শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 732

লাল শাপলার সাতলা বিল

সাতলা নামের মধ্যেই আছে এক অন্যরকম আদিমতা। প্রকৃতির যত সৌন্দর্য তার সবটুকুই আদিমতার মধ্যে। আধুনিকতার আড়ালে আজ অনেক বুনো সৌন্দর্য যেন বিলীন। তবে নয়াকান্দি গ্রামটা এখনো ব্যতিক্রম। বলছি বরিশাল জেলার উজিপুরের নয়াকান্দি গ্রামের সাতলা বিলের কথা।অনেক বছর ধরে যাই যাই করে যাওয়া হয়নি। এবার সুযোগ মিলে গেল। দুই দিনের ট্রিপ। বুধবার রাতে লঞ্চে চড়ি। আমার আবার লঞ্চে ভ্রমণ খুবই কম করা হয়েছে। সদরঘাট হতে লঞ্চ ছাড়ে রাত ৯টায়। সব ঠিক থাকলে বরিশাল ঘাটে পৌঁছবে ভোর ৪টায়। এ দীর্ঘসময় ফেসবুকিং, গল্পগুজব আর একটু ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম। জাহাজ পৌঁছল সময়মতো। ঘাট থেকে অটোতে করে চলে যাই শহরের ১নং পুলঘাট বন্ধুর বাড়ি। বৃহস্পতিবার পুরো দিন ওদের সঙ্গে আড্ডা, নাশতা, বিশ্রাম, ভোজন, অতঃপর বিকালে বরিশাল শহরের প্ল্যানেট পার্কে ঘোরাঘুরি করে কেটে গেল। রাতের লঞ্চে লিটন ভাইয়েরাও আসবেন।

সাতলা বিলের ফুটন্ত লাল শাপলা দেখতে হলে যতটা সম্ভব ভোরে পৌঁছতে হবে উজিপুর। তাই সেলফোনে তাদের বারবার বলতে হচ্ছে যেন ১ মিনিটও নষ্ট না হয়। বরিশালবাসীর জনপ্রিয় বাহন মাহেন্দ্রর চালক গিয়াসকেও সেভাবেই বলা। আমিও আজ বেশি রাত না জেগে মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

সকালের ফাঁকা রাস্তার সুযোগে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছাই নয়াকান্দির কালবিলা। সড়কের পাশেই খেয়াঘাট। গাড়ি থেকে নেমেই হুড়মুড় করে নৌকায় বসি। দূর থেকেই চোখে ধরা দেয় লাল শাপলা। ছোট নৌকা এগিয়ে যায়। যতই এগোই, ততই যেন চোখে-মুখে মুগ্ধতা।

এক সময় নিজেকে আবিষ্কার করি বিশাল লালের মধ্যে। লাল শাপলার রাজ্যে নৌকা চলে, আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রই। পুরো সাতলা বিলটিই মনে হয় ফরাসি লাল মখমলে ঢাকা। যুগল ছাড়া তখনো কোনো পর্যটক আসেননি। ফলে বিলের মধ্যে একটা নিঝুম ভাব। মাঝে মধ্যে টুপটাপ মাছের লাফঝাঁপ। সাতলা বিলের চারপাশ পুরোটাই নৈসর্গিক। বিশাল আয়তনের এ সাতলা বিল থেকে অনেক পরিবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

থই থই পানির বুকে মাথা উঁচু করে থাকা, সবুজে ঘেরা বিচ্ছিন্ন বাড়িগুলোর সৌন্দর্য বেশ দৃষ্টিনন্দন। আর নারকেল গাছে থাকা থোকায় থোকায় ডাব তৃষ্ণার্ত ভ্রমণপিয়াসীদের বেশ হাতছানি দেয়।

মাঝি মতিলাল রায় জানালেন, আগে এখানে সাদা ও বেগুনি শাপলা ফুটত। এখন আর দেখা যায় না। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে বিলটিতে এ রকম হাজার হাজার শাপলা ফুটতে দেখছেন। আগে তেমন পর্যটক আসতেন না। এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আনাগোনাও বাড়তে থাকল। ধীরে ধীরে নৈঃশব্দ ভাবটা উবে গেল পর্যটকদের বিচরণে।

গ্রামটা ঘুরে দেখি। বরিশাল থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার জন্য কচা নদীর ওপর নবনির্মিত সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে এক অন্যরকম প্রকৃতি উপভোগ করি। কচা নদীর চারপাশে চোখ জুড়ানো সব প্রাকৃতিক দৃশ্য।

সকাল প্রায় সোয়া ১০টায় আবার পানিতে ভাসি। ততক্ষণে শাপলা অনেকটাই গুটিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ দৃষ্টিতে এলো, বিলের এক পাশটায় সাদা সাদা কি যেন ভাসছে। মাঝি জানালেন ডেপ ফুল। নৌকা সেদিকটায় গেল। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পারলাম, এগুলো চাঁদমালা ফুল। ডেপ আঞ্চলিক নাম। সত্যি বলতে কি, আমি এ ফুলের নাম কখনো শুনিনি। ফুলের নামও যেমন চাঁদমালা, এর বিচরণও তেমন। মালার মতোই পানিতে ভেসে আছে।

যেভাবে যাবেন: প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল লঞ্চ সদরঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছাড়ে। লঞ্চ টার্মিনাল থেকে রিজার্ভ মাহেন্দ্র অথবা নথুল্লাবাদ থেকে বাসে উজিরপুর উপজেলার হারতার নয়াকান্দি।

খরচ: জাহাজের ডেকে ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা ও কেবিন ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার ওপরে। মাহেন্দ্র সারা দিনের জন্য ২ হাজার টাকা। নৌকা ভাড়া দরদাম করে নেয়াই ভালো।

 

একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম!

ভোলায় একসঙ্গে তিনটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রসূতি স্ত্রী জান্নাত বেগম (২০)। শিশু তিনটি এবং তাদের মা বর্তমানে সুস্থ আছেন।

প্রসূতি জান্নাত বেগম বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মনিরাম গ্রামের নূর মাহমুদের স্ত্রী।

শুক্রবার বিকালে ভোলা শহরের কালিবাড়ি রোড এলাকার ফাতেমা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তিনটি ফুটফুটে সন্তান প্রসব করেন ওই গৃহবধূ।

ফাতেমা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ডা. খালিদ আহম্মদ শাকিল জানান, প্রসব বেদনা শুরু হলে ওই গৃহবধূ জান্নাত গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে শুক্রবার নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে বিকালে তিন সন্তান প্রসব করেন তিনি।

ওই গৃহবধূ প্রেগনেন্সির সাড়ে ৮ মাসের সময় তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ফলে নবজাতকদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়েছে। দুটি শিশুর ওজন দেড় কেজি ও একটির ওজন সোয়া কেজি। তবে বর্তমানে মা ও শিশুরা সুস্থ আছে।

৩০ বছর চুল কাটেননি এই নারী

এ যেন ঠিক বাস্তব জীবনের রুপানজেলের গল্প। সাড়ে ছয় ফুট লম্বা চুল নিয়ে রূপনাজেল কিংবা ডিজনির কোনো রাজকন্যার মতোই নজর কাড়ছেন এই নারী। তবে লম্বা চুল একদিনে হয়নি।

৩০ বছরে একবারের জন্য চুল কাটেননি ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। পাঁচ বছর বয়স থেকেই চুল কাটা বন্ধ করেন তিনি। তার চুল বর্তমানে তার নিজের উচ্চতার চেয়েও বেশি।

ইউক্রেনের বাসিন্দা আলেনা ক্রাভচেঙ্কোর ইনস্টাগ্রামে ৭০ হাজার অনুসারী আছে।তারা সবাই আলেনার ঝলমলে সোনালি চুলের ভক্ত। ইনস্টাগ্রামে প্রায়ই নিজের সুন্দর চুলের ছবি পোস্ট করেন তিনি।

নারীর আসল সৌন্দর্য তার চুলেই নিহিত-মায়ের কাছে সেই পাঁচ বছর বয়সে এই কথা শোনার পর থেকে চুল কাটা বন্ধ করেন তিনি। এতো বড় চুলের যত্ন নেওয়াটা অবশ্য কম ঝক্কির কাজ নয়। শুকানোর ঝামেলায় সপ্তাহে মাত্র একবার চুল ধুয়ে ফেলেন আলেনা।

এজন্য তার ব্যয় হয় ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময়। মূলত প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেই এমন স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, ঝলমলে চুল পেয়েছেন তিনি। এছাড়া চুলে যেন জট না বাঁধে এজন্য দিনে দুইবার চুল আঁচড়ান বাস্তবের এই রুপানজেল।

 

আফগান সেনাবাহিনীর ৪০ জনকে ফেরত পাঠাল পাকিস্তান

তালেবান হামলায় সম্প্রতি আফগান সেনাবাহিনীর ৪০ জনের একটি দল পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিল।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি শুক্রবার জানানো হয়, তাদেরকে কাবুলের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। খবর ইরনার।

এর আগে আরেক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে তালেবানকে আফগান সৈন্যদের হাত থেকে বাঁচাতে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে কাবুল যে অভিযোগ করেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ।

এতে আরও বলা হয়, আফগান প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ যে অভিযোগ করেছেন তার ফলে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ যে প্রচেষ্ট চালাচ্ছে তা দুর্বল হয়ে পড়বে।

তবে একই সঙ্গে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে একথাও বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগান আকাশসীমায় সীমিত পর্যায়ে অভিযান চালানোর অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে।

আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ বৃহস্পতিবার নিজের অফিসিয়্যাল টুইটার পেজে লিখেছিলেন, পাক বিমান বাহিনী তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।

কাজেই পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় তালেবানের বিরুদ্ধে হামলার ক্ষেত্রে সরকারি সেনাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

সালেহ বলেন, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগান তালেবানকে আকাশপথে বিভিন্ন উপায়ে সহযোগিতা করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২২ সালে ৫.১ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি

দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২২ সালের ন্যূনতম বেতন চলতি বছর থেকে প্রায় ৫ দশমিক এক শতাংশ বেশি, প্রতি ঘণ্টায় ৯,১৬০ ওন (৯৯ মার্কিন ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে। আর নতুন বর্ধিত বেতন হিসেবে প্রতিদিন বেসিক আট ঘণ্টায় ৭৩২৮০ ওন, ওভারটাইম প্রতি ঘণ্টায় ১৩৭৪০ ওন, নাইট অ্যালাউন্স ৪৫৮০ ওন (রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা), সাপ্তাহিক ৪০ ঘণ্টায় ৩৬৬৪০০ ওন এবং মাসিক ২০৯ ঘণ্টায় ১৯ লাখ ১৪ হাজার ৪ শত ৪০ ওন বেতন আসবে। নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী একজন ইপিএস কর্মীর ২০২২ সালে ন্যূনতম মাসিক বেতন প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা হবে।

শ্রম, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণের প্রত্যেকটি থেকে ৯ জন সদস্য করে মোট ২৭ জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় একটি জাতীয় কমিশন ন্যূনতম বেতন স্কেল নির্ধারণকারী সংস্থা মজুরি কমিশন মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শ্রম ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা একীভূত প্রস্তাব নিয়ে ব্যর্থ হওয়ায়, সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিরা পাঁচ দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিলেন।

সরকারি কমপ্লেক্স সেজং অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন চলাকালীন প্রস্তাবিত বেতন স্কেল বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ী খাত থেকে ৯ জন সদস্য এবং শ্রম ও ইউনিয়ন থেকে চারজন সদস্য ভোট বয়কট করেন। অবশিষ্ট ১৪ জন সদস্য ভোটে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বেতন স্কেল বৃদ্ধি কমিশনের প্রধান পার্ক জুন-সিক।

চলতি বছরের ঘণ্টাপ্রতি বেতন ৮৭২০ ওন থেকে বর্ধিত হয়ে প্রায় চার দশমিক ৩৬ মিলিয়ন শ্রমিকের দেশে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বেতন স্কেল ঘোষণা করলেই, নতুন বেতন স্কেল আগামী বছর জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জে ইনের ঘোষণা ছিল তার সময়কালে দেশের ন্যূনতম বেতন স্কেল সর্বোচ্চ বৃদ্ধি করা। তারই ধারাবাহিকতায় মুন প্রশাসনের সময় গত পাঁচ বছরে কোরিয়ায় ন্যূনতম বেতন স্কেল অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ন্যূনতম বেতনের স্কেল বৃদ্ধি পেয়েছে ২০১৮ সালে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২০ সালে ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২১ সালে সর্বনিম্ন ১.৫ শতাংশ।
গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, ভোক্তার মূল্য এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের সংখ্যা যথাক্রমে ৬.৩ শতাংশ এবং ২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।

কোরিয়া ব্যবসায়ীদের ফেডারেশন বলেছে, নতুন ন্যূনতম বেতনের স্কেল যদি চূড়ান্ত করা হয় তবে বেশিরভাগ ছোট সংস্থা ও ব্যবসায়ীরা মহামারিকালীন সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন না এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার বহন করতে পারবেন না।

এদিকে বেতন স্কেল বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদে কোরিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ট্রেড ইউনিয়নের সিনিয়র কর্মকর্তা পার্ক হি ইয়ুন বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে দেশে যে অসম্পূর্ণতা ও মেরুকরণের অবনতি ঘটেছিল তা দূরীকরণে ন্যূনতম বেতন স্কেল বৃদ্ধির বিষয়টি অনিবার্য ছিল।

হিজবুল্লাহর কাছে দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র, উৎকণ্ঠায় ইসরাইল

তালেবান হামলায় সম্প্রতি আফগান সেনাবাহিনীর ৪০ জনের একটি দল পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিল।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি শুক্রবার জানানো হয়, তাদেরকে কাবুলের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। খবর ইরনার।

এর আগে আরেক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে তালেবানকে আফগান সৈন্যদের হাত থেকে বাঁচাতে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে কাবুল যে অভিযোগ করেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ।

এতে আরও বলা হয়, আফগান প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ যে অভিযোগ করেছেন তার ফলে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ যে প্রচেষ্ট চালাচ্ছে তা দুর্বল হয়ে পড়বে।

তবে একই সঙ্গে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে একথাও বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগান আকাশসীমায় সীমিত পর্যায়ে অভিযান চালানোর অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে।

আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ বৃহস্পতিবার নিজের অফিসিয়্যাল টুইটার পেজে লিখেছিলেন, পাক বিমান বাহিনী তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।

কাজেই পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় তালেবানের বিরুদ্ধে হামলার ক্ষেত্রে সরকারি সেনাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

সালেহ বলেন, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগান তালেবানকে আকাশপথে বিভিন্ন উপায়ে সহযোগিতা করছে।

অনলাইনে কোরবানির পশু

গতবারের মতো এবারো মহামারি করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্য দিয়েই পালন করতে হবে পবিত্র ঈদুল আজহা অর্থাৎ পশু কোরবানির ঈদ। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড। সামনের দিনগুলোতে এর ভয়াবহতা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। যেহেতু কোরবানির ঈদের মূল চিন্তাভাবনা ও প্রস্তুতি থাকে কোরবানির পশু কেনাকে কেন্দ্র করেই।

তবে করোনায় কোরবানির ঈদে পশু কেনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসচেতনতার বিষয়টি নিশ্চিত করেই আয়োজন করতে হচ্ছে পশুর হাট। সীমিত পরিসরে সরাসরি হাট থেকে পশু সংগ্রহ করা অনলাইনের পশুর হাটের দিকে অনেকেই নজর দিচ্ছেন। করোনাকালে নগরীর মানুষের জীবনকে সহজ করে দিতে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়ায় অনেকেই এদিকে ঝুঁকছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশে অনলাইনে পশু বেচাবিক্রি শুরু হলেও করোনার কারণে এ বছর অনলাইনে বিক্রি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো। আগে থেকে দাম নির্ধারণ করা থাকবে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে দরদামেরও সুযোগ থাকছে। সব ধরনের পসরা নিয়ে জমে উঠেছে ভার্চুয়াল হাটগুলো। কোরবানির পশু বিক্রির জন্য খোলা কয়েকটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া হলো-

ডিজিটাল হাট: করোনা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কোরবানি পশু বিক্রির জমজমাট অনলাইন প্লাটফর্ম ‘ডিএনসিসি ডিজিটাল হাট’ (www.digitalhaat.net)। ডিজিটাল হাট থেকে ন্যায্যমূল্যে কোরবানি পশু কিনুন এবং ঢাকার ৫টি এলাকা থেকে মাংস প্রক্রিয়াকরণ করে নিজ নিজ ঠিকানায় ডেলিভারিও নিতে পারেন। কোরবানির পশু কিনতে অথবা এ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য কল করুন ০৯৬১৪ ১০২০৩০। ডিজিটাল হাটের এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করলেই জানা যাবে বিস্তারিত। পেইজে অর্ডার করেই পেতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত কোরবানির পশুটি।

বিক্রয়ডটকম: বিক্রয়ডটকম থেকে পশু কিনলে লোকাল এরিয়ায় ফ্রি ডেলিভারি পাবেন গ্রাহক। এছাড়াও পেইড ডেলিভারি সিস্টেম রয়েছে সারা বাংলাদেশে। গ্রাহকের সুবিধার্থে মাংস প্রসেসিং করে তা হোম ডেলিভারিও দেওয়া হবে। বিক্রয়ডটকমের বিরাট হাটে গরু কেনাবেচায় রয়েছে ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা। এছাড়াও ক্রেতা-সাধারণের সুবিধার্থে কেউ যদি ভাগে কোরবানি দিতে চান ভাগিদার খুঁজে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সাহায্য এবং প্রসেসিং করে তা হোম ডেলিভারিরও ব্যবস্থা রেখেছে বিক্রয়ডটকম।

বিক্রয়ডটকমের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস ঈশিতা শারমিন বলেন, ‘বিক্রয়ডটকম আক্ষরিক অর্থে অনলাইন পশুর হাটকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে।’ বিক্রয়ের প্লাটফর্ম থেকে দেশের যে কোনো অঞ্চলের মানুষ পশু কেনাবেচা করতে পারেন। তিনি বলেন, প্রতি বছরই আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়ছে অনলাইনে কোরবানি পশু কেনাবেচা। এবার করোনার কারণে সেটি আরও বাড়বে বলে আশা করছি। বিক্রয়ডটকম থেকে পশু কেনাবেচার জন্য ভিজিট করুন (www.bikroy.com)।

বেঙ্গল মিট: বেঙ্গল মিট প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। (bengalmeat.com) হালাল ও নিরাপদ কোরবানির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে একদিকে যেমন হাটে গিয়ে গরু কিনতে হবে না, তেমনই কসাইয়ের কাছেও যেতে হবে না ক্রেতার। শুধু অনলাইনে বুকিং দিয়ে অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করলেই তার নামে পশু কোরবানি করে নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানির মাংস পৌঁছে যাবে বাড়িতে।

দেশি গরু : কোরবানি পশুর ভার্চুয়াল হাটের আয়োজন করেছে দেশি গরু বিডি ডটকম (deshigorubd.com)। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিটো রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সম্পূর্ণ অর্গানিক গরু আমরা সংগ্রহ করছি। যারা বুকিং দিচ্ছেন, ঈদের দুই দিন আগে তাদের বাসায় গরু পৌঁছে দেওয়া হবে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে দেশি গরু বিডি ডটকমে গরুর দামের ৫০ ভাগ অগ্রিম দিয়ে বুকিং দিলে গরু ডেলিভারি দেওয়ার সময় অবশিষ্ট টাকা দিয়ে গরু বুঝে নিতে পারবেন। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিস্তারিত জানা যাবে এবং হটলাইন নম্বর দেওয়া আছে পেইজে।

সাদেক এগ্রো : কোরবানির জন্য সব ধরনের পশুর সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন সাদেক এগ্রো ডটকম। গত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাদেক এগ্রোর রয়েছে নিজস্ব খামার। প্রতিষ্ঠানটির (Sadeeq-Agro.com) ওয়েবসাইটে পশুর ছবি ও মূল্য দেওয়া আছে।

আমার দেশ ই-শপ : (amardesheshop.com) প্রতিষ্ঠানটি ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু বেচাকেনা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন আকারের গরুর ছবিসহ দাম উল্লেখ করা রয়েছে। যে কেউ চাইলে এখান থেকে গরু কিনতে পারেন। তারা মূলত দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের গরু বিক্রিতে উৎসাহিত করছে। মূলত এসব কৃষকই তাদের কাঙ্ক্ষিত দাম হাঁকেন, আর সেই দাম ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়। তবে কেউ যদি দর কষাকষি করতে চান, তাহলে যোগাযোগ করিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এক-তৃতীয়াংশ দাম নগদ কিংবা ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধ করলে গরু বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

এখানেই ডটকম (ekhanei.com): এখানেই ডটকম নামের আরেকটি জনপ্রিয় অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও তাদের ওয়েবসাইটে কোরবানির পশু বা গরু বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। তবে এই বিজ্ঞাপন পশুবিক্রেতা নিজেই দিয়ে থাকেন। তবে তাদের ওয়েবসাইটে কোরবানির উপযোগী গরুর পাশাপাশি স্থান মিলেছে ছাগলের বেশ কিছু বিজ্ঞাপন। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির পশুর ছবি ও তথ্য আপ করার পর তা যাচাই করে দেখে। এছাড়া এখানে মিলবে বিক্রেতার পরিচয় বা ফোন নম্বর। তাই কোনো পশু পছন্দ হলে তাকে ফোন করে বাকি বিষয় ঠিক করতে পারবেন।

দারাজ: কোরবানির পশু ক্রয় করার জন্য একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট (daray. Net.bd)। অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি দারাজের ওয়েবসাইটে রয়েছে দেশি-বিদেশি জাতের হরেক রকম গরুর সংগ্রহ। তাদের ওয়েবসাইটে পশু ক্রয়ের যাবতীয় তথ্য দেওয়া আছে। দারাজের হটলাইল নম্বর ০১৭০৩ ০৩০৩০৩।

এখনই ডটকম: দেশের অন্যতম অনলাইনে বেচাকেনার পোর্টাল এখনই ডটকমও ক্রেতাদের দিচ্ছে এ বিশেষ সুবিধা। এখন খুব সহজেই (akhoni.com) ওয়েবসাইটে গিয়ে পছন্দমতো পশু কিনতে পারবেন যে কেউ। এখানে পশুর ছবিসহ দাম, উচ্চতা ও ওজন দেওয়া আছে। এছাড়া পাবেন ইউটিউব লিংকে গরুর ভিডিও।

সর্বাত্মক ‘লকডাউনে’ শিল্প-কারখানা খোলা রাখার আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের

সর্বাত্মক ‘লকডাউনে’ দেশের উৎপাদনশীল সব শিল্প-কারখানা সচল রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিধি-নিষেধের আওতায় সকল প্রকার শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখা হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হবে। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে, খাদ্য-সামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বোতলজাত পানীয়, নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য ইত্যাদি উৎপাদন বন্ধ থাকলে ভোক্তা সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

পণ্য-সামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মতো পরবর্তী রপ্তানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানি অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ঈদের ছুটিসহ প্রায় ১৮-২০ দিন কারখানা বন্ধ থাকলে এক অনিশ্চয়তার মাঝে লেইট সামার, ক্রিসমাস ও বড়দিন এবং আগামী শীতের কার্যাদেশ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এক মাসের রপ্তানি শিডিউল বিঘ্নিত হলে পরবর্তী ছয় মাসের রপ্তানি শিডিউলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেইসঙ্গে উৎপাদন বন্ধ থাকলে আমদানিকৃত কাঁচামাল অব্যবহৃত হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে আমদানিকারক ও উৎপাদক উভয়ই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ক্ষুদ্র ও ছোট কারখানাগুলো বন্ধ রাখা হলে উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জসিম উদ্দিন বলেন, এ অবস্থায়, ইতোমধ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ টেরি-টাওয়েল ম্যানু: অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ রপ্তানি ও উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট এসোসিয়েশনসমূহ ও চেম্বারসমূহ শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এফবিসিসিআই-এর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

জারি করা বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত সার্কুলারে ঔষধ কারখানা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, যদি ঔষধ কারাখানা বন্ধ রাখা হয় তবে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। অপরদিকে, ট্যানারি কারখানা বন্ধ রাখা হলে কোরবানি ঈদে সংগৃহীত চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ ৬.১% জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি উৎপাদন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় তাহলে অর্থনীতির চলমান গতিধারা ব্যাহত হবে। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকেও সচল রাখতে উৎপাদন ব্যবস্থাকে চলমান রাখা জরুরি।

এ প্রেক্ষাপটে শিল্প-কারখানাকে বিধি-নিষেধের আওতার বাইরে রেখে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে চলমান রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্বাত্মক লকডাউনে দেশের সব ধরনের কারখানা বন্ধ থাকবে।

 

বিএনপির ‘একলা চলো নীতিতে’ শরিকরা ক্ষুব্ধ

২০ দলীয় জোট নিয়ে বিএনপির ওপর শরিকদের ক্ষোভ বাড়ছে। বিএনপি ‘একলা চলো নীতি’তে চলার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরিকরা। তাদের দাবি, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদে যাওয়া, বিভিন্ন কর্মসূচি, উপ-নির্বাচনে যাওয়া আবার পরে বর্জনসহ নানা ইস্যুতে শরিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আড়াই বছরে মাত্র কয়েকটি বৈঠক করেছে।

রাজনৈতিকভাবে শরিকদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় ২০ দলীয় জোট রাখবে কিনা-বিএনপির কাছে জানতেও চেয়েছেন শরিকদের কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মতো আরও কয়েকটি দল জোট ছাড়তে পারে।

তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা দাবি করেছেন, ২০ দল ভাঙার পেছনে সরকারের ভূমিকা রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে দুর্বল করতে বিকল্প আরেকটি জোট গঠনের তৎপরতা চলছে। বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে জোট ছাড়ার ঘটনা ওই প্রক্রিয়াই একটি অংশ।

নেতারা আরও বলেন, ২০ দল একটি নির্বাচনী জোট। বড় দল হিসাবে বিভিন্ন কর্মসূচিসহ নানা ইস্যুতে বিএনপির একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। সেখানে ক্ষোভ বা হতাশার কিছু নেই। নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও জোটের ঐক্য অটুট আছে।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০ দলীয় জোটে কোনো টানাপোড়েন নেই। সরকার জোট ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে। জোটের শরিকদের সঙ্গে নিয়মিত তাদের যোগাযোগ রয়েছে। আগের চেয়ে জোট আরও বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ।

এ প্রসঙ্গে জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে বিএনপি একাধিকবার বলেছে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঐক্য তো ভেঙে যাচ্ছে। তারা যদি বিদ্যমান ঐক্য রক্ষা করতে না চায় অথবা না পারে তাহলে আগামী দিনের বৃহত্তর ঐক্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়াটাই খুব স্বাভাবিক। আমরা বৃহত্তর ঐক্যে বিশ্বাস করি। তাই বিএনপি যেন অনুগ্রহপূর্বক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করে। অর্থাৎ ২০ দলীয় জোট তারা কি রাখতে চায়, নাকি রাখতে চায় না-এর একটি সুস্পস্ট ইশারা দিলে সবার জন্য ভালো।

সৈয়দ ইবরাহিম বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জোট ত্যাগ করে সরকারি পক্ষে বা আনুকূল্যে যাওয়ার প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। তা করেছি ২০ দলীয় জোটে থাকব বলে। কিন্তু সেই ত্যাগ স্বীকারের মূল্যায়ন হলো কি হলো না-তা আমাদের জানা দরকার।

জোটের শরিক দল হিসাবে যথাযথ মূল্যায়ন না করাসহ কয়েকটি অভিযোগ তুলে বুধবার জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন ২০ দলের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

এ সময় দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বলেন, শরিকদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই উপনির্বাচন এককভাবে বর্জন করা, আলমদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ না করা, প্রয়াত জমিয়ত মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা না জানানো এবং তার জানাজায় শরিক না হওয়া জোট ত্যাগের কারণ। এর আগে গত কয়েক বছরে আন্দালিভ রহমান পার্থের দল বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ন্যাপ, এনডিপি, এনপিপি, লেবার পার্টির একাংশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ত্যাগ করে।

জোটে থাকা কয়েকটি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই নানা ইস্যুতে শরিকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়াকে কেন্দ্র করে জোটের কয়েক শরিক ক্ষুব্ধ হয়। সেটা এখনো অব্যাহত আছে।

জোটের শরিক জাগপাকে কোনো আসন না দেওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান পরবর্তী কোনো বৈঠকেই অংশ নেননি। বরং এ ইস্যুতে জাগপা দু’ভাগ হয়েছে। এজন্য বিএনপিকে দুষছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান।

জোটের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্বে রাখছে অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়াও জাতীয় এক্যফ্রন্ট গঠনকে কেন্দ করে বিএনপির ওপর নাখোশ ছিল ২০ দলের শরিকরা। সে সময় এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ নামের বিকল্প জোটও গঠন করা হয়। পরে এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে অলির দূরত্বের সৃষ্টি হয়; যা এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি।

জোট নেতারা জানান, শরিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ নিরসনে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিনের শরিক বিজেপি কেন জোট ছাড়ল, তা গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন ছিল। চাওয়া-পাওয়া বা ক্ষোভ থেকেই পার্থ জোট ছেড়েছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এমন ক্ষোভ তো অন্য শরিকদের মধ্যেও থাকতে পারে। সেগুলো নিরসন করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকেই জোট ছেড়ে চলে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

এখন জোটে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে বিএনপিসহ মাত্র পাঁচটি। বাকি যারা রয়েছেন তাদের বেশির ভাগের দলের কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা ওয়ান ম্যান শো রাজনীতি করেন। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলও যদি জোট ছাড়ে তাহলে তো জোটের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জোট ছাড়া প্রসঙ্গে ২০ দলের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছেন তা ঠিক না। জোটের কার্যক্রম, জোটের সিদ্ধান্ত সবই শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে হয়। তবে তাদের অনেকে গ্রেফতার আছেন, মাদ্রাসা খুলতে পারছেন না। জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে যদি তাদের নেতাদের মুক্ত করতে পারেন, তারা যে বিপদে আছে তা থেকে নেতাকর্মীরা মুক্ত হন তবে বন্ধুপ্রতিম দল হিসেবে আমরা খুশিই হব।

তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বুধবার দুপুরে জোট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। এ থেকেই বুঝা যায় কেন তারা জোট ছেড়েছেন।

যদিও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আরেকটি অংশ এখনো ২০ দলীয় জোটে রয়েছে। এই অংশের সিনিয়র একনেতা জানান, কাসেমী অংশ জোট ছেড়ে দেওয়ায় এখন তাদের ওপরও জোট ছাড়ার চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

ফোন পেলেই ছুটে যান ‘বকুল করোনা সাপোর্ট সেন্টারের’ স্বেচ্ছাসেবীরা

করোনাকালে যখন অধিকাংশ রাজনীতিবিদ ঘরবন্দি, তখন সাবেক এক ছাত্রনেতার উদ্যোগে আক্রান্ত মানুষের সেবায় ছুটছে একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টার যে কোনো সময় ফোন পেলেই অক্সিজেন নিয়ে করোনায় শ্বাসকষ্ট মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের কাজ।

অক্সিজেন সিলিন্ডার বাসায় পৌঁছে দেয়াই নয়, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে তা আক্রান্তদের মুখে সংযুক্ত করে দিয়ে আসেন।

করোনা হটস্পট খুলনায় এই ফ্রি সেবা দিয়ে আসছে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল।

তিনি সেখানে গড়ে তুলেছেন ‘বকুল করোনা সাপোর্ট সেন্টার’। এই সেন্টারের দুটি অফিস রয়েছে। একটি খালিসপুর থানার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে এবং আরেকটি দৌলতপুর থানার মিনাক্ষী সিনেমা হলের সামনে। দুটি অফিসে ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে।

সেখানে শুধুমাত্র অক্সিজেন সেবাই নয়, চিকিৎসক এর কাজ থেকে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ঔষধসহ আনুষঙ্গিক সব ধরনের সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো দুস্থ ও অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তাও দেয়া হচ্ছে রকিবুল ইসলাম বকুলের পক্ষ থেকে।

করোনাকালে তার ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও অক্সিজেন সরবরাহ এবং গরীব-অসহায়দের মাঝে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিপদের বন্ধু হিসেবে পরিচিতও পেয়েছেন।

১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, তার মায়ের ৭০ এর ওপর বয়স। মায়ের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ছিল। কোথাও অক্সিজেনের সাপোর্ট পাচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় রাত ২টায় বকুল করোনা সেন্টারে ফোন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরা বাসায় সিলিন্ডার নিয়ে যান। এ রকম সুবিধা পেয়ে তিনি খুব খুশি।

রকিবুল ইসলাম বকুল যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত দেখা যায় অক্সিজেন সিলিন্ডার এক জায়গায় রেখে দেয়া হয়। সেখান থেকে যাদের প্রয়োজন তারা নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা তা করছি না। আমাদের কর্মীবাহিনী আছে। যাদের অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগছে তারা যে কোনো সময় ফোন করলেই বাসায় তা পৌঁছে দেয়া হয়। শুধু তাই নয় অক্সিজেন মুখে সেট করেও দেয়া হয়। অক্সিজেন মুখে যেভাবে সংযুক্ত করতে হয় তার প্রশিক্ষণ দেয়া আছে আমাদের কর্মীবাহিনীর। তাদের পিপিই, মাস্ক দিয়ে সুরক্ষিত করে পাঠানো হয়। এটা রিস্ক হলেও আমরা তা করছি। আমাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। যে কেউ ফোন করলেও তাদের কাছে পৌঁছে যাবে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা।

করোনাকালে সাবেক এই ছাত্রনেতার মানবিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার নির্বাচনী আসনে (খুলনা-৩) ১৫টি ওয়ার্ড এবং দুইটি ইউনিয়ন রয়েছে। সেখানে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার সাধারণ মানুষকে ত্রাণ দিয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গের তিন’শ জনকে এবং প্রতিবন্ধীদের এক হাজার প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঈদের আগে অসহায় ও গরীব মোট আড়াই হাজার লোককে ঈদ উপহার দেওয়া হয়েছে। তারা যেন ঈদের দিন ভালো থাকতে পারেন। ওই সময়ে দলীয় নেতাকর্মী যারা গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার তাদেরকে নগদ টাকা দিয়েছেন। এটা করা হয়েছে ৫০ জনের ওপর নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারকে। রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার প্যাকেটের বেশি। প্রত্যেক দিন এখনও এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রকিবুল ইসলাম বকুলের প্রেস সচিব শামসুদ্দিন চৌধুরী সানিম জানান, এখন আমাদের কাছে ১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। এক্ষেত্রে আমরা যেটা করেছি করোনা সাপোর্ট সেন্টারে শুধুমাত্র ফোন দিলেই আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আক্রান্ত রোগীর বাসায় চলে যান। এ সম্পর্কে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গত সাত দিনে ১২৫ জনকে অক্সিজেন সিলিন্ডার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রচণ্ড রকম আশাব্যঞ্জক সারা পেয়েছি আমরা।

তিনি বলেন, খুলনা-৩ আসন সিটি করপোরেশনের ভেতরে হলেও এটা শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মূলত নিম্ন শ্রেণির মানুষের বসবাস। খুলনার সব আধুনিক হাসপাতাল ও ক্লিনিক শহরমুখী হওয়ার কারণে এবং মানুষের আর্থিক সংকুলান না থাকার কারণে তারা খুব চাপের মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বকুল করোনা সাপোর্ট সেন্টার থেকে ফ্রি অক্সিজেন সুবিধা এবং ফ্রি ওষুধ, মৌসুমি ফলসহ নিরবচ্ছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক সুবিধার পাওয়ার কারণে এলাকাবাসী আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া গত বছর যখন করোনা প্রকোপ শুরু হয়েছিল তখনই সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ২০০ এর বেশি মসজিদে ১০ হাজারের ওপর মাস্ক এবং স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী যেমন-সাবান স্যানিটাইজার এগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তার আগে লিফলেট ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে করোনা সম্পর্কে এলাকার মানুষকে সচেতন করেছি। প্রত্যেক পাড়া-মহল্লার মোড়ে মাড়ে এবং সেখানে ঘনবসতি আছে ও একটু নোংরা যেসব জায়গা সেখানে জীবাণুনাশক স্প্রেও বিতরণ করেছি। সে সময় মাসব্যাপী কর্মসূচি ছিল।