বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 284

এক ম্যাচেই মেসির ভূরি ভূরি রেকর্ড

রেকর্ডের বরপুত্র লিওনেল মেসি। মাঠে নামলেই কিছু না কিছু অর্জন করে ফেরা যেন তার রীতি।

আন্তর্জাতিক সূচির বিরতিতেও সেই ধারাবাহিকতা রাখলেন ফুটবলের আর্জেন্টাইন জাদুকর।

আগের ম্যাচে ইতালিকে হারিয়ে অর্জন করেছিলেন ফাইনালিসিমা। এবার ইউরোপের আরেক দল এস্তোনিয়ার বিপক্ষে একাই পাঁচ গোল করে দলকে এনে দিলেন ৫-০ গোলের বড় জয়।

আর তাতেই ক্যারিয়ারে ভূরি ভূরি রেকর্ড জমা করলেন লিওনেল মেসি। এদিন ক্যারিয়ারের অষ্টম আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক গড়লেন তিনি। এ ছাড়া জাতীয় দলের জার্সিতে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচে তিনের বেশি গোল করলেন আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক।

এতেই শেষ নয়; আরও বেশ কয়েকটি কীর্তি গড়েছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার ৫ গোল করলেন তিনি।

বিশ্বের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ফুটবলার মেসি, যিনি ক্লাব ও জাতীয় উভয় দলের হয়েই এক ম্যাচে ৫ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।

এর আগে বার্সেলোনার হয়ে ২০১২ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে ৫ গোল করেন মেসি।

রোববার রাতের ম্যাচে ৫ গোল করার পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসির গোল সংখ্যা বেড়ে হলো ৮৬টি।

এরই সঙ্গে হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফুটবলার ফেরেঙ্ক পুসকাসকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন চতুর্থ সর্বাধিক গোলদাতা মেসি। পুসকাসের গোল সংখ্যা ৮৪টি। মেসির সামনে রয়েছেন মালয়েশিয়ার মুখতার দাহারি, ইরানের আলি দাই ও পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

এখানেই শেষ নয়; আরও একটি অনন্য কীর্তি যোগ হলো আর্জেন্টাইন অধিনায়কের রেকর্ডে।

এস্তোনিয়ার বিপক্ষে এই ৫ গোল করার মাধ্যমে জাতীয় দলের জার্সিতে ভিন্ন ৩০টি দেশের বিপক্ষে গোলের কীর্তি গড়েছেন মেসি।

উল্লেখ্য, রোববারের ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সিতে এমন বিধ্বংসী মেসিকে আগে কখনো দেখা যায়নি।

অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলের সূচনা করেন মেসি। ৪৫তম মিনিটে দ্বিতীয়বার বল জালে পাঠান তিনি।

বিরতির মাঠে নেমেই ৪৭তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। ৭১ ও ৭৬ মিনিটে করেন আরও ২ গোল।

মেসির রাতে জ্বলে উঠলেন রোনাল্ডো

রোববার রাতে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ইউরোপের দলটিকে ৫-০ গোলে হারিয়েছেন আলবিসেলেস্তেরা।

আর এ পাঁচ গোলই এসেছে মেসির পা থেকে। মেসির এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের রাতে দারুণ খেললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দেশের জার্সিতে রীতিমতো জ্বলে উঠলেন ম্যানইউ তারকা।

তার জোড়া গোলে ভর করে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল। রোনাল্ডো ছাড়া বাকি দুটি গোল করেন উইলিয়াম কারবাইয়ো ও হোয়াও ক্যানসেলো।

রোববার রাতের ম্যাচটি ছিল উয়েফা নেশনস লিগ ‘এ’ এর ২ নম্বর গ্রুপের। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আশা করেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা।

কারণ ফিফা র্যাংকিংয়ে বেশ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। ৮ম স্থানে পর্তুগিজ এবং সুইজারল্যান্ড রয়েছে ১৪তম স্থানে।

কিন্তু লিসবনের এস্টাডিও হোসে অ্যালভালাদের মাঠের লড়াই তা আর হলো কই।

ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই সুইসদের জালে অ্যাকাউন্ট খোলেন পর্তুগালের উইলিয়াম কারবাইয়ো।

পোস্টের কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন তিনি। ৩৫তম মিনিটে স্কোরশিটে নাম তোলেন রোনাল্ডো।

ব্রুনো ফার্নান্দেসের এস্টাডিওকে মুহূর্তেই গোলে পরিণত করেন সিআর সেভেন।

সেই গোলের উল্লাসের রেশ কাটতে না কাটতেই জোড়া গোল পূরণ করেন রোনাল্ডো।

৩৯তম মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো জালে বল জড়িয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন পর্তুগিজ যুবরাজ।

এই দুই গোলের সুবাধে দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সিআর সেভেনের স্কোর সংখ্যা দাঁড়াল ১১৭টিতে।

৪২ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হয় রোনাল্ডোর। কানসেলোর ছয় গজ বক্সে বাড়ানো পাসে ছোঁয়াও দেন রোনাল্ডো। কিন্তু তা পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বল।

শুধু এটি-ই নয় পুরো ম্যাচজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন রোনাল্ডো। নয়তো মেসির মতো তারও ৫ গোল হয়ে যেত এদিন।

৩ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে নামে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু ৪৫ মিনিটে একটি গোলও শোধ করতে পারেনি।
উল্টো হালি হজম করেছেন সুইসরা।

৬৮ মিনিটে বার্নাডো সিলভার এসিস্টে হোয়াও ক্যানসেলো ডান পায়ের শটে গোল করেন।

রেফারির শেষ বাঁশিতে ৪-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে পর্তুগাল।

দুই ম্যাচ থেকে পর্তুগালের অর্জন দাঁড়াল ৪ পয়েন্টের। গোল ব্যবধানে চেক রিপাবলিকের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তারা। আর টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের কারণে সুইসদের এখনো কোনো পয়েন্টই নামের পাশে যোগ হলো না। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করার পর টানা চার ম্যাচ জয়হীন রয়েছে সুইজারল্যান্ড।

সীতাকুণ্ডের আগুনে নিহত শেরপুরের ছেলে ফায়ার ফাইটার রনি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন নেভাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন শেরপুরের সন্তান ফায়ার ফাইটার রমজানুল ইসলাম রনি (৩২)।

শনিবার রাতে আগুন নেভানোর সময় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন।

রমজানুল শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুরের বালুঘাটা এলাকার আকরাম হোসেন আঙুরের ছেলে। তিনি সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

রোববার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে এবং রমজানের পরিবার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে আকস্মিক রমজানুল ইসলাম রনির মৃত্যুর খবর পেয়ে সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়িতে ছুটে এসেছেন আত্মীয়স্বজনরা। রনির ছবি নিয়েই স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে রমজানের মা কামরুন্নাহার রত্না ও জ্যাঠা আবুল কাশেম চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

রমজানের চাচা ও চরশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) মো. জামান মিয়া বলেন, দেড় বছর আগে ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেয় রনি। তিন মাস আগে সে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে বদলি হয়। এর পর থেকেই আট মাস আগে বিয়ে করা শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বাসিন্দা স্ত্রী রূপা খাতুনকে নিয়ে সেখানেই বাসা নিয়ে থাকতেন রমজানুল ইসলাম রনি।

নিহতের ছোটভাই তারিকুল ইসলাম রকিব ময়মনসিংহের একটি কলেজে ডিগ্রিতে পড়াশোনা করেন।

রনির স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বাসা থেকে গেঞ্জি পরে বেরিয়ে যান রমজান। রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত তাকে মোবাইলে না পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিকৃত মরদেহের মাঝে গেঞ্জি দেখে শনাক্ত করেন তার স্ত্রী।

৩৬ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন, আরও ৪ কনটেইনারে ক্ষতিকর কেমিক্যাল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এখনও বেশ কয়েকটি কনটেইনার জ্বলছে। ধোঁয়া বোরোচ্ছে অর্ধশতাধিক কনটেইনার থেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডিপোর পশ্চিম পাশে কয়েকটি কনটেইনারে আগুন জ্বলছে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের ওপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পানি ছেটাচ্ছেন।

জ্বলন্ত কনটেইনারগুলোর মধ্যে কেমিক্যাল বোঝাই কনটেইনার থাকতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

যে কারণে সতর্কতার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা।

আর তাদের শঙ্কা সত্যিতেই রূপ নিল। আরো ৪টি কনটেইনারে অতি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কেমিক্যাল শনাক্ত করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনা কর্মকর্তা লেফ. কর্ণেল আরিফুল ইসলাম।

তবে এসব কেমিক্যাল গতকাল পাওয়া হাইড্রোজেন পার অক্সাইড নাকি অন্য কোনো দাহ্য রাসায়নিক তা নিশ্চিত করেননি তিনি। পরে ল্যাব টেস্টে তা জানানো হবে।

তিনি জানান, কনটেইনার থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক বঙ্গপোসাগরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা মুক্ত আমরা। সেনাবাহিনীর বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং টিম ড্রেনেজব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সীতুকুণ্ডের ওই ডিপোর আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে যৌথভাবে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, র্যাব, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপি ও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা।

ইউক্রেনে আরেক রুশ মেজর জেনারেল নিহত

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর আরও একজন মেজর জেনারেল নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের নিকোলায়েভকা এলাকায় যুদ্ধে রোমান কুতুজভ নামে রুশ ওই মেজর জেনারেল প্রাণ হারান বলে রোববার স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। খবর আনাদোলুর।

রুশ সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মেজর জেনারেল রোমান কুতুজভের নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

এর আগে মেজর জেনারেলসহ আরও ৫ রুশ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা নিহতের দাবি করেছে ইউক্রেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হন রুশ মেজর জেনারেল আন্দ্রেই সুখোভেতস্কি, ৭ মার্চ মেজর জেনারেল ভিতালি গেরাসিমভ, ১১ মার্চ মেজর জেনারেল আন্দ্রেই কোলেসনিকভ, ১৫ মার্চ মেজর জেনারেল ওলেভ মিতায়েভ ও ১৬ মার্চ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রেই মর্দভিচেভ।

জাতিসংঘের হিসাবমতে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনে নারী ও শিশুসহ ৮ হাজার ১৮৩ জন নিহত এবং ৫ হাজার ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি বলে দাবি ইউক্রেনের।

আকাশপথে নতুন কৌশলে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া

ইউক্রেনে হামলা চালাতে নতুন এক কৌশল অবলম্বন করছেন রুশ বিমানবাহিনীর পাইলটরা।

রোববার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে হেলিকপ্টারের পাইলটদের ভিন্ন এ কৌশলে হামলা চালাতে দেখা গেছে। খবর বিবিসির।

নতুন কৌশলে হেলিকপ্টারের সামনের অংশ আকাশের দিকে কিছুটা তুলে ধরা হচ্ছে। তার পর ছোড়া হচ্ছে রকেট।

পাইলটদের নতুন এ কৌশল সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামনের অংশ উঁচিয়ে হামলা চালানোয় রকেটগুলো আকাশের দিকে ছুটে যাচ্ছে। এর ফলে সেগুলো তুলনামূলক বেশি দূরে গিয়ে পড়ছে। একইভাবে কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়।

সমরবিদরা বলছেন, হেলিকপ্টারের পাইলটদের এ কৌশল মূলত প্রতিরক্ষামূলক। প্রতিপক্ষের সেনাদের হামলার আওতার বাইরে থাকতেই তারা বেশি দূরত্বে থেকে লক্ষ্যবস্তুতে রকেট হামলা চালাচ্ছেন।

হামলায় ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলোর নাম কেএ-৫২ ‘অ্যালিগেটর’। এসব হেলিকপ্টার ভূমিতে থাকা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আনগাইডেড রকেটের মাধ্যমে হামলা চালাতে পারে।

আনগাইডেড রকেট ব্যবহারের ফলে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে একেবারে নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে পারে না কেএ-৫২ অ্যালিগেটর হেলিকপ্টারগুলো।

এর মধ্যে আবার সামনের অংশ উঁচিয়ে রকেট ছোড়ায় লক্ষ্যবস্তু পাইলটের চোখের একেবারে আড়ালে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে তারা নির্ভুল

তিন মাসে বেড়েছে ১০১৬৭ কোটি টাকা

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণে করোনার ধাক্কা লেগেছে। গত দুই বছর করোনার কারণে ঋণ পরিশোধ না করলেও তা খেলাপি করা হয়নি। এ বছর থেকে ওই সুবিধা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে খেলাপি করা হচ্ছে। এ কারণে জানুয়ারি থেকে মার্চ-এ তিন মাসে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা অনুযায়ী ঋণের কিস্তি ছয় মাস বকেয়া থাকলে খেলাপি করার নিয়ম রয়েছে। যে কারণে চলতি জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের হার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির খেলাপি ঋণ প্রভিশনিং বিষয়ক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনটি অনুমোদন করেছেন। প্রতি তিন মাস পরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণের এ চিত্র বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রকৃত খেলাপি ঋণ আরও অনেক বেশি। এটি চার লাখ কোটি টাকার কম হবে না।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘২০১৯ সালে আইএমএফ হিসাব কষে দেখিয়েছে-বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মার্চে নিঃসন্দেহে সে খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে। যা ৪ লাখ কোটি টাকার কম হবে না। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক দেখাল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে-এ তথ্য ভুয়া। কারণ আদালতের নির্দেশে বিপুল অঙ্কের ঋণ আটকে আছে। যেগুলো খেলাপি করা যাচ্ছে না। ২ শতাংশ সুবিধার আওতায় অনেক মন্দ ঋণ খেলাপির ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে রিশিডিউলের আওতায় আছে আরও বড় অঙ্কের ঋণ। ঋণ অবলোপনসহ সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণের তথ্য এখনও কার্পেটের নিচেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যাংকের শীর্ষ ১০ ঋণখেলাপিকে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করতে হবে। তা না হলে এ টাকা আদায় হবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে যা ছিল ১৩ লাখ এক হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। এ তিন মাসে ঋণ স্থিতি বেড়েছে ২৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত খেলাপি হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। ওই তিন মাসে বেড়েছে ১০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। মার্চ পর্যন্ত বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। ডিসেম্বর শেষে বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ খেলাপি ছিল।

গত বছরের মার্চে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে মূল কারণ দেশে খেলাপিদের ঋণ শোধ না করার বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। সুদ কমানো হয়। মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব সুবিধা পেয়ে তারা আর ঋণ শোধ করে না। তারা মনে করে খেলাপি হলেই বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। এ কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। আর যারা সুবিধা নিয়ে ঋণ নিয়মিত করে রেখেছে, তাদের হিসাব যোগ করলে খেলাপির অঙ্ক আরও বেড়ে যাবে। খেলাপি ঋণ ব্যাংকের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে করে পরিচালন ব্যয় অতিমাত্রায় বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, টাকা নিলাম ফেরত দিলাম না, কোনো শাস্তিও হলো না। তাহলে ফেরত দেবে কেন? কোনো গ্রাহক যদি জানে সে খেলাপি হলে তিরস্কার নয় পুরস্কার পাবে তাহলে তো সে খেলাপি হবেই। তাই একটাই সমাধান শাস্তি। যত দ্রুত সম্ভব খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে যতই নির্দেশনা দেওয়া হোক কাজ হবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ২০ দশমিক ০১ শতাংশ বা ৪৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এ সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫৭ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলো ৬৩ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ সময়ে বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৪ হাজার ১৫ কোটি টাকা। এ অঙ্ক তাদের বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ০১ শতাংশ। তারা বিতরণ করেছে ৩৩ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোভিডের পর এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকট আসায় একটা টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে রপ্তানি কমে যাচ্ছে, রেমিট্যান্সও কম আসছে, আমদানি বাড়ছে। আমদানি ব্যয় পরিশোধে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সবাই। কিন্তু ঋণ আদায় করার ব্যাপারে অনেকটা শিথিলতা ভাব, এতে ব্যাংকের মূল স্তম্ভই তো দুর্বল হচ্ছে, খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে বারবার ডলারের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। খেলাপি নিয়ে ব্যাংকারদের খেয়াল নেই। এখন ঋণ আদায় ঢিলে হয়ে গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কঠোর হতে হবে।

সূত্র জানায়, করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হয়। ওই সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা থাকায় গ্রাহকরা ঋণ পরিশোধ না করতে পারলেও তা খেলাপি করা হয়নি। ফলে নতুন করে খেলাপি ঋণের হার খুব একটা বাড়েনি। জানুয়ারিতে ওই সুবিধা তুলে দেওয়া হয়েছে। ১৯ জানুয়ারির মধ্যেও মোট ঋণের বা কিস্তির ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলেও তা নিয়মিত দেখানো হয়েছে ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে যেসব ঋণের কিস্তি পরিশোধের কথা সেগুলো পরিশোধিত না হলে তা খেলাপি করার নির্দেশনা দেওয়া হয় ব্যাংকগুলোকে। এর আলোকে ব্যাংকগুলো কিস্তি পরিশোধ না করলে ওই ঋণকে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন দিয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে গ্রাহকদেরকে খেলাপি না করার সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি করেছেন।

ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার পথ খুলছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণ ও বিল খেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার পথ খুলতে যাচ্ছে। খেলাপির দায়ে দেওয়ানি বা সার্টিফিকেট মামলা চলমান না থাকলেই এ সুযোগ পাবেন নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকরা। এ সংক্রান্ত একটি ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এ যুক্তের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ প্রস্তাবটি আরপিওতে যুক্ত হলে ঋণ ও বিল খেলাপিরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হওয়ার যে বিধান এখন কার্যকর রয়েছে তা বাতিল হয়ে যাবে। আরপিওতে এ সংশোধনী অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মতামত নিতে আজ অর্থ মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সেবা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে ইসি। ইতোমধ্যে সংশোধনীর এ প্রস্তাব সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ও ইসির আইন সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক বেগম রাশেদা সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, ঋণ ও বিল খেলাপি হলেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না-এ বিধানটি অনেক কঠিন। আমরা এ বিষয়টি একটু সহজ করা উচিত বলে মনে করি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রার্থী বাতিলসংক্রান্ত যেসব মামলা হয়েছে তার ৩০ শতাংশ এ কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন, ঋণ বা বিল খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এ কারণে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মতো সাংবিধানিক অধিকার থেকে ক্ষুণ্ন করা সমীচীন নয় বলে মনে করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরপিওতে এ বিধান যুক্ত করা হলে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান-সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আইনেও একই ধরনের সংশোধনী আনার প্রয়োজন হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে আরপিওর ১২ ধারায় প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতায় ঋণ ও বিল খেলাপিরা প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রার্থী হওয়ার সাত দিন আগেই টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সেবা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল এবং ক্ষুদ্রঋণের খেলাপি টাকা পরিশোধ না করলে প্রার্থিতা বাতিলের নিয়ম রয়েছে। আর কোম্পানি বা ফার্মের খেলাপি ঋণ প্রার্থী হওয়ার আগের দিন পরিশোধের বিধান রয়েছে। ওইসব বিধান বাতিল করে শুধু যাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকবে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমানে কেউ ঋণ বা বিল খেলাপি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় না। সংশ্লিষ্টদের খেলাপি টাকা পরিশোধের জন্য সুযোগ দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যেও পরিশোধ না করার এক পর্যায়ে মামলা করা হয়। তারা আরও জানান, অনেক ঋণ ও বিল খেলাপি হওয়ার বছরের পর বছর পার হলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

নতুন বিধান কার্যকর হলে, মামলা না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অপর দিকে বিদ্যমান আরপিওর বিধান অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ঋণ বা বিল খেলাপি হলেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য ঘোষিত হন। শুধু ঋণ ও বিল খেলাপির দায়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল। নতুন এ প্রস্তাব আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত হলে শুধু ঋণ বা বিল খেলাপির দায়ে প্রার্থিতা বাতিলের পথ বন্ধ হবে। তবে মামলা চলমান থাকলেই কেবল নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

এ বিষয়ে ইসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩’ এর অধীনে ঋণ আদায়ের জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো আদালতে অন্যুন ছয় মাস আগে মামলা হয়ে থাকলে তিনি সংসদ-সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার বা থাকার যোগ্য হবেন না। একইভাবে সরকারি সংস্থা বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ ‘সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩’-এর অধীনে সার্টিফিকেট মামলা বা দেওয়ানি আদালতে মামলা করলে এবং তা চলমান থাকলেও তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

এ ছাড়া বাণিজ্যিক কোম্পানি, ব্যাংক কোম্পানি অথবা যৌথ কারবারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের মামলা হয়ে থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক, শেয়ার হোল্ডার পরিচালক ও অংশীদাররাও নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, ওই সব মামলার বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে রিট, আপিল, রিভিশন বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা ঋজু হলে বা চলমান থাকলেও ওই মামলা সক্রিয় রয়েছে বলে গণ্য হবে। তবে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হলে তা আর চলমান নয় বলে গণ্য হবে।

সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কি না, দেখার দাবি বিএনপির হারুনের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের পেছনে কোনো জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আছে কি না- তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

রোববার জাতীয় সংসদে শুরু হওয়া অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ দাবি জানান তিনি।

ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে নামমাত্র কোনো কমিটি না করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ডিপোর ওই ঘটনা তদন্ত করারও দাবি জানান এমপি হারুন।

এমপি হারুন বলেন, ‘আমি মনে করি, যেহেতু বন্দরগুলো আজ বিভিন্ন দেশ ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে, এর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে কি না, এখানে সেনাবাহিনীসহ যারা বিশেষজ্ঞ- তাদের নিয়ে একটি নিরপেক্ষ কমিটি দিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সোনাইছড়ী ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে শনিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় সাড়ে ৪ শতাধিক আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার সোনাইছড়ী ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আমদানিকৃত একটি কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। শনিবার রাত্রের দুর্ঘটনায় ৪ শতাধিক মানুষ দগ্ধ ও আহত হয়েছেন।

সূত্রে জানা যায়, কেমিক্যাল কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর পর কন্টেইনারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে কন্টেইনার ডিপোর আশে পাশের ৪-৫ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক কম্পনের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক বিভিন্ন বাড়ি-ঘর ও মসজিদের দরজা এ জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় জনমনে আতংকের সৃষ্টি হয়।

‘এখনো কেন সীতাকুণ্ডের ডিপোর মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি?’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় এখনো কেন ওই ডিপোর মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি, সেই প্রশ্ন করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

রোববার জাতীয় সংসদে শুরু হওয়া অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ প্রশ্ন করেন তিনি।

ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে নামমাত্র কোনো কমিটি না করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ডিপোর ওই ঘটনা তদন্ত করারও দাবি জানান এমপি হারুন।

এমপি হারুন আগুন ও বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, সীতাকুণ্ডের এ ঘটনা ভয়াবহ। গত ৫০ বছরে কোনো ডিপোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এটি একটি বেসরকারি ডিপো। এখানে হাজার হাজার কনটেইনার সংরক্ষিত ছিল। যারা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে, ডিপোর মালিক এখনো গ্রেফতার হননি। যারা এটি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত, এখনো তাদের আইনের আওতায় আনা হয়নি।

হারুন আরও বলেন, ‘ডিপোতে যে দাহ্য পদার্থের কনটেইনার ছিল, সে সম্পর্কে আগে থেকে তাদের অবহিত থাকা উচিত ছিল। সাধারণ কনটেইনারের মধ্যে দাহ্য পদার্থের কনটেইনার ঢোকালে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তার দায়দায়িত্ব কে নেবে? যারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন, তাদের কে অর্থসহায়তা দেবে?- এমন প্রশ্ন করেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য।