শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 304

তাইওয়ান নিয়ে বাইডেনের বক্তব্য: কঠোর হুশিয়ারি দিল চীন

জাপান সফরে গিয়ে তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বক্তব্যকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়েছে চীন। এ জন্য চীন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, আমেরিকা যেন তাইওয়ান প্রসঙ্গে মুখ সামলে কথা বলে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাপান সফরে গিয়ে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা যেন তাইওয়ান প্রসঙ্গে মুখ সামলে কথা বলে।

সোমবার বাইডেন টোকিওতে বলেন, চীন তাইওয়ানে হামলা করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন তাইওয়ানের একেবারে কান ঘেঁষে জঙ্গি বিমান উড়িয়ে এবং অন্যান্য সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে ইতোমধ্যে বিপদ নিয়ে খেলছে।

এ সময় তিনি তাইওয়ান পরিস্থিতির সঙ্গে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার তুলনা করেন।

বাইডেনের এই বক্তব্যের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, তাইওয়ান ও ইউক্রেন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এই দুটিকে তুলনা করা উদ্ভট ব্যাপার।

তিনি বলেন, তাইওয়ান চীনা ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখানে কোনোরকম আপস বা ছাড়ের সুযোগ নেই এবং আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কাউকে দেব না।

তিনি আমেরিকাকে এক চীন নীতি মেনে চলার আহ্বান জানান।

জো বাইডেনের কঠোর হুশিয়ারির জবাব দিতে গিয়ে লিজিয়ান বলেন, আমেরিকার এ কথা জানা নেই যে, চীন নিজের ভূখণ্ড রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে।

উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ নেই। কিন্তু আমেরিকা তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কবিষয়ক এক ধারার অধীনে দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি করে। তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট নামে এ ধারায় বলা আছে যে, তাইওয়ান যাতে নিজেকে রক্ষা করতে পারে সে জন্য আমেরিকা দ্বীপটিকে সহযোগিতা করবে।

আমেরিকা পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং চীনের সরকার যে একটাই, এ বিষয়ে চীনের অবস্থানকে আমেরিকা কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতিও দিয়ে থাকে। সূত্র: আলজাজিরা, স্কাইনিউজ এইউ, সিএনএন, চায়না ডেইলি।

ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়াল

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বে প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলুর।

ইউএনএইচসিআরপ্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সোমবার জানান, যুদ্ধ, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের কারণে অনেক মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এ কারণেই প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়েছে।

বিবৃতিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাকে ‘আশঙ্কাজনক’ উল্লেখ করে ইউএনএইচসিআর বলেছে, এই বিশাল সংখ্যা যুদ্ধ থামাতে বিশ্বকে অবশ্যই তাগাদা দেবে।

যুদ্ধের ফলে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ নিজের ঘড়বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ধারণা করা হয়, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেন ছেড়েছেন ৬০ লাখের বেশি মানুষ।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের এই সংখ্যাকে ‘ওয়েকআপ-কল’ উল্লেখ করেন জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি।

এর আগে গত সপ্তাহে ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি সেন্টারের (এনআরসি) প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ২০২১ সালে নিজ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ই ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

করপোরেট কর আবারও কমছে ২.৫ শতাংশ

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরেও করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হচ্ছে। শুধু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিই এ সুবিধা পাবে, অন্য সব খাতের কর হার অপরিবর্তিত থাকবে। যদিও এ সুবিধা পেতে কঠিন শর্ত মানতে হবে। এতে ছাড়ের সুফল কতটুকু পাওয়া যাবে তা নিয়ে সন্দিহান বেসরকারি খাত। এ নিয়ে টানা তিন অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কর কমানোর পথে হাঁটছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অন্যদিকে একক মালিকানাধীন কোম্পানির (ওপিসি) কর হারও আড়াই শতাংশ কমানো হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের রাজস্বনীতি প্রণয়নে এনবিআরকে বেগ পোহাতে হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে কাঁচামাল ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখতে অনেক পণ্য আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড় দিতে হচ্ছে। এতে রাজস্ব আয় কমে যাবে। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এনবিআর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। কারণ বিনিয়োগ বাড়লে অর্থনীতিতে গতি আসবে। তাই বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় করপোরেট করে ছাড় দেওয়াকে যৌক্তিক মনে করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রগুলো বলছে, শর্তসাপেক্ষে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি কর হার আড়াই শতাংশ কমিয়ে যথাক্রমে ২০ শতাংশ ও ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করতে হবে। তা না হলে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে না। আর তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির যাবতীয় লেনদেন ব্যাংক অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। অন্য সব খাতে করপোরেট কর অপরিবর্তিত থাকছে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাজারে অন্যতম সমস্যা হলো সরবরাহ সংকট। এখানে ভালো কোম্পানির সংখ্যা খুব কম। ফলে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কর ছাড় ইতিবাচক। তবে দেখতে হবে ওই সুযোগ নিয়ে কোনো দুর্বল কোম্পানি যাতে বাজারে না আসে।

অবশ্য উদ্যোক্তারা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে শুধু করপোরেট কর এ ছাড় দিয়ে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো ও জ্বালানির মূল্যও বিনিয়োগের বড় নিয়ামক। সম্প্রতি গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী দাম বাড়ানো হলে নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। শুধু তাই নয়, পুরাতন শিল্প টিকিয়ে রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তাই বাজেটে করপোরেট করের পাশাপাশি আপৎকালীন সময়ের গ্যাস-বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, করপোরেট কর কমানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বাংলাদেশের কার্যকরী কর হার অনেক বেশি, যা প্রতিযোগী সক্ষম নয়। আমদানি বা উৎপাদন পর্যায়ে ১২-১৩টি খাতে অগ্রিম ট্যাক্স-ভ্যাট কেটে নেওয়া হয়। পরে তা রিফান্ড পাওয়া যায় না। রিফান্ড ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারলে বেসরকারি খাত এ সুফল ভোগ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানিকে এনবিআর কর ছাড় দিচ্ছে, নিঃসন্দেহে এটাও ভালো উদ্যোগ। কিন্তু গোড়াতেই গলদ আছে। আইনে কোম্পানি গঠনে যে পরিমাণ মূলধনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে তাতে অনেক ছোট উদ্যোক্তা কোম্পানি গঠনে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই সুযোগ দিয়েও ছোট উদ্যোক্তাদের ফরমাল অর্থনীতিতে আনা যাচ্ছে না।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের নির্বাহী চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, কর কমানোর উদ্যোগতে স্বাগত জানাই। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিই একমাত্র নিয়ামক নয়। যেমন বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ আছে, বাংলাদেশের কর পলিসি স্থিতিশীল নয়। ঘন ঘন পরিবর্তন হয়। এর সঙ্গে কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু জটিলতা আছে। আইনে কর কর্মকর্তাদের অনেক ক্ষমতা দেওয়া আছে। তারা চাইলে কোনো ব্যয়কে গ্রহণ না করে করারোপ করতে পারেন। এ ধরনের খুঁটিনাটি আরও কিছু বিষয় আছে, যেগুলো সমাধান করলে করপোরেট কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এটা কমালেই বিনিয়োগ কর পলিসিতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ আসে। এজন ঘনঘন পরিবর্তন না করে দীর্ঘমেয়াদি কর পলিসি দিতে হবে। কর দিতে গেলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। অটোমেশন করতে পারলে বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংকের কর হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ও তালিকাবহির্ভূত ব্যাংকের কর হার ৪০ শতাংশ। মার্চেন্ট ব্যাংকের কর ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও তামাক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর ৪৫ শতাংশ। মোবাইল অপারেট কোম্পানির কর তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত হলে ৪৫ শতাংশ কর দিতে হয়। সমবায় প্রতিষ্ঠান (কো-অপারেটিভ সোসাইটি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের কর ১২ শতাংশ। এর বাইরে তৈরি পোশাক খাতের সবুজ প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ ও সাধারণ প্রতিষ্ঠানের কর ১২ শতাংশ। টেক্সটাইল শিল্পের করপোরেট কর ১৫ শতাংশ।

অন্যদিকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানির (ওপিসি) করপোরেট করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আগে কোম্পানি আইনের অধীন গঠিত পুঁজিবাজারের তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিকে সাড়ে ৩২ শতাংশ করপোরেট কর দিতে হয়। চলতি অর্থবছরে সেটি কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সেটি আরও আড়াই শতাংশ কমিয়ে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। মূলত ছোট উদ্যোক্তাদের মূলধারার অর্থনীতিতে আনতে বাজেটে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভর্তুকি বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে মূল্যস্ফীতি

বৈশ্বিক সংকটে বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট হচ্ছেন নিম্ন ও নিম্ন মধ্যম আয়ের মানুষ। ফলে আগামী বাজেটে (২০২২-২৩) প্রবৃদ্ধির অর্জনের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এ লক্ষ্যে ভর্তুকি বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে মূল্যস্ফীতি-এমন নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। কারণ আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণেই দেশে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ কারণে এটি ঘটেনি। এ জন্য খাদ্যপণ্য, সার, জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাড়িয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করার রুটম্যাপ তৈরি করছে অর্থ বিভাগ। আর সেটি বাস্তবায়ন করতে ভর্তুকি ও প্রণোদনায় আগামীতে প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

তবে ভর্তুকি বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এক ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ভর্তুকি বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ সুবিধাভোগী নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সুষ্ঠুভাবে ভর্তুকি পৌঁছানো অনেকটা কঠিন, যা খুবই চ্যালেঞ্জিং। তিনি আরও বলেন, খাদ্যদ্রব্যের অধিক মূল্যের কারণেই মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। এখন নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

সূত্রমতে, ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাড়ানোর একটি কাঠামো দাঁড় করেছে অর্থ বিভাগ। সেখানে দেখা গেছে, চলতি (২০২১-২২) অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে খাদ্যে ভর্তুকি ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আগামী বাজেটের ক্ষেত্রে ১২৪৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষিতে চলতি সংশোধিত বাজেটে প্রণোদনা (কৃষকের সারের জন্য) সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। আগামী বাজেটে আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। বিদ্যুতে ভর্তুকি আগামী বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরে রয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে ভর্তুকি চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে ২ হাজার ৩শ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে এ খাতে নতুন বাজেটে বরাদ্দ থাকছে ১৭ হাজার ৩শ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ মনে করছে কৃষককে ৩২ টাকা মূল্যে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখলে উৎপাদিত পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়বে না। কারণ বর্তমান বিশ্ববাজারে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের মূল্য ৯৬ টাকা উঠেছে। এ জন্য কৃষকের সারের ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণেই মূল্যস্ফীতি ঘটছে। তাই গরিব মানুষকে কম দামে ওএমএসসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে এসব খাদ্য সরবরাহ করা হবে। যাতে বাজার থেকে বেশি দামে কিনে খেতে না হয়। এ জন্য এ বছর খাদ্য খাতেও ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে। বিশ্ববাজারে এলএনজি গ্যাসের মূল্য বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। ফলে বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও। কিন্তু সেভাবে বিদ্যুতের দাম এই মুহূর্তে সরকার না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যুতেও বড় ধরনের ভর্তুকি গুনতে হবে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে।

সবচেয়ে বেশি মূল্য বেড়েছে জ্বালানি তেলে। নভেম্বরে জ্বালানি তেলের মূল্য এক দফা সমন্বয় করার পর নতুন করে আরও দাম বাড়ানো হচ্ছে না। কিন্তু বিশ্ববাজার থেকে বেশি মূল্যে কিনতে হচ্ছে জ্বালানি তেল। এ খাতেও ভর্তুকি দিয়ে নির্ধারিত মূল্যেই জ্বালানি তেল বিক্রি করবে সরকার। কারণ এ মুহূর্তে এটি করা না হলে মূল্যস্ফীতি আরও এক দফা বাড়বে।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ জন্য ভর্তুকি ব্যয় বাড়ানো হবে। আর সেটি করা না হলে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমান মূল্যস্ফীতি ঘটছে আমদানিকৃত পণ্যের কারণে। বৈশ্বিক যে অনিশ্চয়তা ও বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব ফেলছে বাংলাদেশের ওপর। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে অর্থ বিভাগ। ধরে নেওয়া হচ্ছে নতুন কৌশল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। যদিও বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশের মূল্যস্ফীতির হার বর্তমান ৬ দশমিক ২২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ধরা হলে সংশোধিত বাজেটে এ হার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও মূল্যস্ফীতির হার ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

আর এই মূল্যস্ফীতির কারণে বড় ধরনের সমস্যা পড়েছের নিম্ন আয়ের মানুষ। মানুষের নিত্যপণ্য ভোজ্যতেল ও পামতেল বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য বেড়েছে ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সয়াবিন বেড়েছে ২০ শতাংশ। এর প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে আরও বেশি বেড়েছে। এছাড়া গমের দাম ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। গমের একটি বড় অংশ আসছে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে। যুদ্ধের কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া প্রায় দ্বিগুণের মতো বেড়েছে জ্বালানি তেলের মূল্য। বিশ্বব্যাংক বলেছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে ‘৫০ বছরের সবচেয়ে বড় ধাক্কা’ আসছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, তত বাড়বে মূল্যস্ফীতির ভোগান্তি। এই যুদ্ধের কারণে গ্যাস থেকে গম ও তুলা পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যে দাম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ ধরনের বক্তব্য আসে কী করে: ফখরুল

পদ্মা সেতুর ইস্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে তার এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কী করে আসে। এই বক্তব্যের ধিক্কার জানানোর ভাষা আমাদের নেই।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ‘খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে’ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ভাবতেও পারি না, যিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন, তার মুখ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন, এই ধরনের সন্ত্রাসী বক্তব্য কী করে আসে। সব দেশের মানুষ এর নিন্দা জানাচ্ছে। কোনো সভ্য সমাজে, কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে এই ভাষা ব্যবহার করা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার দিন শেষ উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দুর্বল হয়ে গেছেন। তিনি দেখতে পাচ্ছেন এখন আর ক্ষমতায় আসতে পারবেন না।

পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি নয় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের পকেটের টাকা থেকে যে ট্যাক্স কেটে নিয়েছেন, সেই ট্যাক্সের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। এখানে আপনারা যে দুর্নীতি করেছেন, সব দুর্নীতির সীমা ছাড়িয়ে গেছে। জনগণ জানতে চায়, পদ্মা সেতুর অর্থের জন্য তাদের কাছ থেকে কত টাকা কেটেছেন। কত টাকা পদ্মা সেতুতে ব্যয় করেছেন আর কত টাকা নিজের পকেটে ভরিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ‘উন্নয়ন উন্নয়ন’ বলে চিৎকার করলেও জনগণের উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘কার উন্নয়ন করেছেন? উন্নয়ন করেছেন পিকে হালদারের, উন্নয়ন করেছেন আপনাদের শিক্ষামন্ত্রীর ভাইয়ের। উন্নয়ন করেছেন ফরিদপুরের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ও তার ভাইয়ের এবং উন্নয়ন করেছেন আপনাদের নিজেদের। প্রত্যেকে যারা ক্ষমতায় আছেন এবং এই দেশকে একটা লুটপাটের রাজত্বে পরিণত করেছেন। জনগণের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

সমাবেশে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নাল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন প্রমুখ।

মির্জা ফখরুলকে ক্ষমা চাইতে বললেন এসএম কামাল

পদ্মা সেতু নিয়ে বিরোধিতা ও জিএসপি সুবিধা বাতিল চেয়ে চিঠি লেখায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন।

তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া ২০১৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্টে একটি নিবন্ধনে বলেছিলেন পদ্মা সেতু অর্থায়ন বন্ধ করে বিশ্বব্যাংক সঠিক কাজ করেছে। আর বিএনপির মহাসচিব জিএসপি সুবিধা বাতিল চেয়ে চিঠি লিখেছিল। তারা দেশ বিরোধী। এদের জাতির কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।

সোমবার সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের তৈরি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

এসএম কামাল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু যেন না হয় সেজন্য ড. ইউনুস ও খালেদা জিয়ারা নানা ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। পদ্মা সেতুর সঙ্গে বাংলাদেশের সুনাম জড়িত।

আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই জানিয়ে এসএম কামাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আন্দোলনের মধ্যে আওয়ামী লীগের জন্ম। আন্দোলন কত প্রকার কি কি আওয়ামী লীগ জানে।

তিনি বলেন, ভোটের প্রস্ততি নিন। জনগণের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান। সামনে প্রতিযোগিতাপূর্ন নির্বাচন হোক। সে নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। উন্নয়নের কারণেই দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে, নৌকাকে ভোট দেবে।

বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ড. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা এমপি ও আব্দুল আউয়াল শামীম, প্রকৌশলী তানভির শাকিল জয় এমপি ও আলহাজ্ব আবদুল মমিন মন্ডল এমপি, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেনসহ জেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

উদ্বোধক ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. কে এম হোসেন আলী হাসান, প্রধান বক্তা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস ছামাদ তালুকদার।

এদিকে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বেলকুচি উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (সদ্য সাবেক) বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলখোশ আলী প্রাং সভাপতিত্ব করেন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সরকার সঞ্চালনা করেন। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুল মমিন মন্ডলকে সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

ফিরে আসতে চায় ওরাও

প্রতি বছরই নানা প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে ভারতে পাচার হচ্ছেন অসংখ্য তরুণী। অভাবে, উচ্চাভিলাষে উন্নত জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ভারতে গিয়ে অমানবিক জীবনের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। প্রায়শই তাদের ওপর নেমে আসছে নির্মম নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে এক সময়ে বাধ্য হয়ে হোটেল, ম্যাসাজ পার্লার ও বিভিন্ন বাসায় অনৈতিক কাজে জড়াতে হচ্ছে তাদের। নিপীড়নের শিকার অনেকে আবার নিপীড়কের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হচ্ছেন।

অনেকে নিজের সর্বনাশা পরিণতি যাতে বরণ করতে না হয়-সেজন্য সদ্য পাচার হওয়া তরুণীদের পালাতে সাহায্য করেছেন। যাদের ওপরেও পরে নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন। শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করে সেসবের ভিডিও ধারণ করে রাখে চক্রের সদস্যরা। এভাবে একবার চক্রের ফাঁদে পড়ে ‘জাহান্নামের জীবন’ বরণ করতে হচ্ছে পাচারের শিকার তরুণীদের। কিন্তু তারা সব সময় স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখছেন দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে নতুন জীবন শুরুর। টিকটক চক্রের মাধ্যমে ভারতে পাচার হওয়া তরুণীরা দেশে ফিরে এমন তথ্যই জানিয়েছেন।

শনিবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেঙ্গালুরুতে পাচার ও যৌন সহিংসতার শিকার বাংলাদেশি এক তরুণীকে হস্তান্তর করে। এছাড়া পাচারের শিকার আরও তিন তরুণীকে ফিরিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত বছরের মাঝামাঝিতে বেঙ্গালুরুতে নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন ওই তরুণী। নিপীড়নের সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর দেশে ও ভারতে গ্রেফতার হন চক্রের ৩২ জন। এদের মধ্যে বাংলাদেশে গ্রেফতার হন ২০ জন। রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ছয়টি মামলা করা হয়। যাদের মধ্যে ভারতে পাচার হয়ে ফিরে আসা ভুক্তভোগীও রয়েছেন। নির্যাতনের শিকার তরুণীদের সঙ্গে ভারতের দিনগুলোর বিষয়ে কথা হয় যুগান্তরের। সেখানে উঠে আসে সেই সময়ের অবর্ণনীয় নির্যাতনের বর্ণনা। তাদের আক্ষেপ ছিল-‘অন্যরাও যদি দেশে ফিরে আসতে পারত!’ পুলিশ এখন দেশীয় চক্র শনাক্তসহ পাচার হওয়া তরুণীদের ফেরাতে কাজ করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার যুগান্তরকে বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীকে সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। তাকে মঙ্গলবার আদালতে নেওয়া হবে।

ওই তরুণী এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাবা-মাকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদেছেন। ফিরে আসাকে ‘নতুন জীবন’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি মানব পাচার চক্রের সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী মানব পাচারের সিন্ডিকেট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে তার কথায়। যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করে রাখা তরুণীদের ভারতে পাচারের সব আয়োজন করে রাখে। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলার চক্রের অনেক সদস্যের কথা উঠে এসেছে তার বর্ণনায়। সেই অনুযায়ী মানব পাচার চক্রের মূল হোতাদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আশিক হাসান যুগান্তরকে বলেন, গত বছর নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া ওই তরুণী এখনো ট্রমাটাইজড। যদিও দেশে আসার আগে ভারতের সেফ হোমে থাকায় তার মানসিক অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা মেয়েটির মা-বাবা তার সঙ্গে রয়েছেন। সোমবার তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর হাতিরঝিল থানায় এ সংক্রান্ত ছয়টি মামলা হয়। সেখানে টিকটক হৃদয়সহ যাদের নাম এসেছে, যেসব অভিযোগ এসেছে সেসব বিষয়েও তার থেকে তথ্য জানতে চাওয়া হবে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তরুণীর থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ভারতে এখনও এমন অনেক তরুণী অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছেন বলেও জানান ভুক্তভোগী তরুণী। তিনি জানিয়েছেন, পার্লারে চাকরির কথা বলে টিকটক হৃদয় বাবুর চক্র তাকে ভারতে পাচার করে। সেখানে পরিবারের অসম্মতিতেই ভালো জীবনের আশায় ভারতে গিয়েছিলেন। বেনাপোল দিয়ে তাকে পাচার করা হয়। এরপর বেঙ্গালুরুতে নিয়ে একটি বাসায় রাখা হয়। সেখান থেকে সপ্তাহ খানেকের বেশি সময় পর তাকে একটি হোটেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পালালে তাকে আরেক জায়গায় নিয়ে তার ওপর বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ আনা হয়, পাচার করে আনা তরুণীদের পালাতে তিনি সহায়তা করেছেন। ভারতে পাচার হওয়া তরুণীরা দেশে ফিরতে চান বলেও জানান তিনি।

এদিকে নির্যাতনের শিকার আরেক তরুণী ভারত থেকে ফিরে যুগান্তরকে বলেন, টিকটকার হৃদয় বাবুর মাধ্যমে তিনি পাচার হয়েছেন। ঢাকা থেকে বেনাপোল যাওয়ার পর তরিকুল নামে একজন তাকে রিসিভ করে। এরপর রাতে সীমান্তবর্তী আল-আমিন নামের একজনের বাসায় ছিলেন। সেখান থেকে আব্দুল হাই সবুজ, আমিরুল ও সাইফুলের কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভারতে পাচার করে একটি কক্ষে আটকে অশ্লীল ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করা হয়। এরপর সেই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেয় পাচার চক্র। এই তরুণী জানান, ভারতের বিভিন্ন হোটেলে এমন অসংখ্য তরুণী আছেন। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও তা থামেনি। এখনও চলছে।

ভারত ফেরত অপর দুই তরুণীর সঙ্গেও কথা হয় যুগান্তরের। তারা জানান, পাচারের পর এমনভাবে যৌন নিপীড়ন চলতে থাকে, একপর্যায়ে তারা মৃত্যুশয্যায় পতিত হন, গর্ভবতী হয়ে পড়েন। পরে সন্তান নষ্ট করেও চলে নির্যাতন। বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে পাচার চক্রের সদস্যরা। ফলে অনেক মেয়ে সেখানে আটকা থাকলেও ফেরার উপায় নেই। তবে এই জীবন থেকে সবাই ফিরতে চান। নির্যাতনের শিকার আরেক তরুণীর বাবা যুগান্তরকে বলেন, ভারতে যারা পাচার হয়েছেন ও ফিরেছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি আমার মেয়েও সেখানে রয়েছে। সেখানে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, ম্যাসাজ পার্লার ও বাসায় পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে। এখনও আমার মেয়ের সন্ধান পাইনি।

আজ আত্মসমর্পণ করবেন ‘ক্যাসিনো সম্রাট’

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আজ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও রাজধানীতে ক্যাসিনো কাণ্ডের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালতে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন।

এর আগে সোমবার সম্রাটের জামিন বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩০ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।

গত ১৮ মে দুদকের এ মামলায় সম্রাটের জামিন বাতিল করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে সাতদিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল চেয়ে গত ১৬ মে হাইকোর্টে আবেদন করেছিল দুদক। এ মামলায় গত ১১ মে সম্রাটকে জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালত।

এ মামলায় জামিন পাওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে করা আরও তিনটি মামলায় তিনি জামিন পান। চারটি মামলার সবগুলোতে জামিন পাওয়ায় গত ১১ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএসএমইউ) প্রিজন সেল থেকে কারামুক্তি পান সম্রাট।

রমনা থানায় করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গত ১১ এপ্রিল জামিন পান সম্রাট। এর একদিন আগেই ১০ এপ্রিল অর্থপাচার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক দুটি মামলায় ঢাকার পৃথক আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

সারাদেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সম্রাট ও তার সহযোগী তৎকালীন যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

হার্ট ভালো রাখতে যা করবেন

মানবদেহের সবচেয়ে জটিল রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম। এটিকে নীরব ঘাতক বলা হয়ে থাকে। সময়মতো রোগ নির্ণয় করতে না পারলে বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ত্রিশোর্ধ্ব সবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। উত্তরাধিকার সূত্রেও কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। হৃদরোগ থেকে প্রতিকারের জন্য মানসিক চাপ কমাতে এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।

অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস মানুষকে স্বাস্থ্য-ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়। তখনই হজমের জন্য ব্যবহৃত এনজাইমগুলো হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। যাদের হৃদরোগ আছে তারা জগিং করলে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং জয়েন্টেও ব্যথা অনুভব করেন। এজন্য জগিং করার চেয়ে হাঁটা বেশি উপকারি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. সামিয়া তাসনীম।

হার্ট ভালো রাখতে

১. খাবার বিষয়ে সচেতন হতে হবে

* শর্করা এবং চর্বিজাতীয় খাবার কম খেতে হবে।

* আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।

২. সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন আধা-ঘণ্টা হাঁটতে হবে

* লিফটে চড়া এড়াতে হবে।

* একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না।

৩. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে

* ওজন, রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৪. নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, হাঁটাহাঁটি এবং আখরোট খাওয়ার মাধ্যমে কোলেস্টরলও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

হৃদরোগের জন্য ভালো খাবার ফল ও সবজি। তৈলাক্ত খাবার হৃদরোগের জন্য বেশি ক্ষতিকারক। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। রক্তচাপ পরিমাপও জরুরি।

হার্ট অ্যাটাক হলে : রোগীদের প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে। এরপর জিহ্বার নিচে একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে। যদি পাওয়া যায় তবে এ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেট রাখতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই হার্টের মাংসপেশির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।

পাইলস রোগের নিরাপদ চিকিৎসা কোনটি

পাইলস ফিস্টুলা এনাল ফিশার মলদ্বারের জটিল রোগ। অনেকে এগুলোকে এক রোগ মনে করে গুলিয়ে ফেলেন। এ রোগে মলদ্বার থেকে মাঝে মধ্যে রক্ত যায়। কখনো বেশি কখনো কম। মলত্যাগের সময় অনেকের মলদ্বার ফুলে ওঠে আবার কারো কারো মাংশপিন্ড ঝুলে পড়ে যা আবার আপনা আপনি ভেতরে ঢুকে যায় অথবা চাপ দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে এর চিকিৎসা ও প্রতিকার কি? এ রোগীরা অনেক সময় প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন।

পাইলস রোগের সঠিক চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

পাইলসের চিকিৎসায় অনেকে মলদ্বারে বিষাক্ত কেমিকেল ইনজেকশন দিচ্ছেন যাতে মলদ্বারে মারাত্মক ব্যথা হয় এবং মলদ্বারের আশেপাশে পচন ধরে এবং এ জন্য রোগী অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা ভোগ করেন।

পরিনামে কারো কারো মলদ্বার সরু হয় এবং বন্ধ হয়ে যায়। তখন পেটে মলত্যাগের বিকল্প পথ করে দিয়ে ব্যাগ লাগিয়ে দিতে হয়। আবার কোনো কোনো হাতুড়ে চিকিৎসক বিষাক্ত কেমিকেল পাউডার দেন যা মলদ্বারে লাগালেও মলদ্বার পঁচে ঘা হয়ে যায় এবং রোগীর একই পরিণতি হয়। রোগীরা যখন বিনা অপারেশনের কথা শোনেন তখন এ জাতীয় চিকিৎসার জন্য প্রলুব্ধ হন।

লেজার সার্জারির মাধ্যমেও ধনন্তরী পাইলস চিকিৎসা হচ্ছে। বিষয়টি মোটেই সত্য নয়। কারণ, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে লেজারের মাধ্যমে পাইলস চিকিৎসায় কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নেই। রিং লাইগেশন এবং লংগো অপারেশনের মাধ্যমে প্রায় ১০০% রোগীর মলদ্বারে কোনো রূপ কাটাছেড়া ছাড়া চিকিৎসা করা সম্ভব।

প্রচলিত অপারেশনে মলদ্বারের তিনটি মাংশ পিন্ড কাটতে হয়। যা আজকাল আমরা শুধু তাদের জন্যই করি যারা রিং লাইগেশন এর জন্য উপযুক্ত নয় এবং লংগো অপারেশন এর যন্ত্র কিনতে অক্ষম।

লেজার দিয়ে পাইলস অপারেশন প্রচলিত অপারেশনের মতই। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে এক্ষেত্রে লেজার বিম দিয়ে কাটা হয় এবং প্রচলিত অপারেশনে সার্জিক্যাল নাইফ দিয়ে কাটা হয়। প্রচলিত অপারেশনের ন্যায় লেজার অপারেশনেও তিনটি ক্ষত স্থান হবে। লেজার অপারেশনের পর সাধারণত অপারেশনের মতই ব্যথা হয়, ঘা শুকাতে ১-২ মাস সময় লাগে। এবং প্রচলিত অপারেশনের মতই একই ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পাইলস চিকিৎসার জন্য বহু ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। যেমন ইনজেকশন, রিংলাইগেশন, ইলেকট্রোকোয়াগুলেশন, আল্ট্রয়েড, ক্রায়োথেরাপি, ইনফ্রারেড ফটোকোয়াগুলেশন, এনাল ডাইলেটেশন, লেজার থেরাপি, প্রচলিত অপারেশন এবং লংগো অপারেশন।

সবধরনের পদ্ধতির মেরিট এবং ডিমেরিট বিবেচনা করলে এবং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সার্জনদের প্র্যাকটিস বিবেচনা করলে তিনটি পদ্ধতি বেশি প্রচলিত আর তা হচ্ছে রিংলাইগেশন, লংগো অপারেশন ও প্রচলিত অপারেশন। রিংলাইগেশন ও লংগো অপারেশনে মলদ্বারে কোনরূপ কাটাছেড়া ছাড়াই ৯০-৯৫% রোগীর পাইলস রোগের সমাধান সম্ভব।