বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপনে আজ বইমেলার সমাপ্তি

0
140

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ।

টুঙ্গিপাড়ার দামাল ছেলে খোকা থেকে জাতির মুক্তির কাণ্ডারি হয়ে ওঠা শেখ মুজিবুর রহমানের শুভ জন্মদিন নানাভাবে উদযাপনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হবে।

এদিকে জাতীয় বইমেলার শেষদিন আজ। তাই এদিন মেলায় নানাভাবে ধরা দেবেন বঙ্গবন্ধু। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আসা হাজার হাজার মানুষ জাতির পিতা ও তার অবদানকে স্মরণ করবেন আরও একবার। আজ মেলা শুরু হবে বিকাল ৩টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বিকাল ৩টায় অমর একুশের মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ। আলোচনায় অংশ নেবেন নজরুল ইসলাম, স্বদেশ রায় এবং মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। বিকাল ৪টায় ভাষাশহিদ মুক্তমঞ্চে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এবারের বইমেলার মূল স্লোগানসহ মূলমঞ্চের আলোচনা, সাংস্কৃতিক আয়োজনেও প্রাধান্য পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু। মেলার শেষ দিন বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে মূলমঞ্চের আলোচনা ও আয়োজন শেষে অতিথিরা সবাই আসবেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে বইমেলার সব প্রকাশকদের উদ্যোগে জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে ১০০ কেক কেটে জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন সব অতিথি, প্রকাশক, লেখকসহ সবাই। এরপর সবশেষে মেলায় থাকবে আতশবাজি। এ বিষয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রকাশকরা আগেই বলেছি জাতির পিতার জন্মদিনটি উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপনের মধ্য দিয়ে আমরা বইমেলাটি শেষ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা তিনি আমাদের সে সুযোগটি দিয়েছেন। আমরা জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে তার জন্মদিনে ১০০টি কেক কেটে এই আনন্দ মেলায় অগত সবার মধ্যে ভাগ করে নেব। এদিকে বুধবার বইমেলায় সন্ধ্যার পর প্রচুর পাঠকের সমাগম হয়। যারা এখনও তাদের প্রিয় লেখক বা প্রয়োজনীয় বইটি কেনেননি তারা এদিন বই কেনেন। এদিনও মেলায় লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মঞ্চের আয়োজন : বিকালে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহিদ জননী জাহানারা ইমাম : আমৃত্যু সংগ্রামী এক মহাপ্রাণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তপন পালিত। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাবিহা পারভীন, জয়দুল হোসেন এবং আহমেদ আহসানুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। সভাপতির বক্তব্যে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়কে জাহানারা ইমাম নিজের চেতনায় ধারণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন, তেমনি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সংগঠিত করার জন্য আজীবন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সর্বোপরি তিনি বাংলাদেশের বিজয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

এদিন ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মিনার মনসুর এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি ইউসুফ রেজা, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, মাহবুবা লাকী, বাপ্পী রহমান এবং লুৎফর চৌধুরী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং রূপা চক্রবর্তী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘দৃষ্টি’, মো. সুজাতুল আলমের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আদি গম্ভীরা দল’-এর পরিবেশনা। নৃত্য পরিবেশন করেন কবিরুল ইসলাম রতন। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আশরাফ মাহমুদ, অমিয় বাউল, মুন্নী কাদের, রত্না সরকার, সাধিকা সৃজনী তানিয়া, জান্নাত-ই-ফেরদৌসী, শাহীনা আক্তার পাপিয়া, শামীমা নাসরিন চমন।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ২০২২ ঘোষণা : ২০২১ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য আগামী প্রকাশনীকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার- ২০২২, ২০২১ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে আবুল হাসনাত সম্পাদিত বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ স্মারক প্রকাশের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশনস, জালাল ফিরোজ রচিত লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর একদিন গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্স এবং সৈয়দ আবুল মকসুদ রচিত নবাব সলিমুল্লাহ ও তার সময় গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২২ প্রদান করা হয়। ২০২১ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২২ প্রদান করা হয়। ২০২২ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসাবে নবান্ন প্রকাশনী, নিমফিয়া পাবলিকেশন এবং পাঠক সমাবেশকে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২২ প্রদান করা হয়। আজ অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারগুলো প্রদান করা হবে।

নতুন বই : বুধবার বইমেলায় নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ৭৭টি। এর মধ্যে সময় প্রকাশন থেকে মুনতাসীর মামুন রচিত ‘বঙ্গবন্ধু সমগ্র ২য় খণ্ড’, অন্যপ্রকাশ থেকে সৌগত চট্টোপাধ্যায়ের ‘কলকাতায় শেখ মুজিব’, একই প্রকাশনী থেকে আসাদুজ জামানের ‘রাহাতের দশ দিন’, বাংলানামা থেকে আসিফ মো. নজরুল রচিত ‘ক্ষমা করে দিও’। প্রত্যয় প্রকাশন প্রকাশ করেছে অমর মিত্রের উপন্যাস ‘ধ্রুবপুত্র (প্রথম খণ্ড)’, সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ঝর্ণাধারার সঙ্গীত’, ফারুক নওয়াজের কাব্যগ্রন্থ ‘হারিয়ে যাওয়া হয় না আমার’ ও আহসান হাবীরের উপন্যাস ‘এক এবং একা’, কথাপ্রকাশ প্রকাশ করেছে মুস্তাফিজ শফির উপন্যাস ‘স্পর্শ’, মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশ করেছে মুনতাসীর মামুনের ইতিহাস বিষয়ক বই ‘ইতিহাস হত্যা এবং পাঠক্রম ও পাঠ্যবই (১৯৪৯-২০২০)’, জার্নিম্যান বুক্স প্রকাশ করেছে তারিক সুজাতের বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : কমেট বিমান ও ব্রিটিশ গোপন দলিল’, পাঠক সমাবেশ প্রকাশ করেছে মুহম্মদ নূরুল হুদার গীতিকবিতা ‘সীতা সংহিতা’, ছোটদের বই প্রকাশ করেছে হাসান হাফিজের জীবনী ‘বিশ্বসেরা ১২ বিজ্ঞানী’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here