীরাজ নৌকা। এছাড়া আপনি আরো একটি আকর্ষণীয় এলাকা দেখতে পাবেন জাদুঘরের পশ্চিম প্রান্তে।

বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে কারুশিল্প গ্রাম। এখানে বৈচিত্র্যময় লোকজ স্থাপত্য গঠনের তৈরি হয়েছে মানোরম ঘর। এ ঘরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা অচেনা অথচ দক্ষ কারুশিল্পীরা বাঁশ বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, পাট শিল্প, ঝিনুক,কামার, শঙ্খ শিল্প, রেশম শিল্প, একতারা ইত্যাদি উৎপাদন করছেন। এখানে কারূপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি আপনার পছন্দের কারূপণ্য কিনতে পারেন। ভ্রমণও হলো আর কেনাকাটাও সারা হলো।

এ সোনারগাঁ জাদুঘরে আসলেন আর জানলেন না জাদুঘরটি কবে প্রতিষ্ঠিত হলো। আর কে প্রতিষ্ঠিত করল। ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ শিল্পচার্য জয়নুল আবেদীন প্রতিষ্ঠা করেন লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁ জাদুঘর)। প্রথমে এটি ঐতিহাসিক পানাম নগরীর একটি পুরনো বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮১ সালে ১৫০ বিঘা আয়তনের কমপ্লেক্সে এ দেশের সাধারণ মানুষের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডের পরিচয়কে তুলে ধরতে শিল্পী জয়নুল আবেদীন এই জাদুঘর গড়ে তোলার প্রয়াস নেন।

লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে বুধবার ও বৃহস্পতিবার। অন্যান্য দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। জাদুঘরে প্রবেশ ফি দুটি ভবনের গ্যালারিসহ ৩০ টাকা।

পানাম নগরী

জাদুঘর থেকে বেরিয়ে ঠিক উত্তর দিকে গেলেই আপনি দেখতে পাবেন ঐতিহাসিক পানাম নগরী। এখানে রয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন স্থাপত্যকলা ও শিল্পের অনুপম নিদর্শনে ভরপুর। রাস্তার দুইপাশে শত শত বছরের পুরনো অট্টালিকা দাঁড়িয়ে আছে। আপনি পানামে এলেই মন যেন অন্যরকম অনুভব হবে।

পানামের অট্টালিকা আপনাকে স্বাগত জানাবে। পানামে এলেই আপনি দেখতে পাবেন পানামের চারদিকে পরিখা বেষ্টিত দুই দিকে ফটকসমৃদ্ধ ইমারতরাজী শোভিত নাচঘর, নহবতখানা, দরবার কক্ষ। পানামের এক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্খীরাজ খাল। একটু উত্তর দিকে দেখতে পাবেন পঙ্খীরাজ সেতু (পানাম সেতু) ও নীলকুঠি। ঈশা খাঁর সময়কালে এই নগরী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল।

সোনারগাঁওয়ে রাজদণ্ড বা রাজকার্য পরিচালিত হতো এই পানাম নগরী থেকেই। এ নগরীই যে প্রাচীন বাংলার রাজা-বাদশাদের বাসস্থান ছিল তার প্রমাণ এই অঞ্চলের স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যেই পাওয়া যায়। আর এ কারণে পানাম গড়ে উঠেছিল বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে; যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের স্বাক্ষর স্বরূপ। এ নগরীতে আরও রয়েছে- খাজাঞ্চিখানা, ঠাকুর ঘর, গুপ্তপথ, মঠ, মন্দির, পুরানো লোক কারুশিল্প জাদুঘর ভবন,পোদ্দার বাড়ি, চারশ’ বছরের প্রাচীন টাকশাল বাড়ি, বিনোদন পিকনিক স্পট, টুরিস্ট হোম এবং প্রাচীন বিদ্যাপীঠ সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন।

সম্প্রতি পানাম নগর প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর আধুনিক পর্যটন নগরীর জন্য কাজ করছে। সোনারগাঁয়ে ভ্রমণে এলে আপনি পানামে অনায়াসে ঘুরে যেতে পারেন। পানামের বাইপাস সড়কের পাশে রয়েছে মনোরম লেক। এ লেকে নৌকায় চড়ে খুব আনন্দে বেড়াতে পারবেন আপনি। জাদুঘর থেকে পানামে রিকশা ভাড়া নেবে ১০-১৫ টাকা। পানাম নগরের প্রবেশ ফি ১৫ টাকা।

পানাম নগরী
পানাম নগরী

আরো যা আছে

আপনি সোনারগাঁয়ে একদিনে বেড়াতে এসে যদি সময় পান তাহলে সোনারগাঁয়ে আরও অনেক কিছু দেখার রয়েছে। লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের ২নং প্রবেশপথ থেকে বেরিয়ে পশ্চিম দিকে চলে গেলে দেখতে পাবেন প্রাচীন র্কীতি মুসলিম স্থাপত্য গোয়ালদী আলাউদ্দিন হোসেন শাহী মসজিদ।

জাদুঘর থেকে সেখানে যেতে রিকশা ভাড়া নেবে ২০-৩০ টাকা। আর মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪০-৫০ টাকা। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা গিয়ে একটু দক্ষিণ দিকে মোগড়াপাড়া বাজারের পশ্চিমে দেখতে পাবেন প্রাচীন সব ইমারতরাজি, বারো আউলিয়ার মাজার। হযরত শাহ ইব্রাহিম দানিশ মন্দ ও তার বংশধরদের মাজার, ইউসুফগঞ্জের মসজিদ, দমদমা গ্রামে দমদম দুর্গ, সুলতান গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের সমাধি, পাঁচ পীরের মসজিদ ও মাজার। এসব প্রাচীন কীর্তি ও দর্শনীয় স্থান দেখতে হলে আপনি সোনারগাঁওয়ে ভ্রমণে এলে সরাসরি প্রাইভেটকারে কিংবা রিকশাযোগে যেতে পারেন।

জাদুঘরে যাওয়ার পথে দিঘীরপাড় গ্রামের পূর্বে রয়েছে ঐতিহাসিক মসলিনপাড়ার গ্রাম খাসনগর। রয়েছে হিন্দু সম্প্রাদায়ের তীর্থভূমি বারদী লোকনাথ ব্রহ্মাচারী আশ্রম, এর পাশে একটু পূর্বদিকে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসুর বাড়ি। ওই বাড়িতে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসু স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে আপনি রিকশা কিংবা বেবি ও সিএনজিযোগে যেতে পারেন।

আপনি সোনারগাঁয়ে যেখানে যান না কেন আপনি রিকশা বা সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোতে ঘোরাঘুরি করলে আপনাকে আগে থেকেই ভাড়া দরদাম করে নিলেই ভালো। এছাড়া আপনি সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসে দুপুরে খেতে হলে সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন স্পটে অনেক হোটেল রয়েছে। হোটেলে খাবার খেতে হলে আগেই দরদাম জেনে নেওয়াই ভালো।

আলাউদ্দিন হোসেন শাহী মসজিদ
আলাউদ্দিন হোসেন শাহী মসজিদ

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে ২৬ কিলোমিটার পূর্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা হয়ে উত্তরদিকে পর্যটন নগরী সোনারগাঁওয়ের অবস্থান। ঢাকা থেকে বাসে কিংবা প্রাইভেটকারে সোনারগাঁওয়ে যাওয়া যাবে। সময় লাগবে বাসে এক থেকে দেড় ঘণ্টা এবং প্রাইভেটকারে এক ঘণ্টা।

ঢাকায় গুলিস্তান এসে হকি স্টেডিয়ামের পাশে বাস কাউন্টার রয়েছে। এখান থেকে ঢাকা-মেঘনা সড়কের দোয়েল সার্ভিস,স্বদেশ পরিবহন, বোরাক বাসে চড়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় নামতে হবে। বাস ভাড়া ৪০-৪৫ টাকা। এছাড়া প্রাইভেটকারেও আপনি আসতে পারেন।

যদি বাসে আসা হয় তাহলে চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ডে নেমে রিকমাযোগে উত্তর দিকে পর্যটক নগরী সোনারগাঁও লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁও জাদুঘরে) যেতে হবে। সেখানে রিকশা ভাড়া নেবে ২০-৩০ টাকা। এছাড়া জাদুঘর থেকে যাওয়া যাবে আরেক পর্যটন স্পট বাংলার তাজমহলে। লোকশিল্প জাদুঘর থেকে সিএনজিতে সরাসরি ও বাসে বাঁধন সার্ভিসে মদনপুর নেমে আবার বাঁধন বাসে বাংলার তাজমহলে যাওয়া যায়। সিএনজি ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

ঢাকা থেকে সোনারগাঁয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত থাকার পরিকল্পনা থাকে না। ঢাকার খুব কাছাকাছি বলে একদিনে আপনি ঘোরাঘুরি শেষে আবার বাসায় ফিরে যেতে পারবেন। দূর থেকে যারা এখানে বেড়াতে আসেন তারা অনেক সময় থেকে যেতে চান। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য হলো- এখানে একটি থ্রি স্টার মানের ‘সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্ট’ নামে একটি রিসোর্ট রয়েছে।

এটি লোকশিল্প জাদুঘরের পাশেই খাসনগর দিঘীরপাড় এলাকায় অবস্থিত। এখানে রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে থাকতে হলে আগেই বুকিং দিতে হবে।

এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে একটি রেস্ট হাউস রয়েছে এখানে। সেটি এমএ সাত্তার কেন্দ্রীয় গণবিদ্যালয় (বেইস)। এখানে অনেকগুলো মনোরম কক্ষ রয়েছে। জাদুঘর সংলগ্ন খাসনগর দিঘীরপাড় ইছাপাড়া গ্রামে এর অবস্থান। এছাড়া সরকারি অতিথিদের জন্য জাদুঘর ও উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব গেস্ট হাউস বাংলো রয়েছে।

শহিদ সিরাজ লেকে

১৯৪০ সালে সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতকে নির্মাণ করা হয় আসাম বাংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ করে এর চাহিদা মেটানো হতো।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভারত থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ বন্ধ হয়ে পড়লে সিমেন্ট ফ্যাক্টরিটি চালু রাখতে তাহিরপুর সীমান্তের টেকেরঘাটে এলাকার ৩২৭ একর ভূমির উপর জরিপ চালিয়ে ১৯৬০ সালে চুনাপাথরের সন্ধান পায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ।

সন্ধানের পর ১৯৬৬ সালে থেকে খনিজ প্রকল্প চালু করে মাইনিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পাথর উত্তোলন করা হয় এই লেক থেকে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে প্রকল্পটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর থেকে পড়ে থাকে টেকেরঘাট চুনাপথরের পরিত্যক্ত খনির লাইমস্টোন লেক। নীল রঙের পানি থাকায় এই লেক কে নীলাদ্রি লেক বলে থাকে। এই লেকের প্রকৃত নাম শহিদ সিরাজ লেক। অবশ্য স্থানীয় লোকজন একে টেকেরঘাট পাথর কোয়ারি নামে চেনে।

কথাগুলো বলছিলেন আমার অফিসের সহকর্মী মুসা ভাই। মঙ্গলবার থাকায় অফিসে কিছুটা কাজের চাপ কম, তাই কথা হচ্ছিল আসছে সপ্তাহে নতুন কোথায় যাওয়া যায়। মুসা ভাই কথা শুনে মনে মনে ঠিক করে ফেললেন আসছে সপ্তাহে মিশন হবে নীলাদ্রি লেক। সপ্তাহান্তে সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটি এলো- মানে শুক্রবার। পূর্বপরিকল্পনা মতো সকাল হতেই তৈরি হয়ে নিলাম।

ফোন দিলাম মুসা ভাইকে আমি তৈরি হয়ে গেছি কোথায় আসতে হবে। উনি বললেন, নীলাদ্রি লেকে যেতে হলে প্রথমে আমাদের যেতে হবে সুনামগঞ্জ শহরে; সেখানে থেকে বাকি পথ মোটরসাইকেলে। আপনি তাহলে চৌহাট্টা আসেন সেখান থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার পরিবহন পাওয়া যাবে। কথামতো আমি উপস্থিত হলাম চৌহাট্টায়। অপেক্ষা করতে লাগলাম মুসা ভাইয়ের জন্য। অল্প সময়ের মাঝে মুসা ভাই এসে উপস্থিত।

আমরা চার চাকার যানে করে রওনা দিলাম সুনামগঞ্জে। দিবার প্রথম প্রহর তাই সূর্যদেবের প্রভা এতটা পড়ে নাই মহাসড়কে। আম্বরখানা মদিনা মার্কেট পেরিয়ে আমরা চললাম এগিয়ে। শীতের শেষ বর্ষার শুরু তাই গাছে গাছে নতুন পাতা ডানা মেলেছে।

দুই ঘণ্টার মধ্যে আমরা এসে পৌঁছলাম সুনামগঞ্জ শহরে। সেই কখন বের হয়েছি তাই পেটে কোন দানাপানি ডোড় নাই। সাইনবোর্ডবিহীন একটা হোটেলে সকালের নাস্তা করে নিলাম। মন খুব ভালো লাগছিল; আর কিছু সময়ের মধ্যে হয়তো আমরা পৌঁছে যাব আমাদের গন্তব্যে। গন্তব্যে পৌঁছানোর আনন্দে জল ঢেলে দিয়ে মুসা ভাই জানালেন, ধুলোমাখা পথে এক ঘণ্টার একটা মোটরসাইকেল জার্নি তখনো বাকি আছে। কী আর করা?

গাড়ি থেকে নেমে রিকশায় উঠলাম। যাব এমএ খান সেতুতে। ওখানে ভাড়ায় মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। সেতুর পথে যাওয়ার সময় দেখা মিলল সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে মোটরবাইকের পাশাপাশি সিএনজিও পাওয়া যায়। প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য ভালোভাবে দেখার সুযোগ নষ্ট করতে চাইলাম না।

আমাদের পাইলট, থুক্কু মোটরসাইকেল চালকের নাম দেলোয়ার। বেশ স্মার্ট ছেলে, চোখে সানগ্লাস। প্রথমদিকে কিছুক্ষণ পরপর ছবি তোলার জন্য তাকে থামাতে হচ্ছিল। ভাবলাম বিরক্ত হচ্ছে। ছবি তোলার চিন্তা বাদ দিলাম। খানিক পর দেলোয়ার নিজে থেকেই বলে বসল- ‘ভাইজান, এইটা তোলেন, ভাইজান ওইটা তোলেন।’ আবার শুরু হলো ছবি তোলা। আর তা চলেছিল পুরো যাত্রাপথেই।

 

অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমরা এসে পৌঁছলাম জাদুকাটা নদীর তীরে। অসাধারণ রূপ জাদুকাটা নদীর। জাদুকাটা পাড়ি দিয়ে স্বল্প সময়ের মাঝে আমরা চলে এলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য নীলাদ্রি লেকের কাছে। লেকের কাছে গিয়ে চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না।

নীল রঙে রূপায়িত নীলাদ্রি। এ যেন নীলের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া। আমরা পদব্রজে এগিয়ে যেতে লাগলাম। মাঝের টিলাগুলো আর ওপাড়ের পাহাড়ের নিচের অংশটুকু বাংলাদেশের শেষ সীমানা। বড় উঁচু পাহাড়টিতেই সীমানা, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া আছে।

এই লেকটি এক সময় চুনাপাথরের কারখানার কাঁচামাল চুনাপাথরের সাপ্লাই ভাণ্ডর ছিল; যা এখন বিলীন।

আরেকটা কথা বলাই হলো না- এ লেকের মূল নাম শহীদ সিরাজ লেক। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৫ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সাব-সেক্টর ছিল টেকেরঘাট। মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ছিলেন এ সাব-সেক্টর টেকেরঘাটের কমান্ডার।

সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হলে তাকে কবর দেওয়া হয় এই টেকেরঘাটে। তাই এককালের চুনাপাথরের খনি যখন লেকে পরিণত হয় তখন এর নামকরণ করা হয় শহীদ সিরাজ লেক।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য এই কমান্ডারকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। এ লেকের পাড়েই আছে শহীদ সিরাজের সমাধি। আমরা চলছি এগিয়ে- পাশেই আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতের সীমানা।

তাই বন্ধুরা যারা যাবেন তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে সীমান্ত এলাকা, তাই সাবধানে থাকুন এবং সীমানার খুব কাছাকাছি না যাওয়ার চেষ্টা করুন। আর লেকের পানিতে সাঁতার না জানলে না নামাই ভালো। নামলেও বেশি দূরে যাবেন না। কারণ এখান থেকে খুব পরিমাণে চুনাপাথর উঠানো হতো, ফলে লেক অত্যাধিক গভীর।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে শ্যামলী/মামুন/এনা বাস যায় সুনামগঞ্জ- ভাড়া ৫৫০ টাকা। সুনামগঞ্জ থেকে নতুন ব্রিজ পার হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যেতে হবে। চাইলে টেকেরঘাট পর্যন্ত সরাসরি মোটরসাইকেল রিজার্ভ নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা নিতে পারে আর মাঝপথে যাদুকাটা নদী পার হতে জনপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা আর মোটরসাইকেলের ভাড়া ২০ টাকা।

এছাড়া আপনি সুনামগঞ্জ থেকে লাউড়ের গড় পর্যন্ত মোটরসাইকেলে করে যেতে পারেন; ভাড়া ২০০ টাকা। তারপর যাদুকাটা নদী পার হয়ে বারেকটিলা থেকে ১২০ টাকা ভাড়ায় টেকেরঘাট যেতে পারবেন।

এখানে উল্লেখিত মোটরসাইকেলের ভাড়া যেটা উল্লেখ আছে সেটা পুরা বাইকের ভাড়া- মানে একটা বাইকে ২ জন যেতে পারবেন। তবে মোটরসাইকেলের ভাড়া আগে দামাদামি করে নেবেন। যতটা সম্ভব কমিয়ে নেওয়াই ভালো।

ইউটিউবে গান শুনুন স্ক্রিন বন্ধ রেখে

মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের মালিকানাধীন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফরম ইউটিউবে গান শুনতে অনেকেই আড়ি পাতেন। কিন্তু স্ক্রিন বন্ধ হলেই থেমে যায় ইউটিউবের গান! তবে ব্যাকগ্রাউন্ডে ইউটিউব থেকে গান শোনার সুবিধাও আছে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে

স্ক্রিন বন্ধ করেও শোনা যাবে ইউটিউবের গান-তাই নিয়ে আজকের টিপসে লিখেছেন- এমরান হোসেন মুহিন

সাধারণত ইউটিউব প্রিমিয়ামের মাধ্যমে এ সেবা পাওয়া যায়, যার জন্য মাসে ১২ ডলার গুনতে হবে। এছাড়া ছোট একটি ট্রিকসের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইউটিউউবে স্ক্রিন বন্ধ অবস্থায় গান শোনা যায়।

* অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে প্রথমে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘টেলিগ্রাম’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।

* এবার ইউটিউব থেকে যে গানটি শুনতে চাচ্ছেন সেই গানের ‘লিংক’ টেলিগ্রামের নিজের সঙ্গে চ্যাট অথবা বন্ধুর কাছে শেয়ার করুন।

* এখন সেই লিংকে ক্লিক করলে দেখবেন নিচের দিকে ‘পিকচার-ইন-পিকচার’ মুড অপশনে ক্লিক করুন।

* এবার পপ-আপ উইন্ডোতে ‘পিকচার-ইন-পিকচার মুড’ সেটিংস দেখাবে। সেটিংসে ক্লিক করলে ‘ডিসপ্লে ওভার আদার অ্যাপ’ অপশনটি অন করে দিন।

* আবারও টেলিগ্রাম থেকে ইউটিউব ভিডিওটি প্লে করে ‘পিকচার-ইন-পিকচার’ মুডে ক্লিক করুন।

* এবার গানটি বাজলে ফোনের স্ক্রিন লক করে দিন। ব্যস ব্যাকগ্রাউন্ডেই ইউটিউব থেকে গান শোনা যাবে।

জমে উঠছে অনলাইন পশুর হাট, বিক্রি প্রায় দুই লাখ

করোনাভাইরাসের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে অনলাইনে কুরবানির পশু কিনতে উৎসাহ দিচ্ছে প্রশাসন। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে অনলাইনে ও ডিজিটাল পশুর হাট ইতোমধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে।

এরইমধ্যে দুই লাখের বেশি পশু অনলাইন ও ডিজিটাল হাটের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে বলে অনলাইন ও ডিজিটাল হাটের আয়োজকরা জানিয়েছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২ জুলাই থেকে গত ১৩ জুলাই পর্যন্ত এক লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৬টি পশু বিক্রি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিনাত সুলতানা বিবিসিকে বলেন, গত সপ্তাহ খানেক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশু বিক্রি হয়েছে। এর আগে বিক্রি খুব বেশি ছিল না।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি আমরা। গত বছরের তুলনায় এরইমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি পশু বিক্রি হয়ে গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, কুরবানির পশুর মধ্যে কমপক্ষে ২০ শতাংশ পশু অনলাইনে বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

গত ২ জুলাই থেকে জেলাভিত্তিক অ্যাপ, ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন অনলাইন সাইটের মাধ্যমে পশু বিক্রি শুরুর উদ্যোগ নেয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আর ৪ জুলাই ডিজিটাল হাট নামে আরেকটি প্ল্যাটফর্মও উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ১৯ লাখের মতো পশু কুরবানি করা হয় বলে জানান জিনাত সুলতানা।

সেই লক্ষ্য পূরণেই গত বছর থেকে অনলাইনে পশু বিক্রি শুরু হয়। জেলাভিত্তিক অ্যাপ, ফেসবুক পেজ এবং সাইট মিলে মোট ১৭৭৮টি অনলাইন মাধ্যমে পশু বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৫শ ৮৯টি পশুর ছবি আপলোড করা হয়। এর মধ্যে এক লাখ ৮৪ হাজারের বেশি বিক্রি হয়েছে।

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সাথে মিলে পশু বিক্রির জন্য ডিজিটাল হাটের উদ্যোগে রয়েছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এই ডিজিটাল হাটে এ বছর ক্রেতাদের বেশ ভালো সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠান। গত বছরও ডিজিটাল পশুর হাটের আয়োজন করা হয়েছিল। আর এবছর ৪ জুলাই থেকে ডিজিটাল পশুর হাট চলছে।

কানাডায় নজর কাড়ছে বাংলাদেশি ক্রিকেট

কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই টরন্টোয় বাংলাদেশিদের ৬টি টিম মূলধারার ক্রিকেট লিগে অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে। টেপ বল, ক্রিকেট বল মিলিয়ে বাংলাদেশিদেরই ২০টির মতো ক্রিকেট টিম গড়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন টরন্টোর ক্রিকেট অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।

তারা জানান, নিয়মিত অনুশীলনের জন্য একটি মাঠ আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা কানাডার জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুন দেশ’-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ অনুষ্ঠানে আলোচনায় প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা এ কথা বলেন।

এতে আলোচনায় অংশ নেন স্বাধীন ক্রিকেট ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ইত্তেজা আহমেদ টিপু, বাংলা ওয়ারিয়র ক্রিকেট টিমের ভাইস ক্যাপ্টেন মোস্তফা দাউদ এবং টিম টাইগার ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন তানিম চৌধুরী।

ইত্তেজা আহমেদ টিপু কানাডায় বিশেষ করে টরন্টোয় বাংলাদেশিদের ক্রিকেট চর্চার ইতিবৃত্ত তুলে ধরে বলেন, প্রবাসের কঠিন জীবনে নিয়মিত খেলাধূলার চর্চা করা রীতিমতো কঠিন কাজ। কিন্তু ক্রিকেটামোদী বাংলাদেশিরা ভাড়া করা মাঠে অনুশীলন করেই এখন মূলধারার বিভিন্ন লিগে অংশ নিচ্ছে।

ক্রিকেটার তানিম চৌধুরী অন্যান্য কমিউনিটিতে থাকা অবকাঠামোগত সুবিধাদি তুলে ধরে বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধাদি নিশ্চিত করা গেলে আমাদের ক্রিকেটাররা কানাডার জাতীয় দলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও ক্রিকেটের ব্যাপারে উৎসাহী হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নতুন দেশ-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, তাদের সম্পর্কে কমিউনিটিতে তেমন একটা আলোচনা শোনা যায় না, তাদের নিয়ে তেমন উচ্ছ্বাস দেখা যায় না। অনেকটা আড়ালেই যেন পড়ে আছে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের মর্যাদার আসনে বসানোর অসাধারণ এক উদ্যোগ। তিনি টরন্টোর বাংলাদেশিদের ক্রিকেটকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

যৌথ সম্পত্তি বণ্টন না হলে কুরবানি করবেন যেভাবে

প্রশ্ন: আমরা তিন ভাই। মা জীবিত আছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টন করা হয়নি। অবশ্য বাবা খুব বেশি সম্পত্তি রেখে যাননি। আমরা তিন ভাই চাকরি করি। প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু কিছু সম্পদ আছে।

কুরবানির সময় আমরা তিনভাই মিলে মায়ের নামে একটি ছাগল কুরবানি করে থাকি। আমি জানতে চাই— এভাবে আমাদের কুরবানি করা সহীহ হচ্ছে কিনা?

উত্তর: আপনার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টন করলে আপনারা প্রত্যেকে যে পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হবেন তার সঙ্গে প্রত্যেকের নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তি যোগ করলে যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সোনা-রুপা, টাকাপয়সা বা অন্যান্য সম্পত্তি থাকবে তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব হবে।

সে হিসাবে যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে তাকে পৃথকভাবে অন্তত একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা অথবা বড় পশুতে এক সপ্তমাংশে শরিক হয়ে নিজের কুরবানি আদায় করতে হবে। কয়েক ভাই মিলে মায়ের নামে ছাগল কুরবানি করার দ্বারা আপনাদের ওয়াজিব কুরবানি আদায় হবে না।

অবশ্য যদি আপনাদের কারও উপরোক্ত পরিমাণে সম্পদ না থাকে সে ক্ষেত্রে কুরবানি ওয়াজিব হবে না। কেউ করলে তা নফল হিসেবে আদায় হবে।

সূত্র: ফাতওয়া হিন্দিয়া ১/১৮১; এলাউস সুনান ১৭/২১০

সুফি কবি মাওলানা রুমি

ফার্সি সাহিত্যের একটি প্রবাদ আছে- ‘সাতজন কবির সাহিত্যকর্ম রেখে যদি বাকি সাহিত্য দুনিয়া থেকে মুছে ফেলা হয়, তবু ফার্সি সাহিত্য টিকে থাকবে।’ এ সাতজন কবির তালিকায় যেমন আছেন ফেরদৌসী, হাফিজ, নিজামী, রুদাকী, সাদী ও জামী তেমনি আছেন সুফি কবি মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি।

আফগানিস্তানের বলখ শহরে ইংরেজি ১২০৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এ মহাকবি। তার পিতার নাম মাওলানা বাহা উদ্দিন ওয়ালাদ। তিনি ছিলেন একাধারে বিদ্বান, কবি, বক্তা এবং একজন সুফি দরবেশও। তিনি রুমি-এর অনুসারীদের কাছে ‘সুলতান আল-উলামা’ নামে পরিচিত।

পিতার কাছ থেকেই, মাওলানা রুমি তার প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। রুমির পিতা ছাড়াও রুমির ওপর যারা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন তারা হলেন ফার্সি কবি আত্তার, সৈয়দ বুরহান উদ্দিন, শামস তাবরিজি, স্বর্ণকার সালাহ উদ্দিন ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গী প্রিয় ছাত্র হুসাম-এ চালাবি।

কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তার (রহ.)-এর সঙ্গে রুমির সাক্ষাৎ ঘটে ইরানের নিশাপুরে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। বালক জালাল উদ্দিনকে দেখা মাত্র তিনি বলেছিলেন, ‘এ বালক একজন মহাপুরুষ হবে’। রুমির প্রতি স্নেহাশিস হয়ে সুফি আত্তার তার বিখ্যাত ‘আসরারনামা’ও উপহার দিয়েছিলেন।

রুমি তার গুণগ্রাহিতা করে বলেন, ‘আত্তার হচ্ছে আত্মা’। আরেকটি কবিতাতে স্মৃতিচারণ করেছেন, ‘আত্তার ভালোবাসার সাতটি নগরই ভ্রমণ করেছেন আর আমি এখনো একটি গলির প্রান্তে অবস্থান করছি’। ১২৪৪ সালে দরবেশ শামস তাবরিজি-এর সঙ্গে রুমির সাক্ষাৎ হয়। তাবরিজের সান্নিধ্য সম্পূর্ণরূপে বদলে দেয় রুমির জীবন।

গুরুর নির্দেশ মতো সূচনা করেন জীবনের নতুন এক অধ্যায়। ফলে একজন শিক্ষক থেকে রুমি পরিণত হন একজন মহান সুফি দরবেশ ও সাধকে। রুমির প্রিয় ছাত্র হুসাম-এ চালাবি রুমির সঙ্গীর ভূমিকা পালন করেন। একদিন হুসাম রুমিকে বললেন, ‘যদি আপনি একটি বই লিখেন যেমন সানাই-এর ‘এলাহিনামা’ বা আত্তার-এর ‘মাতিক উত-তাইর’ এরমত, যেটি অনেকের সঙ্গ দেবে। তারপর-ই রুমি তার বিখ্যাত ‘মসনভী’ লিখেছেন। ‘মসনভী’-এর ছয়টি খণ্ড লিখতে বারো বছর লেগেছিল।

১৭ ডিসেম্বর ১২৭৩ সালে রুমি ইন্তেকাল করেন। তাকে তার বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। তার সমাধিফলকে লেখা আছে-‘যখন আমি মৃত, পৃথিবীতে আমার সমাধি না খুঁজে, আমাকে মানুষের হৃদয়ে খুঁজে নাও।’ মাওলানা রুমির মৃত্যুর পর শুধু মুসলমানরাই নয়, ইহুদি-খ্রিষ্টানরাও তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেঁদেছিলেন।

একজন খ্রিষ্টানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ‘তোমরা কেন এত দুঃখচিত্তে তার কবরের পাশে কান্না করছ’? উত্তরে খ্রিষ্টান বলেছিলেন, ‘উনি আমাদের যুগের মসিহ। আমরা তাকে যুগের মুসা এবং দাউদ বলে শ্রদ্ধা করি। আমরা সবাই তার ভক্ত।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষণা

প্রথম ওয়ানডে মাঠে গড়ানোর পুরোপুরি ২৪ ঘণ্টাও বাকি না থাকতেও আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণা করেনি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড।

যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তামিম বলেছিলেন, ‘ম্যাচের এখনো ২৪ ঘণ্টাও বাকি নেই কিন্তু প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। সাধারণত এই সময় টিম মিটিং হয়, ব্যাটিং মিটিং হয়, বোলিং মিটিং হয়। যদি আপনি দলই না জানেন, তাদের নিয়ে মিটিং করবেন কি করে? আমি আসলে জানি না। এটা আমাকে বিস্মিত করেছে।’

তামিমের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পেরুনোর পর অবশেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে জিম্বাবুয়ে।

১৬ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়েছেন তিন নতুন মুখ- তাডিওয়ানাশে মারুমানি, ডিয়ন মায়ার্স ও মিল্টন শুমবা।

করোনা জটিলতায় টেস্টে অনুপস্থিত থাকা দলের দুই তারকা শেন উইলিয়ামস ও ক্রেইগ আরভিনকে রাখা হয়নি ওয়ানডে সিরিজেও।

তাই শেন উইলিয়ামসের অনুপস্থিতিতে ওয়ানডে সিরিজেও অধিনায়কত্ব করবেন ব্রেন্ডন টেলর। দলে যোগ দিয়েছেন সিকান্দার রাজা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে স্কোয়াড

ব্রেন্ডন টেলর (অধিনায়ক), রায়ান বার্ল, রেজিস চাকাবা, টেন্ডাই চাতারা, লুক জংওয়ে, তিনাশে কামুনহুকাময়ে, ওয়েসলি ম্যাডভেরে, টিমিসেন মারুমা, তাডিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিয়ন মায়ার্স, রিচার্ড নাগারাবা, সিকান্দার রাজা, মিল্টন শুমবা ও ডোনাল্ড তিরিপানো।