রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 542

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে সরতে হলো বোর্ড সচিবকে

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অনিয়ম দুর্নীতি উচ্ছেদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ড. মোয়াজ্জেমকে বদলি এবং বিতর্কিত কলেজ শিক্ষক হুমায়ুন কবীর জুয়েলকে নতুন বোর্ড সচিব হিসাবে নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়েছে।

 

একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেমকে রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে তাকে বদলি করা হয়েছে। তার এ আকস্মিক বদলির খবরে শিক্ষা বোর্ডের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ জানায়, প্রফেসর মোয়াজ্জেম বোর্ডের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এতে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের হোতারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বোর্ড সচিব প্রফেসর মোয়াজ্জেমের দপ্তরে চড়াও হন। সচিবসহ প্রেষণে আসা শিক্ষা ক্যাডারের দুই কর্মকর্তাকে হেনস্তা করা হয়। এ নিয়ে ওয়ালিদ ও মঞ্জুর খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সচিব মোয়াজ্জেম। এ মামলার তদন্ত চলছে। তবে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের লাগাতার তদবিরে প্রফেসর মোয়াজ্জেমকে বদলি করা হয়েছে। যাতে তারা (সিন্ডিকেট) অবাধে দুর্নীতি-অনিয়ম চালিয়ে যেতে পারে।

বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক-কর্মকর্তা প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রেষণে শিক্ষা বোর্ডের সচিব হিসাবে নিয়োগ পেয়ে আমি সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দুর্নীতি ও অনিয়ম উচ্ছেদে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় আমি একটি মহলের রোষানলে পড়েছিলাম।

প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি ও তাদের জিম্মি করে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষা বোর্ডে অরাজকতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের কারণে প্রেষণে আসা কোনো কর্মকর্তাই অতীতে ঠিকমতো কাজ করতে পারেননি। প্রফেসর মোয়াজ্জেমের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ মনে করেন।

পরীমনির বিচার শুরু

রাজধানীর বনানী থানায় করা মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচিত এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলো। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ ১০-এর বিচারক নজরুল ইসলামের আদালতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু এবং সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন- পরীমনির সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দিপু ও মো. কবীর হাওলাদার।

আদালতে ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী মামলা থেকে পরীমনির অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন খারিজ করেন।

গত বছরের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। বাসা থেকে বিপুল মাদকসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ মামলায় কয়েক দফা রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরের দিন তিনি কারামুক্ত হন।

দেয়ালে দেয়ালে সিনেমার পোস্টার লাগাচ্ছেন পূজা চেরি

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পূজা চেরি ব্যস্ত সময় পার করছেন। নতুন সিনেমার মুক্তি নিয়ে তার এই ব্যস্ততা। চিত্রনায়ক সিয়ামের সঙ্গে জুটি বেধে করা তার ‘শান’ সিনেমাটি ৭ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে। এটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফি।

ছবিটি নির্মাণ থেকে প্রচার পর্যন্ত নায়ক-নায়িকাসহ সিনেমা সংশ্লিষ্ট সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।

তবে এরই মধ্যে ঘটে গেছে অবাক করা কাণ্ড। সিনেমাটির প্রচারে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগাতে দেখা গেছে নায়িকা পূজা চেরিকে। সোমবার মধ্যরাতে এমনটিই দেখা গেছে। তবে শুধু পূজা চেরি নন; পোস্টার লাগাতে দেখা গেছে নায়ক সিয়ামকেও। ফেসবুকে পোস্টার লাগানোর ছবি পোস্ট করেছেন নায়িকা পূজা চেরি।

সোমবার রাত ১২টার দিকে ‘শান’ ছবির পরিচালক রায়হান রাফিসহ পূজা চেরি ও সিয়াম ওই পোস্টার লাগানোর কাজে লেগে পড়েন। এক হাতে ব্রাশ অন্য হাতে ডিব্বা ভর্তি আঠা নিয়ে বিএফডিসির সামনের রাস্তায় দেখা যায় তাদের।

বিষয়টি নিয়ে পূজা চেরি বলেন, আগে এ ধরনের অভিজ্ঞতা হয়নি। তবে নিজ হাতে যখন নিজের ছবিসহ সিনেমার পোস্টার দেয়ালে লাগাচ্ছিলাম, তখন খুব আনন্দ লাগছিল! কারণ সিনেমাটি আর কয়েক দিন পরেই হলে চলবে। কিছুটা চিন্তাও হচ্ছিল। মুক্তির পর ছবিটি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, এসব ভেবে।

সিয়াম বলেন, ‘শান’ ছবির কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত; অর্থাৎ দর্শকের কাছে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ছবির প্রতিটি কাজের সঙ্গে আমি থাকতে চাই। কারণ কাজটি টিমের সবার মতো আমারও আপন।

পূজা চেরি, সিয়াম ছাড়াও ‘শান’ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন চম্পা, অরুণা বিশ্বাস, তাসকিন রহমান, ডনসহ আরও অনেকে।

 

নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন মুমিনুল

বে ওভালে পঞ্চম দিন কী হবে সেটি ভেবে আগের রাতে ঘুম হয়নি অধিনায়ক মুমিনুল হকের।

নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানালেন টাইগার অধিনায়ক।

১২ হাজার কিলোমিটার দূরে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে পাওয়া জয়ে কেটে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক আঁধার। নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে গেল দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে।

৫ উইকেটে ১৪৭ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করা কিউইদের ইনিংস শেষ হতে এক ঘণ্টাও লাগেনি। ইবাদত-তাসকিন তাণ্ডবে এলোমেলো হয়ে যায় কিউই ব্যাটিং অর্ডার। এর পর মামুলি ৪০ রানের তাড়ায় ২ উইকেট হারাতে হয় বটে, জয়ের মাহাত্ম্য তাতে কমেনি একটুও।

এমন দুর্দান্ত ও ঐতিহাসিক জয়ের কৃতিত্ব দলের সব সদস্যকেই দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল।

জয়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না, কী অনুভব করছি। এটি এক কথায় অবিশ্বাস্য। সত্যি কথা বলতে— আমি গতকাল রাতে ঘুমাতে পারিনি, আজ কী হবে সেটি ভেবে।

তিনি বলেন, এটি একটি টিমওয়ার্ক ছিল। সবাই এ ম্যাচ জিততে আগ্রহী ছিল। আমাদের সব ডিপার্টমেন্ট ভালো করেছে। সবাই যার যার অবস্থানে তাদের সেরাটা দিয়েছেন।

মুমিনুল আরও বলেন, আসলে আমাদের বোলারদের কারণে আমরা জিতেছি, তারা সঠিক জায়গায় বোলিং করেছে এবং সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার চেষ্টা করেছে। আমরা জানি নিউজিল্যান্ডে যখন সূর্য অস্ত যায়, উইকেট স্পিন হয় এবং আমরা এই জিনিসগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। ইবাদত তো অবিশ্বাস্য ছিল। অসামান্য প্রচেষ্টা ছিল তার।

ইতিহাস গড়া টেস্ট জয়ের ৩ কারণ

বে ওভালের মাটিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বিশ্বের এক নম্বর দলকে মাটিতে নামিয়ে দিয়েছেন টাইগাররা। ইবাদত-মুমিনুল-লিটন-তাসকিনের নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটের ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

বিদেশের মাটিতে টেস্টে এত বড় জয় পাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় পাওয়া। তারুণ্যনির্ভর দলটি মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের মাটি যে কীর্তি গড়ল, সেটি ক্রিকেটবিশ্ব বহুদিন মনে রাখবে। ক্রিকেট লিজেন্টরা রীতিমতো অবাক বনে গেছেন মুমিনুলদের পারফরম্যান্সে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম।

ম্যাচশেষে তিনি বলেন, তিনটি দিকে আমরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি। সেগুলো হচ্ছে— মুমিনুলরা ভালো পার্টনারশিপ করতে সক্ষম হয়েছিল, আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং দুর্ভাগ্য আমরা এ দুটোর কোনোটিই করতে পারিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই আমাদের দেখিয়েছে টেস্টে চেপে না ধরতে পারার দুর্বলতা কীভাবে কাজে লাগাতে হয়।

এই জয়ে বাংলাদেশের কৃতিত্বকে বড় করেই দেখছেন লাথাম। আমরা যদি ৪৫০ রান করতে পারতাম, তবে গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। তবে আজকের ম্যাচে পুরো কৃতিত্ব বাংলাদেশের, এই ম্যাচে তারা ভালো খেলেই জয় পেয়েছে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল জানিয়েছেন, এ জয়ের নেপথ্যে নিজেদের দৃঢ়তা ও মাথা ঠাণ্ডা করে খেলার বিষয়টি কাজ করেছে। ইবাদতের অসাধারণ স্পেলের পরও নিজেদের রোমাঞ্চ লাগামছাড়া হতে দেয়নি বাংলাদেশ দল।

মুমিনুলের ভাষায়, ‘কাল শেষ বেলায় ইবাদত যখন হঠাৎ করেই উইকেট নিল, তখন মনে হলো, এ টেস্ট জেতার জন্য যাচ্ছি। আজ অল-আউট হওয়ার পর নিশ্চিত হয়েছি। তবে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছিল না। টিভিতে দেখতে থাকলে দেখবেন, আমরা সবাই শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। বল ধরে ধরে খেলার চেষ্টা করেছি—ব্যাটিং, বোলিং। ব্যাটিংয়ে শুরুতে চাপে ছিলাম। মুশফিক ভাই ওই দুটা রান নেওয়ার পরই মনে হয়েছে জিতেছি।’

বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সকে বড় করে দেখছেন মুমিনুল। ‘পরিকল্পনা ছিল, উইকেটের জন্য করতে গিয়ে যেন রান না দিই। শেষ চার দিন যে প্রক্রিয়া ছিল, সেটিই অনুসরণ করা, চাপ তৈরি করা। ফল আসলে আসবে, না এলে নেই।’
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত চক্রে সাত ম্যাচের ৬টিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ, অন্যটি ড্র হয়েছিল। শুরুটা পাকিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে। অবশেষে বহুল প্রত্যাশিত জয় ধরা দিল।

আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয়ের অপেক্ষাটা ছিল আরও দীর্ঘদিনের। কিউইদের বিপক্ষে তাদের মাঠে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩৩ ম্যাচ খেলে অবশেষে দেখা মিলল প্রথম জয়ের।

দেশের মাঠে নিউজিল্যান্ডের টানা ১৭ টেস্টের অপরাজেয় যাত্রা থামল এই হারে। সবশেষ তিন সিরিজে তারা হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতকে। উপমহাদেশের কোনো দলের সবশেষ জয় ছিল ১১ বছর আগে, পাকিস্তানের। সেই দলকেই এবার বড় ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ।

৫ উইকেটে ১৪৭ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিল নিউজিল্যান্ড। বুধবার পঞ্চম ও শেষ দিনে সকালের সেশনে ১০.৪ ওভারের মধ্যে মাত্র ২২ রান তুলতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানে অলআউট হয় টম লাথামের দল। এতে জয়ের জন্য মাত্র ৪০ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। যেটি হেসেখেলেই পার করে দেন ব্যাটাররা।

হিমেল হাওয়ায় কাবু উত্তরের জনজীবন

দিনাজপুরের হাকিমপুরে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জেঁকে বসেছে শীত। হাড় কাঁপানো শীতে কাবু উত্তর জনপদের মানুষ।

বুধবার সকাল ৬টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

জানা যায়, তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসে বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। জুবুথুবু হয়ে পড়েছে জনজীবন।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ শতাংশ, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪-৬ কিলোমিটার। তবে বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি ঘণ্টায় ১০-১২ কিলোমিটার পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কিছু কিছু স্থানে বিরাজমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহটি অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আগামী ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। এর পর ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ জন করোনায় আক্রান্ত

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ জন। শনাক্তের হার প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। তবে এই সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

বুধবার সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নগরের ৪৯ জন এবং নগরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলার চারজন রয়েছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৩৫ জনের। শনাক্তের হার ছিল ৩ শতাংশ।

চট্টগ্রামে ১১টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৫৩ জনের করোনা পজিটিভ হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৩৫।

সরকারি হিসাব অনুসারে, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ৩২২ জন। জেলাটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে মোট এক লাখ দুই হাজার ৭৬৯ জনের।

বাচ্চা নিয়ে থানায় হানা দিল হাতি!

গারদ ভেঙে কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তো অনেক শুনেছেন। কিন্তু বাইরে থেকে গারদ ভেঙে থানায় ঢোকার কথা হয়তো কখনো শোনেননি। বাস্তবে বাইরে থেকে গারদ ভেঙে থানায় ঢোকার চেষ্টাই করা হয়েছে। তবে এই চেষ্টা কোনো মানুষ নয়, করেছে একটা হাতি। সঙ্গে হাতির শাবকও ছিল।

ভারতের কেরালায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ভারতের কেরালায় রয়েছে বিপুল সংখ্যক হাতি। এই হস্তিকূল একদিকে যেমন ওই অঞ্চলের পর্যটনের বড় আকর্ষণ, অন্যদিকে মাঝে মাঝে এই হাতির হয়ে ওঠে বিপত্তির কারণ। বিশেষ করে হাতির আক্রমণে স্থানীয়রা বেশ বিপাকেই পড়েন।

সম্প্রতি কেরালা পুলিশ শাবকসহ ওই হাতির থানা ‘সফরের’ ভিডিও টুইটারে পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে তাদের থানায় ‘অনুপ্রবেশের’ চেষ্টা করতে দেখা গেছে। টুইটারে অবশ্য কেরালা পুলিশ একটু মজা করার লোভ সামলাতে পারেনি। ভিডিওর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন বিখ্যাত মালালায়াম সিনেমার ডায়লগ।

অবশ্য এভাবে মানুষের মাঝে এসে হাতির তাণ্ডবের ঘটনা কেরালায় বিরল নয়। সম্প্রতি আসামের এক ব্যক্তিকে এক হাতির তাড়া করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, হাতিটি ওই ব্যক্তিকে শস্যক্ষেতের মধ্যদিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

পৃথক বছরে জন্ম হলো যমজ ভাইবোনের

একই সময় মায়ের গর্ভে বেড়ে উঠা এবং একসঙ্গে জন্ম নেওয়া সহদরদের বলা হয় যমজ। যমজ সহোদররা ভিন্ন বছরের জন্ম নিয়েছে এমন ঘটনা হয়তো কখনো শোনেননি। কিন্তু বাস্তবে সেটাই ঘটেছে।

এক যমজ ভাইবোন জন্ম নিয়েছে দুইটি ভিন্ন বছরে। যদিও তাদের জন্ম মাত্র পনেরো মিনিটের ব্যবধানে!

মার্কিন সাময়িকী পিপল ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যার্লিফোনিয়ার গ্রিন্ডফিল্ড শহরে ফাতিমা মাদ্রিগাল এবং রবার্ট ট্রুজিলো দম্পতির যমজ সন্তান আলফ্রেডো এবং আইলিন জন্ম নেয় দুইটি ভিন্ন বছরে। আলফ্রেডোর জন্ম ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে। আর তার বোন আইলিনের জন্ম ২০২২ সালের ১ জানুয়ারির প্রথম প্রহর ১২টায়।

গ্রিন্ডফিল্ডের নাটিভিদাদ মেডিকেল সেন্টার এক ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনা শেয়ার করেছে। ওই পোস্টে ভিন্ন বছরে জন্ম নেওয়া যমজ ভাইবোনের ছবিও শেয়ার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

যমজ ভাইবোন সুস্থ আছে বলে পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জন্মের সময় আইলিনের ওজন ছিল ২.৬৬ কেজি আর আলফ্রেডোর ওজন ছিল ২.৭৫ কেজি।

যমজ বাচ্চাদের এই অনন্য জন্ম তারিখ নিয়ে ফাতিমা মাদ্রিগাল তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, আমার জন্য এটা দারুণ ব্যাপার যে তারা যমজ কিন্তু ভিন্ন তারিখে তাদের জন্ম।

বাড়ছে ভর্তুকি-সুদ বরাদ্দ

আর্থিক খাতে করোনার সংক্রমণে সৃষ্ট টানাপড়েনের মধ্যে চলতি বাজেট কাটছাঁট হচ্ছে। এরমধ্যে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁটের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যয়ে।

 

সাশ্রয় হওয়া এ অর্থ ব্যয় করা হবে ভর্তুকি ও ঋণের সুদ খাতে। কারণ বিশ্ববাজারে জ্বালানি, এলএনজি গ্যাস, সার ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ভর্তুকিতে। এ খাতের ব্যয় লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একই সঙ্গে বেড়েছে সরকারের বিভিন্ন ঋণের সুদ পরিশোধ ব্যয়। পরিস্থিতি সামলাতে ভর্তুকি ও ঋণের সুদ খাতে আরও বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।

তবে হাত দেওয়া হবে না রাজস্ব আয় ও পরিচালন খাতে। কাটছাঁটের এমন লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে অর্থ মন্ত্রণালয় শুরু করেছে চলতি অর্থবছরের বাজেট সংশোধনীর কাজ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মোট বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। গত নভেম্বর বাজেটের টাকা খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। ধারাবাহিক নিয়মে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও বাজেট কাটছাঁট করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সরকারের নিজস্ব অর্থ এবং বৈদেশিক সহায়তার অংশ রয়েছে। সংশোধিত বাজেটে বৈদেশিক সহায়তার অংশ থেকে কাটছাঁট করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে অর্থ বিভাগ থেকে।

জানা গেছে, ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এডিপির মধ্যে বৈদেশিক সহায়তার অংশ ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ এখান থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁটের লক্ষ্য স্থির করেছে।

তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি যাতে না কমে সে জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এরই মধ্যে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ শতভাগ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। যদিও আগের বছরে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় না করার ওপর বিধিনিষেধ ছিল।

এছাড়া মাঠপর্যায়ে অর্থ প্রবাহ বাড়াতে এডিপির তৃতীয় কিস্তির অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকরা তৃতীয় কিস্তির অর্থ ব্যয় করতে পারবে।

এসব উদ্যোগের ফলে জুলাই-নভেম্বরে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৪ হাজার ৬১ কোটি টাকা। যা গত ৫ বছরের একই সময়ের তুলনায় বাস্তবায়ন হার বেশি।

জানতে চাইলে বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় কত টাকা বিদেশি সহায়তা মিলবে এর একটি হিসাব করা হয়। অর্থবছরের বছরের ৬ মাস চলে গেছে।

আগামী ৬ মাসে এ সহায়তা কতটুকু পাওয়া যাবে এর একটি বাস্তব হিসাব করা এখন সম্ভব। সে দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেট সংশোধনের ক্ষেত্রে বৈদেশিক সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা কমানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশি সম্পদেরও একটি হিসাব বছরের শুরুতে করা হয়েছে।

ফলে সেটিও পর্যালোচনা করা দরকার। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তা কমাতে যেয়ে দেশীয় এবং বিদেশি অর্থায়নের মধ্যে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চলতি বাজেটে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

কিন্তু অর্থ বিভাগ হিসাব করে দেখছে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দেশে জ্বালানি তেল, সার, গ্যাসের ভর্তুকি বেড়ে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশী হবে।

ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনতে নতুন করে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের পরও ভর্তুকি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি হবে। যা শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

এছাড়া সুদের ব্যয়ও বাড়বে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরও সুদ খাতে ব্যয় সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য সুদের ব্যয়ও বাড়ছে। সরকার এ বছর সুদ পরিশোধের জন্য ৬৮ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এ অর্থ দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

এ বছর সরকারের পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। বাজেট সংশোধন করতে গিয়ে পরিচালনা ব্যয় সর্ম্পকে মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে কয়েকটি তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

সেখানে বলা হয়, মন্ত্রণালয়গুলোতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণ লিখিত আকারে জানাতে হবে। এছাড়া ভূমিকর বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ব্যয়ের পরিমাণও জানাতে হবে।

এছাড়া পেট্রোল, ডিজেল ও সিএনজি চালিত যানবাহনের সংখ্যা পৃথকভাবে উল্লেখ করে পেট্রোল ও লুব্রিকেন্ট খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পক্ষে যৌক্তিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

আর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যারা পিআরএল-এ যাবেন, তাদের তালিকা ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ এবং শ্রান্তি-বিনোদন ছুটিতে যাবেন- এমন কর্মকর্তাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এদিকে ব্যবসা বাণিজ্যে গতি ফেরায় রাজস্ব খাতেও আদায়ের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। গত ৫ মাসে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। তবে এ বছর সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হচ্ছে না।