শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 567

‘সরফরাজ আমার আজীবনের অধিনায়ক’

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দেশটির নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় শাদাব খান। এই অলরাউন্ডারের মতে, সরফরাজ আহমেদ তার দৃষ্টিতে সেরা অধিনায়ক।

২৩ বছর বয়সি শাদাব মঙ্গলবার রাতে টুইটারে কনভারসেশনে এ কথা বলেন। খবর ক্রিকেট পাকিস্তানের।

সরফরাজ আহমদের অধীনেই ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল শাদাব খানের। তিনি এখনও দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় হলেও সরফরাজকে ছুড়ে ফেলেছে পাকিস্তান। সাবেক এই অধিনায়ক এখন আর নিয়মিত সদস্য নন পাকিস্তান দলের। তবু সরফরাজকেই সবসময় অধিনায়ক মানেন শাদাব।

কেন সরফরাজের প্রতি আপনার এত সম্মান— এমন প্রশ্নে শাদাব খান বলেন, সরফরাজ তাকে অনেক কিছুই শিখিয়েছেন। খেলার মাঠে সাবেক অধিনায়কের কাছ থেকে হাতেকলমে শিখেছেন শাদাব।

‘তিনি আমাকে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয় তা শিখিয়েছেন, কীভাবে সতীর্থদের দেখভাল করতে হয় তাও শিখিয়েছেন। দেশের জন্য সতীর্থদের জন্য কীভাবে ফাইট দিতে হয় তাও আমি শিখেছি সরফরাজের কাছ থেকে। আমার এই শিক্ষক সবসময়ই আমার ক্যাপ্টেন।

২০১৯ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব হারান সরফরাজ। এর পর থেকে তিনি জাতীয় দলের উইকেটকিপার হিসেবে দ্বিতীয় পছন্দ। তার স্থলে এখন নিয়মিত কিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

বাবর আজমের চেয়েও ভালো অধিনায়ক রিজওয়ান: শাহীন আফ্রিদি

পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদির। তার মতে, বাবর আজমের চেয়েও ভালো অধিনায়ক রিজওয়ান।

সম্প্রতি পিসিএলে লাহোরের অধিনায়কত্ব পাওয়া শাহীন আফ্রিদি বলেন, আমার দৃষ্টিতে রিজওয়ান সেরা অধিনায়ক। লাহোরের দায়িত্ব নেওয়া উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে তাকে বাবরের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে শহিদ আফ্রিদির জামাতা বলেন, বাবর আমার প্রিয় ব্যাটার। তিনি বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার। জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবেও তিনি ভালো করছেন। তার নেতৃত্বে আমরা সাফল্যেল চূড়ায় পৌঁছার অপেক্ষায়।

খেলা শুরু করার পর পাকিস্তান দলের কাকে সবচেয়ে যোগ্য অধিনায়ক বলে আপনার মনে হয়— এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীন আফ্রিদি বলেন, আমি রিজওয়ানের ব্যক্তিত্বকে পছন্দ করি। ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা একসঙ্গে খেলেছি। সেই হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে রিজওয়ান সেরা অধিনায়ক। জাতীয় দলের অধিনায়ক বাবর আজমকে আমি সেরা দুইয়ে রাখব।

রিজওয়ানের দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণে অনেকেই তাকে পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে দেখার পক্ষে। গত জুলাইয়ে অবশ্য রিজওয়ান জানিয়েছিলেন— বাবরের সাম্রাজ্যে ভাগ বসাতে চান না তিনি।

রিজওয়ানের ভাষায়— ‘আমি অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবি না। কারণ আমার কাজ হলো খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সেরাটা দেওয়া। বাবর এখন অন্যতম সেরা অধিনায়ক। আমাদের বিগত সিরিজগুলো দেখুন, দারুণ সব সিদ্ধান্ত নেয় সে। আমাদের তিন-চারজন খেলোয়াড় একসঙ্গে করলে যা হবে, বাবরের ভাবনা-চিন্তা তারচেয়েও ভালো।
তথ্যসূত্র: ক্রিকেট পাকিস্তান।

‘মুফতি ওয়াক্কাস আমৃত্যু দেশ-জাতির সেবায় নিয়োজিত ছিলেন’

মুফতি ওয়াক্কাস আমৃত্যু মাদ্রাসা-মসজিদের পাশাপাশি দেশ-জাতির খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। যে কারণে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় অঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সে কারণে এই প্রজন্মের ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব হচ্ছে তার জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে সমাজ সেবায় যুক্ত করা। আজ জাতীয় কঠিন প্রতিকূল সময়ে তার মতো পরীক্ষিত নেতৃত্বের অভাব অনুভূত হচ্ছে।

বুধবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম একথা বলেন।

সভায় অন্য বক্তারা বলেন, ইসলাম ও মুসলমান এবং দেশবিরোধী তৎপরতা মোকাবেলায় সচেতন আলেম সমাজ ও দেশপ্রেমি জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।

পটুয়াখালী জেলা জমিয়ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক কাওসারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি শেখ মুজিবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ওয়ালী উল্লাহ আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন খান, পটুয়াখালী জেলা বেফাক সভাপতি মাওলানা আবুল কাসেম, জমিয়ত নেতা মাওলানা মোতাহার উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা মনির উদ্দিন এবং হাজী এমদাদুল হক প্রমুখ।

প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে গৃহবধূ

সিলেটের বিশ্বনাথে বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা করে বিপাকে পড়েছেন এক গৃহবধূ। আসামিরা বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। তার স্বামীকেও ধরে নিয়ে মারধরের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে বসতঘরে আগুন দেয় কয়েকজন প্রতিবেশী। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর চারজনকে আসামি করে মামলা করেন দৌলতপুর ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামের আব্দুল কাহারের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫০)।

আসামিরা হলেন- মৃত আব্দুল মতলিবের ছেলে দিলশাদ মিয়া (৪৫), মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল খালিক (৫০), ডালিম (২৬) ও মজম্মিল আলীর ছেলে আব্দুর রব (৪০)।

এ মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। উল্টো বাদী পক্ষকে নানা হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মামলার বাদী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মামলা করার তিনদিন পর ১৭ ডিসেম্বর আসামিরা আমার কে রাস্তায় আক্রমণ করে। এ সময় তিনি প্রাণ বাঁচতে পার্শ্ববর্তী ছাতক থানার লাকেশ্বর গ্রামের আব্দুল হান্নানের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আসামি দিলশাদ মিয়াসহ ৭/৮জনের একটি দল তার পিছু নিয়ে ‘চোর’ বলে ওই বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলে। পরে বাড়ির মালিক আব্দুল হান্নানের ভাই আব্দুল গফ্ফার ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার আজিজুর রহমানের হস্তক্ষেপে রক্ষা পান আমার স্বামী।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল মোল্লাকে জানানো হলে ওইদিন রাতেই আমার বাড়িতে গিয়ে খারাপ আচরণ করেন। পরে নিরুপায় হয়ে গত রোববার পুলিশ সুপারের কাছে যাই। পরে পুলিশ সুপার ওসিকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় সোমবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ফাতেমা বেগম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার আসামি দিলশাদ মিয়া অভিযোগ করে যুগান্তরকে বলেন, বাদীর স্বামী আব্দুল কাহার আমার ঘরে হামলা করে স্বর্ণালঙ্কার লুট করায় তাকে ধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।

বাদিনীর স্বামীকে ধরে নেয়ার চেষ্টার ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও আসামি দিলশাদ মিয়া শিকার করেছেন। তিনি বলেন ওইদিন বাদিনীর স্বামী তার ঘরে হামলা করে স্বর্ণালংকার লুটপাট করায় তাকে ধরে নেয়ার চেষ্টা করেছেন।

বিশ্বনাথ থানার এসআই সাইফুল মোল্লা বলেন,আব্দুল কাহারকে মারধরের বিষয়টি নিয়ে বাদীর বক্তব্য আমার কাছে সত্য মনে হয়নি। কারণ বাদীর স্বামী বয়স্ক। তার পক্ষে দৌঁড়ে পার্শ্ববর্তী থানায় এলাকায় যাওয়া সম্ভব নয়।

বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া আগুন দেওয়ার ঘটনার মামলাটি তদন্তাধীন আছে বলে জানান তিনি।

পৌর নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি, অমিত শাহের বাসভবনে ধনখড়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে চরম ভরাডুবি হয়েছে বিজেপি। মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, বহু ওয়ার্ডে তিন নম্বরে নেমে এসেছে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামরা। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনের পর সাক্ষাৎ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে দেখা করেন। বুধবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ শাহী দরবারে তিনি হাজির হন। তবে কী বিষয়ে এই বৈঠক তা তিনি জানাননি। বিধানসভা নির্বাচনের পরই দেখা গিয়েছিল তিনি নয়াদিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

এর আগে নয়াদিল্লি সফর নিয়ে বুধবার সকালে রাজ্যপাল ধনখড় টুইটবার্তায় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তার বাসভবনে দেখা করতে যাবো।’ এইটুকুই লিখেছেন তিনি। তবে মনে করা হচ্ছে, রাজ্যপাল পেগাসাস নিয়ে বারবার যে নথি তলব করেছিলেন রাজ্য সরকারের কাছে তা পেয়েই নালিশ ঠুকতে যান শাহী দরবারে। কিন্তু রাজ্যপালের টুইটের পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কী কারণে হঠাৎ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন তিনি?‌

কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা তুলে ধরতে এই সফর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। রাজ্যপালের কাছে একাধিক নালিশ ঠুকেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেগুলিও তুলে ধরা হবে বলে সূত্রের খবর।

১০৬ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ওমিক্রন

করোনা মহামারির নতুন ধরন ওমিক্রন বিশ্বের ১০৬ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপের বেশ কিছু দেশে এটি বর্তমানে তাণ্ডব দেখাচ্ছে। সুইডেন, পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। অন্যান্য দেশে এটি ছড়িয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও সিএনএনের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় প্রধান ড. হ্যানস ক্লুগে ইউরোপের দেশগুলোর জন্য সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, আরেকটি ঝড় আসছে। এতে আমাদের অঞ্চলে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে।

গত সপ্তাহে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় কোভিডে ২৭ হাজার মৃত্যু হয়েছে। ২৬ লাখ নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ডেল্ট ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ওমিক্রণ ভয়াবহ। গত বছরের এই সময়ের চেয়েও এবার ইউরোপে সংক্রমণের হার ৪০ শতাংশ বেশি।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি দেওয়া হয়েছে। বড়দিনের পর জনসমাগম ও পার্টি করার ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে জার্মানি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়েছেন, বড়দিনের আগে নতুন কোনো বিধিনিষেধ সেখানে দেওয়া হচ্ছে না। তবে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে জনসমাগমে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

নভেম্বরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন দ্রুত বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করছে।

ব্যয় বাড়ল ৬২ ভাগ সময় ৩ বছর

৩ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ক চার লেন’ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত চার বছরে সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ। ব্যয় করা হয়েছে ১ হাজার ১১৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ফলে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য ৩ বছর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। ব্যয় বাড়ছে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। ভারতীয় ঋণের আওতায় (এলওসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

সূত্র জানায়, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর ২৫ আগস্ট পিইসি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

প্রকল্পের ধীর গতি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার (প্লানিং অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) একেএম মনির হোসেন পাঠানের কাছে। রোববার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ভ্যাট নিয়ে জটিলতা আছে। অর্থাৎ ৫৮ কোটি টাকার ভ্যাট দিতে পারছি না। ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) এটি ধরা ছিল না। এ ছাড়া নতুন করে ইরিগেশন চ্যানেল করতে হবে। এরকম নানা কারণে কাজ শেষ করা যায়নি। তবে এই সংশোধনীর পর আর কোনো জটিলতা থাকবে না।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লা বলেন, প্রকল্পের গোড়ায় গলদ ছিল। সেটি না হলে এত কম বাস্তবায়ন হবে কেন? তবে অনেক ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ থাকলে প্রতিটি ধাপে তাদের ছাড়পত্র নিতে গিয়ে দেরি হয়। সেটি ভিন্ন কথা। কিন্তু প্রকল্প তৈরির সময়ই যদি গাফিলতি না থাকত তাহলে এখন এসে নতুন অঙ্গ যোগ করার প্রয়োজন হতো না। প্রকল্পটি সময়মতো শেষ হলে যে খরচ হতো, এখন তিন বছর ধরে যখন বাস্তবায়ন হবে তখন অবশ্যই বেশি খরচ পড়বে। এ দায় কে নেবে? সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। এখন নতুন কিছু কাজ যুক্ত হওয়া, পরিমাণ ও ব্যয় বাড়া-কমার ৫ হাজার ৭৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথম সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় বাড়ছে ২ হাজার ২২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (৬২ দশমিক ৩৩ শতাংশ)। মাঝে একবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

এখন ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হলো। প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়কে দুই পাশে ধীর গতির গাড়ির জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের আশুগঞ্জ পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৬৫১ কিলোমিটার মহাসড়ক, ৭ দশমিক ৩২ মিটার প্রস্থের ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে সরাইল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার মহাসড়ক, সরাইল থেকে কুমিল্লা (ময়নামতি)-ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সরাইল) জাতীয় মহাসড়কের ধরখার পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার মহাসড়ক, ধরখার থেকে ধরখার-আখাউড়া জেলা মহাসড়কের আখাউড়া স্থল বন্দরের সেনারবদী পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭ মিটার প্রস্থের ১১ দশমিক ৩১৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ। প্রকল্পের অন্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৬টি সেতু, ৩৩টি কালভার্ট, ১০টি ফুট ওভার ব্রিজ, ৩টি আন্ডারপাস ও ২টি ওভারপাস নির্মাণ। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভারতসহ অন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের কাজে গতি আসবে।

কথা হয় প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন বাস্তব অবস্থার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরি হয়েছে। ব্যয়ও বাড়ানোর পেছনে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সংশোধিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধি হবে। সেই সঙ্গে প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। তাই প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সূচকের মিশ্র প্রবণতায় চলছে পুঁজিবাজার

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতায় চলছে লেনদেন।

 

এ সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিন বেলা ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সের লেনদেনে ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৬ হাজার ৭৬৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪৩৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ২৫৩৯ পয়েন্টে।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৬ কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ১০৫টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৮০টির।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৭০৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এই দিন শেষ দিন না, আরও দিন আছে: দুদু

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, এই দিন শেষ দিন না, আরও দিন আছে। বিচার দেখেন নাই এখনও। এখন যে দুর্নীতি-লুটপাট, হত্যা-গুম, আমেরিকায় কার কী ভিসা বাতিল করেছে এই নিয়ে আমি খুব উদ্বিগ্ন না, এটা নিয়ে আমি চিন্তিত না। আরে ভাই, আপনারা প্রস্তুত হন, বিচারের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতে হবে। ভাবার কোনো কারণ নাই যে, আপনি লুটপাট করেছেন ক্ষমতায় সারা জীবন এখানে থাকবেন।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বুধবার রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এক্স স্টুডেন্টস এ্যাসোসিয়েশনের (রুনেসা) উদ্যোগে ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও অগ্নিঝরা মতিহার এবং রিজভী আহমেদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দুদু বলেন, খালেদা জিয়ার বাঁচা-মরা আল্লাহর হাতে। চিকিৎসা দেবেন আপনি। কোনও কারণে যদি আপনি চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে সৃষ্ট পরিস্থিতি দায় আপনাকে নিতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দুদু আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ও বাংলাদেশ পিঠোপিঠি ভাইবোন হয়ে গেছে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কত মা তার সন্তান হারিয়েছে কি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পিঠোপিঠি ভাইবোন হওয়ার জন্য? কিন্তু আজ আমরা তাই দেখতে পাচ্ছি।’

সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামীমুর রহমান শামীম, তাইফুল ইসলাম টিপু, রমেশ দত্ত, আমিনুল ইসলাম, নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ।

‘বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন’

সরকারের পতন নিশ্চিত করতে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনার পক্ষে মত দিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল এবং ‘অগ্নিঝরা মতিহার ও রিজভী আহমেদ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ অভিমত দেন।

নোমান বলেন, এই সরকার ফ্যাসিবাদী সরকার। সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হলে জাতীয়তাবাদী দল এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্যের যে রাজনীতি, সেটির কৌশল পরিবর্তন আনা জরুরি। সেই কৌশলের পরিবর্তন যদি না হয়, তা হলে আন্দোলনে আমরা সফল হতে পারব না।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের রূপটা এখন ফ্যাসিবাদী হয়ে গেছে। এই যে ফ্যাসিবাদ আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। এই পার্থক্য অনুধাবন করে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতে না পারলে আমরা সফলতা অর্জন করতে পারব না।

বিএনপির অন্যতম এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে সংবিধান অনুযায়ী সরকারের সমালোচনা, মিছিল এগুলো করব। কিন্তু এগুলো দিয়ে কি সরকারের পরিবর্তন আসবে? পরিবর্তন ছাড়া কি খালেদা জিয়া আজকে যে অবস্থায় আছেন সেখান থেকে মুক্ত হবেন? এই প্রশ্নগুলো যখন আমাদের সামনে ভালোভাবে আসবে, তখন আমরা করণীয় নির্ধারণ করতে পারব এবং সেই কার্যক্রমে এক সুসংগঠিত নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।’

রুনেসার সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।