বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 303

ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ দুই বন্ধু

বসে আছি ব্যাল্টিক সাগরের পাড়ে।
ড্যাফোডিল ফুলগুলো আজও দুলছে বাতাসে।
হাঁটতে পথে তাকে অনেকবার দেখেছি,
কখনও মন চাইনি তাকে তুলতে।

আজ একগুচ্ছ ড্যাফোডিল ফুল নিজের হাতে তুলেছি,
হঠাৎ যখন আমি তাকে দেখেছি।
ড্যাফোডিল ফুলগুলো তার সামনে ধরেছি,
ফুলের গুচ্ছটি নিলো সাথে আমাকেও জড়িয়ে ধরল।

আমি যারে বেসেছি ভালো, সে সেদিন এসেছিল,
দেখা হয়েছিল তার সাথে সাঁজের বেলায়।

সে এসেছিল ভয় এবং সন্দেহ নিয়ে,
এসেছিল সমস্যার সমাধান খুঁজতে।
সে এসেছিল বিশ্বাসের খোঁজে,
এসেছিল আমাকে কিছু বলতে।

আমি পেরেছি তার সকল কথা মন দিয়ে শুনতে,
তাকে অন্ধকারে ফেলে চলে যাবো না বলেছি।
আমি তাকে তার বাকস্বাধীনতাকে বাধা দেব না,
তার বিপদে সরে যাব না কথা দিয়েছি।
আমি বলবো না কখনো সে কী করবে কী না করবে,
মেনে নিব সে যেমন ঠিক তেমন করে।

কিন্তু আমি তো পারবো না যা ঘটেছে তার জীবনে তা মুছে দিতে?
আমি শুধু পারবো তাকে হৃদয় দিয়ে বুঝতে।

আমি প্রথম যেদিন তাকে দেখেছি,
শুধু বন্ধু মনে করে মিশেছি।
অনুভবে মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছি,
আর তাই তার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছি।

এসো হে বন্ধু এসো মোর কাছে,
থাকো আজীবন আমারই পাশে।
ভালোবাসার বন্ধনে থাকব পরস্পরের হৃদয়ে,
আমরা দুই বন্ধু আজীবন ধরে।
রঙ্গিন স্বপ্নে গাঁথা ড্যাফোডিল ফুলের মালা,
পরাব তোমার গলে সুইডিশ মিডসামারের সন্ধ্যাবেলা।

স্লিপ এপনিয়া সিনড্রোম কী, উপসর্গ ও চিকিৎসা

নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা। মধ্যবয়সি নারী পুরুষের এটি বেশি হয়ে থাকে। স্বাস্থ্যবানদের অল্পবিস্তর নাক ডাকা চিন্তার বিষয় নয়। তবে বিকট শব্দে নাক ডাকা যা বন্ধ দরজা দিয়েও পাশের ঘর থেকে শোনা যায়, তা সব বয়সেই অস্বস্তিকর।

শিশুদের নাক ডাকা সব সময়ই অস্বাভাবিক, যা সাধারণত বিভিন্ন রোগের কারণে হয়ে থাকে। মারাত্মক হল ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে আসা বা শ্বাস নেওয়ার জন্য হাঁসফাঁস করা যাকে স্নোরিং ও স্লিপ এপনিয়া সিনড্রোম বলে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি শ্বাসের রাস্তায় বাতাস ব্যাপকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে হয়ে থাকে, একে অবসট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া বলে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইমপালস হাসপাতালের নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন।

স্লিপ এপনিয়া সিনড্রোম নাসারন্ধ্র্র থেকে ফুসফুস পর্যন্ত যে কোনো স্থানে হতে পারে। সাধারণত নাক, তালু বা মুখগহ্বর হল নাক ডাকার উৎপত্তিস্থল। এ স্থানে কোনো রোগ বা প্রদাহের কারণে প্রতিবন্ধকতা হলে নাক ডাকার সৃষ্টি হয়ে থাকে। নাকের হাড় বাঁকা, সাইনাসে প্রদাহ এবং মোটা মানুষের ক্ষেত্রে গলার মধ্যে অতিরিক্ত মেদ জমা নাক ডাকার প্রধান কারণ। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এডেনয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে অথবা ঘনঘন ইনফেকশনজনিত অথবা কোনো কারণে টনসিল বড় হয়ে গেলে অথবা উভয় ক্ষেত্রে সাধারণত এমনটি হয়ে থাকে।

উপসর্গ

বুদ্ধিমত্তার ক্রমশ অবনতি, অমনোযোগিতা, মনোনিবেশের অক্ষমতা, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, মাথাব্যথা, সকালে মাথা ভার হয়ে থাকা, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঘনঘন প্রস্রাব ইত্যাদি নাক ডাকা রোগের প্রধান উপসর্গ।

সাধারণত এ ধরনের বেশিরভাগ রোগী দিনের বেলা ঘুমঘুম ভাব বা তন্দ্রাভাবজনিত সমস্যার কারণে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। অভিজ্ঞতায় দেখেছি, রোগীর নিকটজন নাক ডাকা বা দমবন্ধ হওয়া সমস্যাজনিত কারণে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসেন।

ঘুমন্ত অবস্থায় যা ঘটে

রোগী সাধারণত শোয়ামাত্র ঘুমিয়ে পড়ে। রোগী ঘুমানোর সঙ্গে সঙ্গে নাক ডাকতে শুরু করে এবং নাক ডাকার শব্দ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে থাকে এবং এক পর্যায়ে রোগীর দম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে আসে। এর ফলে রোগী দম নেওয়ার জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকে। এ অবস্থা চরমে উঠলে রোগীর ঘুম ভেঙে যায়; ফলে রোগী আবার স্বাভাবিক শ্বাস নিতে শুরু করে। এতে তার কিছুটা প্রশান্তি আসে। যেহেতু শরীর ক্লান্ত থাকে, সে আবার অতি দ্রুত নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং পুনরায় নাক ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ঘটনাচক্র সাধারণত পুনঃপুনঃ আবর্তিত হতে থাকে।

ঘুমের মধ্যে আরাম হওয়ার পরিবর্তে রোগী সারারাত ধরে জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে লিপ্ত থাকে। এর ফলে জীবনের ওপর ঝুঁকি পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। যেমন- কার্ডিয়াক এরেস্ট, হার্ট ফেইলুর এবং শিশুদের ক্ষেত্রে কট ডেথ ইত্যাদি। এসব রোগী দিনের বেলাতেও দুর্বল ও তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে এবং কাজে মনোনিবেশ করতে ব্যাঘাত ঘটে। রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতার দরুন ফুসফুসিয় উচ্চ রক্তচাপ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে।

এ রোগের প্রাথমিক অবস্থায় ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে অথবা ঘুমানো অবস্থায় শরীরের কোনো বিশেষ অবস্থানে এ ঘটনা ঘটে থাকে।

রোগ নিরূপণ

নাকের এন্ডোস্কপি, গলার এক্স-রে, বুকের এক্স-রে, ইসিজি এবং রক্তের কিছু নিয়মিত সাধারণ পরীক্ষা করা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নাকের এন্ডোস্কপি (এক ধরনের এন্ডোস্কোপ যা শুধু নাক এবং শ্বাসনালি দেখার জন্য নির্মিত) সবক্ষেত্রে দরকার, যাতে করে শ্বাসের রাস্তার উপরিভাগের অবস্থা নিরূপণ করা যায়।

‘পলিসমনোগ্রাফি’ দিয়ে ঘুমের শ্বাসহীন অবস্থা ও নাক ডাকার মাত্রা সবচেয়ে ভালোভাবে নির্ণয় করা যায়। এ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে একটি বিশেষ ব্যবস্থায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক লিড (পরিমাপক) বসিয়ে ঘুমের ব্যবস্থা করানো হয়। এর দ্বারা ঘুমের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা, এ সময়ে রক্তে অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্রম ও বিভিন্ন রকম সমস্যা রেকর্ড করা যায়। এর একটি সহজ বিকল্প হল রোগীর ঘুমন্ত অবস্থায় পাল্স অক্সিমিটারের মাধ্যমে রাতভর অক্সিজেনের মাত্রা রেকর্ড করা।

সাধারণ করণীয়

মেদবহুল শরীরে ওজন কমানো অত্যাবশ্যক। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ওজন কমালেই নাক ডাকা সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। রোগীর ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে। ঘুমের ওষুধ সেবন করার অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করতে হবে। দিবাভাগে অতিরিক্ত পরিশ্রমও পরিহার করা উচিত।

বিশেষ করণীয়

শিশুদের প্রধান কারণ হল টনসিল ও এডেনয়েড গ্রন্থির প্রদাহ বা বড় হয়ে যাওয়া। যদি এগুলোর কারণেই এটি ঘটে থাকে তাহলে অপারেশনের মাধ্যমে তা অপসারণ করাই একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা। বিশেষ করে বড় এডেনয়েড যদি নাক ডাকা এবং ঘুমে শ্বাসহীন রোগের কারণ হয় তবে তা অপসারণ বাধ্যতামূলক। এ ব্যাপারে বিশ্বের কোথাও বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো শাখায় কোনো দ্বিমত নেই।

প্রাপ্তবয়স্কদের ওজনাধিক্যের পর নাক ডাকার দ্বিতীয় কারণ হল নাকের কোনো সমস্যা। সাধারণত নাকের হাড় বাঁকা, নাকের অ্যালার্জি, নাকের ভেতরের মাংস বেড়ে যাওয়া, নাকের পলিপ এগুলোই নাকের সমস্যার প্রধান কারণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাসনালির টিউমার অথবা জিহ্বার পশ্চাৎ ভাগের টিউমার বা টনসিলের টিউমার এসব জটিল কারণেও হতে পারে।

স্বরযন্ত্র বা তার আশপাশের রোগের কারণে সাধারণত স্ট্রাইডর হয়ে থাকে যা নাক ডাকার শব্দ থেকে ভিন্নতর। এ দুই ধরনের শব্দের তফাৎ নির্ণয় করা অনেক সময় ডাক্তারের পক্ষেও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

কী করবেন
নাক ডাকা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রথমেই নাকের সমস্যার চিকিৎসা করতে হবে। নাকের অ্যালার্জি ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নাকের হাড় বাঁকা থাকলে তা অবশ্যই শল্যচিকিৎসা দ্বারা অপারেশন করাতে হবে। সর্বোপরি নাকে সিপিএপি (কন্টিউনাস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার) মেশিন ব্যবহার করা যায়। তা ব্যবহার করার আগে নাকের কোনো সমস্যা থাকলে আগে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ যন্ত্রের ব্যবহার প্রথম দর্শনে দেখতে একটু দৃষ্টিকটু ও অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, এটি ব্যবহার শুরু করলে রোগীরা এর সুফল পেতে শুরু করে।

মেসে ইবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী একটি মেস থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কক্ষের তালা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ইবি থানা পুলিশ।

নিহত ওই শিক্ষার্থীরা নাম আবিদ আল আজাদ। তিনি ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার আরজিভাট গ্রামে। পিতার নাম জহুরুল হক প্রামাণিক।

উদ্ধারকারী থানা পুলিশের এএসআই শহীদ জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক কাজ শেষে লাশটিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করবো।

প্রধান ফটক সংলগ্ন ‘ব্রাদার্স ছাত্রাবাস’ নামে একটি মেসের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে থাকতেন নিহত আবিদ ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাব্বির আহম্মেদ।

সাব্বিরের ভাষ্যমতে, সকাল ৯টায় আবিদের সঙ্গে তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। তারপর তিনি ক্লাসে চলে যান। ক্লাস শেষ করে ক্যাম্পাস থেকে খাওয়া দাওয়া করে বাজারে চুল কাটাতে যান। রুমে এসে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে মই লাগিয়ে রুমের জানালা দিয়ে সিলিংয়ের সঙ্গে লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর, ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ড্রিল মেশিন দিয়ে দরজার ভিতরের লক ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ রকম ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

রাবিতে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের ৩ নেতাকর্মী আহত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় ৩ ছাত্রদল নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বিকালে ক্যাম্পাসের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রাবি ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাকির হোসেন রেজোওয়ান ও যুগ্ম-আহবায়ক তাহের রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিকালে কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মী তাদের টেন্টে বসেছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কোনো উস্কানি ছাড়াই লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়।

ছাত্রদলের রাবি শাখার আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ছাত্রলীগের হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। তাই আমরা তাদের প্রতিহত করেছি।

মতিহার থানার ওসি আনোয়ার আলী জানান, ক্যাম্পাসে হামলার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অডিও-সিনেমার গানে কবি সাহাব

অডিও ও সিনেমায় নিয়মিত লিখছেন কবি সাহাব উদ্দিন রাব্বানি। এরইমধ্যে তার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ক্লোজআপ তারকা রাশেদ, ফারাবী, অংকন, নওরীন, শিল্পী বিশ্বাসসহ অনেকে। তারই ধারাবাহিকতায় শিগগিরই প্রকাশ হবে রাব্বানীর কথায় ‘কালা’ শিরোনামের নতুন একটি গান। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন মাহমুদা ইয়াসমিন নীপা। এটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন শামীম মাহমুদ।

এদিকে একই সংগীত পরিচালকের সঙ্গে সম্প্রতি ‘জ্বলছি আমি’ শিরোনামের একটি সিনেমার জন্যও গান লিখেছেন এই কবি-গীতিকার। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী দ্বীপ ভৌমিক ও কুমকুম লায়লা। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন রাজু চৌধুরী।

নতুন গান ও সিনেমার গানটি নিয়ে কবি সাহাব উদ্দিন রাব্বানি বলেন, ‘কালা’ গানটি নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। গানটির কথার সঙ্গে দারুণ সুর করা হয়েছে। এভাবে দর্শক-শ্রোতাদের জন্য ভালো কিছু কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।

প্রসঙ্গত, ‘গুলি করে মেরে ফেলো আমায়’ কবিতাটির মধ্যে দিয়ে পাঠক মহলে বেশ সাড়া ফেলেন রাব্বানি। এছাড়া তার লেখা ‘স্বপ্ন’, নির্যতিত’, ‘বিরহ’, ‘মা’ ও ‘পৃথিবীর কোলাহল’ কবিতাটিও বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত সামান্থা-বিজয়

দক্ষিণী ছবির নায়িকা সামান্থা রুথ প্রভু এবং বিজয় দেভেরাকোন্ডা কাশ্মীরে ছবির শুটিং করার সময় গুরুতর আহত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। সেখানেই দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা।

দেভেরাকোন্ডার টিমের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় সামান্থা এবং বিজয় একটি স্টান্টের দৃশ্য শুট করছিলেন, তখনই দুর্ঘটনায় পড়েন দক্ষিণী এ দুই অভিনেতা।

তিনি আরও বলেন, দৃশ্যটি খুবই কঠিন ছিল। লিডার রিভারের ওপরের দড়ির ব্রিজ দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়েছিল দুজনকে। সেই সময় দড়ি ছিঁড়ে যায়। গাড়িসহ তারা পড়ে যান নদীতে। তাতে তাদের পিঠে আঘাত লাগে। তবে দ্রুতই তাদের উদ্ধার করা হয়।

তবে রোববার দুর্ঘটনার পর ফের শুটিং শুরু করেন দুই অভিনেতা। পিঠে ব্যথা নিয়েই শুটিং চালিয়ে গেছেন সামান্থা ও বিজয়। বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শুট করছেন তারা।

সূত্র: জিনিউজ

সাকিবকে পেছনে ফেললেন মুশফিক

শ্রীলংকার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ১০৫ রানের ইনিংস খেলার পথে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিকুর রহিম।

চট্টগ্রামে সেঞ্চুরির পর ঢাকা টেস্টে খেলতে নেমেও সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিক। সোমবার মিরপুরে ২৪ রানে ৫ উইকেট পতনের পর লিটন দাসের সঙ্গে জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন ২৫৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন লিটন-মুশফিক। আর এই জুটিতেই জোড়া সেঞ্চুরি করেন তারা।

এদিন মিরপুরে ১১৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলার মধ্য দিয়ে সাকিব আল হাসানকে টপকে গেলেন মুশফিক। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টেস্টে এতদিন ১৪০৯ রান করে শীর্ষে ছিলেন সাকিব। সোমবার সেঞ্চুরি করার মধ্য দিয়ে সাকিবকে ছাড়িয়ে যান মুশফিক। মিরপুর স্টেডিয়ামে টেস্টে মুশফিকের সংগ্রহ ১৪১৭ রান।

শুধু টেস্টেই নয়, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান এখন মুশফিকুর রহিমের। এতদিন ৪৪৮৩ রান করে এই রেকর্ড ছিল সাকিবের দখলে। সাকিবের সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন মুশফিক। মিরপুরে তার সংগ্রহ ৪৪৯৪ রান।

মিরপুর স্টেডিয়ামে টেস্টের সাদা পোশাকে এ নিয়ে তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিক। মিরপুর টেস্টে সবচেয়ে বেশি শতকের রেকর্ডে মুমিনুল হকের পাশে বসেছেন মুশফিক।

লিটনকে যে পরামর্শ দিলেন ডমিঙ্গো

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে সোমবার শ্রীলংকার বিপক্ষে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যাওয়া দলকে খেলায় ফেরান মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস।

ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ২৫৩ রানের জুটি গড়ার পথে মুশফিক-লিটন দুজনেই জোড়া সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১১৫ ও ১৩৫ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিক-লিটন।

লিটনের বদলে যাওয়ার প্রসঙ্গে জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেকনিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লিটনের খেলা অনেক বিবর্তিত হয়েছে। খুব ভালো ব্যাটিং টেকনিক আয়ত্ত করেছে সে। গত দেড় বছর ধরে টেস্ট ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার খুব ভালো পথ সে খুঁজে নিয়েছে। সে জানে, কখন ঘাম ঝরাতে হবে, কখন নয়। খুব ভালো একটি রুটিন সে অনুসরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, নিজের খেলা সে পরের ধাপে নিয়ে গেছে। আমার মনে হয়, ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে থাকাটা তাকে সহায়তা করছে। সামনের সময়ে অবশ্যই সে বাংলাদেশের হয়ে চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাট করবে। ছয়-সাতে খেলতে নামলে, চাপ অনেকটাই সরে যায় তার ওপর থেকে। এখানে নেমে সে অভিপ্রায় দেখাতে পারে, ইতিবাচক ব্যাটিং করতে পারে।

ডমিঙ্গো বলেন, এটা তার স্রেফ তৃতীয় সেঞ্চুরি। এখনও তাকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। সে দুর্দান্ত ক্রিকেটার, দেখার জন্য দারুণ প্রশান্তিময়। সে সম্ভাব্য সফল এক টেস্ট ক্যারিয়ারের এখনও কেবল শুরুতে আছে সে। অনেক কাজ করার এখনও বাকি। গত দেড় মাসে সে অনেক কাজ করেছে, তবে তার অধ্যায় এখনই শেষ নয়।

বনবিভাগের জমি নিয়ে বিরোধে যুবক খুন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় বনবিভাগের জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আমির হোসেন (৪০) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন।

ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ডুমখালী এলাকায় সোমবার রাত ১০টার সময় ঘটেছে এ ঘটনা।নিহত আমির হোসেন পূর্ব ডুমখালী গ্রামের মৃত কবির আহমেদের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বনবিভাগের জমি দখল বেদখল নিয়ে সোমবার রাত দশটার দিকে ডুমখালী গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় পূর্ব ডুমখালী গ্রামের মৃত কবির আহমেদের পুত্র আমির হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর আমির হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জুয়েল ইসলাম বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় আমির হোসেন নিহতের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে চকরিয়া থানায় আনা হয়।

নৌকায় ধান শুকাচ্ছেন কৃষক

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় টানা পনেরো দিন বৃষ্টির পর সোমবার সকালে রোদ উঠায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তারা ধান শুকাতে পাকা রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠসহ খোলা জায়গা বেছে নিয়েছেন।

এদিকে শামীম আহম্মেদ নামে এক কৃষকের বাড়ির আঙিনা ও খলা (ধান শুকানোর স্থান) থেকে পানি না নামায় ধান শুকানোর জন্য স্থান বেছে নিয়েছেন তার ইঞ্জিনচালিত দুটি নৌকা। তার এই ধান শুকানোর পদ্ধতি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে উপজেলা জুড়ে ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তারা ধারণা করছেন বৃষ্টিপাত আর না হলে দুই দিনের মধ্যেই পানি বিপৎসীমার নিচে চলে আসবে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালীসহ উপজেলার সব নদনদীর পানি হাওড়ে প্রবেশ করায় উপজেলাজুড়ে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। এই পানি ও শ্রমিক সংকটের কারণে উপজেলার শতকরা প্রায় ২০ ভাগ বোরো ধান কৃষকেরা ঘরে তুলতে পারেননি।

সোমবার সকাল থেকে পানি কমতে থাকায় ধান ঘরে তুলতে শ্রমিকদের সঙ্গে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ পরিবারের লোকজনকে ধান কাটতে দেখা গেছে। এদিকে বেশ কয়েক দিন পর রোদ উঠলেও জায়গার অভাবে কৃষকেরা ধান শুকাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার জায়গার অভাবে অনেকে বেছে নিয়েছেন পাকা সড়ক, খোলা জায়গা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ইত্যাদি।

এরই মধ্যে শামীম আহম্মেদ নামে এক কৃষক ধান শুকানোর জন্য স্থান বেছে নিয়েছেন তার ইঞ্জিনচালিত দুইটি নৌকার ছাদ। আর এই বিষয়টির তথ্য ও ছবি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ওই কৃষকের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেন।

উপজেলার চত্রংপুর গ্রামের কৃষক শামীম আহম্মেদ বলেন, এ বছর তিনি আট একর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করেছেন। তার মধ্যে পাঁচ একর জমির ধান কেটেছেন। বাকি ধান পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। সোমবার সকাল থেকে পানি কমতে থাকায় শ্রমিকরা কোনোরকমে ওই ধান কাটতে শুরু করেছে। তবে বেশিরভাগ ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে রোদ না থাকায় ঘরে ধান থাকতে থাকতে অঙ্কুর গজিয়েছে। এখন (সোমবার) রোদ উঠলেও তার ধানের খলায় (ধান শুকানোর স্থান) প্রায় কোমর পানির নিচে থাকায় জায়গার অভাবে ধান শুকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। তাই তিনি দুটি নৌকার ছাদে কিছু কিছু করে ধান শুকাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ২১ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ১৬৫টি পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানিতে ভেসে গিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ।

এই ঢলের পানিতে খড় পচে যাওয়ায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিতে পারে বলেও কৃষকেরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম নৌকায় ধান শুকানোর বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে স্থানীয় কৃষকরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ধান শুকানোর জায়গা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শামীম আহম্মেদ নামে এক কৃষক তার নৌকায় ধান শুকাতে শুরু করেছেন।