রবিবার ,৭ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 301

সিঙ্গাপুর বিডি চ্যামের সভাপতি টরিক, সম্পাদক আসাদ

‘বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর’ (বিডি চ্যাম) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সাহিদুজ্জামান টরিক। এছাড়া আমদানি রফতানি ব্যবসায়ী আসাদ মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

এর আগে সিঙ্গাপুরের ৮৮ ওয়েন রোডে সংগঠনের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা হয়। এছাড়া বিডি চ্যাম’র সদস্যদের জন্য একটি ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন সংগঠনের নেতারা। সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসাবে স্বীকৃত ‘বিডি চ্যাম’।

সিঙ্গাপুর প্রবাসী ব্যবসায়ীরা জানান, চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান সাহিদুজ্জামান টরিক দীর্ঘ তিন দশক ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন। প্রবাসে থেকে ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি। একজন উদার এবং দানশীল ব্যক্তি হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে তার পরিচিত রয়েছেন। তিনি এর আগেও বিডি চ্যামের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ সোসাইটিরও সভাপতি ছিলেন।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ১৯৯৫ সালে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান টরিক। অক্লান্ত শ্রম, মেধা আর নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীতে পরিণত হন। সিঙ্গাপুরে ট্যুরিজম এবং হোটেল সেক্টরে ব্যবসা রয়েছে তার। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকলেও যেকোনো সংকটে দেশে ছুটে আসেন তিনি। করোনা মহামারিকালে আর্তমানতার সেবায় তার উদ্যোগ অন্যন্য। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিপুল সংখ্যক মানুষকে খাবার এবং চিকিৎসা সহায়তা দেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসা নিতে যাওয়া ব্যক্তিদের অন্যতম ভরসার নাম টরিক।

বাংলাদেশের খ্যতিমান গায়ক এন্ড্র–কিশোর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে গেলে তার পাশে দাঁড়ান তিনি। এন্ড্রকিশোর দীর্ঘ ৬ মাসেরও বেশি সময় স্ব-স্ত্রীক তার হোটেলই অবস্থান করেন। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে এন্ড্রকিশোরের বিপুল অংকের চিকিৎসার ব্যয় বহনে উল্লেখযোগ্য সহায়তা দেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের বহু সংখ্যক রাজনীতিবিদ সিঙ্গাপুরে তার আতিথেওতায় মুগ্ধ হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে টরিক ধর্মভীরু, সদালাপি এবং বিনয়ী।

বুধবার এক প্রতিক্রিয়ায় সাহিদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘সিঙ্গপুরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও তাদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি কাজ করবেন। এছাড়া বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিডি চ্যাম প্লাটফরম সরকারকে সহায়তা করবে।

বিডি চ্যামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির নির্বাচিত সদস্যরা আগামী দুই বছর (২০২২-২৪) দায়িত্ব পালন করবে।

কমিটির অন্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান ও আমানুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ ফিরোজ আহমেদ চৌধুরী, সহকারী কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন, কাউন্সিল মেম্বার সামসুর রহমান ফিলিপ, মাহবুব আলম, আলী মোস্তফা, মোহাম্মদ আশরাফুর রহমান খান, জাহিদুল কবির, তুহিন ও সাব্বির হাসান শাহান।

গরমের রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায়

গ্রীষ্মকালে কিছু রোগ দেখা দেয়। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও জীবনাচারে কিছু বদল আনলে এসব রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত গরম সব সময়ই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত তাপ যে কোনো বয়সের বিশেষ করে শিশু ও যাদের বয়স ৬০-এর কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি তাদের ঝুঁকি এ সময় সবচেয়ে বেশি থাকে।

গরমে শারীরিক অস্বস্তি ও নানা রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। একটু সচেতন হলেই আমরা এসব রোগবালাই থেকে দূরে থাকতে পারি। তবে সময়মতো সচেতন না হলে অনেক সময় তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গ্রীষ্মকালীন রোগ ও প্রতিকারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও মাদ্রাজের শ্রী বালাজী মেডিকেল ইউনিভর্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর ডা. এইচ, এন, সরকার।

প্রতিটি ঋতু তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে। প্রতিটির একটি কমনীয় এবং উপভোগ্য দিক রয়েছে, সেসঙ্গে একটি অস্বস্তিকর এবং ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে। গ্রীষ্মকালও এর ব্যতিক্রম নয়। গ্রীষ্মের গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে আমরা এগুলো এড়াতে পারি।

পানিশূন্যতা (Dehydration)

গ্রীষ্মকালে শরীর অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে তাপ নির্গত করে মূল তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করে। ফলে শরীরে তরলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যাকে আমরা পানিস্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশন বলি। পানিস্বল্পতার লক্ষণগুলো হলো-

* সব সময় তৃষ্ণার্ত অনুভব করা

* অল্প এবং গাঢ় আভাযুক্ত প্রস্রাব

* মাথাব্যথা

* দিশেহারা ভাব

নিয়মিত বিরতিতে প্রচুর পানি পান করে আমরা এই লক্ষণগুলো প্রতিরোধ করতে পারি। কচি ডাবের পানি বা ‘লস্যি’ও পান করতে পারি। তরমুজ, আঙুর, পেঁপে বা আমের মতো অনেক পানিযুক্ত ফল খেতে পারি যা আমাদের শরীরের পানিকে পুনরায় পূরণ করতে পারে।

মাথাব্যথা (Headache)

ডিহাইড্রেশনের ফলে গ্রীষ্মকালে মাথাব্যথা একটি সাধারণ ব্যাপার, যা গ্রীষ্মকালীন মাথাব্যথা নামে পরিচিত। পানিস্বল্পতা পূরণ করে মাথাব্যাথা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তাপজনিত রোগ (Heat-related diseases)

গরমে মৃদু থেকে তীব্র তাপজনিত রোগ সৃষ্টি হতে পারে। এটি সূর্যালোক-সম্পাতের কাল এবং পরিশ্রমের মাত্রার ওপর নির্ভর করে। এগুলো হলো-

* তাপ ক্র্যাম্প (Heat cramp)

গরম তাপমাত্রায় অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে প্রচুর ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে লবণ (সোডিয়াম) বেরিয়ে যাওয়ার ফলে বেদনাদায়ক পেশি সংকোচন ঘটে। লবণবিহীন শুধু পানি পান করলে এটি আরও বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে শরীরের মূল তাপমাত্রা (core temperature) বৃদ্ধি পায় না। লক্ষণগুলো দেখা দিলে খাবার স্যালাইন খেলে দ্রুত উপশম হয়।

* তাপ সিনকোপ (Heat syncope)

গরম আবহাওয়ায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে শরীরের বাইরের দিকের রক্তনালি প্রসারণের ফলে রক্তচাপ কমে যায়, ফলে মস্তিষ্কে কম রক্ত প্রবাহিত হয়, তখন কোনো ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। তখন ওই ব্যক্তিকে ছায়ার নিচে সরিয়ে নিতে হবে এবং ফ্যান চালিয়ে দিলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।

* তাপ নিঃশেষণ (Heat exhusion)

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করলে তাপ নিঃসরণ ঘটে। প্রচুর ঘাম এবং অপর্যাপ্ত লবণ ও পানি প্রতিস্থাপনের ফলে কোর (মলদ্বার) তাপমাত্রা ৩৭০ থেকে ৪০০-এর মধ্যে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা দেয়-

* ত্বক গরম এবং ঘাম হয়

* মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, বিরক্তিভাব

* ডিহাইড্রেশন, দ্রুত নাড়ির গতি

এ রকম পরিস্থিতিতে রোগীকে তাপ থেকে ছায়ায় নিয়ে যেতে হবে। কাপড়-চোপড় খুলে ঠান্ডা পানি স্প্রে করে ফ্যান ছেড়ে শীতল করতে হবে। পানিস্বল্পতা পূরণের জন্য খাবার স্যালাইন খেতে দিতে হবে বা শিরায় স্যালাইন দিতে হবে। চিকিৎসা না করা হলে, তাপ নিঃসরণ হিট স্ট্রোকে পরিণত হতে পারে।

হেই ফিভার (Hay fever)

হেই ফিভার এক ধরনের অ্যালার্জি। এটি বিশেষত গ্রীষ্মের শুরুতে দেখা যায়, যখন ফুল ফোটে এবং পরাগ আপনার শরীরের সংস্পর্শে আসে। এর লক্ষণগুলো হলো-

* নাক আটকে যাওয়া এবং চোখ দিয়ে পানি পড়া

* কাশি এবং হাঁচি

* নাক দিয়ে পাতলা পানি পড়া

* ক্লান্তি এবং জ্বর

বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করে পরাগের সংস্পর্শ এড়িয়ে এটি প্রতিরোধ করতে পারি। যদি এটি ঘটে, তবে ফেক্সোফেনাডিনের মতো অ্যান্টিহিস্টামিন দ্বারা উপসর্গগুলো হ্রাস করা যেতে পারে। আপনি যদি অ্যালার্জি প্রবণ হন, তবে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন, কিছু ওষুধ হাই ফিভার প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

হাঁপানির আক্রমণ (Asthma attacks)

গ্রীষ্মের শুরুতে হাঁপানির আক্রমণ বেশি দেখা দেয় যখন ফুল ফোটে এবং ফুলের রেণু বাতাসে উড়ে বেড়ায়, বিশেষ করে অ্যালার্জিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে। আপনার যদি হাঁপানি থাকে আপনি বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করে পরাগের সংস্পর্শ এড়ানোর মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে পারেন।

ফ্লু (Flu)

ফ্লু গ্রীষ্মের দিনের একটি সাধারণ রোগ। দুইভাবে এটি হতে পারে। খাদ্য ও পানিবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে।

খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food poisoning)

গ্রীষ্মকালে খাদ্যে বিষক্রিয়া বেশি হয় যখন সালমোনেলা এবং ক্লোস্ট্রিডিয়ামের মতো কিছু বিপজ্জনক অণুজীব খাদ্যে বৃদ্ধি পায়।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ হলো-

* পেট ব্যথা

* বমি বমি ভাব এবং বমি

* ডায়রিয়া

* জ্বর

কম রান্না করা মাংস, কাঁচা শাকসবজি, মাছ এবং ফাস্ট ফুড এড়িয়ে এটি প্রতিরোধ করা যেতে পারে। যদি এটি ঘটে খাবার স্যালাইন খাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা এবং টাইফয়েড

ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা এবং টাইফয়েড হলো পানিবাহিত রোগ যা গ্রীষ্মের মাসগুলোতে বেশি দেখা যায় এবং দূষিত খাবার বা পানি এড়িয়ে চলার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়।

ত্বকের রোগ (Skin diseases)

* ঘামাচি : গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে সাধারণ চর্মরোগগুলোর মধ্যে একটি হলো ঘামাচি। ঘামাচি বাচ্চাদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের হয়। ত্বকে লাল ফুসকুড়ি হয় এবং এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হতে পারে এবং অতিরিক্ত চুলকানির কারণ হতে পারে। এ অবস্থার সৃষ্টি হয় যখন একজন ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে ঘামে এবং ঘামে। ভেজা কাপড় ত্বকে ঘষতে থাকে যার ফলে ফুসকুড়ি এবং চুলকানি হয়। ঘামাচি থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে ত্বক শুষ্ক রাখতে হবে। ঘর্মাক্ত জামাকাপড় সময়মতো পরিবর্তন করুন এবং ত্বককে শুষ্ক রাখতে ভালো ঘামাচি পাউডার ব্যবহার করুন।

* রোদে পোড়া (Sunburns)

যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য সূর্যালোতে কেউ থাকেন, তখন ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UVA, UVB) সূক্ষ্ম ত্বকে প্রবেশ করে সানবার্ন নামক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে যায় এবং চুলকায়। সঙ্গে বমি বমি ভাব, জ্বর বা ঠান্ডা থাকতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে পোড়া গুরুতর, সেখানে ফোস্কা পড়তে পারে এবং অবস্থার উন্নতি হলে ত্বকে খোসা উঠতে পারে। রোদে বেরোনোর প্রায় ২০ মিনিট আগে একটি শক্তিশালী (এসপিএফসহ) ভালো সানস্ক্রিন লোশন প্রয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা সঠিকভাবে বজায় রাখুন।

ব্রণ (Acne)

গ্রীষ্মে ব্রণ হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। কারণ শরীর ঠান্ডা রাখতে শরীরে বেশি ঘাম তৈরি করে। ঘামের অতিরিক্ত উৎপাদন সেবেসিয়াস গ্রন্থিগুলোকে ত্বককে আর্দ্র রাখতে আরও তেল উৎপাদন করতে উদ্দীপিত করে, ফলে সেবেসিয়াস গ্রন্থিমুখ আটকে যায় এবং ব্রণ সৃষ্টি করে। দিনে বারবার মুখ ধোয়া ত্বককে তেলমুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ব্রণ কম হবে।

সংক্রমণ (Infection)

হাম (Measles)

হাম একটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, সর্দি এবং গায়ে লাল লাল দানা। শিশুরা সাধারণত হামে আক্রান্ত হয়। হামের টিকা এবং আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শ এড়ানোর মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা যায়।

মাম্পস (Mumps)

মাম্পস একটি ছোঁয়াচে এবং মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা গ্রীষ্মকালে ব্যাপক আকার ধারণ করে। এটি সংক্রমিত ব্যক্তি যখন হাঁচি বা কাশি দেয় তখন প্রতিবেশীদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। কানের সামনের প্যারোটিড গ্রন্থিকে আক্রান্ত করে, যার ফলে গ্রন্থি ফুলে যায়, ব্যথা এবং জ্বর হয়। মাম্পস ভ্যাকসিন এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোর মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা যায়।

জলবসন্ত (Chicken Pox)

গ্রীষ্মের অন্যতম মারাত্মক রোগ হলো চিকেন পক্স। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। জলবসন্তে সারা শরীরে ছোট ছোট পানিভর্তি ফোস্কা দেখা দেয়। জলবসন্ত সাধারণত ছোট শিশুদের আক্রান্ত করে; কখনো কখনো প্রাপ্তবয়স্ক লোক, ডায়াবেটিসের রোগী, ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের হতে পারে। এ সংক্রামক রোগটি বায়ুবাহিত কণার মাধ্যমে ছড়ায় যা সংক্রমিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বা সরাসরি সংক্রমিত ব্যক্তির সহচার্যে এলে ছড়ায়। কখনো কখনো সংক্রমণ সুপ্ত থাকতে পারে যতক্ষণ না সংক্রমণ করার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া তৈরি হয়।

চিকেনপক্সের ভ্যাকসিন নিয়ে এবং সংক্রমিত ব্যক্তির সহচার্য এড়িয়ে জলবসন্ত প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মশার কামড়ে সংক্রমিত রোগ (Infections caused by mosquito bite)

মশার কামড়ে সংক্রমিত রোগ যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়াও গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়, কারণ এটি মশার প্রজনন মৌসুম। মশা নিধন, তাদের প্রজনন স্থান অপসারণ এবং মশার কামড় এড়ানোর মাধ্যমে এ রোগগুলো প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

নেত্রদাহ (Sore Eyes)

চোখ ব্যথা বা কনজাক্টিভাইটিস হলো ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা অ্যালার্জির ফল, যা কনজাক্টিভার প্রদাহের সৃষ্টি করে এবং ৪-৭ দিন থাকে। চোখ ব্যথা করে এবং লাল হয়ে যায়। এগুলো সাধারণত ভাইরাস দিয়ে হয় এবং এটি একটি সংক্রামক রোগ। যদি পরিবারের এক ব্যক্তির এটি হয়, তবে সবারই হতে পারে। চোখ স্পর্শ করার আগে হাত ধোয়া গুরুত্বপূর্ণ। দিনে কয়েকবার ঠান্ডা পানি দিয়ে আক্রান্ত চোখ ধুলে আরাম পাওয়া যায়।

গ্রীষ্মকালীন বিষণ্নতা (Summer depression)

জলবায়ুর পরিবর্তন এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিছু মানুষের মেজাজ পরিবর্তন হতে পারে। কিছু কিছু মানুষ গ্রীষ্মকালে বিচ্ছিন্নতায় ভোগে। তাপমাত্রা কমে গেলে বর্ষা এলে বিষণ্নতা কেটে যায়।

অতিরিক্ত গরম থেকে জন্ডিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি

জন্ডিস আরেকটি মারাত্মক রোগ যা গ্রীষ্মের মাসগুলোতে বেশি দেখা যায়। দূষিত খাবার বা জল গ্রহণ করলে যে কারও জন্ডিস হতে পারে। হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাস দূষিত খাবার বা জল-এর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং সংক্রমিত ব্যক্তির মল দ্বারা পানি বা খাবার দূষিত হয়। জন্ডিস গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং জীবনকে বিপন্ন করতে পারে। জন্ডিসের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

* ত্বক এবং চোখের হলদে ভাব

* হলুদ রঙের প্রস্রাব

* চুলকানি ইত্যাদি।

এ সংক্রমণ এড়াতে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো এ ধরনের সংক্রমণের সংস্পর্শ এড়ানো অর্থাৎ দূষিত খাবার বা পানি এড়ানো। হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করুন।

গরমে হিট স্ট্রোক থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে

যখন শরীরের মূল তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে বেড়ে যায়, তখন হিটস্ট্রোক ঘটে এবং এটি একটি জীবন হুমকির অবস্থা। হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো হলো-

* রোগীর ত্বক খুব গরম অনুভূত হয় এবং ঘাম থাকে না

* মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমি

* মাংসপেশি কাঁপুনি এবং বিভ্রান্তি

* উত্তেজিত বা জ্ঞান হারানো।

হিটস্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা এবং এর মৃত্যুর হার বেশি। তাই অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

প্রতিরোধ : যতটা সম্ভব, দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ গরমের সময় বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি বাইরে যেতে হয়, তবে হলকা কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে বের হবেন। প্রখর রোদে ঘোরাঘুরির পরিবর্তে ঠান্ডা জায়গায় থাকার চেষ্টা করুন।

এসব সমস্যা থেকে কীভাবে নিজেকে দূরে রাখবেন

যেহেতু গ্রীষ্মকাল চলছে, সতর্ক থাকুন এবং উষ্ণ ও গরম আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। নিরাপদ গ্রীষ্মের জন্য অতিরিক্ত তাপের বিরুদ্ধে নিম্নবর্ণিত উপায়গুলো অবলম্বন করুন।

* প্রচুর পানি পান করুন এবং নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে বাড়িতে এবং ভ্রমণের সময় ডাবের জল এবং লেবুর শরবত পান করুন। সারা দিনে কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস তরল পান করুন।

* ঢিলেঢালা, হালকা রঙের পোশাক পরুন। কারণ গাঢ় রঙের পোশাক বেশি তাপ শোষণ করে এবং আঁটসাঁট পোশাক আপনার শরীরকে ঘামতে দেয় না। হালকা এবং শোষণকারী সূতার পোশাক ব্যবহার করুন।

* ভ্রমণের সময় বা বাহিরের কাজকর্মের সময় ভারী পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন; প্রয়োজনে ছায়াস্থানে বিশ্রাম করুন।

* শিশুকে কখনোই প্রখর সূর্যের সংস্পর্শে থাকা গাড়িতে বসে থাকতে দেবেন না এবং ছায়ার নিচে গাড়ি পার্ক করার চেষ্টা করুন।

* সূর্যের রশ্মির কারণে রোদে পোড়া হলে আরামের জন্য বরফের প্যাক এবং ব্যথা উপশমকারী মলম প্রয়োগ করুন।

* হাত সঠিকভাবে ধুয়ে নিন ও খাবার তৈরি এবং পরিবেশন করার সময় সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। খাদ্য ও পানিবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে কোনো খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ বা রান্না করার আগে হাত ধুয়ে নিন। যখনই ওয়াশরুমে যাবেন তখন হাত ধুয়ে নিন।

* গ্রীষ্মের দিনে আধাসিদ্ধ খাবার এবং রাস্তার খাবার খাবেন না। তরমুজ, শসা, আখ এবং আমের মতো তাজা রসালো ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

* দুপুরের রোদের সময় বাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন, যাতে তাপ বাড়ির ভেতরে আটকে না যায়।

* খাবার স্যালাইন (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন)-এর মজুত হাতে রাখুন। এগুলো সহজেই কিনতে পাওয়া যায়। যদি না পাওয়া যায়, আপনি নিজে এগুলো বাড়িতে তৈরি করতে পারেন।

* চোখের ব্যথা এড়াতে এবং সংক্রমণের বিস্তার এড়াতে, হাত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখুন, ব্যথা কমাতে পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ বারবার ধুয়ে নিন।

* MMR (হাম, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দিয়ে এদের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আপনি বা আপনার সন্তানকে এ ৩টি সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকা দেয়া না থাকলে, দ্রুততম সময়ে টিকা নেওয়া উচিত।

* মশা তাড়ানোর ওষুধ প্রয়োগ করুন এবং মশার প্রজনন স্থান এড়িয়ে চলুন।

* কমপক্ষে ১৫ এসপিএফ (সান প্রোটেক্টর ফ্যাক্টর)সহ সানস্ক্রিন প্রয়োগ করে ত্বককে ঢেকে রাখুন এবং সুরক্ষিত রাখুন।

* খুব বেশি সময় সূর্যের তাপ-এক্সপোজার এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে দুপুর থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত, যখন সূর্যের রশ্মি সরাসরি লম্বাভাবে পড়ে।

* ভ্রমণের সময় বা বাহিরের কার্যকলাপের জন্য সানগ্লাসসহ ক্যাপ পরে সূর্যের তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। টুপি এবং সানগ্লাস ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মিকে মুখের সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করা থেকে বাধা দেবে এবং মুখকে সতেজ ও বলিরেখামুক্ত রাখবে।

৪৪তম বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য জরুরিভাবে সর্তকতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী শুক্রবার (২৭ মে) ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী শুক্রবার (২৭ মে) ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে বইসহ সব ধরনের ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাংক-ক্রেডিট কার্ড সদৃশ কোনো ডিভাইস, গয়না ও ব্যাগ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। এ ধরনের কাজকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশের উপস্থিতিতে প্রবেশপত্র এবং মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে মুঠোফোন, ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে হবে।

পরীক্ষার দিন উল্লিখিত নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে না আনার জন্য সব প্রার্থীর মুঠোফোনে এসএমএস পাঠানো হবে। এসএমএসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

পিএসসি জানায়, পরীক্ষার সময় কোনো প্রার্থী কানের ওপর কোনো আবরণ রাখতে পারবেন না, কান খোলা রাখতে হবে। কানে কোনো ধরনের হিয়ারিং এইড (শ্রবণযন্ত্র) ব্যবহারের প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শপত্রসহ আগেই কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো প্রার্থীর কাছে এসব নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্তসহ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা ২০১৪-এর বিধি ভঙ্গের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলসহ ভবিষ্যতে কর্ম কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ওই প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হবেন।

৪৪তম বিসিএসে মোট আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭১৬ জন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ না হওয়ার কারণে এই বিসিএসের আবেদনের সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছিল।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ নম্বরের এই পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ থেকে ৯টা ২৫ মিনিটের মধ্যে আসন গ্রহণ করতে হবে।

ঢাবিতে ছাত্রলীগ ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে: ছাত্রদল সভাপতি

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ অভিযোগ করেছেন, বহিরাগত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা, চাপাতি, হকিস্টিক এবং বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পাহারা দিচ্ছে। তারা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, শহরের ওই অংশে একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। তারা গুণ্ডাবাহিনীর মতো মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

‘স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাদের কাছে অভিযোগ করে জানিয়েছে, তারা সেখানে মোটেও নিরাপদ অনুভব করছে না।’ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

বুধবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় শুক্রবার বিসিএস পরীক্ষা থাকায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার স্বার্থে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করার ঘোষণা দেন ছাত্রদল সভাপতি। একইসঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে জানিয়ে তা সফলে নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

‘ঢাবির উপাচার্যকে কোনো দলের অনুগত হয়ে কাজ না করার’ আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, ‘স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে ব্যর্থ হলে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দায়ী থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

ছাত্রলীগের হামলা-মামলায় ভয় করে না ছাত্রদল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যের পরিবেশ দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। তবে সেটা এখন সব সীমা অতিক্রম করেছে। যে কোনো মূল্যে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়।’

কাজী রওনকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ছাত্রদল মনে করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার মুখের ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে, বাংলাদেশ পেয়েছে একটি স্বাধীন পতাকা এবং স্বাধীন মাতৃভূমি। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন সংগঠনের মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন মতামত প্রকাশের জায়গা। কিন্তু যখন দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে, বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মার খাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা মার খাচ্ছে। তখন দেশের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্রসংগঠন হিসেবে এর পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার দায় আমাদের ওপরও বর্তায়।আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আবারো বিনীত অনুরোধ করব, আপনি পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক। আপনার অভিভাবকসুলভ আচরণের মাধ্যেমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। সব ছাত্রছাত্রীদের কোনো সংগঠনের পরিচয়ে মূল্যায়ন না করে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করুন। তাহলে আপনি হতে পারবেন ক্যাম্পাসের সত্যিকারের একজন অভিভাবক। আর তা আপনার কর্তব্যও বটে।’

‘শুধুমাত্র ছাত্রদল নয়; সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন এবং সব ছাত্রছাত্রীরা আপনাকে একজন নির্দলীয় অভিভাবকের ভূমিকায় দেখতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার দৃঢ় ভূমিকা এই ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস মুক্ত করতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। অন্যথায় আপনি ও আপনার কর্মকাণ্ড জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

বুধবার কেন্দ্রীয় সংসদের পরামর্শে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ক্যাম্পাসে তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থেকেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রদল স্বাভাবিক কার্যক্রম নিত্যদিনের মতো পরিচালনা করতে চায়। এজন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত সব ছাত্রসংগঠনের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা আপনাদের সহযোগিতামূলক আচরণ প্রত্যাশা করছি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আমাদের আদর্শিক রাজনীতি পরিচালনা করার সুযোগ পাব বলে আশা রাখছি। আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষা করে গণমানুষের পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা না হলে উদ্ভূত পরিস্থির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী থাকবে।’

সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আসুন- আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত করি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আকতার হোসেন, সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগরের নেতারা।

কঙ্গনার পর এবার দীপিকার জুটি শাশ্বত চ্যাটার্জি

টালিউডের পাশাপাশি বলিউডেও একের পর এক ছবিতে অভিনয় করছেন শাশ্বত চ্যাটার্জি। কখনো কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গে, কখনো বিদ্যা বালান, আবার কখনো রণবীর ও ক্যাটরিনার সঙ্গে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। আর এবার এই অভিনেতাকে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে।

জানা গেছে, পরিচালক নাগ অশ্বিনের ছবিতে দীপিকার সঙ্গে দেখা যাবে শাশ্বতকে। সঙ্গে থাকছেন ‘বাহুবলী’খ্যাত অভিনেতা প্রভাসও। শোনা যাচ্ছে অমিতাভ বচ্চনও রয়েছেন এ ছবিতে।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাশ্বত বলেন, ‘হায়দরাবাদে দীপিকার সঙ্গে একদিনের শুট হয়েছে। দীপিকা দারুণ প্রফেশনাল। শটের জন্য বহুক্ষণ অপেক্ষা করলেও, এক মুখ হাসি। আমি দীপিকাকে জানাই, আমার মেয়ে তার দারুণ ভক্ত। সঙ্গে সঙ্গে দীপিকা তার নিজের একটি ছবিতে অটোগ্রাফ করে আমার মেয়েকে দিতে বলেন। আমার মেয়ে তো সেই ছবি পেয়ে আপ্লুত।’

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে শাশ্বতের অভিনীত ধাকড়। এই ছবিতে কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও শাশ্বতর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

অন্যদিকে শুক্রবার মুক্তি পেতে চলেছে শাশ্বতর অভিনীত ছবি ‘তীরন্দাজ শবর’। চার বছর পর পর্দায় ফিরছে ‘শবর’। ফের শীর্ষেন্দ্যু মুখার্জির রহস্য ঘেরা গল্প জীবন্ত হয়ে উঠবে সিনেমার পর্দায়। ফের দেখা যাবে লাল বাজারের দুঁদে গোয়েন্দা শবর দাশগুপ্তকে।

বরাবরেই মতো শবরের ভূমিকায় রয়েছে শাশ্বত চ্যাটার্জি। সঙ্গে রয়েছেন শবরের সহকারী ওরফে শুভ্রজিৎ দত্ত। এ ছাড়া এই ছবিতে অভিনয় করেছেন চন্দন সেন, দেবলীনা কুমার, পৌলমী দাস। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন নাইজেল আকারা।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

সিয়াম-পূজার ‘শান’ এবার প্যারিসে

সিয়াম-পূজার দর্শকদের জন্য সুখবর। ঈদের আগে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একযোগে মুক্তি পাওয়ার এই জুটির ছবি ‘শান’ এবার মুক্তি পাচ্ছে ফ্রান্সের প্যারিসে।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘শান’ আগামীকাল শুক্রবার থেকে প্যারিসের গোমো সেন্ট ড্যানি ও পাথে লা ভিলেত হলে প্রদর্শন করা হবে।

ফ্রান্সে সিনেমাটি পরিবেশন করছে দেসি এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রাব্বানী খান বলেন, ‘আমরা আপাতত প্যারিস শহরতলীর দুটি থিয়েটারে মুক্তি দিচ্ছি সিনেমাটি। পরের সপ্তাহে তুলুজে রিলিজের সম্ভাবনা আছে। দুটি হলে প্রথম সপ্তাহে ১৮টি শো দেখানো হবে। দর্শকদের সাড়া পেলে পরবর্তীতে শো আরও বাড়ানো হবে।’

‘শান’ সিনেমা পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা এম রাহিম। জুটি বেঁধেছেন সিয়াম আহমেদ ও পূজা চেরি। সিনেমাটির গল্প লিখেছেন প্রযোজক আজাদ খান। চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন যৌথভাবে আজাদ খান ও নাজিম উদ দৌলা।

সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন তাসকিন রহমান, সৈয়দ হাসান ইমাম, চম্পা, অরুণা বিশ্বাস প্রমুখ।

ঘরের মাঠে ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ

আইসিসি নারী ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপের আগের দুই আসরে খেলা হয়েছিল ৮ দল নিয়ে। আগামী মাস থেকে শুরু হচ্ছে তৃতীয় আসর। তার ঠিক আগে আইসিসি জানাল, এবারের আসরে খেলবে বাংলাদেশ, সঙ্গে যোগ হয়েছে আয়ারল্যান্ডও।

এবার ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে তাদের অপর তিন প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড।

এ ছাড়া দেশের বাইরে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ নারী দল।

আইসিসি বুধবার ২০২২-২৫ চক্রের ফরম্যাট ও সিরিজের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।

তবে কবে কখন হবে সিরিজগুলো, তা অবশ্য জানায়নি আইসিসি। আগামী ১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান শ্রীলংকার তিন ম্যাচের সিরিজ দিয়ে শুরু হবে এই সিরিজ।

আগামী নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের খেলা নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় আসর হবে এটি। বাংলাদেশ খেলবে এই প্রথম। এবার টুর্নামেন্ট হবে দশ দল নিয়ে। প্রতিটি দল আগামী তিন বছরে আটটি তিন ম্যাচের সিরিজ (চারটি হোম ও চারটি অ্যাওয়ে) খেলবে। চক্রের শেষে শীর্ষ পাঁচটি দল ও স্বাগতিকরা ২০২৫ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে।

নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দলের সংখ্যা বাড়াতে চায় আইসিসি।

সেই পরিকল্পনায় নতুন পাঁচ দেশকে ওয়ানডে স্ট্যাটাস দিয়েছে আইসিসি। তারা হলো— নেদারল্যান্ডস, পাপুয়া নিউগিনি, থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে সংস্থাটির প্রধান কার্যনির্বাহী জিওফ অ্যালার্ডাইস বলেছেন, ‘আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দল বাড়ানো আর পাঁচ দলকে ওয়ানডে স্ট্যাটাস দেওয়াটা নারীদের খেলাটাকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে আমাদের। আরও বেশি দল নিয়মিত খেলার ফলে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতির তৈরি হবে, যেমনটা আমরা দেখেছিলাম নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে।’

যে কারণে সুজনকে ‘চাচা’ ডাকেন ডোনাল্ড

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ খালেদ মাহমুদ সুজন। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে খেলে বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সুজনকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফরা চাচা বলে ডাকেন।

ছেলেদের মুখে চাচা ডাক শুনে বিদেশি কোচরাও সুজনকে সে নামেই ডাকা শুরু করেন। বর্তমান হেড রাসেল ডমিঙ্গোও সুজনকে চাচা সম্বোধন করেন।

এর ব্যত্যয় ঘটেনি বাংলাদেশ দলে নতুন যোগ দেওয়া পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের বেলায়ও।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সুজনকে চাচা হিসেবে সম্বোধন করেন এ সাবেক প্রোটিয়া পেসার।

মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ডোনাল্ডকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ দলের পেসারদের শেখানোর ক্ষেত্রে তাকে ভাষাজনিত কোনো সমস্যায় পড়তে হয় কিনা?

এর জবাবে ডোনাল্ড বলেন, ‘আমি আগে এটি নিশ্চিত করি, সবসময় চাচা যেন আমার আশপাশে কাছাকাছি থাকে। আমার বার্তাটা যেন পেসাররা ঠিকঠাক পায় এটি আগে নিশ্চিত করি। আমরা বাইরে তেমন কথা বলি না। তবে প্রতিটি বিরতিতে ড্রেসিংরুমে কথা বলি।’

ডোনাল্ডের এমন জবাবের পর পরই সাংবাদিকদের প্রশ্ন— খালেদ মাহমুদ সুজনকে চাচা ডাকলেন কেন?

এর উত্তর দিতে গিয়ে সুজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন ডোনাল্ড।

বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে, তাকে যেন চাচা ডাকি। বাংলাদেশ যখন প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল, তখন আমি এই ছোটখাটো গড়নের মিডিয়াম পেসারকে দেখেছি। তখন সে বেশ বর্ণিল চরিত্রের ছিল। তাকে আমার খুব ভালো লেগেছিল।’

প্রোটিয়া কোচ বলেন, ‘তার (সুজন) মধ্যে পিতৃত্বসুলভ গুণাবলি রয়েছে। দলের সব খেলোয়াড় তাকে শ্রদ্ধা করে। যে কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য দারুণ ব্যক্তি সে। আপনার যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়, চাচা সেটি সহজেই করে দেন।’

শুরুতে চাচা সুজনের সাহায্য নিতে হলেও এখন তেমনটির প্রয়োজন পড়ছে না। পেসার খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনরা ইংরেজি কথাও ঠিকঠাক ধরতে পারছেন বলে জানালেন ডোনাল্ড।

টাইগারদের পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘এখন তারা বুঝতে শুরু করেছে। ইংরেজি কথার মূলভাবটা ধরতে পারছে খালেদ-এবাদতরা। তাই আমি মনে করি বার্তাটা যথাযথ হওয়া উচিত। তাই কৌশলগত পরিকল্পনার সময় আমরা আলোচনা সহজ রাখতে চেষ্টা করি। যাতে কিছু জটিল না হয়।’

মিরসরাইয়ে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৩

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সাদাপোশাকে থাকা র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই র‍্যাব সদস্যসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

আহত র‍্যাব সদস্য হলেন- মো. শামিম কাউছার (২৯) ও মোখলেছ। অপর আহত ব্যক্তি হলেন পারভেজ (২৯)।

বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর বাজারে শান্তিরহাট রাস্তার মাথায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব জানিয়েছে, সাদাপোশাকে র‍্যাব সদস্যরা মাদক উদ্ধারে অভিযানে যান। এ সময় মাদক কারবারিরা ‘ডাকাত’ ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন হামলায় অংশ নেন। এতে র‍্যাবের দুই সদস্যসহ তিনজন আহত হন। আহত দুই র‍্যাব সদস্যকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার সন্ধ্যায় বারইয়ারহাট পৌর বাজারে শান্তিরহাট রোডের মাথায় র‍্যাব সদস্যদের বহন করা সাদা রঙের প্রাইভেটকারের সামনে একটি কাভার্ডভ্যান থামে। এ সময় ফাঁকা গুলির শব্দ শুনে ‘ডাকাত’ ‘ডাকাত’ চিৎকার করে একদল লোক হামলা চালায়। হামলায় র‍্যাবের দুই সদস্যসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। এ সময় প্রাইভেটকারটিও ভাঙচুর করা হয়।

জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ ও র‍্যাব-৭ এর সদস্যরা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী শহরে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি মো. নুর হোসেন মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের হাতে কয়েকজন র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে পারব না আমরা।’

এ বিষয়ে র‍্যাবের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) নুরুল আবছার গণমাধ্যমকে বলেন, র‍্যাব-৭ এর একটি দল অভিযানে গেলে মাদক কারবারিরা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজনের হাতে দুই র‍্যাব সদস্য আহত হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ট্রাক-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৫

সিরাজগঞ্জে ট্রাক-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়কের সলঙ্গা থানার রামারচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নাটোরের বাগাতিপাড়া থানার ছোটপাকা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মকুল হোসেন (৩৫), আবুল হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (৩৪), একই থানার বাশবাড়িয়া গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫), ইজাল হকের ছেলে আব্দুল হালিম ও গুরুদাসপুর থানার জুমাইগর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হায়দার আলী (৪০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান জানান, রাত ২টার দিকে একটি ট্রাক ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হন।

আহতদের সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাজশাহীতে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনাকবলিত লেগুনা ও ট্রাক থানা হেফাজতে রাখা আছে। তবে ট্রাকের চালক পলাতক। এছাড়া মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।