শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 394

যারা ঘুস দেয়, তাদের জায়গা জাহান্নামে: অর্থমন্ত্রী

যারা ঘুস দেয়, তাদের জায়গা জাহান্নামে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শুল্ক ও কর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ঘুস দিচ্ছেন কেন? আপনাদের কাছে অনুরোধ, ঘুস দেবেন না।’

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আসন্ন বাজেট উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সভায় শুল্ক ও কর কর্মকর্তাদের সর্তক করে দিয়ে অর্থমন্ত্রী হাদিসের উদ্ধৃতি দেন। তিনি বলেন, ‘ঘুস দেওয়া যাবে না। যারা ঘুস দেয়, তাদের জায়গা হবে জাহান্নামে।’

আগামী (২০২২-২৩) অর্থবছরের বাজেটেও ব্যবসায়ীরা জিতবেন বলে সভায় মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেটের মূল থিম হচ্ছে ‘উইন উইন সিচুয়েশন (সবার জন্য সমান সুযোগ)’। অর্থাৎ আগামী বাজেটে আপনারা কেউ হারবেন না, জিতবেন। পাশাপাশি আপনাদের সঙ্গে আমাদের সরকারও জিতবে। আমরা সবাই জিতব।সরকার সব ক্ষেত্রে বেশি নিল, ব্যবসায়ীরা কিছু পেল না— এ অভিযোগ সরকার শুনতে চায় না।’

ব্যবসায়ীদের প্রশংসা করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘গত ১৩ বছরে রাজস্ব আটগুণ বেড়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের অবদান রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের এটাও মনে রাখতে হবে আগামীতেও কর পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন হবে অথবা মেগাপ্রকল্প সরকার কীভাবে শেষ করবে!’

ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছরে আমরা অনেক পিছিয়েছি। এখন আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা ঠকবেন না। আমরা আপনাদের ঠকতে দেবো না। আপনারা যদি ঠকেন তাহলে দেশ পিছিয়ে যাবে।’

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে স্মৃতিসৌধের বেদীতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে কয়েক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। তার সঙ্গে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল অভিবাদন জানায়।

তাদের পর শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের নিয়ে তার দলের পক্ষ থেকে আরেকটি শ্রদ্ধাঞ্জলী জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে অর্পণ করেন।

১৯৭১ সালের আজকের দিনে হাজার বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। আর সেই ঘোষণার পথ ধরেই ৩০ লাখ শহিদ আর চার লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশ। এ অর্জন কালের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার। এ গর্ব বাঙালির।

বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই বিশ্বের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার এক দেশ। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্বের বুকে এক স্বনির্ভর রাষ্ট্র। উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রতীক।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি, মানব উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ প্রগতির মডেল। তাই স্বাধীনতার ৫১ বছরে বাঙালি আজ শ্রদ্ধায় স্মরণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তার দেখানো সোনার বাংলার স্বপ্নের পথ ধরেই আজকের বাংলাদেশ। যার নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধুরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইউক্রেনের জ্বালানি ডিপোতে হামলা

ইউক্রেনের একটি বড় জ্বালানি ডিপোতে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাগর থেকে কালিবির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চালানো হামলায় ডিপোটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

কিয়েভের কেন্দ্রে অবস্থিত জ্বালানি ডিপোটি থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। অপরদিকে, একদিনে ২০০ রুশ সেনা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেন বাহিনী। ৯ মের মধ্যে ইউক্রেন অভিযান শেষ করতে রুশ সেনাবাহিনীকে ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে বলেও ইউক্রেনের গোয়েন্দারা দাবি করেছে। খবর বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা ও সিএনএনের।

অভিযানের শুরু থেকে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনায় রুশ বাহিনী হামলা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি আক্রমণ আরও জোরদার করা হয়েছে। খারকিভ, চেরনেহিভ, মারিউপোলের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে রুশ বাহিনী।

এছাড়া ইউক্রেনের বাহিনী যেসব জায়গা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করত সেসব জায়গায়ও হামলা অব্যাহত রাখা হয়েছে। শুক্রবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগোর কোনাশেনকভ জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের জ্বালানি ডিপো পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। এ অভিযানের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে-কবে থামবে এ লড়াই? তবে রাশিয়া ৯ মের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে চায়-ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা দপ্তরের বরাত দিয়ে দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়-রুশ সেনাবাহিনীকে মস্কো নির্দেশ দিয়েছে যেভাবে হোক ৯ মের মধ্যে ইউক্রেনকে পরাজিত করতে হবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে-যুদ্ধ শেষের জন্য ৯ মে বেছে নেওয়ার কারণ কি? ওইদিন নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করেছিল রাশিয়া। সেই ইতিহাসের মাইলফলককে মাথায় রেখে এবারের যুদ্ধও শেষ করতে চান পুতিন। এজন্য যুদ্ধ শেষ করতে রুশ সেনাবাহিনীকে ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ফেসবুকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়-২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার ২০০ সেনার পাশাপাশি একাধিক হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।

১২টি রুশ ট্যাংক, ২০টি সামরিক যান, তিনটি যুদ্ধবিমান, তিনটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটার ধারণা-ইউক্রেন অভিযানে এ পর্যন্ত ১৫ হাজারের মতো সেনা হারিয়েছে মস্কো। একইসঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বিশাল রুশ বাহিনী।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেন সীমান্তে পোল্যান্ডের জেসোভ শহর সফর করেছেন। হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়- সফরের দ্বিতীয় ধাপে শুক্রবার পোল্যান্ডে যাচ্ছেন বাইডেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়-ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরবর্তী জোসোভ শহরে বাইডেনকে স্বাগত জানাবেন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা।

রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যর্থতার হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত : যুক্তরাষ্ট্রের দাবি-ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যব্যহারে ব্যর্থতার হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। তিনটি মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আগ্রাসন শুরুর এক মাস পরও রাশিয়া কেন মৌলিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি তা ব্যাখ্যা করা সম্ভব। আগ্রাসনের আগে রাশিয়া যেসব মৌলিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে তার মধ্যে ছিল ইউক্রেনের বিমান বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করা।

ইউক্রেনের তুলনায় বিশালাকার সামরিক সক্ষমতা থাকার পরও সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি রাশিয়া। তবে এ ধারণার পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যর্থতার হার বেশি হওয়ার কারণও জানানো হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে ক্রেমলিন অথবা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ইউক্রেনে অন্তত এক হাজার ১০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কি পরিমাণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে আর কতগুলো ব্যর্থ হয়েছে তা জানাননি তারা।

এক কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যায়- বিমান থেকে ফেলা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যর্থতার হার ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত, যা দিনের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে। রুশ আগ্রাসনে ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মস্কোর দাবি ইউক্রেনের অস্ত্র মজুতসহ নানা সামরিক স্থাপনায় এ হামলা চালানো হচ্ছে।

আরিফকে সরানোর পরও অজানা আশঙ্কা

সিলেট বিএনপির জেলা কাউন্সিলের হেভিওয়েট প্রার্থী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে নির্বাচন থেকে সরানোর পরও আতঙ্ক কাটছে না। দলের প্রার্থী, কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীদের অজানা আশঙ্কা-কখন যেন কী হয়! এ নিয়ে অনেক নেতাকর্মী হতাশ হলেও কেউ টুঁ শব্দ করছেন না।

এদিকে সম্মেলন-কাউন্সিলের মাত্র দুদিন বাকি থাকলেও এখনও স্থান নির্ধারণ হয়নি। ১৩ প্রার্থীর কাউন্সিলের ছাপা ব্যালট বাতিল করা হলেও ৪ প্রার্থী বাদ দিয়ে বাকি ৯ প্রার্থীর ব্যালট নতুন করে ছাপা হয়নি শুক্রবার পর্যন্ত। ফলে এ তালিকা থেকে আরও কোনো প্রার্থী বাদ পড়ছেন কিনা এমন আতঙ্ক রয়েছে প্রার্থীদের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এমন তথ্য দিয়েছে।

২১ মার্চ জেলা বিএনপির বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন ও কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। এর আগের দিন কেন্দ্র থেকে ‘অনিবার্য কারণবশত’ সম্মেলন ও কাউন্সিল স্থগিত করা হয়। এক্ষেত্রে সময়মতো ভোটার তালিকা চূড়ান্ত না হওয়াকে কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন বিএনপি নেতারা। এরপর একের পর এক নাটকীয় মোড় নিতে থাকে সম্মেলন-কাউন্সিল। জেলা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং শেষ পর্যায়ে কামরুল হাসান শাহীন, শাকিল মোর্শেদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।

এরআগে, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুল আহাদ খান জামালের প্রার্থিতা বাতিল করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন। কাউন্সিল ঘিরে এমন নাটকীয়তায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, ভোটার তালিকা যারা করেছেন তাদের কর্মকাণ্ডের বলি হয়েছেন দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীরা।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, সম্মেলন-কাউন্সিলের পরবর্তী তারিখ ২৯ মার্চ, তবে স্থান নির্ধারণ হয়নি। সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জন্য চেষ্টা করছি। বিকল্প হিসাবে রেজিস্ট্রারি মাঠ দেখছি। আলীয়ায় হলে ভালো, রেজিস্ট্রারি মাঠে হলে সম্মেলন ও কাউন্সিলের জন্য পৃথক স্থান রেডি করতে হবে। তিনি জানান, সম্মেলনের তারিখ আর পেছানো হবে না বলেই মনে হয়। বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনও বলেন, কাউন্সিল ও সম্মেলন আর পেছানোর আশঙ্কা নেই।

জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল গাফ্ফার যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিলের ৪ প্রার্থী বাদ পড়ার পর এখন ৯ প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে। এই প্রার্থী তালিকা আর সংক্ষিপ্ত হবে বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও আব্দুল আহাদ খান জামাল ছাড়া বাকি দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ না হওয়ায়। তারা প্রার্থী হয়েছেন অথচ কাউন্সিলর তালিকাতেই তাদের নাম নেই, ভোট নেই। ফলে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের করার কিছুই নেই। জেলা বিএনপির নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মেয়র আরিফসহ মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মনোনয়নের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা স্বাক্ষর করে জমা দেওয়া টাকা নিয়েছেন।

এদিকে সিলেটে বিএনপির দুটি ধারার মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এক বলয়ের নেতা। অপর বলয়ের নেতৃত্বে আরিফ। দলের অভ্যন্তরে গুঞ্জন চলছে, সিলেট বিএনপির নেতৃত্বে আরিফের প্রভাব মেনে নিতে না পারায় সম্মেলন আকস্মিক স্থগিত করা হয়েছিল। প্রার্থী তালিকা ১৩ থেকে ৯ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বাকি ৯ প্রার্থীর মধ্যে আরিফ ঘেঁষা কেউ থাকলে প্রার্থী তালিকায় আবারও পরিবর্তন আসতে পারে এমন আশঙ্কা অনেকের। বর্তমানে সভাপতি পদে আবুল কাহের শামীম ও আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে আলী আহমদ, এমরান আহমদ চৌধুরী, আ ফ ম কামাল ও মো. আব্দুল মান্নান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এম মুজিবুর রহমান মুজিব, লোকমান আহমদ ও মো. শামিম আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, মেয়র আরিফুল হককে অনুরোধ করে নির্বাচন থেকে সরানো হলেও তার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কেন্দ্র। এই লক্ষ্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠি মেয়র আরিফের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা বিএনপির কাউন্সিলের সভাপতি প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব চান কাউন্সিলররা। এক্ষেত্রে আমি সভাপতি পদের নতুন প্রার্থী। তাই আমি আশাবাদী দলের নেতাকর্মীরা আমাকেই নির্বাচিত করবেন।

স্বাধীনতা আমাদের স্বাধীনতা

‘কথা ছিল একটি পতাকা পেলে/আমি আর লিখব না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা/কথা ছিল একটি পতাকা পেলে/ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস/ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন, ‘পেয়েছি, পেয়েছি’।/কথা ছিল একটি পতাকা পেলে/পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে/ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে।’

কবি হেলাল হাফিজ যে পতাকা ও স্বাধীনতার কথা বলেছেন সেই স্বাধীন দেশের পতাকা, সেই স্বাধীনতা এসেছে এ বাংলায়। সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে আজ আমরা স্বাধীনতার ৫১ বছরে। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে হাজার বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। আর সেই ঘোষণার পথ ধরেই ৩০ লাখ শহিদ আর চার লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশ। এ অর্জন কালের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার। এ গর্ব বাঙালির।

বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই বিশ্বের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার এক দেশ। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্বের বুকে এক স্বনির্ভর রাষ্ট্র। উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রতীক। শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি, মানব উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ প্রগতির মডেল। তাই স্বাধীনতার ৫১ বছরে বাঙালি আজ শ্রদ্ধায় স্মরণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার দেখানো সোনার বাংলার স্বপ্নের পথ ধরেই আজকের বাংলাদেশ। যার নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধুরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজকের দিনে জাতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী বীর সন্তানদের। স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাতীয় নেতা, নৃশংস গণহত্যার শিকার লাখো সাধারণ মানুষ এবং সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের। জাতি স্মরণ করে দেশের জন্য, বাংলা ভাষার জন্য, স্বাধিকারের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা প্রতিটি মানুষকে।

বাঙালি জাতির জীবনে ২৬ মার্চ দিনটি একই সঙ্গে গৌরব ও শোকের। বাঙালির ওপর পাকিস্তানি শাসকরা শোষণ এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর যে আগ্রাসন চালিয়েছিল, এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধিকারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাঙালিরা। তারা ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে প্রতিটি বাঙালির মনে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের বীজ রোপিত হয়। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মৃত্যুপণ লড়াই ও রক্তসমুদ্র পাড়ি দিয়ে বীর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে জাতীয় ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরশহিদদের। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সমর্থক, বিদেশি বন্ধু এবং সর্বস্তরের জনগণকে-যারা অধিকার আদায়ে ও মুক্তিসংগ্রামে বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শকে মুছে ফেলার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাঙালি বীরের জাতি। কোনো কিছুই বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। বরং বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন মহামৃত্যুঞ্জয়ী।

তাই নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বোঝাতে হবে-আজ তারা যে পথটি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা তৈরি করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভবিষ্যতেও তার দেখানো পথই হবে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সোপান। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশে পরিণত হোক, মহান স্বাধীনতা দিবসে এটাই আমার প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, দেশে উন্নয়নের যে গতি সৃষ্টি হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে। বাণীতে তিনি সব বাংলাদেশিকে ভেদাভেদ ভুলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে লালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

স্বাধীনতা অর্জন করতে বাঙালি জাতিকে করতে হয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, দিতে হয়েছে এক সাগর রক্ত। বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে পুরো বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের অব্যবহিত পরেই ভাষার প্রশ্নে একাত্ম হয় বাঙালি। ১৯৪৮, বায়ান্ন পেরিয়ে চুয়ান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টির পথ বেয়ে আসে ১৯৬৯।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে কেঁপে উঠেছিল জেনারেল আইয়ুবের গদি। ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা-পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত ছিল গ্রাম-শহর, জনপদ। শত ষড়যন্ত্র ও সামরিক জান্তার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সত্তরের জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু বাঙালির হাতে শাসনভার দেওয়ার বদলে শুরু হয় ষড়যন্ত্র। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নামে করতে থাকেন কালক্ষেপণ। পর্দার আড়ালে প্রস্তুত হয় হিংস্র কায়দায় বাঙালি হত্যাযজ্ঞের ‘নীলনকশা’। কিন্তু ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণেই পাওয়া যায় মুক্তির দিকনির্দেশনা। আক্ষরিক অর্থেই তখন পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসন চলছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। সেই প্রবল প্রদীপ্ত আন্দোলনের জোয়ারে ধীরে ধীরে বাঙালির হৃদয়ে আঁকা হয় একটি লাল-সবুজ পতাকা, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের ছবি।

কিন্তু বাঙালির আবেগ, সংগ্রাম ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে নির্মূল করতে অস্ত্র হাতে নামে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। শোষিত ও নির্যাতিত মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শুরু করে পৃথিবীর ইতিহাসের নিষ্ঠুর গণহত্যা। সেই কালরাত থেকেই শুরু হয় মৃত্যু, ধ্বংস, আগুন আর আর্তনাদ, পৈশাচিক বর্বরতা। কিন্তু ওই ঘোরতর অমানিশা ভেদ করেই দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য। ২৬ মার্চের সূচনালগ্নে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে জীবনপণ সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠতম অর্জন-মহান স্বাধীনতা।

আজকের দিনে সারাদেশের মানুষ বারবার স্বাধীনতার মর্মবাণীটি অনুধাবণ করবে। আরও একবার শপথ নেবে সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে চলার।

মহান স্বাধীনতা দিবসে আ.লীগের দুদিনের কর্মসূচি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দুদিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-শনিবার সূর্যোদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৬টায় সীমিত পরিসরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর) সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

এ ছাড়া মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, সকাল ৮টায় তেজগাঁও গির্জায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং বেলা ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে।

টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচি : এদিন বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করবে। প্রতিনিধি দলে থাকবেন-দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান।

আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, ইকবাল হোসেন অপু এমপি ও সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম প্রমুখ।

আগামীকাল রোববার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৩টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। গ

ণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে দলের কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে মুজিববর্ষের সমাপ্তিতে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনে নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সৌদ রাজবংশ টিকে থাকার রহস্য

আরব মুল্লুকে সৌদ বংশের রাজত্ব শুরু হয় ১৯০২ সালে। আরব দেশগুলোতে যেখানে রাজবংশের উত্থান-পতন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে সৌদি আরবে রাজবংশ কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই শাসনকার্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এই সাফল্যের রহস্য হলো তাদের ঐক্যবন্ধন। কয়েক মাস আগে আমেরিকার সিএআই থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয়— ‘সৌদি রাজবংশে অভ্যন্তরীণ ভাঙন শুরু হয়েছে।’ এরপর জনৈক পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সৌদি শাহজাদা বলেন— ‘যদি কোনো বিষয়ে সৌদি আরবের রাজবংশ একমত হয়ে থাকে, সেই বিষয়টি হলো যেকোনো উপায়ে নিজেদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখা। যদি আদতেই আমরা পরস্পরে লড়াই শুরু করি, তাহলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারব না।’ (টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ৩ নভেম্বর ১৯৭৯)

এটাই জীবনে সফল হওয়ার রহস্য, সৌদি রাজবংশ যার অনুসরণ করে। যদি মুসলিম সমাজও এই নীতি অনুসরণ করত, তাহলে আচমকাই মুসলিম বিশ্ব এতবেশি শক্তিশালী হয়ে উঠত যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। সেই সব সমস্যারও সমাধান হতো মুসলমানরা যার জন্য কোরবানির পর কোরবানি দিয়ে যাচ্ছে তবু সমাধান হচ্ছে না।

নিজেদের ভেতরের কোনো ‘কল্পিত শত্রুর’ বিরুদ্ধে তো মুসলিমরা বরাবরই একমত হয়, কিন্তু ইসলামের পুনরুত্থান ও মুসলিম জাতির উন্নয়নে একতাবদ্ধ হতে পারে না। যা-ইবা একতাবদ্ধ হয়, আবার কল্পিত শত্রুর পতনের পরপরই সব বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ইতিবাচক উদ্দেশ্যে যদি একতাবদ্ধ না হতে পারে, তাহলে নেতিবাচক উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হওয়ার কোনো দাম নাই। এই ধরনের একতাবদ্ধ হওয়া অসুস্থ সমাজেরই লক্ষণ, সুস্থতার নয়।

যদি প্রকৃত উদ্দেশ্য হয় ‘ইসলামকে’ সিংহাসনে বসানো, তাহলে কখনোই মতবিরোধ হওয়া সম্ভব নয়। ‘ইসলামের দুশমনকে’ হটিয়েই ‘ইসলামকে’ সিংহাসনে বসানো সম্ভব। এক্ষেত্রে যে যার মতো জিম্মাদারি পালন করবে।

কিন্তু উদ্দেশ্য যদি ব্যক্তিবিশেষকে ইসলামের ঠিকাদার ঘোষণা দিয়ে তাকে সিংহাসনে বসানো, তাহলে কোনোদিনই একতাবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়।

কেননা এক্ষেত্রে প্রত্যেকেই চাইবে নিজেকে সিংহাসনে বসাতে, অথচ আসন মাত্র একটি! পদের লোভ মতবিরোধ করে, আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা একতা তৈরি করে।

কোনো জাতির মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণগুলো সবসময় ভাসাভাসা হয়, তাদের অনৈক্যের সূত্রপাত খুবই ছোটখাটো বিষয় থেকে হয়। একদম নগন্য কিছু সুবিধার জন্য লোকজন একতাবদ্ধ হতে চায় না।

দেখা যায় দশটা ছোট ছোট দলের দশজন নেতা, কিন্তু এই দশটা দল এক করে ফেললে মাত্র একজন নেতা হবে। পদলোভী লোকজন এই কারণেই মতবিরোধ জিইয়ে রাখে, নানাবিধ কারণ তৈরি করে একতা থেকে দূরে থাকে।

আবার কিছু লোক নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকার ফলে তাদের মধ্যে স্বজনপ্রীতি জন্ম নেয়। নিজেদের সবকিছু ভুলের ঊর্ধ্বে, এবং সবকিছুর মালিকানা তাদের এমন হাবভাব নেয়।

তো কথা হলো একতা অনেক বড় শক্তি, কিন্তু একতা কেবল নিজের আমিত্বকে বিসর্জনের মূল্যেই পাওয়া সম্ভব। আর আমিত্বকে, মানে নিজেকে কোরবানি দেওয়াই মানুষের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

রমজানের প্রস্তুতির সময় এখনই

প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যই পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কাজটা তাহলে সুন্দর, সাবলীল ও আন্তরিকভাবে সম্পাদন হয়। ইবাদতের আগে প্রস্তুতি গ্রহণ করা নবিজির সুন্নত। বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, নবি করিম (সা.) অন্যান্য ফরজ ইবাদতের মতো পবিত্র রমজানেও পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং উম্মতকেও এ ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন। নিম্নে রাসূল (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী রমজানের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক বেশকিছু করণীয় বিষয় উল্লেখ করা হলো।

রমজান প্রাপ্তির জন্য দোয়া করা

আমলের তাওফিকের জন্যও দোয়া করা নবিজির স্বভাব ছিল। রমজান প্রাপ্তির জন্য রাসূল (সা.) রজব মাস থেকেই দোয়া করতেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, যখন রজব মাস প্রবেশ করত তখন রাসূল (সা.) বলতেন, ‘হে আল্লাহ, রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন। (তাবারানি, হাদিস ৩৯৩৯)।

পূর্বসূরি অনেকে আলেম থেকে রমজান পাওয়ার জন্য দোয়া করার কথা বর্ণিত হয়েছে। মুয়াল্লা বিন ফজল (র.) বলেছেন, তারা ছয় মাস দোয়া করতেন রমজান মাস পাওয়ার জন্য এবং ছয় মাস দোয়া করতেন তাদের আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্য। ইয়াইয়া বিন কাসির (র.) বলেন, হে আল্লাহ, আমাকে রমজান পর্যন্ত নিরাপদ রাখুন। রমজানকে আমার জন্য নিরাপদ করুন এবং রমজানের আমলগুলো কবুল করে আমার কাছ থেকে রমজানকে বিদায় করবেন। (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা ১৪৮)।

রমজানের জন্য দিনক্ষণ গণনা করা

রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে রমজানের জন্য শাবান মাসের তারিখের হিসাব রাখা এবং দিনক্ষণ গণনা করাও রমজানপূর্বক একটি সুন্নাতি আমল। প্রকৃত অর্থে এটা রমজানের জন্য বিভোর প্রতীক্ষার একটি নিদর্শনও বটে; কেননা মানবীয় স্বভাব অধিক প্রত্যাশিত বস্তুর প্রতি সময় গণনার ব্যাপারে অধিকতর তৎপর হয়। রমজানের আগমনের জন্য মহানবি (সা.) দিনক্ষণ গণনা করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল শাবান মাসের (দিন-তারিখের হিসাবের) প্রতি এত অধিক লক্ষ রাখতেন, যা অন্য মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না। (আবু দাউদ, হাদিস ২৩২৫)।

এমনকি তিনি শাবানের হিসাব রাখার জন্য নির্দেশও দিয়েছেন, যেন রমজান আগমনের বিষয়ে সন্দেহে পতিত হতে না হয়। তিনি বলেন, তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখ। (সিলসিলাতুস সহিহাহ, আলবানি, ২/১০৩)।

রমজানের আগের দিনগুলোতে রোজা না রাখা

রাসূল (সা.)-এর জীবন থেকে বোঝা যায়, রমজানে দীর্ঘদিন রোজা রাখার দৈহিক ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য শাবান মাসে অধিক হারে রোজা পালন করা সুন্নত। তবে তা পুরো শাবান মাসে নয়। বরং রাসূল (সা.) রমজানের ঠিক আগেকার দিনগুলোতে রোজা রাখতেন না; এ সময় তিনি রমজানের প্রস্তুতিকল্পে শরীর গঠনে মনোযোগ দিতেন।

রাসূলের (সা.) এ রোজা ত্যাগ করার বিষয়টি অন্য হাদিস থেকে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, শাবানের তুলনায় অন্য কোনো মাসে আমি তাঁকে এত অধিক হারে রোজা পালন করতে দেখিনি। তিনি শাবানের প্রায় পুরোটাই রোজায় অতিবাহিত করতেন, তবে (রমজানের প্রস্তুতির জন্য) কিছু দিন বাদ রাখতেন। (মুসলিম, হাদিস ১১৫৬)।

জনসাধারণকে রমজানের প্রতি উৎসাহী করে তোলা

রমজানের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসগুলোর অধিকাংশই রমজানের আগের বিভিন্ন বৈঠকে রাসূল (সা.) সাহাবিদের জানিয়েছেন। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বলতেন, রমজান বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোজা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরজ করেছেন। এ মাসে আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস হতে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে বঞ্চিত হলো (মহাকল্যাণ থেকে)। (নাসায়ি, হাদিস ২১০৬)।

আরও বলতেন, ‘রমজানের প্রথম রাতে শয়তান ও দুষ্ট জিনদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের কপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়; তার একটি দরজাও খোলা হয় না। উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জান্নাতের দরজাগুলো, বন্ধ করা হয় না তার একটিও। একজন আহ্বানকারী আহ্বান জানিয়ে বলেন, হে কল্যাণের প্রত্যাশী, অগ্রসর হও। আর যে অকল্যাণের প্রত্যাশী, বিরত হও। আল্লাহ জাহান্নাম থেকে অনেককে মুক্তি দেবেন এবং তা প্রতি রাতেই।’ (তিরমিজি, হাদিস ৬৮৩)।

রমজানের বিধান সম্পর্কে জানাশোনা

রমজানবিষয়ক অনেক হাদিস ও হাদিসাংশ থেকে জানা যায়, রাসূল (সা.) নিজেও রমজান মাসে সাহাবিদের রোজার নানা বিধান সম্পর্কে অবগত করাতেন, সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে ঋজু পথ আঁকড়ে ধরতে উৎসাহিত করতেন। একইভাবে বর্তমান সময়ে, যারা উম্মতের মহান আলেম ও বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব ও সম্মানিত দায়ী, তারা সাধারণ মানুষকে রমজানের যাবতীয় হুকুম সম্পর্কে জ্ঞাত করাবেন এবং রমজানের পূর্ব ও মধ্যবর্তী সময়ে মানুষের মাঝে ব্যাপক দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।

সাধারণ মুসলমানের কর্তব্য হলো, রমজানে পালিত যাবতীয় এবাদত ও জিকির-আজকারবিষয়ক বিধিবিধান সম্পর্কে পূর্ণ অবগতি লাভ করা। রমজানবিষয়ক বইপত্র অধ্যয়ন করা এবং অডিও প্রোগ্রাম শ্রবণ করে স্বচ্ছ ধারণা লাভে প্রয়াস চালানো। ইলম ও জ্ঞানের মজলিসগুলোতে হাজির হওয়া।

রমজানের আগমন সংবাদে আনন্দ প্রকাশ করা

রমজানের আগমনে মুমিন বান্দামাত্রই আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। আর আনন্দিত হওয়াই যুক্তিসঙ্গত। আল্লামা ইমাম সাদি (র.) বলেন, ইহকালীন ও পরকালীন বিপুল নেয়ামতরাজির সঙ্গে পার্থিব জগতের অর্জনের কোনো তুলনা নেই; পার্থিব সঞ্চয় তা যতই অঢেল ও বিচিত্র হোক না কেন, একদিন তা অবশ্যই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আল্লাহতায়ালা তাই তার প্রদত্ত ফজিলত ও করুণাকে আনন্দের উপকরণ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাকে স্ফূর্তির মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন-‘বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম।’ (সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৮)।

রাসূলে করিম (সা.) তাই নিজেও অতিশয় আনন্দিত হতেন এবং বিভিন্ন সময়ে রহমত-বরকত ও কল্যাণ বর্ষণ এবং অবতরণের উপলক্ষ্য ও অনুষঙ্গগুলোর কারণে ব্যাকুল হতেন। সাহাবিদের বলতেন, তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে। (নাসায়ি, হাদিস ২১০৬)।

রমজান একটি ফরজ ইবাদত। আল্লাহর নৈকট্য লাভের উত্তম মাধ্যম। এবং নিজের গোনাহ্ খাতাকে কেটে আমলে সালেহ দ্বারা জীবনকে সাজিয়ে সেমতে সারা বছর চলার ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ দেয় এই রমজান। অতএব, প্রত্যেক মুমিনের মাহেন্দ্রক্ষণ এ রমজানের সদ্ব্যবহারের উত্তম প্রমাণ হলো-এ ব্যাপারে নবিজি (সা.)-এর মতো করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা, মানসিক ও আত্মিকভাবে রমজানকে স্বাগত জানানোর জন্য ব্যাকুল হওয়া; তা যেন পূর্ণাঙ্গভাবে কল্যাণব্রতী হয় এবং সময়গুলো পরিপূর্ণ কাজে লেগে জীবন সুন্দর ও আলোকিত হয়।

সুখ-দু:খের গাঁথা ‘প্রবাসে মেঘ জোৎস্না’

প্রবাসে মেঘ জোৎস্না পড়ে ভালো লাগল। পুরো বইয়ে হাজার হাজার সীমানার দূর দেশে থেকেও অটুট দেশপ্রেম, প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় এবং প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশিদের করণীয় বিষয়গুলো বিভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

পরিবারের সবাইকে ভালো রাখবার জন্য প্রবাসের মাটিতে একজন মানুষের সীমাহীন বিসর্জন আর না পাওয়া গুলোকে লেখক ভীষণ মানবিকভাবে উপস্থাপন করেছেন।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একজন প্রবাসী দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়। যে টাকাগুলো দিয়ে নিজের সহযোগিতা করা যেত সেই টাকাগুলো পরিবারের জন্য, দেশের উপকারের জন্য দেশে পাঠিয়ে দেয়।

লেখক বইটির অধিকাংশ লেখাতে প্রবাসীদের চোখের পানি লুকিয়ে, প্রবাসের মাটিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম আর অটুট মনোবল আর দেশপ্রেমকে খুব সহজ সরল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। রক্তকে পানি করে দেশের জন্য টাকা পাঠান প্রবাসীরা। কিন্তু সেই প্রাণের বাংলাদেশে নারী নির্যাতন,খাবারে ভেজাল, রাজনীতিতে কিছু অসাধু মানুষের ঘৃণ্য অপরাধ, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি, দূতাবাসগুলোতে সঠিক সময়ে সঠিক সহযোগিতার অভাব, প্রবাসের মাটিতে আত্মীয়স্বজনহীন ঈদের দিন। এই ধরনের বহুবিধ বিষয়গুলো লেখকের লেখনিতে উঠে এসেছে।

বইটিতে ইতালির অপরূপ সৌন্দর্যের ভেনিস নগরী, টেনেরিফ দ্বীপ, লন্ডন ব্রিজ এর অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্যগুলো লেখক খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। মানুষের জানার কোন শেষ নেই। জমির হোসেনের এ বইয়ের মাধ্যমে জানলাম, ভেনিস এ অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য পানি পথকে কাজে লাগাতে হয়।

আমি জানতাম ভেনিসের চারিদিকে পানি আর পানি। রোগীর জরুরি অবস্থার জন্যও পানি পথ একমাত্র পথ বইটি পড়ে এই প্রথম আমি জানলাম। আরও জানলাম টেনেরিফ দ্বীপে রয়েছে “আস সুন্না” মসজিদ, সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের একমাত্র মসজিদ। বিষয়টা আমাকে বিস্মিত এবং মুগ্ধ করেছে। লেখক অদ্ভুত সুন্দরভাবে টেনেরিফ দ্বীপ এর সৌন্দর্য লেখনিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রবাসীদের লাশ দেশে প্রেরণের জন্য সরকার কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

ইতালির আকাশে পৃথিবীর সকল দেশের বিমানের পাশাপাশি বাংলাদেশের বলাকা বিমানকে আবারও দেখতে চাওয়ার ইচ্ছের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে লেখকের প্রবল দেশপ্রেম।

ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির প্রতি ভালোবাসা আর মাতৃহারা জীবনে নিরন্তর সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে ছিল লেখকের। মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম বইটিতে তুলে ধরেছেন। আর তাই প্রবাসী হয়েও হৃদয়ের মন্দিরে লাল-সবুজের পতাকা।

লেখক হাজার মাইল দূরের দেশে থেকেও কলুষমুক্ত একটি বাংলাদেশের জন্য হৃদয়ে ধারণ করেন স্বপনের ডালপালা। তিনি বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে দেখতে চান। ইলিশ মাছের বাড়ী চাঁদপুর লেখকের জন্মস্থান। চাঁদপুরের সাহিত্য সংস্কৃতির ছোঁয়ায়,কিছু গুণী মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আরো বহু দূরের পথ পাড়ি দিতে চেয়েছেন লেখক।

প্রবাসীদের লুকিয়ে রাখা দুঃখ কষ্ট, সীমাহীন বিসর্জন সংগ্রাম,দেশের রেমিট্যান্সে প্রবাসীদের অবদান, উন্নত দেশের মাটিতে থেকেও অটুট দেশপ্রেম,নতুন দেশের মাটিতে নতুন ভাষা আর বিভিন্ন আঘাত বুক পেতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে পুরো বইয়ে তুলে ধরেছেন।

আমি বই পড়তে খুব পছন্দ করি। সময়ের অভাবে বইটা পড়তে অনেক দেরি হয়ে গেল। জমির হোসেন এর এই বইটি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ এ চৈতন্য প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়। আরেকটি বিষয় সবার সাথে শেয়ার করতে চাই বই পড়ার সময় আমার ভীষণ ভালোলাগার লাইনগুলো আমি সব সময় আন্ডার লাইন করি। এই বইয়ের অসংখ্য পৃষ্ঠাতে আন্ডারলাইন করেছি।

আগামী বই মেলাতে আবারও জমির হোসেন এর লেখা নতুন আরেকটি বই এর পাঠক হবার আশায় রইলাম। প্রতি বছর ইটালিসহ অনেক দেশে যাবার জন্য অনেক তরুণরা দালালের সহযোগিতা নেয়।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফাঁদে আটকে যায় তারা। তারপরে ইউরোপের কোন এক সাগরে ভেসে ওঠে তাদের লাশ। আবার কখনো বা শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে খালি হাতে।

আমাদের এই ধরনের সম্ভাবনাময়ী তরুণদের যেন প্রবাসের কোন সাগরে লাশ হয়ে ভেসে উঠতে না হয়, এই জন্য আপনারা যারা প্রবাসী লেখক তাদের বই পড়লে মানুষের উপকারে আসবে বিশেষ করে এই ধরনের লেখা বই আমরা আরও এরকম বই পড়তে চাই। একজন নিরপেক্ষ পাঠক হিসেবে লিখছি, জমির হোসেন এর লেখা বইটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বইটার নাম যথার্থ হয়েছে। চৈতন্য প্রকাশনার প্রকাশককে ধন্যবাদ সুন্দর একটা বই পাঠককে উপহার দেয়ার জন্য। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

আমিরাতে রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাত পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে। ২১ মার্চ স্থানীয় গণমাধ্যমে দেশটির বিজ্ঞানী ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন- সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ এপ্রিল শুক্রবার চাঁদ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ তথ্য অনুযায়ী ১ এপ্রিল চাঁদ দেখে ২ এপ্রিল প্রথম রমজান শুরু হওয়ার কথা। এ বছর ৩০ দিন রোজা পালনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। ৩০টি রোজা শেষে ২ মে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে।

চাঁদ দেখে রোজা শুরু করে রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করা হয়। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে রমজানের শুরু ও সমাপ্তি হয়৷ আমিরাত সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করলেও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে রোজা ও ঈদের তারিখ।