বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 302

আফগানিস্তানে সিরিজ বোমা হামলা, নিহত ১১

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফে চার স্থানে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ জন।

বুধবার কাবুলে এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। খবর আলজাজিরার।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাবুলে বুধবার রাতে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।

তবে রাজধানী শহরের একটি হাসপাতালের টুইটে বলা হয়েছে, মসজিদে বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত ও ২২ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে মসজিদে ছুটে যায় কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স।

কাবুলে তালেবান পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান বলেন, হজরত জাকারিয়া (আ.) মসজিদে এ বিস্ফোরণ হয়।

তিনি বলেন, ‘মাগরিবের নামাজের জন্য লোকজন মসজিদে জড়ো হলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।’

বালখ প্রদেশের রাজধানী মাজার-ই-শরিফে মিনিবাসগুলো হামলার শিকার হয় বলে জানিয়েছেন তালেবান নিযুক্ত প্রাদেশিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিফ ওয়াজিরি।

তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় তিনটি মিনিবাসে বিস্ফোরক ডিভাইস রাখা হয়েছিল।

আসিফ আরও জানান, বিস্ফোরণে ৯ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন।

পাকিস্তান সরকারকে ছয় দিনের আলটিমেটাম ইমরান খানের

সদ্য ক্ষমতাচ্যুত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান দেশটির সরকারকে নতুন নির্বাচন দিতে ছয় দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে ইসলামাবাদে ‘আজাদি মার্চ’ থেকে এই আলটিমেটাম দেন তিনি। অন্যথায়, পরবর্তীতে গোটা জাতিকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজধানীতে আসবেন বলেও হুশিয়ারি দেন ইমরান খান।

তিনি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম- সরকার সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন ঘোষণা না করা পর্যন্ত এখানে বসে থাকব, কিন্তু আমি গত ২৪ ঘণ্টায় যা দেখেছি, সরকার জাতিকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা জাতি ও পুলিশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টাও করছে।

ইমরান বলেন, সরকার খুশি হবে যদি আমি ইসলামাবাদে অবস্থান ধর্মঘট পালন করি। কারণ এতে জনগণ, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হবে।

এ সময় তিনি পিটিআইয়ের মিছিল ঠেকাতে অভিযান এবং গ্রেফতারসহ ‘আমদানি করা সরকার’ দ্বারা ব্যবহৃত ‘কৌশলের’ নিন্দা জানান। একই সঙ্গে লংমার্চের বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্দেশনা দেওয়ায় সুপ্রিমকোর্টকেও ধন্যবাদ দেন তিনি।

এদিকে বুধবার মধ্যরাতে ইমরান খানের ‘আজাদি লংমার্চের গাড়িবহর রাজধানী ইসলামাবাদে এসে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার সকালে ইমরান খানের আলটিমেটাম ঘোষণার পর ডিচকের ‘রেড জোনে’ ঢুকে পড়ে তার দলের কর্মী–সমর্থকরা।

পাকিস্তানের ডন পত্রিকার খবরে বলা হয়, পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই রেড জোনে ঢুকে পড়ে পিটিআই সমর্থকরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের ‘রেড জোনের’ নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমতিও দিয়েছে সরকার। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ একটি প্রজ্ঞাপন টুইট করে বলেছেন, সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের অধীনে রেড জোনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

এদিকে, সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পরও ‘রেড জোনে’ ঢুকে পড়েছে ইমরান খানে কর্মী-সমর্থক ও নেতারা।

ইসলামাবাদ পুলিশের মুখপাত্রের জারি করা এক বিবৃতি বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের পুলিশ, রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেয়।

তিনি বলেন, ইসলামাবাদের পুলিশের মহাপরিদর্শক ডক্টর আকবর নাসির খানও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের রেড জোন ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

ভোক্তার আয় বাড়েনি কমেছে ক্রয়ক্ষমতা

করোনার নেতিবাচক প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে। করোনার পর এখনও পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক হয়নি। অনেকে কম বেতনে চাকরি করছেন। অনেকে আবার কর্ম হারিয়ে বেকার হয়েছেন।

নিয়োগ কম থাকায় চাকরিতে ঢুকতে পারছেন না শিক্ষিত বেকাররা। সব মিলিয়ে আয় কমেছে বেশিরভাগ মানুষের। অন্যদিকে করোনার পর হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ, তিনগুণ হয়েছে। এতে ভোক্তার আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় থাকছে না।

বাধ্য হয়ে স্বল্প আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করছেন। কমিয়ে দিয়েছেন দৈনন্দিন খরচ। এতে ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে না পেরে অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন।

নতুন সঞ্চয় কমিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ভোক্তার আয় কমায় ও দ্রব্যমূল্য বাড়ায় ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষের জীবনযাত্রার ব্যবহার্য সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক গতিতে। পাশাপাশি পরিবহণ, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাখাতে ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া পোশাক কেনা, টেইলার্সে সেলাই, জুতা, জুতা সেলাই ও পলিশ, সেলুনে চুল কাটাসহ সব ক্ষেত্রেই খরচ মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তরা। দীর্ঘশ্বাস বেড়েই চলছে তাদের।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে মানুষের আয় বেড়েছে। কিন্তু তাদের হিসাবেই আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে বেশি। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর বিপরীতে মানুষের আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বিবিএস আয়ের হিসাব বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। আবার মূল্যস্ফীতির হিসাব কমিয়ে দেখাচ্ছে। অনেকের হিসাবে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার বিবিএস যা দেখাচ্ছে তার দ্বিগুণ। অর্থাৎ ১২ শতাংশের বেশি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারেও পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে চাল, ডাল, আটা, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, রসুন, সবজি সবকিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ওই হারে বিবিএসের হিসাবে মূল্যস্ফীতির হার বাড়েনি।

সূত্র জানায়, বিবিএস ২০০৫-০৬ অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে এখনও মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করে। ওই সময়ে ১০০ টাকা খরচ যে খাদ্যপণ্য পাওয়া যেত তা কিনতে এখন খরচ করতে হচ্ছে ৩৪০ টাকা ২৫ পয়সা।

অর্থাৎ তাদের হিসাবে ওই সময়ে দাম বেড়েছে তিনগুণ। এই তথ্যকে সঠিক মনে করছেন না অনেকেই। বাজারের চিত্র ভিন্ন। দ্রব্যমূল্য আরও বেশি বেড়েছে।

আলোচ্য সময়ে ১০০ টাকার কাপড়ের দাম বেড়ে হয়েছে ৩২৮ টাকা ১৮ পয়সা। একইভাবে ১০০ টাকার বাড়ি ভাড়া এখন বেড়ে হয়েছে ২৩৪ টাকা ৬৫ পয়সা। গৃহসামগ্রী ৩২৫ টাকা ৯৩ পয়সা, চিৎকিসা ব্যয় ২৫৪ টাকা ৫৯ পয়সা, পরিবহণ ব্যয় ৩১৯ টাকা ৮২ পয়সা, বিনোদনে ২০৬ টাকা ৫৯ পয়সা খরচ হচ্ছে।

বিবিধ সেবা খাতে ১০০ টাকার ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৩২০ টাকা। বাস্তবে এসব খাতে ব্যয়ের হার আরও বেশি বেড়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১০-১১ অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করে। ওই বছরে ১০০ টাকার মজুরি এখন বেড়ে হয়েছে ১৯৬ টাকা ০৪ পয়সা। কৃষি খাতে যে শ্রমিক ১০০ টাকা আয় করতেন তারা এখন ১৯৬ টাকা ৪৬ পয়সা আয় করেন।

শিল্প খাতের শ্রমিকদের আয় ১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯২ টাকা ১২ পয়সা। সেবা খাতে ২০২ টাকা ০৪ পয়সা হয়েছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে বেশি। এদিকে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের এক-তৃতীয়াংশ কাজে ফিরতে পেরেছেন।

এর মধ্যে ৭২ শতাংশ আগের বেতনেই ফিরেছেন। নয় শতাংশের বেতন কমে গেছে। বাকিরা চাকরিতে ফিরতে পারেননি। কর্মহীনতার কারণে দারিদ্র্য বেড়েছে। এছাড়া শুধু পণ্যমূল্য বাড়ার কারণে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে গেছেন। এতে পুষ্টিহীনতা বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় আয় বাড়েনি। ফলে জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে।

এতে প্রথমে কাটছাঁট করা হচ্ছে বিনোদন ও ভ্রমণ খরচ। তারপরে খাদ্যের অনেক খরচ। তারপরে চিকিৎসা ও শিক্ষা খরচ। অনেকে বড় বাসা ছেড়ে ছোট বাসায় উঠছেন। এভাবে সমন্বয় করছেন। এভাবে চরতে থাকলে শিক্ষার মানে ধস নামবে। খাদ্য কম গ্রহণ করার ফলে পুষ্টিহীনতা বাড়বে।

এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীর, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে-প্রতিবছর কিছু না কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। যা পরে আর কমছে না।

তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর সব ধরনের পণ্য অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে। এই বাড়ার তালিকায়-চাল থেকে শুরু করে ডাল, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল, চিনি, মসলা জাতীয় পণ্য, মাছ-মাংস, ডিম রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে মূল্য বৃদ্ধির ব্যবধান দীর্ঘ হচ্ছে।

গত এক বছরের ব্যবধানে রিকশা, সিএনজি ও বাস ভাড়া দ্বিগুণ বেড়েছে। যেখানে গত বছর সেলুনে চুল কাটাতে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা খরচ হতো, বর্তমানে ১০০ টাকা লাগছে। গত বছর ১০ টাকায় জুতা সেলাই ও ২৫ টাকায় পলিশ করা গেলেও এখন ১৫ ও ৩৫ টাকা লাগছে।

যেখানে গত বছর একটি প্যান্ট সেলাই করতে টেইলার্সে ৫০০-৭০০ টাকা দিতে হতো, এখন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

এছাড়া ভোজ্যতেল ও গমের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সব ধরনের বেকারি পণ্যের মূল্য বেড়েছে। মাঝারি আকারের একটি পাউরুটি ২৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৩৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দুই পিসের প্যাকেট ড্রাইকেক ১০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ১৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

পাড়া বা মহল্লার রাস্তার পাশের হোটেলে প্রতি পিস পরোটা ১০-১৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল ৫-১০ টাকা। ছোট সাইজের এনার্জি বিস্কুটের দাম ৩০ টাকা, যা আগে ছিল ২০ টাকা। মাঝারি চানাচুরের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৩ টাকা, যা আগে ৩৫ টাকা ছিল।

নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের মধ্যে ৩০ টাকার লাইফবয় সাবান এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮৫ টাকার এক কেজি হুইল পাউডারের দাম এখন ১০০ টাকা। ১০০ টাকার পেপসোডেন্ট টুথপেস্ট এখন ১২০ টাকা। ৪০০ এমএলের অ্যারোসল ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪০০ টাকা ছিল।

জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। বছরের ব্যবধানে এই মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকা পণ্যের দামের ব্যবধান আরও বাড়ছে।

বিশ্ববাজারে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। সঙ্গে সেই পণ্য আনতে পরিবহণ ব্যয় ও ডলারের দাম বাড়ায় পণ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। কিন্তু কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী বিশ্ববাজার পরিস্থিতির অজুহাতে কারসাজিতে লিপ্ত হয়েছে।

তারা অতি মুনাফা করতে পণ্য মজুত করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। যা কোনোমতেই ঠিক নয়। সে বিষয়ে তদারকি সংস্থাগুলোর দেখভাল করতে হবে। অনিয়ম পেলে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দীদার হোসেন বলেন, আমার ব্যবসায়ী জীবনে দেখিনি কখনও ভরা বোরো মৌসুমে চালের দাম বেড়েছে। এবার এই চিত্র দেখতে হলো। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি কেজি চাল ৫-৬ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬৮ টাকা। যা গত বছর একই সময় ৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা। যা গত বছর একই সময় ৪৪-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

নয়াবাজারের মুদি বিক্রেতা মো. তুহিন বলেন, গত বছর একই সময় প্রতি কেজি খোলা আটা ৩২ ও প্যাকেটজাত আটা ৩৫ টাকায় বিক্রি করেছি। যা এখন ৪৮ ও ৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৬৫ ও প্যাকেটজাত ময়দা ৭০ টাকায় বিক্রি করছি। যা গত বছর একই সময় ৩৬ ও ৪৫ টাকা ছিল। এছাড়া বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ ও বোতলজাত ২০০ টাকা।

যা এক বছর আগে ছিল ১২৬ ও ১৫০ টাকা। প্রতি কেজি ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা। যা আগে ১১০ টাকা ছিল। বছরের ব্যবধানে মাঝারি আকারের মসুর ডাল কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১২৫-১৩০ টাকা হয়েছে। আর কেজিতে ৪৫ টাকা বেড়ে বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা।

তিনি জানান, বছরের ব্যবধানে কেজিতে ৭০ টাকা বেড়ে আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে দেশি হলুদ বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা। ২০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা।

৭৫ টাকার চিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ৮২-৮৫ টাকা। পাশাপাশি প্রতি হালি ফার্মের ডিম এখন ৪৪-৪৫ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৩০ টাকা। শিশু খাদ্যের মধ্যে গুঁড়া দুধ প্রতি কেজি ডানো বিক্রি হচ্ছে ৭১০ টাকা। যা এক বছর আগে ৬৪০ টাকা ছিল।

এদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১২০ টাকা। গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৬০০ টাকা।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু এই বাড়ার সঙ্গে দেশের ব্যবসায়ীরা কিছু পণ্যের দাম নিজের মতো করে বাড়িয়েছে।

কিছু অনিয়ম আমাদের কাছে ধরা পড়ছে। তাই বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। টিমের সদস্যরা তদারকি অব্যাহত রেখেছেন। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঢাবিতে ছাত্রলীগ ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে: ছাত্রদল সভাপতি

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ অভিযোগ করেছেন, বহিরাগত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা, চাপাতি, হকিস্টিক এবং বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পাহারা দিচ্ছে। তারা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, শহরের ওই অংশে একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। তারা গুণ্ডাবাহিনীর মতো মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

‘স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাদের কাছে অভিযোগ করে জানিয়েছে, তারা সেখানে মোটেও নিরাপদ অনুভব করছে না।’ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

বুধবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় শুক্রবার বিসিএস পরীক্ষা থাকায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার স্বার্থে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করার ঘোষণা দেন ছাত্রদল সভাপতি। একইসঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে জানিয়ে তা সফলে নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

‘ঢাবির উপাচার্যকে কোনো দলের অনুগত হয়ে কাজ না করার’ আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে ব্যর্থ হলে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দায়ী থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

ছাত্রলীগের হামলা-মামলায় ভয় করে না ছাত্রদল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যের পরিবেশ দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। তবে সেটা এখন সব সীমা অতিক্রম করেছে। যে কোনো মূল্যে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়।’

কাজী রওনকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ছাত্রদল মনে করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার মুখের ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে, বাংলাদেশ পেয়েছে একটি স্বাধীন পতাকা এবং স্বাধীন মাতৃভূমি। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন সংগঠনের মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন মতামত প্রকাশের জায়গা। কিন্তু যখন দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে, বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মার খাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা মার খাচ্ছে। তখন দেশের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্রসংগঠন হিসেবে এর পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার দায় আমাদের ওপরও বর্তায়।আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আবারো বিনীত অনুরোধ করব, আপনি পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক। আপনার অভিভাবকসুলভ আচরণের মাধ্যেমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। সব ছাত্রছাত্রীদের কোনো সংগঠনের পরিচয়ে মূল্যায়ন না করে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করুন। তাহলে আপনি হতে পারবেন ক্যাম্পাসের সত্যিকারের একজন অভিভাবক। আর তা আপনার কর্তব্যও বটে।’

‘শুধুমাত্র ছাত্রদল নয়; সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন এবং সব ছাত্রছাত্রীরা আপনাকে একজন নির্দলীয় অভিভাবকের ভূমিকায় দেখতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার দৃঢ় ভূমিকা এই ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস মুক্ত করতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। অন্যথায় আপনি ও আপনার কর্মকাণ্ড জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

বুধবার কেন্দ্রীয় সংসদের পরামর্শে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ক্যাম্পাসে তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থেকেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রদল স্বাভাবিক কার্যক্রম নিত্যদিনের মতো পরিচালনা করতে চায়। এজন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত সব ছাত্রসংগঠনের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা আপনাদের সহযোগিতামূলক আচরণ প্রত্যাশা করছি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আমাদের আদর্শিক রাজনীতি পরিচালনা করার সুযোগ পাব বলে আশা রাখছি। আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষা করে গণমানুষের পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা না হলে উদ্ভূত পরিস্থির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী থাকবে।’

সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আসুন- আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত করি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আকতার হোসেন, সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগরের নেতারা।

বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসছে লেবার পার্টি

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবে এবার বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গে বসছে বিএনপি। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে বিএনপি। প্রথমদিনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠক করে। সেখানে নাগরিক ঐক্যের নেতৃত্ব দেন দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ক্ষতিকর বাতিল ওষুধ এখনো বাজারে!

মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এমন ৪ ধরনের ওষুধের নিবন্ধন বাতিল করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এছাড়া পশুপাখির চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরও ৪ প্রকারের ওষুধ বাতিল করা হয়।

সম্প্রতি অধিদপ্তরের এক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা ওষুধ শিল্প সমিতিকে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই আদেশ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ আদেশ। গণমাধ্যমে গেল কিভাবে? অপরদিকে ওষুধ শিল্প সমিতি সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা এমন কোনো আদেশ পায়নি। এই যখন অবস্থা, তখন ক্ষতিকর এসব ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার করা তো দূরের কথা, অবাধে বিক্রি অব্যাহত আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন ও ওষুধ প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ডা. আ ব ম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ‘কোন কোন ওষুধের নিবন্ধন বাতিল করছে সেটি আমাদেরও জানানো হয়নি। এই আটটা ওষুধের মধ্যে সব যে ক্ষতিকর-সেটি আমার নিজের কাছেও মনে হয় না। কিন্তু কি কারণে বাতিল হলো সেটি মানুষকে জানানো দরকার।’

সূত্র জানায়, ৯ মে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক আদেশে উল্লিখিত ৮ ধরনের ওষুধ বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। অফিস আদেশের বর্ণনামতে, মানবদেহের ক্যাটাগরিতে বাতিলকৃত ওষুধগুলো হলো-গ্যাসট্রিকের চিকিৎসায় র‌্যাবিপ্রাজল সোডিয়াম এন্টেরিক কোটেড প্লেটস ৮.৫% এবং ও ২৩৫.২৯৪ এমজি ওষুধ ও র‌্যাবিপ্রাজল সোডিয়াম বিপি ২০ এমজি ক্যাপসুল, ব্যথানাশক ব্রোমেলিন-ট্রিপসিন (কম্বিনেশন ড্রাগ) গ্রুপের ১টি, অ্যাস্ট্রাজেনাথিন ইন-২ গ্রুপের ১টি এবং অ্যাস্ট্রাজেনাথিন ইন-৪ (কম্বিনেশন ড্রাগ) গ্রুপের একাধিক ওষুধ বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাস্ট্রোএন্টারোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাজিবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘কারও হাত-পা ভাঙলে সরাসরি দেখা যায়। তবে কোনো ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে নাও প্রকাশ পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হচ্ছে কিনা তার জন্য গবেষণা দরকার। ফলে র‌্যাবিপ্রাজলসহ যেসব গ্রুপের ওষুধের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে, তার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি প্রচার-প্রচারণার দরকার।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিটা দেখেছেন। সেখানে নিবন্ধন বাতিলের কারণ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। ব্যাখ্যা দিলে চিকিৎসকদের বুঝতে সহজ হতো। বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদের কাছেও এমন কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে গ্যাস্ট্রিকের র‌্যাবিপ্রাজলের বিকল্প আরও অন্তত পাঁচটি গ্রুপের ওষুধ রয়েছে। এই ধরনের ওষুধ একই রকম কাজ করে। র‌্যাবিপ্রাজলসহ কয়েটি গ্রুপের ওষুধের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি স্পষ্ট করলেও মানুষ উপকৃত হবে।’

অপরদিকে গবাদি পশুপাখির চিকিৎসায় বাতিলকৃত চার ধরনের ওষুধের মধ্যে রয়েছে-সেফট্রিয়াক্সোন (সোডিয়াম) (ভেট) ইনজেকশন ও সেফট্রিয়াক্সোন ০.২৫ জি ইউএসপি অথবা ভায়াল। লিভোফ্লোক্সাসিন হেমিহাইড্রেট ১০.২৫ এমজি ইকুইভিলান্ট টু লিভোফ্লোক্সাসিন ১০ এমজি অথবা ১০০ সল্যুশন (১০ শতাংশ) ওরাল সল্যুশন। মহাবিপন্ন শকুন রক্ষার্থে ক্ষতিকর সব ডোজেস ফরমের ভেটেরিনারি ওষুধ কিটোপ্রোফেন ও প্রাণী চিকিৎসায় কলিস্টিন জাতীয় ওষুধের সব ডোজ বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স রেস্পন্স এলায়েন্স (বারা) সদস্য ডা. মো. রিদুয়ান পাশা যুগান্তরকে বলেন, ‘বিশ্বে প্রথম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ শকুনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ওষুধ কিটোপ্রোফেনকে বাতিল করছে। এজন্য আইইউসিএন (প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন) উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। যে তিনটি অ্যান্টিবায়োটিককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারমধ্যে কলিস্টিন সালফেট মানব চিকিৎসার জন্য ‘রিজার্ভ অ্যান্টিবায়োটিক’ হিসাবে এবং সেফট্রিয়াক্সোন ও লিভোফ্লক্সাসিন ‘ওয়াচ গ্রুপ অ্যান্টিবায়োটিক’ হিসাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় আছে।’

তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকগুলো প্রাণী চিকিৎসায় ব্যবহার বন্ধের আদেশের ফলে ভেটেরিনারিয়ান ও হিউম্যান ডাক্তারদের যৌথ গ্রুপ বারার দীর্ঘদিনের আন্দোলন সার্থক হলো। তবে সেফট্রিয়াক্সোনের কী সব প্রিপারেশন বন্ধ হয়েছে, নাকি শুধু ২৫০ মিলি গ্রামের প্যাক সাইজ বন্ধ হয়েছে অধিদপ্তরের নির্দেশনায় তা সুস্পষ্ট নয়।’ তিনি মনে করেন, ‘শুধু অফিস আদেশ জারি যথেষ্ট নয় বরং বিদেশ হতে এই ওষুধগুলোর অবৈধ আমদানি বন্ধ করা এবং সেজন্য মাঠপর্যায়ে যথেষ্ট তদারকি জরুরি। সেই সঙ্গে এই আদেশ বাস্তবায়নে ওষুধ উৎপাদন, বিপণন ও ভোক্তা পর্যায়ে সবার সচেতনতা নিশ্চিত প্রয়োজন।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. আইয়ুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘অধিদপ্তরের ওষুধ কন্ট্রোল কমিটি ল্যাবরেটরিতে মান যাচাই করেছে। এরপর তাদের পরামর্শ ও বেশকিছু বিষয় বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন বা অফিস আদেশটা অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়। যা নিয়ে কথা বলার সময় এখনো হয়নি। এটা গণমাধ্যমেও দেওয়া হয়নি।’ বাতিলের পরও এখনো এসব ওষুধ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কেন-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অবজারভ করছি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্বদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘যে কোনো মেডিসিন বাতিল করা হলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উচিত সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বাজার থেকে উঠিয়ে নেওয়া। এর আগেও গ্যাস্ট্রিকের রেনিটিডিনের ক্ষেত্রে এমনটা করা হয়। না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি মনে করেন, ‘এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও ওষুধ শিল্প সমিতি উভয়েরই তৎপর হওয়া উচিত। না হলে চিকিৎসক ও গণমাধ্যমও মানুষকে সচেতন করতে পারে। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক হবে না।’

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. শফিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘চাইলেই ঔষধ প্রশাসন কোনো ওষুধ বাতিল করতে পারে না। কারণ, স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশনায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি ওষুধের নিবন্ধন দিয়ে থাকে। তাছাড়া ওষুধ বহির্বিশ্বে রপ্তানি হওয়ায় মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় জড়িত থাকে। কোনো ওষুধের মানোন্নয়ন বা উৎপাদন বন্ধের প্রয়োজন হলে অধিদপ্তর থেকে আমাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। যে চিঠির কথা বলা হচ্ছে সেটি আমরা এখনো পায়নি। পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ নির্দেশনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও কেন চিঠি পেলেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সরেজমিন অনুসন্ধান : বাতিলকৃত ওষুধগুলো বাজারে বিক্রি হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে প্রতিবেদক গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর উল্লেখযোগ্য ফার্মেসিগুলোতে ক্রেতা সেজে কিনতে যান। এতে দেখা যায়, বাতিলকৃত ওষুধগুলো বাজারে স্বাভাবিকভাবে বিক্রি হচ্ছে। পরিচয় দিয়ে বাতিলের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিক্রেতারা বলেন, এ ধরনের বিষয় তাদের জানা নেই।

তবে ধানমন্ডির নিলু ফার্মার ইনচার্জ কাওসার আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সূত্রে শুনেছি। কিন্তু ফার্মেসি কাউন্সিল ও কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি বা কোম্পানি থেকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাননি। ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকরাও লিখছেন।’

জিগাতলার ইসলাম ফার্মার ওষুধ বিক্রেতা আব্দুল কাদির অভিযোগ করেন, ‘এর আগে গ্যাস্ট্রিকের রেনিটিডিন ওষুধ ছিল। বেশ ভালো চলত, কিন্তু হুট করে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে একই ওষুধ একটি কোম্পানি ভিন্ন নামে বাজারে ছাড়ে এবং তা বিক্রিও হচ্ছে।’

ইয়াবা-হেরোইনসহ ৯৩ জনকে গ্রেফতার

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১০৭৩৮ পিস ইয়াবা বড়ি, ১৫০ গ্রাম ২০০ পুরিয়া হেরোইন, ৬৬ কেজি ৭৪০ গ্রাম গাঁজা, ৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৯ টি মামলা করা হয়েছে।

জাতি গঠনের রহস্য

প্রকৃতির নিয়মই এমন—চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে তারের কুন্ডলীর ঘূর্ণন হলে সেখানে যত তার থাকবে সব তারেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে। জেনারেটর এই নিয়ম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু যদি এমন হতো যে জেনারেটর চালু করার পর দেখা গেল কোনো তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়েছে আর কোনো তারে হয়নি, তাহলে আমাদের সমাজব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে যেত। কারণ তখন সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো না, বিদ্যুতের ব্যবহারও সেই অনুপাতে হতো না। এবং সমাজ-সভ্যতার বিকাশ থমকে যেত।

রাখাল বালক শতশত ছাগল নিয়ে মাঠে চড়ে বেড়ায়, ছাগল শাবকেরা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু দিনশেষে যখন রাখাল শিশ দেয়, সব ছাগল তার দিকে ছুটে আসে। রাখাল তখন সব ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু যদি এমন হতো রাখাল শিশ দেওয়ার পরও সব ছাগল নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো নড়ন-চড়ন নাই, তাহলে রাখালের ছাগল প্রতিপালন করা মুশকিল হয়ে যেত।

কোনো জাতির বিকাশও একই পদ্ধতিতে হয়, বিদ্যুৎশক্তি বা শিশধ্বনির মতো কিছু তাদের সামগ্রিকভাবে চালিত করবে, কেউ প্রভাবিত হবে আর কেউ হবে না এমন হলে হবে না।

জনাব গুস্তাওলিবান আরবদের ইতিহাস পাঠ করার পর এই বিষয়ে বলেন, যার সারকথা এমন: মানুষের উন্নতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো কোনো নির্দিষ্ট আদর্শকে সবার অনুসরণ করা। এই আদর্শ যেমনই হোক, শুধু এতটুকু শক্তি থাকলেই যথেষ্ট যে সমগ্র জাতিকে এক ও অভিন্ন করে তুলবে। এবং জাতির প্রত্যেক সদস্যের মনে এই আবেগ থাকতে হবে যে এই আদর্শের জন্য প্রয়োজনে আমি জান দিব, তবু মাথানত করব না।

রোমানদের আদর্শ রোম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, খ্রিষ্টানদের এই বিশ্বাস গোটা ইউরোপকে বশ মানিয়েছে। বর্তমান সময়েও বিভিন্ন আদর্শ মানুষকে একীভূত করে কোনো বৈপ্লবিক কিছু সাধনে উদগ্রীব করে তুলে। যদি মানুষের মধ্যে এমন কোনো আদর্শ না থাকত যা সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড় না করায়, তাহলে মানবজাতি এখনও অসভ্য থেকে যেত।

আরবরা দেশের পর দেশ জয় লাভ করেছে। তারা কখনো পরাজিত হলেও হার মানেনি, প্রতিপক্ষের যুদ্ধকৌশল রপ্ত করেছে, তারপর তাদের পরাজিত করেছে। প্রত্যেক আরব তার আদর্শের জন্য জান কোরবান করতে প্রস্তুত ছিল, তার বিপরীতে রোমান ও গ্রিকদের আদর্শ ততদিনে মাঠে মারা গেছিল। (তমদ্দুনে আরব, পৃষ্ঠা ৬২৯)

একজন নারীকর্মী চাকরি ছাড়ায় অচল যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহর

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের পাসাদামকেগ শহর এখন অচল প্রায়। শুধুমাত্র একজন নারীকর্মী চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ায় ওই শহরটির কর্তৃপক্ষ চরম সমস্যায় পড়েছে। ছুটি চেয়ে ব্যর্থ হয়ে চাকরি ছেড়েছেন ক্রিস্টেন বুচার্ড নামের একজন সাধারণ কেরানি। আর তাতেই সব কাজ বন্ধ হয়ে অচল হয়ে পড়েছে শহর। বিপাকে পড়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ক্রিস্টেন বুচার্ড ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাসাদামকেগ শহরের কেরানি হিসেবে নিয়োগ পান। এই নারীর প্রথম দায়িত্ব ছিল ওই বছরের নভেম্বরের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা। এ কারণে তাকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পরে শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পড়ে ক্রিস্টেন বুচার্ডের ওপর। তাকে উপ-কাষাধ্যক্ষ, পোষা প্রাণীর সনদ দেওয়া, শহরের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ, যানবাহন নিবন্ধন এবং অঙ্গরাজ্যের অভ্যন্তরীণ মৎস্য ও বন্য প্রাণী বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এত সব কাজের চাপে ক্রিস্টেন বুচার্ডের ছুটি নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বাধ্য হয়ে গত মাসের শুরুর দিকে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে দুই সপ্তাহের ছুটি চেয়ে আবেদন করেন। তার অনুপস্থিতিতে শহরের এত সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার কোনো কর্মী না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাঁর ছুটি মঞ্জুর করেননি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।

ক্রিস্টেন বুচার্ড চাকরি ছেড়ে চলে যেতেই পাসাদামকেগ শহরের সরকারি সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। শহরের কোন নথি কোথায় আছে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কেউ কোনো প্রাণীর প্রতি নির্যাতন চালালে সমাধান হচ্ছে না, যানবাহনের সনদ দেওয়া বন্ধ। এতে অচল হয়ে পড়েছে শহরটি।
পাসাদামকেগ শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, অফিসে ক্রিস্টেন বুচার্ডের দায়িত্ব পালন করার মতো কোনো কর্মী নেই। তাই তার মতো একজন কর্মী না পাওয়া পর্যন্ত সরাসরি অফিস বন্ধ থাকবে।

রিয়েলমি ৯: বাংলাদেশের প্রথম আইএসওসেল এইচএম৬ সেন্সরের ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি এগিয়ে চলেছে; ট্রেন্ডের সঙ্গে এগিয়ে থাকতে তরুণ প্রজন্মের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে এসে প্রযুক্তিপ্রেমীদের চমকে দিচ্ছে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল স্মার্ট ডিভাইস ব্র্যান্ড রিয়েলমি।

ইতোমধ্যে নতুন বছরের প্রথম চার মাস পেরিয়ে গেছে। এ চার মাসে বাজারে উন্মোচিত হওয়া রিয়েলমি ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীদের মাঝে বিপুল সাড়া ফেলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবহারকারীদের ফোন ব্যবহারের অনন্য অভিজ্ঞতা দিতে রিয়েলমি সম্প্রতি দেশের বাজারে উন্মোচন করেছে রিয়েলমি ৯ ফোরজি ডিভাইসটি।

বিশ্বের প্রথম রিপল হলোগ্রাফিক ডিজাইন সল্যুশনের রিয়েলমি ৯ ফোরজি ডিভাইসটিতে থাকছে আইএসওসেল এইচএম৬ সেন্সরের ১০৮ মেগাপিক্সেল প্রো-লাইট ক্যামেরা। এছাড়াও থাকছে দারুণ সব ফিচার। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

দেশের প্রথম আইএসওসেল এইচএম৬ সেন্সরযুক্ত ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা

ক্যামেরার মুন্সিয়ানা একটি স্মার্টফোনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে, রিয়েলমি এর ফোন ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে স্যামসাং আইএসওসেল এইচএম৬ ভিত্তিক রিয়েলমি ৯ ফোরজি ডিভাইসটিতে প্রথমবারের মতো ১০৮ মেগাপিক্সেল প্রোলাইট ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে।

ডিভাইসটির সর্বাধুনিক নোনাপিক্সেল প্লাস প্রযুক্তি পুরাতন ৩সাম-৩এভিজি সল্যুশন থেকে একটি অভূতপূর্ব ৯সাম রিডআউট সল্যুশনে উন্নীত করা হয়েছে, যার ফলে রিয়েলমি ৯ ফোরজি ফোন দিয়ে তোলা ছবিগুলোতে দুর্দান্ত ব্রাইটনেস থাকবে। নোনাপিক্সেল প্লাস প্রযুক্তির ৯সাম পিক্সেল বিনিং সল্যুশন স্যামসাং আইএসওসেল এইচএম২ ইমেজ সেন্সরের তুলনায় ১২৩ শতাংশ পরিমাণ সামগ্রিক আলো গ্রহণের বিষয়টিকে নিশ্চিত করে। পাশাপাশি, অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তির কারণে, রিয়েলমি ৯ ফোরজি ডিভাইস দিয়ে লো-লাইটে উন্নত কালার রিপ্রডাকশন সহ আরো উজ্জ্বল ছবি দিতে পারবে।

হাই-কোয়ালিটি ছবি তোলার অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য রিয়েলমি ৯ ফোরজিতে এইচএম৬ সেন্সরে ইন-সেন্সর আল্ট্রা-জুম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এতে একটি মার্জিং অ্যালগরিদমের সাথে একটি চমৎকার জুম-ইন শট তৈরি করে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা দৃশ্যবস্তুর কাছে যেয়ে তাদের পছন্দমতো নিখুঁত ও সুন্দর কম্পোজিশনের ছবি তুলতে পারবেন।

রিয়েলমি ৯ ফোরজি এর ক্যামেরা পারফরমেন্স আমাদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা করা হয়েছে। ফোনটিতে ধারণকৃত কক্সবাজার, বান্দরবানের ছবিগুলোতে পাওয়া গেছে দারুণ কম্পোজিশন। একনজরে আপনারাও দেখে নিন। এক কথায় এই দামে সবচেয়ে ভালো মানের ক্যামেরা পাওয়া যাচ্ছে এই স্মার্টফোনটিতে।

৯০ হার্টজ সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে

প্রতিদিনের পথচলায় যারা বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন, কনটেন্ট উপভোগ করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য রিয়েলমি ৯ ফোরজি ডিভাইসটিতে ৬.৪ ইঞ্চির ৯০ হার্টজ সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ৯০ হার্টজের রিফ্রেশ রেট ও ৩৬০ হার্টজের টাচ স্যাম্পলিং রেট রয়েছে। ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১ হাজার নিটস পর্যন্ত। ডিভাইসে ইন ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারও রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর হার্ট রেট পরিমাপে সক্ষম। এই দামে এতো চমৎকার ডিসপ্লে গ্রাহকদের মন কেড়ে নেয়।

বাংলাদেশের প্রথম রিপল হলোগ্রাফিক ডিজাইন

রিয়েলমি ৯ ফোরজি ডিভাইসে বিশ্বের প্রথম রিপল হলোগ্রাফিক ডিজাইন সল্যুশন নিয়ে আসা হয়েছে; এটি ডিজাইন টেকনোলজিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রিয়েলমি ৯ ফোরজি এর টেক্সচার মরুভূমির বালির পরিবর্তনের টেক্সচার দ্বারা অনুপ্রাণিত। এই ডায়নামিক ডেজার্ট রিপল ইফেক্ট তৈরির জন্য রিয়েলমি স্বাধীনভাবে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম ‘রিপল হলোগ্রাফিক গ্রেডিয়েন্ট কোটিং প্রসেস’ তৈরি করেছে এবং উদ্ভাবনী উপায়ে ‘সুপার কোটিং প্রসেস’ প্রয়োগ করেছে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টেক্সচারযুক্ত পণ্য তৈরি করার সময় স্যাচুরেটেড ও প্রাণবন্ত রঙ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। তরুণদের কাছে এই ফোনটি অনেক জনপ্রিয়।

ব্যবহারকারীদের জন্য ডিভাইসটিতে ৮ জিবি র‌্যাম ও ১২৮ জিবি ইউএফএস ২.২ ইন্টারনাল স্টোরেজ রয়েছে। মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্টোরেজ ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়াতে পারবেন। এ ডিভাইসটির ৫ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি ও ৩৩ ওয়াটের ডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি দিয়ে মাত্র ৩১ মিনিটে ডিভাইসটি ৫০ শতাংশ চার্জ দেয়া সম্ভব। পাশাপাশি, দারুণ পারফরমেন্সের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক ৬ ন্যানোমিটারের স্ন্যাপড্রাগন ৬৮০ প্রসেসর।

বর্তমানে স্মার্টফোন আমাদের জীবনধারার অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে; একইসঙ্গে হালের ফ্যাশন সচেতন তরুণদের ট্রেন্ড নির্ধারণেও স্মার্টফোন সহায়ক ভূমিকা রাখছে। আজকের তরুণদের মাঝে স্টাইলিশ ও নিত্য নতুন ডিজাইনের স্মার্টফোন কেনার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখা যায়।

কারণ, তারা মনে করেন ক্যামেরা, ডিজাইন, অসাধারণ ডিসপ্লে সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোনের অবয়ব বদলে দিতে পারে। তরুণদের পছন্দের ব্র্যান্ড রিয়েলমি সবসময়ই পছন্দসই ডিজাইন ও সুন্দর অবয়বের ফোন নিয়ে আসতে সচেষ্ট থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায়, তরুণদের ফোন ব্যবহারের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা প্রদানে রিয়েলমি মাত্র ২৬,৯৯০ টাকায় দেশের বাজারে নিয়ে এসেছে রিয়েলমি ৯ ফোরজি স্মার্টফোন।