বৃহস্পতিবার ,৩০ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 30

মাশরাফির মাঠ ফাকা

নড়াইল-২ আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলে তিনি আর কখনও নির্বাচন করবেন না। বুধবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নড়াইল শহরে তার নিজ বাসভবনে এ ঘোষণা ব্যাক্ত করেন।

সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে ছিলাম। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতা ও মামলার কারণ দেখিয়ে আমার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এরপর আদালতের রায়ে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ফিরে পাই। ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হয়েছি। তবে প্রচারণার সময় স্বল্পতা, শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক কারণে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজাকে সমর্থন জানিয়ে আজ (বুধবার) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। পাশাপাশি রাজনীতি থেকেও সরে গেলাম। এখন থেকে আর রাজনীতি করব না। এ সময় তিনি মাশরাফিকে সমর্থন জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার অনুরোধ জানান।

লিটু আরো বলেন, কোন ধরণের চাপ কিংবা হুমকি নয়, নিজ ইচ্ছায় নির্বাচন থেকে সরে গেলাম। প্রশাসন আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তাদের প্রতিও কোনো অভিযোগ নেই আমার।

 

নির্বাচন চলাকালে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণের জন্য ৬ জানুয়ারি রাত ১২টা থেকে ৭ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত কয়েকপ্রকারের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে মটর সাইকেল, ট্যাক্সি ক্যাব, পিক আপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক।

৫ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ৮ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক; জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং ঔষধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন, আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর হতে যাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকেট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয়পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যেকোনো যানবাহন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) এর জন্য একটি গাড়ি (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি প্রদান, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি প্রদান, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা/কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি প্রদান, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাহির বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা উক্তরূপ সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং স্থানীয় প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতার নিরিখে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা কতিপয় যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ অথবা শিথিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বলবৎ করার জন্য এবং প্রয়োজনবোধে জনসাধারণের অবগতির জন্য ট্রাফিক সাইন প্রদর্শনের নিমিত্ত জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ব্যাংকঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার বেড়ে ১১.৮৯ শতাংশ

২০২৩ সালের শেষে ছিল দেশে ব্যাংকঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ নতুন বছরের প্রথম দিনেই দেশে ব্যাংকঋণের সুদহার বেড়ে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশে উঠেছে। সরকারি ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের নেওয়া ঋণের সুদহারও বাড়ছে। কারণ, গত জুলাই থেকে সরকারের ঋণের সুদহারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সাধারণ গ্রাহককে দেওয়া ব্যাংকঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে।

২০২৩ এর মাঝামাঝি থেকেই দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণের নিয়ম চালু করতে গত জুন মাস থেকে স্মার্ট (সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল) সুদহার চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি মাসে শুরুতে তা ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

প্রথম মাসে, অর্থাৎ জুনে স্মার্ট সুদের হার ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, যা নভেম্বরে বেড়ে হয় ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। স্মার্ট সুদহারের সঙ্গে ব্যাংকগুলো ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ যোগ করতে পারে। ফলে সুদহার বেড়ে এখন হয়েছে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সুদহার নির্ধারণে বেশির ভাগ ব্যাংক কিছুটা অপেক্ষা করলেও এখন তা পরিবর্তন করছে। কারণ, ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ঋণের সুদহার বেড়ে প্রায় ১২ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে।

এ ছাড়া প্রি-শিপমেন্টে রপ্তানি ঋণ এবং কৃষি ও পল্লিঋণের সুদহার নির্ধারণ করতে স্মার্ট সুদহারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ যোগ করতে পারে ব্যাংকগুলো। এসএমই ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত ১ শতাংশ হারে সেবা মাশুলও নেওয়া যায়।
প্রতি ছয় মাসের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের গড় সুদহার বের করে হিসাব করা হয় ‘স্মার্ট’ সুদহার। প্রতি মাসের শেষে বা প্রথম দিনে স্মার্ট সুদহার কত হবে, তা জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যা পরবর্তী মাসে বিতরণ করা নতুন ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। সে অনুযায়ী বিদায়ী ডিসেম্বর মাসের স্মার্ট সুদহার জানুয়ারি মাসের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে প্রতি মাসে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার পরিবর্তন করা যায় না।

ঋণের সুদহার বাড়ায় ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহারও বাড়াচ্ছে। আবার তারল্যসংকটে পড়ে কোনো কোনো ব্যাংক উচ্চ সুদে আমানত নিচ্ছে, তারা এমনকি ১২ শতাংশ সুদেও তহবিল সংগ্রহ করছে। এদিকে আমানতের সুদহার বৃদ্ধির কারণে ঘরে রাখা টাকা ব্যাংকে জমা রাখার প্রবণতা বেড়েছে। তবে এখনো আমানতের চেয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি। ফলে ব্যাংকে টাকার সংকট চলছেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ব্যাংকের বাইরে থাকা মুদ্রার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে কমে হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। ব্যাংকিং-ব্যবস্থার বাইরে থাকা অর্থের পরিমাণ কমায় আমানত বেড়েছে ব্যাংকে। গত জুন মাসে ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে বেড়ে হয়েছে ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। আর জুন মাসে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে বেড়ে ১৬ লাখ ১ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল

সোমবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের (এনডিআই) যৌথ প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, এনডিআই ও আইআরইয়ের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকটি ‘কনফিডেনশিয়াল’(গোপনীয়)। তারা (এনডিআই ও আইআরআই) গণমাধ্যমে কিছু ‘ডিসক্লোজ’ (প্রকাশ) না করতে অনুরোধ করেছে।

প্রতিনিধিদলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। নিরাপত্তা পরিকল্পনা, নির্বাচনী সরঞ্জাম কীভাবে পৌঁছাচ্ছে, আচরণবিধি, সংখ্যালঘু—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে , জানালেন অশোক কুমার।

আইআরআই ও এনডিআইয়ের যৌথ প্রতিনিধিদলটি গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় আসে। তারা ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচন–পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করবে। তারা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে অনুমোদন পেয়েছে এবং ছয় থেকে আট সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবে। তারা বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সহিংসতা, আন্তদলীয় সহিংসতা, নারী ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা, অনলাইনে হয়রানি ও হুমকি। এসব সহিংসতা মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা দেখবে প্রতিনিধিদল।

অতি ঝুঁকিপূর্ণ ডিএমপির অর্ধেক কেন্দ্র: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, রাজধানীর ২ হাজার ১৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেক অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৪৭৮টি।

আজ সোমবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বই উৎসব অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির কমিশনার এ তথ্য জানান। এর আগে নতুন বছরের প্রথম দিন এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন তিনি।

ডিএমপির কমিশনার বলেন, নির্বাচন প্রতিহত করতে কিছু কিছু গোষ্ঠী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তদের রুখে দেওয়ার জন্য পুলিশ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ মুহূর্তে কোনো জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেন হাবিবুর রহমান।

ঢাকা শহরে দেখা যায়, একটি স্থাপনায় একটি কেন্দ্র আবার কোনো স্থাপনায় অনেক কেন্দ্র রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বাইরে বিজিবি-আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালন করবেন। এতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতে খুব বেশি সমস্যা হবে না বলে মনে করছি।’

জাপানে ৩ ঘন্টায় ৩০ টি ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়েছে লোকজন

জাপানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি ধসে পড়ার পাশাপাশি রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। জাপানের ইশিকাওয়া অঞ্চলের ওয়াজিমা শহরের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ভূমিকম্পে অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়ার খবর পেয়েছে।

ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় ইশিকাওয়া অঞ্চলে ‘বড় ধরনের সুনামি সতর্কতা’ জারি করা হয়েছিল। পরে সতর্কতা কমিয়ে শুধু ‘সুনামি সতর্কতা’ রাখা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা এখনো সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছেন। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু এলাকায় সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

জাপান সাগরের উপকূলীয় এলাকার কয়েক শ কিলোমিটার থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে উঁচু এলাকায় নিতে বলা হয়েছে।

প্রারম্ভিক সতর্কবার্তায় বলা হয়, কিছু কিছু এলাকায় ৫ মিটার (১৬ ফুট) পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। পরে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের আশপাশের এলাকায় সতর্কবার্তা কমিয়ে বলা হয়েছে, তিন মিটার পর্যন্ত ঢেউ আসতে পারে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উঁচু যে ঢেউ এসেছে, তা এক মিটারের সামান্য বেশি।

গত ৫ ঘণ্টায় জাপানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৩ দশমিক ৪ থেকে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ৫০টির মতো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ভবনধসে মানুষ চাপা পড়ার অন্তত ছয়টি ঘটনা জানা গেছে। এ ছাড়া ভূমিকম্পের পর ইশিকাওয়া অঞ্চলে বড় ধরনের একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আগামী দিনগুলোতে আরও ভূমিকম্প হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর।

রাজধানী টোকিওর সঙ্গে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ইশিকাওয়া অঞ্চলে গাড়ি চলাচল বন্ধ এবং বুলেট ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

অগ্নিসন্ত্রাসের উপযুক্ত জবাব দিতে আওয়ামীলীগকে ভোট দিন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আজ সোমবার রাজধানীর কলাবাগান মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামাত অগ্নি সন্ত্রাস করে আপনাদের ভোট কেড়ে নিতে চায়। সকাল সকাল পরিবার-পরিজন নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দেবেন। কেউ যেন আপনার ভোট ঠেকাতে না পারে। ভোট দিয়ে অগ্নি সন্ত্রাসের উপযুক্ত জবাব দেবেন।

আজ বেলা বাড়ার সাথে সাথে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কলাবাগান জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। জনসভার মঞ্চে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসেন প্রায় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এবং বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বক্তব্য শুরু করেন তিনি।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে দেশের অগ্রযাত্রা, ১৫ আগস্টের ঘটনা, ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং দেশের জনগণের উন্নত জীবনের জন্য নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। এরপর তিনি গত ১৫ বছরে তাঁর সরকারের নেওয়া উদ্যোগ, বিভিন্ন খাতে দেশের উন্নয়ন, আসন্ন নির্বাচন এবং বিএনপি ও বিভিন্ন দলের ভোট বর্জনসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন।

জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতির বক্তব্যে ছিল বিএনপির সমালোচনা। বিএনপির ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ভোট চুরি করে অভ্যস্ত। ক্ষমতা দখল, ভোট চুরি ছাড়া কিছু করতে পারে না। ভোট চুরি করতে পারবে না বলে তারা নির্বাচন বর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভোটাধিকার কেড়ে নেবে ও নির্বাচন বানচাল করবে-এত সাহস বিএনপির নেই।

বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোট চুরি করতে পারবে না বলে তারা নির্বাচন বর্জন করেছে। জ্বালাও-পোড়াও করে বিএনপি শুধু মানুষ খুন করতে পারে। ২০১৩-১৪ নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এসেছিল। তাদের জন্য নির্বাচন হয়ে গেল নমিনেশন বাণিজ্য। তাদের নির্বাচন ভেস্তে যায়। তারেক রহমানের টাকায় বাংলাদেশে আবার তারা অরাজকতা, অগ্নি সন্ত্রাস শুরু করেছে। এদের ব্যাপারে সব সময় জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। এরা দেশের সর্বনাশ করতে চায়।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে বিশ্বাস করে। জনগণের ভোটাধিকার আওয়ামী লীগই জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনকে করে দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র থাকায় দেশে আর্থসামাজিক উন্নতি হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের জন্য কাজ করে জনগণের হৃদয় জয় করে ভোট পাই। ভোট চুরির প্রয়োজন হয় না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই উন্নয়ন হয়েছে।

এইবার গুগল আনছে এআই সাপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট

গুগল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে গুগল সার্ভিসেস–সংক্রান্ত বিভিন্ন সহায়তা সেবার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারের উপর। এআই সাপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট নামের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্ট টুল দিয়ে গুগল সার্ভিসের সেবার জন্য সহায়তা দেবে গুগল।

গুগলের কিছু সেবার সাপোর্ট পেজের ডান দিকে নিচের অংশে এআই চ্যাটবটের ডায়ালগ বক্স দেখা যাচ্ছে। যেখানে বলা রয়েছে, ‘হেই, আই অ্যাম আ নিউ সাপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট।’ সেখানে যেকোনো সহায়তার জন্য চ্যাট করার কথাও বলা রয়েছে৷ গুগল বলছে, সহায়তার জন্য এআই চ্যাটবট এখনো শিখন পর্যায়ে রয়েছে। অনেক সময় চ্যাটবটটি থেকে ভুল উত্তর পাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। যেকোনো সহায়তা পাওয়ার পর ব্যবহারকারীরা থাম্বস আপ বা থাম্বস ডাউন দিতে পারবেন। ফলে বোঝা যাবে, সহায়তা সেবা সহায়ক ছিল কি না। এআই–এর দেওয়া উত্তরের সূত্র দেখার অপশনও থাকছে। ‘ভিউ মাই অ্যানসার সোর্স’–এ ট্যাপ করলে তথ্যসূত্রও দেখাবে চ্যাটবটটি। এমনকি সহায়তা সেবায় উত্তর দেওয়ার পর ফলোআপের প্রাসঙ্গিক প্রশ্নও সুপারিশ আকারে দেখা যাবে। এখন পর্যন্ত গুগল ম্যাপস, মেসেজেস ও অ্যাকাউন্টের সাপোর্ট পেজে এই চ্যাটবক্স ডায়ালগ দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে নাইন টু ফাইভ গুগল।
এদিকে চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী নতুন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি করেছে গুগল ডিপমাইন্ড। জেমিনি নামের এই এআই একই সঙ্গে ছবি, ভিডিও, অডিও ও টেক্সটের মতো বিভিন্ন ধরনের মাল্টিমিডিয়া বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী উত্তর দিতে পারে।

ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কুমিল্লায় খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা: এরকমটাই দাবি পুলিশের

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল খুন হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল মান্নান সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন। এ ঘটনায় ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

পুলিশ সুপার মো. আবদুল মান্নান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় মোস্তফা কামালকে। এ ঘটনায় নিহত মোস্তফার স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গতকাল শনিবার রাতে চাঁদপুর থেকে মামলার আসামি মো. নাজিম উদ্দীনকে (৩৯) ও রুমন ব্যাপারী সুমনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে। নিহত মোস্তফা ও গ্রেপ্তার দুজন একই পক্ষের ডাকাত দলের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতির মামলাও আছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, মো. নাজমুল হাসান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেশ বড়ুয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, আগে থেকে দ্বন্দ্ব ছিল মোস্তফা কামালের সঙ্গে একই এলাকার সাইদুর রহমান নামের এক ব্যক্তির। তাঁরা দুজনই আধিপত্য বিস্তার করতে চাইতেন এবং এলাকায় নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। দুজনের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতির মামলা আছে। ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নয়াচর এলাকার সড়কের ধারে দুজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় সাইদুরের সঙ্গে আরও দুই-তিনজন ছিলেন। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সাইদুর তাঁর সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে মোস্তফা কামালের গলায় আঘাত করেন। এতে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন মোস্তফা। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। হত্যাকাণ্ডের পরপরই গা ঢাকা দেন সাইদুর।

দেশে- বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা হবে না এই নির্বাচন : ১২–দলীয় জোট

কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটারদের হুমকি ও অর্থের লোভ দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ১২–দলীয় জোটের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, আওয়ামী লীগের পায়ের তলায় মাটি নেই। আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটার উপস্থিতি শূন্যের কোটায় থাকবে বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী খান আব্বাস বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবন-জীবিকা এই সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। জনগণ এই সরকারের কাছ থেকে এখন মুক্তি চায়।

আজ রোববার গণসংযোগ ও পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে ১২–দলীয় জোটের নেতারা এসব কথা বলেন। জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের দলীয় প্রার্থীর ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। তাই তারা বিভিন্ন দলের বহিষ্কৃত অযোগ্য নেতাদের দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাচ্ছে। এই নির্বাচন দেশে–বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ১২–দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল আহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দীন পারভেজ, ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম।