রবিবার ,৭ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 300

ব্রিজের রেলিং থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

নাটোরের সিংড়ায় ব্রিজের রেলিং থেকে পড়ে সাগর আলী (২১) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের জোলার বাতা ব্রিজে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাগর সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের সাগর সুপার মার্কেটের মালিক আব্দুল মান্নানের ছেলে।

সিংড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আব্দুস সালাম ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাবার মোটরসাইকেলের পিছনে বসে বেড়াতে যায় সাগর। পথে জোলারবাতা ব্রিজের উপর মোটরসাইকেলটি নষ্ট হয়। এ সময় বাবা আব্দুল মান্নান মোটরসাইকেলটি মেরামত করছিলেন।

পিছন থেকে সাগর ব্রিজের রেলিংয়ে বসতে গিয়ে পা পিছলে নিচে পড়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এর সদস্যরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিংড়া থানার ওসি নুর-এ-আলম সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ওই যুবক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল।

টাঙ্গাইলে বোরোর বাম্পার ফলন, তবু হাসি নেই কৃষকের মুখে

টাঙ্গাইলে বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় ধান গোলায় তুলতে বিঘ্ন হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরির কারণে দিশাহারা কৃষক। সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকির মাধ্যমে কম্বাইন হারবেস্টার দিলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। অন্যদিকে পানি জমে থাকা ক্ষেতে মেশিনের মাধ্যমে ধানা কাটাও যায় না। সব মিলিয়ে বোরোর বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকদের মুখে। কৃষকরা জানান, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ধান চাষ করতে ধানের বীজ, হাল চাষ, সার ও শ্রমিক মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা জমিতে সেচপাম্প মালিকের ভাগ বাদ দিয়ে প্রায় ১৮ মণ ধান পাওয়া যায়। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধানের মূল্য ৭০০-৭৫০ টাকা। এতে করে তিন মাস পরিশ্রম করেও কৃষকের তেমন কোনো লাভ থাকছে না। বরং বিঘাপ্রতি ৩-৪ হাজার টাকা ক্ষতি যাচ্ছে। অন্যদিকে রোদ না থাকায় দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে অনেকের ধান ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। এলাকাভেদে তিনবেলা খাবারসহ ধানকাটা শ্রমিকের মজুরি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ ৭১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে চাষ হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৪ হাজার টন। পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্য বছরগুলোর তুলনায় ফলন বেশি হয়েছে। সরেজমিন টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাকা ধান ক্ষেতে অনেক পানি জমে আছে। আবার নিচু ক্ষেতগুলোতে হাঁটুপানি জমে আছে। শ্রমিকরা পানির মধ্যেই ধান কাটছে। অনেক ধান আবার পাকার আগেই ঝড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, শুকনা সময় বিঘাপ্রতি ধান কাটা, আনা ও মাড়াই করতে আটজন শ্রমিক লাগলেও ক্ষেতে পানি থাকায় ১০ শ্রমিক লাগছে। এতে করে কৃষকের সময় ও টাকা বেশি লাগছে। সদর উপজেলার বাইমাইল গ্রামের কৃষক ইনছান আলী বলেন, আমাদের গ্রামে ধানকাটার মেশিন এলেও ক্ষেতে পানি থাকায় শ্রমিককে বাড়তি মজুরি দিয়ে ধান কাটতে হয়েছে। অন্য বছর খরচ বেশি হলেও শান্তিতে ধান গোলায় তুলতে পারছি। কিন্তু এ বছর ১০-১২ দিন যাবত দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। রোদ না থাকায় আমার প্রায় ৬০ মণ ধান পরিপূর্ণভাবে শুকতে পারিনি। কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকার কৃষক হারেজ মিয়া বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে হারভেস্টার মেশিন দিলেও তার কোনো সুবিধা আমি পাইনি। শ্রমিক প্রতি এক হাজার ১০০ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কাটতে হয়েছে। ধান চাষ করে বিঘা প্রতি আমার তিন হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার আউলিয়াবাদ গ্রামের কৃষক তুলা মিয়া বলেন, পানিতে ধান কাটার কারণে মজুরি বেশি। ১২০০ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কাটছি। এ ছাড়া তিনবেলা খাবার দিতে হবে। একবার মনে হয়েছিল ধানকাটার চেয়ে না কাটাই ভালো। মানসম্মানের ভয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। পঞ্চগড় থেকে আসা শ্রমিক সুভাষ চন্দ্র ও কালিপদ সাহা বলেন, আমাদের এলাকায় খাবার ছাড়া ৫০০-৬০০ টাকা মজুরি। কিন্তু টাঙ্গাইলে কাজ করছি তিনবেলা খাবারসহ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। যে দিন চাহিদা বেশি থাকে ওই দিন মজুরি বেশি হয়। যে কারণে দূর থেকে টাঙ্গাইলে ধান কাটতে আসি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক মো. আহসানুল বাসার বলেন, চলতি মৌসুমে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। রোগ ও পোকার আক্রমণ ছিল না বললেই চলে। আশা করি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত ধান কর্তন প্রায় শেষের দিকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা একটু সমস্যার মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৫০ শতাংশ ভর্তুক্তিতে ৫০টি কোম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সেগুলো ধানকাটার কাজেই ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া আশপাশের জেলা থেকে মেশিন এনে ধানকাটা হচ্ছে।

‘আমিও বিদিশার মতো করব’ বলা অভিনেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বলিউড-টালিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মৃত্যুর মিছিল যেন চলছে। একের পর এক অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হচ্ছে।

অভিনেত্রী পল্লবী দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই টালিউডের আরেক অভিনেত্রী বিদিশা দের মৃত্যুর খবর ভেসে আসে। দুজনের মরদেহই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

এবার একই কায়দায় মারা গেলেন মঞ্জুষা নিয়োগী নামের আরও এক অভিনেত্রী।

শুক্রবার সকালে কলকাতার পাটুলির একটি বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে অনেক ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও দরজা খোলেননি মঞ্জুষা। এর পর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায় মঞ্জুষার দেহ ঝুলছে। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দ্রুত এসে মঞ্জুষার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

বিদিশার মৃত্যুর পর আত্মহত্যা করেছেন মঞ্জুষা— এমনটিই দাবি অভিনেত্রীর পরিবার ও বন্ধুরা।

প্রয়াত মডেল-অভিনেত্রী বিদিশা দে মজুমদারের বন্ধু ছিলেন মঞ্জুষা। বিদিশার মৃত্যুর পর থেকেই অবসাদে ভুগছিলেন মঞ্জুষা। তিনি বলেছিলেন, ‘আমিও বিদিশার মতো করব’।

মঞ্জুষার মা বলেন, ‘বিদিশার মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই অবসাদে ছিলেন মঞ্জুষা। বারবারই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিনিও বিদিশার পথে হাঁটতে পারেন! বৃহস্পতিবারও মঞ্জুষা ফটোশুট করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফিরেই গলায় ফাঁস দেন। ’

বিবাহিত ছিলেন মঞ্জুষা। মঞ্জুষার মা জানান, বৃহস্পতিবার মঞ্জুষার স্বামী তাকে নিতে এলে সঙ্গে যাননি তিনি। উল্টো সুইসাইড করার হুমকি দেন স্বামীকে।

তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই খাওয়া-দাওয়া একেবারেই করত না মঞ্জুষা। ডায়েট করত। জামাই বলত ঠিক করে খেতে। স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে। জামাই বলেছিল বাড়ি ফিরতে। কিন্তু ও চায়নি। বলেছিল জোর করলে বিদিশার মতো কাণ্ড ঘটাব। আমি তখন জামাইকে বলেছিলাম কিছু দিন এখানেই থাকুক। কিন্তু সত্যিই সত্যিই যে সুইসাইড করবে ভাবিনি।’

পরিবারের এমন দাবির পরও ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সুইসাইড নোট উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে সকালে কলকাতার গড়ফা এলাকা থেকে ‘আমি সিরাজের বেগম’ খ্যাত অভিনেত্রী পল্লবী দে’র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় বিছানার চাদর জড়ানো ছিল। দরজা ভেঙে ঢুকে পল্লবীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন অভিনেত্রীর সঙ্গী সাগ্নিক চক্রবর্তী। এ ঘটনায় গ্রেফতার রয়েছেন সাগ্নিক।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার দমদমের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় অভিনেত্রী বিদিশার মরদেহ। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে খুনের কোনো প্রমাণ মেলেনি। বিদিশার ঘর থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে।

টেক্সাসের স্কুলে হামলায় নিহত স্ত্রীর ‘শোকে’ মারা গেলেন স্বামী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের উভালদে রব এলিমেন্টারি স্কুলে ঢুকে মঙ্গলবার রাইফেল দিয়ে গুলি করে ১৯ শিশু শিক্ষার্থী ও ২ শিক্ষককে হত্যা করেন ১৮ বছর বয়সি সালভাদর রামোস। এ ঘটনার দুদিন পর নিহত শিক্ষিকা ইরমা গার্সিয়ার স্বামীও মারা গেলেন।

শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, স্ত্রীর মৃত্যুর শোকে হার্টঅ্যাটাকে জো গার্সিয়ার মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। নিহত ইরমা গত ২৩ বছর ধরে ওই স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন। তিনি জো গার্সিয়া প্রায় ২৪ বছর আগে বিয়ে করেন এবং তাদের সংসারে চার সন্তান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারের এই বন্দুক হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট জানিয়েছিলেন, ১৮ বছরের সালভাদর রামোস একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সেদিন পুলিশের গুলিতে সে নিজেও নিহত হয়।

সূত্র: বিবিসি

রেমিট্যান্স হয়ে ফিরবে পাচারের অর্থ!

ডলার সংকট কাটাতে সব চেয়ে বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কালো টাকা বা পাচারের অর্থ সহজেই দেশে ফেরত আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ পাচার বড় ধরনের নিন্দনীয় কাজ। তবে এ মুহূর্তে পাচার করা টাকার কিছু অংশও ফেরত আসলে তা দেশের উপকারে লাগবে। সে বিবেচনায় এই ছাড় কিছুটা ইতিবাচক।

জানা গেছে, এখন থেকে রেমিট্যান্স হিসাবে পাঠানো পাঁচ লাখ টাকার বেশি অর্থের উৎস দেশে-বিদেশে কোথাও জানতে চাওয়া হবে না। ডলার সংকট এবং রিজার্ভ কমে যাওয়ার পর এমন উদারনীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফলে প্রবাসী আয় বাবদ দেশে যত অঙ্কের ডলার পাঠানো হোক না কেন, তার উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো। আবার এর বিপরীতে আড়াই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনাও দেওয়া হবে।

এর আগে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার বা পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে আয়ের নথিপত্র জমা দিতে হতো। যে কারণে এর চেয়ে বেশি অর্থ একবারে পাঠাতে পারতেন না বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশ থেকে তাদের টাকা আনতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

এ নিয়ে দেশে-বিদেশে কোথাও প্রশ্ন করা হবে না। সরকারের সিদ্ধান্তে ২৩ মে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পাঁচ হাজার ডলার অথবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রদানে রেমিটারের কাগজপত্র বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে প্রেরণের বাধ্যবাধকতা আছে। তবে এখন থেকে বৈধ উপায়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণের বিপরীতে রেমিট্যান্স প্রণোদনা প্রদানে রেমিটারের কাগজপত্র ছাড়াই আড়াই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনাটি কার্যকর হয়েছে।

১২ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, ‘দেশ থেকে যেসব টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে (পাচার হয়েছে), তা আবার ফেরত আসবে। বিদেশে টাকা রাখলে লাভের বদলে ব্যাংকগুলোকে সার্ভিস চার্জ বাবদ টাকা দিতে হয়। এতে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হয়।’ এরপরই সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এর মাধ্যমে অর্থ পাচাকারীরা কিছুটা উৎসাহী হতে পারেন। এটা গভীর পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কারণ অর্থ পাচারকারীরা খুবই সাবধানী। এরা চট করে বেশি অঙ্কের টাকা নাও পাঠাতে পারেন। অল্প অল্প করে পাঠাবেন। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পাচারকারীরা একদিকে টাকা আনবে, অন্যদিকে নিয়ে যাবে। মাঝখানে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা উপভোগ করবে।

এ প্রসঙ্গে বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, এতে রেমিট্যান্স কিছুটা বাড়বে। কিন্তু আসল সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা। তারা অবৈধভাবে বিদেশে টাকা পাঠিয়ে বৈধভাবে তা দেশে নিয়ে আসবেন। এতে তাদের কালোটাকা সাদা হয়ে যাবে। তবে ডলার সংকট কাটাতে এটারও প্রয়োজন আছে।

জানা গেছে, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে আমদানির খরচ মেটানো যাচ্ছে না। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্য, জ্বালানি, মূলধনি যন্ত্র ও কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে জাহাজ ভাড়াও। এতে ডলারে টান পড়েছে। বেড়ে গেছে ডলারের দামও। যার প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যের দামে। হু হু করে বাড়ছে ভোগ্যপণ্যের দাম। চাপে রয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিু মধ্যবিত্ত শ্রেণি।

সংকট কাটাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফর বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আর ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি গাড়ি ও ইলেকট্রনিকস ব্যবহার্য পণ্য আমদানিতে ৭০ শতাংশ টাকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিলাসপণ্য আমদানি বন্ধের চিন্তাভাবনা চলছে সরকারি পর্যায়ে।

এদিকে চলতি ১-১৯ মে পর্যন্ত ১৩১ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। এপ্রিলে এসেছিল ২০০ কোটি ডলার। আর গত জুলাই-এপ্রিলে যে প্রবাসী আয় এসেছে, তা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসী আয় বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যাংকাররা। পাশাপাশি ঈদুল আজহার কারণে আয় এমনিতেই বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা। তখন সংকট অনেকটা কেটে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত জানানোর পাশাপাশি ২৩ মে ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম এখনো ৯৫ টাকার বেশি। এই দামে প্রবাসী আয় আনছে ও রপ্তানি বিল নগদায়ন করছে। আর এর চেয়ে বেশি দামে আমদানিকারকদের থেকে দায় মেটাতে বিল আদায় করছে।

এর আগে ১৬ মে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো হয় ৮০ পয়সা। তখন ডলারের দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। আবার গত ৯ মে ডলারের বিনিময় মূল্য ২৫ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এরও আগে জানুয়ারির শুরুতে ডলারের বিনিময় মূল্য ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা, ২৩ মার্চ ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছিল।

আর গত ২৭ এপ্রিল ২৫ পয়সা বাড়িয়ে করা হয় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। ডলারের মান বাড়ানোর অর্থই হচ্ছে এতে রপ্তানিকারকরা লাভবান হন। প্রবাসীরাও রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বেশি অর্থ পান। তবে এতে আমদানি পণ্যের খরচ বেড়ে যায়। বিপদে পড়েন ভোক্তারা।

করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে না

মূল্যস্ফীতি বাড়লেও আগামী বাজেটে (২০২২-২৩) ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সুখবর নেই। আগের নিয়মেই বছরে ৩ লাখ টাকা আয় হলে আয়কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে মধ্যবিত্তদের পরিবর্তে বাজেটে বিত্তশালীদের স্বস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা থাকছে।

সারচার্জ বা ‘সম্পদ কর’ হারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অপরদিকে ক্ষুদ্র হাঁস-মুরগির খামারিদের কর বাড়ানো হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানো হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। ওই সময় করমুক্ত আয় সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়।

এনবিআর মনে করে, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়লে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী আয়করের আওতার বাইরে চলে যাবে। মূল্যস্ফীতি বাড়লেও মানুষের আয়ও বেড়েছে। তাই সীমা বাড়ানোকে যৌক্তিক মনে করে না সংস্থাটি। যদিও ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কাছ থেকে খুবই সামান্য আয়কর আদায় হয়ে থাকে।

বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের ৫ হাজার টাকা, অন্য সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে ৪ হাজার টাকা এবং অন্য জেলা, উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের করদাতাদের জন্য ৩ হাজার টাকা ন্যূনতম আয়কর দিতে হয়।

অন্যদিকে বাজেটে বিত্তশালীদের সম্পদের ওপর কর হার আগের মতোই রাখা হচ্ছে। সম্পদের মোট মূল্য ৩ কোটি টাকার কম হলে সারচার্জ দিতে হবে না। এছাড়া সম্পদের মূল্য ৩ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা মধ্যে থাকলে বা নিজ নামে একাধিক গাড়ি থাকলে প্রদেয় করের ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে। সম্পদের মূল্য ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে থাকলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ, ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে থাকলে ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে প্রদেয় করের ৩৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে।

সারচার্জ বা সম্পদ কর হচ্ছে একধরনের মাশুল, যা ব্যক্তির সম্পদের দলিলমূল্যের ওপর আদায় করা হয়। সর্বপ্রথম ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান শাসনামলে সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) চালু করা হয়। সেটি স্বাধীনতার পরও অব্যাহত ছিল। ১৯৮৮ সালে সরকার স্থায়ীভাবে সারচার্জ আদায় করতে অর্থ আইনের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে ১৬এ ধারা যুক্ত করে। বর্তমানে এ ধারা অনুযায়ী সারচার্জ আদায় করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নানামুখী চাপে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে সেটি প্রত্যাহার করা হয়। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে সেটি পুনরায় চালু করা হয়।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, পলিসিগত দুর্বলতার কারণে সারচার্জ একেবারে সামান্য আদায় হয়। বাজেটে রেট বাড়ানো হলো, নাকি অপরিবর্তিত রাখা হলো সেটা মুখ্য বিষয় নয়। এর চাইতে বড় বিষয় হলো, বর্তমানে যে পলিসিতে সারচার্জ আদায় করা হচ্ছে তাতে গলদ আছে।

দলিলমূল্যের ওপর সারচার্জ আদায় করায় গুলশান-বনানীর অনেক বাসিন্দা সারচার্জের বাইরে থাকছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান মৌজামূল্যের ওপর সারচার্জ আদায় করা গেলে অনেক বেশি কর আদায় সম্ভব হতো। এ জন্য সারচার্জ আদায় পদ্ধতির সংস্কার দরকার আছে।

এদিকে ছোট হাঁস-মুরগির খামারিদের কর বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে হাঁস-মুরগির খামারের মালিকদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। এটি কমিয়ে ১০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ আগামী অর্থবছর থেকে খামারের বার্ষিত আয় ১০ লাখ টাকা পার হলেই আয়কর দিতে হবে। এছাড়া আগের নিয়মেই হাঁস-মুরগি, চিংড়ি ও মাছের হ্যাচারি এবং মৎস্য চাষ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর দিতে হবে।

সূত্রগুলো জানায়, আগামী অর্থবছর থেকে সব ধরনের মৎস্য, পোলট্রি ও কৃষি আয়ের ওপর অভিন্ন কর হার চালু হচ্ছে। প্রথম ১০ লাখ টাকা করমুক্ত থাকছে। পরবর্তী ১০ লাখ টাকা (মোট ২০ লাখ) আয়ের ওপর ৫ শতাংশ হারে, পরবর্তী ১০ লাখ টাকা (মোট ৩০ লাখ টাকা) আয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের (৩০ লাখ টাকার বেশি আয় হলে) ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে হবে।

এনবিআরের কর্মকর্তা বলছেন, বিদ্যমান আয়কর বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তি আয়করের সর্বোচ্চ হার ২৫ শতাংশ। হাঁস-মুরগির খামার থেকে আয়ের বড় একটি অংশ করমুক্ত থাকায় রিটার্নে এ খাতে আয় দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রবণতা বন্ধে কৃষি খাতের কর কাঠামো সমন্বয় করা হচ্ছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আট সদস্যের কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে, যিনি আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মোনায়েম মুন্নাকে,যিনি বিগত কমিটির সহসভাপতি। সিনিয়র সহসভাপতি পদে আনা হয়েছে মামুন হাসানকে, যিনি আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। সহসভাপতি পদ দেওয়া হয়েছে নুরুল ইসলাম নয়নকে, যিনি আগের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে ছিলেন। সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে, ২ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে গোলাম মওলা শাহীনকে।

টুকু-মুন্না কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন ইসাহাক সরকারকে, যিনি ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে কামরুজ্জামান দুলালকে (সহসভাপতির পদ মর্যাদা)।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সাইফুল আলম নিরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ১১৪ সদস্যের আবার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষেও পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় ওই কমিটি দিয়েই চলছিল সংগঠনের কার্যক্রম।

জনগণের অর্থে পদ্মা সেতু, বিএনপির সহ্য হচ্ছে না: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগ সরকার বানাতে পেরেছে সেটি বিএনপির সহ্য হচ্ছে না, এ জন্য তারা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

শুক্রবার সকালে আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর ও চানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের কিছু ভালো হোক সেটি বিএনপি চায় না। এ জন্য তারা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মিথ্যা বলতে ও সন্ত্রাসী করতে অভ্যস্ত। বাংলাদেশের কিছু ভালো হলে এ জন্য তারা হিংসায় মরে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের মানুষকে বিএনপির ওই সব অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আখাউড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা দুর্নীতিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুর্নীতিতে আরও যদি কেউ জড়িত থাকে, আর সেটি যদি সারা দেশের যে কোনো জায়গায় হয়, তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সকালে আন্তঃনগর মহানগর প্রভাতি ট্রেনযোগে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আসেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় মহানগর গোধুলি এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আইএলওর সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন ফিরোজ হোসাইন

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১০তম সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সোনারগাঁও প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মো. ফিরোজ হোসাইন মিতা।

বাংলাদেশের শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে ওই সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার (২৭ মে) রাত ১০টার ফ্লাইটে তিনি ঢাকা থেকে জেনেভার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

আইএলওর জেনেভা সম্মেলনে বাংলাদেশের শ্রমিক প্রতিনিধি দলে জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ট্রেড ইউনিয়ন সমন্বয় বিষয়ক সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ফিরোজ হোসাইনকে যুক্ত করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মো. ফিরোজ হোসাইন বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত নাট্যশিল্পী।পাশাপাশি উপস্থাপনা, নাট্য নির্দেশনা ও প্রামান্য অনুষ্ঠান নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। নাট্যাভিনেতা হিসেবে দেশে ও দেশের বাইরে তার অসংখ্য মঞ্চ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।

তিনি স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন ছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় গঠিত জাতীয় তৃপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের সদস্য ও শ্রম আদালত ঢাকা-৩ এর সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

ফিরোজ হোসাইন দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে জনতা ব্যাংকের সিবিএর বেসিক কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। এছাড়া জনতা ব্যাংক গণতান্ত্রিক কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মো. ফিরোজ হোসাইন ছাত্রলীলের সোনারগাঁও উপজেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সোনারগাঁও গ্রাম উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শেখ রাসেল পরিষদ সোনারগাঁও এর প্রতিষ্ঠিতা তিনি।

তিনি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজি. গ্রাজুয়েট ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের আজীবন সদস্য। তিনি আইএলও, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের (আইটিইউসি) বাংলাদেশ কাউন্সিল, এনসিসিডব্লিউই, ডব্লিউআরসিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে জাতীয় শ্রমিক লীগের পক্ষে নেতৃত্ব প্রদান করছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়ছেন।

তিনি সোনারাঁওয়ের বাড়িমজলিশ গ্রামের কৃতি সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স এবং মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

ফিরোজ হোসাইন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন।

গাফফার চৌধুরীর লাশ আসছে কাল

দেশবরেণ্য সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট ও একুশের অমর গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরীর মরদেহ আগামীকাল শনিবার দেশে আসছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শনিবার বেলা ১১ টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশ এসে পৌছাবে। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে তার লাশ গ্রহণ করবেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

লাশ নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। সেখানে বেলা ১ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত গার্ড অব অনার ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য লাশ রাখা হবে। সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে তার জানাজা হবে। বিকাল ৪টায় গাফফার চৌধুরীর লাশ আনা হবে তার প্রিয় কর্মস্থল জাতীয় প্রেসক্লাবে।

সেখান থেকে সাড়ে ৪টায় মিরপুরের শহিদ বুদ্দিজীবী কবরস্থানে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হবে। সাড়ে ৫টায় দাফন হবে।

আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯ মে লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা যান।