শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 395

বিমানের সাফল্য চাই!

সমাগত ২৬ মার্চ, আমার জন্মভূমির মহান স্বাধীনতা দিবস। ২০২১ সালের সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে ৫১তম স্বাধীনতা দিবস কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে এক ভিন্নমাত্রার আবেগ নিয়ে হাজির হবে। এ আবেগ গৌরবের, এ আবেগ ভালোবাসার, এ আবেগ প্রতিকূলতাকে জয় করে সৃষ্টিশীলতা আর এগিয়ে যাবার জয়োল্লাস।

এ দিন ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে, কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর পিয়ারসন্স ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে বলাকা খচিত, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করবে। এ শুভক্ষণের পেছনে সাধারণের অজানা অনেক ইতিহাস যেমন আছে, নানা প্রতিকূলতা আর চ্যালেঞ্জের চড়াই-উতরাইও নিশ্চয়ই ছিল। সবকিছুকে অতিক্রম করেই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ দিক নির্দেশনায় আর বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের একঝাঁক দেশপ্রেমিক মানুষের নিরলস প্রচেষ্টায় কানাডার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বিমান নিয়ে নানা গল্প চালু আছে, যুগ যুগান্তরের এই লোকসানি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নানা শিহরণ জাগানিয়া কাহিনীও আছে। প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে বঙ্গবন্ধু কন্যার অনেক প্রচেষ্টাও লক্ষ্যনীয় ছিল। তাইতো সততা আর দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক ডাকসাইটে রাজনীতিককে মন্ত্রণালয়টির দায়িত্ব দিয়ে বারংবার কলংক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় নেতা, তারকা খচিত ত্যাগী রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেননের মতো মানুষ প্রাণপণে চেষ্টা করেও বিমর্ষ চেহারায় বিমান থেকে বিদায় নিয়েছেন। এহেন পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের কেবিনেট ঘোষণার পর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বন্টনের আগে অপেক্ষাকৃত সফল ও সৎ মন্ত্রীরা নাকি বিমানের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে শংকায় থাকতেন, ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে যদি রাজনৈতিক জীবনকে কলংকিত করতে হয়, সেই আশংকায় উদ্বিগ্ন হতেন!!

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের কেবিনেটে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। দায়িত্ব প্রাপ্তির আগে প্রতিমন্ত্রীর পরিচিত, শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভেবেছিলেন আইন অঙ্গনের অভিজ্ঞ মানুষ হিসেবে তিনি হয়তো সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার কাছাকাছি কোন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের দায়িত্ব পাবেন। প্রতিমন্ত্রী নিজেও এমনটিই প্রত্যাশা করেছিলেন। আর বিমান! সেটিতো ছিল কল্পনাতীত।

সবাইকে চমকে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তুলে দেন মাহবুব আলীর হাতে। আরও বিস্ময়কর হলো, মন্ত্রীবিহীন দুটো মন্ত্রণালয় তাকে একা সামলাতে হবে। এহেন পরিস্থিতিতে সেদিন চিন্তার ভাঁজ পড়েছিলো প্রতিমন্ত্রীর কপালে, আর বিমান নিয়ে শংকা সেদিন উনাকে কতটা উদ্বিগ্ন করেছিল, সে সময়কার নানা আলাপচারিতার আমিও সাক্ষী। তবে প্রতিশ্রুতিশীল দৃঢ়তা ছিলো, সফলতার বাসনা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর আস্থা-বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষায় চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষাও তার ছিল।

প্রতিমন্ত্রীর সফলতা ব্যর্থতার গল্প বলা আজ আমার উদ্দেশ্য নয়, এর বিচার করবেন দেশের আপামর জনতা। তবুও বলতে চাই দায়িত্ব নেয়ার পর নানামুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি দূর্নীতির সিন্ডিকেটে আতংক সৃষ্টি করতে পেরেছেন, বহুমুখী দায়-দেনার পরও প্রথম বারের মতো বিমানকে লাভের মুখ দেখিয়েছেন।

এ অর্জনই বা কম কিসে!! কক্সবাজার বিমানবন্দরকে নিয়ে এগিয়ে চলছে মহাপরিকল্পনা, ঢাকা, সিলেটে চলছে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন মহাযজ্ঞ, সৈয়দপুর, বরিশাল সহ আঞ্চলিক এয়ারপোর্টগুলোও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বাইরে নেই। এরই মাঝে ২৬শে মার্চ ২০২২ চালু হচ্ছে ঢাকা-টরন্টো সরাসরি বিমান ফ্লাইট। এ নিয়ে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে আনন্দ উত্তেজনা যেমন আছে, কারও কারও মাঝে সফলতার ক্রেডিট নেওয়ার বাসনাও লক্ষ্যনীয়। তবে বিশ্বাস করি, হাতে গুণা কিছু মানুষ ছাড়া সবাই বিমানের সাফল্য চায়, যাত্রী চাহিদায় বিমান পছন্দের শীর্ষে থাকুক, সেটিই সবাই প্রত্যাশা করে।

ব্যর্থতা সফলতার পথ দেখায়। এক সময়ের ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট কেন বন্ধ হলো, এ নিয়ে নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেছেন, প্রাপ্ত তথ্যের বিচার বিশ্লেষণ করেছেন। তবে সাধারণের পক্ষ থেকে বলতে পারি নিরাপত্তার পাশাপাশি যাত্রী সেবার মান, প্রতিযোগীতা মূলক টিকেটের দাম বাজার সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিরাই যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাহক হবেন, তাতে তো সন্দেহের অবকাশ নেই।

বত্রিশ থেকে চল্লিশ ঘন্টার দীর্ঘ যাত্রার অবর্ননীয় কষ্টকর ভ্রমণের পথ পরিহার করে বিমান-ই তাদের প্রাথমিক পছন্দ হবে তাতে বোধ করি কারো কোন দ্বি-মত নেই। তবুও শংকা আছে, বাজারের প্রতিযোগীতায় টিকতে হলে অযাচিত ব্যয় কমিয়ে চাহিদার সাথে সংগতি রেখে টিকেটের মূল্য সমন্বয় করতে হবে, যাত্রী সেবার মানে ছাড় দেয়ার ন্যুনতম সুযোগ যেমন নেই, গ্রাহক আকৃষ্ট করতে একটি আকর্ষণীয় ভাবমূর্তি তৈরিরও কোন বিকল্প নেই। আর এমনটি হলে, কিছুটা বাড়তি খরচ করেও তুলনামূলক স্বল্পতম সময়ে দেশে পৌঁছার বাসনা নিয়ে, বাংলাদেশিরা বিমানকেই বেছে নেবেন- এটিই তো প্রত্যাশিত।

নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা আর জীবন-জীবিকার মৌলিক অধিকার নিয়ে স্বস্তি থাকলেও অবারিত অর্থ বিত্তের দেশ কানাডা নয়। কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তম অংশ কোন ভাবেই প্রতি বছর দেশে যাওয়ার চিন্তা করতে পারেন না। একবার দেশে যেতে প্রতি পরিবারের গড়পড়তা দশ হাজার ডলার খরচ হলেও, সেই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ে হাজার হাজার পরিবারের কয়েক বছর লেগে যায়। এমন অনেক পরিবার কে জানি, যারা এক দশকেও দেশে যেতে পারেনি। অতি সাম্প্রতিক কালে নো-ভিসার নতুন নিয়মে সশরীরে হাইকমিশনে হাজির হয়ে পাসপোর্টের বাধ্যবাধকতায় তাদের মাথায় বাজ ভেঙে পড়েছিল।

অনেক বড় দেশ কানাডা, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বা এমন দূরবর্তী যে কোন প্রদেশ থেকে অটোয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে চারজনের একটি পরিবারের পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়া মিলিয়ে দশ হাজার ডলারের প্রয়োজন। তাই একবার অটোয়া গিয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কানাডিয়ান পাসপোর্টে নো-ভিসা নিয়ে দেশে যাওয়া অধিকাংশ বাংলাদেশির পক্ষেই সাধ্যেরও অতীত ছিল।

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিকদের পাসপোর্টের বাধ্যবাধকতার জটিলতায় অনেকেই ইতোমধ্যে আগামী গরম কালের ছুটিতে দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। বিধাতা সহায়, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিনে নো-ভিসার জটিলতা অবসানে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের ঘোষণায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সাময়িক আনন্দ বন্যা হলেও এর পরিপূর্ণ সুফল পেতে বিমানকে আগামী বছরের স্কুল, কলেজের ছুটি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

“বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশিদের বিমান”- এ ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে সাফল্যের প্রতিযোগীতায় বিমান অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এর জন্য চাই, প্রবাসী কানাডীয়ান বাংলাদেশিদের সাথে বিমানের আত্মিক বন্ধন। ডিজিটালাইজেশনের যুগে এ বন্ধন সৃষ্টির কাজটি মোটেও কঠিন কিছু নয়। কানাডার প্রতিটি শহরেই বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন আছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন, বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন ও বাংলাদেশি গণমাধ্যম সমুহকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই আত্নিক বন্ধন সৃষ্টির কাজটি করা যায়। দশ মিনিট সময় ব্যয় করে, একশটি ইমেইল প্রেরণ করা যায়। আসছে ২৬ মার্চের শুভদিনে বাংলাদেশি গণমাধ্যমসহ এসব কমিউনিটি সংগঠনকে সংশ্লিষ্ট করে একটি আনুষ্ঠানিক দাওয়াত পত্রের মাধ্যমে এর শুভ সুচনা প্রত্যাশিত হলেও, এখনো এমন কোন বার্তা কারো নজরে এসেছে বলে জানা নেই।

সেবার পাশাপাশি বিমান একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। একজন গ্রোসারী শপের মালিকের যেমন ধর্ম, বর্ণ, ধনী, গরিব, রাজনৈতিক বিশ্বাস দেখে ব্যবসা করার সুযোগ নেই, তেমনি বিমানকেও তার সাফল্যের জন্য সর্বজনীন হওয়া চাই। ২৬ মার্চের ঐতিহাসিক উদ্বোধনী দিনকে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য সর্বজনীন করার কোন উদ্যোগ কেন এখনো কমিউনিটির নজরে আসেনি তা বোধগম্য নয়। বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়কে দীর্ঘদিন যাবত যেভাবে জানি, তাতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভিন্ন বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠনকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গী করার একটি প্রস্তাবনা উত্থাপিত হলে নিঃসন্দেহে তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করতেন। সেটি কেন হলো না, তা কোনোভাবেই আমার বোধগম্য নয়।

কানাডিয়ান বাংলাদেশিরা বিমানের সাফল্য চায়, বিমানকে গর্বের সঙ্গে লালন করতে চায় কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। কমিউনিটির সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক সমন্বয় বিমানের ইমেজ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এটিকে এড়িয়ে যাওয়ার যে কোন প্রচেষ্টা আমাদের জাতীয় স্বার্থকেই বিঘ্নিত করবে, এমনকি বিমান নিয়ে সাধারণ মানুষের তুমুল আগ্রহ উদ্দীপনায় সেটি চ্যালেঞ্জ হয়েও উঠতে পারে। সরকার বা বাংলাদেশ বিমানের পক্ষে যে বা যারাই কানাডায় দায়িত্ব পালন করছেন, বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাবনা কে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা জাতীয় দায়িত্বেরই অংশ হবে।

বিমান সফল হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। শুধুমাত্র মন্ত্রী সচিবের সাফল্য নয়; বাংলাদেশের অর্জন কে আরও গৌরবান্বিত করতে বিমানের সাফল্যের কোনো বিকল্প নেই।

দশ বছরে যক্ষ্মায় মৃত্যু অর্ধেকে নেমেছে

দেশে গত এক দশকে টিউবার কোলোসিস (টিবি) তথা যক্ষ্মা রোগে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ সময় প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। ২০১০ সালে দেশে যক্ষ্মায় আনুমানিক মৃত্যু ছিল প্রতি লাখে ৫৪ জন, যা ২০২০ সালে এসে তা কমে প্রতিলাখে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ১০ বছরে রোগটিতে মৃত্যু অর্ধেকে নেমেছে। চিকিৎসা কলেবর বাড়ায় সুস্থতার হার গত ১০ বছর ধরে ৯৫ শতাংশের বেশি আছে। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে রোগটি সম্পর্কে আরও বেশি জনসচেতনতা বাড়াতে সারা বিশ্বের মতো আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস-২০২২। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ইনভেস্ট টু অ্যান্ড টিবি, সেভস লাইফ অর্থাৎ বিনিয়োগ করি যক্ষ্মা নির্মূলে, জীবন বাঁচাই সবাই মিলে।’

দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চেষ্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সভা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আজ আইসিডিআরবির তত্ত্বাবধানে স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদ ভবনে যক্ষ্মা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সিভিল সার্জনদের উদ্যোগে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক র‌্যালি, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলছেন, যক্ষ্মা বাংলাদেশের জন্য একটি অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের যে ৩০টি দেশে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা সবেচেয়ে বেশি তারমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সরকারের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দেওয়া তথ্য বলছে ২০২১ সালে যক্ষ্মার উপসর্গ আছে এমন প্রায় ২৮ লাখের বেশি মানুষের পরীক্ষা করা হয়েছে। এ সময় ৩ লাখ ৭ হাজার ৪৪৪ জন নতুন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ হিসাবে দৈনিক ৮৪২ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১ হাজার ৪৮১ জন, চট্টগ্রামে ৬০ হাজার ০২২ জন, ঢাকায় ৮০ হাজার ১৩৭ জন, খুলনায় ৩৯ হাজার ৭৯৬ জন, ময়মনসিংহে ১৯ হাজার ৪৭ জন, রাজশাহীতে ২৯ হাজার ৩৩৫ জন, রংপুরে ৩১ হাজার ৭০৮ জন ও সিলেটে ২৫ হাজার ৯১৮ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে যক্ষ্মা থেকে সুস্থতার হার ৯৫ দশমিক ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন রোগটিতে ১০৭ জনের মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পরিসংখ্যান বলছে, এ সংখ্যা আরও বেশি। দিনে ১৮৫ জন মারা যাচ্ছেন। সংস্থাটির ২০১৯ সালের এক জরিপ বলছে দেশে যক্ষ্মায় প্রতি বছর সাড়ে ৬৭ হাজার মানুষ মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যক্ষ্মা বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হওয়ায় প্রতিদিন ৪ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ রোগটিতে প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রতিদিন প্রায় ২৮ হাজার মানুষ এই প্রতিরোধযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মা প্রতিরোধের চেষ্টায় ২০০০ সাল থেকে আনুমানিক ৬ কোটি ৬ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। তবে করোনা মহামারি যক্ষ্মা শেষ করার লড়াইয়ের কয়েক বছরের অগ্রগতিকে পিছিয়ে দিয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২০ সালে যক্ষ্মায় মৃত্যু বেড়েছে। ২০২০ সালে সারা বিশ্বে ৯৯ লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ১৫ লাখ রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন।

জানতে চাইলে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ইভালুয়েশন ও মনিটরিং ব্যবস্থাপক ডা. আহমেদুল হাসান সুমন যুগান্তরকে বলেন, যক্ষ্মা নির্ণয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জিন এক্সপার্ট মেশিন, এলইডি মাইক্রোস্কোপি, লিকুইড কালচার, এলপিএ, ডিজিটাল এক্সরে সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সারা দেশে ৪৯০টি জিন এক্সপার্ট মেশিন (করোনাকালীন সময়ে ২৩০টি স্থাপন করা হয়েছে) রয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ১১৯টি মাইক্রোস্কোপ ও ১৭৮টি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এসব পদ্ধতিতে ড্রাগ সেনসিটিভ ও ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট উভয় ধরনের যক্ষ্মার প্রায় ৮৩ শতাংশ রোগী শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও একটি ন্যাশনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরি ও পাঁচটি রিজিওনাল রেফারেন্স ল্যাবরেটরির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগ শনাক্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৪৪টি সরকারি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, ৭টি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতল, সদর হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আন্তবিভাগ, বহির্বিভাগ এবং এনজিও ক্লিনিকে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগ নির্ণয় পরবর্তী প্রতিটি রোগীকে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ সেবন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি রোগীর সঙ্গে একজন ডটস্ প্রভাইডার নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে রোগী শনাক্তকরণের সঙ্গে সঙ্গে এ রোগে মৃত্যুহার কমে এসেছে। ২০০৫ সাল থেকে সুস্থতার হার ৯৫ শতাংশের বেশি এবং বর্তমানে ৯৫ দশমকি ২৮ শতাংশ, যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। সাফল্যের কারণে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার (এমডিআর) হারও কমে এসেছে।

বাংলাদেশে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার চিকিৎসায় সাম্প্রতিক আবিষ্কৃত নতুন ওষুধ বেডাকুইলিন ও ডেলামানিড ব্যবহার করা হচ্ছে। ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার চিকিৎসায় (ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর লক্ষ্যে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশক্রমে ইনজেকশনের পরিবর্তে মুুখে ওষুধ খাওয়ানোর নতুন গাইডলাইন বাস্তবায়ন করছে। ২০২১ সালে ২৫ হাজার শিশু ও ১২ হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে যক্ষ্মা প্রতিরোধী থেরাপি দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে যক্ষ্মা চিকিৎসার প্রথম সারির ওষুধ বা ফার্স্ট লাইন ড্রাগ সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ক্রয় করছে। বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূল করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সুপারেন্টেন্ড অফিসার, ডা. আবদুল্লাহ মেহেদি জানান, বাংলাদেশ যক্ষ্মা রোগে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশের একটি। বিশ্বের মোট রোগীর প্রায় ৩ দশমিক ৬ ভাগ বাংলাদেশে। জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, একজন যক্ষ্মা রোগী থেকে কমপক্ষে ছয়জনে রোগটি ছড়াতে পারে। তাই কোথাও একজন রোগী পাওয়া গেলে তার সম্পৃক্ত কমপক্ষে ছয়জনকেই পরীক্ষা করাতে হবে।

শিশুদেরও কি ডায়াবেটিস হয়?

ডায়াবেটিস সর্বগ্রাসী রোগ। এ রোগ একবার কারো হলে শরীরে নানা জটিলতা বাড়তে থাকে। মধ্যবয়সে সাধারণত ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। তবে বর্তমানে তরুণ বয়সেও অনেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। শিশুদেরও ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি আছে কিনা এমন প্রশ্ন জনে জনে।

মূলত মানসিক দুশ্চিন্তা, ওজন বেড়ে যাওয়া, কায়িক শ্রমের ঘাটতি, বংশীয় কারণ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবন পদ্ধতির পরিবর্তন এসব কারণে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস ধরা পড়ার আগেই সতর্ক থাকতে হয়।

শিশুদের ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সোসাইটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন।

শিশুদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। বেশিরভাগ শিশু শৈশবে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আগে চিকিৎসকরা জানতেন যে বাচ্চারা কেবল টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয় এবং একে দীর্ঘকাল ধরে কিশোর ডায়াবেটিস (Juvenile Diabetes) নামে নামকরণ করা হতো। শিশুদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের একক প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত ওজন। যখন কোনো শিশুর ওজন খুব বেশি বেড়ে যায়, তখন তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা দ্বিগুণ হয়।

শিশুদের টাইপ-১ ডায়াবেটিস অবস্থায় শরীরে ইনসুলিন উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেয়। এক্ষেত্রে বেঁচে থাকার জন্য ইনসুলিনের দরকার পড়ে। ইনসুলিনের ঘাটতি বা অভাবকে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন বা পাম্পের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে কারণ ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো ধ্বংসের কারণে এমনটি হয়। কেন এমনটি ঘটে তা সঠিকভাবে কেউ জানেন না, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন এটা জিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। টাইপ-১ ডায়াবেটিস সম্ভবত ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেও হয়ে থাকে। অন্যদিকে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে, অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরিতে কোনো ব্যাঘাত হয় না। তবে শরীর এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয় না বা প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হয়। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স্ (Insulin Resistance)-এর কারণে এ সমস্যা দেখা দেয় যখন গ্লুকোজ কোষগুলোতে প্রবেশ করতে পারে না এবং শক্তি সরবরাহ করার সক্ষমতা কমে যায়। এ কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে পর্যায়ক্রমে অগ্ন্যাশয় আরও বেশি বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে সচেষ্ট হয়। অবশেষে, এক সময় অগ্ন্যাশয় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন করতে ধীরে ধীরে অক্ষম হয়ে পরে।

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য বাচ্চাদের ঝুঁকির তিনটি কারণ-

* পরিবারের একজন সদস্যের টাইপ ২ ডায়াবেটিস থাকলে।

* মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসসহ (গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস) জন্ম নেওয়া শিশুদের।

* যদি সন্তানের ওজন বেশি হয় এবং ওপরের দুটি ঝুঁকির কারণ থাকে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ : রক্তে উচ্চমাত্রার শর্করার জন্য ঘনঘন প্রস্রাব হয় এবং খুব তৃষ্ণার্ত থাকে বিধায় প্রচুর পানি পান করতে হয়। ক্লান্তি বা অবসাদ বোধ থাকে। কারণ শরীর শক্তির জন্য গ্লুকোজ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু এবং কিশোরদের ক্ষুধা বাড়তে পারে তবে ক্ষুধার্ত কোষগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করার প্রয়াসে শরীর পেশি ভেঙে ফ্যাট সংরক্ষণ করে যার জন্য ওজন হ্রাস পায়।

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা : শিশুর টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে কিনা তা নির্ণয় করা আবশ্যক। কারণ ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসা টাইপের ভিত্তিতে পৃথক হয়। মেটফরমিন নামে একটি ওষুধ গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। এটি এবং ইনসুলিন হলো ১৮ বছরের চেয়ে কম বয়সি শিশুদের জন্য রক্তে শর্করার হ্রাসকারী দুটি ওষুধ মাত্র।

চিকিৎসা অর্থাৎ লক্ষণগুলো হ্রাস করার জন্য ভালো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ এবং শিশু যাতে স্বাভাবিকভাবে তার শারীরিক, মানসিক, সংবেদনশীলতা বজায় রেখে সামাজিক বৃদ্ধি এবং বিকাশে সম্ভব হয়। আর এর জন্য, বাবা-মাকে লক্ষ রাখতে হবে শিশুর রক্তের শর্করার মাত্রা যতটা সম্ভব লক্ষ্য সীমার মধ্যে রাখা।

ডায়াবেটিসের কোনো নিরাময় নেই, ডায়াবেটিসের জন্য আজীবন চিকিৎসা প্রয়োজন। টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু-কিশোররা তাদের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিদিন ইনসুলিন ইনজেকশন বা ইনসুলিন পাম্পের ওপর নির্ভর করে। শিশুদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে লক্ষণ ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে এবং প্রথম দিকে কোনো লক্ষণই থাকে না। কখনো নিয়মিত চেক-আপের সময় এই ব্যাধিটি শনাক্ত করা হয়।

ডায়াবেটিস থেকে জটিলতা

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভবিষ্যতে হৃদরোগ, অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে এবং কিডনি অকার্যকর হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। এছাড়া ডায়াবেটিসে পরবর্তী জীবনে সরু রক্তনালি, উচ্চরক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। স্নায়ু বা নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিরোধ

তরুণদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সমস্যা বাড়ছে। বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে এ ভয়াবহ অবস্থার প্রতিরোধ সম্ভব। স্থূলতা বা যাদের ওজন বেশি-বিশেষ করে যদি তাদের পেটের চর্বি বেশি থাকে-তাদের ইনসুলিন অকার্যকর বা প্রতিরোধ (Insulin Resistance) হওয়ার আশংকা বেশি থাকে, তাই টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য ইনসুলিন প্রতিরোধ একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না, যদিও কিছু বাচ্চার ত্বকে ঘন, গাঢ়, কাল মখমল প্যাঁচ তৈরি হয় যাকে অ্যাক্যানথোসিস নিগ্রিকানস (Acanthosis Nigracans) বলা হয়, সাধারণত ঘাড়ের পেছনে বা বগলের মতো শরীরের ক্রিজ এবং ভাঁজগুলোতে।

বাকৃবিতে অরক্ষিত রেলগেট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন। ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ে অবস্থিত রেলপথের লেভেল ক্রসিং গেটটি প্রায় দুই বছর ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিনটি জায়গায় চলাচলের রাস্তা থাকলেও সেখানে কোনো লেভেল ক্রসিং না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। কিছু দিন পর পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটছে ট্রেন দুর্ঘটনা; যা বর্তমানে খুবই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা শঙ্কায় রয়েছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র জব্বারের মোড়ে থাকা লেভেল ক্রসিংয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার জন্যে থাকা এক সেট যন্ত্রের একটি অংশ কাজ করলেও অপর অংশ নষ্ট। ট্রেন আসার মুহূর্তে দেখা যায় গেটম্যান একপাশে যন্ত্রের মাধ্যমে রাস্তা বন্ধ করলেও অপর পাশ অরক্ষিত থাকে। মাঝে মাঝে অপর পাশে পতাকা নিয়ে গেটম্যানকে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি আটকাতে দেখা যায়। এরপরও কেউ কেউ বাধার তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি নিয়েই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নষ্ট হওয়া যন্ত্রের সুযোগ নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন থেকে যন্ত্রটি এক বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সকলেই রয়েছে ঝুঁকিতে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টেশন থাকা সত্বেও তিন যুগের বেশি সময় ধরে সেখানে কোনো ট্রেন থামে না। এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ করা হলেও বরাবরের মতো আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চাকরিপ্রার্থী প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে নিয়মিত ঢাকায় যাওয়া আসা করতে হয়। এতে প্রতিনিয়ত বাড়তি ভাড়া দেওয়া, সময়মতো ট্রেনে উঠতে না পারাসহ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন চালু করা হোক- এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবনই অনেক মূল্যবান। কিছু মানুষের কাজের অবহেলায় সে জীবন নষ্ট হোক সেটা কারো কাম্য না। জব্বারের মোড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র। এমন জায়গায় লেভেল ক্রসিং দীর্ঘ সময় ধরে বিকল থাকা মেনে নেওয়ার মতো না। শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নিরাপত্তায় অবিলম্বে রেলগেট মেরামত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন অতিদ্রুত চালু করাও এখন সময়ের দাবি।
অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন বলেন, আমি প্রায় ৪ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রিকশা চালাই। এখন একপাশে একটি রেলগেট নষ্ট হওয়ায় অনেকেই রেল ক্রসিং পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে গিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, ট্রেন চলে আসছে কিন্তু পোল নামানো হয়নি, তাড়াহুড়া করে পোল নামানো হয়। এতে আমাদের ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। এদিকে ট্রেন ক্যাম্পাসের মধ্যে দিয়ে আসার সময়ও বোঝা যায় না পর্যাপ্ত হর্নের অভাবে।

কেওয়াটখালীতে লোকোশেডে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী কবির হোসেন রানা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। লেভেল ক্রসিং গেট প্রতিস্থাপনের জন্য টেন্ডার এখনো হয়নি। যার জন্য আমরা এটি মেরামত করতে পারিনি। তবে ওপর মহলে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। আর আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাঁশের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী ক্রসিং গেট স্থাপনের ব্যবস্থা করব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ইবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ, আহত ২০

বাস সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা।

আহতদের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের তানভীর আহম্মেদ (১৭-১৮সেশন), রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্য (আইন ১৮-১৯) ও স্থানীয় দোকানি সুরুজ আলী গুরুতর আহত হয়েছেন।

জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলার গাড়াগঞ্জ এলাকা থেকে বাসে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। বাসে জিনিসপত্র রাখা নিয়ে বাসের কন্টাক্টরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বাসটি শেখপাড়া পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা হেলপারের ওপর চড়াও হয়। পরে ওই হেলপার পাশের এক দোকানে ঢুকে যান। এসময় হেলপারকে দোকান থেকে বের করতে গেলে দোকানদারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় শিক্ষার্থীদের।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে স্থানীয়রা হকিস্টিক, লাঠি, চাপাতি নিয়ে অতর্কিতভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। এসময় পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়াসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন এবং সহযোগী অধ্যাপক সাহবুব আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছি। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।

‘অন্যরকম’ ম্যাগাজিনে ইলিয়াস কাঞ্চন

স্বাধীনতা দিবসের ‘অন্যরকম’ ম্যাগাজিনে হযরত ওমর চরিত্রে অংশ নিলেন নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে প্রতীকী চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

এইচএম বরকতুল্লাহর পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় বৈশাখী টিভির বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘অন্যরকম’। নিয়মিতভাবে প্রচারিত হয়ে আসছে প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার।

এ পর্ব প্রচার হবে ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৮টায়। বিভিন্ন শিল্পী, নাট্যকার ও কলাকুশলীদের অংশগ্রহণে নির্মিত এ অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে সমাজ সচেতনতামূলক নাট্যাংশ, অন্যরকম চাঁদাবাজ, অন্যরকম মামা-ভাগ্নে, শালা-দুলাভাই। শয়তানের ভূমিকায় যথারীতি থাকছেন আবদুল আজীজ। তার অন্যরকম অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধতা ছড়াবে। সমাজ সচেতনতামূলক বিভিন্ন স্কিডে অংশ নেবেন অভিনেতা শফিক খান দিলু, , জিল্লুর, হান্নান শেলী, আশরাফ কবির, লিটন খন্দকার, দিপু, আকাশসহ অনেকেই। বিশেষ একটি পর্বে অংশ নেবেন বাংলার বিনখ্যাত রাশেদ শিকদার ।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও পরিচালনাক এইচএম বরকতুল্লাহ বলেন, ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় সত্য সুন্দরের কথাই বিনোদনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এ ম্যাগাজিনে। আমরা জানি, একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা কেন্দ্র তার পরিবার। আমাদের পরিবারগুলোতে এখন নৈতিক শিক্ষার অভাবে অনেক সন্তান বড় হয়ে সমাজের অন্ধকার জগতে চলে যাচ্ছে এবং নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পারিবারিক শিক্ষার কারণেই একজন সন্তান যেমন আলোকিত মানুষ হতে পারে আবার সেই সন্তান হতে পারে অসৎ এবং বিপথগামী। এসব সচেতনতাই তুলে ধরা হয়েছে অন্যরকম ম্যাগাজিনে।

Sha

২৫ মার্চের ভয়াবহতা নিয়ে নাটক ‘ভয়াল রাত’

২৫ মার্চ রাত ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে বিশেষ নাটক ‘ভয়াল রাত’। ফজলুল করিমের রচনায় এটি প্রযোজনা করেছেন নূর আনোয়ার রঞ্জু। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- আল মামুন, আরজুমান্দ আরা বকুল, রামিজ রাজু, তানিন তানহা, জামিল হোসেন, আশরাফুল আশীষসহ অনেকে।

নাটকের গল্প প্রসঙ্গে প্রযোজক জানান, মাহমুদ ভার্সিটির প্রফেসর এবং প্রবন্ধ লেখক। তার একমাত্র মেয়ে লুবনা, স্ত্রী নাজমা ও বিশ্বস্ত জ্ঞাতি কাশেমকে নিয়ে তার সংসার। ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে। ঢাকার প্রত্যেক বাসা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অবরুদ্ধ অবস্থায় মাহমুদের বাসায় ঘটে যায় নানান ঘটনা।

লুবনার খালাতো ভাই আবীর। তারা একে অপরকে ভালোবাসে। ২৫ মার্চ আবীরের বাবা তাকে রেখে শহর ছেড়ে চলে যায়। কারণ আবীর ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। এক পর্যায়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে আবীর লুবনাদের বাড়িতে আসে। লুবনার বাবা-মা লুবনাকে আবীরের সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়। আবীর মুক্তিযুদ্ধে যেতে চায়।

সেই রাতের ভয়াবহ, দুর্বিষহ ঘটনাগুলো ওই পরিবারের বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়। পাকিস্তানিরা মাহমুদকে তাদের পক্ষে কাজ করতে বলে। মাহমুদ রাজি না হলে মেজরের নির্দেশে সিপাহীরা মাহমুদ, নাজমা ও কাশেমকে জঘন্যভাবে হত্যা করে। এভাবে এগিয়ে যায় নাটকের গল্প।

অস্ট্রেলিয়াকে ১৩৬ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

নারী বিশ্বকাপে ওয়েলিংটনে আজ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের মেয়েরা।

প্রথমে ব্যাট করে ৪৩ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৫ রান সংগ্রহ করেছে নিগার বাহিনী।

বৃষ্টির কারণে বিলম্বিত হওয়ায় ৭ ওভার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্টেল ওভারের এই লড়াইয়ে জিততে হলে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ১৩৬ রান।

বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান এসেছে লতা মণ্ডলের ব্যাট থেকে, ৩৩ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ রান আনে শারমিন আক্তারের ব্যাট থেকে।

ব্যাট হাতে নেমে শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটার ৮ ওভারে ৩৩ রানের জুটি গড়েন। নবম ওভারের প্রথম বলে মুর্শিদা খাতুনকে ফেরান গার্ডনার। এ ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১২ রানের ইনিংস।

দলীয় সংগ্রহ ৫০ পার করার ঠিক আগে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। ৮ রান করেই ১৪তম ওভারে সুথারল্যান্ডের এক ডেলিভারিতে সাজঘরে ফেরেন ফারজানা হক। এর পর অধিনায়ক নিগার সুলতানার সঙ্গে জুটি গড়তে পারেননি শারমিন আক্তার। ৫৫ বলে ২৪ রান করে থামে এ ওপেনারের ইনিংস।

অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলতে পারেননি নিগার সুলতানাও। ২২.৩ ওভারে জনাসেনের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন অধিনায়ক। ২৭ বলে ৭ রান করেই শেষ হয় তার ইনিংস।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে লতা ও রোমানা সংগ্রহ বাড়িয়ে নিয়ে যান একশর কাছাকাছি। দলীয় সংগ্রহ ৯৫ রানের সময় আউট হন রোমানা। তিনি করেন ৪৫ বলে ১৫ রান। ৪৩তম ওভারে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন লতা। স্টাম্পড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৬২ বলে ৩৩ রান।

অন্যপ্রান্তে ২৩ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন সালমা খাতুন। ৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেট ১৩৫ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট পেয়েছেন গার্ডনার ও জনাসেন। একটি করে উইকেট শিকার করেছেন মেগান ও সুথারল্যান্ড।

সালমার দুর্দান্ত বোলিংয়েও অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারল না বাংলাদেশ

নারী বিশ্বকাপে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৫০ ওভারের ম্যাচ নেমে আসে ৪৩ ওভারে। আর কার্টল ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

অবশ্য জয়ের জন্য ৪৩ ওভার খেলতে হয়নি অসি ব্যাটারদের। ৬৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা।

শুক্রবার সকালে ওয়েলিংটনে শুরু হয় ম্যাচটি। প্রথমে ব্যাট করে ৪৩ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান এসেছে লতা মণ্ডলের ব্যাট থেকে, ৩৩ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ রান আনে শারমিন আক্তারের ব্যাট থেকে।

১৩৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ৭০ রান জমা করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে অসিরা।

সেখান থেকে ৭৫ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে দেন বেথ মনি।

ব্যাট হাতে নেমে সালমা খাতুনের তোপের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ২৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। সালমা খাতুন নেন এই উইকেটগুলো। দুই ওপেনার হেলি ও হাইনেস করেন যথাক্রমে ১৫ ও ৭ রান।

অধিনায়ক মেগ ল্যানিংকে রানের খাতা খুলতেই দেননি সালমা। সেখান থেকে প্রথমে গার্ডনার ও পরে সুথারল্যান্ডের সঙ্গে জুটি গড়ে ৩২.১ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যান বেথ মনি। গার্ডনার ও সুথারল্যান্ড খেলেন যথাক্রমে ১৩ ও ২৬ রানের ইনিংস।

৭৫ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৬৬ রানের ইনিংস খেরেন মনি।

এর আগে ব্যাট হাতে নেমে শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটার ৮ ওভারে ৩৩ রানের জুটি গড়েন। নবম ওভারের প্রথম বলে মুর্শিদা খাতুনকে ফেরান গার্ডনার। এ ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১২ রানের ইনিংস।

দলীয় সংগ্রহ ৫০ পার করার ঠিক আগে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। ৮ রান করেই ১৪তম ওভারে সুথারল্যান্ডের এক ডেলিভারিতে সাজঘরে ফেরেন ফারজানা হক। এর পর অধিনায়ক নিগার সুলতানার সঙ্গে জুটি গড়তে পারেননি শারমিন আক্তার। ৫৫ বলে ২৪ রান করে থামে এ ওপেনারের ইনিংস।

অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলতে পারেননি নিগার সুলতানাও। ২২.৩ ওভারে জনাসেনের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন অধিনায়ক। ২৭ বলে ৭ রান করেই শেষ হয় তার ইনিংস।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে লতা ও রোমানা সংগ্রহ বাড়িয়ে নিয়ে যান একশর কাছাকাছি। দলীয় সংগ্রহ ৯৫ রানের সময় আউট হন রোমানা। তিনি করেন ৪৫ বলে ১৫ রান। ৪৩তম ওভারে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন লতা। স্টাম্পড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৬২ বলে ৩৩ রান।

অন্যপ্রান্তে ২৩ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন সালমা খাতুন। ৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেট ১৩৫ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট পেয়েছেন গার্ডনার ও জনাসেন। একটি করে উইকেট শিকার করেছেন মেগান ও সুথারল্যান্ড

পিকআপ-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

নরসিংদীর রায়পুরায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংর্ঘষে চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, সকালে ঢাকা থেকে সবজিবাহী একটি পিকাপ রায়পুরা যাচ্ছিল। পিকাপটি রায়পুরার অমিরগঞ্জ এলাকায় পৌঁছলে রায়পুরা থেকে নরসিংদীগামী সিএনজি অটো রিক্সার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় সিএনজিটি ধুমড়ে মুচড়ে ছিটকে রাস্তার পাশে গিয়ে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজিতে থাকা ৪ জন নিহত হয়। আহত হয় আরও একজন। গুরুত্বর আহতবস্থায় একজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আমিরগঞ্জ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই ফরিদ বলেন, সকালে পিকাপ ট্রাক ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থালে ৪ জন নিহত হয়েছে। দূর্ঘটনাকবলিত যানবাহনু দুটিকে আটক করা হয়েছে। যানবাহন দুটি অতিমাত্রায় দ্রুতগতির কারনেই এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে।