রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অনিয়ম দুর্নীতি উচ্ছেদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ড. মোয়াজ্জেমকে বদলি এবং বিতর্কিত কলেজ শিক্ষক হুমায়ুন কবীর জুয়েলকে নতুন বোর্ড সচিব হিসাবে নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়েছে।
একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেমকে রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে তাকে বদলি করা হয়েছে। তার এ আকস্মিক বদলির খবরে শিক্ষা বোর্ডের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ জানায়, প্রফেসর মোয়াজ্জেম বোর্ডের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এতে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের হোতারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বোর্ড সচিব প্রফেসর মোয়াজ্জেমের দপ্তরে চড়াও হন। সচিবসহ প্রেষণে আসা শিক্ষা ক্যাডারের দুই কর্মকর্তাকে হেনস্তা করা হয়। এ নিয়ে ওয়ালিদ ও মঞ্জুর খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সচিব মোয়াজ্জেম। এ মামলার তদন্ত চলছে। তবে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের লাগাতার তদবিরে প্রফেসর মোয়াজ্জেমকে বদলি করা হয়েছে। যাতে তারা (সিন্ডিকেট) অবাধে দুর্নীতি-অনিয়ম চালিয়ে যেতে পারে।
বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক-কর্মকর্তা প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রেষণে শিক্ষা বোর্ডের সচিব হিসাবে নিয়োগ পেয়ে আমি সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দুর্নীতি ও অনিয়ম উচ্ছেদে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় আমি একটি মহলের রোষানলে পড়েছিলাম।
প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি ও তাদের জিম্মি করে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষা বোর্ডে অরাজকতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের কারণে প্রেষণে আসা কোনো কর্মকর্তাই অতীতে ঠিকমতো কাজ করতে পারেননি। প্রফেসর মোয়াজ্জেমের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ মনে করেন।


