রবিবার ,১৬ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 407

সুখ বেড়েছে বাংলাদেশে

করোনা মহামারীর মধ্যেও বাংলাদেশে সুখ বেড়েছে। আর এ সুখের খবর দিয়েছে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট। এ বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ সালে সুখ বেড়েছে বাংলাদেশের মানুষের মনে।

২০ মার্চ বিশ্ব সুখ দিবস সামনে রেখে শুক্রবার ১০ম বারের মতো প্রকাশিত এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন)। এতে বিশ্বের সুখী দেশের তালিকায় সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

২০২২ সালের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৪তম। গত বছর এ তালিকায় ১০১তম ছিল দেশটি। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ছিল ১০৭তম আর ২০১৯ সালে ১২৫তম।

তালিকায় টানা পঞ্চমবার সবচেয়ে সুখী দেশ নির্বাচিত হয়েছে ফিনল্যান্ড।

বার্ষিক এই প্রতিবেদনে এ বছর ১৪৬টি দেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশগুলোর মানুষকে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের সুখ পরিমাপ করা হয়েছে। আর সুখের পরিমাপক হিসেবে দেশটির সামাজিক সুযোগ-সুবিধা, সামাজিক উদারতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, জিডিপি, গড় আয়ু এবং দুর্নীতির মাত্রা বিষয়গুলোকে সামনে রাখা হয়। এতে শূন্য থেকে ১০ পর্যন্ত পয়েন্ট দিয়ে সুখের পরিমাণ বোঝানো হয়েছে। তালিকায় ২০২১ সালে ৫ দশমিক ১৫৫ পয়েন্ট নিয়ে ৯৪তম হয়েছে বাংলাদেশ।

সূচকে ২ দশমিক ৪০৪ পয়েন্ট নিয়ে এ তালিকার সবচেয়ে অসুখী দেশ আফগানিস্তান। আর পরের চারটি দেশ হলো- লেবানন, জিম্বাবুয়ে, রুয়ান্ডা ও বতসোয়ানা।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি সুখে আছে নেপাল। দেশটির স্কোর ৫ দশমিক ৩৭৭। এ তালিকায় পাকিস্তান ৪ দশমিক ৫১৬ স্কোর নিয়ে ১২১তম, ৪ দশমিক ৩৯৪ স্কোর নিয়ে মিয়ানমার ১২৬ তম, ৪ দশমিক ৩৬২ স্কোর নিয়ে শ্রীলঙ্কা ১২৭তম এবং ৩ দশমিক ৭৭৭ স্কোর নিয়ে ভারত ১৩৬ তম অবস্থানে রয়েছে।

আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে

সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বিভিন্ন জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপ প্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে

শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর ও এর কাছাকাছি দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় লঘুচাপটি অবস্থান করছে।

এটি ঘনীভূত হয়ে আগামীকাল সকালে সুস্পষ্ট লঘুচালে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী তিন দিনে লঘুচালটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।

সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, ফেনী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচালের বাড়তি অংশ হিমালয়ের পাদদেশয় পশ্চিমবঙ্গ এবং এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।

শুক্রবার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকায় পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৮ শতাংশ।

মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি ৭৬ দশমিক ৭২ শতাংশ

মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৭২ শতাংশে। এছাড়া প্রথম অংশের বাস্তবায়ন ৯০ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় অংশের ৭৫ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে। একই সঙ্গে ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রেলকোচ ও ডিপো অংশের যন্ত্রপাতির কাজ ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ হয়েছে। বর্ধিত অংশের (মতিঝিল থেকে কমলাপুর) কাজও এগিয়ে চলছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। ফলে ঢাকাবাসীর যানজটমুক্তির স্বপ্ন আট মাসের মধ্যে পূরণ হতে যাচ্ছে।

ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকা থেকে নির্মাণসামগ্রী ও মালামাল সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও সরিয়ে ফেলাও হয়েছে। এ কারণে কমে আসছে সড়কপথের জনদুর্ভোগ। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমসিএল) প্রতিবেদন এবং সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

এ প্রসঙ্গে ডিএমসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিকী বুধবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আগের ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বরে প্রথম অংশ খুলে দেওয়া হবে। এজন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অন্য অংশের কাজও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশ পরবর্তী প্রকল্পে যুক্ত হওয়ায় অংশটির কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি আমার কাজ নয়। আমি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে জমা দিয়েছি। আমার কাজ শেষ। বাকিটা কমিটিই দেখছে।

ডিএমসিএল সূত্র জানায়, দেশের প্রথম মেট্রোরেল হিসাবে এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয় ২০১২ সালের জুলাইয়ে। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রথম অংশ উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এবং তৃতীয় অংশ মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া ৯টি প্যাকেজে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ চলছে।

প্রকল্পটির প্যাকেজভিত্তিক অগ্রগতি হচ্ছে-

প্যাকেজ-১ (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন) : এ প্যাকেজের বাস্তব কাজ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস আগে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এতে সরকারের ৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্যাকেজ-২ (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ) : এ প্যাকেজের অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এ প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। ডিপোর অভ্যন্তরে নির্ধারিত ৫২টি স্থাপনার মধ্যে ৪৩টির কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ।

প্যাকেজ-৩ ও ৪ (উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ) : এ প্যাকেজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। উভয় প্যাকেজের কাজ ২০১৭ সালের আগস্টে শুরু হয়। ইতোমধ্যে পরিষেবা স্থানান্তর, চেক বোরিং, টেস্ট পাইল, মূল পাইল, পাইল ক্যাপ, আই গার্ডার, প্রিকাস্ট সেগমেন্ট কাস্টিং, পিয়ার হেড, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, পাঁচটি লং স্প্যান, ব্যালেন্সড কন্ট্রোলার স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া সব স্টেশনের সাব-স্ট্রাকচার নির্মাণ এবং সব প্যারাপেট ওয়াল ভায়াডাক্টের ওপর বসানো শেষ হয়েছে।

সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী ও মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং আগারগাঁও স্টেশনের কনকোর্স ছাদের কাজ শেষ হয়েছে। উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ ও পল্লবী স্টেশনের স্টিল রুফ স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে। মিরপুর-১১তে স্টিল রুফ নির্মাণকাজ চলছে। উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী ও মিরপুর-১১ স্টেশনে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিংয়ের কাজ এন্ট্রি-এক্সিট স্ট্রাকচার নির্মাণ শেষ। আটটি স্টেশনের রুফ সিট স্থাপন হয়েছে। তবে আগের চেয়ে শ্রমিক সংখ্যা কম দেখা গেছে। এর কারণ হিসাবে উপস্থিত একাধিক প্রকৌশলী জানান, এখন কাজ শেষের পথে। তাই যতই কাজ শেষের দিকে আসবে, ততই শ্রমিক কমবে।

প্যাকেজ-৫ (আগারগাঁও থেকে কাওরান বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ১৯ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ) : এ প্যাকেজের সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০১৮ সালের আগস্টে এ প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে পরিষেবা স্থানান্তর, চেকবোরিং, ট্রায়াল ট্রেঞ্চ, টেস্ট পাইল, স্থায়ী বোরড পাইল, পিয়ার কলাম ও পিয়ার হেড নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, বর্তমানে বিজয়সরণি, ফার্মগেট ও কাওরান বাজারে স্টেশনের কাজ চলছে।

প্যাকেজ-৬ (কাওরান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও চারটি স্টেশনের নির্মাণকাজ) : এ প্যাকেজের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৮০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৮ সালের আগস্টে কার্যক্রম শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত অনেক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বর্তমানে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের কাজ চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের ১৩৫ মিটার কনকোর্স লেবেল স্লাব কাস্টিং এবং ৪৫ মিটার প্ল্যাটফরম লেভেল স্লাব কাস্টিং শেষ হয়েছে। এছাড়া অনেকটাই ভায়াডাক্টের কাজ দৃশ্যমান।

সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় এবং মতিঝিল স্টেশনের সম্পূর্র্ণ কসকোর্স লেভেল ও প্ল্যাটফরম লেভেলের স্লাব কাস্টিং শেষ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে স্টিল রুফ স্ট্রাকচার ও এন্ট্রি এক্সিট স্ট্রাকচারের কাজ চলছে।

প্যাকেজ-৭ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম) : এ প্যাকেজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্যাকেজটির কার্যক্রম শুরু হয়। উত্তরা ডিপোতে রিসিভিং সাব-স্টেশনের পূর্ত নির্মাণকাজ শেষ করে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু হয়েছে। মতিঝিল সাব-স্টেশনের ভবন নির্মাণ চলছে। এছাড়া এ প্যাকেজের অনেক কাজ শেষ করা হয়েছে।

প্যাকেজ-৮ (রেল কোচ ও ডিপো ইক্যুপমেন্ট সংগ্রহ) : এ প্যাকেজের সার্বিক অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্যাকেজ-৯ (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) : এ প্যাকেজের কাজ শুরুর জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কিস্ক অব মিটিং করা হয়েছে।

ডিএমসিএল সূত্র জানায়, কোভিড-১৯ দ্বিতীয় ওয়েব মোকাবিলায় প্রকল্পে নিয়োজিত জনবলের পরিপূর্ণ স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা চলছে। এছাড়া গাবতলী কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ১০ শষ্যাবিশিষ্ট এবং উত্তরার পঞ্চবটি কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ১৪ শষ্যার ফিল্ড হাসপাতাল চালু আছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জনবলের নিরাপদ অবস্থানের জন্য নির্মাণস্থলের কাছেই আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ডিএমসিএল এবং এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোয় কর্মরত দেশি ও বিদেশি জনবলকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনে আজ বইমেলার সমাপ্তি

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ।

টুঙ্গিপাড়ার দামাল ছেলে খোকা থেকে জাতির মুক্তির কাণ্ডারি হয়ে ওঠা শেখ মুজিবুর রহমানের শুভ জন্মদিন নানাভাবে উদযাপনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হবে।

এদিকে জাতীয় বইমেলার শেষদিন আজ। তাই এদিন মেলায় নানাভাবে ধরা দেবেন বঙ্গবন্ধু। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আসা হাজার হাজার মানুষ জাতির পিতা ও তার অবদানকে স্মরণ করবেন আরও একবার। আজ মেলা শুরু হবে বিকাল ৩টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বিকাল ৩টায় অমর একুশের মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ। আলোচনায় অংশ নেবেন নজরুল ইসলাম, স্বদেশ রায় এবং মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। বিকাল ৪টায় ভাষাশহিদ মুক্তমঞ্চে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এবারের বইমেলার মূল স্লোগানসহ মূলমঞ্চের আলোচনা, সাংস্কৃতিক আয়োজনেও প্রাধান্য পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু। মেলার শেষ দিন বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে মূলমঞ্চের আলোচনা ও আয়োজন শেষে অতিথিরা সবাই আসবেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে বইমেলার সব প্রকাশকদের উদ্যোগে জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে ১০০ কেক কেটে জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন সব অতিথি, প্রকাশক, লেখকসহ সবাই। এরপর সবশেষে মেলায় থাকবে আতশবাজি। এ বিষয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রকাশকরা আগেই বলেছি জাতির পিতার জন্মদিনটি উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপনের মধ্য দিয়ে আমরা বইমেলাটি শেষ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা তিনি আমাদের সে সুযোগটি দিয়েছেন। আমরা জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে তার জন্মদিনে ১০০টি কেক কেটে এই আনন্দ মেলায় অগত সবার মধ্যে ভাগ করে নেব। এদিকে বুধবার বইমেলায় সন্ধ্যার পর প্রচুর পাঠকের সমাগম হয়। যারা এখনও তাদের প্রিয় লেখক বা প্রয়োজনীয় বইটি কেনেননি তারা এদিন বই কেনেন। এদিনও মেলায় লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মঞ্চের আয়োজন : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহিদ জননী জাহানারা ইমাম : আমৃত্যু সংগ্রামী এক মহাপ্রাণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তপন পালিত। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাবিহা পারভীন, জয়দুল হোসেন এবং আহমেদ আহসানুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। সভাপতির বক্তব্যে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়কে জাহানারা ইমাম নিজের চেতনায় ধারণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, তেমনি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সংগঠিত করার জন্য আজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সর্বোপরি তিনি বাংলাদেশের বিজয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

এদিন ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মিনার মনসুর এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি ইউসুফ রেজা, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, মাহবুবা লাকী, বাপ্পী রহমান এবং লুৎফর চৌধুরী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং রূপা চক্রবর্তী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘দৃষ্টি’, মো. সুজাতুল আলমের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আদি গম্ভীরা দল’-এর পরিবেশনা। নৃত্য পরিবেশন করেন কবিরুল ইসলাম রতন। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আশরাফ মাহমুদ, অমিয় বাউল, মুন্নী কাদের, রত্না সরকার, সাধিকা সৃজনী তানিয়া, জান্নাত-ই-ফেরদৌসী, শাহীনা আক্তার পাপিয়া, শামীমা নাসরিন চমন।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ২০২২ ঘোষণা : ২০২১ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য আগামী প্রকাশনীকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার- ২০২২, ২০২১ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে আবুল হাসনাত সম্পাদিত বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ স্মারক প্রকাশের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশনস, জালাল ফিরোজ রচিত লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর একদিন গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্স এবং সৈয়দ আবুল মকসুদ রচিত নবাব সলিমুল্লাহ ও তার সময় গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২২ প্রদান করা হয়। ২০২১ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২২ প্রদান করা হয়। ২০২২ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসাবে নবান্ন প্রকাশনী, নিমফিয়া পাবলিকেশন এবং পাঠক সমাবেশকে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২২ প্রদান করা হয়। আজ অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারগুলো প্রদান করা হবে।

নতুন বই : বুধবার বইমেলায় নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ৭৭টি। এর মধ্যে সময় প্রকাশন থেকে মুনতাসীর মামুন রচিত ‘বঙ্গবন্ধু সমগ্র ২য় খণ্ড’, অন্যপ্রকাশ থেকে সৌগত চট্টোপাধ্যায়ের ‘কলকাতায় শেখ মুজিব’, একই প্রকাশনী থেকে আসাদুজ জামানের ‘রাহাতের দশ দিন’, বাংলানামা থেকে আসিফ মো. নজরুল রচিত ‘ক্ষমা করে দিও’। প্রত্যয় প্রকাশন প্রকাশ করেছে অমর মিত্রের উপন্যাস ‘ধ্রুবপুত্র (প্রথম খণ্ড)’, সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ঝর্ণাধারার সঙ্গীত’, ফারুক নওয়াজের কাব্যগ্রন্থ ‘হারিয়ে যাওয়া হয় না আমার’ ও আহসান হাবীরের উপন্যাস ‘এক এবং একা’, কথাপ্রকাশ প্রকাশ করেছে মুস্তাফিজ শফির উপন্যাস ‘স্পর্শ’, মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশ করেছে মুনতাসীর মামুনের ইতিহাস বিষয়ক বই ‘ইতিহাস হত্যা এবং পাঠক্রম ও পাঠ্যবই (১৯৪৯-২০২০)’, জার্নিম্যান বুক্স প্রকাশ করেছে তারিক সুজাতের বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : কমেট বিমান ও ব্রিটিশ গোপন দলিল’, পাঠক সমাবেশ প্রকাশ করেছে মুহম্মদ নূরুল হুদার গীতিকবিতা ‘সীতা সংহিতা’, ছোটদের বই প্রকাশ করেছে হাসান হাফিজের জীবনী ‘বিশ্বসেরা ১২ বিজ্ঞানী’

‘সত্তার গভীরে নীরব’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

অমর একুশে বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঙ্গলবার ‘সত্তার গভীরে নীরবে’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেনা কর্মকর্তা স্বপ্নীল সামছের (অব.) লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে বাংলানামা।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মেজর নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ (বিএনসিসিও)। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপমহাদেশের প্রখ্যাত গজলশিল্পী আমিন বাদল, গীতিকার ও কবি মেজর পলক রহমান (অব.), সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলম ও যুগান্তরের বার্তা সম্পাদক হোসেন শহীদ মজনু, বইটির প্রচ্ছদশিল্পী সামিহা সেহমীম খান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলানামার অন্যতম কর্ণধার নূরুল আলম মিল্কী।

অনুষ্ঠানে কবি স্বপ্নীল সামছ তার বক্তব্যের শুরুতে মহান সৃষ্টিকর্তা, প্রয়াত পিতা-মাতাকে স্মরণ, সহধর্মিণী ও পরিবারের সকল সদস্যসহ কবিতা সৃজনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সত্ত্বার গভীরে নীরবে’ কবিতার গ্রন্থটি জীবনবোধ, বিভিন্ন ভেদাভেদকে নিয়ে, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতীয়তা, হ্যাভ-হ্যাভনট, শোষক- শোষিতের বৈষম্য, জীবনের চাহিদা-প্রাপ্তি, বর্তমান ও শেষ ঠিকানা এবং তারপর অজানা অধ্যা-কৌতুহল ইত্যাদি বিষয়ে লিখিত পাঠকের যুবকী ভাবনার প্রতিফলন। কিছুদিনের মধ্যেই দেশপ্রেম বিষয়ে প্রকাশিত হবে ‘চেতনায় স্ফুলিঙ্গের বসবাস’, প্রেমের বিষয়বস্তু নিয়ে ‘হৃদয়ে ধানুকী’ ও ‘শব্দের আড়ালে নিঃশব্দতায়’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মেজর নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ (বিএনসিসিও) বলেন, স্বপ্নীল সামছ একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে একজন দক্ষ ও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি আজ কাব্যগ্রন্থটির মাধ্যমে সাহিত্যে জগতে পদার্পণ করেছেন। তার কাব্যগ্রন্থটির আলোকেই আশা ব্যক্ত করছি, তিনি সাহিত্যে সফলতা লাভ করবেন। তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি।

আজ পবিত্র শবেবরাত

দিন শেষে আজ যে রাত নেমে আসছে সেটি একটি মহিমান্বিত রাত। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ সৌভাগ্য। অর্থাৎ ‘শবেবরাত’ শব্দের অর্থ ‘সৌভাগ্যের রাত’।

আরবিতে একে বলে ‘লাইলাতুল বরাত’। ১৫ শাবানের এ রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এবাদত-বন্দেগি ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে কাটান। বিভিন্ন বর্ণনামতে, এ রাতে মহান আল্লাহ বান্দাদের জন্য তার রহমতের দরজা খুলে দেন।

পবিত্র এ রাত উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। আরও বাণী দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের পাথেয়। এ পবিত্র রজনীতে আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে অশেষ রহমত ও বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের প্রার্থনা জানাই। সৌভাগ্যমণ্ডিত পবিত্র শবেবরাতের পূর্ণ ফজিলত আমাদের ওপর বর্ষিত হোক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে শবেবরাত উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসুন সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনা ব্যক্তি সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ রাত সম্পর্কে বলেন, শাবান মাসের এই রাতকে ইসলামে ‘লাইলাতুল নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়েছে। এ রাতে আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা করেন, কেবল মুশরিক (আল্লাহর সঙ্গে তুলনাকারী) ও হিংসুক ছাড়া।

এ সময়ে দুই থেকে তিনটি রোজা রাখা যেতে পারে। কেননা, এই সময়টা আইয়ামে বিজের মধ্যে পড়ে। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর পক্ষ থেকে এ রাতে এবাদতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এদিন বাড়াবাড়ি পর্যায়ের খাওয়া-দাওয়ার চেয়ে এবাদত-বন্দেগির দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এশা ও ফজরের নামাজ অবশ্যই জামাতের সঙ্গে পড়তে হবে। এ ছাড়া নফল এবাদত, কুরআন তেলাওয়াত ও তসবিহ পাঠ করা যেতে পারে। পটকাবাজি-আতশবাজি অবশ্যই করা যাবে না। এটা শবেবরাতের কোনো অংশ নয়।

রেওয়াজ অনুযায়ী, উপমহাদেশের মুসলমানদের অনেকেই মহিমান্বিত রজনী উদযাপনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রোজা রেখেছেন তারা। আজ এবং কালও সিয়াম সাধনা করবেন অনেকে। রাষ্ট্রীয়ভাবেও বাংলাদেশে দিনটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যে কারণে শবেবরাতের পরদিন সরকারি ছুটি থাকে। কালও সরকারি ছুটি, তবে এবার তা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মধ্যে পড়েছে।

শবেবরাত বাঙালি মুসলমানদের কাছে একটি উৎসবও। ঘরে সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবার, মুখরোচক হালুয়া, রুটি ও পায়েস ইত্যাদি তৈরি হয়। এসব খাবার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে পাঠানো হয়। বিতরণ করা হয় গরিব-দুঃখীর মাঝে। তবে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা এগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে এবাদত-বন্দেগিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষ্যে আজ বাদ মাগরিব ও বাদ এশা এবং রাত ২টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র শবেবরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এতে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে আজ।

আতশবাজি নিষিদ্ধ : আজ সন্ধ্যা থেকে আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শবেবরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৮ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা হতে ১৯ মার্চ ভোর ৬টা পর্যন্ত ক্ষার জাতীয় বা বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ।’ দেশের অন্যান্য নগর ও শহরগুলোতেও অনুরূপভাবে আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শবেবরাতের আমল

অধিক পরিমাণে নফল নামাজ পড়া-তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, সলাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সালাতুল হাজাত, সলাতুশ শোকর ইত্যাদি।

পরের দিন নফল রোজা রাখা। কুরআন শরিফ তেলাওয়াত করা, বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া, তাওবা-ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা, দোয়া-কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির-আসকার ইত্যাদি করা, কবর জিয়ারত করা, নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সব মোমিন মুসলমানের জন্য দোয়া করা।

বিশ্ব সমস্যার সমাধানে এখনো যুদ্ধ!

সুন্দর চরিত্রের আরেক নাম বিবেক। যার মধ্যে বিবেক কাজ করে সে অমানুষ বা দানব হতে পারে না। সুশিক্ষার জন্য যেমন দরকার সততা এবং সুন্দর পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ ঠিক সুন্দর চরিত্র পেতে দরকার পরনিন্দা ও পরচর্চা বর্জন করা এবং সর্বোপরি আমাদের চিন্তা-চেতনায় এবং কর্মে বিবেককে সংযুক্ত রাখা।

এখন আমার লেখা পড়ে সবাই বলবে তাহলে পাশ্চাত্যের মানুষ কীভাবে দানব হলো? তাদের সংসারে অভাব নেই, শিক্ষার ঘাটতি নেই, তারা কেন দানব হলো?

আমি ভেবেছিলাম পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হয়তো নতুন করে যুদ্ধ দেখতে হবে না। যেহেতু গোটা বিশ্বে প্রতিযোগিতার বন্যা বয়ে চলছে নানাভাবে। সেক্ষেত্রে আমি ধরে নিয়েছিলাম মানুষ জাতি যুদ্ধ নয় ক্রিয়েটিভ পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বিজয়ের বার্তা শোনাবে কিন্তু না আমার সে ধারণা স্বপ্ন হয়েই রয়ে গেল।

যুদ্ধের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং কিনে তা গুদামজাত করা থেকে কেউই বিরত নেই। ধনী দেশগুলোতে না হয় মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের অভাবে কেউ দৈনন্দিন জীবন পার করছে না বিধায় তাদের হয়তোবা শোভা পায় কিন্তু যেসব দেশ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো আজও পূরণ করতে পারেনি তারাও ক্ষেপণাস্ত্র কিনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি পর্ব গ্রহণে মগ্ন।

অস্ত্র যখন আমদানি এবং রপ্তানি হচ্ছে সেখানে কীভাবে আশা করা যেতে পারে এই পৃথিবী শান্তির মুখ দেখবে? জেনে শুনে যখন বিশ্ব এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাহলে কী দরকার আছে কূটনীতি এবং জাতিসংঘের? তারা শুধু অন্ন ধ্বংস আর স্বচ্ছ পানিকে ঘোলা করা ছাড়া আর কী করছে?

যুদ্ধ এবং অবৈধ ক্ষমতার অপব্যবহার করেই যদি বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে হবে তাহলে কী দরকারই বা আছে শুধু শুধু গণতন্ত্রের কথা বলার। শিক্ষা, খেলাধুলা এবং টেকনোলজির মধ্য দিয়ে হতে পারতো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কিন্তু তা না হয়ে হচ্ছে যুদ্ধের প্রতিযোগিতা! আমরা এমন একটি পৃথিবীর নাগরিক যেখানে কেউ যুদ্ধ করছে পেটে এক মুঠো খাবার পেতে আর কেউ যুদ্ধ করছে বিশ্বের শান্তি ধ্বংস করতে।

আমরা শ্রেণিকক্ষে নৈতিকতার কথা বলছি, সততা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিচ্ছি অন্যদিকে একে অপরকে খুন করছি। যদি নিজ নিজ পরিবারের দিকে খেয়াল করি তবে কী দেখতে পাচ্ছি? খুব যে ব্যতিক্রম কিছু তা বললে ভুল হবে। আমার জন্মের শুরুতেই পরাধীনতার অভিশাপ থেকে রেহাই পেতে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম তখন কিন্তু ভাবিনি মানুষ হয়ে মানুষকে খুন করছি। তখন মনে হয়েছে শত্রুকে খুন করছি।

পরে জীবন গড়ার সাথে, বিশ্বায়নের ভালোমন্দ দেখে শিখেছি অনেক কিছু। বিবেকের উন্মুক্ত মঞ্চ সব সময় ভালো দিকগুলোতেই অনুপ্রাণিত হয়েছে, তাই সব সময় সেগুলোকেই নানাভাবে তুলে ধরতে চেষ্টা করে চলেছি। কিন্তু আশানুরুপ ফলাফল দেখতে পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে না! এই না পারার সম্ভব্য কারণগুলো কী?

তার আগে যারা সমাজের খেয়ে সমাজের বারোটা বাজাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কথা বলতে হয়। আমি ফ্যাসিলিটেটরদের কথা বলছি। ফ্যাসিলিটেটর (Facilitator) শব্দের অর্থ সমন্বয়কারী। পাশ্চাত্যে শব্দটির একটি গুণগত মান রয়েছে ইতিবাচক অর্থে। কিছু লোক পৃথিবীতে রয়েছে যারা একজন ভালো ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে একটি পরিবার বা সমাজে কাজ করে থাকে। এদের কাজের মূল উদ্দেশ্য হলো সমন্বয় সৃষ্টি করা এক বা একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে।

চোগলখোর শব্দটি এমন কোনো ব্যক্তিকে বুঝায় যে অন্যের কাছে নিজেকে আপন করে তুলতে, নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে, ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং সুযোগ-সুবিধা লাভে একজনের কথা অন্যজনের কাছে বলে বেড়ায়। অকৃতজ্ঞ শব্দের অর্থ যে উপকারীর উপকার স্বীকার করে না। আর নেমকহারাম উপকারীর উপকার স্বীকার করে না বরং পারলে ক্ষতি করে।

ফ্যাসিলিটেটর আবার একজন চোগলখোর, বেইমান, অকৃতজ্ঞ বা নেমকহারামের এক সম্মিলিত চরিত্র হতে পারে। এ ধরনের ফ্যাসিলিটেটরদেরকে দানবের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। প্রশ্ন হতে পারে দানব কি? আমি নিজেও জানিনা তবে ভুত, পেত্নির মতো কুৎসিত অদৃশ্য কিছু একটা হবে। এ ধরনের ফ্যাসিলিটেটর পরিবার, সমাজ বা একটি দেশে বিরাজ করছে তাকি আমরা জানি?

আমরা কী জানি যে এরা সমাজের সবচেয়ে কুৎসিত চরিত্রের মানুষ নামের এক দানবগোষ্ঠী? আমরা শুধু দুর্নীতি, ঘুষখোর, সুদখোর, ধর্ষক, মোনাফিক এদের কথাই বলি যে এরা মানুষ জাতির কলঙ্ক। কখনও ভেবেছি কি সমাজে যে সব ফ্যাসিলিটেটর, চোকলখোর, বেইমান, অকৃতজ্ঞ এবং নেমকহারাম রয়েছে তারা একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশকে ধ্বংস করতে যথেষ্ট? কীভাবে শনাক্ত করা যেতে পারে এদেরকে? একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেষ্টা করি।

বাংলাদেশে এমন কোনো পরিবার নেই যেখানে মতামতের বিভেদ নেই। কিন্তু আমাদের এমন স্বভাব যে আমরা কখনও নিজেদেরকে নিয়ে সমালোচনা করিনা। আমরা অন্যের পরিবারে কী হচ্ছে তা নিয়েই মাথা ঘামিয়ে থাকি বেশি। পরনিন্দা, পরচর্চায় পঞ্চমুখ হতে পাকা।

আমরা ভুলে যাই যে আমাদের নিজেদের পেট বর্জ্যে ভরা এবং তা যখন শরীর ত্যাগ করে সে গন্ধ সহ্য করা কঠিন যদিও নিজেদেরই বর্জ্য। মৌলভীদের ভাষায় বলতে হয় “চিল্লায় বলেন ঠিক কিনা?” পরিবারে অনেক সময় ভাইয়ে-ভাইয়ে মনমালিন্য হয়ে থাকে; যা হতে পারে অর্থ সংক্রান্ত বা মতভিন্নতার কারণে।

সেক্ষেত্রে পরিবারের দূর্বল একাত্ববোধের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে আসে অনেকে। এরা দুই পক্ষের খবরাখবর বিকৃত করে কথা চালাচালি করে আনন্দ পায়। অনেকে কখনও বা কারো কাছ থেকে কোনো বিষয়ে উপকৃত হয়েছে, বিনিময়ে কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে না পেরে কুৎসা রটাতে উঠে পড়ে লাগে।

এরা জেনে শুনে এ ধরনের কর্ম করে। এ ধরনের কর্ম যারা করে তাদের মস্তিষ্ক এক ধরনের বিকৃত রোগে আক্রান্ত। এদের থেকে রেহাই পেতে একমাত্র উপায় যত সমস্যাই হোক না কেনো পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা, তাতে করে সমাজের কার্লপ্রিটগুলো পরিবারের মধ্যে ঢুকে সম্পর্ককে খারাপের দিকে নিতে পারবে না। মনে রাখতে হবে পরিবর্তন পরিবার থেকে শুরু করতে হবে, এবং দুষ্ট লোককে আদৌ সুযোগ দেয়া যাবে না।

ঘরের কথা ঘরের লোকের সঙ্গে আলোচনা করা শিখতে হবে। ঘরের কথা পরের কাছে বলা আর ঘরের বউ বা স্বামী পরের কাছে যাওয়া একই কথা। পার্থক্য শুধু একটি দৈহিক এবং অপরটি মানসিক। সুতরাং আমাদের অঙ্গীকার হোক, নিজে কাউকে শোষণ করবো না, কারো অধিকার হরণ করবো না, বৈষম্য সৃষ্টি করবো না, দুর্নীতি করবো না, অন্য কেউ এগুলো করলে তা মেনেও নেবো না। আমরা অবশ্যই পারবো এবং আমাদের পারতেই হবে।

পৃথিবীর সর্বত্র সৃজনশীল সমাজে ফ্যাসিলিটেটর রয়েছে। এরা পরিবার বা সমাজে সুন্দর পরিবেশ এবং ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মতো বেশির ভাগ দেশে ফ্যাসিলিটেটরের কাজ নেগেটিভ হয়ে থাকে। কারণ যে সমাজে সুশিক্ষার চেয়ে কুশিক্ষা বেশি, সেখানে ফ্যাসিলিটেটরদের চরিত্র জঘন্য হওয়াই স্বাভাবিক। পুঁথিগত বিদ্যা থাকলেই সুশিক্ষার অধিকারী হওয়া যায় না। বিবেকের অনুপস্থিতির কারণেই মানুষ দানবে পরিণত হয়। আমাদের সৃষ্টি হয়েছে মানুষ হিসেবে।

কু-কর্মের মাধ্যমে আমরা যদি মনুষ্যত্বের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি তখন ফ্যাসিলিটেটর চোগলখোর, বেইমান, অকৃতজ্ঞ, নেমকহারাম, দানব ইত্যাদি হয়ে যায়। তাহলে সুন্দর চরিত্র কীভাবে পাওয়া সম্ভব?

আমি বিশ্বাস করি স্রষ্টাকে, তাই বিশ্বাস করি বিবেককে। আমরা বিবেককে যদি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তবে আমার বিশ্বাস- at least we will and should make mistakes, just make sure we learn from them!

কানাডায় রেমিট্যান্স সার্ভিস: কিছু অভিজ্ঞতা

যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক মুদ্রা বা ফরেন রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পৃথিবীর বহুদেশে আজ বাংলাদেশিদের বসবাস। কেউ ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, কেউ বা সঞ্চয়, আবার কেউ বা আত্মীয়-পরিজনের প্রয়োজনে নিজ দেশে টাকা পাঠান। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারে একদার সময় সাপেক্ষ ও জটিল এই প্রক্রিয়াটি আজ খুবই সহজ ও অর্থনৈতিকভাবে খরচ সাশ্রয়ী।

পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের যে কোন অজ পাড়াগাঁয়ে আপনজনের হাতে অর্থনৈতিক সাহায্য তুলে দিতে আজ সময় লাগে মাত্র সর্বোচ্চ দশ মিনিট। নিরাপদ, খরচ সাশ্রয়ী ও সহজ লভ্য এই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ না করে কানাডার মতো দেশে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি এখনো হুন্ডির মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহী-এর কারণটি কী অর্থনৈতিক, সামাজিক নাকি যথাযথ সচেতনতার অভাব?

বিগত সাত বছর যাবত রেমিট্যান্স সার্ভিসের ব্যবস্থাপনার সাথে আমার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা। এই সেবায় এক সময়ে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ও মানিগ্রাম সার্ভিসের চাহিদা প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও, গত তিন বছর যাবত এ অবস্থানটিতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।

প্রক্রিয়াগত জটিলতা, বিনিময় হার, সার্ভিস ফি, রেমিট্যান্স পরিশোধের উপায় এবং সেবার মান ইত্যাদি কারণে রিয়া রেমিট্যান্স (RIA Money Transfer) সার্ভিসের চাহিদা এখন সবার শীর্ষে। সুখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন বানিজ্যিক ও তফসিলী ব্যাংক সমুহকে গ্রামমুখী হওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করায়, গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবার এখন যৌবনকাল চলছে। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, এটি কি অনুমাননির্ভর নাকি বাস্তব সম্মত?

এ প্রশ্নের উত্তরে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়াটির একটির সংক্ষিপ্ত আলোচনা আবশ্যিক মনে করছি।

যখন কোন সেবা গ্রহীতা কোথাও অর্থ প্রেরণ করতে চান, এর প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে, রেমিট্যান্স সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি প্রোফাইল একাউন্ট খুলতে হয়। সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক। সাথে পেশা, জন্মতারিখ, বর্তমান ঠিকানাসহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হয়। এন্টি মানি লন্ডারিং (AML Certified) প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং ফিনট্রাক ( FINTRAC- The Financial Transactions & Reports Analysis Centre of Canada) এর বিধি-বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কর্মী যখন নিশ্চিত হন, গ্রাহক রেমিট্যান্স প্রেরণ করার যোগ্য, তখন রেমিট্যান্স গ্রহীতার তথ্য ও সংশ্লিষ্ট দেশ-স্থানের সেবা প্রদানকারী এজেন্সির তথ্য অনুসন্ধান করে প্রেরণকারীর পছন্দ অনুযায়ী আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচন করতে হয়।

এক্ষেত্রে প্রেরণকারী অ্যাকাউন্ট ডিপোজিট, ক্যাশ পিক-আপ, হোম সার্ভিস, মোবাইল ডিপোজিটের (বিকাশ, রকেট, ইউ-পে ইত্যাদি) মতো যে কোন একটি অপশন বেঁচে নিতে পারেন।

বাংলাদেশে রেমিট্যান্স সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের শাখাসমূহ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখেছি, আজকাল বাংলাদেশের যে কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান। পার্বত্য এলাকার বরকল, টেকনাফের বাহারছড়া, পাথরঘাটার কাকছিড়া, দিরাইয়ের নাচনি’র মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আজ ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারিত হয়েছে। বিভিন্ন বানিজ্যিক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও মোবাইল ব্যাংকিং এটিকে জনগণের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে।

আর সবচেয়ে সুখের কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের সব কয়টি তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংক রিয়া রেমিট্যান্স সার্ভিসের বাণিজ্যিক অংশীদার। এতসবের পরেও যেটি সবচেয়ে আশ্চর্যজনক, বাংলাদেশী কানাডিয়ানদের অনেকেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে অর্থ প্রেরণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

পরিসংখ্যান কানাডার তথ্য অনুযায়ী জনসংখ্যার ভিত্তিতে কানাডার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালগেরি। এ শহরে আনুমানিক বিশ হাজারের মতো বাংলাদেশি বসবাস করেন। তুলনামূলকভাবে যে সংখ্যাটি ফিলিপিনো বংশোদ্ভূত অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রায় সমান, কিন্তু রেমিট্যান্স প্রেরণের পরিসংখ্যানটি পর্যালোচনা করলে এর কোন সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া ভার। এটি সত্যি যে, ফিলিপিনোদের অনেকে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে এদেশে কাজ করেন। পুরো অর্জিত অর্থই কি এরা নিজ দেশে প্রেরণ করেন নাকি এর অন্তরালে অন্য কোন কারণ নিহিত আছে?

জানুয়ারি ২০২২ সালের রেমিট্যান্স তথ্য:

রিয়া (RIA) রেমিট্যান্স সার্ভিস

এডিএস এক্সিম লিমিটেড

ক্যালগেরি কানাডা

দেশের নাম প্রেরণকারীর সংখ্যা শতকরা হার

ফিলিপাইন ৪৯৭ ৭৩%

মেক্সিকো ৮১ ১২%

কলাম্বিয়া ৬১ ৯%

অন্যান্য দেশ ৪২ ৬%

(বাংলাদেশসহ)

মোট ৬৮১

উপরের সারণিতে প্রদত্ত তথ্য বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের তালিকায় ফিলিপিনোরাই শীর্ষে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স প্রেরকের সংখ্যা মাত্র ৪২ জন শতকরা হারে যা ৬%। আরও নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে হলে, বাংলাদেশিদের সংখ্যা মাত্র ৭ জন, শতকরা হারে যা ১.০২%। তাহলে বাংলাদেশীরা কি স্বদেশে অর্থ পাঠায় না, নাকি এদেশে আয় রোজগারে অন্যদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে?

গর্বের সাথে উল্লেখ করতে চাই, ক্যালগেরির বাংলাদেশি কমিউনিটি অন্য যে কোন কমিউনিটির চেয়ে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-গৌরবে অনেক সমৃদ্ধ। আমার ষোল বছরের জীবনে একজনকেও পাইনি যিনি রিফিউজি, ওয়ার্ক পারমিট বা রাজনৈতিক আশ্রয়ে এখানে অভিবাসী হয়েছেন।

কিছু নগন্য সংখ্যক ছাত্র থেকে এখানকার অভিবাসী হলেও বাকিরা পেশাজীবী হিসেবে স্কিলড মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আওতায়ই এখানকার অভিবাসী হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রকৌশলীদের সংখ্যাটিই সবচেয়ে বেশি, দ্বিতীয় অবস্থানে হয়তোবা ভূতাত্ত্বিকরা আছেন। এমন সমৃদ্ধ একটি কমিউনিটির আয় রোজগার কম, সেটি বলার উপায় কোথায়? তবে দুঃখজনক সত্য হলো, অনেক বাংলাদেশি এখনো অবৈধ পথে হুন্ডি প্রক্রিয়ায় দেশে অর্থ প্রেরণের পথকেই খুঁজে বেড়ান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ২.৫% প্রণোদনা, উচ্চ বিনিময় হার আর নামমাত্র ন্যূনতম সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে মাত্র দশ মিনিটে, যেখানে অত্যন্ত নিরাপদ উপায়ে অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থা আছে, সেখানে কেন কষ্টার্জিত অর্থকে ঝুঁকিতে ফেলে এটি কোনভাবেই আমার বোধগম্য হয় না!!

প্রায়শই এমন অনেকের সংগেই সাক্ষাৎ হয়, যারা কানাডা সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ছবি যুক্ত পরিচয় পত্র দিয়ে একাউন্ট প্রোফাইল খুলতে রাজী নন, আলোচনা শেষে বুঝা যায় উনারা হুন্ডি প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। যখন আমাদের রেমিট্যান্স সার্ভিসের প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হয়, তখন কেউ কেউ সেবা প্রদানকারী কর্মীকে মৌখিক ভাবে নাজেহাল করতেও পিছপা হন না। ইদানীং হঠাৎ করেই হুন্ডির চাহিদাটি মনে হয় বড় বেশী বেড়ে গেছে।

গেল বছর এক ব্যক্তিগত সফরে টরন্টো গিয়ে বুঝতে পারি, হুন্ডি সেখানে ডাল-ভাত, চাইলেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। টরন্টো শহরে গাড়িতে করে এক জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছি, সফর সঙ্গী একজন অত্যন্ত প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক মানুষ, একটি প্রগতিশীল সংগঠনের কানাডা শাখার দায়িত্বেও আছেন। পথিমধ্যে এক জায়গায় থামলেন, বিনয়ের সাথে বললেন, পাঁচ মিনিট সময় নেবেন, দেশে টাকা পাঠাবেন।

বিস্ময়ের সাথেই লক্ষ্য করলাম তিনি গাড়িতেই বসে আছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক ভদ্রলোক আসলেন, উনার হাতে দু’হাজার ডলার আর একটি ফোন নম্বর দিয়ে আল্লাহ হাফেজ বললেন। কথা প্রসঙ্গে জানতে পারি, উনি দেশে কোন এক নিকটাত্মীয়ের কাছে টাকা পাঠিয়েছেন।

জানা শোনা প্রায় সবাই নাকি এভাবেই টাকা পাঠান! বুঝতে বাকি থাকে না হুন্ডি নামক মানি লন্ডারিংয়ের ব্যবসা টি সেখানে বেশ ভালোভাবেই শেকর গেঁড়েছে।

যদিও ক্যালগেরি শহরে এমন খোলামেলা দৃশ্য কখনো চোখে পড়েনি, তবে আজকাল প্রচুর রেমিট্যান্স প্রেরক ফোন করে টাকা পাঠাতে চান। প্রক্রিয়ার কথা জানালেই, উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, আমি অমুখ (!!) ভাইয়ের রেফারেন্সে ফোন করেছি, তমুকের (!!) কাছে এই নম্বরে টাকাটা পৌঁছে দেবেন, আমি কাল সকালে নগদ নিয়ে আসবো।

আপনি তা না করে আমাকে হাইকোর্ট দেখান!” পাঠক আপনারাও বিস্মিত হবেন, এই রেফারেন্সের তালিকায় ধর্ম কর্ম করা সজ্জন মানুষ যেমন আছেন, এমন মানুষও আছেন, যারা পেশাজীবী ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে বক্তৃতা বিবৃতি করে বেড়ান, নিজেদের আওয়ামী সরকারের উন্নয়নের ফেরিওয়ালা হিসেবে দেশপ্রেমিক বলেও দাবী করেন।

কাজেই কানাডা থেকে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের চিত্রটি মোটেও সচেতনতা বোধের অভাব নয়, এর পেছনে যুক্তিনির্ভর কোনো অর্থনৈতিক কারণও নেই, এটি সামজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার অভাবহেতু নিজস্ব স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন, নিজেদের নৈতিক মূল্যবোধের পরিবর্তন ছাড়া এমন অশুভ চিত্র বদলে দেয়া কঠিন!

ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণ, কী করবেন?

ডায়াবেটিসকে সর্বগ্রাসী রোগ বলা হয়ে থাকে। যার ডায়াবেটিস নেই, উচ্চরক্তচাপ নেই তার আসলে কোনো রোগই নেই। মানুষের জীবনপদ্ধতির বদল, কায়িক শ্রমে অনীহা, স্থূলতা, এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী।

ডায়াবেটিস রোগীদের রুটিনমাফিক জীবন যাপন করতে হয়। নিয়মিত হাঁটাহাটি করতে হয়, ব্যায়াম করতে হয়। নিয়ন্ত্রিত খাবার খেতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খাজা নাজিম উদ্দীন।

বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক তৃতীয়াংশ আছে বহুমূত্র রোগের/জটিলতার ঝুঁকিতে। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতিতে নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা ৪০ লাখ; প্রতি বছর বাড়ছে ১৫%। বারডেমে নিবন্ধিত আছে পাঁচ হাজার ডায়াবেটিক শিশু। প্রতি বছর নতুন নিবন্ধিত হচ্ছে ২০০ শিশু। আমাদের দেশে সরকারি হাসপাতালে বেড আছে ৫০ হাজার; এর মধ্যে ৮৭টি ডায়াবেটিস রোগীর জন্য।

১০-১৪% অন্তঃসত্ত্বা নারী ডায়াবেটিসে ভোগেন। গর্ভধারণের ২৪-২৬ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করে এটা নিশ্চিত করা উচিত। বাচ্চা হওয়ার পর অনেকেরই সুগার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

ডায়াবেটিস : নাস্তার আগে রক্তে গ্লুকোজ ৭ মিমোল/লি (১২৬ মি. গ্রাম) বা তার বেশি হলে সেটি ডায়াবেটিস।

খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজ ১১.১ মিমোল/লি (২০০ মিগ্রাম) সেটি ডায়াবেটিস।

প্রেগনেন্সি ডায়াবেটিস (জিডিএম) : নাস্তার আগে ৫.১ মিমোল/ (৯২ মিগ্রাম)লি, খাওয়ার পর ৭ মিমোল/১২৬ মিগ্রাম/লিয়ের বেশি। 80% pregnancy diabetic ২০ বছরে ডায়াবেটিস হয়। প্রেগনেন্সি ডায়াবেটিস আসলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস। তাই সব প্রেগনেন্সি ডায়াবেটিকের উচিত follwo up এ থাকা। স্বাভাবিক হয়ে গেলেও তাই বাচ্চা হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর গ্লুকোজ খেয়ে টেস্ট করা উচিত, দরকার হলে পরবর্তীকালেও।

স্বাভাবিক : নাস্তার আগে রক্তে গ্লুকোজ ৫.৬ মিমোল/লি (১০০ মি. গ্রাম) পর্যন্ত।

স্বাভাবিক : খাওয়ার পরে গ্লুকোজ ৭.৮ মিমোল/লি (১৪০ মিগ্রাম)

প্রিডায়াবেটিস : খাওয়ার পর গ্লুকোজ ৭.৯ মিমোল/লি (১৪১ মিগ্রাম) থেকে ১৯৯ মিগ্রাম (১১.০ মিমোল)/লি

প্রিডায়াবেটিস : নাস্তার আগে গ্লুকোজ ৫.৭ মিমোল/লি (১০১ মিগ্রাম) থেকে ১২৫ মি. গ্রাম (৬.৯ মিমোল)/লি

প্রিডায়াবেটিসদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা স্বাভাবিক লোকের চেয়ে তিনগুণ। প্রিডায়াবেটিসদের জটিলতাগুলো ডায়াবেটিস রোগীর মতোই। এ১সি ৬.৫ এর বেশি।

ঠিকমতো টেস্ট করা থাকলে যে কোনো একটা রিপোর্টই (কাট পয়েন্ট) ডায়াগনোসিস নিশ্চিত করবে।

কেন প্রিডায়াবেটিস : ১. এদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা তিনগুণ, ২. এদের ম্যাক্রোভাস্কুলার জটিলতা অর্থাৎ মোটা রক্তনালি, হার্ট ও ব্রেনের অসুখ বেশি হয়, ৩. এই স্টেজে গ্লুকোজ কন্ট্রোলে রাখতে পারলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এ১সির সীমাবদ্ধতা

মেথড হতে হবে ন্যাশনাল গ্লাইকহিমোগ্লোবিন স্টান্ডার্ডাইজশন প্রোগ্রামে (এনজিএসপি)। এটার দায়িত্ব হল এ১সি পরীক্ষাটা ডিসিসিটি বা ইউকেপিডিএস স্টান্ডারডে করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত করা। পরীক্ষাটা সব জায়গা হয় না এবং ব্যয়বহুল।

এ১সি দিয়ে ডায়াগনোসিস নিশ্চিত করলে নাস্তার আগে ও ২ ঘণ্টা পরের রেজাল্ট দিয়ে ডায়াগনোসিস নিশ্চিত হওয়ার তুলনায় ১/৩ রোগী কম ডায়াগনোসিস হয়।

হিমোগ্লোবিন কম থাকলে (ব্লিডিং, প্রেগনেন্সি, হিমলাইসিস)। ইরিথ্রপয়টিন ব্যবহার করলে এ১সি ঠিক আসে না।

বাচ্চাদের বেলায় এখনও গ্রহণযোগ্য নয়।

এ১সির সুবিধা হল কোনো প্রস্তুতি ছাড়া করা যায়।

কী করবেন

* উপসর্গ নেই; কিন্তু রান্ডম সুগার ১১.১ মিমোল রিপিট করতে হবে ওইদিন বা পরদিন দেরিতে নয়।

* ফাস্টিং <৭ কিন্তু এ১সি >৬.৫ -ডায়াগনোসিস নিশ্চিত।

* যদি দ্বিধা থাকে রিপিট করলে এ১সি দিয়ে নিশ্চিত হওয়ার চান্স বেশি।

* রিপোর্ট স্বাভাবিক হলে তিন বছরের মধ্যে রিপিট করতে হবে।

* প্রিডায়াবেটিস হলে এক বছরের মধ্যে রিপিট করতে হবে।