বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 283

মন্ত্রী এমপি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মুখোমুখি

আধিপত্য বিস্তার, দলীয় পদ-পদবি এবং জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্তির প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ঘিরে সারা দেশে মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। জেলা থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন, এমনকি ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়েছে এই কোন্দল। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা-দ্রুত দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন করতে না পারলে সম্ভাব্য প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা খুবই কঠিন হবে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সম্মেলন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করছেন। তারা চেষ্টা করছেন দলীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ মেটানোর। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় পর্যায়ের এ বিরোধ নিরসনে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনের উদ্যোগ কার্যকর না হলেও দলটির তৃণমূল নেতাদের ঢাকায় ডেকে কথা বলছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ফেব্রুয়ারি থেকে এমন বৈঠক করে আসছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। হাইকমান্ডের নির্দেশে দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই ধারাবাহিক এসব বৈঠক করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা যুগান্তরকে বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশেই মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

কোনোভাবেই দলের মধ্যকার এসব দ্বন্দ্ব নিরসন করা যাচ্ছে না। কারণ আধিপত্য বিস্তার, সংগঠনের পদ-পদবি এবং আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এসব দ্বন্দ্ব। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব^-কোন্দল থাকলে অবশ্যই আগামী নির্বাচনে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। সামনে যে জাতীয় নির্বাচন আসছে, সেটা একটা কঠিন নির্বাচন হবে। তাই মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে জেলার নেতা এবং দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যে ‘কোল্ডওয়ার’ চলছে, তা দলের সিনিয়র নেতারা নিরসনের চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, একটি বড় সংগঠনে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকেই। সেখান থেকে দ্বন্দ্ব-কোন্দলের সৃষ্টি হতে পারে। সে ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সাংগঠনিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে তা নিরসন করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা সারা দেশ সফর করছেন। দলীয় ঐক্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতীতে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থেকেছে, আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে বড় সংগঠন। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। দলের অভিভাবক শেখ হাসিনা চার দশক ধরে দক্ষ হাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তৃণমূল পর্যায়ের সব নেতাকর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। যদি কোথাও সমস্যা থাকে, নেত্রীর নির্দেশে সাংগঠনিক টিম তা নিরসনে কাজ করবে।

চাঁদপুর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সদর আসনের এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দীপু মনি চাঁদপুরে যখন কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেন, তখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালসহ তাদের অনুসারীরা অংশ নেন না। এ দ্বন্দ্ব অনেক আগের। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনার ঘটনায় বিষয়টি সামনে চলে আসে। মন্ত্রীর স্বজন ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মন্তব্য করেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগ উভয় গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বর্তমানে দুই গ্রুপকে আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার দ্বন্দ্ব কিছুদিন আগেও সারা দেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ-সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গেও পৌর মেয়র কাদের মির্জার দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। এ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ হয়ে পড়েছে দুইভাগে বিভক্ত।

পটুয়াখালী-৩ আসনের এমপি এসএম শাহজাদার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন তার দলীয় প্রতিপক্ষরা। গত ২ মে নলখোলাবন্দরের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ লিটন সমর্থিত যুবলীগের একাংশ। একই দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন এমপি সমর্থকরা।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের এমপি প্রয়াত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিনের ছেলে জুয়েল আরেং ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হকের দ্বন্দ্ব এখন চরমে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রথমবার নির্বাচন করে পরাজিত হলেও দ্বিতীয় দফায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও এমপির অনুসারী দলের অনেক নেতা ছিলেন তার বিরুদ্ধে। সেখান থেকেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়।

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগে বিভক্তি বহুদিনের। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ একটি গ্রুপ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সমর্থক। অপর গ্রুপটি মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ-সদস্য দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাবেক নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খানের সমর্থক।

গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শাজাহান খান ও বাহাউদ্দিন নাছিম একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন। শাজাহান খান তার প্রতিপক্ষ বাহাউদ্দিন নাছিমকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমার এলাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা গিয়ে অনুষ্ঠান করেন। কিন্তু আমাকে জানানো হয় না। আমার সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয় না।’ বৈঠকে শাজাহান খানের বক্তব্যের জবাবে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আমরা বাধ্য হয়েই অনুষ্ঠান করেছি। মাদারীপুরে পুরোনো ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয় না। এমনকি কেউ মারা গেলে তার স্মরণসভা পর্যন্ত করা হয় না।’ মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করা হয় আলাদা আলাদাভাবে। বাহাউদ্দিন নাছিম সমর্থকরা পুরানবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তাদের বেশিরভাগ কর্মসূচি পালন করেন। অপরদিকে শাজাহান খান গ্রুপ শাজাহান খানের বাড়ির কাছে দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকে।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমপির সঙ্গে পৌরসভার মেয়রদেরও সুসম্পর্ক নেই। গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান।

উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বদিউজ্জামান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে অংশ নেন। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার জন্য তিনি এমপিকে দায়ী করে আসছেন। কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আতাউর রহমান খানের সঙ্গেও এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ সংসদীয় আসনের আরেকটি উপজেলা তানোর।

এই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গেও এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সম্পর্ক সাপে-নেউলে। উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো সভায় এখন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে উপস্থিত হতে দেন না এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী ও তার অনুসারীরা।

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ-সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের প্রকাশ্যে বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন গোপালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার। হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে গত এপ্রিলে তিনি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পাঠান। এতে তার পক্ষে সাতজন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেন। যদিও সংসদ-সদস্য ছোট মনির হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি বহুদিন ধরে দ্বিধাবিভক্ত। সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নানা ইস্যুতে অনেক আগে থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড একাধিকবার তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও কার্যকর ফলাফল আসেনি।

নাটোর সদর আসনের সংসদ-সদস্য শফিকুল

ইসলাম শিমুলের সঙ্গে জেলার আরেক সংসদ-সদস্য আবদুল কুদ্দুসের দ্বদ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দুজনের অনুসারীরা দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এ দুই নেতার অনুসারীরা পক্ষে-বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে দলের মধ্যকার বিভক্তির চিত্র প্রকাশ্যে এনেছেন।

শরীরে ব্যান্ডেজ নিয়ে দগ্ধদের বাঁচার আকুতি

দগ্ধ সারা শরীরে ব্যান্ডেজ। এমন অবস্থায়ও একটু উপশমের জন্য কারও কারও প্রাণান্তকর চেষ্টা। আবার কেউ জ্ঞানহীন, কেউবা লাইফ সাপোর্টে। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনদের আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। ঢাকায় ১৬ জনের চিকিৎসা চলছে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মী গাউছুল আজম (২৩) এবং রবিন মিয়াকে (২২) ভর্তি করা হয়। লাইফ সাপোর্টের মধ্যেই গাউছুলকে ঢাকায় আনা হয়।

ওই অবস্থায় তার অপারেশন হয়। আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। বার্ন ইনস্টিটিউটে রোববার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪ এবং সোমবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত আরও দুই দগ্ধ ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে।

এ নিয়ে ঢাকায় ১৬ জনের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে গাউছুল লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসকর্মী রবিন মিয়া, ডিপোর রিসিভার ফরমানুল এবং সিকিউরিটি ম্যানেজার একেএম মাকফারুলকে (৬৫) আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন। আটজনকে রেড ইউনিটে এবং বাকি চারজনকে এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। বার্ন ইউনিটে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কাভার্ড ভ্যান চালক সজিব (৩৫) এবং দুপুরে কাভার্ড ভ্যান চালক নজরুল মণ্ডলকে (৩৩) আনা হয়।

নজরুলের শরীরের ৩৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম যুগান্তরকে জানান, দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসকর্মী গাউছুলকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসকর্মী রবিনসহ আরও দুজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

আইসিইউ, এইচডিইউ অথবা রেড ইউনিটে ভর্তি ১৬ জনের মধ্যে কাউকেই শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। সবার শ্বাসনালি দগ্ধ হয়েছে। শ্বাসনালি পোড়াসহ দগ্ধ রোগীদের ২৪ ঘণ্টা পার হলে শঙ্কা আরও বাড়ে। ক্ষত শুকালে শরীরে টান পড়ে।

তখন শারীরিক অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছি। লাইফ সাপোর্টে থাকা গাউছুল আজমের বাবা সাতক্ষীরা সদর থেকে বার্ন ইউনিটে আসেন। সোমবার ভোরে আইসিইউতে প্রবেশ করে তিনি ছেলেকে ২-৩ মিনিট দেখেন।

ছেলেকে দেখেই তিনি আইসিইউর ভেতরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউই তাকে সান্ত্বনা দিতে পারছিলেন না। তিনি কৃষি কাজ করলেও ছেলের রোজগারে সংসার চলত। প্রতি মাসে গাউছুল টাকা পাঠাত।

আর টাকা পাঠাতে হবে না-বলেই বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন। গাউছুলের স্ত্রী ও সিয়াম নামে ছয় মাসের ছেলে রয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করেন গাউছুল আজম।

আইসিইউতে পাশাপাশি বেডে চিকিৎসাধীন দুই সহকর্মী (ফায়ার সার্ভিসকর্মী) গাউছুল ও রবিন। রবিনের বেডের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন তার স্ত্রী বর্ণা আক্তার। ১-২ মিনিট স্বামীর পাশে থেকে তিনিও বের হয়ে যান।

বর্ণা যুগান্তরকে জানান, বছর খানেক তাদের বিয়ে হয়েছে। তিনি এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। দুর্ঘটনার সময় তাকে ফোন করে রবিন বলেছিলেন, দোয়া করিও ডিপোতে আগুন লেগেছে। কথাগুলো বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বর্ণা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রবিনের এক সহকর্মী জানান, চিকিৎসকরা বলে দিয়েছেন কেউ শঙ্কামুক্ত নয়। নজরুল মণ্ডলের অবস্থাও ভালো নয়। তার স্ত্রী রূপা বেগম রেড ইউনিটের বারান্দায় তিন বছরের মেয়ে কণাকে নিয়ে কাঁদছিলেন।

স্বামীর পাশে থাকার জন্য তিনি অনুরোধ করছিলেন। আর বিলাপ করে বলছিলেন স্বামীর কিছু হলে তিনি বাঁচবেন না। নজরুল-রূপা দম্পতির ঘরে দুটি মেয়ে রয়েছে।

শনিবার রাতে সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের মধ্যে ৯ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী রয়েছে। চিকিৎসাধীন ১৫ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মীর মধ্যে ১৩ জন চট্টগ্রামে এবং দুজন ঢাকার বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।

এছাড়া আরও দুই কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম যুগান্তরকে জানান, আমরা বার্ন ইউনিটে সার্বক্ষণিক রয়েছি।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের সহকর্মীসহ (গাউছুল ও রবিন) দগ্ধ কেউই শঙ্কামুক্ত নন। সোমবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. দুলাল মিয়া যুগান্তরকে জানান, একটি অগ্নিকাণ্ডে ৯ অগ্নিনির্বাপক কর্মীর মৃত্যু আগে কখনো হয়নি।

বার্ন ইউনিটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রী : আইসিইউতে চিকিৎসাধীন দগ্ধদের সোমবার দুপুরে দেখতে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দগ্ধদের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। আহতদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া ও তাদের সুচিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী দগ্ধ ব্যক্তিদের দেখতে আসেন। তিনি বলেন, বিস্ফোরণপরবর্তী আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং আহতদের উদ্ধারে ফায়ার ফাইটার, সেনা সদস্যসহ উপস্থিত অনেকেই জীবন বাজি রেখে কাজ করে গেছেন। আহতদের চিকিৎসায় ডাক্তার ও স্বাস্থকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

পদ্মাপারে শিমুলিয়ায় হচ্ছে ইকোপোর্ট

পদ্মা নদীর পারে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় ‘ইকোপোর্ট’ নির্মাণে প্রকল্প হাতে নিয়েছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় রিভারক্রুজ (নদী ভ্রমণ), চরে অবকাশ যাপনকেন্দ্র, প্রাকৃতিক ওয়াকওয়ে ট্রেইল, নৌজাদুঘর, ইকোপার্কসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা তৈরি করা হবে।

পদ্মা সেতু কেন্দ্র করে সেখানে বছরে ৬০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম হবে-এমন ধারণা থেকে এ বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর শিমুলিয়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অব্যবহৃত ১৫-১৮ একর জমিতে এসব স্থাপনা তৈরি হবে।

এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এটি নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে রোববার অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করে বিআইডব্লিউটিএ। নৌপরিবহণ সচিব মো. মোস্তফা কামাল এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। ওই সভায় কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়ে প্রকল্প প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে বিআইডব্লিউটিএকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর শিমুলিয়া এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর কার্যক্রম অনেক সীমিত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করছি। পদ্মা সেতু ও নদী দেখতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে যাবেন।

পর্যটকদের জন্য আধুনিক বন্দর সুবিধা নির্মাণে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেখানে আধুনিক নৌবন্দর, নদী ভ্রমণে আধুনিক নৌযান, পর্যটকদের নৌনিরাপত্তা সামগ্রী ও নদীর তীরভূমিতে বসার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নৌ ঐতিহ্য সংবলিত জাদুঘরও নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। জানা গেছে, শিমুলিয়া নদী বন্দর ২০২০-২১ অর্থবছরে এক কোটি ৪০ লাখ যাত্রী ও ৩০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহণ হয়েছে।

ওই বছরে এ ঘাট ইজারা থেকে বিআইডব্লিউটিএর আয় হয়েছে ৭ কোটি ৯০ লাখ ১২ হাজার ৩৭৬ টাকা। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। পদ্মা সেতু চালুর পর সেখানে গাড়ি ও যাত্রী পারাপার কমে যাবে।

এমন বাস্তব পরিস্থিতিতে নতুন আয়ের উৎস বের করতে শিমুলিয়ায় ইকো বন্দর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যদিও পদ্মা সেতু চালুর পরও শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি রুটে সীমিত আকারে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট সার্ভিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে শিমুলিয়ায় এ ইকো বন্দর নির্মাণ করা হবে। এ ধরনের বন্দর বাংলাদেশে এটিই প্রথম। সেতু চালুর পর শিমুলিয়া ঘাটের ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট সার্ভিস সীমিত হয়ে পড়বে।

কমে যাবে গাড়ি ও মানুষের যাতায়াত। তখন বিআইডব্লিউটিএর ১৫ থেকে ১৮ একর জমি অব্যবহৃত অবস্থায় থাকবে। ওই জমিতে এ পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকার জমি দেবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনা নির্মাণ করবে। এই ইকোপার্কের ইকোনমিক লাইফ ধরা হয়েছে ৩০ বছর। তবে এসব স্থাপনা নির্মাণে নদীভাঙন অন্যতম ঝুঁকি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পদ্মার চরে অবকাশযাপনকেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাওয়া বা শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ভাটিতে অবস্থিত এ চরে প্রায় ৬ বর্গকিলোমিটার চর এলাকা রয়েছে। ওই চরেই বিশেষ পর্যটন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ চরে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৮ ফুট প্রশস্ত প্রাকৃতিক হাঁটার ট্রেইলর রাখা হয়েছে। এতে পর্যটকরা একমুখী হাঁটতে পারবেন এবং নদীর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া সেখানে একটি নৌজাদুঘর স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় পদ্মার চরে বাণিজ্যিক ফুলের গ্রাম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই ফুলের বাগানে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষের ব্যবস্থা থাকবে। বিনোদনের জন্য একটি ইকোপার্কও নির্মাণ করা হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশে সেখানে হরিণ ও প্রাণীদের আবাসস্থল অথবা মিনি চিড়িয়াখানা করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইকোপার্কে প্রবেশ ও বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে পর্যটকদের। তবে ফির হার এখনো নির্ধারণ হয়নি। প্রকল্পের ব্যয় ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে ফির হার নির্ধারণ করা হবে। ইকো বন্দরের আয়ের অংশভিত্তিক পাবে বিআইডব্লিউটিএ।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে রোড মার্কিং শেষ : পদ্মা সেতুর নর্থ ভায়াডাক্টের রোড মার্কিং রোববার শেষ হয়েছে। মাওয়া প্রান্ত থেকে সেতুতে প্রবেশের এই অংশটিতে শুক্রবার থেকে রোড মার্কিং চলছিল। তবে বৃষ্টির কারণে কাজে বিলম্ব হয়।

মূল সেতুর এক নম্বর মডিউলে সোমবার রোড মার্কিং শুরু হয়েছে। এই মডিউলে পশ্চিম পাড়ের লেনে (উজান সাইড) রোড মার্কিং চলবে। এখানে বৈদ্যুতিক কেবল থাকায় আগে মার্কিং করা হয়নি।

স্বপ্ন জয়ের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সবশেষ প্রস্তুতির সঙ্গে চলছে রেললাইনের কর্মযজ্ঞও। সেতুর জাজিরা প্রান্তে পাথরবিহীন রেললাইনের জন্য বসানো হচ্ছে স্লিপার। দেশের প্রথম এই আধুনিক রেললাইন নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার প্রকল্প শেষ হবে ২০২৪ সালে।

উদ্বোধনের পর মূল পদ্মা সেতুতে জুলাই থেকে রেললাইন বসানো শুরু হবে। এর প্রস্তুতি হিসাবে জাজিরা প্রান্তে রেল ভায়াডাক্টে পাথরবিহীন রেললাইন বসানোর কাজ চলছে। রেল সংযোগ সেতুর রেললাইন বসানোর অগ্রগতি ৭২ শতাংশ। ভাঙ্গা থেকে মাওয়া অংশে কাজের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ।

পদ্মা সেতুর রেললিংক প্রকল্পের পরামর্শক লে. কর্নেল এইচএম তহিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতুর সড়কপথ উদ্বোধন কেন্দ্র করে আমরা সেতুর রেললিংক প্রকল্পের মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে কাজ করছি।

ভায়াডাক্ট ২ ও ৩ এ পাথরবিহীন ট্র্যাক বসানোর কাজ চলমান। তা যেন সময়ের আগেই শেষ করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। সেতু উদ্বোধের পর কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা সেতুর ভেতরের অংশে কাজ করব।

মিশিগানে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪১তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট বিএনপি।

শনিবার (৪ জুন) বিকালে হ্যামট্রামিক শহরের বাংলাদেশ এভিনিউয়ের কাবাব হাউস হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মিশিগান বিএনপির সভাপতি দেওয়ান আকমল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট-৪ আসনের সাবেক এমপি মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের কন্যা টেক্সাস স্টেট বিএনপির যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদা সিমিন চৌধুরী।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন মিশিগান বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক শাহাজান রহমান।

আরও বক্তব্যে রাখেন- মিশিগান বিএনপির উপদেষ্টা ফখরুল ইসলাম লয়েছ, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলাল আহমদ, কোম্পানিগঞ্জ বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী আব্দুর রকীব, ক্যালোফেনিয়া বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুজদোহা বাবুল, মিশিগান বিএনপির উপদেষ্টা নিজাম উদ্দিন, সমজিদ আলম, মো.জামান, সাইফুল ইসলাম খান, দেওয়ান আবুজার চৌধুরী, রাজ আহমেদ তালুকদার, মিশিগান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল করিম তুহিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালিক, আবদুল বাছিত, মিশিগান জাসাস এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন শোভন, যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আফজাল রিপন প্রমুখ।

আলোচনা সভার শুরুতে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মিশিগান বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আফজাল আহমেদ চৌধুরী।

প্রধান অতিথি আবেদা সিমিন চৌধুরী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা, মেধা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে অম্লান। তিনি রাজনীতিতে গণতন্ত্রের পথকে সুগম করেছেন। জাতির সংকটময় মুহূর্তে বারবার দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে, মাথা উঁচু করে। তার আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

সুন্দরী আমি তোমার কথা বলছি

আমরা হারবো, আমরা হার মানবো।
আমরা জিতবো, জেতার উল্লাসে উল্লসিত হবো।
কিন্তু হঠাৎ যদি জীবন চলার পথে এসে যায় বাধা,
আর সে বাধার কারণে যদি ভেঙে পড়ি, তাহলে তো চলবে না।
যদি বাঁচতে না চাই তাহলে তো হবে না।
আমাদের জীবনে মাঝে মধ্যে এমন ধরনের ঘটনা দেখা দেয় বা দিতে পারে।
ঠিক তখনই ভাবতে হবে সেই কোটি কোটি শুক্রাণুর মধ্যে আমরা ছিলাম সেই শক্তিশালী,
যে ডিম্বাণুকে ফার্টিলাইজ করে জিতেছিলাম।
আমাদের চিন্তায় সবসময় রাখতে হবে যে আমরা শুরুতে জিতেছি,
আমরা মাঝপথেও জিতবো, আমরা শেষেও জিতবো।
আমি বাঙালির আত্মচেতনার কথা বলছি,
আমি সোনার বাংলা গড়ার যে প্রতিশ্রুতি বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন,
আমি সেই কথা বলছি।
আমি না পাওয়া থেকে এগিয়ে যাবো জন্ম নেওয়ার কথা বলছি,
আমি হতাশ না হয়ে বরং নতুন উদ্দীপনা এবং চেতনার কথা বলছি,
আমি যারা পদ্মা সেতুর বাধা হয়েছিল তাদের কথা বলছি,
আমি তাদের কারণে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি সে কথাও স্বীকার করছি,
আমি বঙ্গবন্ধু কনার চ্যালেঞ্জের কথা বলছি,
আমি মানবতার ঢেউ পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে যাক সে স্বপ্ন দেখছি,
আমি জাতির পিতার কন্যা দেশে গণতন্ত্রের শাসন ফিরিয়ে আনুক সে আশা করছি,
আমি কোন লীগের বাংলাদেশ নয়,
আমি ১৮ কোটি বাংলাদেশির বাংলাদেশের কথা বলছি।
আমি সোনার বাংলা গড়ার কথা বলছি।
আমি জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের বাস্তবায়নের কথা বলছি।
আমি মিস সুইডিশ দেখেছি।
আমি গোল্ডেন গেট এবং লন্ডন ব্রিজ দেখেছি।
আমি বিশ্বের অনেক নদী এবং সাগর দেখেছি।
আমি বিশ্বের প্রায় সব সেভেন ওয়ান্ডার্স দেখেছি।
তোমার মত অত সুন্দর কোথাও দেখি নাই,
প্রাণের চেয়ে প্রিয় তুমি পদ্মা সেতু তাই।
তৃণভূমির রাইয়ের মতো স্বর্ণকেশী
ভালোবাসার যে সেতু তৈরি হয়েছে,
আমি সেই পদ্মা সেতুর কথা বলছি।

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট) ফাইজার, সুইডেন।

যেসব খাবারে অবসাদ দূর হয়

ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও অফিসের যেকোনো কারণে আপনার মধ্যে অবসাদ ভর করতে পারে। অনেক সময় কাজের চাপেও এমনটি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই ডিপ্রেশন বিষিয়ে দেয় জীবন।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবন পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনলে অবসাদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো সেসব খাবার সম্পর্কে জানিয়েছেন।

* ম্যাগনেশিয়াম : অবসাদের লক্ষণের মধ্যে অন্যতম হলো হালকা অমনোযোগিতা ও আত্মহনণের ইচ্ছা। এটা ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে হতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারে মন ভালো থাকে ও উন্নত হয়। এ জন্য খেতে হবে মিষ্টিকুমড়া, সূর্যমুখীর বিচি, তিসির বীজ, আলমন্ড, কাজুবাদাম, বিনস, ডাল, মাসকলাই, সয়াবিন, গাঢ় সবুজ শাক যেমন পালংশাক এবং গোটা শস্য।

* ভিটামিন সি : এটি এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা সাধারণ ঠান্ডা উপশম করে। এ ছাড়া হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করে মনকে ঠিক রাখে। এগুলো হলো নিউরোট্রান্সমিটার ও নরইপিনেফ্রিন। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি যেমন-স্ট্রবেরি, বেলপেপার, তরমুজ, আনারস, জাম, টমেটো, গাঢ় সবুজ শাকসবজি অথবা ভিটামিন সি ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে।

*মেডিটেরিয়ান ডায়েট: এক গবেষণায় দেখা গেছে মেডিটেরিয়ান ডায়েট অবসাদ বা ডিপ্রেশন কমাতে সাহায্য করে। মেডিটেরিয়ান ডায়েটে প্রাধান্য পায় মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি।

* ভিটামিন বি : বি এবং ফলিক অ্যাসিড ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দেয়। আমাদের মুডকে নিয়ন্ত্রণ করে ও মস্তিষ্কে সংবাদ পৌঁছে দেয়। সব বি-ভিটামিনই এ কাজ করে থাকে। ফলিক অ্যাসিড ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি তৈরি করে। এটা গামা এমাইনো বিউটাইরিক অ্যাসিড-এর ওপর কাজ করে সেরোটোনিন ও ডোপামিন-এ ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যদি নিু মাত্রায় নিউরোট্রান্সমিটারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে অবসাদ ও অন্যান্য মুডকে বিশৃঙ্খল করে থাকে।

*মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড অলিভ অয়েল, ক্যানোলা অয়েল, বাদাম, তেল, কাজু বাদাম, সরিষার তেল। পর্যাপ্ত ওমেগা ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায় মাছ, বাদাম এবং ডাল থেকে।

মাংস ও এলকোহল এ সময় বাদ দেওয়াই ভালো।

এছাড়া শারীরিক ব্যায়ামেও অবসাদ দূর হবে।

* ব্যায়াম : প্রতিদিন ৩০-৫০ মিনিট ব্যায়াম ডিপ্রেশন বা অবসাদ কমাতে সাহায্য করে। এটা মন ভালো করার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ এবং ক্যানসার প্রতিরোধ করে। যখন আমরা ব্যায়াম করি, আমাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এটি আমাদের প্রশান্তি দেয়, আমাদের শরীর থেকে রাসায়নিক নিঃসরণ হয় যা আমাদের ভালো অনুভূতি দেয়।

* মেডিটেশন : শক্তিশালী মন ও শরীরের সংযোগ আমাদের প্রশান্তি ও সুখভাব অনুভবে সাহায্য করে। মেডিটেশনের জন্য প্রয়োজন নিরিবলি, একলা, আরামদায়ক ভঙ্গি ও সহজ শ্বাস-প্রশ্বাস। এর মাধ্যমেই নির্দিষ্ট জিনিসের ওপর ছায়া ফেলে মনোযোগী হতে হবে। বাস্তব এবং জাগতিক বিষয় ভুলে একাগ্রচিত্তে প্রতিদিন ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

* যোগব্যায়াম : ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সেন্ট্রাল হেলথের মতে ৭৩ শতাংশ লোক যোগব্যায়ামের মাধ্যমে অবসাদ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। এ ছাড়া মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করলে ভালো থাকা যায়।

রুয়েটে প্রকল্প পরিচালক ড. আলীমের আর্থিক অনিয়মের তদন্ত শুরু

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২৬ কোটি টাকার নতুন বিভাগ চালুর একটি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আর্থিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তিন সদস্যের একটি কমিটি রোববার বিকাল থেকে এ তদন্ত শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলের তিন সদস্য ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান, উপপরিচালক রোকসানা লায়লা এবং আরেক উপপরিচালক আবদুল আলিম রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিমানযোগে ঢাকা থেকে রাজশাহী পৌঁছান। এরপর তারা রুয়েটে যান।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর রফিকুল ইসলাম সেখসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বিকাল ৪টার পর তদন্ত কমিটির সদস্যরা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। এ বৈঠকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ছাড়াও রুয়েটের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ড. মিয়া জগলুল সাদত, তদন্তাধীন প্রকল্পের পরিচালক রুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম, রুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন এবং হিসাব বিভাগের প্রধান নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যরা পুরো প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল আলীমের কাছে জানতে চান। সাড়ে পাঁচ বছর আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও অ্যাকাউন্ট এখনও চালু আছে, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন এবং প্রকল্পের বেঁচে যাওয়া অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান।

তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ড. আব্দুল আলীম এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বৈঠক চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান যুগান্তরকে বলেন, আমরা বিকাল থেকে তদন্তের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করি। প্রকল্পের পরিচালক ড. আব্দুল আলীমসহ রুয়েটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছিলাম। ড. আলীমের কাছে প্রকল্প সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। কিছু নথি তিনি দিতে পেরেছেন। বাকিগুওলো আগামীকাল (সোমবার) দেবেন বলে জানিয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে আবার আমাদের কার্যক্রম শুরু হবে। সেদিনই এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলতে পারব।

এদিকে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ চালুকরণের লক্ষ্যে অবকাঠামোগত ও ল্যাবরেটরি সুবিধা সৃষ্টিকরণ’ শীর্ষক আমব্রেলা প্রকল্পের আওতায় রুয়েটে গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালুকরণ প্রকল্পের ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম নিয়ে ‘রুয়েটে নতুন বিভাগ চালু, ২৬ কোটি টাকার প্রকল্পে অর্ধেক ব্যয়ে দুর্নীতি’ শিরোনামে যুগান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই সময় তদন্ত কমিটির প্রধান ড. ফেরদৌস জামান যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল আলীম প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেননি। তিনি টাকা উত্তোলনের জন্য চেক সরবরাহ করেছেন। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। এমনকি তিনি এখন পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করেননি। এটি আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী, গুরুতর অনিয়ম।

‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে খুবি ছাত্রের লাশ উদ্ধার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র কাজল মণ্ডলের (২০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রোববার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বপাশের খানজাহান নগর এলাকার রফিকুলের বাড়ির দোতলা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করে হরিণটানা থানার পুলিশ।

সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে কাজল আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

কাজল যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রহলাদ মণ্ডলের ছেলে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক রোববার বিকালে যুগান্তরকে জানান, লাশ উদ্ধারের সময় তার সহপাঠীরা কেউ ছিল না। সবারই পরীক্ষা থাকায় তারা ক্যাম্পাসে ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রফিকুলের বাড়ির দোতলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন মিলে থাকতেন। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা সেটা বলা সম্ভব নয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ হাসান লিমন যুগান্তরকে জানান, আমরাও বিষয়টি জেনেছি। কাজল আত্মহত্যা করেছে। তবে তার সহপাঠী বা রুমমেটদের কাছ থেকে এখনো কোনো তথ্য পাইনি। কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। যেহেতু ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে হয়েছে।

রাশেদের নতুন গান

তুমি আজ নেই বলে’ শিরোনামের নতুন একটি গান প্রকাশ করলেন ক্লোজআপ তারকা রাশেদ। এটি ২ জুন রঙ্গন মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে। জামাল হোসেনের কথায় গানটির সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সাব্বির জামান। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা।

গানটি প্রসঙ্গে গীতিকার জামাল হোসেন বলেন, আমার কাছে রাশেদের গায়কী খুবই অন্যরকম মনে হয়। অনেকের চেয়ে তার কণ্ঠ স্পেশাল। এ গানটি লেখা ও সুর করার পর রাশেদকেই আমার কাছে এটির জন্য বেস্ট মনে হয়েছে। আমি আশা করছি যারা গানটি শুনবেন ও দেখবেন তারা নিরাশ হবেন না। গানটি নিয়ে রাশেদও বেশ আশাবদী।

তিনি বলেন, গানটির কথাগুলো মনে রাখার মতো। কথার সঙ্গে সমন্বয় করে দারুণ সুর করা হয়েছে। এখন যেহেতু দর্শক গান শোনার পাশাপাশি চিত্রকল্প দেখতে চায় তাই এটিরও মিউজিক ভিডিওসহ দর্শক-শ্রোতাদের সামনে এসেছি। গানটি সবার ভালো লাগলেই আমার পরিশ্রম সার্থক মনে করব। অডিও গানের বাইরে রাশেদ বর্তমানে নিয়মিত স্টেজ শো ও টিভি লাইভ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া আসছে ঈদের জন্যও নতুন গানের পরিকল্পনা করছেন বলে জানান তিনি।

সালমান খানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উড়োচিঠি

আবারও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে। শুধু তাকেই নয়, হুমকি দেওয়া হয়েছে তার বাবা সেলিম খানকেও। ভারতের মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ব্যাসস্ট্যান্ড এলাকায় হুমকি দিয়ে ফেলে যাওয়া উড়োচিঠি উদ্ধার করেছেন সেলিমের নিরাপত্তারক্ষীরা। পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যার পর এ ঘটনায় আবারও সন্দেহের তীর গ্যাংস্টারদের দিকেই।

মুম্বাইয়ের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, সেলিম খান প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে যে জায়গায় বিশ্রাম নেন, সেখান থেকেই চিঠিটি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিঠিতেই তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বান্দ্রা পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিদের নামে এফআইআর দায়ের করেছে।

এর আগেও হুমকি ফোন এবং চিঠি পেয়েছেন সালমান। শোনা যায়, সেসবের নেপথ্যে ছিল গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। রাজস্থানে কৃষ্ণসার হত্যা মামলায় সালমান কোর্টে যাওয়ার আগে নাকি খুনের হুমকি দিয়েছিল সে।

সাম্প্রতিক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডেও আততায়ী হিসেবে উঠে আসছে তারই নাম।

সূত্র: এনডিটিভি