করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে না

0
156

মূল্যস্ফীতি বাড়লেও আগামী বাজেটে (২০২২-২৩) ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সুখবর নেই। আগের নিয়মেই বছরে ৩ লাখ টাকা আয় হলে আয়কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে মধ্যবিত্তদের পরিবর্তে বাজেটে বিত্তশালীদের স্বস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা থাকছে।

সারচার্জ বা ‘সম্পদ কর’ হারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অপরদিকে ক্ষুদ্র হাঁস-মুরগির খামারিদের কর বাড়ানো হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানো হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। ওই সময় করমুক্ত আয় সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়।

এনবিআর মনে করে, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়লে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী আয়করের আওতার বাইরে চলে যাবে। মূল্যস্ফীতি বাড়লেও মানুষের আয়ও বেড়েছে। তাই সীমা বাড়ানোকে যৌক্তিক মনে করে না সংস্থাটি। যদিও ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের কাছ থেকে খুবই সামান্য আয়কর আদায় হয়ে থাকে।

বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের ৫ হাজার টাকা, অন্য সিটি করপোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে ৪ হাজার টাকা এবং অন্য জেলা, উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের করদাতাদের জন্য ৩ হাজার টাকা ন্যূনতম আয়কর দিতে হয়।

অন্যদিকে বাজেটে বিত্তশালীদের সম্পদের ওপর কর হার আগের মতোই রাখা হচ্ছে। সম্পদের মোট মূল্য ৩ কোটি টাকার কম হলে সারচার্জ দিতে হবে না। এছাড়া সম্পদের মূল্য ৩ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা মধ্যে থাকলে বা নিজ নামে একাধিক গাড়ি থাকলে প্রদেয় করের ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে। সম্পদের মূল্য ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে থাকলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ, ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে থাকলে ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে প্রদেয় করের ৩৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে।

সারচার্জ বা সম্পদ কর হচ্ছে একধরনের মাশুল, যা ব্যক্তির সম্পদের দলিলমূল্যের ওপর আদায় করা হয়। সর্বপ্রথম ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান শাসনামলে সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) চালু করা হয়। সেটি স্বাধীনতার পরও অব্যাহত ছিল। ১৯৮৮ সালে সরকার স্থায়ীভাবে সারচার্জ আদায় করতে অর্থ আইনের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে ১৬এ ধারা যুক্ত করে। বর্তমানে এ ধারা অনুযায়ী সারচার্জ আদায় করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নানামুখী চাপে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে সেটি প্রত্যাহার করা হয়। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে সেটি পুনরায় চালু করা হয়।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, পলিসিগত দুর্বলতার কারণে সারচার্জ একেবারে সামান্য আদায় হয়। বাজেটে রেট বাড়ানো হলো, নাকি অপরিবর্তিত রাখা হলো সেটা মুখ্য বিষয় নয়। এর চাইতে বড় বিষয় হলো, বর্তমানে যে পলিসিতে সারচার্জ আদায় করা হচ্ছে তাতে গলদ আছে।

দলিলমূল্যের ওপর সারচার্জ আদায় করায় গুলশান-বনানীর অনেক বাসিন্দা সারচার্জের বাইরে থাকছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান মৌজামূল্যের ওপর সারচার্জ আদায় করা গেলে অনেক বেশি কর আদায় সম্ভব হতো। এ জন্য সারচার্জ আদায় পদ্ধতির সংস্কার দরকার আছে।

এদিকে ছোট হাঁস-মুরগির খামারিদের কর বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে হাঁস-মুরগির খামারের মালিকদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। এটি কমিয়ে ১০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ আগামী অর্থবছর থেকে খামারের বার্ষিত আয় ১০ লাখ টাকা পার হলেই আয়কর দিতে হবে। এছাড়া আগের নিয়মেই হাঁস-মুরগি, চিংড়ি ও মাছের হ্যাচারি এবং মৎস্য চাষ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর দিতে হবে।

সূত্রগুলো জানায়, আগামী অর্থবছর থেকে সব ধরনের মৎস্য, পোলট্রি ও কৃষি আয়ের ওপর অভিন্ন কর হার চালু হচ্ছে। প্রথম ১০ লাখ টাকা করমুক্ত থাকছে। পরবর্তী ১০ লাখ টাকা (মোট ২০ লাখ) আয়ের ওপর ৫ শতাংশ হারে, পরবর্তী ১০ লাখ টাকা (মোট ৩০ লাখ টাকা) আয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের (৩০ লাখ টাকার বেশি আয় হলে) ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিয়ে হবে।

এনবিআরের কর্মকর্তা বলছেন, বিদ্যমান আয়কর বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তি আয়করের সর্বোচ্চ হার ২৫ শতাংশ। হাঁস-মুরগির খামার থেকে আয়ের বড় একটি অংশ করমুক্ত থাকায় রিটার্নে এ খাতে আয় দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রবণতা বন্ধে কৃষি খাতের কর কাঠামো সমন্বয় করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here